প্রেয়সীর ছোঁয়া ( পর্ব ৯)

0
997

প্রেয়সীর ছোঁয়া ( পর্ব ৯)
Jamia Pervin Tani
জামিয়া পারভীন তানি

আফরা কে আদর করতে করতে আফরার পেটে চোখ আটকে যায়। আদনান এটা দেখে আফরা কে দূরে সরিয়ে দিয়ে বললো,
“ তুমি এতো নিচ মেয়ে জানলে তোমাকে বিয়ে করতাম না! ” আফরার পেটের উপর ইংলিশে ARIC লিখা আছে, আফরার পেট কেটে।

এটা দেখে আদনান আফরা কে সরিয়ে দেয়। উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে।
আফরা বললো,
“ তুমিই তো বলেছিলে আমার অতীত সহ মেনে নিবে, তাহলে আজ অস্বীকার করছো কেনো? ” আফরার দুইচোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে। আদনান সেটা দেখে বললো,
“ যার চরিত্র খারাপ, পেটের উপর পরপুরুষ এর নাম লিখা তাকে তো আর বিয়ে করা যায় না! তোমাকে খুব শীঘ্রই ডিভোর্স দিবো আমি। ”
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



“ কোন কিছু না জেনেই এভাবে বলতে পারলে তুমি! ”
আদনান আর কোনো কথা না শুনেই বেরিয়ে যায় রুম থেকে।

১৬.

“ প্রিয় আদনান

বুঝতে পারিনি বাবার মতো তুমিও ভুল বুঝবে। শুধু বিশ্বাস করেছিলাম তোমায় কিন্তু তবুও তুমি আমার কথা না শুনেই চলে গেলে। আফরা এতো বাজে মেয়ে না! যদি সত্যি যাচাই করে দোষারোপ করতে! তাহলে আজ এমন হতো না। যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। আমি চলে যাচ্ছি, যেখানে যেতে চাইনা সেখানেই।
আফরা ”

আদনান চিঠি পড়ে আফরা কে চারিদিকে খুঁজতে থাকে। মনের মাঝে ঝড় বয়ে চলেছে। কি এমন সত্যি! যার জন্য মেয়েটা নিজেকে নির্দোষ বলছে। সব কিছু জানার জন্য আফরা কে প্রয়োজন। কিন্তু কোথায় পাবে এখন তাকে! আফরা চিঠি তে স্পষ্ট করে লিখেনি কোথায় যাবে! আফরা নিজের ক্ষতি করবে না তো!

হাজার ও চিন্তা আদনানের মাথায় ঘুরতে থাকে। আর কিছু না ভেবে মেহরাব চৌধুরীর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
মেহরাব চৌধুরী বেলকনিতে বসে কফি পান করছিলেন। তখন আদনান কে এভাবে হন্তদন্ত হয়ে আসতে দেখে নড়েচড়ে বসেন।
আদনান আর অপেক্ষা না করেই বলে,
“ আফরা কোথায়? ”
“ সকালে এসে ওর কিছু ড্রেস নিয়ে গেলো। তোমাদের ওখানে পড়বে তাই। আর তুমিই ওকে খুঁজতে এসেছো কেনো?”
“ আফরা চলে গেছে, বুঝতে পেরেছি! ”
“ মানে, কোথায় যাবে? ”
“ আপনি বলুন ও কোথায় যেতে পারে? এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। ”
“ গেলে আমাদের বাসায় যাবে। যদি এমন হয় তাহলে তুমি এয়ারপোর্টে এ যাও। এমন দেরি হয়নি যে সে এতো তাড়াতাড়ি দেশ ছাড়বে। ”

আদনান বুঝতে পেরেছে খুব ভুল হয়ে গেছে। সব কিছু যাচাই না করে আফরা কে ওভাবে বলা উচিৎ হয় নি। তাড়াহুড়ো করে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। কানাডার উদ্দেশ্যে বিমান কখন তা জেনে নেয় আদনান।
বড্ড দেরি হয়ে গেছে, আফরার ফিরে যাবার টিকিট আগে থেকে ই কাটা ছিলো। আফরা চলে গেছে যেনে আদনান ফ্লোরে বসে পড়ে।

দুই ঘন্টা পর আদনান ফিরে আসে মেহরাব চৌধুরীর বাসায়। মেহরাব চৌধুরী উঠে দাঁড়ায়।
“ এতোটাই যদি ভালোবাসতে! তাহলে আটকাতে পারলে না কেনো? ”
“ ও আগে প্রেম করতো তাইনা!”
“ প্রেম তো তুমিও করেছিলে!”
“ এরিক কে? ”
“ সেটা আফরা ই ভালো জানে। আর জানতো মাহিরা। ”
“ তার মানে আফরার প্রেমিক এরিক? ”
“ যদি প্রেমিক হতো তাহলে ওর ঘর ই করতো আফরা। ”

এরপর মেহরাব চৌধুরী আদনানের সামনে থেকে চলে যায়। আদনান কি করবে বুঝতে না পেরে মাহিরার ঘরে যায়। এটা সেটা নাড়তে থাকে আদনান। হটাৎ মাহিরার ফোন হাতে পায়। দীর্ঘদিন ইউজ না করায় ফোনে চার্জ ছিলো না। আদনান ফোন টা পকেটে নিয়ে নেয়। নিজেও জানেনা কেনো নিলো!
আদনান পিছনে ঘুরতেই মেহরাব চৌধুরী কে দেখে চমকে উঠে। মেহরাব চৌধুরী তখন বললেন,
“ মাহিরা আমার সব চেয়ে ভালো মেয়ে ছিলো। কিন্তু আফরার দোষে আমার স্ত্রী কে আমি হারিয়েছি।”

আদনান এমন কথা শুনবে আশা করেনি। কি এমন করেছে আফরা যে তাকে খারাপ বলছে ওর বাবা!
মেহরাব চৌধুরী আবার বলেন,
“ জীবনে প্রথম ভুল করেছিলাম এইচএসসি পরীক্ষার পর। একটা মেয়ের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। সেই মেয়েটির নাম ছিলো সুমি। এতোটা গভীরে চলে যাবো বুঝতে পারিনি। হয়তো বয়সের দোষ ছিলো। কিছুদিন পর স্কলারশিপ পেয়ে যায়। এমন সময় সুমি এসে তার আনন্দের কথা জানায় ‘ সে প্রেগন্যান্ট ‘ কিন্তু আমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে তার খোঁজ আর নিই নি। তাকে বেশ্যা অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম । সুযোগ বুঝে আমি দেশ ছেড়ে চলে ও গিয়েছিলাম। সুমির কি হয়েছিলো তা জানার প্রয়োজন বোধ করিনি আমি কখনো ই। ভাই এই ঘটনা জেনে যায়। এতে আমাকে ফোন করে অপমান করে অনেক। সেই থেকে বড় ভাইয়ের সাথে আর যোগাযোগ রেখেছিলাম না। কিন্তু এর শাস্তি এতো বছর পর এভাবে পাবো বুঝিনি! আমার মাহিরা এই পাপেই হারিয়ে গেছে! ”

মেহরাব চৌধুরী আদনানের সামনে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।

চলবে……

গল্প একটু ছোট লিখছি ঠিকই আবার গল্প চেপে লিখি তাই বেশী ছোট মনে করেন। ওতটা ও ছোট করে দিই না কিন্তু প্রতিদিন দেওয়ার চেষ্টা করছি। ৭ ঘন্টা বাইরে ডিউটি করে এনার্জি থাকেনা তাও শখের বসে লিখি। কিন্তু এতো জন গল্প পড়ে সেটা বুঝি কিন্তু রেসপন্স নাই কেনো। ঠিক করেছি যারা নিয়মিত গল্প পড়ে তাদের ফ্রেন্ডলিস্ট এ রাখবো আর যারা পড়েনা তাদের বাদ দিবো।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে