প্রেয়সীর ছোঁয়া ( ১৬)

0
394

প্রেয়সীর ছোঁয়া ( ১৬)
লিখা : জামিয়া পারভীন তানি
এরিক আফরার পায়ের উপর বসে বাম হাত দিয়ে আফরার দুই হাত চেপে ধরে পেটের কাপড় সরায়।
“ চাইলে রেপ করতে পারতাম! কিন্তু যা করবো এটা তার থেকে ও বেশী আমার কাছে। ”

এরপর বেডের পাশ থেকে একটা ছুরি হাতে নেয়। এটা দেখে আফরা খুব ভয়ে পেয়ে যায়। চোখ দুটো বড় বড় করে এরিক কে বলে,
“ তুমি কি আমায় খুন করবে নাকি? ”

এরিক মুচকি হাসে, এরপর আফরার পেটের উপর ছুরি দিয়ে নিজের নাম লিখে। আফরা ব্যথায় ককিয়ে উঠে, তবুও এরিকের মন গলে না। দুই চোখ বেয়ে পানি পড়ছে আফরার। ব্যথা আর রক্তে আফরা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ততক্ষণে এরিক আফরার পায়ের উপর থেকে সরে বসে, হাত দুটো ও ছেড়ে দেয়। এরপর আফরার কানের কাছে এসে বলে,
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



“ দুই বোন কে আলাদা করার চিহ্ন এঁকে দিলাম। এই দাগ যত দিন তোমার শরীরে থাকবে অন্য পুরুষের বেডে যেতে পারবেনা। ” বলে জোরে করে হাসে, এরপর আবার বলে, “ চিরদিনের জন্য আমার করে নিলাম। ”
এরপর আবার হাসে অনেক্ষণ। কিছুক্ষণ পর নিজেই এন্টিসেপ্টিক নিয়ে আসে, তুলায় মাখিয়ে পেটের ড্রেসিং করিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে দেয়। এরপর আফরা কে আস্তে করে উঠায়। আফরার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু খাওয়ায়, যেনো ইনফেকশন না হয় সেই জন্য ওষুধ ও জোর করে খাওয়ায় আফরা কে। এরিক বেরিয়ে যায় রুম থেকে। আফরা ব্যথায় শুয়ে শুয়ে কান্না করতে থাকে।

এদিকে আফরার বাবা আফরা কে ভুল বুঝে এক রাত বাসায় না আসার জন্য। মাহিরা কিছুতেই বোঝাতে পারে না যে আফরা ওর বান্ধবীর বাসায় গেছে। মেহরাব চৌধুরীর তখন থেকেই মেয়ের উপর অবিশ্বাস শুরু হয়।

পরের দিন এরিক আফরা কে ছেড়ে দেয়, আর বলে,
“ তুমি আফরা ই হও আর মাহিরাই হও। তোমাকে ই ভালোবাসবো আমি। বাসায় যাও, পড়া শেষ করো। তোমাকে ই বউ করে ঘরে আনবো। ”

আফরা রাগের জন্য কথা না বলে বেরিয়ে চলে আসে। বাসায় এসে একে ব্যথা অন্যদিকে বাবার অপমান। দুটো সহ্য করতে না পেরে ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। আফরার মা আর বোন দুজনেই অনেক ডাকে তবুও সাড়া দেয় না আফরা।

আফরা তিন ঘন্টা পর দরজা খুলে, ওর মা ওকে খুব বকে। কেনো এমন করছে সেটাও জানতে চায় না। আফরা কিছু না বলে বসে থাকে। মাহিরা দরজা বন্ধ করে আফরার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“ কি হয়েছে তোর খুলে বল, তুই জানিস না, তুই কষ্ট পেলে আমার ও কষ্ট হয় খুব। ”

আফরা একে একে ৫ বছরের সব কথা খুলে বলে মাহিরা কে। আফরা মাহিরার কাছে ক্ষমা চায়, এমন ভুলের ক্ষমা না হলেও মাহিরা বোন কে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।

এদিকে এরিক আফরা কে যখন তখন ফোন দিয়ে দেখা করতে বলে। আফরার সাথে এমন করা উচিৎ হয়নি বলে বার বার ক্ষমা চাইতে শুরু করে। আফরা নিজেও সব দুঃখ ভুলে এরিকের সাথে নতুন করে রিলেশন শুরু করে। এবার আফরা নিজের সব কথা মাহিরা কে শেয়ার করতো।

এভাবে ওদের ভার্সিটি লাইফ শেষ হয়ে যায়। দুই বোন অনেক ভালো রেজাল্ট করে। এদিকে এরিক আফরা কে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করে। আফরা বার বার ওর বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বলে, কিন্তু এরিক বলে,

“ প্রেম করেছি লুকিয়ে, বিয়েও করবো লুকিয়ে। সবাইকে সারপ্রাইজ দিতে চাই আমি। ”
“ দেখো এমন পাগলামি করো না, তাছাড়া এবার পালিয়ে গেলে বাবা ক্ষমা করবেনা। এমনিতেই তখন এক রাত তোমার বাসায় ছিলাম বলে বাবা এখনো কথা বলেনা। ”
“ আরে তুমি যদি সত্যিকারের আমায় ভালোবাসো , তবে আমার চাওয়ার দাম দিতে! ”
“ বিশ্বাস করো! ”

এভাবে এরিকের সাথে ঝগড়া করেও লাভ হয় না, ভালোবাসার মূল্য দিতে এরিকের সিদ্ধান্ত মেনে নেয় আফরা। মাহিরা কিছুতেই আফরা কে বোঝাতে পারে না, যদি এরিক কোনো ক্ষতি করে বসে। আফরা মাহিরা কে বলে,
“ ও সত্যিই আমায় ভালোবাসে রে। ”
আফরা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এরিক আফরা কে ফোন দিয়ে বলে,

“ আফরা, বেবি আমার। আমি একটু প্রব্লেম এ পড়ে গেছি। তুমি আজ বাসায় ফিরে যাও। ”
“ বাসায় ফিরে যেতে পারবোনা! আমি চিঠি লিখে এসেছি তোমাকে বিয়ে করবো। ”
“ আচ্ছা তাহলে তুমি ‘ নাইটস ‘ হোটেলে উঠো। একরাত ওখানে থাকো। আমি কাল সকালে ই তোমাকে ওখান থেকে নিয়ে যাবো। ”
“ আচ্ছা। ”

এদিকে আফরার বাড়িতে ঝড় উঠে যায়, আফরা পালিয়ে গেছে এটা শুনে। আফরার বাবা ঘোষণা করে দেয়,
“ আজ থেকে আমার একটাই মেয়ে, সেটা মাহিরা। আফরা কে আমি ত্যাজ্য কন্যা করলাম। ”

এমন কথা শুনে কোনো মা ই ঠিক থাকতে পারে না। আফরার মায়ের হার্টের প্রব্লেম ছিলো আগে থেকেই। কথাটা শুনার পর পরই আফরার মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

মাহিরা আর ওর বাবা দুজনেই ওর মা কে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে আসে। ডক্টর প্রথম চেক আপ করেই আই সি ইউ তে নিয়ে নেয়।
এদিকে মাহিরা বার বার আফরা কে ফোন দিচ্ছে। কিন্তু আফরার ফোন অফ। আফরা নিজেও বলেছিলো, ফোন বন্ধ করবে না। কিন্তু আফরার জন্য টেনশন করতে করতে এরিক কে ফোন দেয়।

“ এরিক ভাইয়া, আফরা কোথায়? আম্মু খুব অসুস্থ, আই সি ইউ তে আছে। প্লিজ ওকে দিন। ”
এরিক মাহিরা কে বলে,
“ আফরার খোঁজ আমি জানিনা। আমি নিজের বাসাতেই আছি। ”
“ এসব কি বলছেন? ”
“ আমি তোমাকে ভালোবাসি মাহিরা, আফরা কে নয়। সে কোথায় গেছে আমি জানিনা। তবে তোমাকে শীঘ্রই বিয়ে করবো যেভাবেই হোক। ”
“ পাগল হয়ে গেছেন আপনি ! আপনার জন্য আমার মায়ের যদি কোনো ক্ষতি হয়! আপনাকে আমি ছাড়বো না। ”

এরিক ভয়ানক ভাবে হাসতে শুরু করে। এমন টাই তো চেয়েছিলো সে! ওর অনুভূতি নিয়ে আফরা খেলেছে। এবার আফরার অনুভূতি নিয়ে সে খেললো। বাজে একটা হোটেলে রাত কাটিয়ে এসে আফরার সাদা মুখ কালো হয়ে যাবে! এটা দেখতে যে কি মজা লাগবে না! বলেই পৈশাচিক হাসি দেয় এরিক।

মাহিরা ফোন কেটে দিয়ে আফরার জন্য টেনশন করতে শুরু করে। কোনো বিপদ হলো না তো ওর বোনের!

চলবে…..

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here