“ফাঁদে পড়ে”পর্ব-১

0
855

“ফাঁদে পড়ে”পর্ব-১

পাড়ার বখাটে ছেলেগুলো আমার পেছন পেছন আসছে। আমি সিনেমার নায়িকার স্টাইলে দৌড়ে গিয়ে একটা থেমে থাকা প্রাইভেট-কার্ এর সাথে ধাক্কা খেলাম। ধপাস করে পড়েও গেলাম।

ব্যালেন্স হারিয়ে খুব ব্যাথা পেলাম কোমরে। পড়ে যাবার প্ল্যানটা আগে থেকেই ছিল কিন্তু এতটা ব্যাথা লাগবে ভাবিনি। আমি কোমরে হাত রেখে বসে আছি গাড়ি থেকে কোনো হিরো বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়। গাড়ি থেকে হিরো বা মালিক না বের হয়ে ড্রাইভার বের হলো। ড্রাইভারটা মধ্যবয়সী। দেখেই মেজাজ গরম হয়ে গেলো। আমি বসে থেকেই চোখ পাকিয়ে বললাম-
“আপনি বাহিরে এসেছেন কেনো? মালিক কই?”

“মালিক তো গাড়িতে নাই, আমি গাড়ি থামাইয়া অপেক্ষা করতাছি। কিন্তু আপনে ধাক্কা খাইলেন ক্যা সেইডাই বুঝলাম না। আর মালিকরে দিয়া কি করবেন?”
“দেখছেন না গুন্ডারা আমাকে তাড়া করেছে?”
সে আশেপাশে তাকিয়ে তারপর আমার দিকে তাকালো। বিস্ময়ের স্বরে বলল-
“গুন্ডা তাড়া করছে?”
“তা নয়তো কি?”
“কাউরেই তো দেহি না।”
“দেখবেন কি করে? তারা তো জায়গা মতো পৌছে দিয়ে চলে গেছে।”
“মানে কি?”
“এত বুঝে কাজ নেই। আমি এই গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়েছি তাই আমাকে মালিকই টেনে তুলবে। যান মালিককে ডেকে আনেন।”
“ক্যান?”
“কারণ আমি তার গাড়িতে ধাক্কা খেয়েছি।” সিনেমাতে দেখেন না যে, গাড়ির সাথে ধাক্কা খেলে মালিক দৌড়ে এসে টেনে তুলে?”
“কিন্তু গাড়ি তো থাইমা আছিল!”
“গাড়ি থেমে ছিল তো কি হয়েছে? ধাক্কা তো গাড়ির সাথেই খেয়েছি। আর আমি কি গাড়ি থামিয়ে রাখতে বলেছি নাকি?”
“আজব মাইয়া দেখতাছি।”
“আজব গুজব বাদ দিয়ে মালিককে ডাকেন।”
“তিনি অপরিচিত মাইনষের লগে কথা কয় না। আর তিনি গাড়িতে নাই, বাইরে কাজে আছে।”
“আপনি ফোন করেন।”
“দাঁড়াইয়া থাকেন মালিক আইলে কইয়েন।”
“আপনি ফোন করে বলেন যে, তার গার্লফ্রেন্ড তার জন্য অপেক্ষা করছে।”
আমার কথা শুনে লোকটা কিছুক্ষণ হা করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। সে হা করে থাকুকগে তাতে আমার কি? তারপর বললো-
“আপনের মাথা ঠিক আছে তো?”
“কেন আমার মাথার চুলগুলো কি এলোমেলো লাগছে?”
“মনে হইতাছে মাথাত সিট আছে।”
“বেশি কথা না বলে তাকে ডাকেন। নইলে আজ কেয়ামত থেকে কেয়ামত হবে এখানে, এই রাস্তায়।”
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


ড্রাইভার আমার কথায় পাত্তাই দিলো না। সে হয়তো আমাকে পাগলি টাগলি ভেবেছে। আধা ঘন্টা ধরে বসে আছি রোদের মধ্যে। পুড়ে তো কয়লা হয়ে গেলাম দেখছি, তাও গাড়ির মালিকের দেখা নাই। ছাতাটা যে কেন সাথে আনলাম না! ড্রাইভারকে বললাম-
“এই যে চাচা শুনুন।”
“বলেন।”
“আপনি এখন আমাকে একটা ছাতা কিনে এনে দিন।”
“ক্যান?”
“এত রোদে বসে থাকা যায় নাকি?”
“বইসা থাকতে ক্যাডায় কইছে?”
আমি রেগে উঠে বললাম-
“আমি বসে থাকবো তাতে আপনার প্রবলেম কি? আপনি যান ছাতা নিয়ে আসেন।”
লোকটা কিছু না বলে গাড়ি থেকে একটা ছাতা বের করে দিলো। আমি ছাতা মাথায় দিয়ে বসে থাকলাম। আশেপাশে লোকজন হেটে যাচ্ছে আর আমার দিকে তাকাচ্ছে। কেউ কেউ হাসছেও। সে হাসুকগে, আই ডোন্ট কেয়ার। আজ গাড়িওয়ালার সাথে দফরফা করেই ছাড়বো। কিন্তু সে কোথায়? কখন আসবে?
দুই ঘন্টা পর একজন দাদুর বয়সী লোক গাড়ির কাছে এসে দাঁড়ালেন। আমি পাত্তা দিলাম না। উনি গাড়িতে উঠতেই ড্রাইভার তাকে বলল-
“স্যার এই মাইয়া আপনার লগে কথা কইবো। সে নাকি আপনার গালফেন।”
লোকটা গাড়িতে না উঠে হা করে ড্রাইভারের দিকে তাকালেন। তার চেয়ে বড় হা আমি হলাম। এই বয়স্ক লোকটা এই গাড়ির মালিক!! ওহ নো! এখন কি করবো? দৌড়ে পালিয়ে যাব? তাতে যদি আমাকে দেশদ্রোহী মনে করে? না না পালানো ঠিক হবে না। আমি বসেই থাকলাম। লোকটা ড্রাইভারকে কিছু না বলে আমার দিকে তাকালেন। উনি আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলেন। তারপর কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে চেয়ে থেকে বললেন-
“তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড?”
এখন কি বলি? এই বুইড়ার গার্লফ্রেন্ড আমি কেন হতে যাব? এই লোকটা এই গাড়ির মালিক? এমন রংচঙে গাড়িটার মালিক হওয়ার কথা তো কোনো যুবকের। কিন্তু গাড়িটা তো ঠিকই আছে শুধু মালিক ঠিক নেই। এত বয়স হয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই তার নাতি নাতনিও আছে। কিন্তু তিনি যেভাবে তাকিয়ে আছেন তাতে ভয় লাগছে। এই ‘হ্যাঁ’ ‘না’ এর ফেরে পড়ে আমাকে জেলে না যেতে হয়। ধুর কোথায় ভেবে ছিলাম হ্যান্ডসাম হিরো বের হবে। আর বের হলো একটা বুড়ো। আমি উনার কথার জবাব দিলাম না। উনি গাড়িতে না উঠে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। তারপর মুচকি হেসে বললেন-
“হ্যাঁ গো সুইটি! দাঁড়িয়ে কেন বেবি? গাড়িতে এসো।”
উনার কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। উনার ভাব লক্ষণ তো সুবিধার মনে হচ্ছে না। আমার তো গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এমনিতেই এত গরম তার উপরে কি সব কথাবার্তা! আমি বোধহয় আর বাঁচবো না। আমি আমতা আমতা করে বললাম-
“আসলে মানে মানে।”
“কিসের মানে?”
“আমি এখন বাড়ি যাব। আমার ভীষণ পানি পিপাসা পেয়েছে।”
“কেন? বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে যাবে না?”
“না।”
উনি ড্রাইভারকে কড়া গলায় বললেন-
“মখলেস মেয়েটা গাড়িতে না উঠলে পুলিশ ডাকবা।”
ড্রাইভার মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-
“জ্বী স্যার।”
কি বিপদ ডেকে আনলাম মাবুদ! বাধ্য হলাম গাড়িতে উঠতে। বুঝলাম এ লোক নারী প্রাচারকারী। আমি তো এক্কেরে শ্যাষ। শেষমেশ আমার কপালে এই প্রাচার হওয়া ছিল আল্লাহ! উনার পাশে গিয়ে বসলাম। উনি আমার হাতে পানির বোতল ধরিয়ে দিয়ে বললেন-
“মন খারাপ কেন সুইটি? পানি খাও।”
বুড়োর ভিমরতি দেখে মেজাজ গরম হয়ে গেল কিন্তু কিছু তো করার নেই। আমি অনেক কষ্টে দাঁত বের করে হাসির ভান করলাম। উনি জিজ্ঞেস করলেন-
“তোমার নাম কি?”
“বাবা মা কুসুম রেখেছে কিন্তু আমি নিজেকে মৌসুমী মনে করি।”
উনি চোখ কপালে তুলে বললেন-
“মৌসুমী কেন?”
“মৌসুমী নায়িকা আর আমিও নিজেকে নায়িকাই মনে করি। দেখুন তো মৌসুমীর চেহারার সাথে আমার চেহারার মিল আছে কি না?”
উনি বিস্ময়ের চোখে আমার দিকে চেয়ে রইলেন। কি বুঝলেন কে জানে। বললেন-
“আমরা আজকেই বিয়ে করবো।”
আমার মাথায় যেন বাজ পড়লো। আমি চেঁচিয়ে বললাম-
“কিহ?”
“আর কতকাল গার্লফ্রেন্ডকে ঝুলিয়ে রাখবো বলো। আমার তো বয়স হয়েছে, ভালো মন্দ কিছু একটা যে কোনো সময় হয়ে যেতেই পারে তাই বিয়েতে আর দেরি করতে চাইছি না।”
আমি কাঁদো কাঁদো স্বরে বললাম-
“দেখুন আমি ভুল করে আপনাকে ওসব বলেছি। প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দিন আর বাড়ি যেতে দিন।”
এরপর আমি তাকে খুব করে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে, আসলে আমি ভুল গাড়িতে ধাক্কা খেয়েছি, ব্লা ব্লা ব্লা। কিন্তু তিনি আমার কথাতে পাত্তাই দিলেন না।
কিছুক্ষণ পরে একটা পার্লারের সামনে গাড়ি থামলো। পার্লারের দুটো মেয়ে আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে গিয়ে বউ সাজিয়ে দিলো। আমি অঝরে কাঁদছি। এই ছিল আমার কপালে? নিজেকে নায়িকা মৌসুমী মনে করি আর এখন আমার বর হবে একটা বুড়ো। আল্লাহ কে যে বলবো, আল্লাহ তুলে নেও আমায়, কিন্তু মরতে তো খুব ভয় লাগে তাই তুলে নিতে বলা হলো না।
পার্লার থেকে বের হতেই উনি আমার হাত ধরে গাড়িতে বসালেন। তারপর ইচ্ছে মতো থ্রেড করলেন। মিনিট দশেক পর গাড়িটা একটা বিশাল বাড়ির সামনে এসে থামলো। উনি বললেন-
__”মুখ খুললে গুলি করে বালিচাপা দেবো। কথা মতো চললে রানী বানিয়ে রাখবো।”
আমি হ্যাঁ সুচক মাথা ঝাঁকালাম। উনি আমার হাত ধরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলেন। বউয়ের সাজে আমাকে দেখে যেন বাড়ির সবাই স্ট্যাচু হয়ে গেল। উনি সবাইকে সামনে ডাকলেন। সবাই আমাদের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালো। উনি বললেন-
“এটা আমার দ্বিতীয় স্ত্রী কুসুম। একে সবাই সম্মান করবে।”
সবাই ভিলেন মার্কা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। মনে হচ্ছে আমার সামনে রীনা খান, মায়া হাজারিকা, আহম্মেদ শরীফ, রাজীব এরা সবাই দাঁড়িয়ে আছে। আমি তো অবাকের উপর অবাক হচ্ছি। এসব কি হচ্ছে আমার সাথে? উনি ওদের দিকে তাকিয়ে বললেন-
“বউমা এটা তোমার শাশুড়ি মা, তুমি বরণ করে নাও। আর সংসারের সব কিছু শিখিয়ে দেবে তাকে। এবাড়ির বউ হিসেবে গড়ে তুলবে। নচেৎ আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।”
মধ্যবয়সী এক মহিলা “হ্যাঁ” সুচক মাথা নড়ালেন। বুঝলাম উনি বড় বউমা। হঠাৎ কয়েকটা ছোট বাচ্চা দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল-
“দাদীমা তুমি এসেছো।”
মরজ্বালা! এই বয়সে আমি দাদীমা? তাও আবার মা হবার আগেই? মা হওয়া তো পরের কথা, আমার তো এখনো বিয়েই হয়নি। এই দাদুটা আমাকে অযথাই বউ বলছে। আল্লাহ এ কোন্ মুছিব্বতে ফেললে আমায়!

বিঃদ্রঃ গল্পের কাহিনী এবং চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে গল্প কখনোই মিলবে না। জীবন কখনও গল্পের মতো সাজানো গোছানো হয় না। গল্পটা শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য লেখা হয়েছে তাই বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

পরের পর্ব আসছে…..
Written by- Sazia Afrin Sapna

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here