স্বামীর ভালোবাসা part : 4

13
1462

স্বামীর ভালোবাসা part : 4

লেখিকা সুরিয়া মিম

সুইপারদের কথা শুনে নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলে ইমান,
!
তবু ও নিজেকে সামলে নিয়ে চোখের জল মুছে,
সুইপার গুলো কে ঝারি মেরে বলে,
!
কি হলো?
কি নিয়ে আলোচনা করছ তোমরা?
!
তখন সুইপার গুলো তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে,
!
কিছু না সাহেব,
মোরা ওহন যাই,
!
সামান্য সুইপার আমাকে এভাবে অপমান করলো?
!
আই ডোন্ট কেয়ার যে মিশকা আমাকে কি ভাবে?
আই রেয়ালি ডোন্ট কেয়ার,
!
তারপর ইমান রেগে ওর রুমে গিয়ে রেডি হয়ে অফিসে চলে যায়,
কিন্তু কোনো কাজ মন দিয়ে করতে পারেনা,
কারন ওর ভাবনা জুড়ে এখন মিশকার বিচরণ,
ও ভাবছে,
!
আমরা একি বাড়িতে অপরিচিত হয়ে থাকি,
একে অপরের মুখ দেখাদেখি বন্ধ,
আমি তোমার আশেপাশে থাকলেই তুমি আমাকে ইগনোর করে চলে যাও,
এখন কি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইছ?
তাহলে আমি থাকবো কি করে?
!
আশ্চর্য আমি এগুলো কি ভেবে চলেছি?
আমি ইশা কে ভালোবাসি ও আমার সব,
মিশকা গেলে যাবে ওকে আটকে রাখবে কে?
আমি ওকে ভালো বাসি না তাই ওকে আটকে রাখবো না,
!
আর এমনি তেও,
“দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো”
ও চলে গেলে আমি ইশা কে নিয়ে আমার বাকি জীবন টা সুখেস্বচ্ছন্দে কাটিয়ে দিবো,
!
তাই মিশকা কি দেখলো? কি ভাবল?
সত্যি আই রেয়ালি ডোন্ট কেয়ার,
!
কিরে ভাই কি এতো ভেবে চলেছিস?
!
কিছুনা,
!
ওহহ তাই বলল আমি তো ভেবেছি অন্যকিছু?
বাই দ্যা ওয়ে মিশকা ভাবি কেমন আছে?
!
আল্লাহ যেমন রাখছে তেমন আছে,
তোরা সবাই শুধু ওর কথা জিজ্ঞেস করো ইশার কথা তো জিজ্ঞেস করো না?
!
দেখ ভাই ইশা আশা কে জানিনা জানতে ও চাই না তাই ভাবির কথা জিজ্ঞেস করেছি,
বললে বলবি না বললে বলার দরকার নেই কেমন?
!
তুই রেগে যাচ্ছিস কেন?
!
কেন সেটা শুনলে ও তুই সুধরোবি না তাই তোকে বলে ও লাভ নেই,
!
তাহলে বলিস না,
!
তোকে বলবো ওনা গাধা যেন কোথাকার?
তুই বাবা হতে চলেছিস তুই জানো না আর আমি তোর বন্ধু হয়ে তোর খবর জানি,
!
কি হলো কি ভাবছিস?
!
তোর মাথা শালা গাধা যেন কোথাকার?
!
তুই আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড হয়ে আমাকে এভাবে বলতে পারলি আরিয়ান ?
!
শালা তুই এটারি যোগ্য,
!
কি বললি তুই?
!
যেটা সত্যি সেটাই বলছি আমি,
!
ভাই তুই হাইপার হয়ে যাচ্ছিস কেন?
!
কারন আমি বিয়ের জন্যে ভালো মেয়ে খুজে পাচ্ছি না,
!
ওহহহ এই ব্যাপাররররর?
হা হা হা,
আমি তোকে খুজে দিবো মেয়ে?
!
খুঁজত হবে না তোর কাছেই আছে,
!
মানে?
!
বিজনেস ডিলের মতো ডিল করবি আমার সাথে?
!
কি সের ডিল?
!
মানে?
!
মিশকার ডিল করবি আমার সাথে?
আমি কোনো অযত্ন করবোনা ওর শুধু ওকে ভালোবাস বো,
শুধু ওরি হয়ে থাকবো,
!
মাথা ঠিক আছে তোর?
!
আমার ঠিকি আছে,
তাই বলছি আমার সাথে ডিল কর তুই যা চাবি তার ডাবল দিবো প্রমিছ,
!
নিজের বেষ্ট ফ্রেন্ডের মুখে একথা শুনে ইমানের বুকে চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়ে যায়,
আর ও আরিয়ানের শার্টের কলার চেপে ধরে,
!
তখন আরিয়ান ওকে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে,
!
তোর যখন ওকে চাই না আমাকে দিয়ে দেনা ভাই,
আমি নারীর এক পুরুষ হয়ে থাকতে চাই তোর মতো নই আমি,
আমি ওকে অনেক ভালোবাসবো,
আমি ওকে অনেক পছন্দ করি,
বন্ধু বৌ বলে কখনো মুখ ফুটে মনের কথা বলিনি,
!
যখন বলনি বলবি ওনা,
যা তুই এখান থেকে চলে যা,
আমি ওর স্বামী কোনো দালাল নই যে ওকে নিয়ে বিজনেস করবো,
!
তুই তো দালালের থেকে ও খারাপ,
তুই একটা জঘন্য,
!
আরিয়ানের কথায় কষ্ট পেয়ে নিজেই নিজের ক্যাভিন ছেড়ে বেড়িয়ে যায় ইমান,
আর ফুল স্পিডে কার ড্রাইভ করতে শুরু করে,
!
ড্রাইভ করতে করতে সাফারি পার্কে এসে চুপটি করে বসে থাকে,
!
তখন খেয়াল করে দেখে,
মিশকা রুহান কে নিজের হাতে ইলিশ পোলাও খাইয়ে দিচ্ছে,
!
এই দৃশ্য দেখে ইমানের অতীত মনে পারে যায়,
আর তার চোখ থেকে জলের ধারা বইতে শুরু করে,
!
আমাকে খাইয়ে দিলে হবে তুই খাবি না?
!
নারে ভাই সকালে যে দৃশ্য দেখে এসেছি তারপরে আর খেতে মন চায় না,
!
তা বললে তো শুনবো না,
বাবুর জন্যে হলে ও তো খেতে হবে তোর,
দেখি হা কর তুই,
আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি,
!
তখন ইমান চুপটি করে ওদের দেখতে থাকে,
ও জানে না রুহানের সাথে ওকে দেখে কেন এতো কষ্ট হচ্ছে ওর তবু ও একদৃষ্টে ও দৃশ্য উপভোগ করতে থাকে,
!
আমি আর খেতে পারবোনা ভাই,
!
এতকিছু আমি জানিনা আমি খাইয়ে দিচ্ছি তুই খেতে বাধ্য,
!
শয়তান ছেমড়া,
!
হা হা হা,
আচ্ছা তুই ভেবে দেখেছিস?
!
কি?
!
আর কয়দিন পরেই তো তোর শরীরে মাতৃত্বের সমস্ত চিহ্ন ফুটে উঠবে তখন কি করবি?
!
তার আগেই আমি আম্মু আব্বুর কাছে চলো যাবো ভাই,
!
ওহহহ তাহলে ভালোই সুখেস্বচ্ছন্দে থাকবি তুই,
!
তাতো থাকবোই,
হুহুহুহু,
!
হা হা হা,
!
হাসছিস কেন হুমম?
!
ছোমড়া আমি কি হাসতেও পারবোনা হুমম?
সারাদিন ধরে তো কাঁদতে হয় তুই আবার এভাবে বলছিস?
!
নারে বোন,
তুই কাঁদলে আমার একটু ও ভালোলাগে না,
!
তা লাগবে কেন?
তোর জন্যে লাইফে ফাস্ট টাইম ক্লাস বাদ দিয়ে বেষ্টুর সাথে ঘুরতে এসেছি হুমমম,
!
ইউ আর রাইট হা হা হা,
বাই দ্যা ওয়ে খেয়াল করেছিস?
!
কি?
!
সবাই আমাদের এমন ভাবে ঘুরে ঘুরে দেখছে যেন বি. এফ জি.এফ প্রেম করতে বসেছে,
!
হা হা হা, এ আর নতুহ কি?
ভাইবোন কে হ্যাজবেন্ড বানাইয়া দেয় তারপর তো আমরা,
!
আসলে এই যুগেরর মানুষ গুলো এতো এতো আপডেট হয়েছে,
যে ভাই বোন কেও ছাড়ে না,
!
ঠিক বলেছিস,
এই তো সেদিন রুহি কে নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম তখন জাহাদ ওকে আমার সাথে দেখে বলে,
!
ভাই ভাব্বি না পুরাই জোশ,
!
হা হা হা,
তারপর?
!
আর কি রিকশা থেকে নেমে ইচ্ছে মতো পেঁদানি দিছি,
!
হা হা হা,
বাইচা আছে ওটায়?
!
আছে মনে হয়,
!
হা হা হা,
!
তারপর রুহান মিশকাকে বাসায় ড্রপ করে দেয়,
!
আজ কতদিন পরে ওকে দেখলাম মুখটা মলিন হয়ে আছে,
স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে গেছে ,
মানে আগে লাঠি ছিল আর এখন সলা হয়ে গেছে,
কিন্তু অস্বাভাবিক ভাবে লাবণ্যময়ী হয়ে গেছে,
ইশা কে বিয়ে করে আনার পর থেকে আজ এই প্রথম ওর সৌন্দর্যে নজর পরল আমার,
আমি ভেবে পাচ্ছি না ওকে এতো সুন্দর লাগছে কেন?
!
রুহান তো ওর ফ্রেন্ড তবু ও কেন আমার ওকে ওর সাথে সহ্য হয় না,
আমি ওকে ভালোবাসি না তবু ও আরিয়ানের কথা গুলো আমার বুকে কাঁটার মতো বিধল,
!
কি হলো বাবু?
কার কথা ভাবছ?
!
কারো কথা না সোনা,
!
এই দেখ,
!
ওয়াও কিন্তু এটা তো মিশকা ও আমার এ্যাংগেজমেন্ট রিং তুমি পেলে কি করে?
!
মিশকা আমায় দিয়েছে বাবু ও নাকি ডায়মন্ড রিং চায় না তাই আরকি,
!
ইশার কথা শুনে আবারো ইমানের মন খারাপ হয়ে যায়,
!
তখন হঠাৎ কোনো কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ হয়,
…….
শব্দ শুনে ইমান বাহিরে গিয়ে দেখে মিশকা ওর পছন্দের ফুলদানি টা ভেঙে ফেলেছে,
…….
তাই ও রেগে গিয়ে বকা দিয়ে বলে,
!
দেখে চলতে পারেনা নাকি?
তুমি জানো এটা আমি কত টাকা দিয়ে কিনেছি?
এটার কতো দাম?
!
জানবে কি করে বাবু?
ওকি ব্রান্ডি জিনিশ কখনো চোখে দেখেছ হুমম?
!
তখন মিশকা নিজেকে সংযত করে ঘোমটার আড়াল থেকে বলে,
!
ভাগ্যিস দেখেনি তাহলে আমার ও তোমার বরের থেকে নামিদামি পয়সাওয়ালা বর থাকতো,
আর আমি ও কি যেন বলে?
ও হ্যা বিকিনি পরে ঘুরে বেড়াতাম,
!
মিশকার কথা শেষ হতে না হতেই ইমান ওর গায়ে হাত তুলতে যায়,
!
তখন মিশকা ওর গ্লাভস পরা হাত দিয়ে ইমানের হাত টা ঠেকিয়ে ওর মুখের ওপরে কত গুলো পেপারস ছুড়ে মেরে বলে,
!
আপনি আপনার যে প্রপার্টি আমাকে দান করে ছিলেন আমি সেই প্রপার্টি আপনাকে দান করে দিলাম,
!
কারন আমার পাপার অনেক আছে আর ভবিষ্যতে আমি নিজে ও নিজের যোগ্যতায় অনেক পয়সা প্রপার্টির মালিক হবো সো আপনার এই দয়ার দান চাই না আমার,
!
মিশকার কথা গুলো শুনে হতভম্ব হয়ে যায় ইমান,
!
কারন ও ভেবেছিল সবকিছু দিয়ে দিলে ও এতটুকু নিজের শেষ সম্বল হিসেবে নিজের কাছে রেখে দিবে ও,
তাই ইমান ওকে বলে,
!
এগুলো আমার চাই না,
তোমাকে দিয়েছি তুমি তোমার শেষসম্বল হিসেবে তোমার কাছে রেখে দাও প্লিজ,
!
ওহহহহ হ্যালো,
ইউ জাস্ট শাট আপ,
আল্লাহ আমাকে দুহাত দিয়ে পাঠিয়েছে,
সে হাত দিয়ে নিজে করে খেতে পারবো কেমন?
সো নিজের চরকায় তেল দিন ওকে?
!
মিশকার কথা গুলো এবার সোজা গিয়ে ইমানে মনে গিয়ে লাগে,
আর ও কতক্ষণ চুপ করে মিশকার দিকে তাকিয়ে থাকে,
!
পরে রাগে গজগজ করতে ইমান ওকে ভয় দেখাতে বলে,
!
আজকে থেকে তোমার সমস্ত খরচ বন্ধ,
দেখবো তুমি কি খাও কি পরো?
আর কি ভাবে চলাচল করো?
!
গোয়িং ওন মিস্টার খান,
!
তখনি ব্যাংক ম্যানেজার কে ফোন করে বলে,
!
স্যররর আপনার মিসেসস মিশকা ইমান খান ওনার ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিজ করে দিতে বলেছেন,
আর আমরা আজকে তার অ্যাকাউন্ট ও ক্রেডিট কার্ড সিজ করে দিয়েছি,
!
ম্যানেজারের কথা শুনে ইমান অবাক হয়ে মিশকার দিকে তাকিয়ে থাকে,
!
বেটা আমাকে অনেক জ্বালিয়েছ আমি কি তোমাকে ছেড়ে দিবো হুমম?
!
তোমার সবচেয়ে বড় ভুল কি জানো?
তুমি এখনো আমাকে নিজের পারসোনাল প্রপার্টি মনে করো,
কোনো একসময় ছিলাম তোমার প্রপার্টি এখন আর নই,
তাই তোমার কোনো জিনিস ও আমার চাই না,
কারন এখন আমি নিজের পায়ে দাঁড়াবো,
আর তোমায় ঘৃণা করবো,
ভালোবাসি ভালোবাসি বলে অনেক ভালোবেসেছ আর কোনো প্রয়োজন নেই তোমার ওমন ভালোবাসার,
!
তুমি চাও আমি তোমার ওপরে ডিপেন্ড করে থাকি,
আর আমি সেটাই কখনো থাকবোনা মিস্টার খান,
!
আর তখন আমি ওনাকে হাসি মুখে ওকে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে চলে যাই,
!
বেটা এতক্ষণ বাঘ বনে ছিল এখন বেড়াল হয়ে দাড়িয়ে আছে,
!
হা হা হা,
!
!
!
চলবে

Comments are closed.