ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_34/35/36

0
2881

ক্রাশ যখন বর Season_3 Part_34
Writer-Afnan Lara

তনু-হ্যাঁ
শিশির তনুর হাত হ্যাঁচকা টান দিয়ে কাছে নিয়ে আনলো,
শিশির-সত্যি??এটা কেন মনে হচ্ছে তোমার,আর কেন?আর এই টাইমে তোমার মতে আমার কি করা উচিত?
তনু-আমি জানি না,এটা তো আপনার জানা উচিত
শিশির-ভিজে গেসি,এখন ভিজা গায়ে romance করলে তো জ্বর এসে যাবে
তনু-আমি তো জোর করতেছি না,আমি তো নাতাশা নই
শিশির তনুর চুল টেনে ধরলো
শিশির-নাতাশার সাথে নিজেকে মিলাবা না,তুমি এসব বাদ দিয়ে যাও change করে আসো
তনু চলে গেলো,
change করে আসতেই শিশির জড়িয়ে ধরলো তনুকে
তারপর কোলে তুলে নিয়ে গেলো খাটে,তনুকে চুমু দিতে যাবে তনু মুখ সরিয়ে ফেললো
শিশির-কি করলাম আমি
তনু-কিছু না,আমি ঘুমাব
শিশির-ফাইন
শিশির উঠে চলে গেলো,
তনু শুয়ে আছে কিন্তু চোখ বুজতে পারে না,,কান্না পাচ্ছে খুব,শিশির কেন আমার রাগ ভাঙায় না,,
শিশির ফোন দেখতেছে,
তনু উঠে বসে শিশিরের দিকে তাকিয়ে আছে
শিশির-what?
তনু-তুই আমাকে ভালোবাসোস না?
শিশির-বাসি তো
তনু-কই
শিশির-তুমিই তো বাধা দিলা
তনু-এটাকে ভালোবাসা বলে না
শিশির-তাহলে?
তনু উঠে চলে গেলো
শিশির-উফ কথায় কথায় এত রাগ কেন করে মেয়েটা,ধুর
তনু বিকালের নাস্তা বানাচ্ছে,,
শিশির সোফায় বসে তনুর দিকে তাকিয়ে আছে
তনু খাবার এনে সোফার সামনে টেবিলে রাখলো,,
শিশির-রাগ কমেছে?
তনু কফির মগ এগিয়ে দিয়ে চলে গেলো
শিশির কফি খেয়ে বসে আছে,তনু এখনও আসতেছে না
শিশির এবার উঠে গিয়ে রুমের দরজা লাগালো,,চাবি পকেটে রেখে বারান্দায় তনুর কাছে গিয়ে বসলো
শিশির-কি ব্যাপার,??কি করতে পারি বলুন
তনু-কিছু না,,
তনু বসে বসে গাছে পানি দিচ্ছে,,
শিশির-দেখো তোমার এমন চুপচাপ স্বভাব আমার একদম ভালো লাগতেছে না,
তনু উঠে গিয়ে দরজা খুলতে গেলো পারলো না
তনু-চাবি দিন
শিশির-দিব না
তনু এগিয়ে এসে শিশিরের পকেটে হাত দিতে যাবে শিশির হাত টেনে ধরে বুকে চেপে ধরলো তনুকে,,
অনেকক্ষন জড়িয়ে ধরে রাখলো
শিশির-হ্যাঁ এটাই ভালোবাসা
শিশির তনুকে কোলে তুলে বারান্দায় নিয়ে গেলো,তনুকে নিজের কোলে বসিয়ে গান ধরলো
Bulave tujhe yaar aaj meri galiyan
Basaun tere sang main alag duniya
Na aayein kabhi dono mein zara bhi faasle
Bas ek tu ho, ek main hoon aur koyi na
Hai mera sab kuch tera tu samajh le
Tu chaahe mere hakk ki zameen rakh le
Tu saanson pe bhi naam tera likh de
Main jiyu jab jab tera dil dhadke

Tujhse mera yeh jee nahi bharta
Kuch bhi nahi asar ab karta
Meri raah tujhse
Meri chaah tujhse
Mujhe bas yahin reh jana
তনু্-একটা জিনিস চাইবো দিবেন?
শিশির-বলো
তনু-কালকের দিনটা আমি চাই,আর কি চাই,কেমন চাই তা আপনি বুঝে নিয়েন,
তনু উঠে চলে গেলো
শিশির-পড়লাম আরেক চিন্তায়,ও কি চায়???
রাতে তনু আর শিশিরের সাথে কথা বললো না,কালকের জন্য অপেক্ষা করছে তনু,
সকাল শুরু হলো,কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে মুশলধারায়
শিশিরের সমস্ত প্লেন মাটি,বাইরে ঘুরার কত যে প্লেন করলো
কিন্তু না,অন্য কিছু ভাবতে হবে,,
শিশির তনুকে তৈরি হতে বললো
তনু একটা গোলাপি রঙের শাড়ী পরে নিলো,,শিশির পাঞ্জাবি পরলো,,তনুর হাত ধরে বেরিয়ে পরলো
তনু-গাড়ী নিবেন না,খুব বৃষ্টি হচ্ছে তো
শিশির কথা বলতেছে না,দুজনেই পার্কে হাত ধরে হাঁটতেছে,আশেপাশে মানুষ নেই,নির্জন হয়ে গেসে জায়গাটা,শুধু শিশির আর তনু,
তনু বারবার শাড়ী ঠিক করতেছে কারন ভিজে গায়ের সাথে আটকে যাচ্ছে শাড়ী
শিশির তনুর দিকে তাকালো
তাকিয়েই রইলো হাঁটা বন্ধ দিয়ে
তনু-কিই??আসুন গাছের নিচে দাঁড়াই,বৃষ্টি বেড়ে গেসে তো
শিশির যেন কথাগুলো শুনতেছেই না
শিশির তনুর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে,,যতদিন তনু ভিজা কাপড়ে ছিল শিশির তাকাতো না,কারন এই জিনিসটা ওকে অনেক বেশি attract করে,আর আজ ইচ্ছে করেই তাকিয়ে আছে শিশির
তনু হাত নাড়া দিলো শিশিরের
তনু-কি হলো??
শিশির তনুর কোমড়ে হাত দিয়ে কাছে নিয়ে আসলো,
গাছ থেকে একটা কৃষ্ণচূড়া ফুল এসে তনুর গায়ে পড়লো,,
শিশির ফুলটি নিয়ে তনুর কানে গুজে দিলো,
বৃষ্টির বেগ খুব বেড়ে গেলো,শিশির তনুকে টেনে আরও কাছে নিয়ে আসলো,
দুজনের নাকে নাক লেগে গেলো,
তনু ভয় পাচ্ছে শিশিরকে,কারন এমনটা আগে দেখেনি সে,
শিশির তনুর ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে দিয়ে চুমু খেতে লাগলো
৫মিনিট পর শিশির খেয়াল করলো তনুর হাত পা কাঁপতেছে,,শিশির ছেড়ে দিলো তনুকে
তনুর শীতে হাত পা কাঁপতেছে,কারন প্রায়ই ১ঘন্টার মতন তারা ভিজতেছে
শিশির-চলো যাই
শিশির তনুর হাত ধরে বাসার দিকে হাঁটা ধরলো
বাসায় আসার পর তনু শাড়ী change করতে যাওয়া ধরলো শিশির হাত ছাড়লো না
তনু-কি??
তনুর হাঁচি শুরু হলো
তনু-ছাড়েন,আমি শাড়ি পাল্টাবো
শিশির তনুকে নিয়ে বিছানায় বসালো,
নিজের পাঞ্জাবি খুলে তনুর দিকে এগিয়ে গেলো
তনু-কি,?
তনু ভয় পাচ্ছে শিশিরের এমন behave দেখে
শিশির তনুর গলায় চুমু দিয়ে ওর শাড়ী খুলে ফেলে দিলো,,
হাতের চুড়ি গুলো খুলে টেবিলে রেখে দিলো,,,
তনু হাত দিয়ে নাক মুছতেছে,,শিশির তনুকে শুইয়ে ওর কপালে চুমু দিলো,
তনুর শ্বাস নিশ্বাস বেড়ে গেসে,
শিশিরের বুকে পানি লেগে আছে,,তনু হাত দিয়ে দেখতেছে,,
শিশির-এভাবে তো আমার দেখার কথা
তনু চিৎকার দিয়ে উঠে বসলো
তনু-কি বললেন?অসভ্য কোথাকার!
শিশির তনুর ঘাড়ে নাক লাগিয়ে চুপ হয়ে রইলো,,,
শিশির-আজ বৃষ্টিটা আমার অনেক help করেছে,,
শিশির-আচ্ছা একটা কথা বলো
তনু-হুম
শিশির-আমার বুকে হাত দিয়ে ওভাবে দেখতেছিলা কেন
তনু-ভালো লাগে
তনু পিছিয়ে শিশিরের বুকে গিয়ে শুয়ে পড়লো,,
শিশির তনুকে নিজের দিকে ফিরাতে যাবে তনু ঘুমিয়ে গেসে ততক্ষনে,
শিশির আর জাগালো না,,কাঁথা টেনে তনুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজেও ঘুমিয়ে গেলো,,
শিশির নিজের বুকে গরম অনুভব পেয়ে জেগে গেলো,তনুর খুব জ্বর,ইস শুধু শুধু ভিজলাম,এখন আবার জ্বর এসেছে,
শিশির ঔষুধ এনে তনুকে উঠালো,তনুর মাথা ধরেছে,ঠিকমত মত বসতেও পারতেছে না,,শিশির কোনোরকমে ঔষুধ খাইয়ে দিলো তনুকে,তনু শিশিরের হাত জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো আবার
শিশির নিজের ফোনের গ্যালারি দেখতেছে হঠাৎ চোখে পড়লো ওর অনেক ক্যানডিড পিক,এগুলা তুললো কবে তনু,আর পাস জানলো কি করে,
সন্ধ্যার দিকে তনু উঠলো,কষ্ট করে নিচে নামলো খাট থেকে,শিশির ফোনে কথা বলতেছে সোফার রুমে
তনু গিয়ে শিশিরের পাশে বসলো,
শিশির তনুর হাত ধরে ফোনে কথা বলতেছে,,কথা শেষে তনুর জ্বর চেক করলো,,
তনু-বসেন কফি বানিয়ে আনছি
শিশির-আমি বানাচ্ছি already, বসেন
শিশির কফি নিয়ে আসলো,,
শিশির-একটা কথা বলো,আমার ফোনের পাস জানলা কি করে
তনু-TonU লিখার পর খুলসে,১০মিনিট ধরে চেষ্টা করে পারছি?
শিশির-শয়তান,
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_35
দরজায় কে যেন নক দিলো
শিশির গিয়ে দরজা খুললো,একটা বয়স্ক লোক,,লোকটি ঝড়ে কোথাও থাকার জায়গা পাচ্ছে না তাই আশ্রয় চাচ্ছে,শিশির উনাকে ভিতরে আসতে বললেন
উনি সোফায় বসে আছে,,তনু নাস্তা দিলেন উনাকে
লোকটাকে তনুর খুব চেনা মনে হচ্ছে
শিশির guest রুমের দরজা দেখিয়ে উনাকে rest করতে বললেন,,
লোকটা সেখানে চলে গেলো
শিশির বাথরুমে আছে,,তনু বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে দেখতেছে,,,
তনুর ঘাড়ে হাতের ছোঁয়া লাগতেই তনু চিৎকার দিয়ে উঠলো
শিশির-কি হয়সে?আমি তো
তনু-ওহ আপনি
শিশির-তো আর কে হবে
তনু-নাহ আমিও না উল্টা পাল্টা ভাবি,,
শিশির-আমার এখন অফিসে যেতে হবে,কিন্তু তুমি বাসায় একা তার উপর একটা অচেনা লোক
তনু-প্লিস আমাকে একা রেখে যাবেন না
শিশির বুয়াকে ফোন দিলো,,
বুয়া ১০মিনিট পর আসলো,
শিশির বাই বলে তনুর কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো
তনু বারান্দায় বসে গাছ দেখতেছে,হঠাৎ দরজা আটকানোর শব্দে তনু চমকে উঠলো,এত তাড়াতাড়ি শিশির চলে আসলো?,
তনু উঠে দাঁড়িয়ে উঁকি মারলো,নাহ কেউ তো নেই,তাহলে দরজা লাগালো কে??
তনু পা বারাতেই ওর মাথায় প্রচণ্ড জোরে আঘাত দিয়ে কেউ বারি দিলো,তনু মাথায় হাত দিয়ে নিচে পড়ে গেলো,আর কোনো কিছু তার মনে নেই,,
যখন চোখ খুললো নিজেকে একটা খাটে দেখলো,তাড়াতাড়ি উঠে বসলো তনু,,ভয়ে নিজের দিকে তাকালো,না সব ঠিক আছে,
কিন্তু আমি কই,আর আমার মাথা,উফ অনেক ব্যাথা করতেছে,,শিশির?শিশির কই?
তনু উঠতে গিয়েও পারলো না,মাথা ভারী হয়ে আসতেছে
ঐদিকে শিশির কাজ সেরে বাসায় ফিরলো,কিন্তু দরজা খোলা কেন?
শিশির বাসায় ঢুকে দেখলো বুয়া সোফার সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে,শিশির তনুর নাম ধরে ডেকে রুমে চলে গেলো দৌড়ে,কোথাও তনু নেই,,ফ্লোরে রক্ত পড়ে আছে,,সেই বয়স্ক লোকটাও নেই,,
শিশির মাথায় হাত দিয়ে নিচে বসে পড়লো,তনু কই??আমার তনুকে কি করসে?
শিশির দেরি না করে পুলিশে খবর দিলো,,
মা বাবা শিশিরকে ধরে রেখেছে,শিশির কাঁদতে কাঁদতে শেষ,,
বুয়ার জ্ঞান ফিরতেই পুলিশ বুয়াকে জিজ্ঞেস করলো যে কি ঘটেছে,,
বুয়া-আমি তো রান্নাঘরে ছিলাম,,দেখলাম একটা লোক আপামনিরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে , আমি যেই আটকাতে যাব কয়েকটা পোলা আইসা আমারে কি যেন শুকিয়ে দিলো রুমাল থেকে,তারপর আর কিছু মনে নাই
পুলিশ-লোকটি কেমন ছিলো?দেখলে চিনবা??
বুয়া-ঐ যে বয়স্ক লোকটা আসছে উনি ছিলেন,কিন্তু দাড়ি গোঁফ ছিলো না,জোয়ান ছিলো
শিশির-তন্ময়??
পুলিশ -উনাকে চিনেন??
শিশির-চিনি অনেক,কিন্তু কোথায় থাকে কি করে জানি না,তনুকে disturb করতো
তনু অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ালো,,দরজা ধাক্কাতে লাগলো
৫মিনিট ধরে দরজা ধাক্কানোর পর দরজা খোলা হলো,,কয়েকটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে,হাতে বিয়েরডালা, জিনিসপত্র সব
সবাই মিলে রুমে ঢুকে গেলো,
তনুকে দুজন মিলে ঝাঁপটে ধরে সাজানো শুরু করলো
তনু-এসব কি?তোমরা কারা,আমাকে সাজাচ্ছো কেন?
তন্ময় -আমাদের বিয়ে তাই সাজাচ্ছে
তনু-তুমি??!!!!
আমি শিশিরের কাছে যাব
তন্ময় -এমন জায়গায় আনছি তোমারে, তোমার শিশির টের ও পাবে না
তন্ময় শিশিররা যে ফ্ল্যাট এ থাকে তার উপরের ফ্ল্যাটেই তনুকে বন্দি করে রেখেছে যাতে কেউ সন্দেহ করতে না পারে,,
তনু কাঁদতেছে,আর চিৎকার দিতেছে,,
তন্ময় -আহারে,বেচারি
তন্ময় গানের sound বাড়িয়ে দিলো যাতে তনুর আওয়াজ বাইরে না যেতে পারে,আর তনু জানেও না সে কোথায় আছে,
মেয়েরা তনুকে সাজিয়ে চলে গেলো,
হুজুর-বলুন কবুল
তনু-মরে গেলেও বলবো না
তন্ময় পাঞ্জাবির হাতা উঠিয়ে তনুর গালে কষিয়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো,তনু নিচে পড়ে গেলো,
তন্ময় -বল কবুল
তনু-কখনও বলবো না
তন্ময় তনুর চুলের মুঠি ধরে আরেকটা চড় মারতে যাবে তন্ময়ের ফোনে কল আসলো
রনি-স্যার,,শিশির পুলিশ নিয়ে আনছে,ওরা পাশের ফ্ল্যাটে জিজ্ঞাসাবাদ করতেছে,,
তন্ময় -লাভ নাই,ওরা কিছু দেখেনি,
তনু রাগে ক্ষোভে হাতের থেকে চুড়ি নিয়ে নিয়ে ছুড়ে মারতে লাগলো,
শিশিরের মা তনুকে যে চুড়ি দিয়েছিলো,সেটাও বাকি গুলোর সাথে খুলে গেসিলো,
জোরে ছুড়ে মারায় চুড়িটা গড়িয়ে গড়িয়ে বেলকনি cross করে নিচে পড়ে গেলো,গিয়ে মায়ের রুমের বারান্দায় পড়লো
মা বাবা খাটে বসে ছিলেন
মা-কি পড়লো গো?
মা উঠে গিয়ে দেখলো সোনার চুড়ি চিকচিক করতেছে
মা-এটা তো আমি তনুকে দিসিলাম,উপর থেকে পড়লো কেন?তার মানে তনু উপরে নাকি
মা শিশিরকে ডেকে দিলো
একটা মেয়ে তন্ময়কে এসে বললো তনু সব গয়না খুলে ফেলতেছে
তন্ময় একটা ইনজেকশান এনে তনুকে চেপে ধরে ওর হাতে দিয়ে দিলো,মিনিটেই তনু জ্ঞান হারিয়ে ফেললো,
তন্ময় -কবুল টবুল বাদ,পেপার আনো,টিপ। ছাপ নিয়ে registration বিয়ে হবে,
শিশির তাড়াতাড়ি করে ঐ ফ্ল্যাটে এসে পড়লো,৪জন বডিগার্ড দাঁড়িয়ে আছে
পুলিশ দেখেও নড়তেছে না ওরা
পুলিশ-গুলি চালাতে বাধ্য করো না
একজন বলে উঠলো ওদের পেটে বোম আছে যেকোনো সময় ব্লাস্ট হয়ে যেতে পারে
পুলিশ এটা শুনে পিছিয়ে গেলো,শিশিরকেও টানতে লাগলো,কিন্তু শিশির কোনো কথা না শুনে ভিতরে ঢুকে পড়লো,তন্ময় তখন তনুর হাতে টিপ ছাপ দিচ্ছিলো,কাগজে লাগানোর আগেই শিশির ছোঁ মেরে কাগজটা নিয়ে নিলো
তন্ময় তনুকে ছেড়ে কাগজ নিতে যাবে শিশির কাগজ গোল করে তন্ময়ককে খপ করে ধরে ওর মুখে পুরে দিলো,তারপর মুখ চেপে ধরে ৪/৫টা ঘুষি মেরে দিলো,
তনু অজ্ঞান হয়ে খাটে পড়ে আছে
মারা শেষে পুলিশকে ডাক দিলো ওরা তন্ময়কে ধরে ফেললো,
বডি গার্ডরা মিথ্যা কথা বলতেছিলো কারন যাতে কেউ ভয়ে না ঢুকতে পারে
শিশির তনুকে কোলে তুলে বাসায় নিয়ে আসলো, তনুর এখনও জ্ঞান ফিরেনি,মা কাঁদতেছে তনুর পাশে বসে,মা তনুকে খুব ভালোবাসে,ওর এই অবস্থা দেখে নিজেকে আটকাতে পারেননি,
শিশির-মা অনেক রাত হইসে ঘুমাতে যাও,আমি ওর পাশে আছি
মা চলে গেলো,
শিশিরের চোখ থেকে পানি বেয়ে তনুর হাতে পড়লো,
শিশির তনুর হাত ধরে বসে আছে,,গালে চড়ের দাগ,,না জানি আর কত কষ্ট দিসে তনুকে,,
মাথার ব্যান্ডেজের দিকে তাকিয়ে শিশিরের বুক কেঁপে উঠলো,কখনও কল্পনাও করতে পারিনি তন্ময় ছদ্মবেশে আসতে পারে,কতবড় ক্ষতি করতে যাচ্ছিলো,,
রাত ২টোর দিকে তনু উঠলো,, মাথা ধরে উঠে বসে কিছুটা শক খেলো আগের ঘটনা মনে পড়ে,পাশে শিশিরকে দেখে কেঁদে দিয়ে জড়িয়ে ধরলো,,
শিশির শক্ত করে ধরলো তনুকে,,
তনু-আমি আরেকটু হলে মরেই যেতাম শিশির
শিশির-আমি তোমার কিছু হতে দিব না
তনু শিশির দিকে তাকিয়ে আছে,মনে হয় কতবছর পর দেখতেছে,
সারা রাত আর তনু দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি,শিশিরের বুকে চুপ হয়ে শুয়ে থাকলো,,শিশির সবটা তনুকে খুলে বললো,,
সকালে তনু উঠে দেখলো ৯টা বাজে,,তাড়াহুড়ো করে খাটে থেকে নামতে যেতেই শিশির মানা করলো
শিশির-খবরদার না,শুয়ে থাকো,doctor তোমাকে বেড rest. এ থাকতে বলসে
তনু fresh হয়ে এসে বসলো খাটে,
শিশির খাবার মুখে এগিয়ে দিতেই দেখলো তনু শিশিরের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে
শিশির-কি ম্যাডাম?এসব হচ্ছে না,খাবার শেষ দিতে হবে
চলবে♥
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



ক্রাশ যখন বর
#Season_3
Writer-Afnan Lara
#Part_36
শিশির তনুকে খাবার খাইয়ে দিলো,,মা দেখতে আসলো তনুকে
শিশির-কাল তোমাকে মা বাঁচিয়েছে বলতে গেলে
মা তনুকে জড়িয়ে ধরলো,,তনুর সাথে কথা শেষে মা চলে গেলেন,,শিশির জামা নিয়ে গোসল করতে চলে গেসে,তনু খাটে ঘাপটি মেরে বসে আছে,শিশির তোয়ালে পড়ে বের হলে তার সেইই লুক টা দেখবে,
শিশির তোয়ালে পড়ে বের হতেই দেখলো তনু হা করে তাকিয়ে আছে
শিশির-কি ম্যাডাম??
তনু-?
শিশির এসে তনুর গাল টেনে টিপে দিলো
তনু-এটা কি হলো
শিশির-বাচ্চাদের গাল টিপতে আমার খুব ভালো লাগে,
তনু-আমি বাচ্চা না বরং দুদিন পর আপনার বাচ্চার মা হয়ে যাব
শিশির-হুম,তুমি মিলে আমার বাসাটা কিন্ডারগার্ডেন হয়ে যাবে
তনু-?
তনু উঠে শিশিরের চুল টেনে দিলো
শিশির নিচু হয়ে তনুরর গায়ে চুল ঝেড়ে পানি ছিঁটাতে লাগলো
তনু চিল্লাতে চিল্লাতে সরতে গেলো শিশির দুহাত ধরে ভিজিয়ে দিলো
তনু-stupid
শিশির-?চুল টানো আরও
তনু-?
শিশির ল্যাপটপে কাজ সেরে এসে তনুকে দেখতে গেলো,তনু মাথার ব্যান্ডেজ খোলার চেষ্টা করতেছে
শিশির-এই এত তাড়াতাড়ি খুলতেছো কেন
তনু-মাথা ধরসে আমার?
শিশির-তো??লাগবে না খোলার,,কষ্ট করো কদিন তারপর ঠিক হয়ে যাবে
মা-শিশির
শিশির-হুম মা বলো
মা-তোর বাবা অফিস থেকে গিফট হিসেবে অামেরিকাতে ২টা ৭দিনের ট্যুর এর টিকেট পেয়েছে,,এখন আমাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নাহ,আমরা অসুস্থ মানুষ,পরে আরও অসুস্থ হয়ে যাব,তুই আর তনু যা
শিশির-কিন্তু মা
মা-যা,ঘুরে আসলে ভালো লাগবে
তনু এক লাফ দিয়ে উঠে জামা কাপড় গোছানো শুরু করলো
শিশির-?আবার ছুটি নিতে হবে
রাতে সবাইকে বিদায় দিয়ে তনু শিশির রওনা দিলো,,বিমানে বসে তনু ভয়ে শিশিরের হাত চেপে বসে রইলো,আগে কখনও উঠেনি তনু,
শিশির-কিহ ভয় লাগতেছে নাকি
তনু-হুমম,
শিশির-আমি আছি না
তনু ভালো করে এখনও সুস্থ হয়নি,,দূর্বল লাগতেছিলো,শিশিরের কাঁধে মাথা রাখতেই ঘুমিয়ে গেলো তনু,,
চকলেটের ঘ্রান নাকে যেতেই তনু চোখ খুললো,শিশিরের হাতে চকলেট,সবে নিয়েছে খাওয়ার জন্য,তনু জেগে যাওয়ায় শিশির থ হয়ে তাকিয়ে থাকলো,কারন তার ভাগে আর একটা চকলেট ও জুটবে না
তনু শিশিরের হাত থেকে নিয়ে মুখে পুরে নিলো চকলেট,
তনু-কিপটা আমাকে দেন নি কেন
শিশির-আমার ভাগের টাও খেয়ে নিলা??
তনু-তো চকলেট আমার প্রিয় জানেন না?
শিশির-ঐ দেখো তোমার কপালে একটা পিপড়া,দাঁড়াও ফেলে দিচ্ছি,এটা বলেই শিশির তনুকে খপ করে ধরে কিস করে দিলো???
কেউ দেখলো না,তবে একজন দেখলো,একটা ৬বছরের ছেলে,যে পাশের সিটে বসা ছিলো,
শিশির বাচ্চাটার দিকে বোকার মত তাকিয়ে আছে,
তনু শিশিরকে কয়েকটা কিল ঘুষি দিলো,
বাবু-আম্মু আম্মু
শিশির-ভাই বলিস না,তোমাকে চকলেট কিনে দিব
বাবু-আম্মু এই uncleটা বাবা যেমন তোমাকে চুমু দেয় তেমন করে antyককে চুমু দিলো
বাবুর মা-???
শিশির-?
তনু-?
আমেরিকা পৌঁছাতেই বিমান থেকে নেমে শিশির মাকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলো,,
যে হোটেলে বুকিং দেওয়া সেই হোটেলের সামনে ২টা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো,শিশির তনুকে ওয়েলকাম করার জন্য,
একটা মেয়ে তনুকে মালা পরিয়ে দিলো,শিশিরকে পরাতে যাবে তনু ছোঁ মেরে মালা হাত থেকে নিয়ে নিজে শিশিরকে পরিয়ে দিলো
তনু-Thank you ফকিন্নি☺☺
শিশির-???
মেয়েটি-Welcome???
শিশির-???
তনু-চলো!!!
তনু হোটেলে গিয়ে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়লো,
শিশির fresh হয়ে এসে দেখলো তনু মাথা ফ্লোরে দিয়ে পা বিছানায় রেখে ঘুমাচ্ছে,
শিশির-একি,তনু ঠিক হয়ে ঘুমাও
শিশির টেনে তনুকে ঠিক করে শুইয়ে দিলো
১০মিনিট ওর তনু উঠে বসলো,শিশির ব্যাগ থেকে জামা কাপড় বের করতেছে,সাথে তনুর ও,তনু চোখ কচলাতে কচলাতে দেখলো শিশির তনুর লুকিয়ে রাখা জিনিসপত্র হাতে নিয়ে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে
তনু লাফ দিয়ে উঠে শিশিরের হাত থেকে নিয়ে নিলো
তনু-অসভ্য,এসব কেউ দেখে নাকি,শয়তান!
তনু লুকিয়ে ফেললো
শিশির-?আমি ভাবলাম নাইটি হবে
শিশির শার্ট change করে এসে দেখলো আয়নার সামনে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে,নাহ চুল তো বড়,এটা তো মেয়ে
শিশির হাত ধরে নিজের দিকে ফিরালো,একি তনু,তুমি আমার শার্ট পরসো কেন,আর জিন্স পেলা কই
তনু-কেন?এটা আমার,কিনসিলাম একবার,পরা হয়নি
শিশির-?এই বেশ কেন
তনু-এখানে সব মেয়েরা এগুলা পরে
শিশির-তুমি পড়বা না,যাও change করে আসো
তনু-এটা পরে যাব,যাব,যাব
শিশির-শুনবা না কথা
তনু-না
শিশির শার্টের বোতামের ভিতরে হাত নিয়ে এক টান দিয়ে পুরো শার্ট ছিঁড়ে ফেললো,তনুর গায়ে এখন একটা ছোট গেঞ্জি শুধু
তনু-নারী নির্যাতন হচ্ছে,domestic violence,কেউ বাঁচাও আমাকে
শিশির তনুর মুখ চেপে ধরে উঁচু করে কোলে তুলে নিয়ে খাটে ফেললো
তনু-যাব না আমি
শিশির শাড়ী এনে দিলো তনুকে,নাওও পরে নাও
তনু মুখ ভেঁংচি দিয়ে গিয়ে পরে আসলো,
শিশির তনুর হাত ধরে হাঁটা শুরু করলো
ওয়েটার খাবার দিতে এসে তনুকে নাইস বললো
তনু-ওহ তাই
ছেলেটা তনুর ভাষা বুঝলো না
শিশির-??translate করবো না?
তনু-?
খাওয়া শেষে দুজনেই ঘুরতে বের হলো,,সবাই তনুকে দেখতেছে কারন,,খাঁটি বাঙালি সাজে বের হইসে তনু,,একটা ১৬/১৭বছরের ছেলে তনুকে একটা ফুল ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো,শিশিরের মন খারাপ,তনুকে শার্ট পরতে দিলেই ভালো হতো
তনু-পোড়া পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে?
শিশির-?
শিশির তনুর হাত ধরে নিয়ে গিয়ে শপিং মল থেকে কয়েকটা western dress কিনে দিলো,তারপর হোটেলে ফিরে আসলো,তনু আরেকটু ঘুরতে চেয়েছিলো কিন্তু শিশির দেয়নি,
তনু টিভি দেখতেছে,আর শিশির নিজের ফোন দেখতেছে,হঠাৎ তনু গিয়ে শিশিরের গায়ে পড়লো,
চুইংগামের মত লেগে টিভির দিকে তাকিয়ে বসে আছে যেন কিছুই হয়নি,
শিশির-সরবা?আমার অসস্তি লাগতেছে
তনু-এতদিন আমাদের মধ্যে কিছু ছিল না তাই আপনার অসস্তি লাগতো,তাইলে আজ কেন?
শিশির-নিজের দিকে তাকাই দেখো,যে জামা পরসো ওটাতে পাগলের ও অসস্তি লাগবে
তনু -ওকে ফাইন,তনু গায়ের থেকে জামা নিয়ে খুলে নিচে ফেলে দিলো,আবার গিয়ে শিশিরের গায়ের সাথে লেগে বসলো,শিশির এবার বকতে যাবে তনুর গায়ের দিকে তাকিয়ে চমকে গিয়ে উঠে গেলো,
শিশির-তোমাকে নিয়ে যে কি করবো আমি,
তনু-?এটা করলেও দোষ,ওটা করলেও দোষ
শিশির বারান্দায় দাঁড়িয়ে রোড দেখতেছে
তনু এসে দাঁড়িয়ে পাশে তাকালো রোডের, একটা জায়গায় ছেলে মেয়ে দাঁড়িয়ে কিস করতেছে
তনু-আল্লাহ!আস্তাগফেরুল্লাহ,নাউজুবিল্লা?
শিশির-?এগুলা নরমাল এই দেশে
তনু-ওহ তাই,,
তনু-হ্যালো সবাই শুনতে পাচ্ছো এই দিকে তাকাও
তনু শিশিরকে শক্ত করে ধরে ওর পায়ের উপর ভর করে উঁচু হয়ে যেই না চুমু দিতে যাবে শিশির কোলে তুলে নিলো
তনুকে
বিছানায় রেখে চুমু দিতে যাবে তনু এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো শিশিরকে,
তনু-লাগবে না দরদ, কি সুন্দর একটা romantic scene create করসিলাম,সব মাটি করে দিসে
চলবে♥

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে