গল্পঃ ফুল_শর্য্যায়_ছ্যাকা পর্ব_০৭

0
2034

গল্পঃ ফুল_শর্য্যায়_ছ্যাকা পর্ব_০৭
লেখকঃ রাইসার_আব্বু

——- আচ্ছা ঠিকআছে বলে রুমের দরজাটা লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম চোখে ঘুম আসতেই কে জানি মুখ চেপে ধরেছে!!মনে হচ্ছে আজকেই আমার শেষ দিন মনে মনে সূরা পাঠ করছি কিন্তুু কোনো ভাবেই হাত সরাচ্ছে না এ মা ভূত দেখি বুকের ওপর চড়ে বসেছে মনে হয় আজকেই শেষ জীবন ছোটবেলা থেকেই ভূত পেতের কথা শুনে ভয় পায় আআর আআজ ববুকে চড়ে বসেছে হঠাৎ আবার মনে হচ্ছে ভূতের হাত নাকি শক্ত থাকে এটা তো মনে হচ্ছে তোলার মতো আবার অনেক পারফিউম ও বের হচ্ছে!!!

—– এটা ভূত মনে হচ্ছে না তো হঠাৎ কানের কাছে ভূতটা আমাকে বলতেছে একদম কথা বলবানা যদি বলো তাহলে একবারে মেরে ফেলবো নিজেকে কি মনে করে আমি কি দেখতে খারাপ দিনের বেলা বলেছিলাম না রাতে বুঝাবে!!??

—– একটা শর্ক খেলাম বুঝতে বাকি হইলো না এইটা পাখি!! পাখি বলে যখনি চিক্কার দিবো মুখটা ধরে বলতে শুরু করলো এই যে babu cool down চিক্কার দিলে আপনার বউ কথাকে বলে দিবো রোজ রাতে আমাকে নিয়ে আপনি?? বাকি টুকু বুজে নেন!!! ( পাখি)

—— এদিকে পাখির কথা শুনে হিরো থেকে জারো বনে গেলো বৃষ্টি ভেজা রাতেও গলা শুকিয়ে গেছে কি বলবো আল্লাহ দড়ি ফালাও মেয়েয়া এতো বড় গুন্ডি হয় তা জীবনেও ভাবতে পারিনাই মনে মনে ভাবছে রাতে যদি আমার সাথে এই গুন্ডি মেয়ে টা থাকে নির্ঘাত আমাকে র্যাপ করবে এই কথা মনে করে বুকে থুথু দিলাম!!( আমি)

——- এই রাজ বাবু কি ভাবছো কথা বলো না কেনো?? (পাখি)

—– কি বলবো তোমাকে হু হু ভয়ে আমার পা কাপছে উনি আছে কথা বলা নিয়ে??? (আমি)

—— কি বলো বাবু তোমার পা কাপপে কেনো হু আচ্ছা কোথায় ছিলে এই দুইদিন তোমাকে এওো এওো মিস করছি!! (পাখি)

—— পাখি তোমার পা পড়ি প্লিজ বের হও আমার রুম থেকে প্লিজ রক্ষা করো আমায়?? (আমি)

——- ওমা এমন কথা মুখেও আনবেনা জানোনা প্রেমিকের পায়ের নিচে প্রেমিকার নিরাপদ আশ্রয়স্হল বুঝছো আল্লাহ পাপ দিবো এমন কথা বললে আর কখনো বলবানা এমন কথা?? (পাখি)

—— আল্লাহ পাপ দিবো না তোমার মাথায় ঠাডা ফালাবো আবার বলো নিরাপদ আশ্রয় স্হল আমার পায়ের নিচে!! (আমি)

——- হুম সত্যি বলছি প্রেমিকের পায়ের নিচে প্রেমিকার নিরাপদ আশ্রয় স্হ!!! (পাখি)

