তৈমাত্রিক পর্ব-০৩

0
1122

#তৈমাত্রিক
#লেখিকা; Tamanna Islam
#পর্বঃ ০৩

❣️
.
.

আমি ক্লাসের বাইরে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই উর্মি আর বাবলি দৌড়ে আমার কাছে ছুটে আসে…

উর্মি;; দোস্ত তোর তো ভালোই সাহস, জানিস এই তুই কোন প্রথম মেয়ে যে কিনা উনার মুখের ওপর কথা বলেছে।

মেহরাম;; দেখ সাহস টাহসের কিছুই নেই এখানে। তার কথা বলা আমার কাছে ভালো লাগেনি তাই প্রতিউত্তর দিয়েছি মাত্র আর কিছুই না।

বাবলি;; দেখা যাক কাল কি হয়।

মেহরাম;; হ্যাঁ আমি এবার চলি।

এই কথা বলেই আমি বের হয়ে পরি। ভার্সিটি গেটের কাছে গিয়ে কাউকে পেলাম না তাই একটু দাঁড়িয়ে থাকলাম। খনিক বাদে তনু এলো। আমি আর কি বলবো তনুই বকবক করছে যে আজ ক্লাসে কি কি হলো, কি কি করালো। আমিও তাই শুনছি। অতঃপর একটা রিকশা ভাড়া করে একদম বাড়ি চলে গেলাম। আমাদের যেন ডেইলি রুটিন হয়ে গেলো। বাসা থেকে ভার্সিটি, ভার্সিটি থেকে বাসা আর মাঝে মধ্যে বাইরে ঘুড়তে যাওয়া। রাতের বসে আছি আর তনু ফোন চালাচ্ছে। তখন হঠাৎ সে বলে উঠে…

তনু;; মেহরু..

মেহরাম;; হুমম।

তনু;; আজ কি ক্লাসে কিছু হয়েছে মানে তোর ক্লাসে?

মেহরাম;; কই না তো, মাত্র একটা ক্লাস ছিলো তাই করে এসে পরেছি।

তনু;; ওহহ আচ্ছা।

অনেক গল্প করে আড্ডা দিয়ে প্রায় ১ টার দিকে তনু আর আমি ঘুমাতে যাই। পরেরদিন উঠেই আবার ভার্সিটির জন্য ছুটে চলে যেতে হয়। তনুকে তার ডিপার্টমেন্টর সামনে নামিয়ে দিয়ে আমি চলে যাই। ভার্সিটির ভেতরে তো গেলাম কিন্তু আজকে আর সেই ভার্সিটির সো-কল্ড সিনিয়র আয়ুশকে দেখতে পেলাম না। আমি যেন কিছুটা শান্তিই পেলাম। সোজা চলে যাই ক্লাসে। তবে গিয়েই দেখি সবার মুখে বারো টা বেজে আছে। আমি গিয়ে বাবলির পাশে বসে পরি…

মেহরাম;; হয়েছে কি তোদের এমন করে আছিস কেন?

বাবলি;; আয়ুশ আহমেদের এক চেলা এসে আমাদের সবাইকে চুপচাপ বসে থাকতে বলেছে কি যেন আজ আছে নাকি তাই।

মেহরাম;; মানে?

উর্মি;; মানে এই যে হয়তো আমাদের রেগিং করা হবে।

মেহরাম;; আজাইরা।

আমি এই কথা বলেই সামনে তাকাই তখনই একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ ক্লাসে আসেন এবং আমাদের সাথে কথা বলতে থাকেন।


আয়ুশ;; কিরে ওই মেয়ে টার বেপারে যে সব খবরাখবর নিয়ে আসতে বলেছিলাম। নিয়ে এসেছিস?

রাকিব;; জ্বি ভাইয়া। মেয়েটার নাম মেহরাম আফরিন। এখানে মিরপুরে থাকে। মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জ,, এখানের ভার্সিটিতে চান্স হয়েছে তাই এসেছে। সে ইংলিশ ডিপার্টমেন্টর। তার একটা বোনও আছে নাম আশফিয়া তনু এই ভার্সিটিতেই পরে কিন্তু ফিলোসোফি ডিপার্টমেন্টর।

আয়ুশ;; হুমমম বুঝলাম, চল।

আয়ুশ এই বলেই আমাদের ক্লাসে এসে পরে। আর তার আসতেই ক্লাসে থাকা সেই ব্যাক্তি টি চলে যায়। আমরা সবাই দাঁড়িয়ে পরি।

আয়ুশ;; সবাই আস্তে ধীরে বের হয়ে ভার্সিটির হলরুমে গিয়ে জড়ো হও, ফাস্ট।

আমি উর্মির দিকে তাকালে সে আমাকে জলদি যাওয়ার জন্য বলে। আমরাও চুপচাপ গেলাম। মেয়েরা আগে দাঁড়িয়েছে আর ছেলেরা পরে। আয়ুশ সামনে এসে একটা টেবিলের ওপর বসে পরে। এক এক করে সবার নাম বলছে সে আর তাদের রেগ দিচ্ছে। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে হয়তো কোন উল্টা পালটা কাজ করতে বলবে কিন্তু না আয়ুশ সবাইকে অনেক ভালো ভালো রেগ দিচ্ছে। যেমন ভার্সিটির পাশে একটা মসজিদ রয়েছে তাতে একজন কে টাকা দিতে বলছে, স্যারদের মাঝে মিষ্টি দিতে বলছে কাউকে, জুনিয়র দের এসাইনমেন্টে হেল্প করতে বলছে আরো কতো কি কি। আমি আমার জীবনে এমন এই প্রথম দেখলাম। সে যাই হোক সবার নাম ধরে এক এক কাজ করতে বললেও সবার শেষে পরি আমি। আর আশ্চর্যজনক ভাবে আমার নাম আয়ুশ ডাকে না আর রেগও দেয় না। আমার দিকে সরু দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আয়ুশ চলে গেলো। সে চলে গেতেই বাবলি আমাকে ঝাপটে ধরে।।।

বাবলি;; কিরে সবাইকে কিছু না কিছু দিলো কিন্তু তোকে কিছুই দিলো না।

মেহরাম;; আমিও তো তাই ভাবছি। আচ্ছা যাজ্ঞে, না দিলেই ভালো আমি বেচে গেছি।

সবাইকে যা যা দেওয়া হয়েছে তারা সেই কাজে নেমে পরলো। কিন্তু আমি কি করবো বসে থাকলাম। এক সময় বোর হয়ে গেলাম। তখনই তনুর ফোন আসে আমি রিসিভ করি। ওপর পাশ থেকে সে বলে ওঠে…

তনু;; আমার তো ক্লাস শেষ তোর হয়েছে?

মেহরাম;; হ্যাঁ হয়েছে।

তনু;; তাহলে এসে পরে।

মেহরাম;; আচ্ছা আসছি।

আমি উর্মি আর বাবলি কে বলে সেখান থেকে চলে যাই। ভার্সিটির বাইরে এসে দেখি তনু দাঁড়িয়ে আছে। এখন কড়া রোদ তাই আমরা দুজন একটু ছায়াতে দাঁড়িয়ে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখনই আমার চোখ পরে রাস্তার এক কিণারে। আমি কিছুটা লক্ষ করলেই দেখতে পাই যে সেটা আয়ুশ। রাস্তার পাশে কিছু অসহায় মানুষকে খাবার দিচ্ছে। মুখে লেগে আছে বিরামহীন হাসি। অজানতেই আমার মুখের হাসি ফুটে ওঠে। মানুষটাকে যতোটা খারাপ ভেবেছিলাম আসলে ততোটা না। আমি আর তনু রিকশা করে এসে পরি। যতক্ষণ না আয়ুশ আমার চোখের আড়াল হয় আমি তাকিয়েই ছিলাম।

.
.

তনু আর আমি দুজনেই বসে বসে গল্প করছিলাম আর পড়ছিলাম। আমি একটু হেটে বারান্দায় আসলাম। এখান থেকে আবার বাইরের রাস্তা দেখা যায়। হঠাৎ টুং করে আমার ফোনে মেসেজ আসে। আমি চিনি না নাম্বার টা। যাই হোক মেসেজ টা ওপেন করলাম…

“পূর্নিমা সন্ধ্যায় তোমার রজনীগন্ধায়, রুপ সাগরের পারের পানে উদাসী মন দায়”।

আমি হেসে দেই, কেননা এতো রাতে এক অচেনা নাম্বার থেকে এমন মেসেজ আমাকে কে দিবে। আমি ভাবলাম হয়তো ভুলে কেউ পাঠিয়ে দিয়েছে। বাইরে কতোক্ষণ থেকে ঘরে চলে যাই। তবে আমি গিয়ে দেখি তনু বুকের ওপর বই রেখেই ঘুমিয়ে পরেছে। আমি গিয়ে বই টা আলতো করে টেবিলে রেখে দিই। তারপর গায়ে চাদর টেনে দিই। আমিও ঘুমিয়ে যাই।

পরেরদিন ভার্সিটিতে গেলে দেখি ক্লাসে সবাই কেমন চুপ। কথা নেই। মানে আমি এসেই দেখি চিল্লাপাল্লা কিন্তু যেই না আমি ভেতরে গেলাম ওমনি সবাই চুপ মেরে গেলো। আমি কিছু বুঝলাম না। যাই হোক ভার্সিটির কারো সাথে আমি তখনও তেমন কথা বলতাম না, শুধু উর্মি আর বাবলি বাদে। ছেলেরাও কথা বলে না। আগে যতো টুকু বলতো এখন আরো না। প্রয়োজনে আমি বলতে গেলে যেন আরো পালিয়ে যাই। এর জন্য আমি কথাই বলি না। স্যার আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলো। মাঝখানে আয়ুশ টপকে পরে এসেই আমার নাম ধরে ডাকে। তার ডাক দেওয়াতে যেন পুরো ক্লাসে একটা ধ্বনি বেজে উঠলো।

আয়ুশ;; মেহরাম।

আমি মাথা তুলে তাকাই

আয়ুশ;; এসো।

মেহরাম;; কো.. কোথায়?

আয়ুশ;; এসো।

উর্মি আমাকে ইশারা দিয়ে যেতে বলে। আমিও যাই। ক্লাসের বাইরে আসতেই আমি বলে উঠি..

মেহরাম;; আমাকে এভাবে ক্লাসের মাঝখান থেকে আনার মানে কি। জানেন কতো ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস ছিলো। নোটস পরে কোথায় পাবো আমি।

আয়ুশ;; নোটস ক্ললেক্ট করা একটা বেপার হলো। আমি দিয়ে দিবো নি।

মেহরাম;; চাই না আপনার কাছ থেকে। আমি গেলাম।

আমি চলে আসতে ধরলেই আয়ুশ আমার হাত ধরে ফেলে। আমি চোখ গুলো গোল গোল করে আয়ুশের দিকে তাকাই। সে ভাবলেশ হীন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি চোখ নামিয়ে হাতের দিকে তাকালে আয়ুশ কয়েক কদম হেটে আমার কাছে চলে আসে। আমি কিছুটা পেছাই।

আয়ুশ;; আসো আমার সাথে।

আমি কিছুই বলছি না মূলত আমি অবাক আয়ুশের কান্ডে সে আমার হার ধরে শুধু নিয়ে যাচ্ছে আর আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। ভার্সিটির মাঠের পেছনে চলে এলাম আমরা।

আয়ুশ;; হুম এখানে আনতে চেয়েছি তোমায়।

মেহরাম;; এখানে আমি কি করবো?

আয়ুশ;; কিছুই করতে হবে না, এখানে বসো।

আয়ুশ নিজে বসে পরে আর সাথে আমাকেও বসিয়ে দেয়। নীরবতা ভেংে আয়ুশ বলে ওঠে…

আয়ুশ;; প্রথমে কি ভেবেছিলে আমি গুন্ডা, একদম না। কলেজের স্যাররা আমাকে কিছুই বলে না কারণ তারা জানে যে আমি তেমন ছেলেই না। হ্যাঁ হয়তো রাগের বসে একটু বেশি করে ফেলি মাঝে মাঝে। কিন্তু তা না করলে হয় না।

মেহরাম;; আমার সাথে কেউ কথা বলে না কেন? (কপাল কুচকে তার দিকে তাকিয়ে)

আয়ুশ;; কোথায় কেউ বলে না। ওই তো উর্মি তারপর বাবলি ওরা বলে তো।

মেহরাম;; ছেলেরা কেউ কেন কথা বলে না?

আয়ুশ;; কেন তাদের সাথে কথা বলার খুব শখ?

মেহরাম;; তেমন না কিন্তু ক্লাসমেট হিসেবে।

আয়ুশ;; আমি বারণ করেছি।

মেহরাম;; কেন?

আয়ুশ;; তোমাদের ব্যাচের কিছু পোলাপান খুব বেশি খারাপ তাই।

আমি আর আয়ুশের কথায় কিছু বলি না। এক সময় আমি উঠে পরি। আয়ুশ আমার দিকে তাকায়। কিন্তু আমি “আমি এবার আসি” এই কথা বলেই দ্রুত চলে আ
যাই। ক্লাসে গিয়ে দেখি সবাই ধীরে ধীরে বাইরে আসছে। আমিও ব্যাগ নিয়ে এসে পরি। তখন বাবলি আমাকে খোচা মেরে বলে….

বাবলি;; কিরে হুম কি চলছে?

