নতুন জীবন পার্ট-০৬

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

নতুন জীবন
__________________
লেখিকা:বাবুনি
_________________
(পার্ট:৬)
তানছিয়ার কাছে এসে বসতেই,সে উঠে দাঁড়ালো ঘোমটা টেনে নিয়ে।
তারপর জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
রাইফ, কিছু না ভেবেই ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
রাইফ কিছু বলার আগেই তানছিয়া বলে উঠলো।
“তানছিয়া, শুনুন, আপনি আমার ধারে কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।কারণ এই বিয়েটা আমার পছন্দে হয়নি।”
“রাইফ, স্বাভাবিক ভাবেই বলল, আচ্ছা তাহলে বিয়ে টা করলেন কেন_!”
“তানছিয়া, কিছুটা রেগে গিয়ে মাথার ঘোমটা ফেলে দিয়ে বলল, আব্বু আম্মু কষ্ট পাবে তাই।”
“রাইফ,‌ তাহলে এখন আপনি কি চান!”
“তানছিয়া, আমি আপনাকে স্বামীর অধিকার দিতে পারবো না। সো আমার কাছে কখনো অধিকার ফলাতে আসবেন না।”
“রাইফ, ঠিক আছে আপনি যা চান তাই হোক। কিন্তু আমার একটা অনুরোধ। আপনি দয়া করে আমার ফ্যামেলির মানুষ কে এসব বুঝতে দিবেন না। কারণ ওনারা এসব শুনলে খুব কষ্ট পাবেন।”
“তানছিয়া, কিছু একটা ভেবে বলল, ঠিক আছে।”
“রাইফ, আর হ্যাঁ আপনি কিছু মনে না করলে আমি আপনাকে তুমি করে বলবো।”
“তানছিয়া, আমার কোনো সমস্যা নেই, তাছাড়া আপনি হয়তো আমার অনেক বড় হবেন।সো বলতেই পারেন।”
“রাইফ, শুকরিয়া, চলো তাহলে ঘুমানো যাক, সারাদিনে নিশ্চয়ই অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছো। যা দখল গেলো ক্লান্ত হবার ই তো কথা।”
“তানছিয়া, কিছু টা বিরক্তি নিয়ে বললো, ঘুমাবো কোথায়_!”
“রাইফ, কেনো বিছানায়।”
“তানছিয়া, আর আপনি_!”
“রাইফ, ভয় নেই আমি সোফায় ঘুমাবো অভ্যাস আছে।”
তানছিয়া আর কিছু না বলে ফ্রেশ হয়ে এসে, শুয়ে পড়লো বিছানায়।
কিন্তু ওর মাথায় একটা কথা বার বার ঘুরছে।এই ছেলেটা আমার কথা এতো সহজে মেনে নিচ্ছে কেন_! থাক আর যাই হোক আমার কথার গুরুত্ব তো পেলাম। এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে দুচোখের পাতা এক হয়ে গেল বুঝতেই পারলো না।


‘সকালে দরজায় নক করল সুমাইয়া।
“সুমাইয়া, ভাইয়া আর কতো ঘুমাবে_! তাড়াতাড়ি উঠো নামাজ পড়ে ভাবিকে নিয়ে আসো নাস্তা করবে।”
রাইফ ঘুম ঘুম চোখে বলল তুই যা আসছি।
কাল রাতে ঘুমাতে পারেনি প্রায় ৩টার দিকে হয়তো চোখ লেগেছে। সাধারণত সে এতো রাত করে ঘুমায় না কখনো। কিন্তু কাল তানছিয়ার কথা গুলো তাকে অনেক ভাবিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে সামাল দিতে পারবে তো এইসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে, ঘুমাতে লেট হয়ে গেল।

‘তাড়াতাড়ি করে শুয়া থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আসলো।তারপর তানছিয়াকে ডাকবে কি না ভাবছে। তারপর আস্তে করে ডাক দিলো।
“রাইফ,তানছিয়া শুনছো_!”
“তানছিয়া, ঘুম ঘুম চোখে বলল, আহ্ জরি যা তো এখন। তুই জানিস না এতো সকালে ঘুম থেকে উঠি না আমি। আরেকটু ঘুমাবো ওকে।”
“রাইফ, হালকা গলা ঝেড়ে বলল, মিসেস তানছিয়া। আমি জরি না রায়হান।”
“তানছিয়া, এবার চট করে উঠে বসলো। তারপর দুহাতে চোখ কচলে বলল। আপনি!তাহলে রায়হান টা কে_?”
“রাইফ, আরে আমার নাম টা ও দেখছি জানো না তুমি। আমার পুরো নাম, রায়হান আহমদ রাইফ।”
“তানছিয়া, একটু ভারী গলায় বলল, জানার চেষ্টা করি নি তাই জানি না।”
“রাইফ, আচ্ছা না জানলে নাই, যার জন্য ডাকছিলাম সেটা বলি। তাড়াতাড়ি উঠো মিসেস, উঠে ফ্রেশ হয়ে আসো নামাজ পড়বে।”
“তানছিয়া, কিছু টা রাগি কন্ঠে বলল, আমি এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠি না।সো এখন আমি ঘুমাবো।আর আপনি আমাকে মিসেস বলছেন কেন_!”
“রাইফ, বাহ্ রে তোমার বিয়ে হয়েছে এখনো কি মিস আছো না কি_!”
“তানছিয়া, রাইফের মুখে এই কথা শুনে চুপ করে রইলো।”
“রাইফ, ম্যাডাম এতো ভেলকি বাজি না করে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসুন।তা না হলে কিন্তু___!”
“তানছিয়া, তা না হলে কি__! কি করবেন আপনি__!”
“রাইফ, একটু কাছে এসে মুখে শয়তানি হাসি দিয়ে বলল ,স্বামীর অধিকার ফলাবো।”


তানছিয়া, চট জলদি বিছানা ছেড়ে নেমে গেল ফ্রেশ হতে।
রাইফ, মনে মনে বলল, যাক তাহলে ঔষধে কাজ হয়েছে।
কিছুক্ষণ পর তানছিয়া ফ্রেশ হয়ে আসলো। কালো একটা শাড়ি পড়েছে সে। অবশ্য এর আগে সে তেমন একটা শাড়ি পড়েনি ঐদিন কলেজে শুধু পড়ে গেছিল। কিন্তু বিয়ের আগে ওর আম্মু বলে দিছে, এইবাড়ির মেয়েরা বিয়ের পর আর ড্রেস পড়ে না।শাড়ি পড়ে সো তাকেও শাড়ি পড়তে হলো।

এদিকে রাইফ তো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।এতো মায়াবী মানুষ হয় কিভাবে সেটাই সে খুঁজে পাচ্ছে না। কোনো সাজ ছাড়াও যে একটা মেয়েকে, এতোটা সুন্দর লাগতে পারে শাড়ি পড়ে মাথায় ঘোমটা দিলে।তা হয়তো ওকে না দেখলে বুঝতো না সে। আগে কোনো মেয়ের দিকে সে এভাবে তাকায় নি। কিন্তু আজ যেনো চোখ জোড়া সরাতে ইচ্ছে করছে না এই মেয়েটির দিক থেকে। যদিও সে জানে এটা তার বিয়ে করা বউ ওর দিকে সে তাকাতেই পারে,এতে কোনো পাপ হবে না। তবুও কিছু একটা ভেবে সে চোখ নামিয়ে ফেললো।

‘ “তানছিয়া,কি হয়েছে চোখ সরালেন কেন_! আরও কিছুক্ষণ চুরের মতো লুকিয়ে লুকিয়ে দেখলে পারতেন।”
“রাইফ, কিছু টা লজ্জা পেয়ে নরম সুরে বলল, অযু করে আসছো_!”
“তানছিয়া, হ্যাঁ_!”
“রাইফ, চলো তাহলে নামাজ পড়ে নেই।”

‘দুজন নামাজ পড়ে স্বামী স্ত্রীর মতোই গিয়ে সবার সাথে খাবার টেবিলে বসলো, নাস্তা করতে। সবাই খুব সুন্দর করে কথা বলল, তানছিয়ার সাথে। তাদের কথাবার্তা শুনে তানছিয়া বুঝতে পারলো।এই পরিবারের প্রত্যেক টা মানুষ ই অনেক ভালো। অনেক সরল মনের মানুষ এরা।তবে যতোটা খুশি হওয়ার কথা ঠিক ততোটা খুশি সে হতে পারলো না। কারণ সে তো এরকম টা চায় নি একটু অন্যরকম চেয়েছিলো। আজকের এই দিন টা একটু অন্যরকম হলেও পারতো।

‘ খাওয়া শেষে ওকে ওর শাশুড়ি নিয়ে গেলেন বড় ভাবির কাছে। পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে অন্যরকম ভালো লাগলো তার ভাবির কথাবার্তা শুনে।এই পরিবারের প্রত্যেক টা মানুষের মতোই ওনিও খুব ভালো ভাবে কথা বললেন ওর সাথে। ওনার বেবিকে একটু কোলে নিলো তানছিয়া।
সাথে সাথে বেবিটা প্রস্রাব করে দিলো ওর কোলে।
“ভাবি, ইশ্ কি করলি টুনি তুমি এটা_! দিলে তো ছোটমার কাপড় নষ্ট করে।”
“তানছিয়া, কিছুটা বিরক্তি বোধ করলেও তা প্রকাশ করলো না। আরে না না ভাবি আমি ঠিক আছি।”
ভাবি ওকে কোল থেকে নিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলেন।
তানছিয়া,কিছুটা অবাক হলো, সে কিছুটা ঘৃণা করলেও।ওনি অনয়াসে কি সুন্দর ভাবে হাসি মুখে সবকিছু পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। একটু ও ঘৃণা ফোটে উঠছে না ওনার চোখে মুখে।আসলে কি ওনি মা বলে এরকম হচ্ছে। তাহলে পৃথিবীর সব মা ই এরকম হয়_! আমি ও মা হলে এরকম হবো_! আমার মা ও কি এরকম_! হ্যাঁ ওনাকে দেখে আজ বুঝতে পারছি ,সব মায়েরা ই সন্তানের জন্য এসব সহ্য করেছেন বা করেন বা করছেন। আমার আসলে উচিত নয় মায়ের ওপর রাগ করে থাকাটা।না জানি আমার ছোট বেলায় কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে আমার মাকে।
আর আমি কি না ওনাদের কত কষ্ট দিয়েছি।মা বাবার চাইতে পৃথিবীতে আসলেই আপন কেউ হতে পারে না। ওর চোখ থেকে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো টপ টপ করে।
তা দেখে ভাবি বললেন,


“ভাবি, মায়ের কথা মনে পড়ে গেল তাই না_!”
“তানছিয়া, কিছু টা লজ্জা পেয়ে চোখ মুছে বলল, হুমম। কিন্তু আপনি কিভাবে বুঝলেন_!”
“ভাবি, আরে বোকা মেয়ে আমিও যে মা হয়েছি, বুঝবো না এই সামান্য ব্যাপার টুকু। মনখারাপ করো না আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার ও প্রথমে এরকম টা হতো, কিন্তু দেখো আস্তে আস্তে এই পরিবারের প্রতি মায়া জন্মে গেছে। এখন এই পরিবার টাই আমার পরিবার হয়ে গেছে।”
“তানছিয়া, মনে মনে কিছু টা ঘাবড়ে গেল। তারপরও নিজেকে সামলে নিয়ে একটু মুচকি হেসে বলল, হুমম।”

‘ জোহরের টাইমে গোসল সেরে চুল আঁচড়াতে বসেছে তানছিয়া। হঠাৎ ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় রাইফের চেহারা দেখে কিছু টা বিরক্ত হলো। পিছনে দাঁড়িয়ে আছে রাইফ।
তানছিয়া রেগে গিয়ে কিছু বলতে যাবে।

ঠিক তখনই রাইফ যা বলল তা শুনে কিছুটা চুপসে গেল তানছিয়া।

চলবে_!

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...

আঁধার পর্ব-১২

আঁধার ১২. " রান্না ভালো হয়নি? " প্রশ্নটা না করে পারলাম না। " হ্যাঁ, ভালো হয়েছে। আমি নিজেও এতো ভালো রান্না করতে পারিনা। বিয়ের...

আঁধার পর্ব- ১১

আঁধার ১১. " তুমি ঠিক এভাবে নিয়ম করে হাসলে আমি তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবো। " মুখ ফসকে কথাটা টুক করে বের হয়ে গেল। সাথে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

0
আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...
error: ©গল্পপোকা ডট কম