পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৭

0
1185

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৭
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

ইউনিভার্সিটির পার্কিং লটটি ক্যাম্পাসের একেবারে শেষ প্রান্তে। ক্লাস শেষ করে পার্কিং লটে যেতে বেশ খানিকটা পথ হাটতে হয় এবং চারপাশটাও বেশ নীরব থাকে। তিয়াশা আজ একাই পার্কিং লটের দিকে যাচ্ছে কারণ ক্লাস শেষ করে প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ একসাথে ঘুরতে বের হয়ে গেছে ম্যাথিউ এর গাড়িতে করে। তিয়াশার ম্যাকডোনাল্ডস এ কাজ আছে তাই সে প্যাট্রিসিয়ার গাড়িটি নিয়ে যাবে।

“তিয়াশা!”

নিজের নাম শুনে পেছন ফিরে তিয়াশা দেখে তার ক্লাসমেট ড্যানিয়েল রদ্রিগেজ ছুটে আসছে তার দিকে। তিয়াশা কিছু না ভেবেই দাঁড়িয়ে পরে। ড্যানিয়েল এসে তিয়াশাকে বলে,
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



“Hey Tiyasha, I heard from Patrisia that you are going to work driving her car.” তিয়াশা, আমি প্যাট্রিসিয়ার কাছ থেকে শুনলাম যে তুমি কাজে যাচ্ছ ওর গাড়ি নিয়ে।)

তিয়াশা বিভ্রান্তি নিয়ে বলে,

“Yes, I’m going to work. So?” (হ্যাঁ, আমি কাজে যাচ্ছি। তো?”

“If you don’t mind, can you drop me off at Walmart. My car’s engine broked and I don’t have time to fix it. Getting late to work.” (তুমি যদি কিছু মনে না করো, তুমি কি আমাকে ওয়ালমার্টে নামিয়ে দিতে পারবে? আমার গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে এবং ঠিক করার মতো সময়ও নেই আমার হাতে। কাজের দেরি হয়ে যাচ্ছে।)

“I am not sure how to help you. My work place is only 5 mile away from here.” (আমি আসলে বুঝতে পারছিনা, আমি কিভাবে তোমার সাহায্য করতে পারি। আমার কাজের জায়গা এখান থেকে মাত্র ৫ মাইল দূরে।)

“Don’t worry. I know where you work and my work place is not far from your one. Only 2 street away.” (চিন্তা করোনা। আমি জানি তুমি কোথায় কাজ করো, আর আমার কাজের স্থান ও তোমার টার থেকে বেশি দূরে নয়। মাত্র ২ টা রাস্তা পরেই।)

তিয়াশার খুব অস্বস্তি লাগছে তবুও এক সাথে ক্লাস করে আর সাহায্য চাইছে দেখে রাজি হয়ে যায়।

ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসেছে ড্যানিয়েল। তিয়াশা গাড়ি চালিয়ে মাত্র হাইওয়েতে উঠেছে তখন তিয়াশা খেয়াল করে ড্যানিয়েল একটা বিয়ারের বোতল খুলছে তার ব্যাগ থেকে বের করে। তিয়াশা আড় চোখে তাকিয়ে ড্যানিয়েলকে একটু কড়া গলায় বিরক্তি নিয়ে বলে,

“If you don’t mind can you put that bottle away. I don’t want you to drink it in the Car. Plus, you are going to work.” (কিছু যদি মনে না করো, বোতলটা সরিয়ে রাখো। আমি চাইনা তুমি গাড়িতে এসব খাও। তার উপর তুমি এখন কাজে যাচ্ছ।)

“Who said I’m going to work, Honey. I want to spend some quality time with you.”(কে বলল আমি কাজে যাচ্ছি, হানি। আমি তো তোমার সাথে কিছু একান্ত সময় কাটাতে চাই।)

কথাটি বলেই সে এক নিঃশ্বাসে পুরো বিয়ার এর বোতল খালি করে ফেলে। তিয়াশা ভালো করে খেয়াল করেনি, না হলে বুঝতে পারতো যে ড্যানিয়েল কিছুটা টাল মাতাল হয়ে আছে আগে থেকেই। এখন আরো বিয়ার খাওয়ার পর ভালো মতই তার মাতলামি শুরু হয়ে গিয়েছে।

তিশায়া খুবই বিরক্ত নিজের উপর! কোন দুঃখে যে ওকে সাহায্য করতে গেছিলাম! এখন দ্রুত ওকে নামিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে, সে চিন্তা করতে করতে দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছে তিয়াশা।

হঠাৎ করে আপত্তিকর ভাবে তিয়াশার হাত স্পর্শ করে বসে ড্যানিয়েল, তিয়াশা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় তাকে।

ড্যানিয়েল এর কণ্ঠে মাতলামির সুর,

“Why are you staying away, come little closer dear!” (কেনো এতো দূরে আছো? কাছে আসো না একটু!)

তিয়াশা ঘাবড়ে যায়। ভয়ে তার আত্মা শুকিয়ে আসছে কিন্তু তা প্রকাশ করছেনা। মাতালটার থেকে নিজেকে বাঁচাবে নাকি ৮০ মাইল বেগে হাইওয়েতে ছুটে চলা গাড়ি সামলাবে। একটু এদিক ওদিক হয়ে গেলেই বিশাল বড় অ্যাকসিডেন্ট হয়ে গাড়ি সমেত গুঁড়িয়ে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।

তিয়াশা একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। ড্যানিয়েলকে কিছু বুঝতে না দিয়ে শান্ত কিন্তু কাঁপা কণ্ঠে বলে,

“Daniel, behave yourself please. If you touch me again, I will call 911.” (ড্যানিয়েল, দয়া করে ভদ্রতা বজায় রাখো। আমাকে আরেকবার স্পর্শ করলে আমি ৯১১ তে ফোন দিয়ে পুলিশ ডাকবো।)

এ কথা শুনে যেন ড্যানিয়েল আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠে। একরকম তিয়াশার উপর দিয়ে জোরপূর্বক এসে গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল ঘুরিয়ে গাড়িটা হাইওয়ের সার্ভিস লেইনে ঢুকিয়ে ব্রেক কষতে বাধ্য করে।

তিয়াশা ড্যানিয়েলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফোন নিয়ে কল করতে গেলে তার হাত থেকে ফোন টান দিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। ফোনটি যেয়ে পরে গাড়ির পেছনের সিট গুলোর নিচে। ড্যানিয়েল আরো ঝুঁকে এসে গাড়ির সব দরজা জানালা লক করে তিয়াশার দিকে তাকায়। সেই মুহূর্তে যেন ড্যানিয়েলের ঠোঁটে ফুটে উঠে এক পৈশাচিক হাসি।

*

চোখে সানগ্লাস, কাঁধে গিটার নিয়ে আপন মনে আদনান হেটে চলেছে ইউনিভার্সিটির পার্কিং লটের দিকে। আজ সে ভীষণ খুশি, তিয়াশার সাথে শেষ পর্যন্ত কথা বলতে পেরেছে। আনমনে হাসছে আর ভাবছে কিভাবে তিয়াশার মনে জায়গা করে নেয়া যায়। এসব ভাবতে ভাবতে গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভিং সিটে বসতেই আদনানের ফোন বেজে উঠে। নাম্বার দেখে সে কল কেটে দেয়। আরো দুইবার ফোন আসার পর সে ফোন রিসিভ করে বলে,

“আপি, কেন বারবার ফোন দিয়ে জ্বালাচ্ছিস? নিশ্চয়ই তোর কোনো কাজের কথা মনে পড়েছে।”

আদনানের বোন আলিয়া হেসে উত্তর দেয়,

“হুম তাতো পড়েছেই। আচ্ছা তার আগে শোন, মাইশা এসেছে বাসায়।”

“মাইশা? কোন মাইশা?”

“ইশ! চিনিস না বুঝি কোন মাইশা? আমাদের কাজিন মাইশা। তোর হবু বউ, তোকে খুঁজছে। জলদি আয় বাসায়।”

“আলুপি, প্লিজ মাফ চাই। ও কিসের আমার হবু বউ। পিচ্চি পাকনা মেয়ে একটা। একবার শুধু মজা করে বলেছিলাম বিয়ে করতে চাই। তারপর থেকে আঠার মত পিছে লেগে থাকে।”

“এই আলুপি বলবিনা, খবরদার। আর আমি কি জানি, তুই বিয়ে করবি নাকি করবি না? মাইশার আম্মু মানে আন্টিও এসেছে বাসায়। এবার বোধ হয় তোর বিয়ে পাকা হয়েই গেল।”

“ধ্যাৎ আলু, রাখছি আমি।”

“আচ্ছা শোন শোন। মজা করছিলাম। বাসায় এসেছিল মাইশা, তোকে না পেয়ে চলে গেছে।”

“সত্যি বলছিস তো?”

“হুম বলছি। এবার আমাকে তোর খাওয়ানোর পালা।”

“জ্বি না। তোকে আবার কিসের খাওয়ানো?

“খাবার না নিয়ে আসলে কিন্তু তুই বাসায় আসলে মাইশাকে ফোন করে আসতে বলে দিব।”

“মাফ চাই বইন আমার, বল কি খাবি।”

“তোর ইউনিভার্সিটির কাছেই তো ম্যাকডোনাল্ডস আছে। আসার সময় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আনিস ওখান থেকে। ওহ আর চকোলেট সানডে আনতে ভুলিস না কিন্তু।”

“তুইও আদিলের মতো হয়ে গেলি নাকি? দুই দিন পর পর ম্যাকডোনাল্ডস এ যায় আর সেখান থেকে কি সব খায় আবার তোকেও খাওয়ায়। দুটোই তো ভোম্বল হয়ে যাবি। আদিলকে বল সে নিয়ে আসবে। উলটো পথে যেতে চাইনা আমি।”

“তোকে যা বলেছি সেটা কর। নাহলে কিন্তু মাইশাকে কল দিব।”

“আচ্ছা যা এবারের মতো আনবো। এখন বিদায় আলু।”

“আবার আলু?”

“ওকে ওকে আপি। বাই।”

আদনান গাড়িতে পছন্দের গান জোরে ছেড়ে দিয়ে বের হয়ে যায় ম্যাকডোনাল্ডস এর উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে তিয়াশা ম্যাকডোনাল্ডস এ যাবার পথের হাইওয়ের সার্ভিস লেনে আটকে আছে জীবন হাতে নিয়ে।

আদনানের কি তিয়াশার থেমে থাকা গাড়িটি চোখে পড়বে?

পর্ব ০৮ আসছে…

আগের পর্বের লিংক:

পর্ব ০৬: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/925714417859278/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে