গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১১)

0
983

গল্প:-নব_দম্পতি পর্ব:-(১১)
লেখা:-AL Mohammad Sourav
!!
তসিবাকে থাপ্পড় দেওয়াটা ঠিক হয়নি! কিন্তু কি করবো যেই তসিবা আমি বলতে অজ্ঞান হয়ে যেতো। যেই তসিবা আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝতোনা সেই তসিবা আমাকে থাপ্পড় দিতে একটুও চিন্তা করলোনা? আম্মু ঠিকই বলছে তসিবা এতদিন আমাদের সাথে অভিনয় করছে। গাড়ির কাছে চলে এসেছি মনটা খুব খারাপ তসিবার চেহারাটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে তখনি মোবাইলটা ভেজে উঠছে হাতে নিয়ে দেখি আব্বার নাম্বার রিসিব করতেই বলে।

আব্বা:- সৌরভ তুই কোথায় আছিস?

আমি:- আব্বা আমি গাড়িটার কাছে আছি আমি বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

আব্বা:- তুই বাড়িতে যাচ্ছিস কেনো? এদিকে তসিবা মায়ের মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তসিবা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে আছে আর তুই একা একা বাড়িতে যাচ্ছিস? এখুনি তুই মেইন হলের সামনে চলে আয় বলছি।

আমি:- কি বলছেন মুখ দিয়ে রক্ত আসবে কেনো? টুট টুট শব্দ শুনতে পেলাম আব্বা ফোন কেটে দিয়েছে আমি তাড়া তাড়ি করে হলের সামনে গেছি দেকি গুল করে সবাই গেরাও দিয়ে রাখছে আমি ভিতরে ঢুকেছি দেখি আব্বা তসিবার কাছে বসে আছে আমি পাশে গেছি।

আব্বা:- সৌরভ তসিবার হঠাত করে এমন হলো কেনো?

আমি:- পরে বলছি আগে হাসপাতালে নিয়ে চলেন তসিবাকে। আমি তসিবাকে কুলে তুলে নিয়েছি। তসিবার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখি ওর নিচের ঠোট কেটে রক্ত পড়ছে আমি ওকে নিয়ে গাড়ির কাছে যেতেছি তখনি দেখি তসিবা চোখ মেলেছে।

তসিবা:- আপনি আমাকে কুলে নিয়েছেন কেনো এখনি নামান বলছি।

আব্বা:- তসিবা তোমার জ্ঞান ফিরেছে। তুমি তো অজ্ঞান হয়ে ছিলে তাই তোমাকে সৌরভ কুলে নিয়ে গাড়িতে বসাতে চায়ছিলো।

তসিবা:- আব্বাজান আমি ঠিক আছি আমাকে নামাতে বলেন।

আমি:- নামাচ্ছি আর আমারো কোনো ইচ্ছে নেই মিথ্যাবাদী কোনো মেয়েকে কুলে নিয়ে রাখার। বলে তসিবাবে কুলের উপর থেকে ছেড়ে দিয়েছি আর ঠাস করে আওয়াজ হয়েছে।

তসিবা:- ও মা গু আমার কোমড়টা বুজি গেছে! (তসিবা কান্না করছে আমি হাটা দিয়েছি তখনি আব্বা বলে)

আব্বা:- সৌরভ তসিবাকে এমন ভাবে ছেড়ে দিয়েছিস কেনো?

আমি:- সেইটা আপনার বউমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি গেলাম। কোনো কথা না বলে আমি সোজা বেড়িয়ে এসেছি। দূর কিছুই ভালো লাগছেনা তসিবা ঐ মেয়েটার জন্য আমাকে কেনো থাপ্পড় দিবে? নিশ্চয়ই বড় কোনো ধরনের গন্ডগোল আছে আগে ঐ মেয়েটাকে খুঁজে বের করতে হবে। আচ্ছা তসিবাকে একবার জিজ্ঞেস করাটা কি জুরুরী ছিলোনা? মনের মাঝে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যাই বাড়িতে যাই তসিবাকে জিজ্ঞেস করি তাহলে সবটা বের হবে। ঘন্টা খানেকের মধ্যে বাড়িতে এসেছি কলিং বেল চাপ দিতেই ভাবি এসে দরজা খুলে দিয়েছে।

ভাবি:- সৌরভ এসেছো তাহলে ভিতরে এসো এতক্ষন তোমার কথা হচ্ছিলো।

আমি:- কেনো কি হয়ছে?

আম্মা:- সৌরভ তসিবা তোকে নাকি চর দিয়েছে?

ভাবি:- হ্যা দিয়েছে আর সৌরভ তসিবাকে থাপ্পড় দিয়েছে।

আমি:- আম্মা যা হবার হয়ে গেছে এখন এসব বাধ দেন।

আম্মা:- বাধ দিবো কেনো? আমি আগে বলেছি তসিবা মেয়ে হিসাবে ভালোনা। সৌরভ তুই এখুনি তসিবাকে বের করে দিবি যেই মেয়ে তার স্বামীকে থাপ্পড় দিতে পারে সেই মেয়ে কখনো ভালো হতে পারেনা।

আব্বা:- তুমি চুপ থাকো সৌরভ তসিবা কেনো তোকে থাপ্পড় দিয়েছে আগে সেইটা জানতে হবে। তসিবা মনে হয় ইচ্ছে করে তোকে থাপ্পড়টা দেয়নি।

আমি:- তসিবা এখন কোথায়?

ভাবি:- কোথায় হবে রুমে গিয়ে দিব্যি ঘুমাচ্ছে।

আমি:- আচ্ছা এখন আমি রুমে যাই যা হবে সকালে বুঝা যাবে। সোজা রুমে দিকে চলে এসেছি। রুমে ঢুকে দেখি তসিবা ওর গহনা ঘাটি খুলছে আমি রুমে ঢুকে কোনো কথা বলিনি। আমাকে দেখে তসিবা উয়াস রুমে চলে গেছে। আমি কাপড় চেইন্জ করে খাটের উপর বসে আছি কিছুক্ষণ পর তসিবা রুমে এসেছে। আমাকে দেখে না দেখার মত করে মোবাইলে কথা বলছে হেসে হেসে আমি কিছু বলছিনা। কিছুক্ষণ পর বালিশ আর চাদর নিয়ে নিচে শুয়ে পড়েছে। আমি আলমারীর উপর থেকে কুল বালিশ নামিয়ে খাটের উপর শুয়ে পরেছি। আজকে আর কোনো কথা বলিনি মাঝ রাতে কারো নিশ্বাষে ঘুম ভাঙছে চেয়ে দেখি তসিবা আমার বুকের উপরে শুয়ে আছে। আমি কিছু বলিনি ওকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেছি সকালে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ে এসে ফ্রেশ হয়ে সোজা অফিসে চলে গেছি। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেছে সন্ধার দিকে অফিস থেকে বেড়িয়ে বাইক নিয়ে একা রেস্টুরেন্টে গেছি। একা একা বসে খাবার খাচ্ছি তখনি একজন বলছে।

সৌরভটা অনেক বোকা ও জানে আমি ওকে ভালোবাসিনা তাও ও আমাকে নিয়ে অনেক শপিং করে দেয়। সৌরভ বিয়ে আমি জানি তখনি আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি রিপা। আমি ওর সব কথা শুনতেছি সাথে একটা ছেলে আছে।

ছেলে:- আচ্ছা যদি সৌরভ বুঝতে পারে তুমি মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করতেছো তখন কি করবে?

রিপা:- রাব্বি তুমিও না আসলে সৌরভ বুঝতে পারবেনা কারন সৌরভ ও তার মা আমাকে অনেক বিশ্বাস করে। আজকে সৌরভকে দিয়ে স্যামসাং এম আই সেট কিনবো। আর তোমাকে গিফট করবো কেমন।

রাব্বি:- ওকে জানু আচ্ছা তাহলে এখন চলো যাওয়া যাক। আর সৌরভকে তুমি ফোন করো কেমন।

আমি:- ফোন করতে হবেনা আমি নিজেই হাজির রিপা। (রিপা পেছন ফিরে আমাকে দেখে তুতলাতে তুতলাতে বলে)

রিপা:- সৌরভ তুমি এখানে?

আমি:- হ্যা আমি আমি এখানে খাবার খেতে এসেছিলাম আর তোমার আসল রুপটা দেখতে পেলাম। ছিঃ রিপা তোমার মন মানুষিকতা এতটা ছোট আগে জানা ছিলোনা। আজকের পর যদি তোমাকে আমাদের বাড়িতে বা আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করো তাহলে এর পরিনাম ভালো হবেনা। দাও আমার রিংটা দাও বলে রিপার আঙুল থেকে টেনে খুলে নিয়ে এসেছি। রেস্টুরেন্টের সবাই তাকিয়ে আছে আমি বেড়িয়ে এসেছি। বাড়িতে এসে কলিং বেল চাপ দিয়েছি অনেক পরে এসে আম্মা খুলে দিয়েছে।

আম্মা:- সৌরভ আজকে এত তাড়া তাড়ি চলে এসেছিস?

আমি:- কেনো কোনো সমস্যা হয়ছে নাকী?

আম্মা:- নাহ সমস্যা হবে কেনো তুই তো বাড়িতে রাত নয়টার কমে আসিসনা তাই জিজ্ঞেস করেছি।

আমি:- এমনিতেই মনটা খারাপ তাই। বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখি তসিবা মন খারাপ করে বসে আছে। তসিবা রুমে আসো তোমার সাথে আমার কথা আছে।

ভাবি:- সৌরভ তুমি যাও তসিবা পরে আসবে।

আমি:- কেনো পরে আসবে কেনো? তসিবা তুমি এখুনি আসবে আসো তখনি তসিবা দাঁড়িয়েছে।

আম্মা:- সৌরভ তুই যা তসিবা আসতেছে।

আমি:- নাহ আমার সাথে যাবে তখনি গিয়ে তসিবার হাত ধরেছি তসিবা আমার দিকে তাকিয়েছে আমি ওকে টেনে রুমে নিয়ে এসেছি। আচ্ছা তুমি ঐ মেয়েটির জন্য আমাকে থাপ্পড় দিয়েছো কেনো?

তসিবা:- আপনি ঐ মেয়েটিকে থাপ্পড় দিয়েছেন কেনো?

আমি:- ঐ মেয়েটি তোমাকে থাপ্পড় দিতে চায়ছে।

তসিবা:- তাতে আপনার কি আমাকে থাপ্পড় দিবে কি দিবেনা তাতে আপনির কি?

আমি:- তোমাকে না বলছি তর্ক না করতে ঐ মেয়েটি কে বলবে?

তসিবা:- আমার সাথে কথা বলতে কে বলছে? আমার কথা যদি আপনার তর্ক মনে হয় তাহলে আমি কথা বলবোনা। এই ঠোটে আঙুল দিলাম আপনি যা বলেন তার কোনো উত্তর পাবেন না।

আমি:- আম্মা ঠিক বলে তোমার মত অভিনয় আর কেউ পারবে বলে মনে হয়না।

তসিব:- হ্যা আমি অভিনয় করি আর মিথ্যা বলি। ঐ মেয়েটি আমার খালাম্মা আপনি মেয়েটিকে থাপ্পড় দিয়েছেন সেই থাপ্পড়টা আমার বাবার গালে পড়বে। আমি আপনাকে থাপ্পড় দিয়েছে তার জন্য আপনি আমাকে থাপ্পড় দিয়েছেন। জানতে চাননি কেনো আপনাকে থাপ্পড় দিয়েছি।

আমি:- তোমার সৎ মায়ের আপন বোন হয়?

তসিবা:- হ্যা! যদি আপনাকে থাপ্পড় না দিতাম তাহলে আব্বুকে ওরা অনেক নির্যাতন করত। আপনাকে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য সরি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

আমি:- ঠিক আছে! আচ্ছা তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো।

তসিবা:- থাক কি বলবেন আমি জানি। সাহেদের সাথে আমার কথা হয়ছে আমি অল্প কিছুদিনের মধ্যে চলে যাবো। আপনার আম্মা ভাবি আমাকে সহ্য করতে পারেনা এইটা আমি বুঝতে পারি।

আমি:- আগে আমার কথাটা তো শুনবে?

তসিবা:- কি বলবেন? যা বলার তা তো আগেই বলছেন পুরুনো কোনো কথা শুনার ইচ্ছে বা আগ্রহো কোনোটাই আমার নেই। সাহেদ বলছে আজকে ওর পরিবারের সবার সাথে কথা বলে আমাকে জানাবে। (তখনি তসিবার মোবাইলটা বেজে উঠেছে) এই তো সাহেদ ফোন করেছে রিসিব করে আমার সামনে থেকে চলে গেছে।

আমি:- তসিবা প্লিজ কথাটা শুনো (তসিবা মোবাইলটা হাতে নিয়ে চলে গেছে) তসিবা কেনো আমার কথা গুলি শুনছেনা? দূর কিছু ভালো লাগছেনা যাই গিয়ে দেখি তসিবা কোথায়? তসিবাকে খুঁজতে খুঁজতে ছাদের উপরে চলে গেছি নাহ তসিবা ছাদে নেই। আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছি চাঁদকে দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। সারা রাত ছাদের উপরে ছিলাম প্রতি দিনের মত আজকেও সব কিছু করে অফিসে চলে আসলাম।

স্যার:- সৌরভ কিছু দিন ধরে দেখছি মুড অফ থাকে আপনার কোনো সমস্যা?

আমি:- নাহ স্যার আমি ঠিক আছি! স্যার চলে গেছে আমি কাজ করেছি নিজের মত করে আজকে ঠিক রাত নয়টার দিকে বাড়িতে গেছি। আজকে দরজা খুলা ভিতরে ঢুকতেই ভাবি বলে।

ভাবি:- সৌরভ তোমার বউ তসিবা তার নাগরের সাথে চলে গেছে।

আমি:- কি যাতা বলছেন ভাবি? মুখ সামলিয়ে কথা বাত্রা বলেন তানা হলে ভালো হবেনা কিন্তু।

আম্মা:- সৌরভ তোর ভাবি একদম ঠিক কথা বলছে। আজকে সাহেদ নামে একটা ছেলে এসেছে আর ওর সাথে চলে গেছে। যাওয়ার সময় বলে গেছে তুই নাকী আগেই ডির্ভোসের এপ্লিকেশনে সাইন করে নিয়েছিস।

আমি:- সত্যি তসিবা এমনটা করেছে? তখনি আব্বা বলে?

আব্বা:- হ্যা সৌরভ তসিবা আমার কথাও রাখেনি। আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু তসিবা চলে গেছে।

আমি:- ঠিক আছে! যদি তসিবা আমাকে ছেড়ে থাকতে পারে তাহলে আমিও পারবো। মনটা খারাপ করে চোখ দিয়ে নিজের অজান্তে পানি পড়ছে রুমে ঢুকেছি রুমটা শুন্য রাখছে খাটের উপর চেয়ে দেখি এক টুকরো কাগজ হাতে নিয়ে দেখি কিছু লিখা।

আপনি বাড়িতে ঢুকলে জানতে পারবেন তাও কাগজে লিখে গেলাম চলে যাচ্ছি সাহেদের সাথে। সাহেদ আমাকে অনেক ভালোবাসে ওর ভালোবাসার অসম্মান করতে চায়নি তাই চলে গেলাম ওর সাথে। আপনি এখন রিপার সাথে খুব সহজে সূখের সংসার করতে পারবেন। আপনার বুকের উপর ঘুমাতে খুব ভালো লাগতো খুব মিস করবো আপনার বুকটাকে। আর হ্যা আমার অভিনয়টা কেমন লাগলো? আপনার সাথে কাটানো সময় গুলি খুব মিস করবো ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

আমি:- তোমার অভিনয়টা আমি বুঝতে পারিনি তসিবা। আচ্ছা কেনো এমনটা করলে আমি তো তোমাকে খুব ভালোবাসি। তখনি মোবাইলটা বেজে উঠেছে আমার মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি রিংটন আমার মোবাইলের না। আরে তাহলে কার মোবাইলটা বাজতেছে এদিক সেদিকে তাকিয়ে দেখি ডেসিং টেবিলের উপরে তসিবার মোবাইলটা বাজতেছে। কাছে গিয়ে দেখি সাহেদ নামটা ভেসে আছে হাতে নিয়ে রিসিব করতেই একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসছে তখনি ঐ খান থেকে বলছে।

কিরে তোর অভিনয়টা কি শেষ করবি নাকী আরো তোর স্বামীকে জ্বালাবি? To be continue,,,

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে