নীলাকাশ_কালো_মেঘ part_5

0
1147

নীলাকাশ_কালো_মেঘ part_5
#adrin_anisha
.
-ছেলেটার কি সাহস দেখলি? কিভাবে সারা স্কুলের সামনে প্রোপজ করে দিল।
– মানতেই হবে ছেলেটার সাহস আছে। ইশশ, কি রোমেন্টিক ব্যাপার টা। এতোদিন শুধু সিনেমায় দেখেছি আর গল্পে পড়েছি। আজ বাস্তবেও দেখলাম। যদিও গল্প আর সিনেমার মতো হাটু গেড়ে বলে নি। হুট করেই বলে দিয়েছে, ব্যাপার টা দারূন রোমান্টিক।
.
সাদিয়া আর মুন্নি তাদের মাঝে কথা বলেই যাচ্ছে কিন্তু নীলা চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে হাটছে। সাদিয়া মুন্নিকে সেদিকে ইশারা দিয়ে দেখালো। মুন্নি নীলার কাধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করল,
– নীলা এখন কি করবি তুই? আমি কিন্তু তোর জায়গায় হলে এক্সেপ্ট করে নিতাম। আর তাছাড়া দেখতেও তো মাশাল্লাহ।
নীলা মুন্নির মাথায় একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল,
– তুই চুপ করবি? ওর প্রোপজ টা দেখলি, কিন্তু সেখানে যে রফিক স্যার ও ছিলো সেটা দেখিস নি?
নীলার কথায় অবাক হয়ে গেল সাদিয়া আর মুন্নি। সাদিয়া নীলার পাশে এসে বলল,
– কি বলিস? রফিক স্যার সব শুনেছে? ইসস, এই স্যার টা তো এমনিও আমাদের সহ্য করতে পারে না। আমরা বেশি কথা বলি বলে। এখন তো আরো সহ্য করবে না।
-ধুর তুই আছিস তোর সহ্য করা নিয়ে। সহ্য না করলেও তো সেটা কোনো ব্যাপার না৷ কিন্তু আমি স্যারের ক্লাস করব কি করে?. আমি তো লজ্জায় মরেই যাবো রে।
– চিন্তা করিস না। কিছু হবে না। হয়তো স্যার শুনেই নি। বাদ দে এখন। এখান থেকে আমার আর তোদের রাস্তা আলাদা। আমি যাই। বাই।
মুন্নি চলে গেল। সাদিয়া আর নীলাও হাটতে লাগল।
– আচ্ছা নীলা তুই বলেছিলি মেঘ কে দেখতে তোর আকাশ ভাইয়ার মতো। তো তোর আকাশ ভাইয়া কি অনেক সুন্দর?
– হুম, মানে, আমার ছাড়া পুরো পৃথিবী তাকে সুন্দর বলে। আসলে ও অনেক ফর্সা আর কোনোদিন সিগারেট খায়নি বলে ঠোঁট ও গোলাপি। বলতে পারিস মেয়েরা ওর জন্য পাগল।
– তাহলে তোর ভালো লাগে না কেন?
– জানি না। আমি অনেকবার ওর দিকে লক্ষ্য করেছি। কিন্তু ওকে কেন জানি আমার সুন্দর বলে মনেই হয় না। ওর চেয়ে কতো সুন্দর ছেলে আছে। সবাই যে ওর কাছে কি দেখে কি জানি?
– তোর তো কোনো ছেলেকেই ভালো লাগে না। বাদ দে তোর কথা। আচ্ছা আকাশ ভাইয়া কি করে?
– অনার্স ৩য় বর্ষ।
– ওহ আর তাহলে ১ টা বছর।
– কিসের?
– কিসের আবার, পড়ালেখা শেষ করার। তোর চেয়ে এতো বড় তাও তুই ওকে তুই বলে ডাকিস কেন?
– আগে বলতাম না৷ কিন্তু আমার চাচাতো বোন অনামিকা ওকে তুই বলে ডাকতো। তখন আমরা তিনজনই অনেক ভালো বন্ধু ছিলা। ওরা দুজন সমবয়সী ছিল। আমিই একটু ছোট ছিলাম। আপু ওকে তুই বলে ডাকতো। ওর থেকে শুনতে শুনতে আমিও তুই ডাকা শুরু করলাম। ব্যাস এখন আর তুই ছাড়া অন্য কিছু আসে না।
নীলা আর সাদিয়ে কথা বলতে বলতে সেই জায়গায় চলে এলো যেখানে সেই ছেলেটা দাঁড়িয়ে থাকে। আজও দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটাকে শত শত মানুষের ভীরেও চিনে ফেলা সম্ভব। ও হাটার স্টাইল টাই কেমন যেন আজব। হাটলে পা হাত শরীর সব একই তালে দুলতে থাকে৷
নীলা সাদিয়া কে ইশারায় দেখালো যে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে। আজও দুজন কথা বলতে বলতে ছেলেটা কে ইগনোর করে চলে গেল৷ সাদিয়ার বাসা এসে পড়ায় সে চলে যায়। নীলার বাসা সেখান থেকে বেশি দূরে নয় তাই হেটেই যায় প্রতিদিন। কিন্তু সাদিয়া যাওয়ার পর ছেলেটা নীলার আরো কাছে কাছে হাটতে শুরু করলো। এতক্ষন ওদের থেকে অনেক দূরে দূরে হাটছিল। এভাবে কাছে আসতে থাকায় নীলা ভয় পেয়ে যায়। ছেলেটা নীলার পাশাপাশি আসতেই নীলা একটা রিকশায় উঠে চলে যায়।
.
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং রুমে যায় নীলা। মাথায় হাজার টা টেনশন নিয়ে খেতে শুরু করল নীলা। হঠাৎ করে কিছু মনে হতেই ওর বাবাকে জিজ্ঞেস করল,
– আচ্ছা বাবা। আকাশ ভাইয়া বলল ওর বাবার থেকে নাকি কেও তোমার নাম্বার নিয়েছে। কল দিয়েছিল তোমাকে?
– ওহ হ্যাঁ৷ তাই তো। ব্যাপার টা তোদের বলতে ভুলে গেছি। রাকিব আমাকেও বলেছিল, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আমার চেনা কেউ হবে হয়তো। পরে আজ সকালে কল দিয়েছিল। দিয়ে বলছে ও নাকি নতুন শো রুম খুলছে, তার উদ্ভোদন হবে পরশু । আমাকে যেতে বলল।
– পরশু তো শুক্রবার। আর তাছাড়া তোমাকে কেন বলল?
– সেটাই তো। বুঝলাম না কিছু। আমাকে বললে তো রাকিবকেও বলার কথা। ওকে না বলে শুধু আমাকে কেন?
– তুমি ওর পরিচয় জানতে চাওনি?
– হুম, ও বলল ওর নাম নাকি আয়ান।
– আয়ান?
– হুম।
– ওর শো রুম কোথায়?
– ওই যে তোদের স্কুলের কাছে যেই সিনেমা হল টা আছে তার সাথেই।
– কিসের শো রুম?
– ইলেকট্রনিকস এর হয়তো।
নীলা এবার শিউর যে এটাই সেই ছেলেটা। কারণ প্রতিদিন ওই সিনেমা হলের সামনে থেকেই নীলাকে ফলো করে ছেলেটা। আর যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে ভাংগা গাড়ি থাকে মাঝে মাঝে। তারমানে ছেলেটা ওই শোরুমের মালিক?
.
খাওয়া শেষ করে নিজের রুমে গিয়ে পড়তে বসলো নীলা। কিন্তু কিছুতেই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না। নিজের মাথার চুল টেনে আস্তে করে চেচিয়ে উঠলো নীলা,
– আ…আ..আ… পাগল হয়ে যাবো আমি। এই এতোটুকু মাথায় এতো কিছু সাপোর্ট করবে কি করে? একে তো এই আয়ান না কি? এই ছেলেটা এতো রহস্যময়ী কেন? কি জানি কি চায়? তার উপর মেঘ টা পুরো স্কুলের সামনে আমার সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিল। ইশস রফিক স্যার যে কি করবে কালকে কি জানি? কি জানি স্যার আমায় কত খারাপ মেয়ে ভাবছে। উফফফ। আর পারি না আমি। এভাবে চলতে থাকলে পড়ায় একটু ও মনোযোগ দিতে পারব না। এবার নিশ্চিত ফেল করতে হবে আমায়।
– কি বললি? ফেল করবি?
নীলা টেবিলের উপর মাথা রেখে এসব বলে যাচ্ছিল একমনে, তখনই আকাশ আসে ওর রুমে। নীলা ভয় পেয়ে যায়, ভাবে আকাশ ওর সব কথা শুনে নিল না তো?
নীলাকে চুপ থাকতে দেখে আকাশ এসে আরেকটা চেয়ার টেনে নীলার পাশে গিয়ে বসলো।
– ফেল করবি বললেই হলো? যে মেয়ে কখনো সেকেন্ড হয়নি সে এখন সোজা ফেল করার কথা ভাবছে? কারন টা কি? আর আজ স্কুলে কি হয়েছে বলতো? সত্যি করে বলবি। মিথ্যা বলার চেষ্টাও করবি না।
নীলা ভয় পেয়ে যায়। কোথাও আকাশ ওর সব কথা শুনে নেয় নি তো? তাহলে নীলার কপালেও দুঃখ আছে আর ওদের কপালে তো আছেই। আকাশ জানতে পারলে নিশ্চিত মারামারি করবে গিয়ে। আর এটা নীলা মোটেও চায় না। আবার নীলা মিথ্যাও বলতে পারে না। নীলার এসব দুশ্চিন্তার মাঝেই আকাশ আবার চেচিয়ে উঠলো,
– আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি নীলা। কোন ধ্যানে আছিস তুই?
.
.
.
চলবে…..

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে