নিস্তব্ধ শহর পর্বঃ ০৩

0
3495

নিস্তব্ধ শহর পর্বঃ ০৩
লেখকঃ আবির খান

জান্নাতের ঘুম ভাঙে। আবির এখনো ঘুমানো। ও আস্তে করে চোখ মিলে তাকিয়ে দেখে ও আবিরের বুকের সাথে মিশে শুয়ে আছে। জান্নাত লজ্জায় ওভাবেই পড়ে রয়। ও মনে করার চেষ্টা করছে রাতে কি হয়েছে। ও ভাবছে,”রাতে উনার বুকে কথা বলতে বলতে নিশ্চিত ঘুমিয়ে পড়েছি। পরে উনি হয়তো এখানে নিয়ে এসেছে। হ্যাঁ তাই ই হয়েছে।”

জান্নাত আবিরের খুব কাছে৷ একদম ওর সাথে মিশে আছে। অথচ আবির গতরাতে শুধু ওকে একটা স্পর্শই দিয়েছে। তাছাড়া আর কিছুই করেনি। অবশ্য জান্নাতও রেডি ছিলনা৷ ওর ইচ্ছা হলো ও আবিরের খুব ভালো বন্ধু হবে আগে৷ তারপর ওরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে নিবে৷ এটা জান্নাতের মনের ইচ্ছা। ও ভাবছে,”উনি কি আমার এই ইচ্ছাটা বুঝবে? নাকি অলরেডি বুঝে গিয়েছে? উনাকে বুঝা আমার জন্য খুব কঠিন। মানুষটা দেখতে খুব সহজ সরল কিন্তু অনেক গম্ভীর সে।”

এসব ভাবতে ভাবতেই জান্নাত আস্তে করে মাথা তুলে আবিরের দিকে তাকায়। ঘুমন্ত আবিরকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওর। ও আবিরের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছে, “এইতো কদিন আগেও এই মানুষটাকে দেখতে পাওয়া একটা বিরল স্বপ্ন ছিল। আর আজ আমি তার বুকে। সত্যি আমার ভাগ্যটা হয়তো ভালো। যার দরুন এরকম একজনের জীবন সঙ্গী হতে পেরেছি।” জান্নাত খুব সাবধানে নিজেকে ছাড়িয়ে আরেকটু কাছে যায় আবিরের। ওর গরম নিঃশ্বাস যেমন আবিরের মুখে পড়ছে ঠিক তেমন নি আবিরের গরম নিঃশ্বাসও ওর মুখে পড়ছে। আবিরের নিঃশ্বাস গুলো এই স্নিগ্ধ সকালের প্রহরে জান্নাতের মনে অজানা এক অনুভূতির সাড়া দিচ্ছে। জান্নাত শুধু আবিরকে দেখছে আর দেখছে। ও চায় এ দেখা যেন কখনো শেষ না হয়। আবিরের খাড়া খাড়া নাকটা খুব ধরতে ইচ্ছা করছে জান্নাতের। ধরবে কি ধরবে না এই দিধার মধ্যে পরে গেল বেচারি। নাহ! আবিরতো এখন ওরই। তাই আবিরের উপর ওর পূর্ণ অধিকার আছে।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

তাই জান্নাত সে অধিকারটাকে অবশ্যই কাজে লাগাবে। আবিরের রোমান্টিক সব গল্প পড়ে ওর মাথায় দুষ্ট এক বুদ্ধি চাপে৷ ও আস্তে আস্তে আরো একটু উপরে উঠে আবিরের একদম মুখের কাছে চলে যায়। আবিরের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জান্নাত। ও আস্তে আস্তে করে ওর নাকটা আবিরের নাকের সাথে মিশিয়ে আস্তে আস্তে ঘসা দিচ্ছে। এই বাচ্চাপানা করে ও খুব মজা পাচ্ছে। হঠাৎই আবির ওকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আর চোখ খুলে ওর দিকে তাকিয়ে সেই মুচকি হাসিটা ওকে উপহার দেয়৷ আবিরকে জাগ্রত দেখে জান্নাতের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। চোখের লুকোচুরি চলছে এখন। আবিরতো ঠোঁটের কোণায় একরাশ হাসি নিয়ে এক দৃষ্টিতে জান্নাতের দিকে তাকিয়ে আছে। জান্নাত একবার আবিরের চোখের দিকে তো আরেকবার ওর ঠোঁটের দিকে তাকাচ্ছে। আসলে ও কোন দিকে যে তাকাবে তাই খুঁজেই পাচ্ছে না।

আবির এবার বলে,

– কিইই আমার গল্পের নায়কাদের মতো হতে চাও তাইনা? হলে কিন্তু আমার সমস্যা নেই। আমিও নায়কদের মতো হতে রাজি আছি। কি হবো নাকি?(রসিক স্বরে)

জান্নাত তো লজ্জায় লাল টুকটুকে হয়ে গিয়েছে। ইসস! আবির সে লজ্জাসিক্ত মায়াবী মুখখানা দেখে যেন ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছে। ও এক হাত দিয়ে জান্নাতের থুতনি ধরে ওর দিকে মুখ করে বলে,

– লজ্জামাখা এ মুখখানা হাজারটা বিশ্ব সুন্দরীকে নিমিষেই হারাতে পারে। তোমাকে পেয়ে আমি সত্যিই খুশী।

জান্নাত যেমন অবাক হয় তেমনি অনেক খুশীও হয়। ও আবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ হয়ে। আবিরও তাকিয়ে আছে। আবির দেখে জান্নাতের মিষ্টি ঠোঁটগুলো কেমন কাঁপছে। ওকে অন্যরকম লাগছে। আবির তো জানে জান্নাত কি চায়। ও জান্নাতের চাওয়াটাকে ফেলে দেয় না। জান্নাতের মিষ্টি মধুর ঠোঁটটাকে একদম ওর করে নেয়। জান্নাত যেন এরকমই একটা সুখের অপেক্ষায় ছিল। দুজন ভালবাসার মিষ্টি পরশে অতল অনুভূতিতে হারিয়ে যায়। হঠাৎ,

– ঠকঠক… (দরজায় কেউ এসেছে)

~ আবির…বাবা উঠ। বউমাকে ছাড়তো এবার। (মা)

জান্নাত আর আবিরের চেতনা ফিরে আসে। দুজনই লজ্জায় শেষ। সবচেয়ে বেশী জান্নাত লজ্জা পায়। কোন রকম জামাটা ঠিক করে দ্রুত দরজা খুলে। আবির কি করবে না করবে ভেবে পেয়ে ঘুমের অভিনয় করে বিছানায় পড়ে রয়৷ জান্নাত দরজা খুলেই,

~ আসসালামু আলাইকুম মা।

~ অলাইকুম আসসালাম। শয়তানটা তোমাকে ধরে রাখছে বুঝতে পারছি। তাই নিতে এলাম।

~ মা আমি দু মিনিটে ফ্রেশ হয়ে আসছি। আপনি কিছু করবেন না। আজ থেকে বাসার সব কাজ আমি করবো।

~ বোকা মেয়ে একটা। তোমাকে আমার বাড়ির বউ করে এনেছি। তোমাকে দিয়ে সব কাজ করাবো আর আমি পায়ের উপর পা তুলে খাবো! অসম্ভব। আমরা একসাথে কাজ করবো। তুমি আমার মেয়ের মতো। আমার একটা মেয়ে থাকলে ঠিক তোমার মতোই হতো।

জান্নাতের চোখে পানি। অজান্তেই আবিরের মাকে জড়িয়ে ধরে। আর আস্তে করে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলে,

~ একটা মাকে রেখে এসে আরেকটা মাকে পেয়েছি। আপনি যা বলবেন ঠিক তাই তাই হবে।

~ আচ্ছা আচ্ছা যাও ফ্রেশ হয়ে আস্তেধীরে আসো। আমি নাস্তার জোগাড় দিচ্ছি।

~ জ্বী মা এখনই আসছি।

আবিরের মা আবিরের দিকে একবার তাকিয়ে দুষ্ট হাসি দিয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। জান্নাত দরজা লাগিয়ে দিয়ে পিছনে ঘুরতেই দেখে আবির দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে অনেক নেশা। জান্নাতের নেশা। জান্নাত আস্তে আস্তে পিছনে যাচ্ছে আর আবির সামনে এগিয়ে আসছে। ও খুব লজ্জা পাচ্ছে। একসময় দরজার সাথে মিশে যায় ও। আবির একদম ওর কাছে চলে আসে। ও লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে৷ আবির কাছে আসলেই জান্নাত বলে,

~ প্লিজ মা ডাকছে। দেরী হলে খারাপ মনে করবে। এখন যাই প্লিজ?

আবির সেই মুচকি হাসিটা দেয়। জান্নাতের মুখ তুলে ওর দিকে করে জান্নাতের কপালে একটা চুমু এঁকে দেয়। ও চোখ বন্ধ করে তা গ্রহণ করে। এরপর আবিরের কি হলো জান্নাত বুঝলো না। ওকে কিছুক্ষন জড়িয়ে ধরে রেখে তারপর ছেড়ে দিয়ে সেই মুচকি হাসিটা দিয়ে বলল,

– যাও ফ্রেশ হয়ে মাকে হেল্প করো। আমি বাবার সাথে দেখা করে আসি।

~ আচ্ছা। (আস্তে করে)

আবির দরজা খুলে বাইরে চলে যায়। জান্নাতের যেন বিশ্বাস হয় না ও এতোগুলো সুখ একসাথে পেয়েছে। সত্যিইই ওর বিশ্বাস হয়না৷ ও খুশী মনে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে মায়ের কাছে চলে যায়।

রান্নাঘরে,

~ মা এসে গিয়েছি। দিন আজ নাস্তাটা আমি বানাই।

~ আরে না না। তুমি নতুন বউ তুমি আগে দেখো কোথায় কি আছে।

~ মা কোন সমস্যা নেই। আপনি এখানে বসুন। আমিই নাস্তা বানাচ্ছি। আপনি শুধু বলে দিয়েন কোথায় কি আছে।

~ আচ্ছা বাবা বানাও তুমি।

এরপর শ্বাশুড়ির সাথে গল্প করতে করতে জান্নাত নাস্তা বানিয়ে ফেলে। আর এই গল্পের মাঝে আবিরের সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে ফেলে। জান্নাত টেবিলে নাস্তা দেয়। সবাই একসাথে নাস্তা খেতে আসে৷ আবিরের মা ওর বাবাকে বলে,

~ আজ বউমা নিজ হাতে নাস্তা বানিয়েছে। দেখো কি সুন্দর হয়েছে। চিটাগং স্টাইলের নাস্তা।

– দেখবো মানে ঘ্রাণেই শেষ হয়ে যাচ্ছি। আহ! ভাজিটা বোধহয় অনেক মজা হয়েছে। কই বউমা দেও। শুরু করি। পরে যদি আবার ভাগে না পাই। (মজা করে)

সবাই হেসে দেয়। জান্নাত সবাইকে নাস্তা বেরে দেয়। আবির আর ওর বাবা-মা জান্নাতের হাতের নাস্তা খেয়ে পুরো চুপ। কথা বলবে কি খেয়েই কূল পাচ্ছে না। অন্যদিকে কেউ কিছু বলছে না দেখে জান্নাত মহা চিন্তায় পড়েছে। আবিরের বাবা প্রথম বলে উঠলেন,

– বুঝলে আবিরের মা কাল থেকে আর তোমার নাস্তা খাচ্ছিনা। তোমার রেস্ট কাল থেকে যাও। জান্নাত মা তুই আমার জন্য বেশী বেশী করে রান্না করে আলাদা রেখে দিবি। আমি প্রাণ ভরে খাবো। ইসস! যা মজা হয়েছে মন চাচ্ছে আরো খাই। কিন্তু পেটে জায়গা নেই। ধুর পেটটা আরেকটু বড় হলে ভালো হতো।

জান্নাত খুশীতে পঞ্চমুখ। ও যেন হাপ ছেড়ে বাঁচলো। আবির বলে উঠে,

– হুম বেশী বেশী তো খাবাই। ডাক্তার উনাকে ঝাল মশলা খেতে একদম না করেছে জান্নাত। ভুলেও সে খাবার দিবানা।

~ হ্যাঁ বউমা আবির ঠিক বলেছে। একটুও দিবানা।

আবিরের বাবার মুখটা মলিন হয়ে যায়। জান্নাতের খারাপ লাগে। জান্নাত বাবার কাছে গিয়ে বসে বলে,

~ বাবা, একটুও মন খারাপ করবেন না। আমি আপনাকে সব বেশী বেশী করে রান্না করে দিব৷ তবে যেভাবে খেলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না ঠিক সেভাবে। মানে ঝাল, মশলা কম দিয়ে।

আবিরের বাবা মুহুর্তেই খুশী হয়ে যান৷ আর বাকিদের উদ্দেশ্য করে বলেন,

– হে হে এবার আর আমি একা না। এবার আমার টিমে আমার জান্নাত মা আছে। দেখি এবার কীভাবে তোমরা আমাকে হারাও। জান্নাত মা তোর যা লাগে আমাকে বলবি। আবির সবার কথা ফেললেও আমার কথা কখনো ফেলবে না। বল মা আজ এতো সুন্দর নাস্তার জন্য তোর কি চাই?

~ বাবা আপনাদের সবসময় এভাবে পাশে চাই আর কিচ্ছু চাইনা আমার৷ একজন বাড়ির বউ হিসেবে এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আবিরের মা আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন,

~ একটা মেয়ের মতো মেয়েকে বিয়ে করেছিস৷ এরকম মেয়ে সত্যিই খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল।

– হুম।

জান্নাত খুব লজ্জা পাচ্ছে। লজ্জায় একদম গুদুগুদু অবস্থা। আবিরের বাবা বলে উঠে,

– আবির আজ তুই জান্নাতকে নিয়ে সারাদিন বাইরে ঘুরবি। ও যা চায় সব কিনে দিবি। ঠিক আছে?

– জ্বী বাবা অবশ্যই।

আবিরের মা জান্নাতকে তার পাশে বসতে বলেন। জান্নাত দ্রুত তার কাছে এসে বসে। আবিরের মা জান্নাতের মাথায় হাত দিয়ে বলে,

~ তোর মতো একদিন আমিও সবাইকে ছেড়ে এরকম চলে এসেছি স্বামীর সংসারে। আমিতো বাপের বাড়ি ঘুরতে যেতে পেরেছি। কিন্তু তোর বাবা মাতো সেই চিটাগং। আমি বুঝি তোর মনে মনে খুব খারাপ লাগছে বাবা-মার জন্য। কিন্তু তুই একটুও কষ্ট পাবিনা মা। এই যে আমরা দুজন তোর আপন বাবা-মার মতোই তোকে দেখে রাখবো। কষ্ট পাস না মা।

জান্নাত সত্যি কেঁদে দেয়। বাবা-মাকে ছেড়ে প্রথম এতো দূরে ও আছে। কিন্তু আবার ভালো লাগছে এরকম শ্বশুর শ্বাশুড়ি পেয়ে। জান্নাত আবিরের মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়৷ আবিরের মা জান্নাতকে শান্ত করে। অন্যদিকে হঠাৎ আবির বলে উঠে,

– জান্নাত দেখো তো এরা কে?

জান্নাত আবিরের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর বাবা-মা ভিডিও কলে ওকে দেখছে। জান্নাত বিষ্ময়ের চরমে পৌঁছে যায়। ও ফোন হাতে নিয়ে বাবা-মার সাথে কথা বলে। খুব খুশী ও। জান্নাতের বাবা-মা সবার সাথে কথা বলেন। তারাও মেয়েকে দেখে অনেক খুশী হন। কথা শেষ হলে ওরা উপরে চলে আসে বাইরে বের হবে বলে। উপরে আসতেই জান্নাত আবিরের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। আর বলে,

~ বাবা-মা স্মার্টফোন ফোন পেল কীভাবে? তাদের কাছে তো স্মার্টফোন নেই।

আবির জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে একদম ওর সাথে মিশিয়ে সেই মুচকি হাসিটা দিয়ে বলে,

– আমি কিনে দিয়ে এসেছি। যাতে দূর থেকেও তোমাকে তারা কাছে পায়। আর তুমি যেন সবসময় তাদের দেখতে পারো তাই। আমরা থাকি ঢাকা আর তারা সেই চিটাগং। এতো দূর থেকে তোমাকে নিয়ে এসেছি। তাদের অবশ্যই মন কাঁদবে তোমাকে একটু দেখার জন্য। তাই এই ব্যবস্থা। কি ভালো হয়েছে না?

জান্নাত খুশীতে আর সম্মানে কাঁদতে কাঁদতে আবিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,

~ আপনারা এত্তো ভালো কেন? আমি কি এখনো কোন স্বপ্ন দেখছি? বলুন না?

– হুম, দেখছো তো। এই দেখো স্বপ্নের ভিতর তোমার স্বামী তোমাকে কীভাবে আদর করে।

বলেই আবির জান্নারের ঠোঁটটাকে ওর দখলে নিয়ে নেয়৷ জান্নাতও পরম আনন্দে তা উপভোগ করে।

আসলে একটা মেয়ের স্বপ্ন থাকে ঠিক এরকম একটা পরিবারের বউ হওয়ার। কিন্তু আমাদের সমাজে এই সহজ চিত্রটাকে খুব কঠিন আর বিরল করে ফেলে। নতুন বউ তার চাওয়া পাওয়া গুলো মুখ ফুটে বলতে পারে না। পারে না শ্বশুর শ্বাশুড়িকে আপ্রাণ চেষ্টা করেও খুশী করতে। পারে না সবার মনে জায়গা করতে৷ কারণ আমরাই তাকে সে সুযোগ দেই না। আমরা অপেক্ষায় থাকি ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের মতো তার একটা ভুলের। আর সেই ভুলকে কেন্দ্র করেই তার উপর রীতিমতো একপ্রকার জুলুমই চালাই। যার জন্য তার সংসারের প্রতি মন উঠে যায়। আর সেই সাথে স্বামীর সাথেও বাঁধনটা একসময় ছুটে যায়। জান্নাতের কাছে এটা স্বপ্ন হলেও ও সত্যি একটা মনের মতো পরিবারের বউ হয়েছে।

এরপর ওরা সারাদিন ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে। ওরা অনেক শপিং করে। বাবা-মার জন্য জান্নাত পছন্দ করে শাড়ী আর পাঞ্জাবি আনে। সেগুলো তাদেরকে দেয়৷ তারা অনেক খুশী হয়। আবির ক্লান্ত হয়ে পড়ায় এসে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আর এই ফাঁকে জান্নাত চলে যায় আবিরের পছন্দের খাবার রান্না করতে। তাও চিটাগং এর স্টাইলে।

রাত ১০ টা,

আবিরের ঘুম ভাঙতেই ওর নাকে যেন এটম বোম ফুটে৷ ও একলাফে উঠে খাবার রুমে আসে। বাবা-মা বসেই ছিল। জান্নাত খাবার বারছে। আবির খাবার দেখে তো আশ্চর্য। ওর পছন্দের ভুনা খিচুড়ি আর গরুর গোস্ত। আহ! বেচারার জিভে জল এসে পড়েছে। ও কোন রকম হাতটা ধুয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে। আবির জাস্ট খাচ্ছে। কোন কথা নাই। জান্নাত মুগ্ধ হয়ে দেখছে আর মিটমিট করে হাসছে। আবিরের বাবা-মাও খুব মজা করে খাচ্ছে। আবির খাওয়ার শেষ পর্যায়ে এসে বলে,

– মা রান্নাটা যা দারুণ হয়েছে না। মানে এত্তো মজা আগে কখনো হয়নি। উফফ মন চাচ্ছে আঙুল গুলোও খেয়ে ফেলি।

জান্নাত আগের মতোই আছে। তবে একটা লজ্জা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। আবিরের মা হাসি দিয়ে বলে,

~ পাগল মজা তো হবেই। কারণ আমি না তোর বউ তোর জন্য রান্না করেছে।

আবির তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ভাষা হারিয়ে ফেলেছে যে কি বলবে। তাও ও বলল,

– আমার খাওয়া লাইফে বেস্ট খাবার ছিল আজকে৷ থ্যাঙ্কিউ দিয়ে ছোট করবো না।

বলেই জান্নাতকে একটা চোখ টিপ দেয়। জান্নাত তো বুঝে গেছে আজ রাতে ওর খবর আছে। হাহা৷ এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবিরের বাবা-মাকে শুইয়ে দিয়ে জান্নাত সব গুছিয়ে ফ্রী হয়। ও আজ অনেক অনেক খুশী। খুব হাসিখুশি ও। রুমের লাইট সব অফ করে বেড রুমে এসে দেখে আবির ওয়াশরুমে। জান্নাত আয়নার সামনে এসে বড় ঘন কালো চুল গুলো ছেড়ে দেয়। ঝর্ণার মতো সব কোমড় পর্যন্ত নেমে আসে। হঠাৎই ড্রেসিং টেবিলে রাখা আবিরের ফোনে একটা ম্যাসেজ আসে৷ জান্নাত এখনো চুল আঁচড়াচ্ছে। আবার ম্যাসেজ আসে। এবার জান্নাত ফোন খুলে ম্যাসেজটা পড়ে। আর সাথে সাথেই জান্নাতের মুখের সব উজ্জ্বলতা নিমিষেই নাই হয়ে যায়। কারণ ম্যাসেজে লিখা,

– “তোমাকে খুব মিস করছি। আবার কবে দেখা হবে?”

জান্নাত ঠাস করে ফোনটা আগের জায়গায় রেখে বিছানায় বসে পড়ে। কে এই ম্যাসেজ দিলো আবিরকে? কে?

চলবে..?

সবার ভালো সাড়া চাই। কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে