পূর্ণিমা_সন্ধ্যায় পর্ব_০৪

0
1442

পূর্ণিমা_সন্ধ্যায়
পর্ব_০৪
#লেখিকা_তাসনীম_তুষার

পূর্ণিমা সন্ধ্যা। আকাশে বিশাল বড় চাঁদ। কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ চারিপাশে। শীতল বাতাস বইছে। একটি বিল আর তার মাঝে ছোট্ট একটি তরী ধীরে ধীরে ছুটে চলেছে অসংখ্য সাদা শাপলার মাঝ দিয়ে। তরী টির এককোনে বসে আছে তিয়াশা। জোছনার আলো তিয়াশার গায়ে পরে তাকে যেন এক ঐশ্যর্যিক সৌন্দর্যে পরিনিত করেছে। তার সেই রুপে চোখ যেন ঝলসে যায়।

পরনে তার সাদা শুভ্র শাড়ি, দু’হাত ভর্তি লাল কাঁচের চুড়ি, কপালে টিপ, চোখে কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। তিয়াশা আঁচল বিছিয়ে, চুল ছেড়ে পানিতে পা ভিজিয়ে খেলা করছে আর আকাশের পানে চেয়ে মিষ্টি কন্ঠে গাইছে,

“চাঁদের হাঁসি বাঁধ ভেঙেছে
উছলে পরে আলো
ও রজনীগন্ধা তোমার
গন্ধ সুধা ঢালো”

আদিল ধীর পায়ে হেটে এগিয়ে যাচ্ছে তিয়াশার দিকে। তার পরনেও রয়েছে সাদা পাঞ্জাবী আর পায়জামা। দেখতেও আরো বেশি সুদর্শন লাগছে তাকে। আদিল তিয়াশার কাছে যেয়ে তার চুল সরিয়ে এক পাশের কানে লাল ও সাদা ফুল গুঁজে দেয়। পাশে বসে তিয়াশাকে কাছে টেনে কপালে চুমু দিতে গেলে নৌকাটি হঠাৎ দুলে উঠে এক পাশে কাত হয়ে যায়।

ভীষন জোরে ধরাম শব্দ হয়। আদিল চমকে উঠে নিজেকে আবিষ্কার করে বিছানার পাশে মেঝেতে পড়ে আছে। আনমনে হেসে বিছানায় যেয়ে কোলবালিশ জড়িয়ে আবার শুয়ে পরে। কিন্তু দু চোখের পাতায় তার একবিন্দু ঘুম নেই। আদিলের তৃষ্ণার্ত হৃদয় যেন তিয়াশাকে দেখার তৃষ্ণায় তৃষিত হচ্ছে বারবার।

*
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ভোর ৬:৩০ এ এলার্ম বেজে উঠে। তিয়াশা তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে প্রতিদিনকার মতো সকালের নাস্তায় সবার জন্য স্যান্ডউইচ বানায়। তারপর ইউনিভার্সিটি তে যাবার জন্য তৈরি হয়ে নিজের নাস্তা সেরে বাকি নাস্তাগুলো টেবিলে ঢেকে রাখে। তারপর পৌষীকে ডেকে তুলে সে বের হয়ে যায় ইউনিভার্সিটি এর উদ্দেশ্যে। এর পরের কাজ গুলো পৌষীর।

পৌষী ঘুম থেকে উঠে তার ছোট ভাই ইশতিয়াক কে ডেকে তুলে। তারপর ফ্রেশ হয়ে স্কুল এর জন্য দুজন তৈরি হয়ে একসাথে নাস্তা করে স্কুল বাস ধরার জন্য বের হয়। কিন্তু তার আগে তাদের মা নীলিমা হাবিব কে ডেকে তুলে দিয়ে যায়। তারপর তারা দুই ভাই বোন বাসা থেকে বের হয়ে বাসার কাছের রাস্তায় স্কুল বাস পিকআপ পয়েন্ট এ যেয়ে যার যার স্কুল বাস এর জন্য অপেক্ষা করে।

অন্যদিকে তাদের মা নীলিমা হাবিব ঘুম থেকে উঠেই দুপুরের জন্য রান্না চড়িয়ে ঘরদোর পরিষ্কারের কাজে লেগে যায়। রান্না ও ঘর পরিষ্কার শেষে তিনি গোসল সেরে তৈরি হয়ে সকালের নাস্তা সেরে, টিফিন বাটিতে দুপুরের খাবার বেড়ে তা সাথে করে নিয়ে রওনা দেয় গ্রোসারি এর উদ্দেশ্যে।

*

আজ তিয়াশার ইকোনমিক্স ক্লাস। সপ্তাহে দুইদিন হয় তার এই ক্লাসটি। যদিও তার পড়াশোনার বিষয় কম্পিউটার সাইন্স আর তার সাথে ইকোনমিক্স এর কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও আমেরিকার ইউনিভার্সিটি গুলোতে প্রধান বিষয়ের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক ৩০ ক্রেডিটের অন্যান্য যেকোনো বিষয়ের ক্লাস নিতে হয়। তাই তিয়াশা নিয়েছে ইকোনমিক্স (৩ ক্রেডিট), কিন্তু প্যাট্রিসিয়া ও ম্যাথিউ ইকোনমিক্স পছন্দ করেনা তাই তারা দুজন নিয়েছে ফুড এন্ড সাইন্স ক্লাস।

সকাল ৭:৩০ এ ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু আজ তিয়াশার আসতে একটু দেরি হয়ে যাওয়া তে সে ক্লাসের সামনের দিকে যেই চেয়ার এ বসে সেখানে খালি জায়গা না পেয়ে পেছনের দিকে এক কোনে একটি খালি সিট পেয়ে সেখানে যেয়ে বসে। তার ব্যাগ থেকে খাতাপত্র বের করে চেয়ারটির সাথে বিল্টইন ডেস্কটি নামিয়ে তাতে সেগুলো রাখতে গেলে লক্ষ্য করে ডেস্কটিতে একটি লাল টুকটুকে গোলাপ ফুল আর তার নিচে একটি ছোট্ট চিরকুট স্কচটেপ দিয়ে লাগানো। চিরকুটের উপরের অংশে লিখা “তিয়াশা”।

ব্যাপারটি দেখে তিয়াশা বেশ ভরকে যায়। চারপাশে তাকিতে দেখে নেয় সে, তারপর ইতস্তত হাতে গোলাপফুলটি স্কচটেপ থেকে ছাড়িয়ে তার বই খাতার উপরে রাখে এবং কাঁপা কাঁপা হাতে চিরকুটটি খুলে পড়তে শুরু করে।

“When I look into your eyes
It’s like watching the night sky
Or a beautiful sunrise
So much they hold

And just like them old stars
I see that you’ve come so far
To be right where you are
How old is your soul?

I won’t give up on us
Even if the skies get rough
I’m giving you all my love
I’m still looking up.”

– Your secret Admirer.

তিয়াশা চিরকুটটি ভাঁজ করে বইয়ের ভাঁজে রেখে বইটি ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে এবং ক্লাসে মন দেয়।

সব ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরেই তিয়াশা তার রুম এ ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। ব্যাগ থেকে ফুলটি বের করে তার ঘরের পড়ার টেবিলে রাখে এবং চিরকুটটি আরও একবার ভালো করে পড়ে। তিয়াশার ভীত মনে এক অজানা ভালো লাগা কাজ করতে থাকে।

সব হোমওয়ার্ক শেষে রাতের খাওয়া সেরে আজ তিয়াশা তাড়াতাড়ি ঘুমোতে চলে আসে। কাঁথার নিচে শুয়ে তিয়াশা ফোনে হেডফোন লাগিয়ে গুগলে সার্চ করে: “When I look into your eyes,
It’s like watching the night sky”. প্রথম সারিতেই “Jason Mraz” এর “I won’t give up” গানটির ইউটিউব এর লিঙ্ক চলে আসে। গানটি ভীষণ ভালো লাগে তিয়াশার। গানটি বারবার শুনতে শুনতে তিয়াশা ঘুমের এক অতল রাজ্যে পাড়ি জমায়।

আগের পর্বের লিংক:

১. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/915622528868467/

২. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/917622012001852/

৩. https://www.facebook.com/groups/golpopoka/permalink/918995701864483/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে