ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বঃ ০৪ (শেষ)

0
1894

ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বঃ ০৪ (শেষ)
লেখকঃ আবির খান

হঠাৎই ওরা যা দেখলো তা দেখার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিল না। কারণ ওরা দেখে দূরে একটা গাছের নিচে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে আছে বললে ভুল হবে হাওয়ায় ভাসছে। চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে। ওরা সবাই খুব ভয় পেয়ে যায়। রিয়া আবিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। আবির বলে উঠে,

– ভয় পাস না। ওসব আমাদের কাছে আসতে পারবে না। পারলে এতক্ষণে চলে আসতো। রিয়া ভয় পেও না। বন জঙ্গলে এসব থাকেই।

– ভাই তোরে আমরা ভীতু বলছিলাম এখন আমরাই ভয়ে শেষ আর তুই দিব্বি বসে আছিস!(নেহাল)

– বলছিনা আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। ওই দেখ ওটা গেছে গা। (আবির)

সবাই তাকিয়ে দেখে সেটা আর নেই৷ সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। রিয়া বলে উঠে,

~ এই শালা নেহালের জন্য আজ আমরা এমন একটা জায়গায় ফেসে গেছি। আবির বার বার বলছে এখানে না আসতে। কেউ শোনে নি। এখন আবির অনেক সাহসী আর ওই ভীতু সাজছে। শালা শয়তান। যা এখন ভূত তাড়াবি।

নেহাল ভয়ে কাচুমাচু দিয়ে বলে,

– আরে আমি কি বুঝছি নাকি যে সত্যিই ভুত আছে জঙ্গলে। আমিতো ভাবছি ও যাবে না তাই আমাদেরও যেতে দিবে না বলে মিথ্যা বলছে। এখন যে সত্যিই বলছে কীভাবে বুঝবো!

সালমান আর নিলয় একসাথে বলে উঠে,

– দোস্ত আবির, ফেসেতো গেসি এখন?

– আমিতো জানতাম তোমরা অকালপক্ব গুলো এরকম পল্টি মারবা। তাইতো এই তাবিজ গুলা এনেছিলাম। এখন আসছি যখন রাতটা এখানে থাকতেই হবে। আল্লাহ আল্লাহ কর। (আবির)

– দোস্ত চল পালাই যাই। এখানে বসে আরো ভয়ে শেষ হয়ে যাবো৷ (নেহাল)

– এই ঘোর অন্ধকারে এখান থেকে বের হওয়া ইম্পসিবল। বাই চান্স যদি আগুন নিভে যায় আমরা সবাই শেষ। তাই যেভাবে হোক এখানে থাকতেই হবে। (আবির)

– তাইলে আমরা কি করবো দোস্ত? (সালমান)

– কেন তোরা না এডভেঞ্চার করতে আসছিস। নে এবার মন ভরে এডভেঞ্চার কর। (আবির)

~ এই তুমি মজা নিও না তো। দেখছো তোমার বাবুটা ভয়ে শেষ। কিছু একটা করো। (রিয়া)
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


– আমি তো বিয়াই করিনাই। আমার বাবু কই থেকে আসলো? (আবির)

~ শয়তান আমিই তো তোর বাবু। (রিয়া)

– ওওও। তা বাবু কি এখনো ফিটার খায়? (মজা করে আবির বলল)

আবিরের কথা শুনে রিয়া সহ সবাই হেসে দেয়। রিয়া বলে,

~ হ এখনো ফিটার খাই। ধুর ভূতের ভয়ে ভালো লাগছে না। (রিয়া)

– আচ্ছা তোরা ভূত ভূত করছিস কেন বলতো? ভূত বলে কিছু নাই জানিস না। (আবির)

– হ। তাইলে কি ওরা তোর ছোট কালের বন্ধু? যা দেখা করে আয়। (নেহাল)

নেহালের কথা শুনে আবির হাসতে হাসতে বলে,

– কথাটা খারাপ বলিস নি। আমি বন্ধুত্ব করলে তোদের সাথেও করে দিব। বলবো, যান নেহালকে নিয়ে ঘুরে আসেন। হাহা। (আবির)

– দেখ মজা নিস না। অনেক টেনশনে আছি। কখন ভূত আইসা পড়ে আবার। (নেহাল)

– আরে ওরা ভূত না। ওরা সবাই জ্বিন। আল্লাহ তায়ালা মানুষের পাশাপাশি আমাদের প্রয়োজনেই জ্বিন বানিয়েছেন। তারাও আমাদের মতো। তবে তাদের আমরা খালি চোখে কখনো দেখতে পাইনা। তাদের ক্ষমতা অনেক। তাদের কাজও আল্লাহর ইবাদত করা। কিন্তু কিছু জ্বিন আমাদের মতোই আল্লাহর ইবাদত না করে মানুষের ক্ষতি করতে পছন্দ করে। আর এদেরকে খারাপ জ্বিন বলে। এরা বনে জঙ্গলে, নর্দমায়, ময়লার স্তুপে থাকে। ভালো জ্বিনরা মসজিদ, মাদ্রাসা বা কোন পরিষ্কার জায়গায় থাকে৷

~ ওয়াও বাবু তুমি তো অনেক কিছু জানো। বাহ! সো প্রাউড অফ ইউ। (রিয়া)

– তাইলে দোস্ত এগুলো সব খারাপ জ্বিন? (নিলয়)

– হ্যাঁ। (আবির)

– কিহহ! এখন কি হবে! (বাকি সবাই)

– বলছিনা আল্লাহ আছে। তার উপর ভরসা রাখ৷ (আবির)

এরপর ওরা আবিরের দেওয়া সাহস নিয়ে গল্প কথায় মেতে উঠে। আবার গ্রিল চিকেন করে রুটি দিয়ে খেয়ে নেয় সবাই। রাতের খাওয়া দাওয়া সব শেষ। এখন ঘড়িতে বাজে রাত ১০.৪৫ মিনিট। ওরা সব গুছিয়ে চুপচাপ সবাই একসাথে বসে আছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে হঠাৎই ওদের খুব শীত করছে৷ মনে হচ্ছে এখন শীতকাল। তীব্র শীতের অনুভূতিতে ওদের প্রত্যকের দাঁত কটকট কটকট করছে৷ ওরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে। এই গরমের ভিতরে এরকম প্রচন্ড শীত এটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। আবির উঠে আগুনের মাঝে আরো কয়টা ডালপালা দিয়ে তাপ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তাতে কোন লাভই হলো না। রিয়া আবিরকে বলে উঠে,

~ আবির আমার কি গায় জ্বর হয়েছে একটু দেখবে? আমার প্রচন্ড শীত করছে।

আবির রিয়াকে একদম ওর কাছে টেনে নেয়। ব্যাগ থেকে একটা চাদর বের করে রিয়াকে ওর সাথে মুড়িয়ে নেয়। আর বলে,

– ওরা(জ্বিনরা) আমাদের কষ্ট দিতে চাচ্ছে। তাই এখানের আবহাওয়া গরম থেকে ঠান্ডা করে দিয়েছে। তোরা সবাই আয়াতুল কুরসী পারিস?(আবির)

– হ্যাঁ দোস্ত৷ (সবাই)

– তাহলে জোরে জোরে পড় সবাই। রিয়া তুমিও পড়ো। (আবির)

~ আচ্ছা। (রিয়া)

এরপর ওরা যখন সবাই আয়াতুল কুরসী পড়া শুরু করে জোরে জোরে মুহূর্তের মধ্যেই আবহাওয়া ঠান্ডা থেকে গরম হয়ে যায়। ওরা সবাই অবাক হয়ে যায়। আবির কিছুটা চুপ করে আছে৷ কিছু বলছে না। রিয়া আবিরের দিয়ে তাকিয়ে আস্তে করে বলে,

~ তুমি এভাবে চুপ হয়ে আছো কেন? কি হয়েছে?

– এখানের জ্বিন গুলো অনেক খারাপ আর শক্তিশালী। আল্লাহ সহয় না হলে এখান থেকে বেঁচে ফিরে যাওয়া খুব কষ্টকর হবে। প্রতি মুহূর্তেই তারা আমাদের ক্ষতি করতে চাচ্ছে।

~ থাক টেনশন করো না। আল্লাহ ভরসা।

– হুম।

এরপর আর তেমন অস্বাভাবিক কিছু হয়নি। ওরা গল্প করছিল। আড্ডা দিচ্ছিলো। কিন্তু যেই ১২.০১ বাজলো হঠাৎই বিকট এক হুংকার। ওরা পাঁচজন আঁতকে উঠে এই হুংকার শুনে। রিয়া প্রচন্ড ভয় পায়। আবিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। নেহাল ভয়ে চুপসে গেছে। নিলয় আর সালমানের হাত ধরে আছে। নেহাল ভীতু কণ্ঠে বলে উঠে,

– দোস্ত এসব কি হচ্ছে?

– ওরেএএএএ আল্লাহ…দোস্ত দেখখখখ…ওগুলা কি এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে। (সালমান)

সবাই ওদের সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখে অনেক গুলো রক্তাক্ত জ্বলজ্বল চোখ আর কালো ছায়ার মতো কি যেন ওদের দিকে ভেসে আসছে৷ ওরা দেখে শুধু রাস্তার দিক থেকে না চারপাশ থেকে কোটি কোটি এরকম অশরীরী আশপাশে ভীড় জমাচ্ছে৷ আবির বুঝতে পারলো এবার খারাপ কিছু একটা হতে যাচ্ছে৷ ভয়ে বাকিদের সাথে ওরও অবস্থা খারাপ। কি করবে? কি করবে? কিচ্ছু ভেবে পাচ্ছে না। কিছু একটা না করলে ওর কলিজার বন্ধুদের বাঁচাতে পারবে না সাথে নিজেও মরবে। রিয়া আবিরকে জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপছে আর কাঁদছে। আবির ওকে স্বান্ত্বনা দিয়েও শান্ত করতে পারছে না। নেহাল, নিলয় আর সালমানও ভয়ে অবস্থা খারাপ। আবির মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছে।

হঠাৎই ওর মাথায় আসে হুজুরের কথা। আবির দ্রুত উঠে ওর ব্যাগ থেকে হুজুরের দেওয়া সে জমজম কূপের পানি ওদের চারপাশে গোল করে ঢেলে দেয়। আর এরপরই শুরু হয় লোমহর্ষক ভয়াবহ ভয়ংকর দৃশ্য। বিশাল বিশাল কালো ছায়া ওদের দিকে তেড়ে আসছে কিন্তু এই গোলকের ভিতরে আসতে পারছে না। যেই ওদের কাছে আসছে ওমনি আগুনে ঝলসে যাচ্ছে।

এরপর শুরু হয় হুংকার আর বিভিন্ন রকম বিকট বিকট শব্দ। ওদের কান ফেটে যাচ্ছে সেই শব্দে। এভাবে চলতে থাকে। এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় রাত ৩ টার পর। বিশ্রী রক্তাক্ত দেখতে ওগুলো বার বার ওদের কাছে আসার চেষ্টা করছে। রিয়া আর নেহাল সে দৃশ্য দেখে মুহূর্তেই অজ্ঞান। সালমান আর নিলয় ওদের ধরে চোখ বন্ধ করে বসে আছে। আবিরের প্রচন্ড ভয় করছে। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। আবির নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না। এরপর আবার শুরু হয় ঝড় বাতাস। এমন বাতাস যে ওদের টেন্ট উড়িয়ে নিয়ে যায়। আবির আর না পেরে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আজান শুরু করে। আর আজান শুরু করার কিছুক্ষন পরই সব শান্ত হয়ে যায়। আবির চারদিকে চারবার আজান দেয়। আজান শেষ হতেই আবার ওগুলো চলে আসে। ও আবার আজান দেয়৷ এভাবে আজান দিতে দিতে ফজরের সময় হয়ে আসে। আর সাথে একটা কড়া গলায় শব্দ ভেসে আসে,

– “বেঁচে গেলিইইইই তোরায়ায়া”

এটা বলেই প্রচন্ড ঝড় হয় আর কিছুক্ষণ পর সব একদম শান্ত হয়ে যায়। দূর থেকে আজান ভেসে আসে। আবির ঠাস করে পড়ে যায়। ওর আর কিছু মনে নেই।

আবিরের জ্ঞান ফিরে। ও আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকায়। তাকিয়ে প্রথমেই রিয়ার চিন্তিত কান্নাসিক্ত শুকনো মুখখানা দেখে। আবির একটা হাসি দেয়। আর ইশারায় বলে, ভালো আছি। রিয়া জোরে বলে উঠে,

~ দোস্ত ওর জ্ঞান ফিরেছে।

সবাই একসাথে পিছনে আবিরের দিকে তাকায়। আর বলে,

– দোস্ত আজ তুই না থাকলে আমরা শেষ হয়ে যেতাম। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই তোকে। অসংখ্য ধন্যবাদ।

– আমি কোথায় এখন?

~ আমরা সেই চাচার গাড়িতে সিলেট যাচ্ছি। নেহাল নিলয় আর সালমান মিলে তোমাকে ধরে জঙ্গল থেকে বের করে। নিলয় আর সালমান আমাদের সব বলেছে। কতটা কষ্ট তুমি করেছো। ধন্যবাদ ভালবাসা তোমাকে।

– কষ্ট কীসের আমরাতো এডভেঞ্চার করেছি তাইনা নেহাল?

– দোস্ত আর লজ্জা দিস না। আমার শিক্ষা হইছে৷ আর কখনো এধরণের জায়গায় আসবো না। প্রমিজ।

– হুম। তোমার কোলে ঘুমাই। তুমি মাথাটা একটু টিপে দেও৷ খুব ক্লান্ত আমি। (রিয়া উদ্দেশ্য করে)

রিয়া আবিরের কাছে এসে আস্তে করে বলে,

~ আবির..
– হুম?
~ ভালবাসিইই।

আবির চোখ বড় করে রিয়ার দিকে তাকায়। রিয়া লজ্জা পাচ্ছে। আবিরও হাসি দিয়ে আস্তে করে বলে,

– আমিও৷
~ সত্যিইই?
– ৩ সত্যি।

রিয়া খুশী হয়ে আবিরের কপালে একটা চুমু দেয়। আর ওর মাথা টিপে দেয়। এরপর আবির নিশ্চিন্তে রিয়াকে জড়িয়ে ধরে একটা ঘুম দেয়। আর সেই সাথে শেষ হয় ওদের #ব্ল্যাক_ফরেস্টের লোমহর্ষক এডভেঞ্চার।

– সমাপ্ত।

পুরো গল্পটি কেমন লেগেছে আপনাদের তা জানবেন কিন্তু। আমি অপেক্ষায় থাকবো আমার প্রিয় পাঠক/পাঠিকাদের মূল্যবান মন্তব্যের আশায়। ধন্যবাদ সবাইকে এতোটা সময় ধরে সাথে থাকার জন্য। সামনেও থাকবেন আশা করি। আর,

বাসায় থাকুন-আল্লাহর ইবাদত করুন-সবার জন্য দোয়া করুন।

© আবির খান।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here