আজ আমার বিয়ে পার্ট ২১+২২

0
1882

আজ আমার বিয়ে পার্ট ২১+২২
লেখা আশিকা জামান

জানালা থেকে চোখে আলো লাগছে। চোখ মেলতে কষ্ট হচ্ছে। মাথাটা প্রচণ্ড ঝিম ঝিম করছে। আমি উঠতে যাচ্ছিলাম কিন্তু পারছিলাম না। ইভান আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। আমি তখন আধো ঘুম আধো জাগরণ এই অবস্থায়। আমি ওর হাত টান দিয়ে সরিয়ে উঠে পড়ি। আমি সরে যেতেই ওর ঘুম ভেংগে যায়। আমি চোখটা ঘষতে ঘষতে নিচের দিকে তাকাই। ফ্লোরে আমার শাড়ী পড়ে আছে। আমি চমকে উঠে নিজের দিকে তাকাই। আমার মাথাটা ঘুরছে, মনে করতে চাইছি কালকে কি থেকে কি হল?? তেমন কিছু মনে করতে পারছি না।
তবে বুঝতে বাকী নেই কালকে রাতে আমার সাথে কি ঘটেছে। লজ্জায় ঘৃনায় আমার মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে। ছিঃ ভাবতেই ঘেন্না লাগছে।
ইভান পিছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/


— ময়নাপাখি কালকে কেমন ভালবাসা দিলাম।
আমি ওর হাতটা সরিয়ে দিয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে যাই। শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে আসতেই ইভান আমার হাত টান দিয়া ধরে,
— কি হইছে তোমার?? তখন ওইভাবে চলে গেলা কেন।
আমি এইবারো ওর হাতটা ছাড়িয়ে চলে গেলাম আমার মায়ের কাছে।
মা-বাবার রুম থেকে শুনছিল নওরিন আর ইভান আবার ফাজলামো শুরু করছে।
আমি ওখানেই গুটিসুটি মেরে বসে ছিলাম।
কিছুক্ষন পর মা আমাকে খেতে যাওয়ার জন্য ডাকছিলো। খিদে নেই খাবোনা বলাতে মা পুরা রেগে যায়। আমি তখনো খাবোনা বলে বসে ছিলাম। পরে মা চলে যায় ঠিকি কিন্তু একটু পর আবার আসে খাবার প্লেট নিয়ে।
মা আমাকে জোর করে খাওয়াতে লাগলো। আমার গলা দিয়ে নামছিলো না।
— অরিন এইগুলা কি ছেলেমানুষি হচ্ছে। ঠিক করে খাও।
— মা আমি আর খাবোনা। প্লিজ আর ভালো লাগছে না।
— কি হইছে তোর??
আমাকে বল??
— কিছুই হয় নাই মা। তুমি একটু বেশিই চিন্তা করছো।
— আমার দিকে তাকা??
ইভান কিছু বলছে??
— না, মা কিছু হয় নাই বলছিতো।
আমার গলাতে খাবার আটকে গেল।
আমি কাশতে লাগলাম।
আমার সামনে কেউ পানির গ্লাস ধরলো। আমি ঢকঢক করে পানিটা খেয়ে নিলাম।
সামনে তাকাই দেখি ইভান। ওই আমাকে পানির গ্লাসটা দিয়েছিলো। মা ইভানকে দেখে বললো
— তোমরা বসো আমি আসি কেমন।
আমিও মায়ের পিছে পিছে চলে যেতে পা বাড়ালে ইভান দরজা লক করে দেয়।
— দরজা খোল, সবাই কি ভাববে।
— কেউ কিছু ভাববে না। কারন নিউলি মেরিড কাপলরা এইরকম দরজা লক করে থাকতেই পারে তাতে কেউ কিছু মনে করেনা।
আমি ওর কথার পাত্তা না দিয়েই দরজা খুলতে গেলাম।
ইভান আমার এক হাত সজোরে টান দিয়ে একদম ওর কাছে নিয়াসে।
আমি রাগে নিচে তাকাই আছি।
— কি হইছে তোমার?? সকাল থেকে এইরকম ব্যাবহার করতেছো কেন??।
— তোমার সাথে কথা বলতে না আমার রুচিতে বাধে। জীবনে নিলজ্জ কাকে বলে সেটা তোমাকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।
— আমি নিলজ্জ কিভাবে এক্সপ্লেইন করও?? নাহ আমিতো এমন কিছু করিনি যাতে আমাকে তুমি এই কথা বলতে পারো??
— কালকে তুমি আমার সাথে যা করেছো তারপরো এর থেকে ভালো ব্যাবহার আশা করোনা।
ইভান আমার হাত জোরে চাপ দেয়, মনে হল শরীরের সব শক্তি আমার হাতের উপর লাগছে।
— উঁহু লাগছে ছাড়ো।
আরো জোড়ে আমার হাত মুচড়াতে লাগলো।
— উঁহু ছাড়ো বলছি। গায়ের জোর দেখিয়ে আর যাই হোক ভালোবাসা পাওয়া যায় না। অসভ্য লোক।
উঁহু ছাড়ো।
ইভান আমার হাত ছেড়ে দিয়ে সোজা বিছানার উপর ফেলে দেয়।
— ভালবাসা মাই ফুট। আমি চাইনা কারো ভালবাসা।মনে করো দেখো কালকে আমি তোমার কাছে যাইনি, তুমি নিজে আমাকে ডেকে নিয়ে গেছো। আর এখানে আমার কি দোষ, সেটাই বুঝতেছি না। আর এইরকম গিরগিটির মত রঙ পাল্টাতে তুমি বেশ পারো।
— তুমি কি করে ভাবলে তোমার মত চরিত্রহীন পুরুষকে আমি কাছে ডাকবো?? ছিঃ আমি ঘেন্না করি তোমাকে।
— অরিন……..
তুমি এই কথা বলতে পারলা।
বিশ্বাস করো আমার মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে।
— তুমি এতই নিচে নেমে গেছো যে আমার ভাবতেই অবাক লাগে। আমার নিজের বোনকে তুমি আমাদের পারসোনাল সমস্ত কিছু বলতে পারো..
ছিঃ আর আমার বোনকেও তোমার দলে টেনে নিছো।
ইভান আকাশ থেকে পড়লো যেন এমন ভাব করলো।
— আমি কিছুই বুঝতেছিনা। আর ওকে আমি কি বলবো ওতো আমার ছোট বোন। তুমি নিজের বোনকেও তো দেখি যাতা বলছো। তুমি একাই দুধের ধোয়া তুলসি পাতা আর আমরা সবাই খারাপ।
আমি রাগে ইভানের শার্ট এর কলার ধরি।
— তুমি একটা নোংরা মানুষ। যদি নোংরা না হতে তাহলে নওরিনকে দিয়ে আমাকে নেশার জীনিস খাওয়াতে পারতে না।
— কী সব আজেবাজে বলছো?? ঠিক করে কথা বলো?? আমি মিথ্যে একদম টলারেট করবো না।
— কি করবে তুমি??
কিছু বলার মুখ আছে নাকি??
ইভানকে আমি সমানে পিছে ধাক্কাতে থাকি।
ইভান টাল সামলাতে না পেরে পরে যাচ্ছিলো। তারপর খাটের মাথাটা ধরে নিজেকে সামলিয়ে নিলো। আমি আবার ওকে ধাক্কা দিতে গেলো ও আমাকে একটা থাপ্পড় মারে।
আমি মার খেয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলি…
চোখ দিয়ে নিঃশব্দে জল গড়িয়ে পড়ছে…
ইভান আমার দুই বাহু ধরে ঝুকাতে লাগলো..
— পাগল হয়ে গেছো না। আমি এতটাই খারাপ তোমার মনে হয়।আরে আমার নিজের উপর যে কন্ট্রোল আছে না,শত সহস্র দিন তোমাকে টাচ না করে আমি থাকতে পারবো। ভালো করে মনে করে দেখোতো, বীণা আপূর বাসায় যখন তোমাকে প্রথম ছুঁয়েছিলাম তখন তুমি আমার আরো কাছে আসতে চাইছিলে। আমি নিজে তোমার থেকে সরে আসছি। সেইদিন যদি আমি চাইতাম সবটা করতে পারতাম। তারপর প্রথম যেদিন আমি এই বাসায় তোমাকে নিয়াসি, আমি তোমাকে কিস করছিলাম তাও তোমাকে শাড়ী পড়া দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নাই। আর তুমিতো আমার শার্ট ধরে আমাকে একদম বিছানায় নিয়ে গেছিলা। কি মনে পড়ে আমি কি বলেছিলাম..
বাসর রাত বলেতো কিছু আছে তাই আমি তোমাকে টাচ করিনি। আরে আমি যদি চাইতাম তাহলে অনেক আগেই হতো। ভালবাসার কাছে সেক্স খুবি তুচ্ছ বিষয়। আর ইভান তেমন ছেলেই না। আর তুমি যদি আমাকে মিনিমাম বিশ্বাসটুকুও করতা তাহলে আজকে এই কম্পলিকেশনটা তৈরি হওয়ার সু্যোগই পেত না। আর যে কারনে তুমি আমার সাথে এইরকম করছো যখন জানবে সেই কারনটাই ভিত্তিহীন তখন কি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবা। আর ঠিক সেই কারনে আমি তোমাকে টুকটুকির বিষয়ে একটা কথাও বলি নাই আর বলবোও না । কারন তুমি আমাকে বিলিভই করোনা। যাই হোক ব্যাপারটা একদিন তোমার কাছে ক্লিয়ার হবে সেইদিনটায় আমি শুধু দেখবো তুমি কি করো।
আর আজকের ঘটনার প্রসংগে আসি, তোমার বোনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে আমার দিকে আংগুল তোলাটা নেহাৎ বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। সবশেষে একটা কথাই বলবো তুমি আজকে আমাকে যে গালিগুলা দিলা, আমার ২৫ বছরের মাঝে এইগুলা আমাকে কেউ বলে নি। আর তোমাকে ভালবাসি বলেই যে,সবকিছু আমি এত সহজেই হজম করে নিবো এটা ভাবারো কোন কারন নেই। আমি এতক্ষন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদছিলাম। ইভান বসা থেকে উঠে পড়লো।
— অরিন আমি বিয়ে থেকে শুরু করে এতদিন যা যা করেছি সব জোর করে করেছি। আসলে আমি ভুল করেছি। সত্যি তোমার উপর এতটা অধিকার বোধ দেখানো আমার ঠিক হয় নাই। তাই এখন থেকে তুমি যা চাইবে তাই হবে….
ইভান খুব শান্তগলায় কথাগুলো বললো।
তারপর দরজা খুলে রুম থেকে বের হয়ে গেল..
সামনে নওরিন পড়ে গেল।
— দুলাভাই নিজেদের রুম ছেড়ে মা-বাবার রুমে কি করছিলেন। হু..
সামথিং স্পেশিয়াল…
হুম…
— বেয়াদব কোথাকার?? বড়দের সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় এই ম্যানারটুকুওতো শিখো নাই।নেক্সট টাইমে এই টাইপের কথা অন্তত আমার সাথে এভয়েড করবা নইলে কথা বলার প্রয়োজন নেই।
নওরিন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে উঠে
— দুলাভাই এই সামান্য কারনে আপনি এতটা রিএক্ট করবেন জানলে বলতাম না। পারলে ক্ষমা করবেন। সত্যিই আমি এইটা আপনার থেকে আশা করিনি।
— এই আর এক্টাও কথা বলবা না। আমার সামনে থেকে যাও। আমার মেজাজ খুব খারাপ।
নওরিন কাঁদতে কাদতে সেখান থেকে চলে গেল।
ইভান রুমে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে ড্রেস চেঞ্জ করলো তারপর আবার আমার রুমে আসলো।
আমি তখন জানালা ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
— অরিন..
আমি ওর দিকে ফিরলাম।
— আমি বাসায় যাচ্ছি। তুমি কি যাবা??
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে কেন জানি না বলে দিলাম।
ওর মুখের দিকে তাকাতেই দেখি ও সেখানে নেই।
আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে গেল।
চলবে
#আজ আমার বিয়ে
লেখা আশিকা জামান
পার্ট ২২
আমি রুম থেকেই বের হয়ে দরজার কাছে যেতে যেতেই দেখি ইভান চলে গেছে। আমি উল্টো দিকে ফিরতেই মা আমার হাতটা ধরে ফেলে…
— অরিন ইভান এইভাবে চলে গেলো কেন??
— মা কিছুই না ওর একটু বাসায় কাজ আছে।
— তাহলে তুমি গেলেনা কেন ওর সাথে??
আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।
— না মানে…
মানে..
— মানে মানে কি করতেছো এইসব। ঠিক করে বলো।
— আসলে আমি থাকতে চাইলাম আর সেও আমাকে রেখো গেলো। এতে আমার কি দোষ।
— তোদের আমি কিছু শিখাতে পারলাম না। এই তুই জানিস না কালকে ইভান ঢাকা চলে যাবে। ওর কতকিছু গোছগাছ করা লাগবে আর তুমি এখানে ড্যাংড্যাং করে পড়ে রইলা। আজব মেয়ে তোমরা।
আসলেইতো আমার একদম মনে ছিলোনা।
— এই মেয়ে চুপ কেন??
আর নিজেতো পড়াশুনা চাংগে তুলছো। ফ্রেন্ডদের থেকে খুজ খবর কিছু নাও..
এক্সাম দেয়ার টাইম তো এসে গেলো। এখনো আমাকে এইগুলা মনে করাই দিতে হবে। আর তোমার শ্বশুর শাশুড়ি কি ভাববে তুমি গেলে না কেন?? বুদ্ধি সুদ্ধি কবে হবে??
আমি তখনো নিচে তাকাই ছিলাম। সত্যিইতো তারা কি ভাববে, তারাতো আমাকে অনেক ভালোবাসে তাছাড়া এইটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই আমি ইভানের স্রি। কিন্তু এখন কি করবো?? ওতো চলে গেলো।
আমি নিজের মনেই ভেবে ভেবে রুমের দিকে গেলাম।
— এই মেয়ে মুখে কথা নাই কেন?? আচ্ছা যা খুশি তাই করো…
যত্তসব।
আমি ফোনটা নিয়ে ইভানকে কল দিলাম।
ইভান কল দেয়ার সাথে সাথে কেটে দিলো। তবে এতে আমি খুব বেশি চিন্তিত হলাম না। ও যে কলব্যাক করবে আমি জানি।
হুম ফোনে রিংটোন বাজছে
ইভানের কল.
— হ্যা কিছু বলবে??
— হু, তুমি কি চলে গেছো।
— টাইম দেখো, এতক্ষন আমার বাসায় থাকারই কথা। কিছুক্ষন আগেই আসছি।
তুমি কি এটা জানার জন্যে ফোন করেছো।
— সেটা না। আসলে তোমার আমাকে সাথে নিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিলো।
— কেউ না আসলে আমি কি করে নিয়াসতে পারি??
আর যাই হোক আমি জোর খাটাতে চাই না। আর হ্যা, কাম টু দ্যা পয়েন্ট, তোমার এখন কেন মনে হলো যে আমার সাথে যাওয়া উচিৎ ছিলো??
— না মানে, তখন আমি কি একটা না বললাম আর সেটা শুনেই যে তুমি চলে যাবে। সেটা আমি ভাবতে পারিনি।
— তুমি আসতে চাইবে না, আবার আমি রেখে আসলেও দোষ..?? আচ্ছা আমি কি করবে বলোতো?? কোন দিকে যাবো??
— আসলে তোমার দোষ আমি বলিনি। বলতে চাইছি যে…
— কি বলতে চাইছো?? ক্লিয়ার করো??
— তুমি এখন এসে আমাকে নিয়া যেতে পারবে??
— এখন, না পারবোনা। কারন আমার একটু কাজ আছে কালকে চলে যাবোতো বুঝতেই পারছো..
আর একটু শপিং এও যেতে হবে। আর তুমি থাকো সমস্যা নেই। পরে আসতে চাইলে আমার মাকে বলো তোমাকে নিয়াসবে।
— কিন্তু আমি যে এখন আসলাম না ওনারা কি ভাববেন?? না এইটা ভেবেই আমার মাথাটা ভারী হয়ে আছে।
— ও এই জন্যেই তুমি আসতে চাচ্ছো। এতক্ষনে ক্লিয়ার হইছে। হ্যা তোমাকে নিয়ে অনেক কিছুই ভাবা যেত। কিন্তু তোমার অসম্মান আমি হতে দিবো না এইটুকু ভরসা করতে পারো। আফটার অল তুমি আমার বউ তোমাকে কেউ কিছু বললে সেটা আমার ভালো লাগবেনা। এ নিয়ে চিন্তা করোনা। সবাই যখন তোমার কথা জিজ্ঞাস করেছে তখন আমি বলেছি যে, তুমি আসতে চাইছিলে কিন্তু আমি জোর করে তোমাকে রেখে আসছি। কয়েকদিন থাকবে তারপর তোমাকে মা নিয়াসবে। আর আমিতো চলেই যাচ্ছি তাহলে ওখানে থাকতেই পারো।
আচ্ছা ভালো থাকো রাখি।
ইভান আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কেটে দিলো। না আমার কিছু ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে কেউ ছুড়ি দিয়ে ভিতরটা কুচকুচ করে কাটতেছে। ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারলাম আর কাদতে লাগলাম। সকালবেলা ইভান আমাকে যে কথাগুলা চোখে আংগুল দিয়া দেখাই দিলো তা সব সত্যি তার একবিন্দুও মিথ্যা না। তবে কেন এত অবিশ্বাস, সন্দেহ, এত সংশয়। জানি না কেন ওকে মানতে পারি না।
— আপু কি হইছে? তুই কাঁদছিস কেন??
পিছনে তাকাই দেখি নওরিন।
চোখ মুছে উঠে দাড়ালাম।
— নওরিন সত্যি করে বলতো?? তুই কালকে আমাকে কি খাইয়েছিলি?? আর এটা কার বুদ্ধিতে??
আমার প্রশ্ন শুনে সে উত্তর না দিয়েই চলে যেতে লাগলো।
আমি ওর হাত টেনে ধরলাম।
আমার দিকে ঘুরে নিচে তাকাই ও।
— আপু জানিস দুলাভাই আমাকে অনেক বকেছে। একটু মজা করতে গিয়েছিলাম তাতেকি কেউ রাগ হতে পারে।
ও যে কথা ঘুরাতে চাইছে তা আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি।
— ফাজলামো যখন মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায় তখনতো একটু বকা শুনা লাগবেই । আর আমিতো তোকে কিছু জিজ্ঞাস করেছি উত্তর দে??
— আপু আসলে আমি চাইছিলাম তোর আর দুলাভাই এর সব দুরত্ব মিটে যাক। তাই….
তাই…আরকি
— তাই কি?? বল??
— ভেবেছিলাম তোরা কাছাকাছি আসলে সব ঝামেলা মিটে যাবে। তাই আমি নিজেই তোকে আর দুলাভাইকে নেশা করানোর জন্য…
এটুকু বলতেই আমি নওরিনকে ঠাস ঠাস করে দুইটা চড় বসিয়ে দেই।
— দূর হ তুই আমার সামনে আসবি না। দুষ্টুমির একটা লিমিট থাকা উচিৎ। আর আমাদের ব্যাপারে তোর এত নাক গলানোর কি দরকার??
তোর জন্য আমি ওকে আজ অনেক কথা শুনিয়েছি?? এর জন্য তুই রেস্পন্সিবল??
— আপু তুই আমাকে মারলি??
যা আমি কিছু মনে করিনি। কিন্তু শোন তুই দুলাভাই এর সাথে যা করছিস না সব বাড়াবাড়ি। এর জন্য তোর একদিন পস্তাতে হবে।
— তুই এখান থেকে যাবি নাকি আমি চলে যাবো??
— যাচ্ছি।
নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। ছিঃ আমার বোন এমনটা করতে পারে?? খুব কান্না পাচ্ছে। সারা সন্ধ্যা নিজের সাথে খুব যুদ্ধ করলাম। কিন্তু নিজের মনের সাথে পেড়ে উঠছিলাম না।
কলিংবেল বাজার সাথে সাথে সমস্ত চিন্তার অবসান হলো। আচ্ছা ইভান কি আসছে??
আমি নিজের মনেই ভেবে ভেবে দরজা কাছে যেতেই দেখি নওরিন দরজা খুলছে..
আর হ্যা ইভান না সোহান এসেছে।
নওরিন একটা ভাব নিয়ে সোহানকে দেখেও কথা না বলেই চলে যাচ্ছিলো।
সোহান পিছন থেকেই নওরিনের হাত টান দিয়া ধরে।
আমি দূরে দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা দেখছিলাম।
— আরে, রে কি হলো। মুখটা অমন হাড়ীর মত বানিয়ে রেখেছো কেন??
— এই তোমাকে কখন আসতে বলেছি, এতক্ষনে আসছে উনি??
— আচ্ছা তুমি যখন বলেছো তখনিতো এসেছি। আর আমার আসতেতো টাইম লাগবে নাকি??
— আচ্ছা দাঁড়াও আমি ব্যাগ নিয়াসছি চলে যাবো।
— মানে কি?? তুমি না কালকে বললা কয়েকদিন থাকবে তাহলে আজকেই আবার….
— আজকেই আবার কি?? আর কালকে যা বলেছি আজকেও আমি তাই বলবো এমনটা ভাবার কোন কারন নেই। আর তোমার ভাব দেখে মনে হচ্ছে আমি থাকলেই বেশি খুশি হও।
— আরে না না না। ছিঃ কি যে বলো। চল চল…
হঠাৎ ই সোহান এদিকে তাকায় আর আমার চোখ পড়ে যায়।
আমাকে উদ্দেশ্য করে সোহান বলে।
— অরিন কিছু বলবা??।
— নাতো। তুমি বসো আমি মাকে ডেকে নিয়াসি।
আমি আমার রুমে চলে আসি। নওরিন আর সোহানের খুনসুটি দেখে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। নিজের মনেই নিজেই হেসে উঠি। ফোন্টা নিয়ে অজান্তেই ইভানকে ফোন দেই।
— হ্যালো,
কিছু বলবা??
— তুমি কি খুব বিজি।
— নাহ, বলো সমস্যা নাই।
— সরি।
— কেন??
–তোমাকে এতগুলো কথা শুনানোর জন্য।
ইভান মৃদু হাসলো।
— তুমি আমাকে সরি বললেই কি সকালে যা যা বললা তা ধুয়ে মুছে যাবে।
আমি চুপ কি বলবো সত্যিই স্পিচলেস।
সেও চুপ। তারপর নিরবতা ভেংগে সেই বলে,
— অরিন তোমাকে একটা রিকুয়েস্ট করি রাখবা।
— হুম বলো।
— আমিতো চলে যাবো। যে কয়েকটা দিন তুমি আমাদের বাসায় থাকবে প্লিজ সবার কথামত থেকো। এমন কিছু করোনা যাতে সবার কাছে ছোট হতে হয় কেমন।
— হুম।
— আচ্ছা ঘুমাও তুমি। রাখি।
চলবে

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here