কে কোথায় যায়? পর্ব ৯

0
344

কে কোথায় যায়? পর্ব ৯
সবাই হোটেলে উপস্থিত হলো।ভোর শুভাকে দেখে লাফাতে লাফাতে বললো,
——-‘আপুই,রুদ্র ভাইয়ার সাথে দার্জিলিং পাড়া ঘুরে আসছি!তুই তো সাথে নিলি না।’
শুভা হতচকিত হলো।হতচকানো কন্ঠে বললো,
——‘তোরে নিয়া রুদ্র গেছে?’
রুদ্র পাশেই ছিল।গিটারে টুংটাং শব্দ অাবিষ্কার করছিল সে।শুভার কথা শুনে সে নির্বিকার গলায় বললো,
——-‘অসম্ভব কিছু নাকি?’
নীহারিকা শুভাকে টান দিয়ে উঠিয়ে জায়গা’টা ছাড়লো।শুভা নাছোড়বান্দার মতো যাচ্ছে না।নিজের হাত ধরে প্রাণপণে নিজেকে এই টানাটানি থেকে বাঁচাতে চাইছে!নীহারিকা সবার থেকে খানিক আড়াল করে শুভাকে নিয়ে গেল!শুভা ছাড় পেয়ে উঠে দাড়ালো।রাগে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বললো,
——-‘একটু শান্তিতে গল্পও করতে দিবি না?রুদ্র যে কেন…. ‘
কথা শেষ করার আগেই নীহারিকা বললো,
——‘শুন,রুদ্র ভোরকে ভালোবাসে!রুদ্র নিড ভোর।’
শুভাকে খানিক চিন্তিত দেখালো।তারপর নীহারিকাকে ছোট্ট করে বললো,
—–‘বাট ভোর ইজ ম্যারিড!’
নীহারিকা যেন এইমাত্র আকাশ থেকে পড়লো।কথাটা কানে যেতেই সে ধড়ফড় করে উঠে বসলো।শুভা বিষয়টা পরখ করে বললো,
——‘তার স্বামী মারা গেছে চার মাস হলো।’
নীহারিকা একটা বিটকেল মার্কা হাসি হেসে বললো,
——‘তাইলে তো রাস্তা ক্লিয়ার!’
শুভা বিরক্তমুখে বললো,
——-‘ভোরের স্বামী মারা গেছে এজন্য একবারও শোক পালন করলি না?’
নীহারিকা সরু গলায় বললো,
——-‘হুম করি নাই কারণ আমার বন্ধু রুদ্রটা তো ওর স্বামী’ই হবে!’
শুভা স্লান হাসলো!নীহারিকা শুভাকে তাড়া দিয়ে বললো,
——‘চল, সবাই মিলে কাল কোথায় যাবো তার নির্ধারণ করা লাগবে।’
সবাই এক সাথে বসে কাল কি কি করবে তা ভাবতে লাগলো।রিতু মিষ্টিমুখে বললো,
——-‘কাল স্বর্নমন্দির ও নীলাচল দেখবো আর আরও ছোটখাটো জায়গা দলে দলে বিভক্ত হয়ে দেখে নিবো!’
সবাই সময়স্বরে চিৎকার দিলো।সবাই যার যার রুমে চলে গেল!
পরদিন…..
সবাই রেডি হয়ে এক স্থানে মিলিত হলো।সেখান থেকে সবাই স্বর্নমন্দিরের দিকে রওনা দিল!
পাহাড়ি রাস্তা তাই অনেক আকাবাকা!শুভা ও ভোর রীতিমতো কাঁপছে!কিন্তু শুভা খেয়াল করছে প্রতিটা বাকে একটা বড় আয়না দাড় করানো!বিষয়টা বুঝতে না পেরে শুভা বন্ধুদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে মারলো।
——-‘এই আয়না কিসের জন্য?মেয়েরা তাদের রুপচর্চা করার জন্য নাকি?’
নীহারিকা বিরক্তিসুরে বললো,
——–‘হুম!তুই যেন মুখটা দেখে দেখে সারাটা পথ যাস এজন্য’ই দেয়া।’
তামিম হাসলো।আত্মভাব ঠিক রেখে বললো,
——–‘পাহাড়ি রাস্তা আঁকাবাঁকা হয়!অনেক সময় এমনজ বাঁক থাকে যে রাস্তাটি প্রায় ৯০ ডিগ্রি বেঁকে যায়।তখন সামনের রাস্তা দিয়ে কী আসছে তা বোঝার উপায় থাকে না,তাই পাহাড়ি রাস্তায় ড্রাইভিং বিপদজনক! নিরাপদে ড্রাইভ করার জন্য পাহাড়ি রাস্তায় বিভিন্ন বাঁকে বড় সাইজের গোলীয় মিরর রাখা হয়।ফলে এর কাছাকাছি এসে মিররে এর দিকে তাকালে বাঁকের অন্য পাশ থেকে কোনো গাড়ি আসছে কিনা সেটি দেখা যায়।বুঝলি?’
শুভা তামিমের গালে হালকা একটা থাপ্পড় মেরে বললো,
——‘ট্যালেন্ট বয়!’
বান্দরবান শহরের বালাঘাটা এলাকায় এই মন্দির অবস্থিত। এই বৌদ্ধ মন্দিরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা বড় হীনযান বৌদ্ধ মন্দির। ২০০০ সালে দক্ষিণ পূর্ব এশীয় ধাঁচে বার্মার স্থাপত্যবিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি নির্মিত হয়।এটি স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিতি পেলেও এটি স্বর্ণে নির্মিত নয়। মূলত সোনালী রঙের জন্যেই এটির নাম হয়েছে স্বর্ণমন্দির।
এখানে পাহাড়ের উপরে একটি পুকুর আছে, নাম দেবতা পুকুর। দেবতা পুকুরটি সাড়ে তিনশত ফুট উঁচুতে হলে ও সব মৌসুমেই পানি থাকে। বৌদ্ধ ভানে-দের মতে, এটা দেবতার পুকুর তাই এখানে সব সময় পানি থাকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল বুদ্ধ ধাতু জাদি ক্যাং। এই জাদিটি এখন বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের তীর্থ স্থানই নয় দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষনীয় স্পটে পরিণত হয়েছে।
শুভা খুশি হয়ে লাফাতে লাফাতে বললো,
——-‘I Didn’t have words how to describe beauty of Bandarban.I have never seen such amazing place!’
তামিমের মুখেও হাসির রেখা ফুটলো!মায়াবী মুখের মেয়েটা তার হৃদয়ে কেমন করে যেন দখলাতিত করতেছে!
চলবে…..
©ইভা আহমেদ চৌধুরী
(এই পর্ব একটু ছোট হয়ে গেছে।এজন্য সরি!)
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।
▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here