—– পাখি কেন বুঝহো না তুমি আমার প্রেমিকা নও আর আমি বিবাহিত তুমি এটাও জানো যে আমার জান প্রাণ জুড়ে শুধু কথার অস্হিত্ব বিরাজমান এই জীবনে কেন পর জীবনেও তার স্হলে বসাতে পারবোনা তুমি শুধুমাএ আমার ভালো একটা ফেন্ড এইটুকু কিন্তুু আজ যা করলে লজ্জা করে তোমাকে ফেন্ড ভাবতে???( আমি)

—– হা হা কিসের বিয়ে যে মেয়ে তোমাকে এতিম বলে গালি দেয় বিয়ের রাত থেকে এই পর্যন্ত স্বামীর অধিকার দেয়নি তোমাকে সে আবার বউ আমি সেই দিন সব শুনেছি রাজ শুনো আমি তোমাকে ভালোবাসি আমি শুধু এইটুকুই জানি আর হা কথা তো তোমার কাছে ডির্ভোস চাইছে দিয়ে দাও জানিনা কতো ছেলের সাথে কি না কি আছে??? (পাখি)

—–ঠাস ঠাস ঠাস!!!

—— তুমি শুধু আমার বন্ধু বলে বেচে গেলে কি কথা খারাপ কে বলছে তোমায় আর হা কথা এখনো আমার বউ আর আল্লাহর পবিএ কালামের বন্ধন কখনো ছিন্ন হতে পারে না আর তোমার কি ভাবে সাহস হয় আমাদের স্বামী স্ত্রীর ব্যাপারে কথা বলতে??? (আমি)

—– হ্যা হ্যা আরো মারো তাও বলবো তোমাকে ভালোবাসি?? (পাখি)

——- তুমি আর কোন দিন আমার সামনে আসবে না বুঝছো???( আমি)

——– আচ্ছা তোমার কথাটা রাখলাম দিনে কখনো ইচ্ছা করে তোমার সামনে আসবো না কিন্তুু রোজ রাতে ভূত হয়ে আসবো কারণ তুমি রাতে আসতে নিষেধ করনি সত্যি বাবুটা অনেক ভালো??? (পাখি)

——- আল্লাহ রক্ষা করো আমায় এই মেয়েটাকে তুমি কি লজ্জা সরম কিছুই দেওনাই?? (আমি)

—— লজ্জা সরম থাকলে প্রেম হয়না?? ( পাখি)

——– তুমি বের হও বলছি আমার রুম থেকে এখন বের হও প্লিজ পাখি কথা দেখে ফেললে কি ভাববে??( আমি)

——- আচ্ছা রাজ তোমাকে জড়ায় ধরি??( পাখি)

—– কি বাজে বকছো বের হবা কিনা??? +আমি)

—— আচ্ছা সাথে একটা পাপ্পি কেমন??? (পাখি)

——– আল্লাহ কোন বিপদে ফেললে আমায় এইটার চেয়ে ভূতের হাতে মরাও ভালো ছিলো???(আমি)

—— আচ্ছা সবাই ঘুমাচ্ছে মনে হয় কথা ভাবী এই ঘুমাল আমি একটা এলার্ম দেয় কেমন অ্যা বলে যেয় চিল্লানি দিবে ঠিক তখনি মুখটা ধরে ফেললাম??

—– হাতটা ছাড়িয়ে আস্তে আস্তে বলতে লাগলো এই তো বাধ্য ছেলে এই বলে জড়ায় ধরে পাপ্পি দিলো আমি মূর্তির মতো দাড়িয়ে আছি কিছু বলার শক্তি নেই!!!

—— আচ্ছা চলি!!?? (পাখি)
..
—- হুম জান মনে রাখবেন পাখি নামে আমার কোনো বন্ধু ছিলনা আজ বন্ধুত্বটাও নষ্ট করলেন?? ( আমি)

—– আচ্ছা এলার্ম টা দেয় কেমন??? (পাখি)

—— না না তোমার পায়ে পড়ি প্লিজ যাও কথা ওঠে পড়বে?? (আমি)

—— আচ্ছা গেলাম কেমন শুভ রাএি এই বলে চলে গেলো??? (পাখি)

——— মনে মনে ভাবছি যাক আপদ টা বিদায় হলো আল্লাহ এর চেয়ে ভূতের হাতে ফেলো আমাকে আফসোস নেই তাও এমন গুন্ডির হাতে না কি করবো সবাই ব্যাক্লমেইল করে??

এই সব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম???

—— সকালে দেখি কে যেনো দরজায় লক করছে??

—— তাই গিয়ে দরজা খুলতেই একটা শর্ক খেলাম আজ কথা হঠাৎ আমার পছন্দের নীল কালারের শাড়ি পড়েছে আজকে আবার শুক্রবার তাই অফিস বন্ধ তাই ভাবলাম কথাকে নিয়ে একটু ঘুরতে বের হবো মনে মনে ভাবছি কথা কি রাজি হবে??? (আমি)

——– এই রাজ কই হারিয়ে গেলে?? (কথা)

—- অনেক ক্ষণ ধরে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কিছু বলছো না যে?? (কথা)

——– না একটা কথা বলবো??? (আমি)

——– আচ্ছা কি বলবা বলো তোমার তো পাচদিনের বউ আমি শর্ত মোতাবেক যা ইচ্ছা বলতে পারো?? (কথা)

——-কথার মুখে বউ ডাকটা শুনতেই মনটা শিহরিত হয়ে উঠলো!!!

——- কি জানি বলবা বলো না কেনো?? ( কথা)

—– বলছিলাম আজ শুক্রবার
ছুটির দিন চলো না বাহিরে থেকে ঘুরে আসি??? (আমি)

——– আচ্ছা ঠিক আছে তবে আজ তোমার নীল পান্জাবীটা পড়বে কেমন?? (কথা)

—— আচ্ছা ঠিক আছে এই বলে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম!!

— ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে যখনি বের হবো তখনি দেখি কথার হাতে ফোনটা ক্রিং ক্রিং শব্দ হচ্ছে!!

—— একবার রিং হতেই কথা ফোনটা ধরলো ফোনটা ধরতেই হ্যালো জানু কেমন আছো??? (সজিব)

—— এওোদিনে তোমার মনে পড়লো তোমার জানু টাকে জানোনা আমি অসুস্হ ছিলাম??? ( কথা)

——সরি সরি সরি এওোগুলা সরি কি করবো বলো অফিসে এওো কাজ ছিলো যার জন্য ফোন দিতে পারিনি?!! (সজিব)

—- আচ্ছা ঠিক আছে কেমন আছো??? (কথা)

—— তোমাকে ছাড়া ভালো থাকি কিভাবে বলো আমার মনটা যে তোমাকে দিয়ে দিয়েছি!! আচ্ছা তুমি কেমন আছো??? (সজিব)

—— তোমার মতোই আছি!!( কথা)

———- আচ্ছা তুমি কি ওই এতিমটাকে ডির্ভোস দিয়েছো?আর হা আমি আগামি সপ্তাহে আসতেছি কেমন??? (সজিব)

——– কি বললা সত্যি তুমি আসতেছি আর হ্যা পাচদিনের আজকে তিনদিন দুইদিন পরই ডির্ভোস নিয়ে নিবো তুমি কোনো চিন্তা করোনা কেমন!!! (কথা)

——–ooh really আচ্ছা জানু miss you পড়ে কথা হবে!! (সজিব)

——- ok same here bye miss you sweet heart( কথা)

——- এদিকে দূরে থেকে কথাগুলো শুনছিলাম তাই ইচ্ছা কৃত ভাবেই বললাম তুমি চাইলে আজ বাহিনে নাও যেতে পারো?? (আমি)

——– আমি যাবো আর আমি চাইনা কাউকে কথা দিয়ে কথার অমর্যাদা করতে তুমি চলো আর হ্যা আমার ডির্ভোস এর কথাটা মনে রেখো কেমন??? (কথা)

——- ডির্ভোসের কথা টা শুনে আবারো মনের মাঝে ঝড় বইতে থাকলো কি করবো যে পাখি ঘড় বুঝেনা তাকে মুক্ত করে দেওয়াই শ্রেয়!!

—- ঘুরতে যাবেনা লেট হয়ে যাচ্ছে তো?? (কথা)

—— হুম চলো এই বলে গাড়িতে করে ছোটবেলায় যে খানে বেশি যেতাম সেই কাশফুলে ঘেরা নদীর ধারে শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে নিরিবিলি পরিবেশ অনেক ভারো একটা জায়গা কতো স্মতি লুকিয়ে আছে এখানে শৈশবের!!!

—– রাজ রাজ ওই যে দেখো দূরে অনেকগুলো শাপলা কি সুন্দর না??? (কথা)

——- হুম অনেক সুন্দর তবে আজ কারো আগমনে আরো সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে??? (আমি)

—- মানে কি বললা কার আগমনে সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে?? (কথা)

—— বলছিলাম বসন্তের ফোলের আবেশে ফুলগুলো আজ আরো সুন্দর দেখাচ্ছে!! (আমি)

—— ও ও তাই বুঝি যানো রাজ মনে হচ্ছে এই জায়গায় আনো কত এসেছি অনেক পরিচিত লাগছে পরিবেশটা?? (কথা)

—— একবার বলতে চাইলাম যে শৈশবের সেই স্মতিগুলো বৃষ্টি ভেজা ডিঙি নৌকায় করে শাপলা ফুল তোলা দুজন একসাথে কদম ফুল পেড়ে একে অপরকে ছিটানে কিন্তুু কি বলবো যে স্মতিগুলোই ভুলে গেছে তার মনে স্মতিগুলো জাগিয়ে তুলে কি লাভ!! তাই বললাম অনেক জায়গা মাঝে মাঝে মনে হয় অনেক চেনা অনেক পরিচিত কিন্তুু বাস্তবে তা না!! (আমি)

——- হুম তাই মনে হয়?? (কথা)

—– আচবছা রাজ চলো ওই দিকটায় গিয়ে বসি কেমন?? (কথা)

—— হুম চলো ভালোই দেখাচ্ছে নদীর ধারে কাশফুল গুলো!!!( আমি)

—–সত্যি রাজ জানো কাশফুল আমার অনেক পছন্দ অনেকদিন পর দেখলাম এই সাদা মেঘের বেলা??( কথা)

—– সাদা মেঘের বেলা কি?? (আমি)

—— হা হা তুমি জানো না সাদা মেঘের বেলা মানে কাশফুল আমি ভালোবেসে ডাকি সাদা মেঘের বেলা!! (কথা)

——– ও আচ্ছা এই ভাবে কথা বলতে বলতে বিকেল হয়ে যায় তাই কথাকে বললাম চলো বাসায় যায়?? (আমি)

——- হুম চলো!! (কথা)

—– একটা গাড়ি নিয়ে বাসায় রওনা দিলাম কিন্তুু শেরপুর কলেজ মোড় আসতেই দেখি জীম নামের সেই মেয়েটা রাস্তায় সাইঠে স্কুল ড্রেস পড়া সাথে স্কুল ব্যাগ নিয়ে কাদছে তাই কথাকে বললাম আচ্ছা কথা তুমি যাও আমার শহরে একটা দরকার আছে কেমন?? (আমি)
**নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”**

——– আচ্ছা রাজ সাবধানে থেকো বলে কথা আমাকে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলো!!

— এদিকে তাড়িহুড়া করে জীমের কাছে গেতেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলো!!!

—— এই যে আপু কাদছো কেনো স্কুলের ম্যাডাম কি বকা দিছে?? (আমি)

——— না ভাইয়া তুমি তো জানো আপন বলতে এই দুনিয়ার তুমি আর মা জানো মা টা একসিডেন্ট করেছে হসপিটালে ডাক্তার বলছে টাকা লাগবে কি করবো ভাইয়া তোমার বাসা কোথায় তাও জানিনা কি করবো রাস্তায় দাড়িয়ে প্রার্থনা করছি আল্লাহ যেনো তোমাকে পাইয়ে দেয় ভাইয়া প্লিজ আমার মাকে বাচাও প্লিজ ভাইয়া একটাই মাএ থাকার অবলম্বন আমার ভাইয়া সারাজীবন তুমি যদি চাও তোমার দাসী হয়ে থাকবো প্লিজ আমার মাকে বাচাও?? ( জীম)

—– কি বলছিস তোর মা তো আমারো মা এই বলে জীমকে নিয়ে হসপিটালে গিয়ে জানতে পারলাম ও নেগেটিভ রক্ত লাগবে ব্লাড ব্যাংক কোথাও রক্ত পাোয়া যাচ্ছেনা আর রক্ত না পাওয়া গেলে রোগী বাচবেনা?? (ডাক্তার)

——- আচ্ছা ডাক্তার আমার রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ আমি রোগীকে রক্ত দিবো??

—– আচ্ছা চলেন এদিকে রক্ত দেওয়ার পর জীমের মা অনেক সুস্হ হয়েছে এইদিকে জীমকে রেখে বাসায় এসে পড়লাম

—— রাজ কি এত লেট হলো কিভাবে? (কথা?)

—— না একটা কাজ ছিলো বলতেই দেখি পকেটে থাকা ফোনটা কাপছে…
—— না একটা কাজ ছিলো বলতেই দেখি পকেটে থাকা ফোনটা কাপছে তাই ফোনটা ধরলাম ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে কান্নার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে!!

——-কি হয়েছে অপরিচিতা বলো আমায় কি হয়েছে বলবে তো আমায়??( আমি)

——– রাজ আমার শেষ অবলম্বনটাও শেষ হয়ে যাচ্ছে এই বলে কাদতে লাগলো!!! ( অপরিচিতা)

——- হঠাৎ রাইসার কথা মনে পড়লো কিছু হয়নি তো মেয়েটা কেমন জানি বুকের মাঝে রক্তক্ষরণ হতে লাগলো অজান্তের চোখের দুই ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো হাতটা কাপতেছে তাই আবারো জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে রাইসার কিছু হয়ছে কথাটা বলতে গলাটা ধরে এলো??

——-না রাজ রাইসার কিছু হয়নি এই বলে আবারো কাদতে লাগলো ( অপরিচিতা)

——- কি হয়েছে বলবে তো কান্না থামাও প্লিজ?? ( আমি)

——-রাজ জানো আমার শেষ ছায়া টুকু বাবাও আজ স্টক করেছে এই বলে কান্না করতে লাগলো?? ( অপরিচিতা)

——- স্যারের স্টকের কথাটা শুনতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো কি বলে স্বান্তনা দিবো বুজতে পারছিনা বিয়ের পরই স্বামীকে হারিয়েছে মেয়েটা একটা মেয়ে তারও মৃত্যুর দিন গুনতেছে আর শেষ আশ্রয় বাবাটারো এই অবস্হা কি বলবো তা বুজতে পারছিনা???( আমি)

——- রাজ কি হয়েছে কাদছো কেনো?? ( কথা)

——- আচ্ছা তুমি চিন্তা করোনা আমি যাচ্ছি হসপিটালে?? (আমি)

—— কি রাজ কোথায় যাবে তুমি এত রাতে খাওনি ও তো এখনো আর এইবাবে মেয় মানুষের মতো কাদছো কেনো বলবা তো কি হয়েছে??? ( কথা)

———- না তেমন কিছু হয়নি আমার এক জায়গায় যেতে হবে আমি আসি???

—– রাজ শর্ত মোতাবেক আমি তোমার বউ আমি জানতে চাচ্ছি কি হয়েছে কাদো কেনো??

—– কথার মুখে বউ ডাকটা শুনে মনের মাঝে অজানা এক অনুভূতি শিহরে ওঠলো!!!

—— কি হচ্ছে বলবানা আর যেখানে যাবে খেয়ে যাবে??? (কথা)

—– শুন তাহলে আমার অফিসের বস মারা গেছে??? (আমি)

—— ও আচ্ছা ঠিক আছে খেয়ে যাও কেমন!! ( কথা)

——– এদিকে কথার দিকে তাকিয়ে মাথাটা নিচু করে হ্যা সূচক জবাব দিলাম!!! (আমি)

—— এদিকে কথা টেবিলে খাবার সাজিয়ে ডাকতেছে তাই ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে গেলাম!!!

—– এদিকে দুজনে বসে খাবার খাচ্ছি হঠাৎ কথা বলতে লাগলো!!

—— রাজ তোমাকে একটা কথা বলবো?? (কথা)

——- হুম বলো কি বলবা?? (আমি)

———– রাজ যানো তো কাউকে কথা দিলে তা রাখতে হয় ( কথা)

—— হুম তা তো অবশ্যই!! ( আমি)

—— রাজ তোমার কথা মতো আগামী পরশু আমাকে ডির্ভোস দিবে কেমন আর এইটা তুমি কথা দিয়েছো আজ শর্তের তিন দিন !! (কথা)

——— এদিকে কথার এমন কথা শুনে খাবার মাথার তালুতে ওঠে গেলো!!!

—-আস্তে খাবে না ন করে খেলে তো তালিতে ওঠবেই??? (কথা)
..
——– মনে মনে বললাম খাওয়ার সময় কথাটা না বললেও পারতে !!( আমি)

——— কি ভাবছো রাজ তোমার আর আমার ডির্ভোসের কথায় তো ভাবছো!! ( কথা)

——– হুম তুমি ঠিক বলেছো চিন্তা করোনা ঠিক সময়ে ডির্ভোস লেটার পেয়ে যাবো!! (আমি)

——— ও রাজ বাচালে আমায়। জানো সজিব না আগামি সপ্তাহে দেশে আসতেছে আর সজিব দেশে এসেই বিয়ের কাজটা ছেড়ে ফেলতে চাচ্ছে?? (কথা)

——- ও আচ্ছা ভালোই হবে যাকে ভালোবাসো তাকেই পাবে?? (আমি)

——– হুম রাজ দোয়া করো আমার আর সজিবের জন্য কেমন?? ( কথা)
..
——- হুম তা তো অবশ্যই!! আচ্ছা আমি ওঠি আমার হসপিটাল যেতে হবে!!! (আমি)

——– তুমি তো কিছুই খেলেনা আর তোমার মেয়েটাকে কাল একটু বাসায় নিয়ে আইসো তো আর তোমার বউটাও অনেক মিষ্ট( কথা)

——– এদিকে কথার কাছে অপরিচিতার কথা শুনে অনেকটা অবাক হলাম রাইসা আমাকে বাবাই বলে ডাকে কারণে কথা মনে হয় অপরিচিতাকে আমার স্ত্রী ভেবে নিয়েছে মনে মনে ভাবলাম সত্যি টা বলে দেয় আবার ভাবলাম না থাক সত্যিটা বলেই কি হবে?!! ( আমি)

—- কি ভাবছো?? ( কথা)

—— না কিছুনা চলি আমার আসতে সকাল ও হতে পারে?? (আমি)

—- ও আচ্ছা দেখে যেয়ো!!! (কথা)

——— হুম আচ্ছা আসি এখন এই বলে চলে গেলাম হসপিটালে গিয়ে দেখি রাইসা আর অপরিচিতা স্যারের মাথার কাছে বসে আছে!!!

——— বাবাই আসছো তুমি দেখো মম কান্না করতেছে তুমি বলোনা বাবাই মম যেনো কান্না না করে!!!যানো বাবাই মম কান্না করলে আমারো কান্না আসে!! (রাইসা)

—— এদিকে চেয়ে দেখি অপরিচিতা স্যারের কাছে বসে কাদছে তাই কাছে গিয়ে বললাম চিন্তা করোনা তুমি স্যারের কিছু হবেনা?? ( আমি)

—— রাজ কি করবো বলো বাবাই যে আমার শেষ আশ্রয়?? ( অপরিচিতা)

———– রাজ বাবা আসছো তুমি???( স্যার)

———- হুম স্যার বলেন??? (আমি)

——— রাজ আমি তোমার বাবার মতো আমি জানি আমি দুনিয়ার অল্প কিছুক্ষণের মেহমান তাই আজ তোমাকে কিছু বলতে চায় এই কথা গুলো অনেকদিন আগে থেকেই বলবো বলবো ভাবছিলাম?? ( স্যার)

——— আচ্ছা স্যার কি বলছেন বলেন??? ( আমি)
..
——- জানো রাজ আমার মেয়েটা এতটাই অভাগী জন্মের দিন তার মাকে হারিয়েছে মায়ের দুধ টুকুও খেতে পারেনি হসপিটালের বেডে রেখেই চলে যায় না ফেয়ার দেশে আর তখন মেয়েটার কষ্ট হবে ভেবে আর কখনো জীবনে বিয়ে করিনি জানো জীবনের প্রতিটি পদে পদে মেয়েটি কষ্ট পেয়েছে জানো রাজ কতো ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিলাম মেয়েটাকে বছর হতে না হতেই রাইসার যেদিন পৃথিবীতে আসে সেই দিনই অপরিচিতায় মায়ের মতো তার স্বামমীটাও চলে যায়!!! যানো মেয়েটাকে সেদিন শান্তনা দেয়ার ভাষাটাও হারিয়ে ফেলেছিলাম আর একটা মেয়ে রেখে গেছে রাইসা তার জন্যও মৃত্যুর দিন গুনতে হচ্ছে বলো মেয়েটা কি এমন অপরাধ করছে যার জন্য কাছের মানুষগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে জানো রাজ এতোদিনে যে টুকু বুজেছি আমার মেয়েটা তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে জানিনা তোমাকে বলেছে কিনা আমি তো থাকবো না তাই বলেছিলাম তুমি রাইসার বাবা হয়ে থাকো??? ?(স্যার)

——- এদিকে স্যারের কথা শুনে পায়ের নিচে মাটি সরতে লাগলো আমি কেমনে রাইসার বাবা হবো বিবাহ নামক শৃঙ্খলে আমি যে আজ আবদ্ধ আমার হৃদয়ের আকাশটা যে একজনকে লিখে দিয়েছি সে যে আমার ছোটবেলায় খেলায় সাথী কথা??!!!

——- রাজ বাবা কিছু বলো আমি তো চলে যাচ্ছি তাই মেয়েটাকে তোমার কাছে রেখে গেলাম?? (স্যার)

——- স্যারেরর কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো কি বলবো তাই চুপ করে আছি!!!

——- হঠাৎ অপরিচিতা স্যারকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো!!! বাবা ওঠো বাবা আমাকে কার কাছে রেখে মার মতো চলে গেলে সারাজীবন কি আমি হারাবোই ওঠনা বাবা ওঠো প্লিজ ওঠো??? কান্না করতে করতে কথা গুলো বললো!! ( অপরিচিতা)

——– এদিকে অপরিচিতাকে কি বলে সান্তনা দিবো ভেবে পাচ্ছি না তাই বললাম কেদো না সবার বাবা মা তো চিরকাল থাকেনা???? (আমি)

—— জানো রাজ আজকে আমার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে ফেললাম জন্মের পর মাকে হারালাম বড় হতেই বিয়ের পর স্বামীকে হারালাম আজ আবার শেষ আশ্রয় বাবাটাকেও হারাইলাম একটা মেয়ে আছে সেও মৃত্যু পথযাএী কেনো আল্লাহ আমার সাথে এমন খেলা করছে বলতে পারো????( অপরিচিতা)

—– প্লিজ কান্না করোনা কি বলছে কেউ নেই আমি তো আছি??
..
—— বাবাই বাবাই মা কান্না করো কেনো নানু ভাইয়ের কি হয়েছে বলোনা বাবাই?? (রাইসা)

———–এদিকে রাইসার কথায় জবাব কি বলে দিবো ভেবে পাচ্ছিনা তাই বললাম মহারানী তোমার নানা ভাই না ফেয়ার দেশে চলে গেছে!!! ( আমি)
চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here