জোরপূর্বক ভালোবাসা পর্বঃ ১৩

0
1275

জোরপূর্বক ভালোবাসা পর্বঃ ১৩
– আবির খান

পরেরদিন সকালে…
আজ তমা আর আবিরের কাছে সকালটা খুবই সুন্দর আর অন্যরকম…ভোরের আলোয় যেমন রুমটা আলোকিত ঠিক তেমনিই ওদের জীবনটাও আজ ভালোবাসায় আলোকিত…কারণ আজ আর তাদের মাঝে কোন রাগ,অভিমান,দুঃখ,কষ্ট নেই..নেই কোন মনের দুরত্ব… আছে শুধু সীমাহীন ভালোবাসা…একে অপরের প্রতি সম্মান আর শ্রদ্ধা…
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/


তমা আবিরের পাশে বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে…
আবিরঃ তমা…
তমাঃ হুম বলুন…
আবিরঃ কেমন আছো??
তমাঃ আপনার কাছে কি খারাপ থাকতে পারি…অনেক বেশি ভালো আছি..
আবিরঃ একটা কথা বলবো??
তমাঃ একটা কেন হাজারটা বলুন..আপনার এই কথা শুনেই বাকি জীবনটা পার করতে চাই..বলুন না..
আবিরঃ অনেক ভালোবাসি যে তোমায়…
তমাঃ আমিও…আচ্ছা আমি একটা কথা বলি??
আবিরঃ হুম বলো..
তমাঃ কাল যদি আমার কিছু হয়ে যায় আপনিকি অনেক কষ্ট পাবেন??

তমার কথা শুনে আবিরের ভিতরটা এক অজানা ভয়ে কেপে উঠে…

আবিরঃ এসব কি বলছো তুমি!! তোমাকে আমি কোনদিনও হারাতে দিবো না..তোমার কিছুই হবে না..আমি থাকতে তোমার কিছুই হতে দিবো না…তমাকে শক্ত করে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে বলল…
তমাঃ তাও যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে??
আবিরঃ তাহলে যে আমি শেষ হয়ে যাবো…আল্লাহ যেনো তোমার কিছু হওয়ার আগে আমাকে নিয়ে যান…কারণ তোমাকে ছাড়া আমি একমুহূর্তও থাকতে পারবো না…তোমাকে হারিয়ে তোমার বেদনায় পুরে পুরে মরার চেয়ে আগেই চলে যাওয়া ভালো…
তমাঃ এতোটা ভালোবাসেন আমায়??
আবিরঃ হুম…কিন্তু তুমি হঠাৎ এসব কেনো বলছো??
তমাঃ জানি না..মনে হলো তাই…
আবিরঃ আর কোনদিন এসব বলবে না…তুমি শুধু আমার… তোমাকে ছাড়া একমুহূর্তও না…অসহায় জড়িত কণ্ঠে…
তমাঃ ওহ কেন যে এসব বলতে গেলাম..এতো সুন্দর সকালটা শুধু শুধু নষ্ট করছি..
আবিরঃ হুম..শুনো আরেকটা কথা বলার ছিলো…
তমাঃ বলুন…
আবিরঃ আচ্ছা তোমার মনে কি এই প্রশ্ন জাগেনি আমি কেন তোমাকে আপন করে নেই নি??
তমাঃ হুম জেগেছেতো..বলুন না কেন??
আবিরঃ কারণ আমাদের বিয়েটা আমাদের বাবামায়কে ছাড়া হয়েছে তাই আমাদের আবার বিয়ে হবে…আমরা এবার আমাদের বাবা মার সামনে তাদেরকে নিয়ে একসাথে আবার বিয়ে করবো…সাথে শুভ আর তিশাও…
তমাঃ আমাদেরতো একবার বিয়ে হয়েছে… তাহলে আবার কেন??
আবিরঃ কারণ আমি চাইনা আমাদের সুন্দর সংসারটা আমদের বাবা মার দোয়া ছাড়া শুরু হোক.. তারা আমাদের এতো কষ্ট করে বড় করেছেন…এতো আলিসান জীবন দিয়েছেন… তাদের কি এই অধিকারটুকু নেই আমাদের বিয়ে দেওয়ার…
তমাঃ আসলেই আপনি ঠিক বলেছেন…আপনি এতো ভালো কেনো…
আবিরঃ তাহলে বুঝলেতো তোমাকে কেন ওইদিন সরিয়ে দিয়েছিলাম…কিন্তু তুমি মাঝ রাতে যা করলে…
তমা লাফ দিয়ে উঠে বসলো আর বলে…
তমাঃ আপনি সজাগ ছিলেন??
আবিরঃ জ্বি…

তমাতো পুরো লজ্জায় অবস্থা খারাপ…আবির তমার অবস্থা দেখে হাসছে…

আবিরঃ হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবেনা… আমার লজ্জাবতী পরী…
তমা আবার আবিরের বুকে মুখ লুকালো…

আবিরঃ এখন উঠেন ম্যাম…একটা গুড নিউজ আছে…
তমা মাথা তুলে…
তমাঃ কি???
আবিরঃ বাবা মা আর আমার ছোট ভাই আসছে আজকে আমেরিকা থেকে…
তমাঃ কিহ….এই কথা আপনি আমাকে এখন বলেন..বাসার অবস্থা দেখেছেন??আমি তাদের নতুন বউ..তারা এসে যদি এমন অগুছলো বাসা দেখে তাহলে তারা কি মনে করবে বলুনতো…
আবিরঃ আচ্ছা বাবা সরি..তাহলে চলো একসাথে আমাদের বাসাটা সাজাই ভালোবাসা দিয়ে…
তমাঃ হুম চলুন…

আবির আর তমা একসাথে কাজ করছে…
তমাঃ টুলটা একটু ধরুনতো উপরটা একটু পরিষ্কার করি…
আবিরঃ আচ্ছা…

তমা পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ নিজের ভারসাম্য না রেখতে পেরে টুল থেকে পরে যায়…আর ঠিক তখনি আবির তমাকে কোলে করে ধরে ফেলে…

আবিরঃ এইযে ভীতু চোখ খুলুন…
তমা চোখ খুলে দেখে সে আবিরের কোলে…
তমাঃ ওহ আমিতো বুঝেছিলাম, আমি আজ শেষ..
আবিরঃ বলেছিলাম নাহ তোমার কিছুই হতে দিবো না.. দেখেছো..
তমাঃ হুম…এভাবেই সবসময় আমাকে বাচাবেন…কিছু হতে দিবেন নাহ…
আবিরঃ আচ্ছা পাগলি…

এরপর তমা আর আবির মিলে খুব সুন্দর করে তাদের ভালোবাসার ঘরটা সাজালো…খুব সুন্দর লাগছে আজ আবিরের বাসাটা… মনে হচ্ছে নতুন করে বানানো হয়েছে….

বিকেল ৪টা…
তমা অধির আগ্রহে পায়চারী করছে একা…আবির তার পরিবারকে আনতে গিয়েছে এয়ারপোর্টে…

একটু পরের কলিংবেল বেজে উঠলো…তমা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল…তমা দেখে আবির সহ তার বাবা,মা আর ছোট ভাই দাঁড়িয়ে আছে..তমা প্রথমেই আবিরের বাবা মাকে সালাম করলো…

আবিরের মাঃ আরে আরে মা কি করছো…তোমার জায়গা ওখানে এখানে…

তমাকে আবিরের মা মানে শ্বাশুড়ি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো…আর মাথায় আদর করে দিলো…

বাবাঃ আরে আগে ভিতরে চলো..তারপর সব হবে নে…
কনকঃ হ্যা ড্যাড ঠিক বলেছে…(আবিরের ছোট ভাই)
তমাঃ জ্বি আসুন বাবা মা…
আবিরের পুরো পরিবার বাসার ভিতরে ঢুকলো…তারাতো সবাই অবাক…

মাঃ ওরে বাবা…বাসাতো পুরো চকচক করছে রে..মনে হচ্ছে নতুন বাসায় এসেছি..
তমাঃ আসল…তমাকে কিছু বলতে না দিয়েই আবির বলল..
আবিরঃ তোমাদের বউ মা তোমাদের জন্য সাজিয়েছে…
বাবাঃ কি বলিস…তমা মা তুমিতো আসলেই পাকা গৃহিনী..বাহ খুব খুশি হয়েছি…আসলেই বলতে হবে আমার ছেলের চয়েস আছে বটে..
কনকঃ হুম ড্যাড…ভাবি কিন্তু সুন্দরীও…

তমা অনেক লজ্জা পাচ্ছে..মুখটা লাল হয়ে গিয়েছে…
মাঃ এই তোমরা থামোতো..দেখেছো মেয়েটা আমার লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে…
তমাঃ মা-বাবা আর কনক ভাই আপনারা ফ্রেশ হয়ে আসুন… আমি খাবার দিচ্ছি..
মাঃ আহ মা..তোর মুখে মা ডাকটা শুনে প্রানটা ভরে গেলো…
আবিরঃ কেন আমি ডাকলে বুঝি ভরে না..
বাবাঃ দেখছো তোমার ছেলে আমার জেলাস ফিল করে…
এরপর সবাই ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিতে চলে গেলো…

আবির আর তমা তাদের রুমে একসাথে শুয়ে আছে আর কথা বলছে..

তমাঃ জানেন, আমি আসলেই অনেক ভাগ্যবতী…
আবিরঃ কেনো??
তমাঃ এতো ভালো শ্বশুর আর শ্বাশুড়ি পেয়েছি..তারা অনেক ফ্রী আমার সাথে…মনে হয় আমাকে অনেকদিন আগে থেকেই চিনে…খুব ভালো আপনার বাবা মা..
আবিরঃ হুম আমার বাবা-মা এমনই..সবাইকে খুব তারাতাড়ি আপন করে ফেলে…
তমাঃ সত্যিই আপনার পরিবারের একটা অংশ হয়ে আমি ধন্য…
আবিরঃ তাই নাকি আচ্ছা তাহলেতো তোমাকে কিছু দিতে হয়..
তমাঃ কি দিবেন??লজ্জাযুক্ত কণ্ঠে..
আবিরঃ ওরে আমার লজ্জাবতীরে…শুনো কাল তোমাকে এক জায়গায় নিয়ে যাবো…যেখানে জাওয়ার জন্য তোমার মন কাদে…
তমাঃ কোথায়??
আবিরঃ বলবো না…
তমাঃ প্লিজ প্লিজ প্লিজ বলেন নাহ..
তমা অনেক রিকয়েস্ট করার পর…
আবিরঃ আচ্ছা বাবা বলছি…কাল তোমাকে তোমার বাসায় দিয়া আসবো..এখন থেকে সেখানেই তুমি থাকবে…

আবিরের কথা শুনে তমার মুখটা সাথে সাথে কালো হয়ে গেলো…আবিরের সামনে বসে মন খারাপ করে তমা বলছে…

তমাঃ আমি কোন ভুল করেছি???
আবির তমার অবস্থা বুঝে ওর সাথে একটু মজা করবে বলে ঠিক করলো..

আবিরঃ হুম…গম্ভীর কণ্ঠে…
তমাঃ কি ভুল করেছি আমি??কাদো কণ্ঠে..
আবিরঃ তোমাকে বাবা-মার পছন্দ হয়নি..তারা তোমাকে আমার বউ হিসেবে দেখতে চায় না..

তমা সাথে সাথে কেদে দিলো…সেকি কান্নারে বাবা…আবিরের কথাই শুনছে না…শুধু কেদেই যাচ্ছে..তাই আবির ওকে ধমক দিলো…

আবিরঃ চুপ একদম চুপ… বোকা মেয়ে.. এভাবে কেউ কাদে…আমিতো মজা করছিলাম..
তমাঃ কি মজা…তাহলেতো আমি আর যাচ্ছি না তাই না??..খুশি হয়ে বলল..
আবিরঃ নাহ তোমাকে যেতে হবে..
তমাঃ কেনো??আবার কাদবে কাদবে ভাব..
আবিরঃ আরে তুমি কেমন মেয়ে নিজের বাবা মার কাছে যেতে চাওনা…
তমাঃ যাবো তবে আপনাকে সাথে নিয়ে একা যাবো না…বিয়ের পর যে বউকে একা রাখতে নেই…আপনি জানেন নাহ??
আবিরঃ ওরে বাবারে…তুমি দেখি সব জানো..বাহ বাহ..কিন্তু তমা তোমাকেতো যেয়েই হবে..
তমাঃ আরে কেনো তাতো বলেন…
আবিরঃ আরে আরে রাগ করো না বলছি বলছি..
তমাঃ হুম..
আবিরঃ আমার মা বলেছে তোমাকে তোমার বাসায় রেখে আসতে…যাতে নতুন করে বিয়ের সব অনুষ্ঠান ধুমধামে করে আমাদের বিয়ে আবার দিয়ে তোমাকে একে বারের জন্য আমাদের বাসায় আনতে পারে…
তমাঃ তাই বলেন…আর এতোক্ষন শুধু শুধু আমাকে জ্বালালেন..
আবিরঃ তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো তাই না??
তমাঃ অনেক না সীমাহীন ভালোবাসি আপনাকে…

আবির তমার কথা শুনে আবির ওর কপালে একটা ভালোবাসার পরশ দিয়ে বুকের মাঝে জরিয়ে নেয়…
এরপর ওরা ঘুমিয়ে পরে..

পরের দিন সকালে…
আবিরের মাঃ তমা মা তুমি তোমার বাবা মাকে আমাদের সালাম দিও…আর আমরা সবাই কাল আসবো তোমার বাসায়..তোমার বাবা মার সাথে কথা বলে সব ফাইনাল করে ফেলবো.. ছেলে আমার পাগল হয়ে আছে…হাহা…
তমাঃ জ্বি মা বলবো… আপনি নিজের খেয়াল রেখেন..
মাঃ দেখছিস মা তোর দেবর আর শ্বশুর এখনো ঘুমাচ্ছে বললাম মেয়েটা চলে যাচ্ছে কিন্তু তারা এতো ঘুমের পাগল যে আমার কথাই শুনে না..
তমাঃ সমস্যা নে মা…
মাঃ আচ্ছা..আবির তাহলে ওকে দিয়া আস..
আবিরঃ আচ্ছা মা তাহলে যাই আমি..
মাঃ সাবধানে যাস..হঠাৎ মনটা কেমন জানি করছে..
আবিরঃ হয়তো ক্লান্ত তাই এরকম ফিল হচ্ছে..
মাঃ হুম হয়তো.. তাও সাবধানে যাস…

আবির তমাকে নিয়ে বাসার বাইরে বাইকের কাছে আসে…আবির দেখে তমার মন অনেক খারাপ..

আবিরঃ কি হলো মন খারাপ কেনো আমার পরীটার??
তমাঃ আপনাকে ছেড়ে এতোদিন কিভাবে থাকবো??
আবিরঃ বোকা মেয়ে..ফোনে কথা হবে সবসময়..আর ভিডিও কলতো আছেই…
তমাঃ হুম..জানেন আজ কেন যেনো যেতে ইচ্ছে করছে না কাল যাই???
আবিরঃ পাগলি মেয়ে উঠতো..

তমা আবিরের পিছনে মন খারাপ করে উঠলো.. মনটা কেমন জানি লাগছে তমার…
আবিরঃ এইরে হেলমেটটা আনতে ভুলে গেসি..
তমাঃ আমি গিয়ে নিয়ে আসি??
আবিরঃ আরে থাক হেলমেট লাগবে না..আমি ভালো বাইক চালায়..সমস্যা নেই…
তমাঃ আচ্ছা..চলুন তাহলে…

আবির বাইক চালাচ্ছে আর কথা বলছে তমার সাথে..হঠাৎই আবির একটু অন্যমনস্ক হয়ে পরায় সামনে মোড় নিতে গিয়ে খুব স্পিডে আসা একটা প্রাইভেট গাড়ি ওদেরকে ধাক্কা দেয়…আবির চালক থাকায় ও বাইকের সাথে আটকে যায় আর পরে হাত পায়ের ছাল উঠে যায়…কিন্তু তমা ধাক্কা খেয়ে ছিটকে গিয়ে আইল্যান্ডে সাথে মাথায় বারি খায়…আর সাথে সাথেই তমার মাথা ফেটে অঝোরে রক্ত পরতে থাকে..তমা অলরেডি অজ্ঞান হয়ে পরেছে…আবির তার আঘাত প্রাপ্ত শরীর নিয়েও অনেক কষ্টে তমাকে ঢাকার সবচেয়ে বড় হাসপাতালে নিয়ে যায়…

আবির এক্সিডেন্ট এর চেয়ে তমার অবস্থা দেখে ওর অবস্থা খুব খারাপ…কাদতে কাদতে পাগল হয়ে যাচ্ছে…কারণ ওর জন্যই তমার আজ এই অবস্থা… তমাও আজ যেতে চাচ্ছিলো না…তাও আবির জোর করে নিয়ে এসেছে..

মাকে ফোন দেয়….
আবিরঃ মা…অনেক জোরে কাদতে কাদতে…
মাঃ আবির কি হয়েছে এভাবে কাদছিস কেন??বল কি হয়েছে??
আবিরঃ মা তমা…কান্নার কারনে কথাই বলতে পারছেনা…
মাঃ কি হয়েছে তমার??
আবিরঃ মা ওর অবস্থা খারাপ তারাতাড়ি বাবা আর সবাইকে নিয়ে তারাতারি এই…..হাসপাতালে এসে পরো..বলেই আবির ফোন কেটে দেয়…তমাকে ইমারজেন্সি আইসিইউতে ঢুকানো হয়েছে…ওর চিকিৎসা চলছে…আধা ঘন্টার মধ্যে তমার বাবা মা সহ সবাই হাসপাতালে চলে আসে…

তমার মা তমার অবস্থা দেখে সাথে সাথেই সেখানে অজ্ঞান হয়ে পরে…তাকে একটা কেবিনে রাখা হয়েছে… তমার বাবাও কাদতে কাদতে শেষ.. আবিরকে ৩/৪ টা চরও মেরেছে…মারবেই না কেনো সবাইকে নিজেই বলছে তমার এই অবস্থার একমাত্র কারণ ও নিজে…ওর কারণেই আজ তমা মৃত্যুপথযাত্রী…

দীর্ঘ টানা ৮ ঘন্টা ধরে তমার চিকিৎসা চলছে..তমার মাথায় আঘাত পাওয়া তার ব্রেনে প্রচুর রক্তক্ষরন হয়েছে…কিন্তু কোনভাবেই তা বন্ধ করা যাচ্ছে না..মাঝে ডাক্তার একবার বের হয়েছিলো বলেছে, রোগীর অবস্থা বেশি ভালো না…৪ ব্যাগ রক্ত অলরেডি দিয়েছে আরো দিচ্ছে…কিন্তু রোগীর কোন উন্নতি হচ্ছে না বরং আরো অবনতি হচ্ছে…

আবির ডাক্তারকে বলে…
ডাক্তারঃ দয়া করে আমার তমাকে বাচান.. ওর অনেক স্বপ্ন বাকি আমার সাথে…ওর কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে কখনোই মাফ করতে পারবো না..আপনার যত টাকা লাগে নিন শুধু আমার তমাকে ভালো করে দিন…ওকে ছাড়া আমি শেষ হয়ে যাবো…

আবিরের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে… কতটা ভালোবাসে তমাকে.. তার প্রমাণ পাচ্ছে সবাই…

ডাক্তারঃ আপনি শান্ত হোন.. আপনার অবস্থাওতো খারাপ.. আগে নিজে ড্রেসিং করে আসুন…
আবিরকে অনেক জোর করে ব্যান্ডেজ করানো হয়..কিন্তু সময় যত যাচ্ছে আবির ততই কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে…

১০ ঘন্টা পর ডাক্তাররা আইসিইউ থেকে বের হলেন…
তমার বাবাঃ ডাক্তার এখন আমার মেয়ের কি অবস্থা??
ডাক্তারঃ দেখুন আপনারা শক্ত হোন..আমাদের যা করার আমরা তা করেছি..এখন বাচা-মরা সম্পুর্ন আল্লাহর হাতে..আমরা অনেক চেস্টা করেছি…তবে রোগীর অবস্থা খুব খারাপ..সত্যি বলতে তার এখন বাচার সম্ভাবনা খুবই কম…এধরণের কেইসে খুব কম রোগীই বাচে..এখন বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা..আগামী ৪ ঘন্টায় যদি রোগী ইম্প্রুভ না করে তবে আর তাকে কোনভাবেই বাচানো সম্ভব নয়…

আবির ডাক্তারের কথা শুনে, তার পুরো পৃথিবীটা যেন ঘোর কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায়…আবির নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনা…ঠাস করে পরে যায়…
চলবে….?

কি হবে তমার??বাঁচবে নাকি এখানেই শেষ হয়ে যাবে তাদের অসম্পূর্ণ ভালোবাসার গল্প??হয়তো কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা পায়না না…রয়ে যায় অসম্পূর্ণ…

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here