প্রিয় চ্যালেন্জ!-নাফীছাহ_ইফফাত

0
491

#গল্পপোকা_চিঠি_প্রতিযোগিতা_২০২০
#কলমে___নাফীছাহ_ইফফাত
#চিঠি_নং_১

প্রিয় চ্যালেন্জ!

তোমার নামটা যেমন অদ্ভুত তেমনই তুমিও। জন্মের সময়ই হয়তো নিজেকে সকল অবস্থাতেই কন্ট্রোলে রাখার চ্যালেন্জ নিয়ে জন্মেছিলে তুমি।
আমি জানি না তুমি আমাকে কি ভাবো। কেন আমাকে সবসময় কন্ট্রোলে থাকতে বলো তাও জানি না। ভালোবাসা কি কন্ট্রোলে রাখা যায়? এটা কিভাবে যেন হয়ে যায়। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তুমিও ঠিক সেভাবেই আমাকে ভালোবেসেছিলে। আমি আজও জানি না সেটা সত্যিই ভালোবাসা ছিলো কিনা! কারণ ভালোবাসায় কোনো কন্ট্রোল থাকে না। একজন অপরজনকে সারাক্ষণ মিস করে, একে-অপরকে সারাক্ষণ কারণে অকারণে মনে পড়ে। প্রতিটা ভালো, সুন্দর মুহুর্তে একে অপরকে মনে পড়ে। অথচ তুমি দিনের পর দিন আমাকে মনে না করে থাকতে পারো। নিজ থেকে কখনো খোঁজ না নিয়ে থাকতে পারো। এজন্যই হয়তো তোমাকে চ্যালেন্জ ডাকে সবাই।

তুমি কখনো নিজ থেকে আমাকে না করো কোনো টেক্সট আর না করো ফোন। বরং আমি ফোন করলেই তুমি কেটে দাও। কেন এতো অবহেলা করো আমাকে?
ফোন করতে বললে তুমি বলো, বেশি ফোন করলে নাকি বেশি মিস করবো তাই ফোন করা যাবে না। আবার সারাক্ষণ টেক্সটও করা যাবে না। তাহলে নাকি কোন সমস্যার কারণে একদিন টেক্সট করতে না পারলে আমরা চিন্তিত হবো। শুধুমাত্র সেই একটা দিনের কথা ভেবে এত কষ্ট দিচ্ছো আমায়? কেন?

আমি যদি এক্সিডেন্ট করে হাত-পা ভেঙে রাস্তায় পড়ে থাকি এবং এটার জন্য কোনোভাবে তোমাকে ফোন দিই তাহলে তো তুমি কখনোই এই ঘটনা জানতে পারবে না। কারণ তুমি আমার ফোন পিক আপ করাতো দূরে থাক, কল দিয়েছি সেটা দেখেও ব্যাক করোনা। বরং সাথে সাথেই তুমি কেটে দাও। আচ্ছা ধরলাম তুমি বিজি থাকো। আচ্ছা বলতো, একটা মানুষ কি সবসময় বিজি থাকতে পারে? আমি যখনই ফোন করি তখনই তুমি বিজি। এটা কিভাবে সম্ভব? তুমিই কি একমাত্র ব্যাক্তি যে সবসময় বিজি থাকো? নাকি আমি যখনই ফোন করি তখনই বিজি হয়ে যাও। আচ্ছা এটাও ধরলাম যে সবসময় বিজি থাকো। তাহলে ফ্রি হয়ে কলটা কি ব্যাক করা যায় না? কখনো জানতে চেয়েছো আমি কেন ফোন দিয়েছিলাম? তোমার কি মনে হয়, তুমি সবসময় বিজি থাকো আর আমি সবসময় ফ্রি? আমি সবসময় তোমাকে আজাইরা কাজে ফোন দেই? কখনো আমার কিছু বলার থাকেনা? সবসময় উতলা হয়ে থাকি বলে কি সবসময় আজাইরা কাজে ফোন দিব? কখনো কখনো তো অসম্ভব দরকারেও ফোন দিতে পারি। বা তোমার কেয়ার… নাহ, নাকি তুমি চাওনা আমি তোমার কেয়ার করি? তুমিও যেমন আমায় করো না? আসলে কি জানো, আমি পারিনা তোমার কেয়ার করা ছাড়া, খোঁজ নেয়া ছাড়া থাকতে। একচুয়েলি আমি চাইও না। অনেক বেশি ভালোবাসি তো। থাক সেটা নাই বা বললাম। বুঝবে না তুমি।

আবার ধরো, আমি টেক্সট করা অফ করে দিয়েছি হঠাৎ করে। যেমনটা আমি সচরাচর তোমার সাথে রাগ করে করি। নাহয় আমার অনলাইনে না আসার কোনো কারন নেই। শত ব্যস্ততার মধ্যেও শুধু তোমার খোঁজ নেয়ার জন্য কয়েকমিনিটের জন্য হলেও অনলাইনে আসি। আর বারবার তোমার টেক্সটের জন্য ওয়েট করি। এবার ধরো এমনই একদিন আমি টেক্সট করছি না, আমার ভয়ংকর অসুখ করেছে যেটা তুমি জানোও না। প্রয়োজনই মনে করোনি জানার। তখন যদি আমি মরেও যাই, তাহলে তিন-চারদিন তুমি অনায়াসে চুপ করে থাকবে। তুমি ভাববে, হয়তো এমনিই করছে না। বা হয়তো ভাববে, ভালোই তো হয়েছে টেক্সট করছে না, আমাকে এখন ডিস্টার্ব করার কেউ নেই। বা ভাববে, হয়তো ব্যস্ত। (আগেই বলেছি, তোমার জন্য আমার কোনো ব্যস্ততা নেই। আমি মরতে মরতেও যদি তুমি টেক্সট বা কল করো, আমি না মরে আগে ফোন উঠাবো, আই সোয়্যার।) বা হয়তো আমার কথা ভাববেই না। মনেই পড়বে না যে আমি টেক্সট করছি না। তিন-চারদিন পর মনে পড়বে। ততদিনে আমি কবরে থাকবো। তুমি চারদিন পর ফোন দিয়ে জানবে আমি চারদিন আগে মারা গেছি। তখন তুমি মেজবান খেতে আসতে পারো। আর কিছুই করার থাকবে না৷

আচ্ছা বলতো, আমি কি এত্তটাই মূল্যহীন তোমার কাছে? যে তোমার জন্য সারা দুনিয়াকে ভুলে যেতে পারে তাকেই তুমি ভুলে যাও সারা দুনিয়ার জন্য? কেনে এরকম হয় আমার সাথে বলতো? আমি এতটা মূল্যহীন কেন? আমি জানি তুমি এখন আমাকে শত ব্যস্ততা দেখাবে। অনেক কিছুই বলবে। আমিও হয়তো কিছুই না বলে সবটা মেনে নেবো৷ আমি আসলে সবটা বুঝি। তুমি উল্টাপাল্টা বোঝালেও ঠিকটা আমি বুঝি। শুধুমাত্র তোমার সাথে ঝগড়া করতে চাইনা বলে তর্কে যাইনা। আর আমি চাই আমার কাছ থেকে যেন অন্তত তুমি কোনো কষ্ট না পাও। তাই সবসময় তোমার সব কথা রাখি। তোমাকে কক্ষনো কোনো মিথ্যে বলিনা আমি৷ এত বেশি ভালবাসি তোমায়। তারপরও যদি কোনো কমতি থাকে আমাকে বলো। আমি ভরিয়ে দেবো৷ সবটা দিয়ে ভরিয়ে দেবো তোমাকে। তাও আমাকে ইগনোর করোনা। আমাকে শুধু একটু ভালবাসলেই হবে। অল্প একটু৷ আর রোজ অল্প একটু সময় দিলেই হবে। আর কিচ্ছু চাইনা আমি৷ কিচ্ছু না৷

এত কথা তোমাকে কখনো সরাসরি বলা হবে না। হয়তো গুছিয়ে বলতেও পারবো না। তাই চিঠির মাধ্যমে জানালাম। এতকিছুর মধ্যেও আমি একটাই জিনিস চাই তোমার কাছে, “ভালোবাসা”। আমি বড্ড ভালোবাসার কাঙ্গাল। এরচেয়ে বেশি আর কিছুই চাই না আমি। তোমাকে আমি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। সবসময় চাই তুমি ভালো থাকো। ভালোবাসি সবসময়।

ইতি,
তোমার অপ্রিয় পাগলীটা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে