গল্প:-একটু_অধিকার পর্ব:-(০৮)

0
1892

গল্প:-একটু_অধিকার পর্ব:-(০৮)
লেখা:- AL Mohammad Sourav
!!
তসিবাকে থাপ্পড় দিয়ে আমার নিজের কাছে খারাপ লাগছে! তসিবা নিচে পড়ে আছে আমি রুমে চলে এসেছি। তসিবার হঠাত করে কি হলো সবকিছু তো গুচিয়ে নিয়ে ছিলাম তাহলে কেনো এমনটা করছে? মনের মাঝে হাজারো প্রশ্ন তৈরি হতে থাকলো। মন খারাপ করে খাটের উপর শুয়ে পড়েছি। কিছুক্ষণ পর ভাবি ডাক।

ভাবি:- সৌরভ ডিনার করবে এসো।

আমি:- ভালো লাগছেনা তুমি যাও আমি খাবোনা।

ভাবি:- তা বললে হবেনা এসো আমার সাথে!

আমি:- ভাবি তসিবা কেনো এমনটা করছে আমার সাথে? আমি তো সব কিছু ভুলে ওকে মেনে নিয়েছি। তসিবাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি তাহলে কেনো এমনটা করলো?

ভাবি:- আমি বলতে পারবোনা তবে তুমি অফিস যাবার পরে আমি একটু বাহিরে গেছিলাম! বাহির থেকে এসে দেখি তসিবার কথাবার্তা কেমন একটা চেন্জ চেন্জ। আম্মা তসিবাকে যা বলছে তাই করছে।

আমি:- নিশ্চয়ই আম্মার কোনো নতুন ফাদ পেতেছে আর সেই ফাদে তসিবা পা দিয়েছে।

ভাবি:- হয়ত পারে কিন্তু তসিবা কেনো পা দিবে?

আমি:- আমি কিছুই চিন্তা করতে পারছিনা আমার! কিছুই ভালো লাগছেনা! তুমি যাও আমি একা থাকবো।

ভাবি:- নাহ তা হবেনা তুমি চলো আমার সাথে বলে ভাবি জোর করে আমাকে টেনে নিয়ে গেছে খাবার টেবিলের সামনে। খাবার টেবিলে বসে আছি কোথাও তসিবাকে দেখছিনা! বার বার চোখ গুলি তসিবাকে খোঁজতেছে।

আম্মা:- সৌরভ খানা খাচ্ছিস না কেনো?

আমি:- ভালো লাগছেনা! তোমাদের তো আনন্দের দিন তোমরা বেশি করে খাও। আমি গেলাম বলে খাবার টেবিল থেকে উঠে গেছি।

আব্বা:- সৌরভ এভাবে নিজেকে কষ্ট দিয়ে কি হবে? খাবার শেষ করে তারপর রুমে যা।

আমি:- আচ্ছা আব্বা আপনি কি করে সব কিছু সহ্য করছেন?

আব্বা:- সংসার সূখে রাখতে একজনকে বোবা আর কানে শুনেও না শুনার মত করে থাকতে হয়। তোর মা সব কিছু করছে করুক আমি তো বাড়িতে আর কতক্ষণ থাকি।

আম্মা:- ছেলে আর বউদের সামনে কি শুরু করেছো?

আব্বা:- আমি কি আমার মনের কথাটা বলতে পারবোনা?

আমি:- তোমরা ঝগড়া করো আমি গেলাম! তখনি কলিং বেলটা ভেজে উঠছে আমি গিয়ে দরজাটা খুলেছি। তখনি চেয়ে দেখি তসিবা দাঁড়িয়ে আছে। তসিবা ভিতরে ঢুকে সোজা দাদির রুমের দিকে যেতে ছিলো তখনি আমি বলি। তসিবা দ্বাড়াও তুমি কোথায় গেছিলে?

দাদি:- তসিবাকে আমি বাহিরে পাঠিয়ে ছিলাম আমার একটা কাজের জন্য।

আমি:- বাহিরে তোমার কাজে গেছিলো! কি কাজ করতে গেছিলো? আর বাড়িতে আমরা সবাই আছি তা সত্যেও তসিবাকে কেনো পাঠালে?

দাদি:- কারণ ঐ কাজটা তোদের দিয়ে হতনা তাই তসিবাকে পাঠিয়ে ছিলাম।

আমি:- কি এমন কাজ আমাদের দিয়ে হতনা? তসিবা দাঁড়িয়ে আছো কেনো বলো কোথায় গেছিলে?

তসিবা:- দাদি তো বলছে ওনার কাজে গেছিলাম। তাও কেনো বার বার জেরা করছেন?

আমি:- কাজের মেয়ে কাজের মেয়ের মত থাকবে! মালিকরা যা বলবে তার সঠিক উত্তর দিবে তানা হলে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো। তখনি তসিবা আমার দিকে তাকিয়েছে ওর চোখে পানি টলমল করছে। আম্মা এক কাজ করেন টুনটুনিকে ফোন করে বলে দেন আর আসতে হবেনা ফ্রিতে কাজের মানুষ পাওয়া গেলে টাকা দিয়ে কেনো টুনটুনিকে রাখতে যাবেন?

আম্মা:- তসিবা তুমি যাও! আর সৌরভ আগামীকাল স্নেহা আসবে ওকে নিয়ে তুই একটু ঘুরতে যাবি।

আমি:- স্নেহা আসবে মানে? আমার কাজ আছে আমি কাওকে নিয়ে ঘুরতে যেতে পারবোনা।

আম্মা:- তোর অফিসের পরে যাবি! স্নেহা চায় তোর সাথে কিছুটা সময় কাটাতে। আমি চুপ করে আছি হঠাত একটা কথা মনে হলো।

আমি:- আম্মা স্নেহার সাথে ঘুরতে যাবো কিন্তু আমাদের সাথে তসিবাকে যেতে হবে। যদি রাজি থাকেন তাহলে আগামী কাল ৪টার পর যাবো।

আম্মা:- তসিবা তোদের সাথে গিয়ে কি করবে?

আমি:- কি করবে সেইটা তো গেলে বুঝবে! আর তাছাড়া কাজের মেয়ে সাথে থাকলে স্নেহার ব্যাগটা হাতে নিয়ে রাখতে পারবে। যদি তসিবা সাথে যাই তাহলে আমি যাবো কথাটা বলে আমি চলে এসেছি। রুমে এসে কিছুটা শান্তি পেয়েছি যেভাবে হোক তসিবা কেনো এমন করতেছে। শুয়ে পড়েছি আর মনে মনে কিছু প্লান করেছি। আজকের রাত্রিটা ছটফট করে কাটিয়ে দিলাম সকালে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখি সবাই খাবার টেবিলে।

আম্মা:- সৌরভ এসেছিস বস আমি আরো তোর ভাবিকে পাঠাচ্ছিলাম।

আমি:- নাস্তা করবোনা আমার কাজ আছে বাহিরে নাস্তা করে নেবো।

আম্মা:- বস কথা আছে!

আমি:- বলেন কি বলবেন?

আম্মা:- তসিবাকে তোদের সাথে যেতে দিবো এবার স্নেহাকে একটু সময় দিতে পারবি তো?

আমি:- ঠিক আছে আমি রাজি আছি! তসিবা চা বানাচ্ছে আমি তাকিয়ে আছি! আজকে তোমাকে এতটা মজা দেখাবো সেইটা সারা জীবন মনে থাকবে।

আম্মা:- নাস্তা করে যা।

আমি:- নাহ করবোনা বলে বেড়িয়ে এসেছি! আজকে বাসে করে অফিসে এলাম কারণ বিকালে স্নেহা আর তসিবা যদি আসে তাই বাইক নিয়ে আসিনি। কাজ করছি নিজের মত করে। বিকালে বেড়িয়ে গেলাম অফিস থেকে নিচে নেমে দেখি তসিবা আর স্নেহা দাঁড়িয়ে আছে! তসিবা বাড়িতে যেই কাপড়টা পড়ে ছিলো সেইটা পড়ে এসেছে। আমি কাছে গেছি।

স্নেহা:- হাই সৌরভ কেমন আছো?

আমি:- ভালো বলে স্নেহাকে জড়িয়ে ধরেছি তসিবার সামনে। স্নেহা তো পুরাই অবাক হয়ে গেছে।
স্নেহা তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।

স্নেনা:- ধন্যবাদ।

আমি:- তসিবা তোমার কি এর চাইতে ভালো কোনো ড্রেস ছিলোনা?

তসিবা:- কাজের মেয়ের পোষাক এর চাইতে ভালো হবে কি করে? আর আমি কাজের মেয়ে খারাপ পোষাক পড়লে কেউ ডাক দিবেনা।

আমি:- তোমার এই পোষাকে আমাদের সাথে গেলে আমাদের সম্মানে লাগবে। স্নেহা চলো আগে শপিংয়ে যাই তোমাকে আমি ফাস্ট গিফট করবো।

স্নেহা:- তাই চলো। একটা সি এন জি করে শপিং মহলে গেলাম। তসিবা নিজেকে কেমন ভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে রাখছে।

আমি:- স্নেহা তোমার কি লাগবে বলো?

স্নেহা:- তুমি যা গিফট করবে তাই।

আমি:- ঠিক আছে! স্নেহা সহ তসিবাকে সাথে করে একটা শোরুমে ঢুকলাম! স্নেহা তুমি এই জামাটা ট্রাই করতে পারো তোমাকে অনেক সুন্দর লাগবে। সাথে এই গুলি নিয়ে যাও যেইটা ভালো লাগে সেইটা নিয়ে নিবে।

স্নেহা:- সত্যি বলছো উম্মা তসিবার সামনে স্নেহা আমাকে গালে কিস করেছে। তসিবা তো দেখছে আর জ্বলছে। স্নেহা গেছে ট্রয়ালরুমে আমি আর তসিবা দাঁড়িয়ে আছি। তখনি দোকানের সেলসম্যান এসে বলে।

এই যে তুমি কেনো এখানে এসেছো? তোমার সাধ্যের কাপড় এই শোরুমে নেই। ঐ যে রাস্তায় ডাকা ডাকি করে বিক্রি করছে ঐখান থেকে গিয়ে কিনেন। তসিবা আমার দিকে তাকিয়ে আছে লজ্জা পেয়ে বেড়িয়ে আসতে ছিলো তখনি আমি ওর হাত ধরেছি।

আমি:- তসিবা দ্বাড়াও! ওনি আমার সাথে এসেছে আর তোমাকে বলছি কাস্টমারদের সাথে আপনাকে এমন ব্যবহার করতে কে পাঠিয়েছে? সেলসম্যান চুপ করে আছে আমি একের পর এক কথা বলে যাচ্ছি। তখন ম্যারাজার এসেছে।

ম্যারাজার:- সরি স্যার ও বুঝতে পারেনি ক্ষমা করে দেন। বলেন স্যার কি লাগবে আপনার?

আমি:- আপনাদের শোরুমে সবচেয়ে দামি কাপড় গুলি দেখান।

তসিবা:- আমার কিছু লাগবেনা।

আমি:- তোমার না লাগলে কি হয়ছে আমি কিনে দিচ্ছি। তসিবাকে আমার পছন্দ মত কিনে দিলাম। যাও জামা গুলি ট্রয়ালরুম থেকে ট্রাই করে এসো।

তসিবা:- বলছিনা লাগবেনা! তখনি তসিবার হাত ধরে জিন্স ট্রয়ালরুমে নিয়ে গেছি। এখানে নিয়ে এসেছেন কেনো?

আমি:- একদম চুপ বেশি চেচামেচি করলে ঠোটে কিস করে বসে থাকবো। তখনি তসিবা চুপ হয়ে গেছে। আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি তুমি ট্রাই করে দেখো। তসিবাকে ভিতরে রেখে আমি বাহিরে এসে দাঁড়িয়ে আছি! কিছুক্ষন পর তসিবা বেড়িয়ে এসেছে আমি তাকিয়ে আছে। ঐদিকে স্নেহা এসে আমাকে জিগেস করছে।

স্নেহা:- সৌরভ আমাকে কেমন লাগছে? আমি তসিবার দিকে তাকিয়ে বলি!

আমি:- অনেক সুন্দর মন চায়ছে তোমাকে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকি। তখনি স্নেহা আমার শরীরে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বলে।

স্নেহা:- আমার দিকে তাকিয়ে তো বলবে নাকী? তখনি স্বেহার দিকে তাকিয়ে বলি।

আমি:- হ্যা তোমাকেও সুন্দর লাগছে! তবে তসিবার মত নই! আরে এইটা কি বলছি তখনি স্নেহা বলে!

স্নেহা:- সৌরভ বুঝতে পারছি সমস্যা নেই আমি আমার বাবা মাকে বলে দিবো। তুমি তসিবাকে নিয়ে সূখে থাকবে আমি গেলাম।

আমি:- স্নেহা তোমাকে ধন্যবাদ।

স্নেহা:- তসিবা তোমাকে সত্যি কথা বলি! সত্যি বলতে আমাদের আজকের দেখা করাটা তোমাকে ঘিরে।

তসিবা:- মানে কি বলছেন?

স্নেহা:- বলছি গতকাল রাতে সৌরভ আমাকে ফোন করে আর সব কিছু বলে দেয়। আজকে দেখা করাটা মাত্র তোমাকে সাথে আনা। তোমরা থাকো আমি যাই।

আমি:- ধন্যবাদ স্নেহা তোমাকে! স্নেহা চলে গেছে আমি শোরুমে বিলটা দিয়ে তসিবাকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছি। তসিবাকে নিয়ে হাটতেছি তসিবা আমার কাতটা জড়িয়ে ধরে রাখছে। তখনি বলি তসিবা তোমার বাবা কেমন আছে?

তসিবা:- ভালোই আছে।

আমি:- ভালো থাকলেই ভালো চলো আজকেই তোমাদের বাড়িতে যাবো। তখনি তসিবা আমার হাতটা ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে!To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here