গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ)

0
721

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১৭-শেষ)
লেখা:- AL Mohammad Sourav
!!
আম্মা কিছু বলতে চায়ছে ঠিক তখনি আমি আম্মাকে থামিয়ে দিয়ে বলছি। আম্মা আপনি কি বলবেন তা আমি জানি।

আম্মা:- নাহ জানিস না! আমার কথাটা আগে শুন। তুই কি ভাবছিস আমি কিছুই জানতে পারবোনা? আমি সব যেনে গেছি তসিবা নামে ব্যাংকে কোনো টাকা নেই এইটা আমি যেনে গেছি। আমাকে বাপ বেটা মিলে বোকা বানিয়েছিস তাইনা?

আমি:- আম্মা আপনি পাঁচ লক্ষ টাকা পেলে তো তসিবাকে মেনে নিবেন তাইনা! ঠিক আছে আমি দিবো আপনাকে পাঁচ লক্ষ টাকা।

আম্মা:- তোর কাছে পাঁচ লক্ষটাকা আছে?

আমি:- না থাকলে কি হবে দরকার হলে আমার বাইকটা বিক্রি করে দিবো তখনি আম্মা আমাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিয়েছে।

আম্মা:- তোর এত বড় সাহোস তুই তোর এত সখের বাইকটা বিক্রি করে দিবি। তসিবার বাবা বলছে টাকা দিবে সেইটা ওনাদের ব্যপার ওনারা বুঝবে কি করবে।

তসিবা:- আমার জন্য আপনাকে এত কষ্ট করতে হবেনা! আম্মাজান আমি চলে যাবো সৌরভের জীবন থেকে।

আম্মা:- কোথায় যাবে শুনি?

তসিবা:- যেখানে দুইই চোখ নিয়ে যাবে সেখানে। তাও আমি চায়না আপনাদের সংসারের আমার জন্য ঝগড়া আর ঝামেল তৈরি হোক।

আমি:- গেলে তুমি একা যাবে কেনো সাথে আমিও যাবো। আর তোমাকে যেহেতু আমি নিয়ে এসেছি সেহেতু সব কিছু আমি করবো। তসিবা এসো আজকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। তসিবার হাত ধরে উপরে যেতে ছিলাম কাপড় আনতে তখনি আম্মা বলে।

আম্মা:- সৌরভ এখনো তুই আমাকে বুঝতে পারলিনা। সৌরভ আমি তো সেইদিন তসিবাকে বউ হিসাবে মেনে নিয়েছি যেইদিন থেকে তোর আব্বা বলছে। যদি তোমার একটা মেয়ে থাকতো আর ওর সাথে শ্বাশুড়ি এমন ব্যাবহার করবে তখন তোমার কেমন লাগবে। তখন থেকে আমি তসিবাকে মেয়ে হিসাবে মেনে নিয়েছি তাই তো আমি কিছু বলিনা। আজকে যখন তোর আব্বা বলছে তুই তোর সমস্ত জমানো টাকা আর তোর সাধের বাইকটা বিক্রি করবি তখন আমার কাছে মনে হচ্ছে এখনো তোর মা হয়ে উঠতে পারিনি।

আব্বা:- সৌরভ তোর আম্মা আজকে তসিবার বাবা মাকে এনে সব বুঝিয়ে বলছে। ঐ দেখ তসিবা বাবা ওয়াশ রুম থেকে এসেছে।

শ্বশুড়:- আরে তসিবা সৌরভ কখন এসেছো?

তসিবা:- এখনি এসেছি! আব্বু আপনি এখানে এসেছেন?

শ্বশুড়:- হ্যা এসেছি! তোকে বিয়ে দিবের পর তো এখানে আসা হয়নি। আমাকে ক্ষমা করে দিস মা।
আমি তোর কষ্টের সময় তোর পাশে থাকতে পারিনি। তোর শ্বাশুমা আমাদের আজ সব ভুল ভাঙ্গিয়ে দিয়েছে। সৌরভ বাবা তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আমার মেয়েটাকে এতটা ভালোবাসার জন্য। তোমার মত প্রতিটা ছেলে হলে মেয়ের বাবা মার চিন্তা থাকতোনা।

তসিবার সৎ মা:- তসিবা তোর আব্বা তো নিজের কথা বলে দিয়েছে। আমাকে কি ক্ষমা করা যায়।

তসিবা:- আম্মু আপনাদের কারো প্রতি আমার কোনো অবিযোগ নেই আর থাকবেনা।

শ্বশুড়:- সৌরভ তসিবার নামে পঞ্চাশ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা আছে! আর তসিবার নামে দুইটা গাড়ি আছে আর আমরা যেই বাড়িতে থাকি ঐটাও তসিবার নামে। তুমি চাইলে সব কিছু নিতে পারো তোমার আব্বা তোমাকে পরীক্ষা করে দেখছে তুমি সত্যি তসিবাকে ভালোবাসো নাকী ওর সম্পত্তির লোভে নাটক করেছিলে। তুমি সত্যি তসিবাকে ভালোবাসো আর তসিবার সম্পর্কে যা যা শুনছো সব মিথ্যা তসিবার মা হতে পারবে কোনো সমস্যা নেই।

আব্বা:- সৌরভ যানে এখন সব কিছু।

আম্মা:- অনেক সময় নষ্ট করেছিস আর নয় আর বড় বউমা তোমার কোনো খবর আছে নাকী আরো দেড়ি করবে? (ভাবি লজ্জা ভাইয়ার পেছনে গিয়ে মুখ লুকিয়ে নিয়েছে)

ভাইয়া:- আম্মা হবে দোয়া করেন।

আব্বা:- যাক অনেক ঝগড়া আর ঝামেলা শেষে আমার একটু শান্তিতে ঘুম আসবে। মা তসিবা আমি যা বলছি তাই হয়ছে তো?

তসিবা:- আপনার জন্য তো আজকে আমার সোনা বর পায়ছি।

ভাবি:- সোনা বর মানে?

আমি:- ঐটা তুমি বুঝবেনা।

আম্মা:- সৌরভ চল আজকে আমরা সবাই মিলে এক সাথে খাবার খাবো। বেয়াই বেয়ান সবাই আসেন আমরা এক সাথে খাবো।

আমি:- আম্মা আমরা তো ডিনার করে এসেছি আপনারা খান আমরা উপরে যাই।

আব্বা:- ঠিক আছে!

আমি:- তসিবা চলো বলে দুজনে উপরে এসেছি। তসিবা এবার তো তোমার মনের আশা পুরুন হয়ছে। এখন তো তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আর কেও নেই।

তসিবা:- কে বলছে নেই আমার বরটা তো যতেষ্ট।

আমি:- কি ঠিক আছে তাহলে আমি চলে যাই তখনি তসিবা আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে। কি হলো জড়িয়ে ধরলে কেনো?

তসিবা:- আমার সোনা বর বলে সামনে এসেছে আমার পায়ে পা রেখে আমার ঠোটের দিকে ওর ঠোট গুলি বাড়িয়ে দিয়ে বলে। ইচ্ছে হলে আদর করতে পারেন আর তানা হলে সারাক্ষন এমন ভাবে থাকবো।

আমি:- করবোনা আদর তুমি থাকো এমন ভাবে।

তসিবা:- রাগ করছেন ঠিক আছে রাগ ভাংগাবো বলে আমার ঠোটে তসিবা কিস করেছে। আমার এক প্রকার কম্পন সৃষ্টি সুরু হলো সারা শরীরে। আমি তসিবাকে জড়িয়ে ধরেছি খুব শক্ত করে আমার সারাটা শক্তি দিয়ে দুজনে দুজনকে কাছে টেনে নিলাম। আজ প্রথম আমাদের ভালোবাসার পুর্ণতা পেলো। আজকের রাত আমাদের কাছে বাসর রাতের মত লাগলো কোনো ফুল নেই কোনো রকম সুবাস নেই মনে হচ্ছে তাও কত আনন্দ। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নামায পড়তে গেলাম। নামায পড়ে এসে দেখি ভাবি নাস্তা তৈরি করছে আর তসিবা ভাবিকে সাহায্য করছে।

আম্মা:- সৌরভ আজকে তাড়াতাড়ি নামায পড়ে চলে আসলি?

আমি:- হ্যা একটু কাজ আছে।

আম্মা:- তোর তো সারা জীবন কাজ থাকবে! এক কাজ কর বউমাকে নিয়ে কোথাও থেকে বেড়িয়ে আয়। এখন দুজন দুজনকে কিছুটা সময় দিতে হবে আর সময় দিলে তো আমি দাদি হবো নাকী।

আমি:- নাহ কোথাও যেতে পারবোনা! এই শহরে প্রতি শুক্রবারে নিয়ে বেরুবো কেমন?

তসিবা:- হ্যা আম্মাজান ওনি যা বলছে তাই ভালো হবে।

আম্মা:- ঠিক আছে।

আমি:- আচ্ছা আমি রুমে যাই! রুমে এসেছি কিছুক্ষণ পর তসিবা এসে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে। কি হলো আদর কি আরো লাগবে তখনি তসিবা আমাকে ছেড়ে দৌরে চলে গেছে। তসিবার সাথে আমার তো রোমান্স ভালোই চলছে সেই সাথে ছোট ছোট ঝগড়া অফিস থেকে ফিরতে দেড়ি হলে রাগ করে কথা না বলা ঐ গুলা ভালো করে হচ্ছে। তসিবাকে নিয়ে বাইকে করে সারা শহর ঘুরে বেরানো আর মাঝে মাঝে ওর বাপের বাড়িতে সব গুলা ভালো লাগছে। আমাদের ঝগড়া আর মান অভিমানের মধ্য দিয়ে চলছে আমাদের সংসার। তসিবার দিন দিন চালাক হয়ে গেছে এখন আগের চাইতে বেশি বেশি ভালোবাসা চাই। আমিও তসিবাকে আগের চাইতে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি আর কেয়ার করি।
!!
কিছু কথা:- সংসার জীবনে ছোট ছোট ঝগড়া আর কিছু রাগ অভিমান থাকবে সব কিছু মিলিয়ে সংসার করতে হয়। তবে একটা কথা যখন একটা মেয়ে তার বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্মীয় স্বজনদের ছেড়ে নতুন ঠিকানা নতুন পরিবেশ আসে তখন সবার উচিত তার সাথে হাসি মুখে কথা বলা। কিছু ভুল হলে মিষ্টি হাসি দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া। আর তার সাথে সব সময় ভালো ব্যাবহার করা। মনে রাখবেন মেয়েরা হলো পানির মত যেই পাত্রে রাখবেন সেই পাত্রের আকার ধারন করবে। আপনি চিন্তা করে দেখবেন আপনি আপনার বউকে কোন পাত্রে রাখবেন? আর মেয়েদের বলি নিজের বাবা মা, ভাই বোন সহ নিজের পরিবারকে যেমন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসেন ঠিক তেমন ভাবে স্বামীর বাড়ির মা, বাবা, ভাই বোনদের সাথে করেন দেখবেন আপনাকেও ঐ পরিবারটা কতটা ভালোবাসা দিয়ে বড় করে দেয়। সবাই ভালো থাকবেন আমার জন্য দোয়া করবেন! আবারো নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সামনে ততদিন আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে ভালো রাখুক সুস্থ রাখুন আমিন।
………………………………সমাপ্তি…………………………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here