সতীনের সংসার পর্ব ২

13
1442
সতীনের সংসার 

সতীনের সংসার

পর্ব ২
Writer: তানজিন সুইটি

সতীনের সংসার -দূরে থাকো আমার থেকে।(একথা বলেই চলে গেলো কাঁদতে কাঁদতে।)?

_আনিকাআআআআ

আনিকা আর কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা ছাদে চলে গেলো দৌড়িয়ে।তার লজ্জায় ঘৃণায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছা করছে।তাদের এতো বছরের বিয়ের বয়সে এমন কর্ম কখনো দেখে নি রায়হানের কাছ থেকে।
ওর মনো মুগ্ধ স্বতব্যবহারে কারণেই বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলো আনিকা।

তখন হয় তো ওর ঐরকম ব্যবহার ছিলো বানোয়াট।
না হলে কি আজ দেখতে হতো এমন কুকাজ।

ছাদের এক কোণায় বসে দুপা মেলে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বাধ ভাঙা ঝর্ণার মতো দুচোখ বেয়ে পানি ঝরে চলছে অবিরত ভাবে।হাজারও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তার মনে।আসলেই কি সে এতোখন যাবত বাস্তবে মুখোমুখি হয়ে দেখেছে নাকি ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখার মতো হয়েছে?

যদি এই দৃশ্য দেখানোরই ছিলো আল্লাহর।তাহলে কেনো দুচোখ অন্ধ করে দিলোনা আগে তার?ভাবতে পারছে না আর সে।কি করবে,কোথায় যাবে,মরে গেলে দুধের শিশুটিকে কে দেখবে?

শুনেছে মা মরে গেলে বাপ হয় যেনো তাওই।আর সৎ মা করে বেড়ায় অঢাল অত্যাচার,শেষ পরিণতি হয় তার রাস্তায়।না না রায়হান এমন কাজ করতে পারে।তার কলিজার টুকরা আরিয়ানকে অনার্থ করতে পারে না।

এমন আরও অনেক কথা চিন্তা করতে করতে কখন যে আনিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে ছাদের কোণাতে বসে।

অন্যদিকে রায়হান রেডি হয়ে চলে গেলো বাহিরে।
যখন বাহিরে যায় তখন সদর দরজা দিয়ে রায়হানের বাবা মা আর এক মাত্র ছেলে আরিয়ান প্রবেশ করছে।

আরিয়ান: আব্বু কোথায় যাচ্ছো?

রায়হান: এই তো বাবা একটু বাহিরে।

-ওকে আমার জন্য মজা নিয়ে এসো কিন্তু?

-আচ্ছা বাবা।

রায়হানের মা: কি রে আজ তোর অফিস ছিলো না?

রায়হান: ছিলো।

রায়হানের মা: তাহলে এতো তাড়াতাড়ি যে আজকে?

রায়হান : একটু কাজ ছিলো তাই এসেছিলাম।

বলেই হু হু করে হাটতে লাগলো সামনে।পিছন থেকে রায়হানের আব্বু জিঙ্গাসা করলো বউমা কোথায় রে?
কিন্তু কে শুনে কার কথা?ও ওর মতো দূরুত্ব হেটে স্থান ত্যাগ করলো ঐখান থেকে।না হলে যে তার অনেক প্রশ্নের সম্মুখী হতে হতো এতোখনে।

সন্ধ্যা পার হয়ে রাত হতে চললো।আনিকার খোঁজ পাচ্ছে না বাসার কেউই?অন্যদিকে রায়হানও বাসায় ফিরছে না। এতবার কল করলো আশরাফ সাহেব রায়হানকে তবুও রিসিভ করছেই না।রেগে গিয়ে কয়েকটা কথা শুনে ফেললো মিসেস সালেহা বেগমকে।

-এই তোমার কারণে আজ এতো মাথায় উঠেছে।
ঘরে বউমার খবর নেই আর সে আছে আড্ডা বাজি নিয়ে রাতের বেলাও।আরে বিয়ে করেছিস,বাচ্চা হয়েছে, এখন আড্ডা দিবি বউ বাচ্চা নিয়ে।আমিও তো ইয়াং ছিলাম এক সময় কিন্তু দ্বায়িত্ব কাধে আসার পর থেকে প্রায়টাই বাদ দিয়ে দিয়েছি বদঅভ্যাস গুলো।
আজ আসুক ও বাড়ি,ওর খবর আছে বলে রাখছি রায়হানের মা তোমাকে। যদি বউমার কিছু হয়ে যায় না তাহলে……

এমন রাগান্বিত দেখে মিসেস সালেহা বেগম কিছু বলার সাহস পায় তা বলতে।তাই আরিয়ানকে কোলে নিয়ে চলে যায় নিজ রুমে চুপ করে।

আরিয়ানটাও আজ অনেক কেঁদেছে মা মা বলে।
সারা সন্ধ্যা পার করে দিছে কেঁদে কেঁদে।হয় তো কেঁদে অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছে তাই ঘুমিয়ে পরেছে।শিশুর মন তো,মাকে না দেখলে কু মন ডাকবেই।

বাহিরে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।হঠাৎ রায়হানের আগমন দরজা ভেদ করে ড্রয়িং রুমে।রাত প্রায় ১২টা
আশরাফ সাহেব সোফায় বসে বই পড়ছে।পায়ের শব্দ শুনে।

-দাড়াআআ (একটু উচ্চ সরে)

-জি আব্বু

-এতোখন কোথায় ছিলি?

-এইতো পাশেই….

-কোন পাশে??আর তোর ফোন কোথায়? কতবার কল করেছি সেইটা দেখেছিস একবার?

-কো..কো.. কোথায়?(বলে প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে ৪০+ মিস কল।)

-কি হলো কথার উত্তর দিচ্ছিস না যে??

-ইয়ে মা..মানে ফোনটা সাইলেন্স হয়ে গেয়েছিলো, খেয়াল করি নি।

-সেটা খেয়াল করবি কি?তোর তো এখন আর সংসার ভালো লাগে না, ঠিক না?

-না মানে হ্যাঁ..

-চুপ???হারামজাদা।তোর বউকে পাওয়া যাচ্ছে না আর তুই হ্যাঁ না মানে খুঁজছিস?অন্যদিকে দুধের শিশুটা মা মা বলে কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে গেছে সেটা খোঁজ নিয়ে দেখেছিস?একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ,আমার রক্তে মাংসে করা যা কিছু করেছি সব
কিছু বউমা আর আরিয়ানের নামে দিয়ে যাবো।
যদি শুনি এমন-তেমন কখনো করেছিস।

বলে চলে যেতে লাগে।পিছু ফিরে বলে।

-বউমাকে ভোর হওয়ার আগে দেখতে চাই বাড়িতে।
না হলে সকাল হলে ত্যাজ্যপুত্র করবো মনে যেনো থাকে।

থ হয়ে দাড়িয়ে থাকে রায়হান ঐখানেই।কোথায় গেলো আনিকা ওকে ছেড়ে।এতো ঝড়বৃষ্টি বাহিরে।যদি কিছু হয়ে যায় আনিকার,কিছুই ভাবতে পারছে না আর।ও যে বাঁচবে না আনিকাকে ছাড়া এক মূহুর্তে।হঠাৎ করে মনে পরে গেলো। আনিকা তো রাগ করলে ছাদে চলে যায় মাঝে মাঝে।আজ যায় নি তো,গিয়ে দেখে আসবে কি যেয়ে।দেড়ি না করে এক দৌড় দেয় ছাদে।

রাত বেরেছে অনেক,আধারও আছে বোটে। তার সাথে ঝড়বৃষ্টিত তো আছেই।হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকিয়ে আলোর আভাস পরলো ছাদের এক কোণে।গুটিশুটি হয়ে পরে আছে আনিকা যে।

রায়হানের বুকের একপাশে বিদ্যুৎ চমকানোর মতো করে উঠলো খনিকের মধ্যে।শ্বাসকষ্ট হচ্ছে ওর এমন অবস্থা দেখে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো
আনিকাআআআআআআ???

চলবে…..

(বিঃদ্রঃ বার বার বলছি আপনাদের,যদি ভালো না লাগে তাহলে ইগনোর করুন,তবুও কথা শুনাতে আসবেন না please.দরকার নেই আপনাদের লাইক কমেন্টের যাদের আনিকার জীবন কাহিনী পড়তে না ইচ্ছুক।ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন অনুগ্রহ করে।ধন্যবাদ অগ্রিম আপনাদের সবাইকে)

Comments are closed.