পূর্ব-রোদ পর্ব-০৯

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

@পূর্ব-রোদ🌿
#পর্ব_০৯
#লেখিকা_আমিশা_নূর

পূর্ব কিছু না বলে ফোন কেটে দিলো।আড়চোখে পাশে তাকিয়ে দেখলো রোদ ফুলের বাগানে হাঁটছে।ফুলগুলা হাতে ছুঁয়ে দিচ্ছে।একটু আগে খাবার খেয়ে বাড়ির বাইরে এসেছে।আর রোদ বাইরে বেরিয়ে বাগানের দিকে ছুটে গেলো।রোদ মহা আনন্দে সবকিছু অনুভব করছে কিন্তু চাঁদনি মোহাম্মদের একটা ফোন কল’এ পূর্বের মুড নষ্ট হয়ে গেলো।

দশ সারি’র একটি চারকোনা ফুলের বাগানের সুবাশে রোদ নিজেকে অনুভব করছে।হরেক রকমের ফুলের বাগানে রোদ নিজেকে রাঙ্গাচ্ছে। বাগানের এক পাশে গোলাপ গাছের বাগান।সব রংয়ের গোলাপ দেখতে পাচ্ছে রোদ।তবে সেখানে কালো রংটা বেশি পছন্দ হলো।তার একটু পাশে বেলি ফুল!অতি উত্তেজনায় রোদ ফুল ছিড়তে যাবে তখনি মনে পড়লো “ফুল নিজের সৌন্দর্য গাছে থাকা অবস্থায় প্রকাশ করে।মানুষ্যজাতি’র হাতে আসলে তার সৌন্দর্য নষ্ট না হলেও কমে যায়।”

রোদ দু’পা পিছিয়ে আসলো।পায়ে কিছু একটা সুচের মতো ঢুকে গেলো।পরক্ষণে আবার ব্যাথা না পাওয়ায় রোদ বিষয়টা এড়িয়ে গেলো।ফুলের বাগান’টা মোটামুটি রোদের ঘুরা শেষ।বাগানের সামনের দিকে গ্রাম অঞ্চলের মতো করে তক্তা দিয়ে দোলনা তৈরি করা।যথারীতি রোদ সেই দোলনায় দুলতে লাগলো।কিন্তু কেউ পেছন থেকে ধাক্কা না দেওয়ায় রোদ ভালো ভাবে দুলতে পারছে না।একটু পর পরই নেমে যাচ্ছে।এভাবে কয়েকবার ট্রাই করার পর রোদ অনুভব করলো কেউ একজন তাকে পেছন থেকে সাহায্য করছে।রোদ সেদিকে না তাকিয়ে মহা আনন্দে দুলতে লাগলো।কারণ সে জানে এ বাড়িতে পূর্ব ছাড়া অন্য কোনো তৃতীয় ব্যাক্তি নেই।


“আমি এখানে ঘুমাবো মানে এইখানেই ঘুমাবো।”
“আমি বলে দিয়েছি জাদুমন্ত্রী এটা আমার বিছানা তাই আমি ঘুমাবো।”
“হরিচন্দওওন!ওকে ফাইন।তুই আমাকে যদি পাশের যেকোনো একটা রুম পরিষ্কার করতে সাহায্য করিস তাহলে আমি ঐ রুমে চলে যাবো।”
“এ্যাহহ!ঠ্যাকা পড়েনি আমার।এই রুমের সোফায় থাকতে পারলে থাক নয়তো ধূলা জমা রুমে থাক।”

রোদ একটুখানি ভাবার সময় নিলো।গোসল করার পর থেকে তার ম্যাথা ব্যাথা করছে।একে তো এতোদূর জার্নি করলো তার উপর আধ ঘন্টার অধিক সময় পানির নিচে ছিলো।যার কারণে এখন শরীর খারাপ লাগছে।এই অবস্থায় রুম পরিষ্কার করা সম্ভব না।আর পূর্ব কোনোদিন সাহায্য করবে না। তাই রোদ এই রুমের সোফা’য় থাকার সিদ্ধান্ত নিলো।

“আচ্ছা আমি সোফায় থাকছি।”
“ওকে বউ।গুড নাইট!”

চার অক্ষরের কথা শেষ করে পূর্ব গায়ে ছাদর জড়িয়ে নিলো।তার অজান্তেই মুখ থেকে “বউ” শব্দটা বেরিয়ে গেছে।নিজের অদ্ভুত কথায় পূর্ব নিজেই থমকে গেলো।ছাদরের ফাঁক দিয়ে রোদের রিয়াকশন দেখার চেষ্টা করলো।কিন্তু রোদ মুখটা ওপাশে ফিরিয়ে রেখেছে।পূর্ব বিড়বিড় করতে করতে ছাদরের নিচে নিজেকে ঢেকে নিলো।

“বউ” ডাক শুনার পর রোদের মুখটা হা হয়ে আছে।পূর্বের থেকে এমন কিছু সে আশা করেনি।বর্তমানের পূর্বকে যেনো রোদ চিনছেই না।সবসময় রোদ’কে জ্বালানো জন্য যে উঠেপড়ে লাগতো সে কি’না ‘বউ’ বলছে?পূর্ব কী রোদকে নিজের স্ত্রীর জায়গায় বসাচ্ছে?কারণ আজ কালের পূর্ব রোদ’কে বারবার মনে করিয়ে দে সে রোদের স্বামী।


মাঝরাতে কারো কাঁপুনি’র শব্দ শুনে পূর্বের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।চোখ মেলে চারিদিকে তাকিয়ে দেখলো রোদ থরথর করে কাপছে।হাত-পা গুটিয়ে বৃত্ত হয়ে আছে।এভাবে কাঁপতে দেখে পূর্ব তাড়াতাড়ি রোদের কাছে গেলো।কপালে হাত দিয়ে বুঝলো রোদের জ্বর এসেছে।পূর্বের মনে পড়ে গেলো রোদ জার্নি নিতে পারে না তার উপর অনেকক্ষণ পানির নিচে ছিলো।পূর্ব কী করবে বুঝতে না পেরে রোদকে বিছানায় নিয়ে আসলো।

পাশ থেকে একটা সাদা কাপড় নিয়ে জ্বলপট্টি দিলো।অন্যকাপড় দিয়ে হাত-মুখ মুছে দিলো।কিন্তু রোদের জ্বর নামার কোনো নামই নেই।এবারে পূর্ব টেনশনে পড়ে গেলো।পাশ থেকে মোবাইল নিয়ে দেখলো দুটো বেজে আটচল্লিশ মিনিট।কয়েকবার জ্বল ছড়িয়ে পূর্ব জ্বল পট্টি দিলো।সাড়ে তিনটার দিকে রোদের জ্বর হালকা কমে এলো।তবু জ্বর ছিলো বিধায় কী করবে বুঝতে না পেরে রোদকে জড়িয়ে ধরলো।নিজের মধ্যে অসস্তি হলেও পূর্বের কাছে এখন রোদের সুস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গতে রোদ হাত-পা মেলতে চাইলো।কিন্তু পরক্ষণে অনুভব করলো কোনোকিছু তাকে আবদ্ধ করে রেখেছে।রোদ পাশে তাকিয়ে দেখলো পূর্ব তাকে দু’হাতে আবদ্ধ করে রেখেছে।দৃশ্যটা দেখে রোদ হালকা চিৎকার দিলো।রোদের চিৎকারে পূর্ব ঘুম ঘুম চোখে আলতো করে দেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লো।রোদ শান্ত হয়ে চারপাশ’টা বুঝার চেষ্টা করলো।ডানদিকে জ্বল পট্টি,ছোট গামলায় পানি রাখা।রোদ নিজের কপালে হাত রেখে বুঝতে পারলে তার জ্বর এসেছিলো।এখনও হালকা আছে।আর শরীররাও হালকা দূর্বল।কিন্তু রোদ বুঝতে পারছে না জ্বল পট্টি কে দিলো?পূর্ব ছাড়া বাড়িতে কেউ নেই তারমানে কাজ’টা পূর্ব ছাড়া অন্যকেউ করতে পারে না।

রাতে পূর্ব জেগে ছিলো মনে করে তাকে ঘুম থেকে না ডেকে রোদ আস্তেধীরে বিছানা থেকে নামতে গেলে টান লেগে পূর্বের গায়ের উপর পরে গেলো।রোদে রুক্ষ চুলগুলো এলোমেলো ভাবে পূর্বের মুখে ছড়িয়ে আছে।চোখের বা’ পাতায় একটি কালো তিল চিহ্ন।ডান গালে একটি নকের দাগ।রোদের মনে পড়লো ছোট বেলায় একটা টেডি’র জন্য ঝগড়া দিতে গিয়ে রোদ পূর্বের গালে আচড় দে।যার জন্য দাগটা এখনো রয়ে গেছে।রোদের সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো পূর্বের ডান গালের দাগের দিকটা।’রোদের ছোঁয়ায় যেন পূর্বের পূর্ণতা!’

রোদ আলতো করে পূর্বের মুখের উপরে থাকা চুলগুলো সরিয়ে নিলো।ঝগড়া সময় একজন আরেকজনে মারতে গিয়ে অনেক কাছাকাছি চলে গিয়েছিলো কিন্তু কেনোদিন এতটা গভীর ভাবে রোদ তার স্বামী’কে খেয়াল করেনি।রাফিয়া একবার বলেছিলো পূর্বের চেহেরা নাকি কেমন যেনো টান টান,আপন!তখন কথাটা ফাও বলে উরিয়ে দিলেও এখন কথাটা সত্যি মনে হচ্ছে।এই চেহেরা দেখে রোদ সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারবে।

এসব ভাবনা চিন্তা মাথায় ঘুরছিলো তখনি পূর্ব চোখ খুললো।চোখ খুলতেই নিজের মুখের সামনে রোদকে দেখে পূর্ব চমকে উঠলো।পূর্বের চমকে উঠা দেখে রোদ তাড়াতাড়ি উঠে বসলো।আমতা আমতা করে পূর্ব রোদকে জিজ্ঞেস করলো,

“তু..তুমি আমার মুখের উপর কী করো?”

পূর্বের কথা বলার স্টাইল’টা রোদের ভালো লাগলো না।পূর্বের স্ত্রী হয়ে সে পূর্বের কাছাকাছি যেতেই পারে এতে এভাবে প্রশ্ন করার কী আছে?পূর্বের প্রশ্নের রোদ উল্টো জবাব দিলো,

“কিস করতে ছিলাম।কিন্তু তখন তুই উঠে গেলি।”
“কীহ?তোমার মাথার সব তার কী ছিড়ে গেছে?”
“আমার মাথার তার এখনো জীবিত আছে।তোর স্ত্রী হয়ে আমি তোরে কিস করতেই পারি।এইভাবে অবাক হওয়ার কী আছে?”

পূর্বের রাতের কথা মনে পড়ে গেলো।পূর্বের মনে হলো রোদ জ্বরের ঘোরে আবুল-তাবুল বকছে।রোদের জ্বর আসছিলো মনে হতেই রোদের কপালে হাত রেখে জ্বর আছে কি’না পরিক্ষা করলো।রাতের চেয়ে এখন অনেক কমে গেছে।নাহলে পূর্ব ধরে নিতো জ্বরের ঘোরে রোদ আজেবাজে কথা বলছে।কিন্তু মেয়েটা’তো সজ্ঞানে তার ছিঁড়া কথা বলছে!

“ঐ কোন রাজ্যে হারিয়ে গেলি?”(রোদ)
” আছি।সরো নামতে দাও।”

পূর্ব’কে নামার জায়গা করে দিলে পূর্ব নেমে ওয়াশরুমে গেলো।ততক্ষণে রোদ নিজের চুল আঁচড়ে নিলো।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পূর্ব রোদ’কে উদ্দেশ্য করে বললো,

“কী নাস্তা তৈরি করবো?”,
” এ্যাহ?বুঝিনি কী বলছিস?”
“বলছি যে সকালে কী খাবি?”
“ক্যান?তুই কী নাস্তা বানাবি নাকি?”

কথাটা রোদ মজা করে বললেও তাকে অবাক করে দিয়ে পূর্ব উত্তর দিলো,

“তোমার জ্বর আসছিলো রাতে।আর এখনো জ্বর আছে।আমার মনে হয় নাস্তাটা আমি তৈরি করতে পারবো।তুমি রেস্ট নাও!”
“মা..মানে?ভূতের মুখে রাম রাম?”
“যাই হোক।তুই শুয়ে..আই মিন তুমি শুয়ে থাকো আমি নাস্তা রেডি করছি।”
“আমার জ্বর নেই এখন।আমি তৈরি করতে পারবো।”
“আমি যেটা বলেছি সেটাই ফাইনাল।নাহলে মা’কে কল করে সবটা বলে দিবো।”

রোদ’কে শাসিয়ে পূর্ব নিচে নেমে গেলো।পূর্ব যাওয়ার পনে রোদ হা করে তাকিয়ে রইলো।সে বুঝার চেষ্টা করছে পূর্বের কী হয়েছে?এতো কেয়ার তো নরমাল স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে আছে কি’নাও সন্দেহ!তবে সে যাই হোক পূর্বের কেয়ার,ধমক সবকিছু রোদের মনে রং লাগিয়েছে।

রান্না ঘরে গিয়ে পূর্ব মোবাইল অন করে।এর আগে কোনোদিন পূর্ব রান্না করেনি।ছোট বেলায় তার মা রান্না করার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো।তখন তার মা তাকে জিজ্ঞেস করতো,
“কী রে?রোজ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকিস কেনো আমি রান্না করার সময়?”
“মা তোমার রান্নায় না আলাদা সুওওওগন্ধ আছে!”
“তাই?সুগন্ধ আছে বলে দাঁড়িয়ে থাকিস?”
“না তো।আমি বড় হয়ে বিয়ে করলে না আমার বউ’কে তোমার মতো করে রেঁধে খাওয়াবো।”
“হাহাহাহা!গাগল ছেলে!”

পূর্ব কোনোদিন ভাবেনি তার ছোট বেলার কথা সত্যি হয়ে যাবে।তবে রান্না করতে আসায় পূর্ব বিরক্ত হচ্ছে না।সে রান্না করতে পারুক বা না পারুক রোদকে কাজ করতে দিবে না।তার মায়ের শর্তের জন্য নয় সেটা।পূর্ব আন্তরিকভাবে চাইছে রোদের জন্য কিছু বানাতে।কিছুক্ষণ ভাবার পর পূর্ব সিদ্ধান্ত নিলো রোদের জন্য স্যুপ বানাবে।পাশে ফ্রিজ খুলে দেখলো অনেকগুলা গাজর আছে।পূর্ব দুটা গাজর তুলে নিলো।পায়ের আওয়াজে পূর্ব চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো রোদ গুটিগুটি পায়ে আসছে।কিন্তু ভালোভাবে হাঁটতে পারছে না।পূর্ব ভ্রু-কুঁচকে রোদকে ধমক দিয়ে বললো,

“তোমাকে না বললাম শুয়ে থাকতে?এভাবে হাঁটছো কেনো?”
“কালকে ফুলে বাগানে গেলাম না তখন পায়ে কিছু একটা লেগেছিলো তখন কিছু হয়নি কিন্তু এখন ব্যাথা করছে।”
“এজন্যই বলি তোমাকে ব্যাঙের মতো না লাফাতে।”
“তুই আমারে ইন্ডাইরেক্টলি ব্যাঙ বললি?”
“ইন্ডাইরেক্টলি বলার কী আছে?আমি ডাইরেক্টলি বলছি।”
“তোকে আমি…”
“সাবধানে পা ফেলে আয়।”

পূর্বের সতর্কবাণী শুনে রোদ থেমে গেলো।বাম পা’টা টনটন করছে।রোদ আস্তে করে পূর্বের পাশে রাখা চেয়ারে বসলো।পা তুলে মাথা নিচু করে পায়ে কী হয়েছে দেখায় চেষ্টা করলো।তখনি পূর্ব এসে রোদের পা’য়ে হাত রাখলো।পূর্বের স্পর্শে রোদ চমকে গিয়ে তার দিকে তাকালো।তখন পূর্ব মনোযোগ সহকারে রোদে পা পরিক্ষা করছে।রোদ মায়াবী দৃষ্টিতে পূর্বের দিকে দৃষ্টি তাক করলো।টেনশনে পূর্বের চেহেরা কালো মেঘে ঢাকা হয়েছে।রোদ ভালোভাবে বুঝলো এইটা পূর্বের আসল রুপ।কোনো ব্যাক্তি অভিনয় করলে তার চেহেরা’র সাথে ব্যাক্তিত্বের মিল পাওয়া যায় না।কিন্তু পূর্বের দৃষ্টি জানান দিচ্ছে ‘সে রোদের জন্য চিন্তিত!”রোদ এক ধ্যানে পূর্বের দিকে তাকিয়ে ছিলো তখনি পূর্ব তার চোখের সামনে তুড়ি মেরে বললো,

“হা করে কী দেখছো?তোমার পায়ে কোনো পোকা কামড়েছে মনে হয়।”
“কে জানে।ব্যাথা করছে খুব।”
“বাগানে তুমি জুতা পরে ডুকোনি?”
“নাহ।যে বস্তু’কে সম্মান করি তার সামনে জুতা পায়ে যেতে নেই।করিম দাদু বলেছিলো।মনে নেই?”
“আছে।এখন ভালো লাগছে পা’টা পোকা’কে খেতে দিয়ে?”

পূর্বের কথ শুনে রোদ ফিক করে হেসে ফেললো।পূর্ব কিছু বুঝতে না পেরে রোদের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো।রোদ হাসতে হাসতে হাত দেখিয়ে ইশারা করলো হাসি থামিয়ে বলবে।পরক্ষণে হাসি থামিয়ে মুখ ফুটে বললো,

“এমনভাবে বলছিস যেনো পোকা হাহাহা পোকাটা আমার পুরা পা খেয়ে ফেলেছে।”
“না।পোকা তোমার পা খাইনি।চুমু দিয়েছে মাত্র।”
“হাহাহাহা।”
“এখন না হেসে বলো গাজরের সুপ কীভাবে তৈরি করে?”
“গাজরের সুপ কে খাবে?তুই?”
“না তুমি।”
“কীহ?সুপ আমার বিরক্ত লাগে।জীবনেও খাবো না।”
“ঠিক আছে আমি খাবো।বলো এবার কী করে তৈরি করে?”
“আমাকে দে গাজর।আমি করে নিচ্ছি।”
“নাহ।তুই..আই মিন তুমি বসে থাকো এখানে।আমি করছি।”
“ঠিক আছে।কিন্তু একটা শর্ত মানলে তবেই আমি বলবো।”
“কী শর্ত?”
“তুমি করা বলে বাদ দিয়ে তুই করে বল ওটাই ভালো লাগে আমার।”
“কীহ?তুই করে ডাক ভালো লাগে?”
“দেখ সব সম্পর্কে তুই করে ডাকটা মোটেও অসম্মানীর না।ভাই বোনর,আল্লাহ,কাজিন,ফ্রেন্ড ওরা সবাই তুই -তোকারি করে কথা বলে তারমানে কিন্তু তারা অভদ্র নয়।বরং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা দৃঢ়।আমরা কিন্তু ঘৃণা জন্য তুই-তোকারি করতাম এখন নাহয় এমনি ডাকবো।”
“কিন্তু আমরা তো স্বামী-স্ত্রী!”
“কচু স্ত্রী!তোর বিয়ের বয়স হয়েছে?নাকি আমার হয়েছে?ওসব বাদ।এখন বল কী ডিসিশন?”
“ওকে ডান!এখন গাজরের সুপ কীভাবে করে বল?”

পূর্বের দিকে রোদ তাকালো।এতো ভালো ব্যাবহার একে অপরের সাথে তারা এই প্রথম বার করছে।আচ্ছা রোদের যে ভালো লাগা কাজ করছে সেটা কী পূর্বেরও হচ্ছে?

[চলবে]

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব | ইমোশনাল গল্গ

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৫ (শেষ পর্ব) . তন্ময়, তিন্নি রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ডুকরে কেঁদে উঠলাম আমি। তিহান আমার সাথে এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এটা...

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৪

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৪ . তিহান অফিসে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তন্ময় হন্তদন্ত পায়ে আমার কাছে ছুটে আসে। আমি ওর প্রতীক্ষায়ই ছিলাম। ও আসার পর সরাসরি...

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৩

#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৩ . হঠাৎ করে তিহান হাসতে আরম্ভ করলেন। এবার আমি ভ্রুজোড়া কুঞ্চিত করে জিজ্ঞেস করলাম, 'হাসছেন কেন?' উনি হাসতে হাসতেই জবাব দিলেন, 'তোমাকে ভয় পেলে বেশ...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

ছন্দ ছাড়া বৃষ্টি পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব | ইমোশনাল গল্গ

0
#ছন্দ_ছাড়া_বৃষ্টি #লেখনীতে- Ifra Chowdhury #পর্ব-০৫ (শেষ পর্ব) . তন্ময়, তিন্নি রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ডুকরে কেঁদে উঠলাম আমি। তিহান আমার সাথে এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এটা...
error: ©গল্পপোকা ডট কম