নিশি কাব্য পর্ব-২০

0
568

নিশি কাব্য পর্ব-২০
(রোমান্টিক সংসারে গল্প)
লেখা- Rudro Khan Himu

আমাদের মেয়েটা দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেছে।
আজ পরীর ৫ বছরের পায়ে রাখলো।
নতুন একটা চাকরি নিয়ে এখন আমরা রাজশাহী শহরের আমরা চলে আসছি … । পরীর দুষ্টুমি খেলাধুলা এসব নিয়ে সারাদিন লাগে থাকে। আগে শুনেছিলাম মেয়ে নাকি বাবার দলের হয়ে…. মা থেকে বাবাকে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু আমাদের হয়েছে উল্টো ।আর হবেই বাহ না কেন। নিশি সবার মন জয় করার অসীম ক্ষমতা নিয়ে জম্ময়েছে। বাবা-মেয়ে দুই জনই পুতুল বউ ফ্যান।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



“মামনি মামনি”
— হ্যা মামনি বল
— আমার বউ পুতুলটা বর পুতুলের ওপর রাগ
করেছে।
— ও তাই?
— হ্যা মামনি। এখন কি করি?
–তোমার বর পুতুলটাকে বল সে যেন বউ
পুতুলকে একটি কবিতা আর শুনিয়ে দেয়।
তবেই রাগ কমে যাবে।
.
পরী(মেয়ে) কিছুক্ষণ ভেবে বলল
— কিন্তু মামনি আমার বর পুতুল তো
কবিতা জানে না।
— ওই যে ভদ্র লোক খাটে শুয়ে আছে।
তাকে বল। সে ভাল ভাল কবিতা
লিখতে পারে।
.
পরী সেই ভদ্রলোক অর্থ্যাৎ তার
বাবা মানে আমার কাছে আসলো।
.
— বাবা বাবা
— উহু (ঘুমে বিভোর)
~ আমাকে একটা কবিতা লিখে দাও।
আমার বউ পুতুলের রাগ ভাঙ্গাতে হবে।
— (নো আন্সার)
–এই বাবা (গা ধাক্কা দিয়ে)
— কি হইছে? (কিছুটা বিরক্তি নিয়ে)
— কবিতা লিখে দাও।
— আমি পারি না। যা এখান থেকে। (ধমক
সুরে)
.
পরী কেদে উঠল। আমি লাফিয়ে
উঠলাম। কারণ পরীর কান্না আওয়াজ যদি
নিশির কানে পৌছায় তবে
আমার ওপর তান্ডব চলবে।
.
আমি পরীর মুখ চেপে ধরলাম। যাতে
কান্নার শব্দ শোনা না যায়।
— আরে মামনি কাদে না। কবিতাই
তো? এক্ষুনি লিখে দিচ্ছি।
আমি লক্ষ্য করলাম। পরীর কান্না
থেমে গেছে। তাই আমি, এইতো
আমার লক্ষি মামনি বলে পরীর মুখ
ছোঁয়া দিলাম। ওমনি পরী দৌড় দিয়ে
তার মামনির কাছে চলে গেল।
আমি তো ভয়ে আত্মহারা। মেয়েটা
ইদানিং ভারি দুষ্টু হয়েছে। কিছু হলেই
মামনির কাছে বিচার দিবেই দিবে।
.
— মামনি মামনি বাবা আমাকে
বকেছে। (কিছুটা কান্নার ভাব। তবে
চোখে পানির অভাব)
— কি! আমার মামনিটাকে বকেছে? এত
বড় সাহস। চল দেখি তো।
.
নিশি এসে দেখল আমি
বিছানায় নেই। এমন ভয়ংকর
পরিস্থিতির সময় আমি সবসময়
বাথরুমেই লুকিয়ে থাকি।
.
— এই বের হও বলছি।
– গোসল দিচ্ছি।
— বের হবা নাকি বাইর থেকে
আটকিয়ে দিব?
.
নিরুপায় হয়ে দরজা খুললাম। আমি দেখলাম
নিশির চোখে আগুন ঝরছে। আর
অন্যদিকে পরীর মুখে দুষ্টু হাসি। এই
পিচ্চির জন্য রোজ সকালে কিছু না
কিছু ঘটবেই। আমার দুষ্টু মেয়ে টা।
.
— আমার মামনিকে বকেছ কেন?
– কই নাতো।
— একদম মিথ্যক বলবে না। (হুংকার দিয়ে
বলল নিশি)
আমি ভয়ে চুপসে গেলাম।
– আরে কবিতাই তো। এক্ষুনি লিখে
দিচ্ছি।
.
আমার অবস্থা দেখে নিশি
মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল
> ঠিক আছে। আমার মামনি যেন আর না
কাদে।
