গল্প:- একটু অধিকার পর্ব:-(০১)

0
3667

গল্প:- একটু অধিকার পর্ব:-(০১)
লেখা_AL Mohammad Sourav
!!
বিন্তির বয়স মাত্র ১৪ আর ওর সাথে আমার বিয়ে ঠিক করছেন কেনো? বিন্তি এখনো ঠিক করে নিজের কাপড় পড়তে পারে না আর সেই মেয়ে হবে আমার বউ। আব্বু আমি বিন্তিকে বিয়ে করতে পারবো না এত ছোট মেয়েকে বিয়ে করলে বন্ধুরা আর সমাজ কি বলবে?

আব্বু:- এক মাস পরে বিন্তির বয়স ১৫ হবে। আর তোকে কে বলছে বিন্তি কাপড় পড়তে পারেনা? বিন্তি কি কাপড় না পড়ে থাকে? শুনো সৌরভ বিন্তি হবে তোর বউ।

আমি:- কিন্তু আব্বু।

আব্বু:- কোনো কিন্তু টিন্তু নেই। বিন্তির আব্বাকে আমি কথা দিয়ে এসেছি ওর সাথে তোর বিয়ে হবে। মা তুমি তোমার নাতিনকে বুঝাও আর বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলো।

দাদি:- শুন সৌরভ আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স ছিলো ১২। ছোট হাফপেন পরে বউছিঃ কানা মাছি খেলতাম। বিয়ে করে সংসার করার মত বয়স আমার ছিলো না। তোর দাদা আমাকে সব কিছু বুঝিয়ে আর শিখিয়ে নিয়েছে। আর তুই তো মাশাল্লাহ ভালো বুঝিস বিন্তিকে সব কিছু শিখিয়ে নিবি।

আমি:- কিন্তু দাদি তোমাদের সময় আর এখনকার সময় অনেক পার্থক্য আছে। প্লিজ তুমি আব্বুকে বলে বিয়েটা ভেংগে দাও। আর তাছাড়া বিন্তির আব্বা আম্মা রাজি হলো কি করে বিন্তিকে এখন বিয়ে দিতে?

দাদি:- বিন্তির বাবা মা ওরা তোকে অনেক পছন্দ করছে আর তাছাড়া বিন্তি তো অনেকটা লম্বা আছে বয়সটা একটু কম এতে তোদের দজুনকে মানাবে বেশ। এত কথা না বলে বিয়ের জন্য নিজেকে তৈরি কর। বড় নাত বউ তুমি সৌরভকে বুঝিয়ে দাও।

ভাবি:- সৌরভ ভাই আমার দেখো বাবা, মা, আর দাদি মা, যেহেতু রাজি আছে তুমি বিয়েটা করে নাও। আর বিন্তুি তোমার বউ হলে আমি বিন্তিকে সব কিছু বুঝিয়ে দিবো। দেখো তোমরা অনেক সূখে থাকবে।

আমি:- ভাবি তুমিও বলছো ঠিক আছে সবাই যেহেতু রাজি তাহলে আমার কি? আচ্ছা তাহলে আব্বুকে বলে দিও আমি বিয়ে করতে রাজি আছি।

ভাবি:- এই তো আমার লক্ষী ভাই। তাহলে এখন গিয়ে আমি বলছি,,,

আমি:- হ্যা যাও, ভাবি অনেক খুশি হয়েছে আর ভাবি আমাকে ভাই বলে ডাকে কারন ভাবির কোনো ভাই নেই। আমি রুমে এসে খাঠের উপর শুয়ে একটু ভাবতে লাগলাম বিন্তি আমার বউ। সব দোষ আমার কেনো জানি বিয়ে করতে বলছি আর বিন্তিকে বাচ্চা বাচ্চা লাগে রাস্তায় বের হলে বন্ধুরা কি বলবে? দূরর যা বলার বলবে তাতে আমার কি? নিজের মনে হাজারো প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেলো। মন খারাপ করে ছাদের উপর গেলাম কিছুটা একা থাকার চেস্টা মাত্র এমনি ভাবি এসেছে,,,

ভাবি:- সৌরভ তোমাকে আব্বু নিচে যেতে বলছে এসো আমার সাথে বলে ভাবি আমাকে নিচে নিয়ে এসেছে। আব্বু বলে,,,

আব্বু:- সৌরভ শুন বিন্তিকে আমি তুই সবাই তো ছোট থেকেই চিনি! ছোট থেকে অনেক সুন্দর আর লেখা পড়া অনেক ভালো। তুই ওকে একটু বুঝিয়ে নিবি তাহলে হবে।

আমি:- আমার বয়সের সাথে বিন্তির বয়সের পার্থক্য ১১ বছরের আর বয়সের পার্থক্য তেমন বড় ফেক্ট না। ফেক্ট হলো বিন্তি সংসার সম্পর্কে ওর কথটা ধারনা আছে সেই দিক দিয়ে একটু চিন্তা করলে ভালো হতো না?

আব্বু:- তোর আম্মার সাথে আমার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের তোর আম্মা আমার সাথে কত সুন্দর সংসার করতেছে তা তো তোরা দেখতেছিস। আমি বলি মন থেকে সব বাজে চিন্তা ছেড়ে দিয়ে বিন্তিকে নিয়ে কি করে সংসার করবি সেই দিকটা একটু চিন্তা করতে থাক। বউ মা তোমরা সবাই রেডি হয়ে নাও আমরা আগামী কাল সকালে গ্রামের বাড়িতে যাবো। আর বিন্তিকে আমাদের সাথে বউ করে নিয়ে আসবো।

ভাবি:- ঠিক আছে আমি সব কিছু গুচিয়ে নিবো। (সবাই সবার মত করে চলে গেছে আমি আঁকাশের দিকে উপরে তাকিয়ে বড় করে একটা নিশ্বাস নিয়েছি। রাতে চিন্তায় আর ঘুম আসেনি সকালে ফ্রেশ হয়ে হাল্কা নাস্তা করে গাড়িতে এসে বসেছি। ভাইয়া অনেক লাকী ভাবির মত একটা বউ পেয়েছে বিন্তি যদি ভাবির মত হতো তাহলে হবে।)

ভাইয়া:- সৌরভ এত কি চিন্তা করিস দেখবি বিন্তি অনেক ভালো হবে। সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে গাড়ীতে এক ঘুম দিয়েছি। ঘুম ভাঙছে একদম গ্রামে বিন্তিদের বাড়ীর সামনে তাও ভাবির ডাকে।

ভাবি:- সৌরভ এসে পড়েছি ঘুম থেকে উঠে বোতলের পানি দিয়ে মুখটা দুইয়ে নাও।

আমি:- আরে দূরর এসব লাগবে না, গাড়ি থেকে নেমেছি বিন্তির আব্বু আর কিছু ছোট ছোট ছেলে মেয়ে এসেছে। ওদের সাথে আমরা সবাই বাড়ির ভিতরে গেছি বাড়িটা অনেক বড় তবে টিন সেট বিল্ডিং অনেক মানুষের আনা গুনা। আমাদের মেহমানদারি আয়োজন করেছে বিন্তির বাবা।

আব্বু:- দোস্ত জাবেদ তাড়াতাড়ি কাজি আর মৌলভী সাহেবকে এনে শুভ কাজটা সেরে ফেলতে হবে। আমরা আজকে মা বিন্তিকে নিয়ে ঢাকা রওনা হবো।

আঙ্কেল:- জশিম একটু দেরি হবে তবে তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে আগে খাবার শেষ কর আগে পরে কথা বলছি।

আব্বু:- কি কথা বল আর তোকে একটু নার্ভাস লাগছে কেনো?

আঙ্কেল:- কোথায় নার্ভাস লাগছে? আজকে মেয়ের বিয়ে তাই একটু ইমুশনাল হয়ে আছি। আয় আগে খাবার দাবার শেষ করে নিবি।

আব্বু:- খাবো পরে আগে বিয়েটা করিয়ে দেয়! আঙ্কেলকে অনেক অনুরুদ করার পর ওনি রাজি হলেন আগে বিয়ে পড়াতে। কিছুক্ষণ পর কাজি আর মৌলভী সাহেব এসে আমার বিয়েটা পড়িয়ে দিয়েছে। তবে এখনো আমি বিন্তিকে দেখিনি ভাইয়া ভাবি আমার পাশে বসে আছে। কিছুক্ষনের মধ্যে আমাদের খাওয়ার কাজ শেষ।

আঙ্কেল:- রাত হয়ে গেছে আজকে আমাদের বাড়িতে থেকে যা কাল সকালে তোরা ঢাকা চলে যাস কেমন?

আব্বু:- কিন্তু?

আঙ্কেল:- কোনো কিন্তু নেই রাত হয়ে গেছে আর আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করেছি। আর জশিম তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে চল। আব্বাকে নিয়ে আমার আঙ্কেল চলে গেছে আমি বসে আছি।

আমি:- ভাবি আজকে থাকাটা কি জুরুরী ছিলো?

ভাবি:- কি করবো বলো আব্বা তো থাকতে রাজি হয়েছে। তুমি বসো আমি বিন্তির সাথে কথা বলে আশি।

আমি:- ঠিক আছে! ভাইয়া বসে আছে কিছুক্ষণ পর আব্বু ভাইয়াকে ডেকে নিয়েছে। ভাইয়া আব্বু মিলে কথা বলছে ওনাদের খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে। আমি উঠে যেতেছি তখনি ভাবি এদিকে এসেছে।

ভাবি:- সৌরভ কোথায় যাচ্ছো?

আমি:- ভাইয়া আব্বুকে কেমন চিন্তিত মনে হচ্ছে ঐদিকে যাচ্ছিলাম।

ভাবি:- তুমি বসো আমি যাচ্ছি। ভাবি গেছি তখন তিনজন মিলে কথা বলছে আর সবাই রুমাল দিয়ে ঘাম মুছতেছে বারে বারে। কিছুক্ষণ পর ভাবি এসেছে।

আমি:- ভাবি কোনো সমস্যা হয়ছে?

ভাবি:- নাহ তেমন কোনো সমস্যা নেই! চলো রাত অনেক হয়ছে বিন্তি তোমার জন্য রুমে অপেক্ষা করছে! ভাবি আর বিন্তির ভাবি মিলে আমাকে একটা রুমে নিয়ে গেছে। সৌরভ শুভ কামনা রইলো বলে ওরা চলে গেছে।(আমি দরজাটা লাগিয়ে ঘুরে দেখি লম্বা একটা ঘোমটা দিয়ে একজন বউ সেজে বসে আছে। আমি সামনে যেতেই মেয়েটি নিচে নেমে এসে পা ছুয়ে সালাম করছে আমি ধরে উঠায়ছি তখনি আমার বউ দেখে তো পুরাই অভাক হয়ে গেছি)

আমি:- আপনি কে আর এখানে কি করছেন? এখানে তো বিন্তি থাকার কথা আপনি কি করছেন? আর বিন্তি কোথায়?

বউ:- আমার সাথে আপনার বিয়ে হয়ছে! আমি আপনার বউ আর বিন্তি তার বয় ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে গেছে।

আমি:- মানে কি বলছেন? এত ছোট মেয়ের আবার বয়ফ্রেন্ড আছে নাকী?

বউ:- কাকে ছোট বলছেন?

আমি:- বিন্তিকে! কিন্তু আমাকে তো কেও বলেনি আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়ছে।

বউ:- বলেনি তো কি হয়ছে এখন তো দেখছেন আর জানছেন? এবার বলেন আমাকে আপনার কেমন লাগছে?

আমি:- দেখুন বেশি ওবার স্মার্ট সাজতে যাবেন না বলে দিলাম। সত্যি করে বলেন আপনি এখানে কেনো এসেছেন? আপনি কি বিন্তির ভাবি হন নাকী?

বউ:- কি ভাবি আজব কথার্বাত্রা বলছেন কেনো? বলছি তো আপনার সাথে আমার বিয়েটা হয়ছে! বিন্তি আমার খালাত বোন ওর বিয়ে উপলক্ষে এসেছি ওদের বাড়ীতে আর এসে নিজের বিয়েটা ডেকে আনছি।

আমি:- কি আমার সাথে এত বড় প্রতারনা বের করছি বলে দরজা খুলে দেখি ভাইয়া ভাবি আব্বা সবাই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

ভাইয়া:- কি রে এমন ভাবে বেড়িয়ে আসলি কেনো?

আমি:- ওরা আমাদের সাথে চিটিং করেছে বিয়ের দিন পাত্রি বদল করে দিয়েছে। বিন্তির যায়গা অন্য একটা মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দিয়েছে।

আব্বা:- এইটা তুই ছাড়া আমরা সবাই জানি এখন রুমে যা। যা হবার হয়ে গেছে এখন মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেয় তোর।

আমি:- কি বলছেন এসব কথার্বাত্র?

আঙ্কেল:- বাবা তুমি ওকে বউ হিসাবে মেনে নাও। ও মেয়ে হিসাবে অনেক ভালো। বিন্তির সাথে তোমার বিয়ে হবার কথা ছিলো! কিন্তু বিন্তি যে এমন কাজ করবে আমি কল্পনা করতে পারিনি।

ভাইয়া:- সৌরভ যা হয়ছে ভালোর জন্য হয়ছে। যদি বিন্তির সাথে তোর বিয়ে হবার পর বিন্তি পালিয়ে যেত তাহলে কি করতি বল?

ভাবি:- ভাই তুমি মেনে নিয়ে ওর সাথে সুন্দর করে সংসার কর।

আমি:- ঠিক আছে আমি না হয় মেনে নিলাম! কিন্তু আম্মু আর দাদি মেনে নিবেন তো? এইটা সবাই মিলে একটু চিন্তা করেন আমি গিয়ে ঘুমায়। রুমে এসেছি দেখি বউ আমার মগ দিয়ে পানি ঢালছে খাটের উপর! আরে কি করছেন? বলে আমি ওকে বাঁধা দিতে যাচ্ছিলাম আর ঠিক তখনি পা পিছলে পরে গেছে। ফ্লোরে হাত দিয়ে দেখি তৈল দিয়ে সবটা বিজিয়ে রাখছে? ঠিক তখনি নতুন বউ এসে আমার বুকের উপর বসেছে! To be continue,,,

( প্রিয় পাঠক আপনাদের যদি আমার গল্প পরে ভালোলেগে থাকে তাহলে আরো নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য আমার facebook id follow করে রাখতে পারেন, কারণ আমার facebook id তে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প, কবিতা Publish করা হয়।)
Facebook Id link ???

https://www.facebook.com/shohrab.ampp

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here