তুমিময় পর্ব : ৫

0
1002
তুমিময় পর্ব : ৫ গল্পবিলাসী – Nishe .মেঘ : কোথাও একবার পড়েছিলাম মেয়েরা ভালোবাসার কাঙাল হয়। ওরা ভালোবাসা পেলে আর কিছুই চাইনা। রুহি খুব মিশুক ছিলো খুব কম সময়ের মধ্যেই আমাকে আপন করে নেয় ।তাই নিজেকে একটু স্বার্থপর তৈরি করে নিলাম। রুহিকে ভালোবাসতে শুরু করলাম। তার কেয়ার নেয়া। ওকে সব বই কিনে দিয়েছিলাম এক সপ্তাহের জন্য। ওর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলাম। খুব করে চাইতাম এই মেয়েটাই আমার রাজ্যের রাণী হয়ে থাকুক। আমি রোজার মাস ছাড়া কখনো তাহাজ্জুদ নামায আদায় করেছি কিনা আমার মনে নেই। কিন্তু বিয়ের পরদিন থেকে প্রতিদিন পরতাম। আর রুহিকে চাইতাম। আল্লাহর কাছে প্রতি নামাজে চেয়ে এসেছি।রুহির মনে যেনো আমার ভালোবাসার একটা বীজ বপন করে দেয়। তাই ই হলো রুহিও আমাকে ভালোবাসতে শুরু করলো। যেদিন সে বাসায় যাবে সেদিন খুব কান্না করেছিলো বলেছিলো হারাতে দিওনা আমায়। খুব করে সেদিন চেয়েছিলাম আটকে রাখতে। কিন্তু আমি যে কথা দিয়েছিলাম ফিরিয়ে দিবো তাই দিতে হয়েছিলো।পুলিশ অফিসার মহিনের মাধ্যমেই তাকে পাঠিয়েছিলাম। কারন ওনি নিজে ব্যাপারটা হেন্ডেল করার দায়িত্ব নিলেন। আর আমাকে তার উপর ভরশা রাখতে বলেছিলো বাসায় যখন ফিরে যায় তখন ওর বাবা মা ভাই তিনজনই প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলো। রুহিকে পেয়ে যেনো চাঁদ হাতে পেয়েছে তাকে জড়িয়ে সেকি কান্না জুড়ে দিলো সবাই। যখন পরিবেশ শান্ত হলো তখন মহিন ভাইয়া কে জানালো ওনারা টিভিতে, পত্রিকায় নিউজ দিয়েছে থানায় জানিয়েছে কিন্তু কোনো খবর পায়নি। মহিন ভাই ওনাদের শুরু থেকে সবটা জানিয়েছে শুধু বিয়ের ব্যাপারটা স্কিপ করে গেছে। এবং এটাও বলেছিলো এতোদিন ওনার নিজের বাসায় ই ছিলো। আর মহিন ভাইয়া নাকি রুহির বাবার পরিচিতো ছিলো কিন্তু রুহি তার মেয়ে জানতো না। মহিন ভাইয়া নাকি বলেছিলো মেয়েটা অচেতন অবস্থায় ছিলো দুইদিন হলো সে স্বাভাবিক হয়েছে আর আজকেই ঠিকানা বলছে তাই নিয়ে এসেছে। তাই আর তেমন কোনো গন্ডগোল হয়নি।এরপর মাঝেমধ্যে রুহির সাথে দেখা হতো। মোবাইলে কথা হতো।খুব কেয়ার করতো আমার। এইভাবে করবে না ওভাবে করবেনা। প্রতিদিন এইটা বলতো বাসার সবাই কেমন আছে? কথা হয়েছে কিনা আমিও মেয়েটার কেয়ার নিতাম খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলাম মেয়েটাকে। অভ্যাস হয়ে গিয়েছিলো। আমি যেভাবে বলতাম ঠিক এইভাবেই চলতে শুরু করলো।রুহি আমাকে ভালোবাসে কিনা তা পরিক্ষা করার জন্য পুরো পনেরো দিন কোনো যোগাযোগ রাখিনি। আড়াল থেকে দেখে দিয়েছিলাম প্রথম একসপ্তাহ দেখেছিলাম তার পর থেকে দুইদিন দেখতে পাইনি ওর ফ্রেন্ডের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো ওকে জিজ্ঞাসা করতেই বললো অসুস্থ জ্বর বাধিয়েছে। তারপর তখনি আমি রুহিকে ফোন দেই ফোনটা রিসিভ করে সেই কি কান্না কোনো কথাই বলছিলো না কিছুক্ষন পর কলটা কেটে দিলো বারবার কল দিচ্ছিলাম আর বারবার ই কেটে দিতো। অনেক কষ্ট করে রাগ ভাঙিয়েছিলাম। সেবার সুস্থ হতে খুব দেরী হয়েছিলো প্রায় একমাস পর রুহিকে দেখতে পেয়েছিলাম। সেদিন কথা দিয়েছিলাম কখনো ছেড়ে যাবোনা।ও সাইন্সের স্টুডেন্ট ছিলো আর আমিও। তাই কলেজে ক্লাসের পর যখন প্রাইভেট ছিলো আমি সব বন্ধ করে দেই আমার অফিসে নিয়ে সেই সময়টাতে আমি নিজে তাকে পড়িয়েছি। এখন কিছুদিন আগেই সে পরিক্ষা দিয়েছে আশাকরি রেজাল্ট খুব ভালোহবে। বাকি রইলো বয়স। আমার বয়স নিয়ে রুহির কোনো প্রবলেম ছিলোনা আমি বয়সের কথা বলাতে কি বলেছিলো জানো? সুন্দর সংসার সাজাতে হলে বড়ই দরকার কারন সে যখন ভূল করবে তখন আমি শোধরে দিবো। তাই সে এগুলো নিয়ে ভাবেনা। কথাগুলো বলেই মেঘ থামলো সবাই চেয়ে আছে আলতাফ চৌধুরী ও চুপ করে আছেন মেঘ : আমি জানি তোমরা কি বলবে কেনো না জানিয়ে এটা করলাম আমি তোমাদের জানাতাম ভেবেছিলাম রুহির অনার্সে এডমিশন নেয়ার পরই জানাবো। কিন্তু তোমরা বিয়ের কথা বললে তাই আর লুকাতে পারিনি আজ নয়তো কাল একদিন তো বলতেই হতো নাহয় আজই বললাম। মেঘ বাবার পায়ের কাছে গিয়ে বসে পরলো -বাবা জীবনে কোনো কিছু চাইনি। তুমি যেভাবে বঅলবলেছো সেভাবে সব করেছি। তোমার কাছে আজ চাইছি আমি রুহিকে নিয়ে থাকতে চাই ওকে ছাড়া আমি অন্য কাওকে নিয়ে ভাবতে পারবোনা। আর আমি ওকে ছেড়ে দিবো এইটা শুনলে ঠিক সুইসাইড করবে মরে যাবে মেয়েটা বাঁচবেনা রুহি। আলতাফ চৌধুরী কিছু না বলেই চলে গেলো। সবাই খুব খুশি। মেঘ বিয়ে করে নিয়েছে মেঘের মোবাইল থেকে রুহির ছবি দেখালো সবার খুব পছন্দ হয়েছে। রাতে খাবার টেবিলে আর কোনো কথা হয়নি আলতাফ চৌধুরী ও কিছু বলেনি। খাবার শেষ করে রুমে এলো মেঘ। বাবার সিদ্ধান্তটা ঠিক কি হবে তাই ভাবছে। যদি আলাদা করার সিদ্ধান্তটাই বেছে নেয় তাহলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে এইসব ভেবেই খুব ভয় পাচ্ছে মেঘ।রাত প্রায় বারোটা। আলতাফ চৌধুরী নিজের রুমে বসে বসে ভাবছে মেয়েটার কথা। মেঘের কথানুযায়ী মেয়েটা সত্যিই ভালো। আজকালকার মেয়েরা তো বিয়ের সময় বয়সটা নিয়েই গ্যাজগ্যাজ শুরু করে আর এই মেয়ের নাকি এতো ডিফারেন্স কোনো ফ্যাক্ট ই না। একবার খবর নিয়ে দেখলে কেমন হয়? রুহি : সন্ধ্যা থেকে অনবরত মেঘকে কল করে যাচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছেনা তাই কিছু টেক্সট করলো কোনো রিপ্লাই পেলোনা। কতোক্ষন নেটে ঘাটাঘাটি করে আবারো মেঘকে কল দিলো এমনতো কখনো হয়নি তখনো তারাতাড়ি বেড়িয়েছিলো কিছু হয়নিতো? এইসব হাজারো চিন্তা মাথায় ঘুরঘুর করছে।তাছাড়া বাবাকে আজকে তার অন্যরকম লাগছে কিছু একটা গন্ডগোল আছে তা মেঘকে জানাতেই হবে কিন্তু সেতো মোবাইলটাই ধরছেনা বাবা কিছু না বলাতে মেঘ কিছুটা ভয়ে আছে বাবা এইটাইপ বিয়ে কোনোদিন পছন্দ করবে বলে মনে হয়না। ওয়াশরুম থেকে এসে শুয়ে আছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে অনেকগুলো কল আর মেসেজ এসেছে। সব গুলাই সুইটহার্ট নামটা থেকে। আবারো কল এলো।রিসিভ করে চুপ করে আছে মেঘ রুহি : হ্যালো? মেঘ : হুম বলো রুহি : কি করছো? কখন থেকে কল দিচ্ছিলাম। আর ইউ ওকে? মেঘ :আমি ঠিক আছি পরে কথা বলবো রুহি : একটু কথা রুহিকে থামিয়ে দিয়ে মেঘ রেগে বলে উঠলো মেঘ : কি হইছে? বলছিনা রাখতে একদম কল দিবেনা বলেই কলটা কেটে দিলো মনের অজান্তেই চোখগুলো ভিজে উঠলো মেঘ তো কখনো এভাবে কথা বলেনা তাহলে আজকে? কলটা কেটে দিয়ে শুয়ে রইলো মেঘ রুহির উপরে কেনো রাগ দেখাচ্ছে। এখানেতো রুহির কোনো দোষ নেই। সে নিজেইতো বলেছিলো সব নিজে সামলে নিবে। এখন নিশ্চয়ই কাঁদবে মেয়েটা। তারাতাড়ি কল দিলো কিন্তু রিসিভ হয়নি পরপর কয়েকবার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি রুহি রিসিভ করেনি।রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো রুহি মেঘ অনবরত কল দিয়েই যাচ্ছে রাগ হচ্ছে খুব কিন্তু কার উপর বুঝতেই পারছেনা নিজের উপর না রুহির উপর।প্রায় দুইটা সময় রুহির ঘুম ভাঙলো মোবাইলটা জ্বলে উঠেছে। ঘুমঘুম চোখে নামটা না দেখেই রিসিভ করলো -হ্যালো মেঘ : ইচ্ছে ছিলো রিসিভ হলেই একগাদা কথা শুনাবে কিন্তু রুহির ঘুমঘুম ভয়েসটা শুনে রাগটাই ওড়ে গেলো। মেঘ : সুইটহার্ট! মেঘের কথা শুনে ঘুম হাওয়া রুহি : আমি কারো কেউ না। কেউ আমাকে ভালোবাসেনা। মেঘ : ( মেঘ জানে তার অভিমানীর অভিমান হয়েছে। খুব অল্পতেই কান্না করে ভাসিয়ে ফেলে নিজেকে। মেঘের ও খুব ভালোলাগে রুহির অভিমান গুলো ভাঙাতে। খুব অল্পতেই যেমন অভিমান আবার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অভিমানের পাহাড় কেটে যায়।) কার এতো বড় সাহস আমার জানকে ভালোবাসেনা? বলো নামটা বলো রুহি : তুমি। একটুও ভালোবাসোনা আমাকে। আমাকে একটুও আদর করোনা খুব পচা তুমি মেঘ : আচ্ছা? তাহলে দূরে দূরে পালিয়ে কেনো বেড়ান মহারানী? রুহি : বারে আমার বুঝি লজ্জা লাগেনা মেঘ : ওরে আমার লজ্জাবতীরে। তা এখন কি করছে আমার লজ্জাবতী রুহি : ঘুমিয়েছিলাম তো মেঘ : আমাকে শুভ রাত্রি না জানিয়েই রুহি : কতগুলো কল দিলাম টেক্সট দিলাম কোনো রেসপন্স নাই আর যখন রিসিভ করলে একগাদা কথা শুনিয়ে দিলে আমার বুঝি কষ্ট হয়নি মেঘ : সরি বাবু আর কখনো হবেনা। খেয়েছিলে? নাকি হরতাল ডেকেছো? রুহি : তোমার জন্যই তো মেঘ : এখন খাবে যাও আমি একটু ঘুমাবো কাল আবার অফিস আছে গুড নাইট রুহি : এখনতো রেখেই দিবে। যাও ভাগো। গুড নাইট।মেঘ হাসছে মেঘ : আগামীকাল একবারে আদর করে সব অভিমান ভেঙে দিবো কেমন! এখন ঘুমাওবেলা প্রায় এগারোটায় রুহির ঘুম ভাঙলো। আজ এতো দেরী হয়ে গেলো ধুর কোচিং এ আর যাওয়াই হলোনা। হঠাৎ ড্রইংরুম থেকে খুব জোড়ে হাসির আওয়াজ বেড়িয়ে এলো। চুলগুলো কাঠি দিয়ে বেধেই উকি দিলো ড্রইংরুমে। অনেক মানুষ। কিন্তু কারা এরা? আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো ওদের কোথায় যেনো দেখেছি কিন্তু কোথায় এই মূহুর্তে মনে করতে পারছিনা অনেক চেষ্টার পরেও রেজাল্ট জিরো। কিছুতেই মনে করতেই পারছেনা।রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে আম্মুর কাছে গেলাম। আম্মু : কি রে ঘুম শেষ হলো? আমি : হুম। আব্বু বাসায় নেই? আম্মু : আছেতো। ওইযে গেস্ট দের সাথে কথা বলছে রুহি : কে ওরা? আম্মু : নে ধর ( বলেই হাতে ট্রে ধরিয়ে দিলো) চল গেলেই দেখতে পাবি। রুহি : ওকে চলো। আম্মু সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো । চলবে


( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???
https://www.facebook.com/nishe.ratri.9809

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here