মেহরাম;; কই কি আবার চলবে?

বাবলি;; ওই যে আয়ুশ ভাইয়ের সাথে।

মেহরাম;; আরে ধুর হুদাই বুঝলি। নিয়ে বসিয়ে রেখেছিলো।

বাবলি;; ওহহ আচ্ছা তাই নাকি।

মেহরাম;; হ্যাঁ তাই, লাথি খাবি চুপ কর।

বের হয়ে পরি ভার্সিটি থেকে। আজ তনু আর আমি মিলে অনেক ফুচকা খাই। তারপর বাসা। এভাবেই দিন যেতে থাকে,২-১ মাসও পেরিয়ে গেছে। একদিন তনুর শরীর ভীষণ খারাপ হয়। তাই তাকে একা রেখে আমিও ভার্সিটিতে যাই না। সেইদিন রাতের ঘটনা। প্রায় ১;৩০ বাজে এমন। আমার ফোনে কল আসে। আমি রিসিভ করতেই ওপর পাশ থেকে বলে ওঠে..

আয়ুশ;; মেহরাম আমি আয়ুশ জলদি নিচে নামো।

আমি তো আয়ুশের কথা শুনে ভেবাচেকা খেয়ে যাই। দ্রুত বারান্দায় গিয়ে দাড়াই। নিচে উকি দিতেই দেখি আয়ুশ দাঁড়িয়ে। আমি কোন উপায় না পেয়ে বাড়ির চাবি দিয়ে দরজা খুলে আস্তে করে বাইরে চলে যাই। বাইরে গেতেই আয়ুশ ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে, আমি অবাকের ওপর অবাক।

আয়ুশ;; কেন ভার্সিটিতে আসো না দুদিন ধরে। জানো তোমাকে না দেখতে পেরে আমার তো অবস্থা নাজেহাল।

মেহরাম;; আচ্ছা ছাড়ুন দেখি আমাকে কেউ দেখলে কি বলবে প্লিজ ছাড়ুন। আর আমার ভার্সিটি আসা বা না আসা সেটা কোন বেপার না।

আয়ুশ;; অবশ্যই বেপার। আমার জন্য।

মেহরাম;; আরে কিন্তু কেন?

আয়ুশ;; ভালোবাসি, মেহরাম সেই প্রথম দিন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে।

আমি টাসকি খেয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। আয়ুশ তার মতো করেই বলে যাচ্ছে।

মেহরাম;; আয়ুশ, আয়ুশ দেখুন আমার কিছু সময় দরকার।

আয়ুশ;; যতো সময় নেবার নাও। কিন্তু আমি ভালোবাসি।

আমি কোন রকম করে আয়ুশের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসে পরি। ঘরে গিয়েই দরজা আটকিয়ে জোরে জোরে দম ফেলি। তনুর দিকে তাকিয়ে দেখি ঘুম, জ্বর এসেছিলো তার। আর এখন অনেকটাই কম। আমার আর ঘুম আসে না। বসে বসে শুধু ভাবি যে আয়ুশ যে পরিমান জেদি আর রাগি প্রকৃতির না জানি কি করতে কি করে বসে। পরেরদিন আমি একাই ভার্সিটিতে যাই তনু আগামীকাল থেকে যাবে। গিয়েই দেখি ক্লাস পুরো ফাকা শুধু আয়ুশ বসে আছে তাও সেখানে যেখানে আমি প্রায়ই বসি। আমি এগিয়ে যাই। আয়ুশ আমাকে দেখে সামনে আসে।

মেহরাম;; ক্লাসের সবাই কোথায়?

আয়ুশ;; আজ ক্লাস নেই।

মেহরাম;; তাহলে আমি কি করবো আমিও চলে যাই।

আয়ুশ;; আহা, দাড়াও। তুমি এখানেই থাকবে আমার সাথে।

মেহরাম;; কেন?

আয়ুশ;; ভালোবাসি যে।

মেহরাম;; বার বার একই কথা।

আয়ুশ;; যতক্ষণ না হ্যাঁ বলছো আমি বলেই যাবো এই কথা।

আয়ুশের কথায় আমি হেসে দেই। দুজনেই গিয়ে একসাথে হাটতে থাকি। হাটার মাঝে আয়ুশ আমার হাত ধরে। আমি খুব কষ্টে আমার হাসি দমিয়ে রাখি। সেদিন এভাবেই কাটে আমার। রাতে বাসায় এসে জানি না কেন আয়ুশের খেয়াল মাথা থেকে যাচ্ছিলোই না। আনমনেই হেসে উঠছিলাম। তনু এগুলো দেখে আমাকে অনেক জ্বালিয়েছে কিন্তু আমি উলটো ওকেই ঝাড়ি মেরে বসিয়ে রেখেছি। আমি বুঝে যাই যে হয়তো আমিও ভালোবেসে ফেলেছি আয়ুশকে। আমার অজানতেই। তনু কে নিয়ে পরেরদিন ভার্সিটিতে যাই। আর সেদিন আমি ইচ্ছে করেই ক্লাস ফাকি দিয়ে আয়ুশের সাথে দেখা করতে আসি। মাঠে গেতেই আয়ুশকে পাই। আয়ুশ সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে আমাকে দেখে এগিয়ে আসে। আর তার সাথে বাকি যারা ছিলো তারা চলে যায়।

আয়ুশ;; কিছু বলবে মেহরু?

মেহরাম;; যদি বলি ভালোবাসি!

আয়ুশ;; তাহলে আমিও বলবো।

আয়ুশ আমাকে জড়িয়ে ধরে আর আমিও। কখনো কারো সাথে আমি এমন একটা সম্পর্কে জড়িয়ে যাবো তা ভাবি নি। আয়ুশের পাগলামো, বাচ্চামো, কেয়ারিং সব যেন আমার ওপর গভীর ভাবে আঘাত করেছিলো। মাঝেই মাঝেই হাতে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে আয়ুশের আমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। আরো না জানি কতো কি। এভাবেই চলছিলো আমাদের। কিন্তু আমি মাঝে মাঝে অবাক হতাম এই ভেবে যে আমি নিজেই হয়তো আমার এত্তো সিক্রেট জানি না যতো গুলো তনু জানতো আমার বেপারে। কিন্তু এইবার তার ভিন্ন। এইবার আমি তনুকে আমার আর আয়ুশের সম্পর্কের বেপারে কিছুই বলি না। অনেকবার বলার ট্রাইও করেছি কিন্তু পারিনি। আমি ভাবলাম যে কোন একদিন সঠিক সময় বুঝে তনু কে সব খুলে বলবো। আর আয়ুশ আর আমি তো একে ওপর কে অনেক বেশি ভালোবাসতাম। ভালোবেসে ফেলেছিলাম। এভাবেই দিন গড়িয়ে গড়িয়ে কখন যে পুরো ১ টা বছর কেটে গিয়েছিলো বুঝতেই পারিনি। এর মধ্যে আমিও তনুকে কিছু জানানোর সুযোগ পাইনি। আমরা প্রথম বর্ষ থেকে ভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষে উঠি। একদিন ক্লাস শেষে আয়ুশের সাথে বসে ছিলাম। তখন তনুর ফোন আসে, এই টাইমে কখনো অনু আমাকে ফোন করে না কিন্তু আজ করলো। আমি দ্রুত ফোন রিসিভ করি।

মেহরাম;; হ্যালো তনু..

তনু;; মেহরু আমি বাসায় এসে পরেছি, আমার একদম ভালো লাগছিলো না। তোর ক্লাস শেষ হলে প্লিজ তুইও এসে পর।

মেহরাম;; মানে শরীর খারাপ লাগছে নাকি তোর আর তোর গলার আওয়াজ এমন কেন। আচ্ছা রাখ দেখি আমি এখনই আসছি।

আমি দ্রুত ফোন কেটে দেই। আয়ুশকে বলে কয়ে আমি এসে পরি। রিকশা ফুরিয়ে ছুটে চলে যাই। বাসায় গিয়েই দেখি অনু জানালার কাছে বসে আছে। আমি গিয়ে তার কপালে হাত রেখে দেই।
সে মুচকি হেসে বলে…

তনু;; মেহরু আমার কিছু হয়নি।

আমি খেয়াল করে দেখলাম যে তনুর নাক মুখ একদম ফুলে আছে। বেশ বুঝলাম যে এই মেয়ে কান্না করতে করতে একাকার করেছে। আমি কারণ খুঁজে পেলাম না এমন করার। কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবো তার আগেই তনু এসে আমার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পরে। আমি মলিন হেসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম।

মেহরাম;; খারাপ লাগছে কি! বাড়ির কথা আম্মু-চাচির কথা মনে পরছে??

তনু;; না আমার শুধু খুব কষ্ট হচ্ছে। এভাবেই থাকতে দে একটু।

আমার কোলে আমি ভেজা কিছু অনুভব করলাম, বুঝলাম তনু কাদছে। আমিও কিছু বলি না সেভাবেই তনু কে নিয়ে বসে রইলাম।




🖤চলবে~~

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে