অনুভূতি পর্ব ৪৪

0
985

অনুভূতি
পর্ব ৪৪
মিশু মনি
.
৬৯.
রোদের চোখে পানি এসে গেলো। ও আস্তে করে মাথাটা রাখলো পূর্ব’র কাঁধের উপর। পূর্বকে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ বলা যায়। ও কখনোই শুধুমাত্র মজা নেয়ার জন্য কাঁধে মাথা রাখতে বলবে না। বললে একদম আপন ভেবেই বলবে। এসব কিছু ভেবে বুকটা কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগলো রোদের।
পূর্ব বললো, “বুকের ভেতর কেমন ঢিপঢিপ আওয়াজ হচ্ছে তাইনা?”
রোদ কোনো কথা বললো না। ঢিপঢিপ আওয়াজ ওরও হচ্ছে। কিন্তু মুখে কিছু বলা যাচ্ছেনা। খুব লজ্জা করছে ওর। লাজুক ভঙ্গিতে বললো, “আপনি কি কখনো কারো এই ঢিপঢিপ শব্দের কারণ হয়েছিলেন?”
– “খুব সম্ভবত হইনি কখনো।”
– “আজকে হয়েছেন। আমি তাহলে ভাগ্যবতী বলতে হবে।”
পূর্ব আর কোনো কথা বললো না। ওর ও ইচ্ছে করছে রোদের নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হওয়ার কারণ হতে। ওর ইচ্ছে করছে রোদের সমস্ত দুঃখ,সমস্ত যন্ত্রণা ঘুচিয়ে দিতে। রোদ মেয়েটা অনেক দুঃখী। একবার ওকে আপন করে নেয়া যায়না?
পূর্ব রোদের হাত ধরে ফেললো। কেঁপে উঠলো রোদ। ওর হাতের আঙুলের ফাঁকে আঙুল রাখলো পূর্ব। আস্তে আস্তে একজনের হাতের মাঝে আরেকজনের হাত একদম জড়াজড়ি হয়ে গেলো। কেউই কোনো কথা বলছে না। কিন্তু একজনের বুকের ভেতর কেমন তোলপাড় হচ্ছে আরেকজন সেটা ঠিকই ধরতে পারছে।
এভাবেই দুজনে চেয়ে রইলো নক্ষত্রভরা আকাশের দিকে। হাতে হাত, একইসাথে দুজনের নিশ্বাস পড়ছে। দুজনের মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, “আমি কি ওকে ভালোবাসি?”
পূর্ব ধীরেধীরে মুখটা একটু কাছে এগিয়ে আনলো। রোদও মাথাটা কাঁধ থেকে সরিয়ে আস্তে করে পূর্বর বুকে ঢলে পড়লো। এই প্রথম কোনো ছেলের এত কাছে চলে এসেছে ও। পূর্ব’র বুকের ধুকপুকুনি বেড়ে গেছে। সেই শব্দ শুনতে শুনতে কেমন যেন মাতাল হয়ে যাচ্ছে রোদ। এত সুখ কখনো হয়নি ওর। পূর্ব দুহাতের নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে ফেললো রোদকে। রোদের মাথাটা বুকে চেপে ধরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে লাগলো। পুর্ব’র নিজের ও খুব সুখ সুখ লাগছে। রোদের ভারি হয়ে আসা নিশ্বাস বুকের উপর পড়ছে। দুজনের নিশ্বাস ঘন হচ্ছে। পূর্ব কি বলবে বুঝতে পারছে না,খেই হারিয়ে ফেলেছে। কেউই কোনো কথা না বলে চুপচাপ জড়াজড়ি করে বসে রইলো।
রাত অনেক বেড়ে গেছে। রোদ ঘুমিয়ে পড়েছে পূর্ব’র বুকের উপর ঢলে পড়ে। ওর মাথাটা কোলের উপর নিয়ে বারান্দায় শান্ত হয়ে বসে আছে পূর্ব। এভাবেই থাকবে নাকি উঠে রুমে যাবে বুঝতে পারছে না কিছুতেই। নড়লেই তো রোদের ঘুম ভেঙে যাবে। কিন্তু এভাবেও তো থাকা যায়না। রাত বেড়ে যাচ্ছে। যদিও পুরো কটেজটাই এখন ওদের দখলে তারপরও সারারাত এভাবে বারান্দায় বসে কাটিয়ে দেয়ার কোনো মানে হয়না। কালকে আবার সারাদিন ঘুরতে হবে।
পূর্ব মৃদু স্বরে ওকে ডাকলো, “রোদ। এই রোদ।”
রোদের কনো সাড়া শব্দই নেই। কত শান্তিতে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা। পূর্ব আবারো ডাকলো- “এই রোদ। পাগলি মেয়েটা..”
রোদ উম বলে ওর গলাটা ভালোমতো পেঁচিয়ে ধরলো। শরীর ঝিমঝিম করে উঠলো পূর্ব’র। এভাবেই তো একেবারে খুন করে ফেলবে মেয়েটা। একদণ্ড শান্তি দিচ্ছেনা আবার যদি এভাবে আগলে রাখতে চায়,তাহলে তো মরণ ই। কি যে করবে ও!
রোদকে আস্তে করে কোলে তুলে নিলো পূর্ব। এবার ঘুম ভেঙে গেলো ওর। পূর্ব কোলে নেয়া মাত্রই চোখটা আবারো ভিজে উঠতে শুরু করেছে। রোদের হাতের বাঁধন আলগা হয়ে এলো। পূর্ব ওকে কোলে তুলে নিয়ে রোদের রুমে চলে এলো। বিছানায় শুইয়ে দেয়ামাত্রই রোদ চোখে মেলে তাকালো। ঘরে সৌরবিদ্যুতের আলো জ্বলছে। হালকা আলোয় পূর্ব’র চোখে চোখ রেখে কেঁপে উঠলো রোদ। পূর্ব দেখলো মেয়েটির চোখে জল। এ জল হয়ত সুখের! কিন্তু তবুও ওর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। অন্যরকম একটা যন্ত্রণা আঁচ করতে পারছে ও। সত্যি সত্যিই রোদকে ভালবেসে ফেলেছে বুঝতে পেরেছে পূর্ব।
রোদ অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে পূর্ব’র দিকে। ওর চোখে মায়া,এক অলৌকিক মায়া। এই মায়ায় নিমেষেই গ্রাস করে ফেলা সম্ভব। এখানে থাকলে সত্যিই ভূলভাল কিছু ঘটে যাবে আজ। পূর্ব আর কিছু না বলে রোদের চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলো। আবেশে চোখ বুজে ফেললো রোদ। পূর্ব নিচু হয়ে এসে ওর একদম চোখের কাছে চোখ রেখে বললো, “শাড়িতে তোমাকে কি যে মায়াবী লাগে,বলে বোঝাতে পারবো না। সবসময় শাড়ি পড়ে থাকার অভ্যেস করে নিও কেমন? আর নিজের একটু খেয়াল কি রাখা যায়না? চুলগুলো এত অগোছালো করে রাখো কেন হুম? একটু আছড়ানো যায়না? এখন লক্ষীমেয়ের মতন ঘুমিয়ে পড়ো তো। মেঘ ছুতে চাইলে খুব ভোরেই উঠতে হবে কিন্তু।”
আরেকবার হাত বুলিয়ে দিলো কপালে। রোদের গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। সুখেই মনেহয় মরে যাবে ও। এত সুখ জীবনে কখনো বোধহয় পায়নি ও।কেউ কক্ষনো ওকে এভাবে বলেনি,এভাবে একটু ভালোবাসেনি। ও কেঁদেই চললো। সোলারের টিমটিমে আলোয় সে জল চোখ এড়ালো না পূর্ব’র। আস্তে করে চোখটা মুছে দিয়ে বললো, “আর কান্না নয় রোদ,তোমার সমস্ত যন্ত্রণা আজকের এই জলেই ধুয়ে মুছে চলে যাক। যত জমানো কষ্ট সব নির্বাসন দিয়ে যাও। এই পূর্ব আর কক্ষনো কাঁদতে দেবেনা তোমায়,মাথায় থাকে যেন।”
রোদের ইচ্ছে করছে পূর্বকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে। পূর্ব’র ও ইচ্ছে করছে ঠিক একই কাজটা করতে। কিন্তু এখন ওকে একবার স্পর্শ করলে কোথ থেকে কি হয়ে যাবে কিছুই বুঝতে পারবে না। আবেগের বশে কোনো ভূল করতে রাজি নয় পূর্ব। ও আর কিছু না বলে রুম থেকে বেড়িয়ে এলো। দরজাটা যাওয়ার সময় লাগিয়ে দিয়ে গেলো। রোদ বালিশ জাপটে ধরে অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছে। কেন কাঁদছে ও নিজেও জানেনা। অরণ্য’র দেয়া অপমানের সমস্ত যন্ত্রণা আজকের চোখের জলে বেড়িয়ে এসেছে। সব কষ্ট মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। পূর্ব বলেছে আজকের কান্নাই শেষ কান্না হোক, আজই সব যন্ত্রণা নির্বাসন দিয়ে দিতে। এত সুখ কি কপালে সইবে ওর?
বাকি রাতটা নির্ঘুম কেটে গেলো। অনেক্ষণ কাঁদার পর নানান রঙিন স্বপ্ন দেখতে দেখতে ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়লো রোদ। এদিকে পূর্ব’র ও বাকি রাতটা খুব ছটফটানির মধ্য দিয়ে কেটে গেলো। এত অস্থিরতা কিসের বুঝতে পারেনা ওরা।
৭০.
ভোরবেলা মেঘালয়ের ডাকে চোখ মেলে তাকালো মিশু। মেঘালয় ওর ডান দিকে শুয়ে আছে আর বারবার সেদিক থেকে ডাকছে। মিশু চোখ না মেলেই বললো, “সারারাত জ্বালিয়েছো। এখন একটু ঘুমুতে দিবা প্লিজ?”
মেঘালয় কোনো বারণ শুনলো না। মিশুকে জোর করেই বিছানার উপর তুলে বসালো। মিশু বিরক্তমুখে চোখ কচলে যেই ওর দিকে তাকাতে গেছে,অমনি জানালা দিয়ে বাইরের দিকে চোখ গেলো। সাদা সাদা অজস্র মেঘের ভেলা পালা করে ছুটে আসছে, চারদিকে শুধু মেঘ আর মেঘ। জানালা থেকে একটু দূরে ঘরের নিচে শুধু মেঘ উড়ে বেড়াচ্ছে। মনেহচ্ছে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। কিন্তু জানালা থেকে অনেক নিচে মেঘগুলো। ছোঁয়া যাচ্ছেনা। এত কাছ থেকে মেঘ দেখতে পারবে সেটা কল্পনাও করেনি মিশু। সকাল সকাল ঘুম ভাঙিয়ে এমন মেঘের খেলা দেখলে মনটা কেমন যেন করে ওঠে। মিশু বিস্ময়ে কথাই বলতে পারলো না।
মেঘালয় তাড়া দিয়ে বললো, “সারপ্রাইজড?”
মিশু বললো, “হুম। সত্যিই অদ্ভুত মুগ্ধতা ছড়িয়ে আছে পুরো পাহাড় জুরে।”
– “মাত্র সকাল হলো। সূর্য উঠবে একটু বাদেই। মেঘ ছুতে চাইলে এক্ষুনি আমাদের বেড়িয়ে পড়া দরকার মিশু। আমি সবাইকে ডেকে এসেছি, তুমি একটু রোদকে ডেকে দাও দ্রুত। ওর বোধহয় ঘুম ভাঙেনি।”
মিশু তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে নামলো। ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে ছুটলো রোদের ঘরের দিকে। দরজা খোলাই ছিলো। এসে রোদকে ডেকে তুললো ঘুম থেকে। রোদ আড়মোড়া ভেঙে বললো, “এত সকালে ডাকছো কেন মিশমিশি?”
মেঘালয় মিশুকে যেভাবে চমকে দিয়েছে মিশু ঠিক সেভাবেই রোদকে চমকে দিলো। বিছানায় বসে এত কাছে মেঘ দেখতে পেয়ে রোদ বেশ চমকালো। খুশি হয়ে বলল, “ইস কি সুন্দর মেঘ!”
মিশু একটু হেসে বললো, “রাতে ঘুম হয়েছে বলে তো মনেহয় না। তাইনা?”
রোদের সবকিছু মনে পড়ে গেলো। ও লাজুক ভঙ্গিতে বললো, “উম।”
– “মেঘ বললো পূর্বকে রাত দুটার দিকে তোমার রুম থেকে বেরোতে দেখেছে। তো, কতদূর এগোলো? ঠোঁটে ঠোঁটে কথা হলো? নাকি আরো বেশি?”
রোদ লজ্জায় লাল হয়ে বললো, “উহু সেরকম কিছুই না। পূর্ব খুব ভালো, খুবই ভালো।”
– “হু,এবার ওঠো। বাকিটা পরে শুনবো। এখন না গেলে আর মেঘ ছোঁয়া হবেনা।”
– “আচ্ছা উঠছি। মিশু,তোমার আকাশী রঙের শাড়িটা আমায় দেবে পড়তে?”
মিশু ভেবেছিলো আজকে আকাশী রঙের শাড়িটা পড়বে। কিন্তু রোদের সদ্য ভালোবাসাবাসি শুরু হচ্ছে ভেবে ও বললো, “আচ্ছা আমি এক্ষুনি এনে দিচ্ছি। ভাইয়া বুঝি শাড়িতে খুব সুন্দর লাগে বলেছে?”
– “হুম।”
– “যাক। দুজনের একটা গতি হলো। বলেছিলাম না, একজনের মাথা ঠিকই ঘুরে যাবে? গরীবের কথা বাসি হলেও ফলে।”
রোদ হাসলো। সেই সিলেটে প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকেই তো ওদের মধ্যে একটু একটু অনুভূতি জন্মাচ্ছিলো। এখন সেটা দুজনেই ফিল করতে শুরু করেছে। লাজে রাঙা হয়ে উঠলো মুখটা।
মিশু ওর শাড়িটা রোদকে দিয়ে এসে জামা পড়ে নিলো। পাহাড়ে ট্রেকিং করতে হবে। শাড়ি পড়ে কিভাবে রোদ ট্রেকিং করবে সেই ভালো জানে। তবে পড়তে চেয়েছে যখন বাধা তো দেয়া যায়না। মিশু নিজের রুমে এসে দ্রুত রেডি হয়ে নিলো।
কটেজের বাইরে এসে সবাই একত্রিত হলো। পূর্ব’র চোখে মুখে এখনো ঘুম লেগে আছে। ছেলেটা যে সারারাত ঘুমায়নি,সেটা ওকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রোদের সাথে চোখাচোখি হতেই দুজনের হার্টবিট দুম করেই বেড়ে গেলো। রোদ কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগলো বারবার। প্রেমে পড়ার প্রথম অনুভূতি বুঝি এমনই হয়!
সবাই বেড়িয়ে পড়লো কংলাক পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। ওদের কটেজ থেকে পাহাড় বেশি দূরে নয়। তবুও লেগুনায় বেশ খানিকটা পথ যেতে হলো। তারপর শুরু হলো ট্রেইল। রোদ শাড়ি তুলে ধরে পাহাড়ে উঠছে। পাহাড়ের দুদিকে দুটো পথ চলে গেছে। সায়ান ও আরাফ সবার আগে আগে হাঁটছিলো। ওরা বামদিকে যাচ্ছে দেখে মেঘালয় বললো, “আগে ডানদিকে চল। এদিকে ভিড় কম থাকবে। আর মেঘ ও দেখা যাবে ভালোমতো।”
ওরা আবার ফিরে আসলো। দুজনকে খুবই ছন্নছাড়া দেখাচ্ছে। সবাই কাপল হয়ে গেছে আর ওরা দুজন শ্যাওলার মত ঝুলে আছে ওদের পিছনে। ভালো দেখায় কি? আরাফ তো সবার সামনে বলেই ফেললো, “নেক্সট টাইম থেকে বউ ছাড়া ট্যুরে যাবোনা।”
সবাই হেসে ফেললো ওর কথা শুনে। মেঘালয় মিশুর হাত ধরে ফেলছে বারবার, মিশুকে নিয়ে ওর বড্ড দুশ্চিন্তা হয়। কিছুক্ষণ ট্রেকিং করেই পৌছে গেলো কংলাক পাহাড়ের চূড়ায়!
স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে লাগলো সবাই। এখানে দাঁড়িয়ে বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মনেহচ্ছে পুরো পৃথিবীটাই দেখছে ওরা। এত বিশাল প্রান্তর সামনে। বিশাল মহাশূন্য আর রাশি রাশি মেঘ। আসার পথেই কুয়াশার মত মেঘেরা গা ভিজিয়ে দিচ্ছিলো। মিশু কেবলই উৎফুল্ল হয়ে উঠছে।
মেঘালয় খেয়াল করে দেখলো এক রাশি তুলোর মত মেঘ উড়ে আসছে। ও ছুটে এসে মিশুর হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে সেখানে গিয়ে দাড় করালো। মিশু মুগ্ধতার চোটে কথাই বলতে পারছে না। এমন সাদা মেঘ ও কক্ষনো দেখেনি। মেঘেরা উড়ে আসছে ওদের দিকে। মিশু উত্তেজনায় কাঁপছে। মেঘালয় ওর পিছনে দাঁড়িয়ে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরলো। মিশু মেঘালয়ের বুকে পিঠ ঠেকে দাঁড়ালো। মেঘালয় ওর পিছনে দাঁড়িয়ে হাত দুটো মিশুর হাতে তুলে নিয়ে সামনে বাড়িয়ে দিলো। মিশু উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে মেঘালয়ের বুকের উপর সমস্ত ভর ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশাল আকাশ আর এই মহাশূন্যের মাঝে উড়ে আসা মেঘ দেখে ওর মনেহচ্ছে নিজেই বোধহয় আকাশে উড়ছে। মেঘালয়ের হাতের উপর আলতো করে হাত রেখে আবেশে চোখ বুজে ফেললো মিশু। গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘ এসে শরীর ফুঁড়ে ঢুকে যেতে লাগলো। দুজনকে একসাথে আলিঙ্গন করছে মেঘ। মেঘ স্পর্শ করার অনুভূতি এত সুন্দর হতে পারে মিশু কখনো কল্পনাও করেনি। অজান্তেই ওর দুচোখ বেয়ে পানি পড়ছে টপটপ করে। বহু প্রতিক্ষীত সেই অনুভূতি!
মেঘের স্পর্শে চোখ বুজে ফেলেছে ও। চোখ মেলেই আবার মিটমিট করে বন্ধ করে ফেললো। মনেহচ্ছে একটু গাঢ় কুয়াশা। শীতল এক অনুভূতি! ভেতরে কাঁপন ধরে গেছে একেবারে। মেঘেদের দল উড়ে চলে যাওয়ার পর মিশু পিছন ফিরে মেঘালয়কে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। সায়ান ওদের মেঘের ভেতরের ছবি তুলে নিয়েছে। কখনো এরকম মেঘ ও দেখেনি। আজ মিশুর জন্যই বোধহয় মেঘেরা তার পথ ভূলে এ পথে এসেছে এভাবে। রাজকন্যাকে দেখতেই এসেছে ওরা। নয়ত মেঘগুলো কত নীচে, এত উপড়ে সবসময় আসেনা ওরা।তবে উপরে সব জায়গায় কুয়াশার মতন মেঘ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
মিশু এখনো কাঁপছে। মেঘালয়ের বুকে মাথা রেখে শক্ত করে ওকে ধরে আছে। মেঘালয় এই আনন্দটুকু দেয়ার জন্যই এত আয়োজন করে মিশুকে নিয়ে এসেছে এখানে। একেই বলে ভালোবাসা!
মিশুর কপালে আলতো চুমু এঁকে দিয়ে মেঘালয় বললো, “ভালোবাসি মিশু,প্রচণ্ড ভালোবাসি।”
চলবে..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here