বৃষ্টি ভেজা রাত পর্ব-১০

0
1923

#বৃষ্টি_ভেজা_রাত💖
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ💖

#পর্বঃ__১০

বৃষ্টির শাড়ির কুচি গুলো খুব মনোযাগ দিয়ে ঠিক করছে রাত। বৃষ্টির দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে রাতের দিকে। ইশ তার প্রতিটা দিনই জদি এমন হতো? বাইরে থেকে মায়ের ডাক কানে এলো তাদের।
– কি রে তোদের হলো?
– এইতো মা হয়ে গেছে।
শাড়ি ঠিক করতে করতেই উত্তর দিলো রাত। কুচি গুলো ঠিক হয়ে গেলে তারাহুরা করতে গিয়ে রাত নিজেই গুজে দেয় কুচিগুলো। রাতের আঙুলের স্পর্শ পেটে লাগতেই কেপে উঠে বৃষ্টি। চোখ দুটু বন্ধ করে হাতে থাকা শাড়ির অংশটা খামচে ধরে বৃষ্টি। বাকি সব ঠিকঠাক করে আঙুল দিয়ে গালে ছোট্ট করে একটা চাটি মারে রাত।
– ম্যাডাম হয়ে গেছে এবার চলুন।
রাতের কথায় যেনো ধ্যান ভেঙে বাস্তবে ফিরে আসে বৃষ্টি। লজ্জায় মাথাটা নিচু করে হাটা ধরে রাতের পেছন পেছন।
নিচে আসতেই রাত্রি চৌধুরি বৃষ্টির সারা শরিরে চোখ বুলিয়ে বলে উঠে,
– মাশাল্লাহ্। শাড়িতেই নারী। শাড়িতে যে তোমায় কতো সুন্দর লাগে এটা জদি জানতে তাহলে কখনোই তুমি শাড়ি ছারতে চাইতে না।
পাশ থেকে আরশি বলে উঠে,
– ভাবি, তুমি তো দেখছি খুব ভালো শাড়ি পড়তে পারো। আমাকেও একটু শিখিয়ে দিবে।
– না আরশি তুমি ভুল ভাবছো, শাড়ি তো আমি……
এটুকু বলতেই খুক খুক করে কাঁশা শুরু করলো রাত।
বৃষ্টিও কথা ঘুরাতে বলে উঠে,
– না শাড়ি তো আমিই পড়েছি।
– তো আমি কখন বললাম যে, ভাইয়া পড়িয়ে দিয়েছে?
– তবে রে,
রাত টেবিল থেকে ফল কাটার ছুড়িটা নিয়ে তাড়া করলো আরশিকে। আরশি দৌড়ে লুকিয়ে যায় মায়ের পিছে। রাত্রি চৌধুরি একটু বিরক্তি ভাব নিয়ে বলে উঠে,
– এই তোরা কি যাবি?
তখনি সদর দরজার কাছে এসে ড্রাইভার ডাক দেয় তাদের।

বাইরে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে ঘরির দিকে বার বার তাকাচ্ছে রুদ্র চৌধুরি। তাদের দেখেই গাড়িতে গিয়ে বসে সে। সন্ধা হওয়ার আগেই ওই বাড়িতে পৌছে যায় তারা। বেশ বড় সর ভাবেই পার্টিটা হচ্ছে আজ। সব ঠিকঠাক ভাবেই সাজানো গোছানো।
রিদ খুব ব্যাস্তভাবে এগিয়ে এলো তাদের দেখে।
– আঙ্কেল, ফুফি, ভাবি তোমাদের এখন আসার সময় হলো? সেই কখন ধরে অপেক্ষা করছি তোমাদের জন্য। আব্বু আম্মু কেও নেই পাশে। আর তোমরাও এলে এতো দেরি করে। আর রাত কোথায় ফুফি।
– আছে বাইরে, ওই তো আসছে।

