গল্প: ছোঁয়ার শিহরণ পর্ব-১১

0
801

গল্প: ছোঁয়ার শিহরণ পর্ব-১১
লিখনীতে: ফাতিমা আক্তার অদ্রি

দরজার কলিং বেলের ক্রিং ক্রিং আওয়াজ শুনতে পেয়ে বহ্নি দ্রুত পায়ে হেঁটে গিয়ে দরজা খুলল । দরজা খুলে সে যা দেখলো তাতে সে যারপরনাই অবাক । অতল দাঁড়িয়ে আছে।

বহ্নি অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । অতল নির্বিকারভাবে তাকিয়ে আছে বহ্নির দিকে। অতল সচরাচর আসে না শিহরণের বাসায়। খুব দরকার হলে তারপরেই আসে। বহ্নি সরছেও না আবার অতলকে ভেতরে আসতেও বলছে না দেখে অতল একটু রাগী মেজাজে বলল,’তুই কি সরবি নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব?’

বহ্নি যেন হুশ ফিরে পেল। সে অতলের সামনে থেকে সরে দাঁড়াল।তারপর বলল,’অতল ভাইয়া, তুমি, এইসময়ে?’

‘কেন, আগুনমনি? আমার আসা কি নিষেধ আছে?’ অতল ভ্রু উঁচিয়ে কৌতুক মাখা কণ্ঠে প্রশ্ন করল।

অতল মাঝেমধ্যে বহ্নিকে আগুনমনি বলে ডাকে। অন্য কেউ এই নামে ডাকলে, তাকে বহ্নি কথার আগুনে পুড়িয়ে মারে। কিন্তু অতলের বেলায় সে যেন কোনো স্রোতস্বিনী নদীর নিত্য প্রবাহিত ঠান্ডা জল। যা শুধু তৃষ্ণা নিবারনই করে না বরং জ্বলন্ত বিধ্বংসী আগুনকেও নিভিয়ে দিতে সক্ষম । বহ্নি মৃদু হেসে বলল,’না তা কেন হবে! তুমি চাইলে প্রতিদিন আসতে পার। কোনো সমস্যা নেই। আমার তো খুব ভালো লাগবে তখন।’

অতল কৌতুহলী কণ্ঠে প্রশ্ন করল, ‘আমার আসার সাথে তোর ভালো লাগার কী সম্পর্ক?’

বহ্নিকে একটু অন্যমনস্ক দেখাল। তারপর সে মৃদু স্বরে বলল,’শিহরণ ভাইয়া রুমে আছে যাও।’
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


অতল জহুরি চোখে পরখ করতে চাইল বহ্নিকে। কিন্তু চাইলেই কি সব পারা যায়! কিছু জিনিস যেমন ধোঁয়াশা থাকে; কিছু মানুষও থাকে ধোঁয়াশাময়। তাদের জানা যতটা সহজ মনে হয়; তার চাইতেও বেশি কঠিন তাদেরকে বুঝা। হয়তো তারা নিজেদের কাছেও রহস্যে ঘেরা কোনো মানুষ। অতল বলল,’আমার কথা এড়িয়ে গেলি–মনে হলো।’

বহ্নি সহাস্যে বলল,’তোমার মনে হওয়া সব কথা সত্য হবে–এমনকি কোথাও লেখা আছে? না কি তুমি কোনো ভবিষ্যত বক্তা?’

অতল বিরক্তির সুরে বলল, ‘ধুর , তোর সাথে কথা বলা মানেই হচ্ছে কথার প্যাঁচে আটকাতে থাকা। বাদ দে। কথাই বলব না তোর সাথে।’

বহ্নি হাসল। দুর্বোধ্য হাসি। অতল সেই হাসির অর্থ উদ্ধার করতে পারলো না। বহ্নি প্রসঙ্গ পালটে বলল,’কফি খাবে?’

