প্রেয়সীর ছোঁয়া পর্ব ৩

0
550

প্রেয়সীর ছোঁয়া পর্ব ৩
লিখা : জামিয়া পারভীন তানি

৬.
আদনান ছেলে হয়েও কেঁদে ফেলেছে, মাহিরা ওকে এতো দিন পর এমন মেসেজ দিবে বুঝতেও পারেনি। বিয়ে তো করতেই চেয়েছিলো মাহিরাকে। হৃদয়ের রাণী বানিয়ে রাখতে চেয়েছিলো। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো!
মাহিরার শরীরে একটা গন্ধ ছিলো , পাগল করে দেওয়া গন্ধ। মাহিরা কখনো ই পারফিউম ইউজ করতো না। আদনানের কাছে ভালো লাগার অন্যতম কারণ ছিলো এটা। মাহিরার পাশের ঘরে থেকে আদনান প্রায়ই সময় অদ্ভুত আওয়াজ পেতো! কখনো পশুপাখির আওয়াজ আবার কখনো ভুতপ্রেত এর আওয়াজ। আদনানের মাহিরা সম্পর্কে কৌতূহল বেড়ে যায়। মাহিরা ঘরে কি করে জানার জন্য মাহিরার ঘরে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু মাহিরা ঘরে ফিরে এসে ড্রেস চেঞ্জ করতে করতে অদ্ভুত আওয়াজ করবে কে জানতো! আদনান খুব লজ্জা পায় মাহিরা কে এভাবে দেখে।

হটাৎ মাহিরা আদনানের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। কেননা আদনান লজ্জায় কখন লুকানো থেকে বের হয়ে এসেছে নিজেও বুঝতে পারে নি। মাহিরা নিজেকে কোন রকম আবৃত করে আদনানের গালে কষে একটা থাপ্পড় দেয়।
“ অসভ্য, ছোট লোক, তুই এখানে কি করছিস? ”
“ আমি দেখতে এসেছিলাম অদ্ভুত আওয়াজ আসে কোথেকে!! কিন্তু তুমি হটাৎ চেঞ্জ করবে বুঝতে পারিনি! ”
“ কেনো বিশ্বাস করবো তোকে? তুই রোজ লুকিয়ে লুকিয়ে দেখিস, তাই না! ”
“ বিশ্বাস করো মাহিরা, আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। ”
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



মাহিরা এলোপাতাড়ি আদনান কে কিল ঘুষি যা ইচ্ছে মারতে থাকে। আদনান কোনো প্রতিবাদ করেনি সেদিন। আদনান ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছিলো একটা মেয়ের শরীর কোনো পরপুরুষ দেখা টা কতটা অসম্মানজনক। সেদিন আদনান মাথা নীচু করে বেরিয়ে আসে। মারের চোটে জ্বর ও আসে কিন্তু সবাইকে বলে বিরোধী দলের কাছে মার খেয়েছে আদনান। আফরোজা চৌধুরী যদিও বুঝে গেছেন কি হয়েছিলো! কিন্তু ছেলের সম্মানের কথা ভেবে আর কিছুই জিজ্ঞেস করেন নি।
আদনান বেশ কয়েক টা চিঠি মাহিরার ঘরে দিয়ে আসে, সরি লিখে। কিন্তু মাহিরার মন গলেনি এতে। মাহিরার বাবা মেহরাব চৌধুরী নতুন বাসা নিয়েছেন মোহাম্মদপুর, ঢাকায়। হটাৎ করেই মাহিরা রা চলে যায় নতুন বাসায়। নতুন যায়গায় আসার পর মাহিরা খুব মিস করে আদনান কে। প্রেম জিনিস টা প্রথমে অনুভব না করলেও এখন বুঝতে পারতে দূরত্ব ভালোবাসার অনুভূতি তৈরী করে।
কয়েকদিন মাহিরা খুব মিস করে আদনান কে, এরপর আর থাকতে না পেরে ছুটে যায় আদনানের বাসায়। আদনান ও যে মাহিরাকে মিস করেনি এমন টা নয়। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে দুজনের দু’জনার প্রতি। মাহিরা আদনানকে জড়িয়ে ধরে। কোনরকম ভনিতা ছাড়াই আদনান কে বলে, “ খুব মিস করেছি তোমায় আদু, আই লাভ ইউ। ”

আদনান হয়তো এতো টা বুঝ তে পারেনি। তবে মাহিরার সাড়া পেয়ে নিজেও মনের কথা বলে দেয় মাহিরা কে। একেবারে হুট করেই প্রেম হয়ে যায় দুজনের। যেহেতু চাচাতো ভাই বোন ছিলো, দুজনের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস ভালো ছিলো সেহেতু ঘটা করেই দুজনের এনগেজমেন্ট ডেট ঠিক করে ফেলে দুজনের পরিবার। ভালো ভাবেই বিশিষ্ট লোকদের নিয়ে ধুমধাম অনুষ্ঠান করে এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান হয়। এ যেনো সোনায় সোহাগা, দুজনেই খুব খুশি ছিলো।

৭.
হটাৎ আদনানের পিঠে ছুয়ে দেয় আফরা, আদনানের ধ্যান ভাঙে এতে। আদনান আফরা কে মাহিরা ভেবে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে হুহু করে কেঁদে উঠে। কিছুক্ষণ পর শান্ত হয়ে বললো,
“ বিশ্বাস করো মাহিরা, তোমাকে কতো টা ভালোবাসি বোঝাতে পারবোনা! তুমি হয়তো জানো! আমি এই তিন টা মাস কতটা কষ্ট পেয়েছি। ”
“ করি তো বিশ্বাস, সেইজন্যই তো ফিরে এলাম। ”
“ অবশ্যই তোমায় বিয়ে করবো আমি, তুমি যদি চাও তাহলে আজই। ”

আফরা নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় আদনানের থেকে, এরপর বলে,
“ প্লিজ আদনান, এতো তাড়া কিসের। ”
“ তুমি তো আমায় আদু ডাকতে! ”
“ তুমিও তো আমায় ছোঁয়া ডাকতে! ”
“ হুমম, কিন্তু ”
“ আমি চলে গেছিলাম তাই ভুলে গেছিলে! ”
“ যাই হোক, আজ বিয়ে করলে কি হবে? ”
“ আমাদের দুই পরিবারের যত মনমালিন্য আছে সেটার সমাধান করে তবেই বিয়ে করবো।”

হটাৎ আফরোজা চৌধুরী এসে বললেন,
“ তোমরা এখন চাইলেও বিয়ে সম্ভব না। একবার অনেক কাহিনী করেছো, আমার ছেলের জীবন টাই নরক বানিয়ে দিয়েছো। আর এখন বিয়ে করতে চাইলেই পারবে ভেবেছো! ”

আফরা মনে মনে বলে, “ এটাই তো চেয়েছিলাম। ”
মুখে বললো,
“ আম্মি এটা বলতে পারলা! তুমি আমার আম্মি হতেই পারো না! ” এরপর আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ যদি আম্মি আর চাচ্চুর অনুমতি পাও তবেই এসো আমার বাসায় । ” এরপর আফরা বেরিয়ে চলে আসে।

৮.
সেই ঘটনার পর থেকে নাইলা কে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। সেটা অবশ্য আফরার কথা তেই করেছে মেহরাব চৌধুরী। আফরা নাইলার ঘরে এসে বসে আছে । নাইলা আফরা কে প্রথমবারের মতো দেখে চমকিয়ে যায়। নিজ চোখে মাহিরার মৃতদেহ দেখেছে! অথচ বেচারি তো আর জানে না যে মাহিরা রা দুই বোন ছিলো।

নাইলা আফরা কে দেখে কাঁদোকাঁদো গলায় বললো,
“ আপা, আমি কিছুই করিনি আপা। ”
“ ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছিলি কেনো? ”
“ আপনের সাথে ওরা অবিচার করেছে, বিশ্বাস করেন। ”
“ তুই কিভাবে জানলি যে অবিচার হয়েছে আমার সাথে? ”
“ সবই তো ঠিক ছিলো আপা, নাদিরা আপা আসার পরই তো সব ঝামেলা শুরু হয়। আমার মনে হয় ওরা একে অপরের পরিচিত ছিলো। ওরা নিজেদের স্বার্থেই খুন করিয়েছে। ”
“ নিজের মন মতো বিশ্লেষণ করে নিলি! একবার ও জানতে চাইলি না তোর ধারণা ভুল হতেও পারে! ”

নাইলা হা হয়ে বসে থাকে। আফরা রাগ চেপে বেরিয়ে আসে। ঘরে এসে পায়চারী করতে থাকে। আদনান ওভাবে জড়িয়ে ধরার পর থেকে অন্যরকম ফিলিংস হচ্ছে। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছেনা । আদনান যদি মাহিরা কে খুন করেই থাকে, তাহলে বোনের খুনী কে পছন্দ করতে শুরু করেছে এটা ভেবেই নিজের প্রতি খুব ঘৃণা হয় আফরার।

হটাৎ আফরার পেটে হাত দিয়ে বুকের কাছে টেনে নেয় কেউ ।আফরা কিছু বুঝে উঠার আগেই আফরার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। আলতো কামড় বসিয়ে দেয় গলায়। আকষ্মিক ঘটনায় আফরার হার্টবিট বেড়ে যায়। বুঝতে পারে এটা আদনান ছাড়া আর কেউ নয়। আদনান হটাৎ এভাবে এই রুমে আসলো কিভাবে সেটা মাথায় আসতেই ঘুরে দেখে আদনান মুচকি হাসছে। আফরা নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইলে আদনান আফরাকে আরোও কাছে টেনে নেয়। এরপর বলে,
“ অনেক দিন পালিয়ে থেকেছো, আর নয়। আজ আমার কাছ থেকে তোমায় কেউ দূরে সরাতে পারবেনা! ”

আফরার অনিচ্ছা থাকা স্বত্তেও আদনান কে সরানোর ক্ষমতা নেই। আদনান আফরা কে নিজের কাছে টেনে নিতে শুরু করে ।

চলবে….
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here