ওগো বধু সুন্দরী পর্ব-১+২

0
930

#ওগো_বধু_সুন্দরী
পর্ব—-০১
কাহিনী ও লেখা : প্রদীপ চন্দ্র তিয়াশ।

—–আম্মা,তোমার জামাই রোজ রাতে আমায় খুব ব্যাথা দেয়…!!😲

নিজের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীরে মুখে এমন একটা কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পতিত হলাম আমি।এটা কি বলছে শ্রেষ্ঠা…??🙄

নিজের মাকে এগুলো বলে কেউ,মানুষ বোকা হয়,তাই বলে এতোটা বোকা।শ্রেষ্ঠার সমস্ত বিষয় যেন আমার কল্পনার বাইরে।
বয়স নেহাত খুব একটা কম নয়,বিশ পেরিয়েছে।কিন্তু ওর চেহারা আর ব্যবহার দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই।
শ্রেষ্ঠার সাথে বিয়ে হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ।একটা বাসা বাড়িতে ওকে নিয়ে থাকি আমি।
আমার নাম সৌহার্দ্য।মাকে হারিয়েছি এক বছর আগে।আপন বলতে বাবা আর একটা ছোট ভাই আছে।ওরা অবশ্য শহরের বাইরে থাকে।

আমি শ্রেষ্ঠার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলাম!

—-পাগল হয়ে গেছো নাকি, এগুলো কি বলছো মাকে?

—কেন কি বলছি, যা সত্যি তাই বলেছি।

—তুমি কি কিছুই বোঝা না,মানে এতো ন্যাকামি কোথা থেকে আসে তোমার ..??

—কি আপনি আমায় ন্যাকা বললেন…??
(রেগে দাঁত কটমট করে বলে উঠলো।কথায় আছে না, বোকারা রেগে গেলে ভয়ংকর রুপ ধারণ করে। আমার বৌএর হয়েছে সেই অবস্থা)

—কেন ভুল কিছু বললাম বুঝি,

—অবশ্যই ভুল বলেছেন।

—দেখো শ্রেষ্ঠা।তুমি তো জান আমরা সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী হই।আমাদের ভেতরে যাই হোক না, বিশেষ করে রাতে।সেগুলো একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।বাবা মাকে কি বলতে আছে!?

—বাহহহ!আপনি আমাকে ব্যাথা দিবেন আর আমি কাউকে বলবো না।

(শ্রেষ্ঠাকে কিকরে বুঝাই ও যেটা বলছে চূড়ান্ত মূখার্মী ছাড়া কিছু নয়।কিন্তু সে বোঝবার পাত্রী নয়,খুব ভালো করেই জানি আমি।ওকে অন্যভাবে শান্ত করতে হবে!)

—আচ্ছা, ঠিক আছে। আর ব্যাথা দেবো না।কথা দিলাম।অনেক অনেক চকলেট দেবো তোমায়। তুমি যা যা খেতে চাও সব কিনে আনবো।

—সত্যি বলছেন….??
(উচ্ছ্বাসের স্বরে )

—হ্যাঁ,সত্যি বলছি।তুমি না চাইলে আমি ছোবোও না তোমায়।শুধু নেক্সট টাইম এই ধরনের উল্টোপাল্টা কথা কারো সাথে বলো না।

—না বলবো না,তবে চকলেট আনতে হবে কিন্তু।

–হ্যাঁ বাবা আনবো।

শ্রেষ্ঠাকে কোনোমতে বুঝিয়ে নিজের অফিসে চলে গেলাম।যতোই শিশুসুলভ হোক না কেন,রান্নাটা মোটামুটি ভালোই করতে পারে শ্রেষ্ঠা।যদিও আমায় প্রচুর সাহায্য করতে হয়। সকাল সকাল রান্নাটা সেরে রেখেছি,তাই বিশেষ কোনো চিন্তা নেই।





যদিও বাসায় দুপুরের পরে ফেরবার কথা ছিলো, কিন্তু কাজের চাপে বড্ড দেরি করে ফেলেছি।বাসায় ঢুকে দেখি সাতটা বেজে গেছে।চারদিকে কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই।

বেডরুমে গিয়ে দেখলাম শ্রেষ্ঠা অঘোরে ঘুমুচ্ছে।না জানি কখন শুয়ে পড়েছে।ভাবলাম জাগিয়ে তুলবো,পরে নিজের সিধান্ত পরিবর্তন করি।

নিজের জন্য কেনা কতোগুলো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ রাখার জন্য ড্রয়ারটা খুললাম।কিন্তু একি! ড্রয়ারের ভেতরে তিল ঠাঁই পরিমান জায়গা নেই। পুরোটা শ্রেষ্ঠার গয়নাগাটিতে ভরপুর।কতগুলো কাঁচের চুড়ি,নেকলেস,কানের দুল ইত্যাদি ইত্যাদি…..

মেয়েটা আসলেই পাগল,নয়তো এতো অযথা গয়নাগাটি কেউ এভাবে সাথে নিয়ে আসে।ড্রয়ারের ভেতরে হাত দিতেই একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করলাম আমি।

এক কোনায় একটা কানের দুল পড়ে আছে, খুঁজে দেখলাম এর অন্য পিসটা কোথাও নেই। কানের দুলটা দেখে রীতিমত হাত পা কাঁপতে শুরু করলো আমার!!

দুলটা হাতে নিয়ে দৌড়ে পাশের রুমে ছুটে গেলাম।আলমারিটা খুলে তার ভেতর থেকে একটা বক্স বের করি।বক্সের ভেতরে একটা কানের দুল,এক বছর আগে আমিই এখানে রেখেছিলাম এটা।

দুটো দুল পাশাপাশি রেখে দেখলাম,একদম সেম কালেকশন।সেম ডিজাইন,সবকিছু সেম!!

হায় আল্লাহ!!!এটা কি দেখছি আমি। পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে যেতে লাগলো আমার।

—-আজ থেকে এক বছর আগে আমার মায়ের খুন হয়েছিলো।আর সেই খুনি একটা মেয়ে ছিলো।অন্ধকারে ধস্তাধস্তির সময়ে যার কান থেকে একটা দুল ছিড়ে নিয়েছিলাম আমি।এরপর সেই অজ্ঞাতনামা খুনি আমায় ধোকা দিয়ে পালিয়ে যায়। নিজের মায়ের খুনিকে আর খুঁজে পাইনি আমি।আজ দীর্ঘ এক বছর পরে এ কোন পরীক্ষার মুখোমুখি হলাম আমি,,

এই কানের দুলটা শ্রেষ্ঠার কাছে এলো কিকরে…. তবে কি…..??????

চলবে,,,

#ওগো_বধু_সুন্দরী
পর্ব—-০২
কাহিনী ও লেখা : প্রদীপ চন্দ্র তিয়াশ।

কানের দুলজোড়া হাতে নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লাম।কি করবো বুঝতে পারছি না!হঠাৎ একটা কথা মাথায় এলো আমার।

আজ থেকে দীর্ঘ এক বছর আগে যখন সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সাথে আমার ধস্তাধস্তি হয়,ওর কান থেকে দুলটা কেড়ে নেবার সময়ে আমার হাতে দুল ছাড়াও আরো একটা জিনিস চলে আসে।সেটা হলো তার রক্ত।তার কানের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো নিশ্চয়ই।আর রক্তের পরিমাণ এতটাই ছিল সেই দাগ এতো তাড়াতাড়ি মুছে যাবার কথা নয়।

শ্রেষ্ঠা যদি সেই ব্যক্তি হয় যাকে আমি ভাবছি, তবে নিশ্চয়ই ওর কানে সেই দাগটা থাকার কথা।শ্রেষ্ঠার সাথে বিয়ে হয়েছে আমার এক সপ্তাহ।কিন্তু ও সেইভাবে আমায় কখনোই ওর কাছে ঘেঁষতে দিতে চায় না।তাই দাগটা থাকলেও চোখ এড়িয়ে গেছে হয়তো।

নাহ!আর সময় নষ্ট করা চলবে না।এখুনি গিয়ে ওর কানের দাগটা পরখ করে দেখতে হবে।এই রহস্যের জট না খোলা পর্যন্ত শান্তি নেই আমার।
এই ভেবে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম।

তার আগে কানের দুলজোড়া কাপড়ে পেঁচিয়ে যথাস্থানে রেখে দেই।বেড রুমে ঢুকে দেখি শ্রেষ্ঠা আপন মনে ঘুমের রাজ্যে বিচরণ করছে।কথায় আছে,ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষকে দেখতে বেশী নিষ্পাপ লাগে।এই মূহুর্তে মনে হচ্ছে, শ্রেষ্ঠার থেকে নিষ্পাপ মেয়ে এই পৃথিবীতে কোথাও দেখিনি আমি।ওর মুখের দিকে তাকালেই একটা অন্যরকম মমত্ববোধ কাজ করে।আমি কি শুধু শুধুই সন্দেহ করছি ওর ওপর।শুধুমাত্র একটা কানের দুল কিছুতেই উপযুক্ত প্রমাণ হতে পারে না।
নিজের স্ত্রী হিসেবে শ্রেষ্ঠার প্রতি আমার সন্দেহ আরোপ হয়তো অমুলক,কিন্তু আমার মনের দুশ্চিন্তা দূর না হওয়া পর্যন্ত যে শান্তি পাচ্ছি না আমি।শ্রেষ্ঠার প্রতি সন্দেহ থেকে না হোক,নিজেকে অন্তত ভুল প্রমাণ করার জন্য আমাকে ওর কাছে যেতে হবে।ওর কানের ওপরে কোনো দাগ আছে কিনা আবিষ্কার করতে হবে আমায়।

এই ভেবে আমি ধীরে ধীরে বিছানার ওপরে উঠলাম।শ্রেষ্ঠার সামান্য শব্দেই ঘুম ভেঙে যাবার অভ্যাস আছে।তাই যা করার ধীরে সন্তর্পণে করতে হবে।আরো ঘনিষ্ঠ হতেই হঠাৎ শ্রেষ্ঠার ঘুম ভেঙে গেলো!আমি অমনি হকচকিয়ে উঠলাম।নিজেকে বড্ড অপ্রস্তুত মনে হচ্ছে।

—এতোক্ষনে আমায় আদর করার সময় হলো,??(ঘুমমিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠলো শ্রেষ্ঠা)

শ্রেষ্ঠা আমার সাথে সবসময় একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করে ঠিক,আমায় একটু ভয় ভয় পায়।কিন্তু একটা জিনিস আগেই লক্ষ্য করেছি আমার আদর নেবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।আমার ব্যহ্যিক স্পর্শ ও বেশ উপভোগ করে।হয়তো শুধু শ্রেষ্ঠা নয়,সব মেয়েদের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে।এই মূহুর্তে শ্রেষ্ঠার সাথে সময় কাটানোর চেয়েও আগে নিজের মনের আশংকা দূর করা অনেক বেশী জরুরী।

শক্ত করে শ্রেষ্ঠাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম,ওর ওর গালে একটা আলতো চুমু বসিয়ে দিলাম।মূহুর্তেই ওর শরীরটা আমার স্পর্শ পেয়ে মোচড় দিয়ে উঠলো।নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ করার জন্য আমার দিকে ফিরলো শ্রেষ্ঠা,ঠিক তখন আমি সুযোগ বুঝে নিজের তীঘ্ন দৃষ্টি ওর কানের ওপরে নিবদ্ধ করি।

মূহুর্তেই সারা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো আমার।একটা প্রচন্ড শব্দে আঁতকে উঠলাম আমি।চোখের সামনে শ্রেষ্ঠার কানের কাটা দাগটা জ্বলজ্বল করছে।এতোদিন তো খেয়ালই করতে পারি নি এটা।

শ্রেষ্ঠাকে এক ঝটকায় ছেড়ে বিছানার ওপর বসে পড়লাম,,সারা শরীর ঘামতে শুরু করে আমার।

—একি!কি হলো আপনার,আপনি কি ভয় পেয়েছেন,আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে?(শ্রেষ্ঠাও উঠে বসে আমাকে প্রশ্ন করে)

—না, না, এটা হতে পারে না।এটা হতে পারে না কিছুতেই!!(কাঁপা গলায় বলতে থাকি আমি)

–আপনার হয়েছে টা কি… এমন কেন করছেন??

–কিছু হয়নি, কিছু হয়নি আমার।

—না, আপনার কিছু তো হয়েছে।এমন করছেন কেন?

—বললাম তো কিছু হয়নি, এক কথা বার বার কেন বলছো?

আমাকে রেগে যেতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো শ্রেষ্ঠা।একদিকে আমার প্রতি উদ্বিগ্নতা, আবার আমাকে ভয় পাওয়া,অবুঝ শিশুসুলভ যার প্রত্যেকটা আচরণ..এই শ্রেষ্ঠাকে দেখে আমার আরো বেশী ভয় হতে লাগলো।আমি চোখের সামনে যে শ্রেষ্ঠাকে দেখতে পাচ্ছি,সেদিন মা খুন হওয়ার রাতে কি ওই ছিলো!কিন্তু সেটা কিকরে সম্ভব…??

শ্রেষ্ঠা কি সত্যিই এমন,নাকি এটা ওর একটা মুখোশ।এতোটা ছলনা,কপটতা,মিথ্যাচার কেউ কিকরে করতে পারে.??

নিজের মনের দুশ্চিন্তা দূর করতে গিয়ে সেটাকে যেন নিজেকে অজান্তেই লক্ষ কোটি গুনে বাড়িয়ে দিয়েছি আমি।এ কোন গোলক ধাঁধায় পড়ে গেলাম আমি।কি করে বের হবো এই গোলকধাঁধা থেকে।আমার নিজেরো জানা নেই….!!

পাশ ফিরে দেখি শ্রেষ্ঠা আবার শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।ভাবলাম একবার আব্বার কাছে ফোন দেবো,কিন্তু পরে কিছু একটা ভেবে শুয়ে পড়লাম।যদিও রাতে ঘুম আসবে কিনা জানি না, ভালোয় ভালোয় সকালটা হোক।





সকালে শ্রেষ্ঠার ডাকেই ঘুম ভাঙলো।আমার জন্য হাত পুড়িয়ে রান্না করেছে ও।যদিও এখন জানি কেন ওকে আর নিজের মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।মাঝেমধ্যে ভয় করে ওর দিকে তাকাতে।

যাই হোক খেয়ে দেয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলাম।অফিসে একটা জরুরী মিটিং আছে। আজকে ফিরতে হয়তো রাত হবে।যাবার আগে সেটা শ্রেষ্ঠাকে জানিয়ে গেলাম।




অফিস থেকে বের হতে হতে রাত আটটা বাজলো।দুপুরে একবারমাত্র কথা হয়েছিলো শ্রেষ্ঠার সাথে,আর একবার আব্বার সাথে।

ড্রাইভ করে বাসার উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম।রাস্তায় খুব একটা জ্যাম নেই আজ, তাই নির্বিঘ্নে যেতে পারছি।তাছাড়া আবহাওয়াটাও খুব একটা ভালো নয়। যেকোন সময় বৃষ্টি আসবে মনে হচ্ছে।

হঠাৎ আমাকে চমকে দিয়ে একটা মহিলা আমার গাড়ির সামনে এসে পড়লো।ভাগ্যিস দেখে ফেলেছিলাম,একটুর জন্য দূর্ঘটনা ঘটে যায়নি।মহিলাটা গাড়ির সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।নড়ছেও না,সরছেও না।হর্ন দিচ্ছি তারপরেও কাছ হলো না।মহিলার এই অপ্রত্যাশিত আচরণে আরো মেজাজ বিগড়ে গেলো আমার।গাড়ি থেকে নেমে পড়ি।

–এই ইউ,প্রবেলেমটা কি শুনি?কানে শুনতে পান না নাকি?

(মহিলা নিজের মুখটা একটা ওড়না দিয়ে ঢেকে রেখেছে,তাই চেহারা বোঝা যাচ্ছে না।)

—কি আজব, শুনতে পাচ্ছেন না নাকি।

(কোনো উত্তর আসলো না)

—এতো মহা মুশকিল,আচ্ছা কে আপনি বলুন তো।কিছু তো বলুন।

(ভদ্রমহিলা আবারো নির্বাক)

—আপনি কি আমার কথা বুঝতে পারছেন না নাকি,আশ্চর্য!!

আমি ভদ্রমহিলার কাছে যেতেই সে যেন ভয় পেয়ে দৌড় দিলো,অমনি তার ওড়নাটা মুখ থেকে খুলে যায়।

মুহুর্তে অবাক হয়ে গেলাম আমি,শুধু অবাক নয় অনেকটাই ভরকে গেলাম।এতো শ্রেষ্ঠা….!!!
সেই কারনেই হয়তো একটু পরিচিত লাগছিলো। কিন্তু শ্রেষ্ঠা এই রাতের বেলা এভাবে কোথায় যাচ্ছে,এইরকম সেলোয়ার কামিজ পড়ে,তাও নিজের চেহারা লুকিয়ে!??

আমি শ্রেষ্ঠার দিকে ছুটে যেতেই ও দ্রুত একটা ক্যাবে উঠে পড়লো,তারপর বিপরীত দিকে অর্থাৎ আমার অফিসের দিকে চলে যায়।

চোখের সামনে কি ঘটলো কিছুই বুঝতে পারছি না,শ্রেষ্ঠা এইভাবে রাতের বেলা কোথায় যাচ্ছে, আর ও আমাকে দেখে পালিয়ে গেলো কেন?শ্রেষ্ঠা কোথায় গিয়েছে আমি জানি না,কিন্তু আমিও আজ বাসায় গিয়ে বসে থাকবো।ফিরতে তো হবেই ওকে।তারপর দেখি কি উত্তর দেয় ও আমায়।বেশ এরকম বেকায়দায় ফেলা যাবে আজ শ্রেষ্ঠাকে।এই ভেবে দ্রুত ড্রাইভ করে নিজের বাসায় পৌঁছলাম।

মাইন গেট পেরিয়ে দরজার সামনে আসতেই দেখতে পাই ভেতরে থেকে দরজা লক করা।নিশ্চয়ই আব্বা আর ছোট ভাই এসেছে গ্রাম থেকে।ওদের আজকেই আসার কথা ছিলো।ঈষৎ উৎসুক মনে কলিং বেল প্রেস করতে লাগলাম।

একটু পরে ভেতর থেকে দরজাটা খুলতে লাগলো!দেখতে পাচ্ছি আমার সমস্ত ধারনাকে ভুল প্রমাণিত করে শ্রেষ্ঠা সামনে দাঁড়িয়ে আছে!!নতুন শাড়ি, আর গয়নাগাটি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ও!আমায় দেখে একটা অদ্ভুত হাসি দিলো!

—তুমি এসে গেছো,,,তাড়াতাড়ি ভেতরে এসে রেডি হও।।

শ্রেষ্ঠাকে এই সময়ে বাড়িতে তার ওপর এই বেশে দেখে যেন মাথায় বজ্রপাত হলো আমার।মনে হচ্ছে,দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখছি আমি….!!!

এটা যদি শ্রেষ্ঠা হয়ে থাকে,তাহলে রাস্তায় কাকে দেখলাম আমি…??

চলবে,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here