অতল যেন এবার ভাব নিল। সে মুখটা বেঁকিয়ে একটু ভাবল । তারপর বলল,’মন্দ হয় না।’

বহ্নি মুচকি হেসে বলল,’ঠিক আছে। পাঠিয়ে দেব।’

অতল সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠতে উঠতে ঘাড় ঘুরিয়ে বহ্নির দিকে তাকাল। বহ্নি তখনো তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে ছিল। অতল তাড়া দিয়ে বহ্নিকে বলল,’দাঁড়িয়ে আছিস কেন? তোর জন্যেও এক কাপ কফি আনবি। আর দেরি করবি না তোর সাথে আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।’

বহ্নির বুকে হঠাৎ ধক করে উঠল। বুকের মধ্যে দ্রিম দ্রিম শব্দ হচ্ছে। সে শুনতে পাচ্ছে সে শব্দ। ভাগ্যিস অতল তার থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আছে। নইলে নিশ্চিত সেই শব্দ শুনতে পেত। অতল কথাটা বলেই দ্রত পায়ে শিহরণের রুমে চলে গেল।

বহ্নি আজ নিজ হাতে কফি বানাচ্ছে। অতল ভাইয়া খাবে বলেছে। সে পৃথিবীর সব থেকে দামী কফিটাই বানাবে আজ। যেটা সব থেকে বেশি টেস্টিও তো হবে, হবে ইউনিকও। কারণ সে অতল ভাইয়ার জন্য বানানো কফিতে মেশাবে তার হৃদয়ে গহীনে অতল ভাইয়ের জন্য জমানো এক পৃথিবী ভালোবাসা।

কফির সাথে ভালোবাসা মেশানোর কথাটা একটু খেয়াল করতেই বহ্নির ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল হাসির রেখা। সে ভাবছে–কেন এত ভালো লাগে অতলকে তার–কেন! এই শান্ত শিষ্ট ছেলেটা কেন তার মনটাকে অশান্ত করে দিল। এতটাই অশান্ত যে তার সমস্ত চিন্তা চেতনা জুড়ে তার রাজত্ব! হঠাৎ মনে হলো –কী বলতে চাইছে অতল ভাইয়া তাকে! খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কি? যা বহ্নি শুনতে চায় সেটাই কি? আদো কি সেটা হবে? কই অতল ভাইয়া তো তাকে এখনো সেই পিচ্চিই ভাবে। অথচ সে তো পিচ্চি নয়! এখন তো ক্লাস ফাইভের ছেলেমেয়েরাও প্রেম করে। আর সে পড়ে ক্লাস এইটে। তাহলে সে কি ছোট? নিশ্চয়ই নয়!
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


শিহরণকে ইনিয়ে বিনিয়ে বহুবার বলার চেষ্টা করল অতল যে তাকে একটা চিঠি লিখতে সাহায্য করতে হবে। বলা যায়-গোটা চিঠিই লিখে দিতে হবে। কিন্তু অতল পড়লো এক মহা বিপদে। চিঠির কথা যখনই তুলে তখনই শিহরণ অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছে। পরপর তিনবার এমনটা হলো। এখন শান্ত শিষ্ট অতলের মেজাজটা না বিগড়ে কি পারে! সে খুব আহত হলো শিহরণের কারণে। জোর করে সে শিহরণকে তার কথা শুনতে বাধ্য করতে পারে। তবে সে তা করবে না। বহ্নি তো আছেই । তার কাছ থেকে হেল্প চাইতেই পারে সে। চাইতে পারে কি–বহ্নির কাছেই সে হেল্প চাইবে। অতল জানে বহ্নি কখনো না করবে না। কিছু মানুষের উপর বিশ্বাস থাকে প্রবল । বহ্নি তাদের কাতারে। অন্ততপক্ষে অতলের জন্য তো সে পৃথিবীর সবচাইতে বেশি বিশ্বাসপ্রবণ মানুষ । যার উপর চোখ বুজে ভরসা করা যায় ।

বহ্নি কফি নিয়ে হাজির হলো কিছুক্ষণের মধ্যেই । তার মুখ জুড়ে বিরাজ করছে এক অমায়িক হাসি। চোখ দুটোতে আনন্দের আভাস স্পষ্ট। যেন সে এই মাত্র বহু আকাঙ্ক্ষিত কিছু হাতের মুঠোয় পেয়েছে। অতলকে কফি দিতেই সে বলল,’বহ্নি চল বারান্দায় গিয়ে বসি। তোর সাথে আমার কথা আছে।’

বহ্নি আরো এক দফা হোঁচট খেলো। সে ভাবলো অতল ভাইয়ের এত তাড়া কিসের? কী এমন কথা বলবে? অতল বহ্নির হাত ঝাঁকি দিয়ে বলল,’এত কি ভাবছিস? বললাম না বারান্দায় চল।’ শিহরণকে হাতের ইশারায় দেখিয়ে বলল,’এখানে মহা ভাবুকের উৎপত্তি হয়েছে। তাই এই স্থান নিরাপদ নয়।’

শিহরণ তখনো তার ভাবনায় মশগুল । ভালোলাগা মাঝে মধ্যে মনকে আবেগী করে তুলে। আর আবেগের প্রশ্রয় মনের মধ্যে গড়ে তুলে ভালোবাসার প্রাসাদ। শিহরণ সেই প্রাসাদ গড়েছে কি না বুঝার উপায় নেই। বড়ই নির্বিকার দেখাল তাকে। আর পুরো মুখ জুড়ে অভিব্যক্তি হীনতা। যা সামনের মানুষটিকে অপারগ করে তুলতে সমর্থ–তার মনোজগতের অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে ।

বারান্দায় যাওয়ার সাথে সাথে অতল বারান্দার মাঝ বরাবর একটা চেয়ার টেনে বসলো। বহ্নি তখনো দাঁড়িয়ে ছিল। তার কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে! হাত পা কাঁপছে । মনে হচ্ছে এক্ষুণি মৃদু একটা ভূমিকম্প হয়ে গেল। নয়তো সে এভাবে কাঁপছে কেন। সে তো দুর্বল কোনো মেয়ে নয়! অতল তাড়া দিয়ে বলল,’তুই কি বসবি? নাকি খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকবি?’

বহ্নি কাঁপা কাঁপা হাতে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসল অতলের মুখোমুখি । অতল কোনো প্রকার
ভূমিকা ছাড়াই মৃদু স্বরে বলল,’বহ্নি আমি জানি তুই খুব ভালো চিঠি লিখতে পারিস। আমার ওরকম একটা চিঠি চাই। কি লিখে দিবি না আমাকে?’

বহ্নি মনে মনে বিরাট ধাক্কা খেলো। অতল ভাইয়া কেমন চিঠির কথা বলছে! আমার কাছ থেকেই বা কেন ? তাহলে কি…! হঠাৎ বহ্নির ভাবনা হোঁচট খেলো তারই ভাবনার জগতে। তার ছোঁয়া নামের মেয়েটার কথা মনে পড়ে গেলো । অতল ভাইয়া সেই মেয়ের জন্য পুরো পাগল ছিল। বহ্নির তা অজানা নয় । তাছাড়া
এটা কেই বা না জানে! তাহলে কি ভাইয়া ছোঁয়া আপুকে চিঠি দেবার কথা বলছে? বহ্নির মনের মধ্যে ছোটোখাটো একটা ঝড় বয়ে গেলো। আর তার মনের মধ্যে সাজানো সমস্ত ভালোবাসাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেলো। বহ্নির চেহারায় তার স্পষ্ট আভাস। বিচক্ষণ কোনো মানুষ তাকে দেখামাত্রই বলে দিতে পারবে যে সে প্রলয়ঙ্কারী কোনো ঘূর্ণিঝড়ে কবলে পড়ে নিজেকে সামলে স্বাভাবিক রাখতে চাওয়া কোনো বলিষ্ঠ চরিত্রের মানুষ। যে সমস্ত কষ্টেও সামনের মানুষটিকে বুঝতে দিতে চায় না তার মনের কষ্ট, দুঃখ, হতাশা আর হৃদয়ের হাহাকার!

চলবে…..ইন শা আল্লাহ্

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here