– আরেকবার দাও না। ওই মিষ্টি হাসি।
.
আমি নিশির অভিমান মাখা মুখটি
দেখে বললাম
— আচ্ছা থাক লাগবে না।
.
নিশি আবার সেই মিষ্টি হাসি
দিয়ে চলে গেল। আমি পরীকে
কাছে ডেকে কোলে তুলে নিলাম।
— এই দুষ্টু, কবিতার জন্য মাকে বলা
লাগে?
~ কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি
লিখে দাও। বউ পুতুলের রাগ ভাঙ্গাতে
হবে।
– বাপরে বাপ এত শাসন? অনেক পেকে
গেছিস। একদম মায়ের মত হয়েছিস।
~ দিবা নাকি মামনিকে ডাকব?
– আচ্ছা বাবা দাড়া দিচ্ছি। খালি
মামনি মামনি করিস কেন?
~ কবিতা দাও তো।
.
অতঃপর কবিতা লিখে দিলাম। তা নিয়ে
নিশি চলে গেল খেলতে। সেই
সুযোগে আমি পাকঘরে এসে
নিশিকে জড়িয়ে ধরলাম।
.
> এই কি হচ্ছে? ছাড় বলছি।
– আরে বাহ এত কষ্ট করে কবিতা
লিখলাম। আর এখন একটু আদরও পাব না?
> মাইর চিনো? মাইর দিব। ছাড়।
.
আমি নিশিকে তার দিকে
ফিরিয়ে দু হাতের বাহুতে জড়িয়ে
ধরলাম।
– হায়রে আমার ভাগ্য। আগে কবিতা
লিখতাম তোমার রাগ ভাঙ্গানোর
জন্য। আর এখন লিখি পুতুলের রাগ
ভাঙ্গানোর জন্য।
.
নিশি আমার নাক টিপে বলল
> আহারে।
– এই দেখি দেখি তোমার ঠোটে ওটা
কি?
> কই কি?
.
আমি এই সুযোগে আলতো পরশ বসিয়ে
দিলাম পুতুল বউ মিষ্টি ঠোঁটে। নিশি লজ্জায় লজ্জাবতী হয়ে
গেল। আমি নিশিকে জড়িয়ে
ধরে বাহুতে আবদ্ধ করে নিয়ে নিলাম।
.
> এই ফাজিল কোথাকার‚ মেয়ে বাবা
হয়েছ কিন্তু এখন অসভ্যতা যায়নি?
– কেন বাবা হলে কি রোমান্স কমে
যায়?
> আসলে তুমি ………
.
তখনই পরী এসে বলল
~ মামনি মামনি আমার বউ পুতুলের রাগ
কমে গেছে।
.
পরীকে দেখে নিশি আমার
বাহু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে
নিয়ে পরীর কাছে গেল।
.
> রাগ কমেছে। তাহলে তো ভালই। এখন
কি তুমি নাস্তা করবে?
পরী মাথা নেড়ে হ্যা বলল।
নিশি পরীকে কোলে তুলে নিল।
> এইতো লক্ষি মা আমার।
~ মামনি তখন বাবা আমাকে খুব
বকেছে। তাই আমার মন খারাপ।
> তাই বুঝি? দাড়াও ওনাকে মজা
দেখাচ্ছি।
.
আমি মনে মনে ভাবলাম এখন আবার কি
হবে?
– আমি তো কবিতা লিখে দিয়েছি।
~ তাতে কি হয়েছি। তুমি আমাকে
বকেছ কেন?
– আচ্ছা বল কি করতে হবে?
~ আমাকে ১০টা পাপ্পি দিতে হবে।
– ও বকা দিলে পাপ্পি দিতে হয়?
~ হ্যা।
.
আমি সাথে সাথে নিশি বকা
দিলাম। হঠাৎ আমার বকা শুনে
নিশি কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা
খেয়ে গেল।
.
> এই তুমি আমাকে বকা দিলে কেন?
– ওহ স্যরি। পাপ্পি দিয়ে দেই।
> মেয়ের সামনে এসব বলতে লজ্জা
লাগে না। (ফিসফিসিয়ে)
– বারে তোমার মেয়েই তো বলল বকা
দিলে পাপ্পি দিতে হয়। ……… তাই না
মামনি?
~ হ্যা তাই।
– সুতরাং পাপ্পি দেই?
.
> দাড়াও পাপ্পি দেখাচ্ছি তোমাকে।
নিশি খুন্তি নিল হাতে। আমি
দৌড় দিয়ে পাকঘরের ওপারে যেয়ে
বলল
– অন্যায় অন্যায় অন্যায়। একজন বলে বকা
দিলে পাপ্পি দিতে হয়। অন্যজন
পাপ্পির কথা বললে মারতে চায়। এই
দেশে বিচার নেই।
> দাড়াও বিচার করাচ্ছি।
.
নিশি এক পা এগোলো।আর আমি
দৌড় দিয়ে পালিয়ে গেলাম। নিশি
মনে মনে বলছে পাগল একটা বর।

.
.
.
মা মেয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।

পাশে তাকাতে দেখলাম নিশি চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় নিশিকে অনিন্দ্য সুন্দর দেখাচ্ছে। ছাব্বিশ বছর বয়সের নিশির বয়স যেন বছর পাঁচেক কমে গেছে। ঘুমের ঘোরে নিশির গোলাপী রঙের শাড়িটা হাটু পর্যন্ত উঠে গেছে। নীলচে আলোর স্নিগ্ধ প্রতিপ্রভা বিচ্ছুরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে ওর সমস্ত মুখাবয়বে। আলো-ছায়ার খেলা, নিশির দুধে-আলতা মাখানো ফর্সা মুখমন্ডলে সৌন্দর্য্যের প্রলেপ আরেকটু এঁকে দিচ্ছে। নিশির ঠোটের পাতা খানিকটা ফাঁক হয়ে রয়েছে, দেখে মনে হচ্ছে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস না ছেড়ে ও ওষ্ঠদ্বয়ের ফাঁক দিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ছে। নিশির এমন মায়াবী রূপ দেখে আমার বেশ ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছিলো নিশির কোমল ওষ্টে আলতো করে একটা চুমু এঁকে দিয়েতে। কিন্তু এই মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিলে নিশি হয়তো ভীষণ রাগ করবে। আমি চায়না আমার সোনা বৌ কোনভাবেই রাগ করুক এটা আমি কখনো চাই না। আমি নিজেকে সংযত করে পাশ ফিরে শুয়ে পরতে নিলাম।
–এই পিচ্চি বর কি দেখছিলে এমন করে ।(নিশি)
–কিছু না।
— আমার কাছে কখনোই কোন কিছু লুকাতে পারবে না পিচ্চি বর সব ধরে ফেলি ।
— তুমি এত কিছু বুঝেও কেন?
— ঐ পিচ্চি বর কাছে এসো ।
–এমন করে তাকাচ্ছে কেন । আমি তো পাগল হয়ে যাবো।
নিশির ঠোঁটের নিচে তিলটা ডাকছে আমায় তার ডাকে সাড়া দিয়ে আস্তে আস্তে কোমরে স্পর্শ করলাম.. .. ঠোঁটের নিচে তিলে চুমু দিলাম ….।
তারপর নিশি আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার কানের লতিতে কামড়ে দিলো।
আমার ফোনটা বেজে উঠলো। এতো রাতে বিরক্ত করার জন্য মানুষ যায়ে কেন ফোন করে। রোমান্টিক মুহুর্তটা নষ্ট করে দিলো ……. ফোন টা ধরে পর আমি একটু অবাক হয়ে গেলাম এতো রাতে একটা মেয়ে কন্ঠ শুনে যায়ে কেউই অবাক হবে।
চলবে ?
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here