অনুভবে_তুমি পর্ব-৩০/৩১/৩২

0
1202

অনুভবে_তুমি পর্ব-৩০/৩১/৩২
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
.
আকাশটা ভালোলাগছে খুব আজ।হালকা মেঘলা যেন একটু পরই ঝুমবৃষ্টি হবে।অনেকদিন বৃষ্টি হয়নি তাই ভিজাও হয়নি।আজ ভিজতে ইচ্ছে করছে খুব রূপের সাথে।
.
-হ্যালো রূপ কোথায় আপনি?তাড়াতাড়ি বলুন।
-কেনো?কিছু…………
-আরে তাড়াতাড়ি বলুন না………….
-আর ইউ ওকে?কি হয়েছে?তুমি হাঁপাচ্ছো কেনো এভাবে?
-অফিসে?
-হুম,কোথায় তুমি,কি হয়েছে বলবে তো আগে।
-ভার্সিটি থেকে একটু সামনে।রূপ তাড়াতাড়ি আসুন প্লিজ অনেক বড় একটা প্রবলেম হয়ে গেছে।
-ওয়েট আমি এক্ষুনি আসছি।
.
ব্যাস কাজ শেষ………………
মি. এখন দু’মিনিটেই হাজির হবে আমার কাছে।হিহি।
রাস্তা-ঘাট পুরাই ফাঁকা।সকালে বৃষ্টি হয়েছিল প্রচুর তাই হয়তো এখন কেউ রাস্তায় বের হয়নি বেশি একটা।
কিছুক্ষনের মধ্যেই রূপ চলে এলো।
.
-বাহ্…….মেরি শের…..।এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলে।চলো হাটবো এক সাথে।
-হাটবে মানে?কি হয়েছে তোমার?ফোনে কি প্রবলেমের কথা বলছিলে?
-এমনি তোমার হাত ধরে হাটতে মন চাইছিলো তাই…………….।
রূপ মুচকি হেসে বললো,
-হুম।চলো।আজ না হয় আমার সারা বিকেল সন্ধ্যা তোমার।
.
আমি আর রূপ পাশাপাশি হাটছি।চারদিক ধীরে ভিষন্ন কালো ছায়ায় ছেয়ে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নামলো ঝুমবৃষ্টি।রূপ আমার হাত ধরে দৌড়ে চলে আসলো একটা কফি শপের নিচে।
রূপ বৃষ্টির কয়েকটা ফোঁটা হাতে নিয়ে ঠান্ডায় হাত ঘঁষতে ঘঁষতে বলল,
-বৃষ্টিটা দারুণ না?
-তোমার পাশে আছি তাই।
-মিহিন………….
বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলা করতে করতে বললাম,
-হুম,বলো।
-এই প্রথম তুমি ডাক শুনলাম তোমার মুখে।তুমি করেই কি বলা যায় না?
অবাক হয়ে তাকালাম রূপের দিকে।সাথে সাথেই লজ্জায় চোখ সরিয়ে নিলাম
-মুচকি হেসোনা প্লিজ।আমার জান এবার সত্যি সত্যি যাবে তাহলে।আচ্ছা বলো কফি খাবে?
-এই ওয়েদারে খারাপ না…………।
.
রূপ কফি নিয়ে এসে হা হয়ে গেছে।মেয়েটা এই ঝুমবৃষ্টির মধ্যেই নেমে গেছে রাস্তায়।পরে সর্দি হলে কি হবে?
রূপ দৌড়ে আমার কাছে চলে আসলেন।
-বৃষ্টিতে নামলে কেনো?
-ভিজবো তাই।
-পরেতো জ্বর বাধিয়ে বসবে তখন?
-হোক না ক্ষতি কি?তোমাকে নাহয় আরো কিছুদিনের জন্য একদম কাছে পাবো।
মুচকি হাসলো রূপ আমার কথা শুনে।দু’জন একসাথে বৃষ্টি ভিজে একাকার হয়ে গেছি।
রূপের দিকে তাকাতেও লজ্জা করছে খুব।ও হা হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।যেন এর আগে মনে হয় আর কোনো দিনো দেখেনি আমায়।কফি আর খাওয়া হলো না।বৃষ্টির মধ্যেই খালি পায়ে হাটছি।জুতোজোড়ার ফিতা হাতে ঝুলিয়ে।বাসার অনেকটা কাছে পৌঁছে গেছি।
-আমার একটা ইচ্ছা পূরণ করবে রূপ?এটা ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখে এসছি আমি।
-একটা না হাজারটা করব।তোমার ছোট ছোট এই পাগলামো গুলোর মাঝেই যে আমার সকল আনন্দ আটকে আছে।
-রূপ আমাদের বিয়ের যেদিন প্রথম ঝুমবৃষ্টি হবে রাতে দুজনা ভিজবো একসাথে।হাত ধরে হাটবো রাজপথে।খালি পায়ে ঠিক আজকের মতো।নিরুদ্ধে।
আর বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টিতেই আমায় কোলে নিয়ে ফিরবে তুমি আর আমি তোমার ওই প্রসস্ত বুকে হারাবো নিজেকে।
নিয়ে নিবো এই বুকের সমস্ত উষ্ণতা। ভালোবাসায় ভরিয়ে দিব তোমার বুকটা।তুমি শুধু উপভোগ করবে আমার উষ্ণ আদরগুলো।
বলার সাথে সাথেই রূপ কোলে নিলো।
-তাহলে এখন থেকেই নাহয় ট্রাই করি।
কতো দুষ্টু হয়ে গেছেন ওনি প্রেমে পড়ে আমাকে ঘরের দড়জা অবদি নিয়ে গেছেন এভাবে।
নানু আর রাহি মুচকি মুচকি হাসছে।কি লজ্জার মুখেই না পড়তে হলো আমায়।
এই রূপটাও না?
.
.
To be continue ?

 

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-((৩১))
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
.
-ইশু আমি বলছি তো খুব বেশি বিজি ছিলাম আমি তাই আসতে পারিনি।কেনো বুঝছো না সোনা।
-আমার থেকেও যখন কাজের প্রতি ভালোবাসা বেশি তখন কাজ নিয়েই থাকো না।আমাকে ফোন করতে আসবে না একদম।তুমি জানো আমি আজ মাকে কতো শখ করে বলেছিলাম তুমি আসছো।মা তোমার সব পছন্দের খাবার রান্না করেছেন।বাবা অফিসে যাননি।ভাইয়াও বারবার জিজ্ঞেস করছিল তোমার কথা।সবার কাছে কতটা ছোট হতে হলো আমায়?
সবাই কতটা কষ্ট পেয়েছেন।
-ইশু দোষটা তোমারি আমি না করার পরও কেনো তুমি মিথ্যা বললে তাদের।আমি তো আগেই বলেছি এই কদিন বিজি থাকবো আমি।
-আমার জন্য তোমার টাইম থাকেই কখন রিদ্দি?
-এখন কি ফালতু টাইম নষ্ট করছি না তোমার পিছনে?সারাক্ষন শুধু ফালতু দোষারোপ করো আমায়।
-রিদ্দি আমার পেছনে ফালতু……………..
লাগবে না টাইম।থাকো তুমি তোমার অফিস কাজ নিয়ে।সবার কাজ আছে তাই বলে কেউ তার ভালোবাসার মানুষটাকে কষ্টে রাখছে না।বায়,ভালো থেকো।আমার জন্য না পারো অন্তত নিজের জন্য টাইম খুঁজে নিও একটু……………….
.
ফোন কেটে দিলো ইশা।অনেক হয়েছে আর কতো?মানুষ টাকা আয় কেনো করে?
নিজের লোকগুলোকে ভালো রাখতে।ইশু ওর ফিউচার।
বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে পর্যন্ত।
ইশা যদি ওকেই না পেলো টাকা দিয়ে ও করবেটাই কি?
টাকা আর অফিস লাইফই কি সব।দিনে দিনে মানুষ জগতের সাথে তাল মিলাতে এতোটাই যান্ত্রিক হয়ে ওঠেছে যে নিজের সবচেয়ে কাছের সম্পর্কগুলো ভুলে যাচ্ছে।সম্পর্কগুলোর মধ্যকার চাহিদাগুলো ভুলে যাচ্ছে।থাকছে শুধু দায়বদ্ধতা।দায়িত্ব আর কর্তব্য পালনের সময়টুকু শুধু।
কিন্তু এরকম জীবন যে ইশার চাই না।টাকা চাই না,ব্যাস্ততা চাই না,দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা চাই না।
চাই শুধু ভালোবাসা।
.
সারারাত ইশা কেঁদেছে।রিদ্দি এমন তো ছিলনা।কেনো হয়ে গেলো এমন।
ওর কি আমার প্রতি ভালোবাসা গুলো কমে যাচ্ছে তাহলে?
.
তিরা আবার বিদেশে ফিরে যেতে চাইছে দেখে খুব চিন্তিত ইজাজ এহরাজ।মেয়ের হঠাৎ কি হলো?এতদিন তো ভালোই ছিল।বলত আর যাবে না কোথাও এখানেই থাকবে।
অনেক কষ্টে ইজাজ জানতে পারলেন রূপকে ভালোবাসে তিরা।শুনে খুব খুশিও হয়েছিলেন।কিন্তু মুখটা কয়লার মতো কালো হয়ে গেলো যখন তিরার মুখে শুনলেন মিহিনের কথা।
মেয়েকে আস্বাস দিয়ে বললেন,
-মা একদম ভাবতে হবেনা তোকে,আমি কালই কথা বলব সীমান্তির সাথে রূপের সাথেই বিয়ে হবে তোর।
-না বাবা একদম না।প্লিজ আমি রূপের চোখে কষ্ট দেখতে পারবো না।
To be continued ?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-((৩২))
#সাইমা_ইসলাম(প্রীতি)
.
-না বাবা একদম না।প্লিজ আমি রূপের চোখে কষ্ট দেখতে পারবো না।রূপ ভালো থাকবে না আমার সাথে।আমি চলে যাব তুমি টিকেটের ব্যবস্থা করো।
ইজাজ সাহেব চিকচিক চোখে জড়িয়ে ধরলেন মেয়েকে।মেয়ে যে তার সত্যিই বড় হয়ে গেছে।তার থেকেও বেশি বুঝদার।কিন্তু কেমনে তিনি সইবেন মেয়ের এই দুঃখ?
.
মিহিনের চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে ইশার।ইশাকে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ করিয়ে সাজাতে শুরু করে মিহিন।
ইশা বিষ্মিত কন্ঠে বলল,
-এই কি করছিস তুই সাজাচ্ছিস কেনো এভাবে?
-তোর জামাইয়ের ওয়াডার তাই।
-মানে?
-মানে পরে বুঝবি।হয়ে গেছে চল এখন।
-কোথায়?আর এভাবে গয়না-গাটি ক্যান পড়িয়েছিস?
-আহ্ বাবা চলতো।
ইশা বাহিরে গিয়ে রিদ্দির বাড়ির সবাই একসাথে দেখে চমকে যায়।রূপ,নানু আর রাহিও আছে।সেদিনই আকদ হয়ে যায় ইশা আর রিদ্দির।
সারাদিন ইশাকে নিয়ে ঘুরে রিদ্দি আর কথাও দেয় যা হয়েছে তা আর হবে না কোনোদিন।
.
এদিকে রূপও মিহিনকে পরদিন নিয়ে যাবে নিজের মামনির কাছে।
.
-মিহিন?
-হুম বলো।
-কাল যাবে আমার সাথে মামনির কাছে।
-আমার না খুব ভয় করছে।যদি আমাকে আন্টির পছন্দ না হয়?
-আহা।মিহিন ইউ নো মামনির কাছে যদি আমি সূর্যটাও চেয়ে বসি আকাশ পাতাল সব এক করে দিবেন এনে দিতে।কেনো ভয় পাচ্ছো এতো।
-হুম।
.
আস্তে করে জায়গা করে নিলাম রূপের ছোট্ট বুকের বিশালতায়।
-ভয় করে রূপ কেনো যেনো ভয় করে খুব তোমায় হারিয়ে ফেলার।এই ভালোবাসা গুলোকে হারিয়ে ফেলার।আমি মরে যাব,মিহিনের অস্তিত্ব সেদিনই মরে যাবে যেদিন রূপ ওর পাশে থাকবে না।

-আরে পাগলি সব সময় থাকব তোমার পাশে,তোমার হয়ে।মৃত্যুর পরও পরকালের জন্য আল্লাহ্_র কাছে চেয়ে নেব তোমায়।মুক্তি তোমার এই প্রেম পাগলের কাছ থেকে।

-হুম।
-কাল কালো শাড়িটা পড়বে।
-ওকে।
সন্ধ্যার দিকে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে চলে গেলেন রূপ।সেই সারারাত আর ঘুম হয়নি,এই জামা তো ওই শাড়ি সব ট্রায়াল দিয়ে ফেলেছিলাম একরাতে।এই অনুভূতিটাই ছিল অন্যা রকম।ঠিক বলে বুঝানোর মত না।একদিকে রূপকে নিজের করে পাওয়ার খুশি তো অন্য দিকে আন্টির সামনে যাওয়ার ভয়।অস্থিরতায় কেটেছে সারাটা রাত।
.
এই দিকে রূপ সারা বাড়ি মাথায় তুলে বসিয়েছে।কাল ওর মিহিন প্রথম আসছে এই বাড়িতে।সব কিছু পারফেক্ট চাই ওর।
পুরো বাড়ি সুন্দর করে সাজিয়েছে।
রূপের রুম ও নিজের হাতে গুছিয়েছে একদম আমার মন মত।সেই কি পাগলামি।
আন্টি খুব হেসেছিলেন ছেলের পাগলামো গুলো নিয়ে।
.
এসব পাগলামির মাঝে যে কখন সকাল হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি।নানু নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছেন আমায়।খুব খুশি ছিলেন।
কিছুক্ষনেঠ মধ্যে রূপও এসে পড়লেন আমায় নিতে।
.
.
To be continue ?

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here