– কিরে তোর এখন আসার সময় হলো? তুইও কি আজ সবার মতো মেহমান হয়ে গেলি নাকি? অন্তত তোর থেকে এটা আশা করা যায় না।
– কি করবো বল, আসতেতো আরো আগেই চেয়েছিলাম। কিন্তু মেয়েদের ঘসামাজার বেপারে তো তুই জানিসই। তাই না?. আর এখনো তো অনেক সময় বাকি আছে। চল চল।
– হুম চল।

রিদের বাবার দু, একজন বন্ধুকেও ইনভাইট করা হয়েছে পার্টিতে। আরশিকে সাথে নিয়ে সকলের সাথেই কথা বলছে রিদ। আরশি রিদের পাশে হেটে হেটে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। ভাইয়া ভাবি এরা যে কই গেলো কে জানে?
হটাৎই রিদের বাবার এক বন্ধুর স্ত্রী, আরশিকে রিদের সাথে দেখেই বলে উঠে,
– সে কি রিদ, বিয়ে করে ফেলেছো নাকি?
– জ্বি, আন্টি, এই যে এই লেন্জা ছারা বাদর টাকে।
রিদের কথায় চোখ বড় বড় করে তাকায় আরশি। কিহ্, বিয়ে? কবে?
– আমরা তো জানলাম ই না রিদ।
– সব হুটহাট হয়ে গেছে আর আমিও আপনাদের একটা সারফ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। তাই এই পার্টিতে হুট করেই বৌ নিয়ে দাড়ালাম আপনাদের সামনে।
– যাই হোক, মেয়েটা কিন্তু খুবই মিষ্টি দেখতে। একধম তোমাদের দুজনের পার্ফেক্ট জুটি। দোয়া করি এমন করে যেনো খুব শিগ্রই আরো সারফ্রাইজ দিতে পারো।
– জ্বি আন্টি দোয়া করেন, সামনে যেনো দু,জন থেকে তিন জন হয়ে আপনাদের সামনে দাড়াতে পারি।

ওদিকে রাগে খটমট করছে আরশি। পারছেনা কিছু কইতে, পারছেনা কথাগুলো সইতে। ফিউর সিংগেল একটা মেয়েকে নিয়ে রিলেশন বাদ দিয়ে ডিরেক্ট বিয়ে পার হয়ে বাচ্চা কাচ্চা পর্যন্ত চলে গেলো। কি সাংঘাতিক কথা বার্তা। রাগে যেনো কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে আরশির। ইচ্ছে করছে রিদকে সকলের সামনে মেরে, না কুচি কুচি করে সেই রক্ত দিয়ে লিখে দিতে,
” না, আমি ফিউর সিংগেল।

শাড়ি পরে ঠিঠাক ভাবে হাটতে পারছেনা বৃষ্টি। শাড়ির কুচিতে পা পরছে বার বার। একটু ওয়াশ রুমে গিয়েছিলো সে। আর ওদিকে সব ঠিক ঠাক আছে কিনা তা দেখছে রাত।
ওয়াশ রুম থেকে ফিরার সময় শাড়ির কুচিগুলো হাত দিয়ে উচু করে ঠোট ফুলিয়ে চার পাশে তাকাচ্ছে বৃষ্টি। রাতকে দেখে এগিয়ে যেতেই কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যেতেই কেও একজন ধরে ফেলে বৃষ্টিকে। চোখ বন্ধ করে নেয় বৃষ্টি। কারণ সে যানে এটা রাত ছারা কেও না। কোথাও পরে যেতে লাগলে রাত ঠিকই এভাবে ধরে ফেলে তাকে। আর আজ সবার সামনে? কি লজ্জা। আজ আর চোখ কুলবো না। চোখ কুলে তাকে দেখলেই আমি লজ্জায় মরে যাবো। আশে পাশে লোকজনকে দেখলে আরো সে লজ্জা দ্বিগুল হয়ে যাবে।
রাতের কোনো সারা শব্দ না পেয়ে চোখ খোলে বৃষ্টি। চোখ খুলতেই যেনো আকাশ থেকে পড়লো সে। সামনে থাকা ব্যাক্তিটি রাত নয়, অন্য একটি ছেলে। আর সে তার দিকে তাকিয়ে টানলো একটা প্রশারিত হাসির রেখা।
এক ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছেলেটার কাছ থেকে ছারিয়ে নেয় বৃষ্টি। রাতের দিকে তাকাতেই দেখে রাতের চক্ষুজোড়া রক্তিম বর্ণ ধারন করেছে। নিজেকে সংযোত রেখে সেখান থেকে সরে গেলো রাত। আর বৃষ্টি শাড়িটা উচু করে ধরে আস্তে আস্তে দৌড়াতে থাকে রাতের পিছন পিছন।

– বিশ্বাস করুন আমি ওসব ইচ্ছে করে করিনি। হ্যা আমি আপনি ভেবে লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ছিলাম, এটা আমার অপরাধ। এটা সম্পুর্নই একটা এক্সিডেন্ট। আর এই অপরাধের শাস্তি দিন আমায়, মারেন, থাপ্পর দেন তবুও রাগ করে থাকবেন না প্লিজ। ভালো লাগেনা আমার।
– কেনো আমি রাগ করতে যাবো? আমি পুরু পুরিই নরমাল।আর তুমি কে যে এই সামান্য কারণ নিয়ে তোমার সাথে আমি রাগ করবো? তুমি শুধু নামেই মাত্র আমার স্ত্রী, আর তাছারা তোমাকে আমি স্বাধিনতা দিয়ে দিয়েছি, এখন তোমার যা ইচ্ছে তুমি তাই করো। তাতে আমার বিন্দু মাত্র সমস্যা নাই।
– প্লিজ এভাবে বলবেন না। এটা একটা এক্সিডেন্ড মাত্র।
– ছেলেরা যখন ঝাপটে ধরে, তখন চোখ বন্ধ করে উপভোগ করার মজাই আলাদা তাই না? তো এভাবে আমার কাছে কান্নাকাটি করার তো কোনো দরকার নেই।
– সত্যিই কি আমি আপনার কেও না?
– না।
কথাটা বলেই ছাদ থেকে হাটা ধরে রাত। শক্ত হয়ে ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে আছে বৃষ্টি। রাত সিরি দিয়ে নামতেই তৃষ্নার মুখুমুখি হয়। কোনো ভ্রুক্ষেপ না করেই হাটা ধরে নিচের দিকে। তৃষ্না দৌড়ে গিয়ে দাড়ায় বৃষ্টির পাশে।
– কি হলো কাদছো কেনো বৃষ্টি? কথাটা একটু টেনে টেনে বললো তৃষ্না। বৃষ্টির উত্তর না পেয়ে আবার বললো তৃষ্না।
– রাত তোমায় ভালোবাসেনা বলে দিয়েছে তাই তো? আমি জানি যে, রাত সত্যিই তোমাকে ভালোবাসেনা। সে এতোদিন যেভাবেই আচরণ করুন না কেনো? তা করেছে শুধু তার কর্তব্য ভেবে। রাত তোমাকে মন থেকে কোনো দিনই মেনে নিবেনা। সারাদিন আমিই রাতের পাশে থাকি, সো রাত অল্প হলেও আমার সাথে সব শেয়ার করে। সেদিন তো রাত সরাসরিই বললো তোমাকে সে তার জীবনে চায়ই না। শুধু বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সব সহ্য করে নিচ্ছে। সো, আমি বলি কি? তুমি এতো অবহেলায় না থেকে রাতের কাছ থেকে সরে অন্য কাওকে বেছে নাও, এটাই তোমার মোঙ্গল বয়ে আনবে।
আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছেনা তাই তো? ওয়েট।
তৃষ্টা ফোন বের করে। একটু ঘাটাঘাটি কটে কি যেনো বের করে বৃষ্টির সামনে ধরলো। তার ধারনা এটা দেখার পর রাতের সম্পর্কে তার ধারনাটাই পাল্টে যাবে।

To be continue…………..

~~ ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে