গল্প:-নব_বধূয়া পর্ব:-(০৩)

0
4319
গল্প:-নব_বধূয়া পর্ব:-(০৩) লেখা_AL_Mohammad_Sourav !! ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়ের সাথে কথা বললে একদম খুন করে ফেলবো বলে দিলাম। নিশ্চয় প্রীতির সাথে কথা বলার জন্য রুম থেকে বাহিরে যাচ্ছেন। আমি কিন্তু সব বুঝতে পারি আমি কুচি খুকি না কিন্তু।(তসিবা) আমি:- কিসের বউ হ্যা তুমি তো আমাকে স্বামী হিসাবে মেনে নাওনা। আর তুমি নিজেই তো বলছো তুমি বিয়েতে কবুল বলোনি? তসিবা:- কবুল বলেনি তো কি হয়ছে কাবিনে তো সাইন করেছি সুতুরাং আপনার সাথে আমার অর্ধেক বিয়ে হয়ছে। এখন আমি ছাড়া কোনো মেয়ের দিকে তাকালে বা কথা বললে এইটা শরিয়ত বিরোধী হবে। আমি:- এত শরিয়ত শরিয়ত করছো কেনো? আগে নিজেকে ঠিক করো তারপর এত শরিয়ত করো। আর শুনো আমার ব্যাপারে এখনো কোনো কিছু বলার অধিকার তোমার হয়নি। তসিবা:- আমি ঠিক আছি আচ্ছা আপনি এত রাতে কোথায় যাবেন শুনি? আমি:- যেখানে যাই তোমাকে বলবো কেনো? তসিবা:- আমাকে বলবেন না ঠিক আছে বলে,,,(তসিবা এসে ঠাসস করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।) আমি:- কি হলো দরজা লাগালে কেনো? তসিবা:- রাত ১২টা বাজে এখন কোথাও যেতে পারবেন না যান গিয়ে শুয়ে পড়েন। আমি:- তোমার কথায় আমি চলবো নাকী দেখি সরো বলে তসিবাকে সরিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে সোজা ছাদের উপর চলে গেছি। ছাদে ব্যাঞ্চের উপর বসে আছি একা একা কিছুক্ষণ পর কারো পায়ের নুপুরের শব্দ শুনতে পেলাম। পেছনে থাকবো ওমনি এসে আমার চোখ ধরে ফেলছে,,, কে আরে চোখ ধরছেন কেনো? কিছুটা জোড় করে হাতটা সরিয়ে পেছনে তাকিয়ে তো পুরায় অভাক হয়ে গেছি আরে রিয়া তুমি এত রাতে ছাদের উপর আর কখন এসেছো তুমি? রিয়া:- হ্যা আমি সেই কখন এসেছি প্রায় তো ১০ ঘন্টা হয়ে গেছে। তা তুমি কেমন আছো? আমি:- হ্যা ভালো, আর তুমি? রিয়া:- আমি ভালো আছি কোনো রকম তা তোমার বউ কোথায়? আর এত রাতে ছাদের উপর এসেছো কেনো? আমি:- বউ আছে রুমে। রিয়া তুমি চলে যাও তসিবা এসে তোমাকে এখানে দেখলে লঙ্কা কান্ড শুরু করে দিবে। রিয়া:- তোমার বউয়ের নাম তসিবা? আমি:- হ্যা তসিবা ইসলাম, তখনি রিয়া এসে আমার পাশে বসেছে,,, রিয়া:- আরে বসো কতদিন পর তোমার সাথে দেখা হলো দুজনে বসে একটু গল্প গুচ্ছ করি তারপর যাবো। আমি:- রিয়া সকালে কথা হবে তুমি থাকো আমি গেলাম। এমনিতেই তসিবাকে আজকে অনেক কষ্ট দিয়েছি আর যদি এখানে তোমার সাথে দেখে তাহলে আরো কষ্ট পাবে। (কথা গুলি বলে বসা থেকে উঠে চলে আসতেছি আর রিয়া আমার হাত পেছন থেকে টান দিয়ে ধরেছে,,, ঠিক তখনি তসিবা ছাদের উপর উঠে দেখে ফেলে,,,) আমি তসিবার দিকে তাকিয়ে আছি তসিবা এক পা দু পা করে আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলে,,, তসিবা:- ছিঃ আপনি এত জঘন্য আমার ভাবতেও অভাক লাগছে আপনি আমার স্বামী। আমি:- তসিবা তুমি আমার কথাটা একটু শুনো প্লিজ তখনি তসিবা গিয়ে সোজা রিয়াকে এক থাপ্পড় দিতে ছিলো আর আমি তসিবার হাত ধরে ফেলি,,,, তসিবা:- আপনি আমার হাত ধরছেন কেনো? লজ্জা করে না ঘরে এত সুন্দর একটা বউ রেখে ছাদের উপর এসে অন্য মেয়েদের সাথে ফুস্টি নস্টি করতে। আমি:- তসিবা তুমি আগে কথাটা তো শুনবে? তসিবা:- কি শুনবো হ্যা নিজের চোখে তো দেখছি অন্য একটা মেয়ের হাত ধরে রাখছে আপনার। (তসিবা আমার কোনো কথা শুনছে না বরং রিয়াকে যাতা মন্দ বলতেছে এক প্রকার আমি বাধ্য হয়ে পেছন থেকে তসিবাকে জড়িয়ে ধরে ওর মুখ চেপে ধরেছি,,,) আমি:- তসিবা কি বলছো এসবো তখনি আমার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে ঘুরে আমাকে বলে,,, তসিবা:- সাহোস হলো কি করে আমাকেকে জড়িয়ে ধরার বলে আমাকে থাপ্পড় দিতে ছিলো আমি হাত ধরে নিয়েছি,,, আমি:- তোমার মাথায় কি গন্ডগুল আছে কথার আগে হাত চলে বলে আমি নিজেই তসিবাকে এক থাপ্পড় দিয়েছি। তসিবা সাথে সাথে ওর গালটা ধরে বলে,,, তসিবা:- আপনি আমাকে মারতে পারলেন বলেই ঢলে পড়ে যেতেছে তখনি তসিবাকে আমি জড়িয়ে ধরে ফেলি,,, আমি:- তসিবা এই তসিবা কথা বলছো না কেনো? তসিবার কোনো রকম সারা শব্দ পাচ্ছি না বুকের ধুকবুকনিটা ক্রমশে বাড়তে চলছে,,, রিয়া:- সৌরভ তুমি তসিবাকে নিয়ে রুমে চলো মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গেছে ডাক্তার ডাকতে হবে,,, আমি:- রিয়া তুমি যাও তোমার জন্য সব হয়ছে না করেছি তাও তুমি আমার হাত ধরেছো,,, রিয়া কোনো কথা না বলে আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেছে,,, আমি তসিবা গালে আস্তে আস্তে হাত দিয়ে নাড়া চাড়া করছি তাও তসিবা কোনো খবর নেই। ওর নিচের ঠোট কেটে রক্ত পড়ছে আমি রুমাল দিয়ে রক্তটা মুছে দিতেছি,,, তসিবাকে কুলে নিয়ে নিলাম ওর হাত পা সব ছেড়ে দিয়েছে,,, নিছে নামতেই আব্বু দেখে ফেলে বলে,,,
আব্বু:- সৌরভ তসিবার কি হয়ছে ওর ঠোট কাটলো কি করে? আমি:- আসলে আমি এয়ে থাপ্পড় দিয়েছি,,, তখনি আম্মু এসে বলে,,, আম্মু:- থাপ্পড় দিয়েছিস মানে কিন্তু কেনো কি করেছে তুকে মেয়েটা? (আম্মুর দিকে তাকিয়ে দেখি মনে হচ্ছে আমাকে কাচা গিলে খাবে। আরে তসিবার সামনে তো তসিবাকে আম্মু একটু সহ্য করতে পারে না এখন তো দেখছি তার উল্টটা।) রিয়া:- আন্টি সৌরভের কোনো দোষ নেই তসিবা সৌরভের সাথে ছাদের উপর আমাকে দেখা মাত্র যাতা ব্যাবহার শুরু করেছে। আর সৌরভ ওকে ধরেছে বলে সৌরভকে থাপ্পড় দিতে গেছিলো তখনি সৌরভ ওকে থাপ্পড় দিয়েছে,,, আম্মু:- কি এত বড় সাহোস আমার ছেলেকে থাপ্পড় দিতে গেছে সৌরভ একদম ঠিক কাজ করেছিস। তা এখন কি হয়ছে মহা রানীর কথা বলছে না কেনো? আমি:- আম্মু অনেক বলছেন আমি তসিবাকে নিয়ে রুমে যাই রাত অনেক হয়ছে আপনারা গিয়ে রেস্ট নেন। আর রিয়া তোমাকে বলি তুমি আমার দাড়ে কাছে আর আসবে না। তখনি আম্মু বলে,,, আম্মু:- রিয়াকে আমি আনছি তোর জন্য আর রিয়ার সাথে সব সময় ভালো ব্যাবহার করবি। তসিবার সাথে কাল সকালে আমার কথা হবে,,, আমি:- সেইটা সময় বলে দিবে এখন আমি তসিবাকে নিয়ে ভীতরে গেলাম। সবাই তাকিয়ে আছে আমি তসিবাকে নিয়ে রুমে এসেছি। ওকে খাঠের উপর শুয়িয়ে আমি মলম এনে ওর ঠোটে লাগিয়ে দিয়েছি। তসিবার কপালে একটু আলতো করে ছুয়ে দিয়েছি দুই গালে ঠোটের স্পর্শ একে দিয়েছি,,, একটু পানি এনে ওর মুখে ছিটা দিতেই নড়ে চরে চোখ মেলেছে,,,, তসিবা:- আমি কোথায় আছি বলে দেখে আমাকে,,, তখনি বলে,,, আপনি আমাকে থাপ্পড়টা দিতে পারলেন? জানেন আমি কত ব্যথা পেয়েছি আমার ঠোট কেটে গেছে পর্যন্ত। আমি:- সরি আমি বুঝতে পারিনি তুমি ঐ দিন আমাকে থাপ্পড় দিয়েছো আমি কিছু বলিনি আজকেও আমাকে থাপ্পড় দিতে ছিলে তাই তো মাথা ঠিক ছিলো না। এই কান ধরেছি আর কোনো সময় এত জুড়ে থাপ্পড় দিবো না তখনি তসিবা হেসে দিয়েছে হি হি হি। তসিবা:- আমার ক্লান্ত লাগছে আমি ঘুমাবো, আপনিও ঘুমিয়ে পড়েন বলে তসিবা চোখ বন্ধ করে নিয়েছে। আমি গিয়ে সুফায় শুয়ে পড়েছি সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে দুজনে এক সাথে নাস্তার টেবিলে গেছি তখনি আম্মু বলে,,,, আম্মু:- তসিবা তুমি ঠিক আছো? তসিবা:- হ্যা ঠিক আছি। আম্মু:- কাল থেকে প্রতিদিন সকালে তুমি নাস্তা রেডি করবে আর বড় বউ দুপুরে খাবার তৈরি করবে। কারন তুমি তো রোজ কলেজে যাবে আর তোমার সাথে রিয়াকে কলেজে নিয়ে যাবে রিয়া তোমার কলেজে ভর্তি হয়ছে। আমি:- আম্মু রিয়া এখন থেকে আমাদের বাড়ীতে থাকবে? আম্মু:- হ্যা এই বাড়ীতে থাকবে কারন রিয়াকে আমি আগে থেকে এই বাড়ীর সব নিয়ম কানুন শিখিয়ে নিতে চাই। আমার তো মনে হয় না তসিবা এই বাড়ীতে বেশী দিন থাকতে পারবে। যে মেয়ে নিজের স্বামীকে থাপ্পড় দিতে পারে সেই মেয়েকে আমি এই বাড়ীতে কি করে রাখবো? আব্বু:- খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তোমার। আম্মু বেচে নেই তোমার ভাগ্যটা অনেক ভালো মা তসিবা তুমি এই নিয়ে কোনো চিন্তা করোনা বর যদি ওল্টা পাল্টা কিছু করতে চাই তাহলে একটু আট্টু শাশন করতে হয়। আম্মু:- তোমার জন্য আজকে বাড়ীর বউরা আমাকে সম্মান করতে চাইনা। আমি:- আম্মু আমার খাবার শেষ আমি অফিসে যাবো বলে উঠে আসতেছি,,, তখনি তসিবা আম্মুকে বলে,,, তসিবা:- আন্টি আমিও কলেজে যাবো তাহলে উঠি বলে তসিবা উঠে আমার পিছু পিছু চলে এসেছে রুমে। আমি:- এই তোমাকে না বলছি আন্টি না ডাকতে আম্মুকে তাও আন্টি ডাকো কেনো বলবে আম্মাজান। তসিবা:- ওনি আমাকে মেয়ে মনে করে না ওনি তো আমাকে কাজের মেয়ে মনে করে তাই ওনাকে আন্টি ডাকা ভালো। আমি কলেজে যাবো আমার কাছে কোনো টাকা নেই দাড় হিসাবে কিছু টাকা দেন। আমার স্বপ্ন পুরুন হলে দিয়ে দিবো। আমি:- কত টাকা লাগবে? তসিবা:- ২০০০ টাকা হলে চলবে মাত্র যাতায়াতের জন্য আর কিছু আইসক্রিম খাওয়ার জন্য। আমি:- নাও ৫০০০ টাকা সময় মত দিয়ে দিবে বলে দিলেম। তসিবা:- সময় তো বলিনি তবে স্বপ্ন পুরুন হতে আর মাত্র ৩ মাস এর পর দিবো আর নেন ৩০০০ টাকা, আমার ২০০০ টাকা চলবে যদি লাগে তাহলে পড়ে চেয়ে নেবো কেমন। আমি:- ঠিক আছে, রুম থেকে বেরিয়ে বাহিরে এসে বাইকটা বের করেছি এমনি তসিবা এসেছে,,, কলেজে যাবে তখনি আমি বলি,, তসিবা এসো তোমাকে আমি কলেজে নামিয়ে দিয়ে অফিসে যাবো। তসিবা:- দরকার নেই আপনার সাথে যাওয়ার আমি রিক্সা করে যাবো আপনি চলে যান তখনি রিয়া এসে বলে,,, রিয়া:- তাহলে তো আমি যেতে পারি তাইনা সৌরভ,,,,(আমি একবার রিয়ার দিকে আরেকবার তসিবার দিকে তাকিয়ে আছি ঠিক তখনি,,,) To be continue,,,,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে