নীলাকাশ_কালো_মেঘ part_7

0
1169

নীলাকাশ_কালো_মেঘ part_7
#adrin_anisha
.
স্কুল থেকে ফেরার সময় ও আয়ান কে কোথাও দেখতে পেল না নীলা। তাই আজ আর রিকশা নেয় নি হেটেই যাচ্ছিল। মনে মনে আয়ান এর সব কথা ভাবতে ভাবতে যাচ্ছিল। হঠাৎ পাশ থেকে কেউ বলে উঠলো,
– কেমন আছো নীলা?
হঠাৎ এভাবে এসে পড়ায় চমকে যায় নীলা। পাশে তাকিয়ে দেখে আয়ান নিচের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
নীলা বিরক্তি ভাব নিয়ে তাড়াতাড়ি হাটা শুরু করল। আর কিছুটা গেলেই রিকশা পেয়ে যাবে৷ কিন্তু এই ১ মিঃ এর রাস্তাও যেন শেষ হতে চাইছে না৷ আয়ান আবারো বলল,
– তুমি কি কালকে আসবে?
নীলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো আয়ান এর দিকে। মনে মনে ভাবলো কোথায় যাবার কথা বলছে আয়ান?
আয়ান মুচকি হেসে আবারো জিজ্ঞেস করল,
– তুমি কি আসবে নীলা?
নীলা এখনো উত্তর দিল না। এবার আরো জোরে হাটতে শুরু করলো। আয়ান এর মুখের হাসিটা চলে গেছে। বোঝাই যাচ্ছে নীলার এই উত্তর না দেয়াটা মোটেও পছন্দ হচ্ছে না আয়ান এর। এবার একটু রেগেই জিজ্ঞেস করলো,
– তুমি কি জবাব দেবে না? আমি তোমায় কিছু জিজ্ঞেস করছি নীলা।
নীলা এখনো জবাব দিল না। তাড়াতাড়ি একটা রিকশায় উঠে গেল। কিন্তু আয়ান এসে রিকশার সামনে দাঁড়িয়ে গেল। আর রিকশাওয়ালা কে বলল,
-দাঁড়ান।
নীলা রিকশাওয়ালা কে বলল,
– আংকেল আপনি যান।
রিকশাওয়ালা সাইড দিয়ে যেতে চাইলে আয়ান এসে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে ফেলল, আর রেগে রিকশাওয়ালার দিকে তাকালো। রিকশাওয়ালা আর কিছু না বলে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। আয়ান নীলার দিকে রাগী লুক দিয়ে আবারো জিজ্ঞেস করলো,
– নীলা তুমি কি কালকে আসবে? আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব।
নীলা আয়ান এর কথায় কান দিল না। উল্টো রিকশাওয়ালাকে বলল
-আংকেল আপনি যাচ্ছেন না কেন?
রিকশাওয়ালাও এবার বিরক্ত হয়ে বলল,
– দেখছেন না উনি কিভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি কি উনার উপর দিয়ে রিকশা উঠিয়ে দিব নাকি?
আয়ান এবার নীলার কাছে গিয়ে রিকশার সিটের উপর জোড়ে একটা থাপ্পড় দিয়ে চেচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
– নীলা আমি তোমার জন্য কালকে অপেক্ষা করব, তুমি কি আসবে?
নীলা ও এবার রেগে যায় আর বলে,
– আরে আজব তো? কে আপনি? কেন আসব আমি শুক্রবার এ? তাছাড়া চিনিনা জানিনা আপনি বললেই আমি এসে পড়ব ভাবলেন কি ভাবে? তাছাড়া আয়নায় নিজের চেহারা টা দেখেছেন? কেন আপনি আমায় বিরক্ত করছেন বলুন তো? সমস্যা কি আপনার? আমাকে শান্তিতে থাকতে দিন প্লিজ।
– ঠিক আছে যাও। কিন্তু কালকে যেন তোমায় দেখতে পাই, নাহলে ফল ভালো হবে না।
সামনে থেকে সরে যায় আয়ান। আর নীলার চলে যাওয়া দেখে মুচকি হাসে সে।
কিছুটা যাওয়ার পর রিকশার ফাঁকা দিয়ে পিছনে তাকায় নীলা। আর দেখা যাচ্ছে না আয়ান কে। জোড়ে একটা নিশ্বাস নিল নীলা। কিন্তু এবার আর ওর সহ্য হচ্ছে না ওর, এতোদিন পর্যন্ত যা হচ্ছিল তাতেই ওর পড়ার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর এখন তো দিন দিন ছেলেটার সাহস বেড়েই চলেছে। নীলা মনে মনে ঠিক করে নিল এবার সে তার বাবাকে সব বলে দেবে। নীলা মনে মনে বলল,
– বাবাই এখন তোকে ঠিক করবে রে আয়ান, যখন হাত পা ভেংগে পড়ে থাকবি তখন বুঝবি,
.
বাসায় এসেই মায়ের ঘরে গেল নীলা,
– মা, বাবা কোথায়?
– কেন তুই জানিস না, এই সময় এ অফিসেই থাকে। আর আজকে তো আসবেই না।
– ওমা কেন?
– আজকে তোর বাবা আর তোর রাকিব আংকেল কোনো এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে গেছে ঢাকা। আজকে রাতে ওখানেই থাকবে, আর ওদের কিছু কাজ ও আছে ওখানে।
– আমাকে কিছু বলল না যে
– বলার সময় পায়নি, তুই স্কুলে চলে যাওয়ার পর ওনার ফোন এলো, কেন কোনো দরকার? কালকে বিকালের দিকে এসে যাবে তো, চিন্তা করিস না।
– নাহ দরকার নেই। এমনিই বলছিলাম। আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।
-আচ্ছা যা।
.
নীলা ফ্রেশ হয়ে পড়ার টেবিলে বসে আছে। বই খুলেছে কিন্তু পড়ায় মন বসছে না। মনে মনে ভাবছে,
– আয়ান বলেছে কালকে না গেলে নাকি ফল খারাপ হবে, ছেলেটার চোখ দুটোও কেমন যেন গুন্ডা গুন্ডা টাইপ। বাবাও বাড়িতে নেই। বাবার কোনো ক্ষতি করবে না তো? না না, তা কেন করবে? তাছাড়া বারবার বলছিলো কালকে যেতে হবে কালকে যেতে হবে, কিন্তু কোথায় যেতে হবে সেটাও তো বলল না। আজব।

নীলা এসব ভাবতে ভাবতেই আকাশ এসে হাজির।
– কিরে? বই রেখে কোন দিকে তাকিয়ে আছিস?
– কোথাও না৷ এমনিই,
– কি হয়েছে বলতো তোর? ইদানিং দেখছি তোর পড়ায় কোনো মনোযোগ ই নেই। সারাক্ষন কি এতো ভাবিস? কিছুদিন পরে যে তোর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা সেটা ভুলে গেছিস?
নীলা মনে মনে ভাবলো,
– আকাশ কে কি বলবো আয়ান এর কথা? কিন্তু ওর যা রাগ আবার কিছু উল্টো-পাল্টা না করে দেয়। আর আয়ান ছেলেটা দেখতেও ভয়ংকরী, পরে যদি আবার আকাশ এর কোনো ক্ষতি করে দেয়? না না, থাক, একেবারে বাবাকেই বলব।
নীলাকে চিন্তা করতে দেখে নীলার হাতে ধাক্কা দিয়ে বলল,
– কি রে কোন দুনিয়ায় আছিস তুই? কি হয়েছে বলতো?
– না কিছু না। আসলে এতো সিলেবাস কিভাবে শেষ করবো সেটাই বুঝতে পারছি না।
– ধুর গাধী, চল, দেখাচ্ছি কিভাবে শেষ করবি, কিন্তু তার আগে বলতো তুই আবার কারো প্রেমে পড়িস নি তো?
নীলা আকাশের হাতে একটা চিমটি কেটে বলল,
– পাগল হয়েছিস? আমাকে কে কি এতো বড় মনে হয় তোর? এখনো এটাই জানি না যে আই লাভ ইউ, আর আই মিস ইউ ছাড়া আর কি বলতে হয় বয়ফ্রেন্ড কে। আমার কোনো বন্ধুদের ও বয়ফ্রেন্ড নেই।
– আমি জানি তো। তুই তো আমার অবুঝ পরী।
– ওই চুপ, ফালতু কথা বলবি না। আমি তোর পরী হবো কেন? আমি আমার বাবার পরী।
– কে হালুয়া, আমি কি ওই রকম পরীর কথা বললাম নাকি?
– তাহলে কি রকম পরী?
– কিছু না, তোকে বোঝানো আর দেয়াল কে বোঝানো একই কথা।
– আচ্ছা তোর গার্লফ্রেন্ড এর কথা বল, এতো বড় হয়েছিস আর এখনো একটা মেয়ে পটাতে পারলি না?
– হাহ, কি করবো বল, আমি বড় হয়ে গেছি কিন্তু আমার গার্লফ্রেন্ড টা তো ছোটই রয়ে গেছে।
– ওহ তার মানে তোর কাউকে পছন্দ? বলনা কে সে?
আকাশ মুচকি হেসে নীলার গাল দুটো টেনে দিল,
– ওরে পাগলি রে, এতো কিউট কেন তুই?
– ধুর বল না,
– আচ্ছা শোন, ওর নামের প্রথন অক্ষর N
– N? N তে আবার কে?
– সেসব নিয়ে তোর ভাবতে হবে না। পড়তে বস।
নীলার কিছুটা খারাপ লাগলো, এতোদিন ভেবেছিল আকাশ হয়তো ওকে পছন্দ করে কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আকাশ অন্য কাউকে ভালোবাসে। তবুও নিজেকে সান্তনা দিল যে, সে তো আর আকাশ কে ভালোবাসে না, আকাশ যাকে খুশি পছন্দ করুক তাতে ওর কি?
নীলা হেসে পড়ায় মন দিল আর আকাশ তার অবুঝ পরী টা কে দেখে মুচকি হাসতে লাগল আর মনে মনে বলল,
– ওরে পাগলি রে কবে বড় হবি তুই?
.
.
.
.
চলবে……

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে