অনুভবে_তুমি পর্ব২১/২২/২৩

0
1257

অনুভবে_তুমি পর্ব২১/২২/২৩
#সাইমা_ইসলাম (প্রীতি)
.
.
-হ্যালো মিহিন……
-ওহ বাবা স্মরণ করলে তাহলে আমায় না?
-যে মনেই থাকে তাকে কি স্মরণ করতে হয়?
-আচ্ছা বাদ দিন। কি করা হচ্ছিল এখন?
-এইতো রেস্ট নিচ্ছিলাম।
-এই অবেলা?ঠি…ঠিক আছেন তো আপনি?সত্যি করে বলবেন কিন্তু।
-তুমি আমার থেকে এত দূরে থেকেও কি করে বুঝে যাও সবটা বলত?
-যেভাবে আপনি বুঝেন।কি হয়েছে বলুন না?জ্বর এসেছে?।কন্ঠটা শুনে তো মনে হচ্ছে ঠান্ডাও লেগেছে।ওফ আমার খুব চিন্তা হচ্ছে কিন্তু।
-আরে বাবা তেমন কিছুনা হালকা জ্বর আরকি।তোমায় এক পলক দেখে নিলেই সব ভালো হয়ে যাবে।
-অমনি না!মেডিসিন নিয়েছেন তো ঠিকমত?
-না।
-মানে কি?ঠিক মত ঔষুধ না খেলে কিন্তু আমি খুব বকবো বলে দিলাম।
-হুম।
-কি হুম?
-কিছু না।
-……………….।
-…………….।
-কিছু বলবেন?
-হ্যা,,,,, ,,,না মানে না।
-রাখছি তাহলে।
-এই না না আরেকটু।
-পাগল হইছেন?
-অনেক আগেই।
-ধ্যাত।আপনি কেনো বুঝেন না বলুন তো আপনার কিছু হলে কষ্ট হয় আমার।ঔষুধ গুলো প্লিজ ঠিক মতো খেয়ে নিন।
-আচ্ছা বাবা আচ্ছা।ওকে সাবধানে আসো।
-আসছি না যাচ্ছি।
-ওই মানে একই।
-হাহা।রাখি।
-হুম।কাটো ফোন।
.
বাস বান্দরবনে পৌঁছাতে প্রায় নয় ঘন্টা লাগল।ওইখানে একটা রিসোর্ট আগে থেকেই ভাড়া করে রেখেছিলেন ইশার বাবা।
আমি আর ইশা একরুমেই থাকবো।গাড়ি থেকে নেমেই আশেপাশের জায়গাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম।ছবিও তুলছিলাম।
.
ইশাদ ভাইয়া এখনো গাড়িতেই বসে আছেন।একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।আমার চোখ পড়তেই গাড়ি থেকে নেমে সোজা ওপরে চলে গেলেন।আমি আর ইশুও চলে আসলাম ওপরে।
.
আমরা বান্দরবন “মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্টে ছিলাম।তবে আলাদা আলাদা কটেজে।আমি আর ইশু যে কটেজটাতে ছিলাম সেটার নাম “শ্যামা”।এই রিসোর্টটের সবটাই পাহাড় কেটে বানানো।
কটেজের নামের মতই ভেতরটাও অসম্ভব রকমের সুন্দর।বারান্দায় গিয়ে তো আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।মনে হচ্ছিল আমি স্বর্গে এসে পড়েছি।
পাহাড়ে ঘেড়া সবটা।বাংলাদেশ যে প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এখানে না এলে কেউ বুঝি অনুভবই করতে পারবেনা।
দীর্ঘ একটা শ্বাস নিলাম।মনে হলো যেন ভেতরে পুরটাই একটা ঠান্ডা আবেশে ভরে গেল।
.
ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ ইশুর সাথে আড্ডা দিয়ে একটু ঘুরতে বের হলাম। রিসোর্টর ঠিক পেছন দিকে একটা পাহাড় আছে সেখানেই গিয়েছিলাম।
সূর্য হেলে গেছে অনেকটা।নীল আকাশটা লাল আভায় পরিপূর্ণ।পাহাড়ের গন্ধে চারপাশ অস্হির করে তুলেছে।
পাহাড়ের ঘ্রাণ খুব ভালোলাগে আমার।নিজেকে হারিয়ে ফেলি তখন।
এসব কিছুর মাঝে রূপকে মিস করছি খুব।ওনি পাশে থাকলে মোমেন্টটা কত রোমান্টিক হতো না?
ইশুর সাথে ঘুরাঘুরি করে চলে এলাম রুমে।রাতটা সত্যিই খুব বোরিং লাগছে।বান্দরবনের এই পাশটাতে ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়া না।এখানেও নেই।এই আছে তো এই নেই।
রূপ এই নিয়ে পঁচিশবার ফোন দিলেন।কথা ভেঙ্গে আসছে যার জন্য কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা।
শুধু একটা কথাই বুঝতে পেরেছে।রূপ বলছিল,,,,,,,,,,,,
-মিস করছিলে বুঝি খুব আমায়…………
এরপরই কেটে গেছে।ওফ অসহ্য লাগছে নিজের কাছে।
এর মধ্যেই রূপ আবার ফোন দেয়।
-এই তাড়াতাড়ি করিডোরে যাও ওখানে নেটওয়ার্ক পাবে….টুথ….টুথ…..টুথ।
“কি বললেন ওনি?কিছুই তো বুঝলাম না।করিডোরে ক্যান যাব?পুরোটাতো শুনতেও পেলাম না ঠিক মত।তার আগেই কেটে গেলো।”
.
কম্বল মুরি দিয়েই শুয়ে রইলাম খাটে।তাও মনটা কেমন খচখচ করছে।
উঠে করিডোরে চলে এলাম।
এই পাহাড়ি এলাকা গুলো এজন্যই আমার এত ভালোলাগে।পরিবেশটা খুব মনোরম আর রিফ্রেশমেন্টে ভরা।আকাশ এত সুন্দর হতে এর আগে কখনো দেখিনি আমি।পুরোটা জুড়েই কেমন একটা স্নিগ্ধতা বিরাজ করছে।তারার খেলায় মেতে ওঠেছে ছলনাময়ি আকাশ। দূরের পাহাড় গুলো এই নির্জন,নির্ঘুম রাতের ভয়াবহতার রূপ নিয়েছে।
হঠাৎ পাশের রুমের বারান্দায় তাকাতেই ভয়ে কলিজা ছ্যাত করে ওঠে ওঠলো আমার।
.
ইদানিং যে কি হয়েছে আমার?
আমি কি সত্যি দেখছি নাকি আমার মনের ভুল এটা………..???
.
.
To be continue?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-((২২))
#সাইমা_ইসলাম (প্রীতি)
.
.
রূপ বান্দরবন গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন ঠিকই কিন্তু থানটি পর্যন্ত আমরা সিএনজি দিয়েই যাব।
এর মেইন কারন হলো নাহলে রাস্তা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।তাছাড়া এখানে থানচির রাস্তায় প্রথম দিক অনেক উঁচু-নিচু।নরমাল লোকালয়ে চলাচল করা গাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়।তখন বিপদ আরো বাড়বে।
সিএনজি থানচি রিসোর্ট পর্যন্ত যাবেনা।তাও সাড়ে তিনশ টাকায় যেতে হচ্ছে।মিলনছড়ি থেকে থানচির এই সিএনজি ভ্রমনও অসাধারন ছিল।
রূপ পুরোটা রাস্তাই জড়িয়ে ধরে ছিলেন আমায়।আর এটা ওটা দেখাচ্ছিলেন।এই পাহাড়ি প্রচন্ড রকম খাড়া আবার হঠাৎ করেই ঢালু।বেশির ভাগ রাস্তাই বানানো হয়েছে পাহাড় কেটে।
এর মাঝে রূপ আর আমার খুনসুটি আর প্রেম তো আছেই।
-ইশু ভালোই করলো তোমাকে এখানে এনে…..বল।
-হুম।সেতো আপনি আসাতে।আর আন্টি,আঙ্কেলকে কত কষ্ট করেই না রাজি করালো।নাহলে তো পুরোটাই মাটি হয়ে যেতো।
-হুম।আচ্ছা ওই পাহাড় গুলো দেখো কি সুন্দর।
আমি আবার পাহাড় দেখতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।রূপ ওনার নাক,মুখ আমার চুলে ঘষছেধ।
আমি ওনার এই স্পর্ষগুলো থেকে যেনো ধীরে ধীরে পাথরে পরিনত হচ্ছি।হাত পা নাড়ানোর শক্তিটুকুও হারিয়ে গেছে।
এর আগেও তো ওনি অনেক আমাকে স্পর্শ করেছেন।কিন্তু মনের এতটা গভীরে কখনো লাগেনি।এই স্পর্শটা যে শুধু আজ না
প্রতি মুহূর্তে,প্রতিক্ষনে আমার চাই।
ওনাকে চাই…….
ওনার ভালোবাসাগুলোকে চাই…..
.
সিএনজির ঝাকিতে ধ্যান ফিরল আমাদের দুজনেরই।সামনে গাড়ির আয়নাতে তাকিয়ে দেখি সিএনজি ড্রাইভার ড্যাপড্যাপ করে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।লজ্জায় আমি তাড়াতাড়ি রূপের থেকে অনেকটা সরে বসলাম।রূপও আস্তা একটা পাগল।কি করছিলেন তখন এসব ওনি।
রূপও বিষয়টা খেয়াল করে রেগে ড্রাইভারকে বল্লেন,,,,,,
-রাস্তা কি আয়নাতে দেখা যাচ্ছে ভাই।নাহলে এমনে পিছনে তাকায় আছেন কেন হে?
.
প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর আমরা থানচি এলাকাতে এসে পৌঁছলাম।বেশ সুন্দর এই জায়গাটা।কিন্তু ভয়ের বিষয় হলো ইশুর ফ্যামিলিও এখানেই আছে। থানচি থেকে বের হলেই বাঁচি বাবা।
.
-আচ্ছা রূপ থানচি আমরা কয়ঘন্টা থাকছি? না মানে ইশুরাও তো এখানে তাই।
-কয়ঘন্টা না।গোটা রাতটাই কাটাবো এখানে।
-মা…..মানে?কি…..কি বলছেন আপনি….. এসব ।ওরা যদি দেখে ফেলে বুঝতে পারছেন কি হবে?
-কিছুই করার নেই এখন।এখানের জায়গা গুলো একদমই সুবিধার না।স্পেসালি তোমার জন্য তো না ই।
-কেনো? কেনো?
-খারাপ ডাকাত দলেরা সারাক্ষন ওত পেতে থাকে এখানে।সুযোগ পেলেই খুন খারাপি করে বেড়ায়।আর সুন্দরি মেয়ে পেলেত হলোই তুলে নিয়ে যাবে।তোমার জন্য একদমই সেইফ না।
-ওহ।
-তাছাড়া আমরা তো আর এক রিসোর্টে থাকছি না।ভয়ের কোনো কারণই নেই।
-ওকে।আমার কিন্তু খুব খিদে পেয়েছে।
আমাকে রিসোর্টের রুমে ভিতরে দিয়ে ওনি কোথায় যেনো গেলেন।আর ওনি ছাড়া যে কেও আসলেই দড়জা খুলতে না করে গেছেন।
ভিতরের রুমটা অনেক সুন্দর।কাঠ দিয়ে তৈরি পুরো রিসোর্টটা।দড়জা আটকে রুমটা ভালো মত পরখ করে নিচ্ছিলাম,,,,তখন কে যেনো এসে দড়জা নক করতে লাগল।
-কে?
-…….(আরো জোড়ে জোড়ে নক করছে যেন এখনি দড়জা ভেঙ্গে ফেলবে)
-কি…কি হলো বলছেন না কেনো কে?
-ডাকাত সর্দার।খোল বলতাছি দড়জা।নাহইলে এক্ষনি ভাইঙ্গা ফেলমু কইলাম।
.
ডাকাতের কথা শুনে ভয়ে আমার মাথা থেকে পা অবধি কাঁপছে।রূপ,,,,,রূপ কোথায়।
ভয়ে আমি অলরেডি কান্নাও শুরু করে দিছি।
.
.
To be continue?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-((২৩))
#সাইমা_ইসলাম (প্রীতি)
.
আমি ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললাম,,,,,,,,,,
-দেখুন আমি একদম সুন্দরী না।আমি দেখতে একদম কালো……চোখগুলো টেরা-টেরা……নাক তো এতই বোচা যে গালের সাথেই মিশে গেছে……..চুল গুলোই পেত্নীর মত।সব মিলিয়ে শাকচুন্নির চেয়েও জঘন্ন…….।প্লিজ আ…আমাকে ছেড়ে দিন……..।
.
মনে হচ্ছে যতটা না ওনাকে ভয় পেয়ে কাঁদছি তার চেয়েও বেশি নিজেকে এগুলো বলার শোকে কাঁদছি।
আমিই মনে হয় পৃথিবীর প্রথম মেয়ে যে কিনা নিজেকেই নিজে পেত্নী আর শাকচুন্নি বলছি।
.
হঠাৎ থেকে ইচ্ছামত হাঁসির শব্দ আসছে।ভালো করে শুনার জন্য দড়জার কাছে যেতেই মনে হলো এই হাসিটাই তো আমার চিরো চেনা।দড়জা খুলে দেখি রূপ হাসতে হাসতে পাগল হওয়ার উপক্রম।
– রূপ আপনি এমনটা করতে পারলেন আমার সাথে?থাকুন আপনি……….।
.
দড়জা আটকাতে নিলেই রূপ ধাক্কা দিয়ে ঢুকে পড়লেন ভিতরে।খাবারের ট্রেটা টেবিলে রেখেই খাটে বসে ইচ্ছেমত হাসতে লাগলেন।
.
-তুমি কি যেন? শাকচুন্নি,পেত্নী।চোখ­ ট্যারা।হাহাহা।
-আপনি খুব খারাপ।
-বাহ।তুমি নিজেই নিজের ব্যাপারে কম্লিমেন্ট দিলে আর এখন খারাপ আমি কেনো হবো?
-আপনি এভাবে ভয় কেনো দেখালেন?
-নাহলে তো জানতামি না তুমি নিজেকে এমন ভাবো।
-এবার কিন্তু রেগা যাচ্ছি আমি।
-আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে।
আর বলব না।সরি।
-হুহ।
-ওকে আমি আগে ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার সার্ভ করতে করতে তুমি শাওয়ার নিয়ে নাও।
.
আমিও তাড়াতাড়ি গিয়ে শাওয়ার নিয়ে নিলাম।এখন নিজেকে হালকা লাগছে অনেকটা।
রাত মাত্র আটটা বেজে পঁচিশ মিনিট।কিন্তু এই জায়গাটা এতটাই নিরিবিলি, খুব সহজেই যে কেউ ধারনা করে নিতে পারে এগারটা কিংবা বারটা।অবশ্য পাহাড়ের স্পেশালিটিই তো এটা।
গোসল করে বের হতেই দেখি রূপ সব খাবার সার্ভ করে ফেলেছেন।আমি বের হতেই কেমন হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।খুব বেশিই লজ্জা লাগছিল ওনার এমন চাহনিতে।
রূপ খাট থেকে ওঠে আস্তে আস্তে আমার একদম কাছে এসে কাধে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরলেন আমায়।ওনার প্রত্যেকটা প্রশ্বাস পর্যন্ত বুঝতে পারছি আমি,অনুভব করতে পারছি ওনার সবটা।কেনো করেন রূপ এমন?বুঝেননা ওনি………সত্যিই কি বুঝেন না ওনার এই ছোঁয়া গুলো সহ্য করতে পারি না আমি।ওনি আমার কাধে নাক ঘষতে ঘষতে ঘোর লাগানো কন্ঠে বললেন,,,,,,,,
-কেনো এসছো এভাবে আমার সামনে হুম?মেরে ফেলবে আমায়?এই ভয়ংকর সুন্দরী নারীর সামনে নিজেকে হারানো বড় দায়।আর আসবেনা এভাবে।আজ প্রথম বলে ছেড়ে দিচ্ছি।
বলেই রূপ রুমের বাহিরে চলে গেলেন।।কি বলে গেলেন এসব আমায়?ছিঃ ছিঃ।
অবশ্য ভুলটা তো আমারি।আর এখন লজ্জা নিজের দোষেই পাচ্ছি।
.
রূপ সেই যে গেছেন আর আসার নামই নেই।আধঘন্টার উপর হলো।আমার যে একা একা এখানে থাকতে একদম ভালোলাগে না বুঝেন না ওনি?
.
প্রায় এক ঘন্টা পর রুমে আসলেন রূপ।আমি তখনও না খেয়েই বসে ছিলাম ওনার জন্য।
-এই তুমি খাওনি কেন এখন ও?
-কি করে খেতাম আপনাকে ছাড়া….??
আচ্ছা আসো আমি খাইয়ে দিচ্ছি………..।
রূপ নিজের হাতে খাইয়ে আমাকে খাইয়ে দেন।
তারপর রাতেই থানচি ঘুরাতে নিয়ে যান। সেখানে ইশুর সাথে ও দেখা করি আমরা।
.
থানচির কথা লোকমুখে যাই শুনেছি তার থেকে হাজার গুন বেশি সুন্দর যদিও ঘুরার মতো খুব বেশি কিছু নেই এখানে।থানচি থেকে সামনের দিকের রাস্তা গুলো সমতল।কিন্তু পাহাড়ের উপরেই।এদিকটাতে পাহাড়ি জুমও দেখাতে নিয়ে গেছেন রূপ আমায়।সব পুরো থানচি অঞ্চলটাই খুব সুন্দর আর মনরম পরিবেশ।
ঘুরে রিসোর্টে ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় দুটো বেজে গেছে।
.
.
To be continue?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here