তুমি রবে নীরবে পর্ব-০৫

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#তুমি_রবে_নীরবে
#পর্ব_৫
#সাদিয়া_ইসলাম_ইকরা

ঝুম বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে দুই হাত মেলে ধরেছি উপরের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে ভিজে যাচ্ছি।কখন আদিব ভাইয়া পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারিনি।

আড্ডার মাঝে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।আমি বৃষ্টি দেখলে লোভ সামলাতে পারি না।তাই ছাদে চলে এসেছি ভিজতে।ভাইয়া এক পা দু’পা করে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।ভাইয়াকে দেখে গুটিশুটি হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম।ভাইয়া আমার খুব কাছে চলে এসেছে।দুই হাত দিয়ে যত্ন করে আমার মুখটা আস্তে করে চেপে ধরেছে।আমি আদিব ভাইয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি।

–কালকে তো চলে যাবো।দিনে অন্তত একবার আমার খবর নিস!

আমি চোখ সরিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছি।দুইজনই অনবরত বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছি।আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।

–আচ্ছা সত্যি করে বল তো তুই কিছুই বুঝতে পারছিস না?নাকি বুঝতে চাইছিস না?কোনটা?আর কত পুড়াবি আমাকে বলতে পারিস!আমার জন্য তোর হৃদপিন্ডে একটুও কি রক্তক্ষরণ হচ্ছে না?দেখছিস তো আর পারছি না আমি।আর পারছিনা রে হৈমন্তিরা!

এইটুকু বলতেই আদিব ভাইয়ার কন্ঠের স্বর বদলে গেল।ভাইয়ার গলাটা কেমন যেনো বুজে বুজে আসছে।আমি ভাইয়ার চোখের দিকে তাকাতে দেখলাম একফোঁটা দুইফোঁটা করে চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে।

চোখের পানির এই এক জোর।বৃষ্টির পানি আর চোখের পানি আলাদা করে চিনতে হয় না।এই মুহূর্তে প্রতিটা মিনিট প্রতিটা সেকেন্ড বিষাক্ত হয়ে উঠছে আমার কাছে।নীরাবতা কাটিয়ে আমি বললাম

–বাসায় চলো!

আদিব ভাইয়া খুব চেষ্টা করছে চোখের পানি আড়াল করতে।ভালোবাসাটা হয়তো না দেখার ভান করে থাকতে পারি।কিন্তু চোখের পানি!একটা মানুষের কষ্ট!

আমি উপরে উপরে যতটা কঠিন ভিতরে ভিতরে ঠিক ততটাই নরম।আদিব ভাইয়ার ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।আমি আর দাঁড়াতে পারছি না।আমারো যে কষ্ট হচ্ছে।আদিব ভাইয়াকে ছাদে একা রেখে আমি নিজেই ছাদ থেকে নেমে সোজা রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে চুপচাপ বসে আছি।

শুনেছি ছেলেদের চোখের পানি খুব ভয়ানক।মেয়েরা কাঁদলে যত মায়া লাগে ছেলেরা কাঁদলে তার চেয়ে বেশি ভয়ানক লাগে।ছেলেদের মনের আকাশে মেঘ জমলেও চোখে বৃষ্টি ঝরতে নেই।তারা নাকি দীর্ঘশ্বাস দিয়ে কষ্টকে আড়াল করে।বাবাকে কতবার দেখেছি এইভাবে কষ্ট আড়াল করতে।এই জাতটা এমনই।

আমি বড্ড অসহায় এই মুহূর্তে।আবিরকে যে ভালোবেসে ফেলেছি।ছেলেটাও তো আমাকে চোখে হারায়।আমিও তার নাম হৃদপিন্ডে যত্ন করে লিখে ফেলেছি।আমাকে এক পলক দেখার আকুতিতে সেও দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়।আদিব ভাইয়া যদি আবিরের কথা জানে জানি না কি হবে!দুইটা মানুষ বড্ড অবেলায় চলে এলো জীবনে।

কিছুক্ষণ পর তনু এসে ডাকছে।দরজাটা খুলতেই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলছে

–আপু তোর চোখগুলো লাল কেন?আবার বৃষ্টিতে ভিজেছিস?মাথা ব্যথা করছে তাই না?
আমি গরম গরম চা বানিয়ে দেয়?
–হুম!
–মন খারাপ?
–না
–আচ্ছা তুই বস তোর জন্য আর আমার জন্য চা বানিয়ে আনছি।

তনু চা বানাতে চলে গেল।আমি আমার রুমে বসে আছি।হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার রুমের সামনে দিয়ে খালা মায়ের রুমের দিকে যাচ্ছে।আমি ভাবলাম যাই খালার কাছে জিজ্ঞেস করি কালকে কখন যাবে।খালার পিছু পিছু গেলাম।খালা মায়ের রুমে ঢুকতে ঢুকতে মাকে বলছে

–তোর সাথে একটা জরুরি কথা বলতে এসেছি
–কি কথা বুবু।বলো!

আমি ভাবলাম এখন রুমে ঢুকলে হয়তো তাদের কথা বলতে অসুবিধা হবে।যে কথা জানতে এসেছি সেটা পরে জেনে নিব।আমি আবার আমার রুমের দিকে দুয়েক পা বাড়াতে কানে লাগলো

–হৈমন্তিরা তো ইন্টারে পড়ছে।অল্প বয়সের মেয়ে কখন কোনদিকে মন ঘুরে যায় বলা যায় না।ওদের জোড়াটা দিয়ে দিই।কি বলিস?

এইটুকু কথা কানে ভেসে আসতেই আমি দরজার পাশে দাঁড়ালাম।আড়ালে দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনছি।মা বলছে

–আরো পড়ুক।পরে ভাবলে ভালো হয় না?
— পড়ুক না!তাতে কি হয়েছে?আজকাল কলেজে যায়।দিনকালও ভালো না।বাইরের জগৎ কেমন তা তো জানিসই।
–আচ্ছা ওর বাবার সাথে কথা বলে জানাবো।

এইটুকু শুনেই আমি নিজের রুমে চলে আসি।মা আর খালা আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলছে এইটুকু বুঝতে পারছি।এখন কেন বিয়ে? কার সাথেই বা বিয়ে!না এমন কিছু কোনোভাবেই হতে পারে না।সেদিন আদিব ভাইয়া অধিকার,অনুমতি বলতে এই কথা বুঝায়নি তো!না আমার মাথায় কিছুই আসছে না।

আদিব ভাইয়া যদিও এখনো পড়ালেখা করছে।কিন্তু তার বাবার বিশাল ব্যাবসা।আদিব ভাইয়ারা এক কথায় জমিদারের ছেলে।তাই বাইরে চাকরির কোনো প্রয়োজন পড়ে না।লেখাপড়া করে ঠিকই কিন্তু বাবার ব্যাবসাটাই দেখে।ভাইয়ার বড় ভাইটাও পড়ালেখা করেছে কিন্তু বাইরে চাকরি করেনি।

হিসাবটা গরমিল লাগছে।কোনো ভাবে মিলছেনা।আদিব ভাইয়া তাহলে কি জানে যে তার সাথে আমার বিয়ের ব্যাপারে কথা হচ্ছে? জানতেও পারে কারণ সেদিনের আড্ডায় ভালোবাসার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ছোট বেলার কথা বলেছিল।এখনো মনে আছে আমার।যদি জেনেও থাকে তাহলে বার বার আমার মনোযোগ পেতে চেয়েছে কেন?এইটা তো সে নাও করতে পারত।কিছুই মাথায় আসছেনা।আদিব ভাইয়া এখন আমার কাছে পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ!

চলবে…)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

Related Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...

আঁধার পর্ব-১২

আঁধার ১২. " রান্না ভালো হয়নি? " প্রশ্নটা না করে পারলাম না। " হ্যাঁ, ভালো হয়েছে। আমি নিজেও এতো ভালো রান্না করতে পারিনা। বিয়ের...

আঁধার পর্ব- ১১

আঁধার ১১. " তুমি ঠিক এভাবে নিয়ম করে হাসলে আমি তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবো। " মুখ ফসকে কথাটা টুক করে বের হয়ে গেল। সাথে...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Articles

আঁধার পর্ব-১৩ | ১৮+ এলার্ট

0
আঁধার ১৩. ( ১৮+ এলার্ট ) ঘুটঘুটে অন্ধকারে পড়ে আছি আমি। অন্ধকারের ঘনত্ব এতো বেশি হতে পারে জানা ছিলো না আমার। এতো অন্ধকারে চোখ...
error: ©গল্পপোকা ডট কম