Home "ধারাবাহিক গল্প" জলচক্ষু পর্ব :- ০৪

জলচক্ষু পর্ব :- ০৪

গল্প :- জলচক্ষু
পর্ব :- ০৪
লেখক :- অনন্য শফিক
.
.
.
-:”জানি না মিতু কীভাবে কী করলো! সকাল বেলা হঠাৎ ঘুম থেকে ডেকে তুললো সে আমায়। তারপর বললো,’হাত মুখ ধুয়ে খেতে আয়।’
আমি কোন কথা বললাম না। বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এলাম। তারপর খেতে বসে দু’ নলা ভাত মুখে দিতেই বমির উদ্রেক। তারপর হড়হড় করে সেই বমি। এই যে মাতৃত্বকালীন সময়ে একজন নারীর কষ্ট, এই কষ্ট যদি কোন পুরুষ বুঝতো তবে সে তার স্ত্রী কিংবা তার মাকে কোনদিন কষ্ট দিতে পারতো না।
মিতু আমার কাছে এলো। তার হাতে কাটা লেবুর টুকরো।সেই টুকরো সে আমার নাকের কাছে ধরলো।বমি কমে গেলে সে বললো,’এখন একটু রেস্ট নে। এগারোটার সময় আমরা জয়নুল আবেদীন পার্কে যাবো।’
আমি অবাক হয়ে বললাম,’ওখানে কেন?’
‘শিমুল আসবে।ওর সাথে দেখা করবো আমরা।’
‘শিমুল আসবে তুই জানলি কী করে?’
তুই তখন ঘুমে।আমি তোর ফোন থেকে নম্বর নিয়ে আমার ফোন দিয়ে কথা বলেছি। অনুরোধ করেছি ওকে আসার জন্য।ও বললো আসবে।’
‘দেখিস ও আসবে না। তোকে এমনিই বলেছে আসবে।’
‘আচ্ছা সেটা দেখা যাবে। এখন তুই রেস্ট নে।’

দশটা ত্রিশ বাজে ঘড়িতে।
মিতু ফোন করলো শিমুলের ফোনে।
‘আপনি আসছেন তো?’
শিমুল বললো,’এইতো এখন বের হবো।’
‘ঠিক আছে।শুনুন আমার সাথে কিন্তু আমার ফ্রেন্ড আসবে একজন।আমরা দুজনেই বোরখা পরে আসবো।চিনতে অসুবিধা হবে না।আমি আপনাকে দেখলেই চিনবো।’
মিতুর কথা শুনে আমার কেমন সন্দেহ হচ্ছে।ও এমন করে কথা বলছে কেন!
ঘড়িতে এগারোটা বেজে গেল। মিতুর ফোনে বারবার কল আসছে। কিন্তু সে রিসিভ করছে না।
আমি বললাম,’এই মিতু,যাবি না দেখা করতে?’
মিতু বললো,’না।’
‘শিমুলকে বললি আসার জন্য। আমাকেও বললি রেডি হতে। কিন্তু এখন বলছিস যাবি না!’
মিতু অদ্ভুত ভাবে হেসে বললো,’এটা একটা গেইম।তোর মতো মাথা মোটা এটা কিছুতেই বুঝবি না!’
মিতুকে আমার ভীষণ সন্দেহ হচ্ছে।কী আজব ব্যাপার।রাতে বললো সে এক কথা। সকালে আরেক কথা।আর এখন একেবারে অন্য রকম এক কথা!
আমি সন্দেহ ভরা গলায় বললাম,’মিতু,তুই আগে থেকেই শিমুলকে চিনতি না?’
মিতু চুপ করে রইলো।
আমি সহ্য করতে না পেরে রাগত স্বরে বললাম,’তুই ই বোধহয় নাটের গুরু।এই তুই ই মনে হয় আমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছিস!তুই ই সবচে বড় বেঈমান। তোকে আমি চিনে ফেলেছি মিতু!’
মিতু এবারও চুপ হয়ে রইল।
তার ফোনে বারবার কল আসছে শিমুলের। এবার সে ফোন রিসিভ করলো।আর রিসিভ করে বললো,’শিমুল,আমি আজকে একটু বিজি। আগামীকাল তোমার সাথে দেখা করি?’
শিমুল ও পাশ থেকে মন খারাপ নিয়ে বললো,’আচ্ছা।’
এবার তো আমার মাথা আরো গরম হলো। মিতুর জন্য শিমুলের মনও খারাপ হয়!
.
.
চলবে…………….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-১০ এবং সমাপ্তি পর্ব | বাংলা রোমান্টিক গল্প

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_১০ #লেখিকা_আমিশা_নূর "উফফ,বাবা।আজকে মিটিংটা ভালো ভাবে মিটে গেলো।" সমুদ্র ব্লেজার খুলে পানি খেলো।তারপর ওয়াশরুম থেকে গোসল করে বের হয়ে দেখলো ভূমিকা দাঁড়িয়ে আছে।গতদিন ভূমিকা সমুদ্রকে...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব- ০৯

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৯ #লেখিকা_আমিশা_নূর "সূচি,আমিও চাকরি করবো।তখন টাকা শোধ করতে সুবিধে হবে।" "কীহ?" "হ্যাঁ।তুই একটা কাজ করিস।তোর বসের সাথে আমার কথা বলিয়ে দিস।" "কে..কেনো?" "কেনো কী আবার?মাসে কতো করে শোধ...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-০৮ | Bangla Emotional love story

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৮ #লেখিকা_আমিশা_নূর "প্রেম,মামা আসবে।তখন মামা'র সাথে খেলতে পারবে।"(রাফিয়া) "হুয়াট?মাহির আসছে?" মিহুর চিৎকার শুনে রাফিয়া কানে আঙ্গুল দিয়ে কচলাতে কচলাতে বললো,"ইশ রে!কান গেলো।আমার ভাই আসছে এতে তোর কী?" "ছোট...

অবাধ্য অনুভূতি পর্ব-০৭

@অবাধ্য অনুভূতি #পর্ব_০৭ #লেখিকা_আমিশা_নূর "মামুনি কেমন আছে এখন?" "আলহামদুলিল্লাহ যথেষ্ট ভালো,ভূমিকা তোমাকে সত্যি অনেক ধন্যবাদ।" "সুক্ষ্ম,আমাকে কতো ধন্যবাদ দিবে আর?দেখো তুমি এমন করলে কিন্তু আমি রেগে যাবো।" "হাহাহাহা।" সুক্ষ্ম'র হাসি...
error: ©গল্পপোকা ডট কম