অন্তর্দহন প্রণয় ২ পর্ব-১০ এবং শেষ পর্ব

0
722

#অন্তর্দহন_প্রণয়
#সুরাইয়া সাত্তার ঊর্মি
#শেষ পর্ব

“পাপ মানুষকে ধংস করে দেয়..। মানুষ থেকে করে তোলে অমানুষ, হিংস্র, পশু। তখন তার মনে মা, মেয়ে, বোন বলে কিছু থাকে না, যা থাকে তা হলো নারী আর তার শরীর….! প্রতিবছর এই নারীদের উপর অত্যাচারের হার বাড়ছে, ধর্ষণ বাড়ছে, নারী হত্যা বাড়ছে। এসব কিছু থেকে রুখে দাঁড়াতে আমরা অনেক রকম চেষ্টা করে চলেছি। তবে আমাদের এঁকা হাতে এসব সম্ভব নয়… এর জন্য প্রয়োজন সকল জনগনের সহযোগীতার। আশা করছি আপনারা আমার পাশে থাকবেন!”

বক্তব্যটি দিয়ে শেষ করলেন রাহুল খন্দকার। সাথে সাথে শুরু হলো উপস্থিত সবার করতালি। জয়নব ভাবলেশহীন ভাবে চেয়ে রইলো নিজের বাবার দিকে। মিলাতে চাইলে বাহিরের রূপটা সাথে ভিতরের রূপটা… কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না জয়নব… এই কালো মনের মানুষটিকে কিভাবে সবাই সাদা মনের মানুষ মনে করে??? জয়নব তাচ্ছিল্য হাসলো এবার… যে নিজের কর্মের আড়ালে নারীদের বস্তু, খাবার বানায়? সে আজ সকলকে ভাষণ দিচ্ছে নারী নির্যাতন রুখতে। জয়নব হাসতে লাগলো। এই দেহে এই লোকের রক্ত ভাবতেই গা শিরশির করে উঠলো। আচ্ছা… এখন যদি সে হাতের রগটা কেঁটে দেয়? তাহলে তো এই লোকের রক্ত বেড়িয়ে যাওয়ার কথা? তাই না? কিন্তু দেহ? এই দেহ কি করবে সে? এই লোকেরই তো অংশ সে। এই লোকের চোখ,নাক,মুখ সব যেন জয়নবের মুখের আদলে বসানো। শুধু গায়ের রং টা চাপ। জয়নব হতাশার শ্বাস ফেললো। বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে গেলো নিজের বাবা নামের পশুটির দিকে… আর ভাবছে কিছু ঘন্টা আগের কথা গুলো….

” জান… ”

আদরের হাতের স্পর্শ চুলের ভাজে পেতেই আদরের বুকে উপর থেকে মাথা তুলে জয়নব। ফোলা চোখ, ঘুমাচ্ছন্ন মুখ। কখন যে ঘুমিয়ে গেছিলো জানা নেই তার।আদর জয়নবের চোখের কোনে জমে উঠা ছলছল পানি মুছে দিলো। বলল,

” জান.. কাঁদছো কেনো?”

” আমি আপনাকে মারতে চাইনি! কিন্তু কিভাবে কি থেকে কি হয়ে গেলো… আমাকে ক্ষমা করে দিন!”

ঢুকরে উঠলো জয়নব। মাথা নত করে কাঁদতে লাগলো। কান্নার শব্দ না হলেও কেঁপে কেঁপে উঠছে দেহখান। আদর জয়নবের থুতনী ধরে মুখ উঁচু করলো,

” জান তোমার উপর আমার কোনো রাগ… কোনো ক্ষোভ নেই। কারণ কি জানো?”

জয়নব অবুঝের মতো মাথা নাড়ালো। তা দেখে আদরের মন চাইলো গাল টেনে দিতে জয়নবের। কিন্তু নিজের ভাবনা গুলো বাদ দিয়ে দাম্ভিক মুখ খানায় গম্ভীরতা ছেয়ে বলল,

” তোমার বাবা.. শুধু আমাদের সাথে নয়.. তোমার সাথে.. ইনফ্যাক্ট পুরো নারী জাতিদের সাথে বেইমানি করছে!”

জয়নব বড় বড় চোখ করে তাকালো। আদর বলতে থাকলো,

” তোমার বাবা একজন ক্যানিবাল!”
জয়নব বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকালো,
” কি বলছেন এসব?”
আদর বলল,
” এটাই সত্যি। তোমার বাবা একজন মানুষ খেকো।”

জয়নবের এবার হাত পা ঠান্ডা হওয়ার উপক্রম। ভয়ে ভয়ে বলল,

” আপনারাও? আমি শুনেছি রুফাইদা আপু বলেছিলো..অভিনব স্যার নাকি রুফাইদা আপুর সামনে খেয়েছে!”

আদর হতভম্ব হয়ে গেলো। কোন কথার পৃষ্ঠে মেয়েটি কোন কথা বলছে। আদরের মন চাইলো জোরে জোরে হাসতে। তবুও নিজেকে সামলে বলল,

” নাহ্..আমরা ক্যানিবাল নই। রুফাইদাকে শুধু ভয় দেখাবার জন্য এসব করা!”

” এসব কিছুর মাঝে রুফািদা আপুকে কেন টানলেন? তার শোকে বাবা..!”

আবারো চোখে পানি টল টল করতে লাগলো। আদর বলল,

” আমরা রুফাইদাকেই তুমি ভেবেছিলাম!”

জয়নব চেয়ে রইলো। আদর বলতে লাগলো,

” রুফাইদাকে কোনো রকম হার্ম করতে চাইনি আমরা। ইনফ্যাক্ট যখন জানতে পারি যাকে আমরা ধরে রেখেছি সে অন্য কেউ, তাকে আর কিচ্ছু করিনি। তবে হ্যা না চাইতেও তাকে আমাদের কাজে লাগিয়েছি। ”

” কিভাবে?”

” তোমাকে আমাদের হসপিটাল আসতে বাধ্য করতে।”

জয়নব চোখ বড় বড় করে চাইলো। আদর শুরু থেকে শুরু করলো,

” আমার বাবা একবার তোমার বাবাকে তার কুকর্মের সাথে হাতে নাতে ধরে। উনি তখন নারী পাচারকারী ছিলেন। তার সাথে আমাদের উন্নত দেশ গুলো মধ্যে এখনো অনেক ক্যানিবাল রয়েছে, এবং এমন অনেক রেস্টুরেন্ট যেখানে মানুষের মাংস সাপ্লাই করতো। এভাবেই নিজের কুৎসিত চেহারা সমাজ সেবার আড়ালে লুকিয়ে রাখেন উনি।”

জয়নবের মন চাইলো এসব শোনার আগে সে মরেই যেতো? নয়তো কখনোই না জানতো তার পিত্র পরিচয়। আদর আবার বলতে শুরু করে,

” জান জানো? তুমি এক মাত্র তোমার বাবার ধংসের কারণ হবে!”

জয়নব চকিতে চাইলো,
” কিভাবে?”

আদর এবার উঠে বসতে চাইলো। জয়নব সাহায্য করলো। জযনবের মনে হলো, লোকটি বুঝি শুকিয়ে গেছে? কেন যেস রোগা রোগা লাগছে। আদরের গলায় জয়নবের ভাবনার ফোঁড়ন কাঁটলো,

” তোমার নানা ছিলেন জমিদারের পুত্র । তার এক মাত্র মেয়েই ছিলো নয়নতারা। মেয়েকে অনেক ভালোবাসতেন। আর তোমার মা প্রেমে পড়ে যায় তোমার বাবার। আবেগে আপ্লুত হয়ে তোমার মা তোমার বাবাকে বিয়ে করে নিয়ে হাজির হয়। তোমার নানা এতে আর আপত্তি করে নি। সব ঠিক চলছিলো। হঠাৎ কি হলো তোমার নানা সিঁড়ি থেকে পরে গেলো। এবং পরলোকে গমন করলো। এভাবেই দিন যেতে লাগলো।একদিন তোমার মার সামনে সব সত্যি চলে আসে। এবং এটিও জানতে পারে… তোমার নানা তোমার বাবা সম্পর্কে সব জানতে পেরে গেছিলো। উনি নয়নতারাকে বলতে চেয়ে ছিলো।কিন্তু আর বলা হয় নি। নয়নতারা এসব কিছু জানতে পারার পর তোমার বাবা সম্পর্কে খোঁজ লাগাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে জানতে পারে.. রাহুল তার ঘারে বন্দুক রেখে চালিয়ে যাচ্ছে। নয়নতারাকে নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। তার লক্ষ্য ছিলো তার বাবার সম্পত্তি, আর তার নাম। আর সিটিজেনশিপ। কারণ তোমার মা তখন আমেরিকার সিটিজেন। যার আঁড়ালে নিজের কালো কাজ গুলো লুকাবে। হলোও তাই। সে বাংলাদেশ সহ নানান জায়গায় মেডিকেল কলেজ খুলে। আর ডাক্তারী পেশার আড়ালে চলতে থাকে হত্যা, পাচার, ধর্ষন। শুধু তাই নয়… মেয়েদের উপর করা হলো এক্সপেরিমেন্ট। আর সব থেকে মজার বিষয় কি জানো?”

জয়নব এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো সব। এবং চোখের জল অজান্তেই মাটি স্পর্শ করছিলো। বলল,

“কি!”

” তুমি, রুফাইদা, কুয়াশা, সাজিয়া.. যে মেডিকেলে পড়তে? তাও কিন্তু তোমার বাবার।”

জয়নব ভাষা হারিয়ে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে রইলো। আদর বলতে লাগলো,

” তোমার মা যখন জানতে পারে.. তোমার বাবার সাথে এসব নিয়ে তুমুল ঝগড়া-ঝাটি শুরু করে। এক পর্যায় তোমার মার গায়ে হাত তুলে তোমার বাবা.. বন্দি করে দেয় তাকে। তুুুমি কি জানো জান… তোমার মা এখনো জীবিত। কিন্তু জিন্দা লাশ।”

জয়নব ঢুকরে উঠলো,
“মা… আমার মা বেঁচে আছে? আপনি সত্যি বলছেন?”

আদর মাথা নাড়ালো। পাশে থেকে ল্যাপট্যাপের দিকে ইশারা করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

” জান ল্যাপট্যাপ!”

জয়নব এগিয়ে দিলো। আদর ল্যাপটপ অন করে একটি ফাইলে ঢুকলো। সর্ব প্রথম যার ছবি আসে… সে জয়নবের বাবা। জয়নব ঘৃণিত মুখ নিয়ে চাইলো। তার পরেই জ্বলজ্বল করে উঠলো সুন্দরী রমনীর খিল খিল করা হাসির ছবিটি। হাসিটা যেন একদম জয়নবের মতো। জয়নব মুখ চেঁপে কেঁদে উঠলো,

” আমার মা…!”

আদর এর পর আরেকটি ছবি বের করলো। হসপিটালের কাপর জড়িয়ে সিলিং এর পানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নয়নতারা। একদম নিস্তেজ। বয়সের ছাপ পড়ছে। তবে এক ফোঁটা সুন্দরর্য কমেনি। আদর বলল,

” উনার বর্তমান অবস্থা। তোমার বাবা তোমার মাকে এতই টর্চার করেছে যে উনি এখন এই দুনিয়াতে থেকেও নেই। তবে জানে মারে নি। আর মারবেও না… যত দিন না তোমাকে পাচ্ছে!”

“আমাকে? আমাকে কেন?”

আদর জয়নবকে কাছে টেনে নিলো। মাথার চুলের ভাজে বিলি কেঁটে বলল,

” কারণ এক মাত্র তুমিই তোমার বাবাকে ধংস করতে পারো আবার তোমার বাবাকে পৃথিবীর সব থেকে শক্তিশালী ব্যক্তি বানাতে পারো। আর এক মাত্র এই কারণেই ছিলো.. তোমাকে আমরা মারতে চাইতাম। কিন্তু এই যে আমার মনটা? দিলো না। উল্টো পাগলের মতো ভালোবেসে ফেললো তোমাকে।”

বলেই জয়নবের কঁপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো আদর। জয়নব বলল,

” আমার সাথে এসবের কি কানেকশন? ”

” আছে… তোমার মা খুব বুদ্ধি মতি বলতে গেলে। তোমার নানা মারা যাওয়ার সময় তার পুরো সম্পত্তি তোমার মাকে দিয়ে যায়। আর তোমার মা তোমার নামে করে দেয়। তোমার ২৫ বছর পূর্ণ হলেই তুমি জমিদার বাড়ির নতুন মালিক। শুধু তাই নয়… তোমার বাবা যত কুকর্ম করেছে তার সব প্রুভ তোমার কাছে চলে আসবে। ইনফ্যাক্ট তুমি যদি উনার হাতে পর.. তাহলে উনি তোমার মাধ্যমে আরো পাউয়ার ফুল হয়ে যাবে এবং তোমাকেও তোমার মায়ের মতো হাল করবে।”

জয়নব আবার একই প্রশ্ন করলো,
” কিন্তু আমি কিভাবে?”

” তোমার হাতে ছাপ আর তোমার চোখ জান… ওই যে বললাম তোমার মা খুব চালাক ছিলেন। তার সকল কৃত কর্ম এবং সব দলিল পত্র ইন্টার্নেশনাল লকাপে রাখেছেন। যার পাসওয়ার্ড এক মাত্র তুমি। যখন এমন হয় তখন তুমি খুব ছোট। এর পরেই তোমার মা তোমাকে সাইদ আঙ্কেলের কাছে দিয়ে দেন। সাঈদ আঙ্কেল তখন থেকে একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক আর গোয়েন্দার লোক ছিলেন। তোমার মা তার সাহায্য নেয়। আর আজ তুমি এখানে! জানো এখানে একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস কি? ওই লকাপ তোমার বাবার কাছে। উনি দিনে রাতে দেখে অথচ টাচ করতে পারে না। তার এক মাত্র কারণ তুমি ছাড়া যদি কেউ তা টাপ করে তাহলে ডিস্ট্রয় হয়ে যাবে। এবং তোমার বাবা সব হারাবে। ইনফ্যাক্ট তোর ২৫ বছরের আগে যদি তোমাাে উনি না পায় তাহলে তার যত সহায় সম্পত্তি আছে সব ট্রাস্টে চলে যাবে। তখন তোমার বাবা একজন সাধারণ মানুষ হয়ে যাবে। তাইতো তোমাকে উনি হণ্য হয়ে খুঁজে যাচ্ছেন। আর এই জন্যই তোমাকে আমি নিজের কাছে রেখেছি। আর রইলো সেই লকাপ তা আজ পর্যন্ত তার হিফাজতেই রাখা থাকলেও এখন আর নেই।”

” নেই মানে? কোথায় তাহলে?”

তখনি দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো কত গুলো পা। তার মধ্য থেকে ভেসে এলো মেহজাবের কন্ঠ,

” এখন সেটা আমাদের কাছে জয়নব!”

জয়নব বিস্ময় নিয়ে চায়। তা দেখে হাসে মেহজাব। বলে,
“কুয়াশা আমাকে সব বলেছে জয়নব..!ওদের এই মিশনে আমিও আছি! মুলত আমি এখানে এসেছিলাম এই জন্যই কিন্তু এখানে কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ বেড়িয়ে এলো। সব থেকে বড় মাস্টারমান্ডের চেহারা এবার স্পষ্ট হলো।”

জয়নব খুশি হলো। যদিও মনে মনে খুব কষ্ট হচ্ছে তার। তবে এতটাও ভঙ্গুর নয় সে। যেখানে রুফাইদার জন্য বদলা সে নিতে পেরেছে… এইটা তো নিজের মায়ের লড়াই.. পুরো দেশের নারীদের লড়াই। জয়নব সপ্তপর্ণ শ্বাস ছাড়লো। অতীত থেকে বেড়িয়ে বর্তামনে পা রাখলো। রাহুলের মুখোমুখি হয়ে সকলের সামনে বলল,

” বাবা…! ”

রাহুল খন্দকার খানিকটা অবাক হলেও মেয়েটির চেহারা দেখে বুঝতে বাকি রইলো না এই সে তার হারিয়ে যাওয়া মেয়ে। সকলের সামনে অভিনয় করলো রাহুল। মেয়েকে কাছে টেনে ক্রোদনে ভেঙে পড়লো। জয়নব নিজেও তালে তাল মিলালো। উপস্থিত জনগন বাবা মেয়ের মিলন মেলা দেখে আবেগী হলেন। অভিনয়ের এক পর্যায় জয়নব বলল,

” বাবা তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে!”

রাহুল ভ্রু কুচকালো। তার মাথাতেও এখন কিচ্ছু কাজ করছে না। যেই মেয়েকে চিরুনি তল্লাশি করে খুঁজে পায়নি সে হুট করেই কই থেকে এলো। এবং এলো তো এলো সবার সামনে। যেখানে রাহুল মুখ খুলে কিছু বলতে ও পারছে না। তাই সে জয়নবের হ্যাঁ তে হ্যাঁ বলল। জয়নব কুটিল হাসলো। হাতের রিমোট চাপ দিতেই একে একে ভেসে উঠলো রাহুলের সাদা মনের কালো, কুৎসিত দিক, দুনিয়া। উপস্থিত সকলেই এতক্ষণ যারা আবেগী হচ্ছিলো তারা ক্রোদে ফেঁটে পরলো। এখানে উপস্থিত নারীদের বলল,

” উনি আপনাদের সব থেকে বড় অপরাধী। আমি আপনাদের হাতেই দিতে চাই। আপনারা যা শাস্তি দিতে চান.. তাই দিতে পারেন।”

রাহুলের মুখ আতঙ্কে কালো হয়ে গেলো। পালাতে চেয়েও পালাতে পারলো না। একেঁ একেঁ সকলেই টেনে হিছরে মারতে লাগলো তাকে। জয়নবের এতে যেন কিছুটা শান্তি লাগলেও। পুরোটা লাগেনি। সে সকলকেই থামিয়ে দিয়ে বসলো রাহুলের সামনে। বলল,

” পৃথিবীতে শুনেছি বাবা নাকি তার সন্তানের বিশেষ করে মেয়ের জীবনের সুপার হিরো হয়। কিন্তু আপনি একজন নিকৃষ্ট মানুষ। একটিবার কি মনে হয় নি এসব করার সময়? আপনার মেয়ে আছে?”

জয়নব আবার কিছু মনে করার চেষ্টা করে বলল,

” ও হ্যাঁ আপনি না বললেন? পাপ মানুষকে ধংস করে দেয়..। মানুষ থেকে করে তোলে অমানুষ, হিংস্র, পশু। তখন তার মনে মা, মেয়ে, বোন বলে কিছু থাকে না, যা থাকে তা হলো নারী আর তার শরীর….! একদম ঠিক বলেছেন… আপনি একজন নর পশু। খুব শখ তো আপনার নারীকে মাংসে পরিনিত করার? আজ আপনাকে আমি বুঝাবো মানুষ খাদ্য হলে কেমন লাগে?”

বলেই মেহজাবকে ইশারা করে জয়নব। মেহজাব কিছু পুলিশের সাথে এসে তাকে নিয়ে গেলো।

জয়নব বাঁকা হাসলো। তারপর হেঁটে চলে গেলো আদরের কাছে। আদর দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। জয়নবকে দেখেই আদর জড়িয়ে ধরলো। শেষ পর্যন্ত এই অন্তর্দহন শেষ হলো। এবার প্রণয়ের শুরু। কিন্তু জয়নব নাক ছিটকে বলল,

” সত্যি করে বলুন তো? আপনি মানুষের মাংস খেয়েছেন কি না? একদস মিথ্যা নয়!”

আদর মশকরা করে বলল,
” হ্যাঁ একবার টেস্ট করেছিলাম তো।”

“ছিঃ! আপনি কখনো টাচ করবেন না আমাকে। ইয়াক.. থু থু।”

আদর অবুঝের মতো বলল,

” এমন করছো কেন? আমি তো খেয়ে ব্রাশ করে নিয়েছিলাম!”

জয়নব আরো রাগে ফেঁটে পড়লো। বলল,

” আপনি আমাকে ছুঁবেন না। আমার বমি আসচ্ছে।”

আদর হো হো করে হেসে দিলো। এবং ঝাঁপটে ধরলো জয়নবকে। জয়নব তখনো ধাক্কাতেই লাগলো। এভাবেই চলতে লাগলো তাদের খুনসুটি। তারা এবার হসপিটালের দিকে রওনা হলো। জয়নব শেষ পর্যন্ত তার মাকে দেখবে বুকে জড়িয়ে নিবে। আর অনেক অনেক ভালোবাসবে তার মাকে।

আর ওই দিকে….. গহীন এক জঙ্গলের ভিতর বেঁধে রাখা হয়েছে রাহুলকে। তার চার পাশে ঘুরছে নরখাদক বা ক্যানিবালিজম। এদের দেখেই মনে হচ্ছে এরা মানুষিক ভাবে অসুস্থ। ঠিক তখনি একজন এসেই রহুলের হাত টেনে ধরে এক কোপ বসালো। আর রাহুল গগনবিদারী চিৎকার করে উঠলো। নিজের হাতকে এভাবে চাবিয়ে খেতে দেখে বমি করে ভাসিয়ে দিলো সে। এর পরেই আবার আরেক হাত একই ভাবে কেঁটে নিলো তারা। ধীরে ধীরে কেঁটে, ছিঁড়ে, খুবলে নিতে থাকলো রাহুলের প্রতিটি অঙ্গ পঙ্গ। রাহুলের চিৎকার পুরো জঙ্গলে হারিয়ে যেতে লাগলো। ধীরে ধীরে জ্ঞান হারালো। পরবর্তী চোখ খুলতে আবারো একই রকম হাল হতে লাগলো তার। ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়লো রাহুল। জয়নব রাহুলের সাথে তাই করেছে যেটা করেছিলো ডা. সাহিল, ডা. দেবাশীষ আর তার সহযোগীদের সাথে। হ্যালোজিনেশন। সেই মৌমাছির বিষাক্ত মধু আর ধুতরাফুল দিয়ে। এভাবেই তিলে তিলে মরবে রাহুল। একে বারে মরে গেলে তো সে রেহাই পেয়ে যাবে। কিন্তু রাহুলের পাপ তো এত ছোট নয়? তাকে মরতে হবে ভয়ংকর মৃত্যু।

সমাপ্ত

বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। এতদিন এই গল্পটা আঁটকে রেখেছি বলে। আজ ফাইনালি শেষ হলো।

অন্তর্দহন প্রণয় সিজন-০১ গল্পটি পড়তে লেখার উপর ক্লিক করুন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে