ফিরবে ভাবিনি–এ ফেরা অর্থহীন

বিধ্বস্ত কায়ায়—হাঁটু গেড়ে,
বসেছিলাম পথের প্রান্তে,
তোমার পাদদেশে।

প্রচণ্ড অবহেলায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলে,
ভ্রু কুঁচকে, কপালে তিনটে ভাজ ফেলে।
যেন আমি রূপ–তোমার অধমাঙ্গে বিদ্ধ
পথের কাঁটা ,
হয় উপরে ফেলা নয়তো সমূলে উৎপাটন
এই দুইয়ের যে কোন একটি করলেই প্রশান্তি তোমার!

ভাবতেই বেরিয়েছিল বুক চিরে এক দীর্ঘশ্বাস।
যেখানে এই তো কিছুদিন অগেও ছিল চিত্তগ্রাহী এক উদ্যান।

ঝরেছিল ফল্গুধারা অবারিত;
দৃষ্টি যেন হয়ে উঠেছিল
জলের এক মহা উৎস।

সদর্পে হেঁটে চলে গিয়েছিলে,
বিধ্বস্ত কায়ার এই আমাকে রেখে!

একবারও তাকাওনি ফিরে!
যদি তাকাতে তবে দেখতে,
কান্নাভেজা গণ্ডদেশ আর,
অনিরুদ্ধ অশ্রুতে লাল টকটকে লোচন।

অক্ষির দৃশ্যপটের শেষ সীমানায় যতক্ষণ ছিলে;
আশায় বেঁধেছিলাম বুক।।।

আমায় স্তম্ভিত করে দিয়ে সেদিন,
ফিরোনি! বাস্তবতার কশাঘাত;
তখনই বুঝতে শুরু করেছিলাম কেবল।

আজ সেদিনের সেই ফল্গুধারা প্রবাহিত
নেত্রদ্বয়–ভীষণ দক্ষ মানুষ পরখে।

এটাই যে অর্জন–যার সম্মুখে
সমস্ত মিছে—তাই অভিমান হয়নি।

শত কষ্টের মাঝেও ত্রাসিত হইনি ,
বরঞ্চ হয়েছি কৃতজ্ঞ, তোমার প্রতি।

সবেই তো পথচলা শুরু করেছিলাম তখন
তোমার দেয়া আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হৃদয় ,
আজ–কঠিন কোনো ধাতুর প্রলেপে আবৃত
তবুও আমি কৃতজ্ঞ তোমার প্রতি ।

আমার মনের সয়ে যাওয়া আর মস্তিষ্কের বিচক্ষণতায় আজ আমি কৃতজ্ঞ ।

আজ আমি একাই যথেষ্ট নিজের জন্য,
এমনই লগ্নে ফিরে এসেছ তুমি!

হয়তো তুমিও হয়েছ জর্জরিত ঘাত-প্রতিঘাতে ,
তবে জেনে রাখো, তুমি ফিরবে ভাবিনি।

আজ তোমার এ ‘ফেরা’ যে অর্থহীন
যেমনি পায়ে হেঁটে এসেছ, তেমনি ফিরে যাও।

আমি তো দিইনি হৃদয়ে কর্পূরের প্রলেপ ,
দিয়েছি প্রলেপ দস্তার নয়তো বোধহয় কর্পূর ও আজ দিতো আমায় ধোঁকা ।

তাই জেনে রাখো, তোমার সমস্ত সত্তা দিয়ে ,
ফিরবে ভাবিনি, তোমার এ ফেরা অর্থহীন।
তোমার দোলায়মান হওয়ার ভাবনা আজ অর্থহীন।
ফিরবে ভাবিনি–তাই আজ তুমি আমার কাছে অস্তিত্বহীন।

লেখা: ফাতিমা আক্তার অদ্রি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here