প্রেয়সীর ছোঁয়া ( পর্ব ১২)

0
939

প্রেয়সীর ছোঁয়া ( পর্ব ১২)
জামিয়া পারভীন তানি

“ পেশেন্ট আগে নিয়মিত কোকেইন সেবন করতো, তাই তার হার্ট খুব দুর্বল এখন। ”
কানাডিয়ান ডক্টর ইংলিশে এমন কথা বলায় চমকে উঠে আফরা।
আদনান এতো খারাপ ছিলো, সে ড্রাগস নিতো এটা সত্যিই মেনে নিতে পারেনা আফরা। তাহলে কি বোন হত্যার পিছনে আদনান ও জড়িত নাকি! নেশার বশে কিছু করেছিলো হয়তো!

আফরার প্রচণ্ড টেনশন হচ্ছে, তবুও আদনানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখলো। আদনান কিছুটা সুস্থ হলে আদনান কে বাসায় নিয়ে আসে আফরা। আদনানের শরীর মুছিয়ে দেয়, ড্রেস চেঞ্জ করে দেয় আফরা। স্যুপ খাইয়ে দিয়ে নিজেও কিছু খেয়ে নেয়। আদনান ঘুমিয়ে পড়লে আফরা আদনানের পাশে গিয়ে বসে থাকে। আদনানের ঘুমন্ত চেহেরার দিকে দেখলে মনেই হয়না যে আদনান এতো অপরাধ করতে পারে!
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



১৯.
আদনান ঘুম থেকে উঠে দেখে আফরা তার পাশে গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে। আফরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই আফরার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠেই প্রশ্ন করে বসে,
“ তুমি ড্রাগস নিতে!”
“ কে বললো এসব?”
“ ডক্টর পরীক্ষা করে পেয়েছে, আগে ড্রাগস নিতে। ”
“ তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে আফরা, আমি কখনো ড্রাগস নিই নি। ”
“ তাহলে ডক্টর কি ভুল বললো? ”
“ ভুল হতেই পারে!”
“ আজ একটা প্রশ্ন করবো উত্তর দিবে?”
“ বলো? ”
“ নাদিরার সাথে তোমার পরিচয় হয় কিভাবে? ”
“ ও একদিন মাহিরার ঘরে ছিলো, উল্টো দিকে বসে। মাহি ভেবে জড়িয়ে ধরেছিলাম! ও খুব ভয় পায় ,চিৎকার দেয়। পরে মাহি খুব অভিমান করে। মাহিরাকে বুঝিয়ে নাদিরা কে সরি বলি। তখন আমাদের বন্ধুত্ব হয়। ”
“ তুমি কি ড্রিংকস করতে?”
“ আগে করতাম না! মাহিরা ওয়াইন খেতো, খুব সামান্য পরিমাণে। তখন মাহিরার সাথে খেতাম। ”
“ নাদিরা ও থাকতো, তাইনা!”
“ হ্যাঁ, বন্ধুত্ব হবার পর সব কাজই একসাথে করতাম! ”
“ তুমি কি জানো! নাদিরা তোমাকে দেখে ক্রাশ খেয়েছিলো! ”
“ কি বলছো এসব? ”
“ আচ্ছা যাই হোক, এখন রেষ্ট নাও। পরে কথা বলছি। ”

আফরা আর কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বেরিয়ে পড়ে। আদনান স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। কিভাবে সম্ভব এটা, তাহলে কি ঈর্ষা করে মাহিরা কে নাদিরাই খুন করেছে! আদনান আর কিছু ভাবতে পারছেনা। মাথাটা খুব যন্ত্রণা শুরু করে। ওয়াশরুম এ গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দেয়।

এদিকে আফরা ব্রেকফাস্ট রেডি করে। মনে মনে ভাবতে থাকে, গতদিন কতো সুন্দর সকাল ছিলো ওদের। আর আজকের সকাল টা! সন্দেহে ভরা। নাদিরার হাত তো আছে এটা সিউর সে, কিন্তু ভয় পাচ্ছে যদি আদনান জড়িত থাকে তাহলে কি করবে সে!
ব্রেকফাস্ট টেবিলে রাখতে আদনান আসে,
“ কি ভাবছো এতো! ”
“ খেয়ে নাও, তারপর আজ কোথায় যাবে সেটা বলো? “
ঘটনা টা আফরা কে শান্তি দিচ্ছেনা, তাই ঘুরতে যাওয়া টা ই তার কাছে ভালো মনে হয়েছে। যাই হোক পরে দেখা যাবে, এখন তো মন ভালো থাকুক। নিজের মাঝে নিজেই শান্তনা খুঁজছে আফরা।
দেশে ফিরে না হয় মাহিরার খুনী কে নিয়ে ভাবা যাবে!

আদনান কে নাস্তা করে নিতে বলে, আদনান ও চুপচাপ খাচ্ছে আর আফরার দিকে তাকাচ্ছে।
“ তুমি কি কোনো কারণে টেন্স? ”
“ না, তেমন কিছু না। ঘুরতে যাবে না!”
“ কাল তো মরেই যাচ্ছিলাম, একটা কথা ভাবো তো। হানিমুনে এসে ডেডবডি হয়ে দেশে ফিরলে কেমন হবে! ”
আফরার বুকের ভেতর ধক করে উঠে, আদনান কে নিয়ে এমন কিছু সে ভাবতেই পারে না। আদনানের মুখে হাত দিয়ে বললো,

“ এমন বাজে চিন্তা আর মাথায় আনবে না। ”
“ আমি তো মজা করছিলাম। ”
“ মজার ছলেই কাল ধাক্কা দিতে গিয়ে অঘটন ঘটতে গিয়েছিলো। সো প্লিজ, মজা করিও না আর। ”
“ ভয় পেয়োনা সোনা, আমি কখনো তোমার থেকে হারাবোনা। ”

২০.
ওরা নায়াগ্রার বাটারফ্লাই কনজারভেটরি পার্ক এ আসে ঘুরতে। এখানে বিভিন্ন রঙের প্রায়ই ৪৫ প্রজাতির প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়। দুটো টিকেট কেটে দুজনেই ঢুকে। অলিগলি রাস্তা, গাছপালা, ফুলের বাগান, পাখির কলকাকলি, সাথে সুন্দর সুন্দর রঙবেরঙের প্রজাপতি। দেখলেই মন ছুয়ে যাবে যে কারোর ই। আফরা দৌড়ে দৌড়ে প্রজাপতি ধরার চেষ্টা করে, আর আদনান আফরার সেই আনন্দঘন মুহুর্ত গুলো ক্যামেরা বন্দী করে রাখে।

কিছুটা সময় একে অপরের হাত ধরে পাশাপাশি হাটে। আফরা আদনানের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে।
“ যদি সারাজীবন এভাবে সব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতাম! ”
“ আল্লাহ চাইলে সব হবে আফরা। ”
“ আমাদের বেবি হলে আমরা আবার এখানে আসবো!”

আদনান মুচকি হাসে, আফরার নাক টিপে দিয়ে বললো,
“ পঞ্চম বেবি হলে আসবো। ”
আফরা আদনানের পিঠে কয়েকটা কিল দেয় আস্তে করে। এরপর আস্তে করে বলে,
“ ফাজিল খুব তুমি।”
“ খুব ক্ষুদা পেয়েছে, কি খাবো? ”
“ কেনো, আমাকে খাও। ”
“ তোমাকেই তো খাবো, বাট কোন জায়গা থেকে শুরু করবো, বুঝতে পারছিনা! ”

আফরা আচ্ছা করে আদনানের পিঠে মারতে শুরু করে।
আদনান আবারও বলে,
“ হাটতে হাটতে খুব ক্ষুদা লেগে গেছে। ”

ওরা পার্কের ভিতর একটা রেষ্টুরেন্ট এ গিয়ে বসে । কানাডার খাবার অর্ডার করে, নানাইমো বারস বলে একটি খাবার। এটা বানায় ওরা পাউরুটির সাথে কাস্টার্ড দেয়, এরপর চকলেট দেয়। দুজনেই দুটো করে চারটা নানাইমো বারস খেয়ে ফেলে।

এগুলো শেষ করে আদনান সাস্কাটোন বেরি পাই অর্ডার করে। এটা মিষ্টি আর কাজুবাদাম দিয়ে বানায়। এর এতো স্বাদ, যে একবার খাবে তার মুখে স্বাদ লেগে থাকবে।

“ তোমাদের দেশের খাবার গুলো না জাস্ট, মুখরোচক। ”
“ বেশী খেলে ফ্যাটি হয়ে যাবে। ”
“ তাইনা!”
হটাৎ আদনান খেয়াল করে কেউ তার দিকে তাকিয়ে ছিলো, কিন্তু সে বুঝে ফেলায় হুডি উঠিয়ে চলে যায়। আদনান বুঝতে পারছেনা, কে এভাবে তাকাতে পারে! যদি দেখলো ও, তাহলে নিজেকে লুকিয়ে নিলো কেনো? কি করবে বুঝতে না পেরে আফরা কে বললো,
“ আজ অনেক ঘুরেছো! চলো ফেরা যাক এখন। ”

চলবে……

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে