বাড়ি প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 1697



হঠাৎ_পাওয়া_পর্ব_৩

হঠাৎ_পাওয়া
পর্ব_৩
Written by Avantika Anh
বাড়ি ফিরার আগ অব্দি অর্নব আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিলো কিন্তু অভি ভাইয়া আর বাকীরা পাশে ছিলো বলে পারে নি ।
.
.
গাড়িতে সবাই আসার সময়ের মতো বসলাম ।
রাজ- ওই তোর কি কিছু হইছে ?
আমি- না তো
রাজ- সত্যি বল
অভি- আরে কিছু হয় নি (কথা ঘুড়াতে)
রাজ- বাহ আমাগো থেইকা বেশি ওরে চিন্তাছোস দেখতাছি ।
আমি- ভাইয়া আমার একটা নিউ বান্ধবী হইছে নাম নিলা নাম সুন্দর না নামটা (রাজ ভাইয়ার গফ নিলা)
রাজ- না না আমার বইন তো খুব ভালো ও কখনোই এসব করবে না
আমি- হুমম থেংকু ভাইয়া
.
.
কিছু সময় পর……
আমি- ভাইয়া বিয়া কর না বিয়া খাইতে মন চাইতাছে ।
রাজ- এই না আপুর বিয়া খাইলি আবার কেমনে
আমি- এবার তোর টা খামু চাকরিও তো করস বিয়াটাও কর
রাজ- না এখনি করুম না তুই কর
আমি- হুহ না
রাজ- হেহে মামা রে কমু তোর বিয়া করার ইচ্ছা হইছে
আমি- মাইরালামু
রাজ- কাইট্টালামু
অভি- তোমরা এতো ঝগড়া করো কেনো ?
রাজ- এই মোটিই ঝগড়াটে
আমি- আমি মোটি তুই‌ মোটা হাতি
রাজ- এ্যা হইছে অভি তুই বল তো আনহা মোটা কি না ?
অভি- ইয়ে আনহা তো পাতলা
আমি- থেংকু অভি ভাইয়া লাভ ইউ ফর দিস
অভি- কিইইইইই
আমি- কি বেশি না আমি সবাই কেই বলি
রাজ- হেহে অভির মনে মনে লাড্ডু ফুটছিলো মনে হয়
আমি- কি কস সত্যি অভি ভাইয়া ?
অভি- না না
.
.
এভাবে আড্ডা চলতে থাকলো ।
.
বাড়ি ফিরে নিজের উপরই রাগ উঠছিলো “আমি এক সময় এমন একজনকে ভালোবেসেছি যে এরকম মানসিকতার” । এই সব ভাবছিলাম
.
সকালে কলেজের জন্য বের হচ্ছিলাম । বাইরে দেখি অর্নব দাড়ায় রাগ উঠে গেলো । তাই আবার বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম । তারপর পিছনের গেট দিয়ে বের হয়ে গেলাম ।
.
আমি ভাবছি, ” এর কি ভিমরতি ধরলো? “
.
“এখন উল্টা রাস্তা দিয়া যাওয়া লাগবো । এতো ঘুরা রাস্তা।”
.
.
আমি যাচ্ছি । রাস্তা টা একটু ফাঁকা । দেখি সামনে অনেক গুলো কুকুর । আমি ভয়ে শেষ ।
.
দাড়ায় আছি কুকুর গুলো যাওয়ার অপেক্ষা করছি । হঠাৎ কে জানি পিছন থেকে ডাক দিলো । পিছনে তাকিয়ে দেখি অভি ভাইয়া ।
.
অভি- তুমি এখানে যে ?
আমি- কলেজ যাচ্ছি
অভি- কোন কলেজ
আমি- …………… কলেজ
অভি- এই রাস্তা দিয়ে তো বেশি দূর অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে ।
আমি- ওই রাস্তায় অর্নব ছিলো । ওই হালার কি যে হইছে খালি এখন আমার পিছনে লাগছে । এই ওই পোলার জন্য আমাকে এতো ঘুরে ঘুরে যেতে হচ্ছে । তার উপর এই বান্দর মার্কা কুকুর গুলো সরে না ।
অভি- হাহা এটা তো খুব প্যারা মূলক ব্যাপার ।
আমি- আপনি কই যাচ্ছেন?
অভি- অফিস
আমি- ও জ্বলদি পালান । আমি অপেক্ষা করি এই বান্দর গুলো থুক্কু কুকুর গুলো যাওয়ার ।
অভি- আমি হেল্প করতে পারি ?
আমি- আপনার দেরি হবে থাক‌
অভি- না অফিস শুরু হতে দেরি আছে । আমি রোজ ৩০ মিনিট আগে যাই ।
আমি- উকে চলেন
.
অভি ভাইয়া হেল্প করলো । কলেজে….
মিমি রে গেটেই পাইলাম ।
.
মিমি- ছেলেটা কে রে ? হ্যান্ডসাম তো
আমি- রাজ ভাইয়ার ফ্রেন্ড
মিমি- দোস্ত তোর সাথে সেই মানাবে ।
আমি- যা ভাগ তুই ই নে
মিমি- আমার বফ টা না থাকলে আমিই নিতাম । তোর তো নাই তুই নে ।
আমি- প্রেম ভালোবাসা ভালো না
মিমি- হুহ ওই অর্নব হালাটা কই থেইকা যে আইছিলো । ওর জন্য আমার রোমান্টিক দোস্ত টা আনরোমান্টিক হয়ে গেছে ।
আমি- কে কইছে আমি আনরোমান্টিক ? আমি অনেক রোমান্টিক বাট সব শুধু আমার বরের জন্য
মিমি- বাহ বাহ কিয়া বাত
আমি- দোস্ত
মিমি- কি
আমি- অর্নব আবার পিছে পড়ছে । জান্নাত হেরে ছেকা দিছে এই জন্য বিয়ে বাড়িতে…………(সব বললাম)
মিমি- কই ওই পোলা ওরে তো মাইরা ফালাম
আমি- হ মার
মিমি- ওই হারামি আমি জেলে যামু তো
আমি- মোর লাইগা এইটুকু পারবি না?
মিমি- কালামেইল
আমি- হ চল ক্লাসে দেরি হচ্ছে ।
মিমি- চল
.
ক্লাসে…..
রুম ফাঁকা
আমি- আজ কি ছুটি ছিলো ?
মিমি- মনে তো পড়ছে না । মনে হয় ছিলো নইলে এতো ফাঁকা কেনো ?
আমি- চল বাড়ি যাই
মিমি- চল
.
হঠাৎ উপর থেকে ফুল পড়তে শুরু হলো ।
আমি- দোস্ত পালা
মিমি- কেন মজাই তো লাগছে
আমি- তুই থাক আমি পালাই ।
.
দরজার দিকে যেতেই সিনিয়র একটা ভাইয়া ।
.
আমি- ভাইয়া সাইড দেন আমি যাই ।
ভাইয়া- দাড়াও আনহা
আমি- কেনো আমাদের আজ মনে হয় ছুটি নাহয় কেউ একজন তার ক্রাশ কে প্রপোজ করবো ।দেখেন না এসব
ভাইয়া- এসব তোমার জন্য
আমি- এ্যা
ভাইয়া- আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি । সেই কলেজের প্রথম থেকে
আমি- সরি ভাইয়া
ভাইয়া- কি কমতি আমার মাঝে ?
আমি- আমি প্রেম ভালোবাসায় বিশ্বাস করি না ।
ভাইয়া- আমি বিয়ে করবো শুধু রাজি হও
আমি- না সম্ভব না সরি ।
.
বলে সেদিনের জন্য চলে গেলাম বাড়ি ।
.
পরেরদিন…..
অর্নব আজ আর দাড়িয়ে নেই । তাই ঠিক মতো কলেজে গেলাম । ওই ভাইয়াটাও আর বিরক্ত করে নি ।
.
দিন পার হতে লাগলো । আমার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলো । তারপর শুরু হলো এডমিশনের কষ্ট । এই কয়েকদিন অর্নব অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু আমি এড়িয়ে গেছি ।
.
ভার্সিটি তে এক্সাম হলো । একটা ভালো ভার্সিটিতেই চান্স হলো ।
.
কিছুদিন পর শুরু হলো আরেক প্যারা । আম্মু , আব্বুসহ পরিবারের সবার ই বিয়ের ভুত ধরলো । তারা বিয়ে করবে না তাদের ভুত ধরছে আমার বিয়া দেওয়ার ।
.
আজ নাকি পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে । আজ একটা এটা পছন্দ না হলে কাল আরেকটা আসবে নাকি । আজব ব্যাপার
.
পাত্র টা আর কেউ না অভি ভাইয়া ।
আমাদের একান্তে পাঠানো হলো ।
আমি- আপনি ??????
অভি- ইয়ে মানে
আমি- আমি শকড
অভি- তোমাকে বলছিলাম তোমাকে ভালো লাগে । তারপর তোমার সাথে এই ক’দিন অনেক কথাই হলো । তাই মনে হলো তুমিই পার্ফেক্ট
আমি- কিন্তু আমি কখনো এভাবে তো ভাবি নি ।
অভি- একজন নাহয় একজনকে তো বিয়ে করবাই তা আমি হলে দোষ কি ?
আমি- তা ঠিক
অভি- তোমার টাইম লাগলে ভাবতে পারো । চিন্তা করো না অনেক ভালোবাসবো ।
.
.
আমি কিছু বললাম না । আম্মু আব্বুর নাকি পাত্র খুব ভালো লেগেছে । রাজ ভাইয়ার ফ্রেন্ড তাই তারা বেশি রাজি । আমিও না করলাম না তাই । বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো ।
.
পরে শুনলাম পরেরদিন যেই পাত্র টি আসার কথা ছিলো সে নাকি অর্নব । রাতে অর্নবের মেসেজ পেলাম ।
অর্নব- তুমি কেনো এমন করলে?
আমি- কোনো জবাব দিলাম না ।
.
রাতে অভি ফোন দিলো…
আমি- হুম অভি ভাইয়া বলেন
অভি- এখন তো ভাইয়া বলা ছেড়ে দাও বিয়েও তো ফিক্স
আমি- হোক আগে তারপর
অভি- বান্দর একটা তুমি
আমি- হিহি আপনি তাইলে বান্দরের হবু বর
অভি- হুম তো
আমি- আমি ঘুমাম কাল ভার্সিটি আছে ।
অভি- কাল আমার সাথে যেও কয়টায় যাবা
আমি- ৮:৩০ এ বের হবো
অভি- ওকে
.
.
সকালে…..
অভি গাড়ি নিয়ে এসেছে ।
.
.
অভি- উঠো
আমি- না
অভি- কেনো
আমি- হেটে যাবো । হাটা স্বাস্থের জন্য ভালো ।
অভি- চলো আমিও হাটি ।
আমি- ওকে ।
.
.
আমি আর অভি হাটছিলাম ।
.
দুজনেই চুপচাপ । কিন্তু এই নিস্তব্ধতা ভাঙলো । কারণ সামনে অর্নব দাড়িয়ে ছিলো ।
.
চলবে……

হঠাৎ_পাওয়া_পর্ব_2

হঠাৎ_পাওয়া
পর্ব___2
Written by Avantika Anh
রাতে বাড়িতে বসে ভাবছি অর্নবের কথা । “ও কি সত্যি বদলে গেছে ? নাকি শুধুই তার লাভের জন্য আবার আমাকে প্রপোজ করছে । না আমি আবার ওই ভুল করতে চাই না ” ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে সবাই হইচই আজ কাজিনের শ্বশুরবাড়িতে আমাদের দাওয়াত ।
.
.
আমি যেতে চাচ্ছিলাম না কারণ ওখানে গেলে অর্নবের সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে আর আমি তা চাই না । তবুও সবার জোড়ে রেডি হলাম । কি ড্রেশ পড়বো তা জিজ্ঞেস করতে রিয়ার (আরেকটা কাজিন) রুমে গেলাম ।
.
কিন্তু সেখানে রিয়া ছিলো না । তাই ভাবলাম পাশে রাজ ভাইয়ার রুম তার কাছেই সাজেশন নেই সাদা গাউন টা পড়বো নাকি ছাঁই রঙ্গের গাউন ।
.
না দেখেই বলতে বলতে ঢুকলাম “রাজ ভাই বল তো কোনটা পড়বো?”
.
কিন্তু ভিতরে ঢুকে দেখলাম রাজ ভাইয়া নাই বরং অভি ভাইয়া আছে ।
আমি- সরি আমি ভাবলাম রাজ ভাইয়া ভিতরে আছে ।
অভি- না ব্যাপার না
.
আমি চলে আসছিলাম পিছনে অভি ভাইয়া ডাক দিলো ।
অভি- আনহা
আমি- জ্বী
অভি- ছাঁই কালার টাই বেটার আছে
আমি- থেংকু আমারও এটাই মনে হয়েছিলো ।
অভি- আচ্ছা
.
.
রেডি হলাম । সব কাজিন রা যাচ্ছি সাথে অভি ভাইয়াকেও রাজ ভাইয়া নিয়ে যাচ্ছে ।
.
আমরা মোট ৭ জন কাজিন যাচ্ছি । সবার জায়গা আটলো না কারে তাই আমি , রাজ ভাইয়া আর অভি ভাইয়া , সাথে আরেক আপু আমরা অন্য গাড়িতে উঠলাম ।
আমি- আমি সামনের সিটে বসবো কারণ এটার গ্লাস আমি খুলে রাখবো কিছুটা ।
রাজ- আচ্ছা বস কিন্তু ড্রাইভ কে করবে ? ড্রাইভার আংকেল তো ছুটিতে ।
আমি- তুই কর
রাজ- এ্যা সবসময় আমাকে করতে হবে কেনো ?
আমি- আমি কি পারি যে আমি চালাবো নাকি আয়শা আপু পারে বাকী তো তুই । তুই তো ড্রাইভ পারিসও তাই তুই চালা ।
রাজ- কেনো অভিও তো যাচ্ছে ও চালাক
অভি- আচ্ছা আমি চালাবো
আমি- ওই অভি ভাইয়া কেন তুই চালা ।
অভি- না ব্যাপার না আমিই চালাই
আমি- ইচ্ছা ।
.
গাড়িতে…..
সবাই গল্প করছি
.
রাজ- এই তিন্নি আপু এতো দূরে বিয়ে করলো কেন ? রাস্তাই শেষ হয় না
আয়শা- চল গানের কলি খেলি
রাজ- চল চল
আমি- গাড়িতে গানের কলি ???
আয়শা- হুম মজা হবে রাজ শুরু কর স দিয়ে গান কর
.
রাজ- ওই টিম হোক তাহলে
আমি- টিম ওকে আমি আর আয়শা আপু । তুই আর অভি ভাইয়া
রাজ- আমরা ছেলেরা একা ?
আমি- হু
রাজ- না আমি আর আয়শা আপু । তুই আর অভি হ টিম
আমি- ওকে আমরা হারিয়েই ছাড়বো তোমাগো তাই না অভি ভাইয়া।
অভি- হুম
.
আমি- রাজ ভাইয়া র দিয়া ক তুই
রাজ- র দাড়া ।
“রিমঝিম ধারাতে চায় মন হারাতে”
আমি- ওই ওই ভুল গাচ্ছিস ওটার সামনে স আছে অন্য গা
আয়শা- আমি বলছি
“রংধনু রং স্বপ্ন আঁকে…..”
এবার তোরা গা প দিয়া ।
আমি- “পেয়ার মাংগা হে তুমহিছে হি মুঝে পেয়ার কারো….”
.
এভাবে গেম চলতে থাকলো….
লাস্ট গানের বেলায় ।
আমরা ওদের ক্ষ দিয়া গাইতে বললাম কিন্তু ওরা পারলো না ওইবার অভি ভাইয়া একটা গান বললো তাতে আমরা জিতে গেলাম ।
.
আমি- থেংকু অভি ভাইয়া আমরা জিতছি
অভি- তুমি ভালো গান পারো
আমি- আরে না
অভি- রেলি
আমি- হাহা
ওই রাজ ভাইয়া আইসক্রিম খাওয়া এবার সবাই কে
রাজ- কেনো ?
আমি- হেরে গেছিস তাই
রাজ- ইইইই আমার পকেট খালি করা
আমি- হ
.
তারপর গাড়ি পার্ক করা হলো আর আমরা আইসক্রিম খেলাম ।
.
অভি- আনহা তুমি বিড়াল
আমি- কেমনে
অভি- মুখের উপরেও আইসক্রিম লাগিয়ে রাখছো
আমি- ইইই কই
অভি- ওখানে
.
আমি মুছে ফেললাম ।
আমি- থেংকু ।
.
ওখানে পৌঁছালাম কিছু সময় পর । যার চেহারা দেখার ইচ্ছে ছিলো না সে-ই চোখে পড়লো । অর্নব ওখানেই ছিলো । আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার ভান করে বললো “তোমারি অপেক্ষা করছিলাম”
.
.
খাওয়ার টেবিলে….
.
আমার পায়ে কে জানি গুতা দিচ্ছে আমি নিচের দিকে তাকাতে দেখি অর্নব । আমার অস্বস্তি লাগতেছিলো ।
.
আমি- অর্নব ভাইয়া আপনার পা টা সরিয়ে নিন
অর্নব- সরি ভুলে আপনার পায়ের সাথে লাগছে ।
আমি- একটু সাবধান থাকিয়েন আমার ড্রেসে দাগ লাগতে পারে (যেনো কেউ খারাপ কিছু না ভাবে)
.
খাওয়া শেষে রাজ ভাইয়া আর আয়শা আপু আমাকে জিজ্ঞেস করলো “সিরিয়াসলি কিছু হইছে নাকি?”
আমি- না কিছু না
রাজ- সিওর বেশি জ্বালাইলে বল সোজা করে দিবো
আমি- না কিছু না
.
.
পরে আমি কি করতে বাইরে গেলাম ।
অর্নব- এভাবে করলে কেনো ?
আমি- আপনি আমাকে টাচ করছেন কেনো?
অর্নব- কেনো প্রব্লেম কই আমি তো তোমাকে বারবার বলছি রাজি হও না কেনো ?
আমি- দেখুন আমি আগেও টাচ করা পছন্দ করতাম না তাই আপনার হাত অব্দি ধরি নাই এখন আরো করি না ।
অর্নব- এই জন্য রাগ হয় । এই যুগের হয়ে তোমার মাঝে এতো গ্রাম্য স্বভাব এমনি ছেড়ে গেছিলাম ।
আমি- আমি কি আপনাকে ফিরিয়ে নিছি ? আমি এমনি আর এ নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না
অর্নব- দুররর ইয়ার বুঝার চেষ্টা করো কাধে হাত দিয়ে
.
আমি জোড় করে সরিয়ে নিলাম ।
আমি- hey you listen don’t you dare to touch me i don’t like these kind of behaviour
অর্নব- প্লিজ
আমি- এসব টাচ আপনার জান্নাতের ভালো লাগতে পারে আমার না ওকে দূরে থাকুন আমার থেকে
.
আর কোনো কথা না শুনেই চলে আসলাম….
.
পিছনে দেখি অভি ভাইয়া দাড়িয়ে ।
.
অভি- আনহা
আমি- জ্বী
অভি- তোমার এক্স বিএফ কি এই অর্নব ?
আমি- হুম আপনি কিভাবে জানলেন ?
অভি- রাজ বলছিলো তুমি একজন কে ভালোবেসেছিলে সে নাকি তোমাকে ছেড়ে গেছে । তার উপর অর্নব এর ব্যবহার এতেই বুঝলাম ।
আমি- আমার না ওকে দেখলে ঘৃণা হয় । ওর প্রতি কোনো ফিলিং নাই আর তারপরেও ও কেমন ব্যবহার করছে ভিলেন ভিলেন টাইপ আমার একদম ভালো লাগছে না ।
অভি- হুম তোমাদের কথায় বুঝলাম । আমি কি ওকে থ্রেট দিবো ?
আমি- না থাক ওর মতো মানুষের সাথে কথা না বলাই ভালো
অভি- আচ্ছা এক কাজ করো তুমি যতক্ষন এখানে আছো একা থেকো না তাহলেই হবে
আমি- আচ্ছা
অভি- তা ম্যাডাম আপনি কি করছিলেন এখানে ?
আমি- ওইটাকে দেখছিলাম (হাত দিয়ে দেখিয়ে)
অভি- বিড়াল ?
আমি- হুম
অভি- বিড়াল ভালোবাসো ?
আমি- হুম বিল্লি ভালো লাগে
অভি- বাহ
.
.
চলবে…….

হঠাৎ_পাওয়া পর্ব_১

হঠাৎ_পাওয়া
পর্ব_১
Written by Avantika Anh
.
মা- তুই রেডি হস নি কেনো?
আমি- যাওয়ার ইচ্ছে করছে না
মা- কোনো কথা না তৈরি হয়ে নে
আমি- আচ্ছা
.
আশেপাশে সবাই আনন্দে মেতে কেনোই থাকবে না বিয়ে বাড়ি বলে কথা । আজ আমার এক কাজিনের বিয়ে । আসতেই হবে বলে আসা । আমি বাড়ির বাইরে খুব একটা আসা হয় না । বিয়ে বাড়ি বলে আম্মু কিছু টা জোড় করেই সাজিয়ে দিলো । নীল শাড়ি পড়েছি । এক সময় এই সব সাজা গোজা , শাড়ি পড়া টা অনেক শখের ছিলো । অর্নবের সাথে রিলেশনে থাকাকালে কতোই না স্বপ্ন বুনতাম । তার পছন্দমতো সাজা সব টাই ছিলো প্রতিদিনের কাজ । সে সব ভেঙ্গে যেদিন অন্য একজনের হাত ধরে গেলো সেদিন আমি কাঁদি নি । যারা জানতো রিলেশনের কথা তারা কিছুটা অবাক হয়েছিলো হবে নাই বা কেনো যে মেয়ে একটু তেই কেঁদে ফেলে সে কাঁদছে না কেনো । সেদিন অর্নবের সামনে খুব কেঁদেছিলাম কিন্তু আমার চোখের পানির চেয়ে তার কাছে একটা স্মার্ট এবং সুন্দর মেয়েকে ভালোবাসা বড় ছিলো ।
.
সেদিন বড্ড অবাক হয়েছিলাম যে অর্নব বলতো “আমার চোখের পানি তার সহ্য হয় না । সে কীভাবে এসব বললো” তারপর থেকে রোজা রাতে কাঁদতাম । এখন অনেকটাই নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি ।
.
একা দাড়িয়ে ছিলাম । বিয়ে বাড়িতে কেউ একা ছাড়ে না । সব কাজিন দের সাথে দাড়িয়ে আমিও গল্পে যোগ দিলাম । কিছু সময় পর গল্পের মাঝে একজনের সমাগম হলো । ছেলেটি আর কেউ নয় অর্নব । বরের কাজিন সে । আমি দেখে অবাক হই নি কিন্তু অর্নব ঠিকই অবাক হয়েছে । কারণ টা হলো ও কখনো ভাবেই নি আমার সাথে ওর দেখা হবে । আমি মেঘলাকে (ফুপাতো বোন) নিয়ে অন্য দিকে গেলাম । কোন এক কারণে মেঘলা অন্য দিকে গেলো । দেখলাম অর্নব আমার দিকেই আসছে । আমি অন্য দিকে যেতে লাগলাম ।
অর্নব- আনহা (ডাক দিলো)
আমি- জ্বী বলুন
অর্নব- আপনি করে বলছো যে
আমি- অপরিচিত দের আপনি বলাটাই শ্রেয় তাই না
অর্নব- আমি অপরিচিত?
আমি- ও না সরি ভুলে গেছিলাম আপনি তো বরের ভাই তাই না
অর্নব- এখনো রেগে ?
আমি- রাগবো কেনো ?
অর্নব- আসলে আমি ভুল করেছিলাম
আমি- আমার না কাজ আছে পরে কথা হবে
অর্নব- পালাচ্ছো ?
আমি- যা ই ভাবেন আপনার ব্যাপার
অর্নব- বদলে গিয়েছো
আমি- যেমন?
অর্নব- আগের থেকে সুন্দর কিন্তু বাচ্চার মতো স্বভাব টা আর নেই ।
আমি- মানুষ কে বদলাতে হয় । নাহলে তার থেকে ভালো কাউকে পেলে তার প্রিয় মানুষ গুলো তাকে ছেড়ে চলে যায় ।
অর্নব- সরি
আমি- সরির কিছু নেই বাই ।
.
চলে আসলাম । জানি কথা বাড়ালে আবার এক মায়ায় জড়াবো কিন্তু আর কোনো মিথ্যে সম্পর্কে জড়াতে চাই না । এক সময় যাকে সবটা দিয়ে ভালোবাসলাম সে-ই যখন ধোঁকা দিলো আর মায়া চাই না ।
.
একা বসে ছিলাম । ভালো লাগছিলো না তাই গেম খেলছিলাম । কে জানি পাশে এসে বসলো । তাকালাম না ।
.
পাশের লোকটি- মানুষ এখন মজা করছে আর আপনি বসে আছেন আর গেম খেলছেন ।
.
আমি তাকিয়ে দেখি ওটা আর কেউ না অর্নব ।
আমি- ভাই আপনার কি হয়েছে ?
অর্নব- আমি তোমার ভাই কবে হলাম ?
আমি- যেদিন জান্নাতের হয়েছিলেন সেদিন । তা বিয়ে হলো আপনাদের ?
অর্নব- জান্নাত একটা শিল্পপতির ছেলেকে বিয়ে করে ফেলেছে ।
আমি- ও খুব ভালো । জান্নাতও আপনার মতোই । এখন আমাকে গেম খেলতে দেন
অর্নব- আনহা আমাকে কি আরেকটা সুযোগ দেওয়া যায় না ?
আমি- নিশ্চুপ
অর্নব- কিছু বলো
আমি- শুনুন আমি এসবে আর জড়াতে চাই না
অর্নব- আচ্ছা
.
.
আমি উঠে আসলাম….
রাজ ভাইয়া- কি রে ছেলে পছন্দ নাকি?
আমি- আরে না
রাজ ভাইয়া- হুম দেখি দেখি
আমি- বেশি বকলে তোমার গফ রে কমু তুমি বিয়াতে ২ টা মাইয়ার লগে টাংকি মারছো ।
রাজ ভাইয়া- হারামি আইচ্ছা কমু না । বইন শুন তোরে না
আমি- কি
রাজ ভাইয়া- আমার এক বন্ধু পছন্দ করছে ওইটা কথা বলবি?
আমি- দুরর না একদম না আমি এসবে একদম ইন্টারেস্ট না
রাজ ভাইয়া- হুহ সব না তোর বিয়া যার লগে হইবো বেচারা সারা জীবন না না শুনবো
আমি- তোরে কইছে আমি অনেক রোমান্টিক
রাজ ভাইয়া- ওমা গো তাই নাকি তাইলে কথা বল ওর লগে
আমি- ভাবির নাম্বার ০১৭…………. এটা না
রাজ ভাইয়া- না না কথা বলা লাগবে না যা বইন তুই যা
আমি- আইচ্ছা
.
.
আমি গেলাম বউ এর কাছে । রাজ ভাইয়া তার বন্ধুর কাছে গেলো ।
অভি- কি রে রাজি হলো ?
রাজ- না
অভি- হালা কোনো কাজের ই না তুই ।
রাজ- দুর হ তাও তো আমি যাইয়া কইলাম । ওয় আমার বোন তাও তোর কথা শুইনা ওরে কইলাম ওয় রাজি হয় না । শুন তোর ব্যাপার তুই দেখ ।
অভি- ওকে বস আমিই দেখবো । সব ঠিক ঠাকলে জ্বলদি তুই আমার শালা হবি
রাজ- আগে পটা আমার বোন রে
অভি- যাস্ট ওয়েট এন ওয়াচ ।
রাজ- তোর প্রতিদ্বন্দীও আছে ওই যে ওই ছেলেটা নাম অর্নব ।
অভি- ব্যাপার না আমি দেখে নিবো । তুই যাস্ট একটা কাজ কর কোনো মতে ওরে একা করে দে
রাজ- ওকে বস ।
.
.
কিছু সময় পর রাজ ভাইয়া আসলো আর কি একটা আনতে বললো চাচির কাছে থেকে । আমি গেলাম ।
.
গিয়ে দেখি ওখানে কেউ নাই ।
আমি ফিরে আসছিলাম ।
অভি- আনহা
আমি- জ্বী
অভি- আসলে কিভাবে বলবো ভাবছি
আমি- আমার উত্তর না
অভি- বাট কেনো ?
আমি- এসব ভাল্লাগে না আর আমি এমনে এখনো ছোট
অভি- হায় রে পিচ্চি
আমি- হুম । নাইস টু মিট ইউ ভাইয়া আমি এইবার ভাগলাম ।
.
তাড়াতাড়ি পালাইলাম । ওইহানে যাইয়া রাজ ভাইয়ারে কইলাম ।
আমি- ভাবি রে আজ কি বলি দেখিস । কই পাঠাইছিলি ।
রাজ- সরি
আমি- হুহ
রাজ- বইন বলিস না
আমি- হুহ
রাজ- ও বইন
আমি- আচ্ছা আচ্ছা ।
.
কিছু সময় পর অর্নব জিজ্ঞেস করলো “কই গেছিলা?”
আমি- যেখানেই যাই আপনাকে কি বলে যেতে হবে ?
অর্নব- না মানে ।
.
কিছু না বলে চলে আসলাম । অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলো আমি বাড়ি ফিরবো এমন সময় কে জানি হাত ধরলো ।
.
সে আর কেউ না অর্নব।
আমি- হাত ছাড়ুন প্রব্লেম কি আপনার ?
অর্নব- আনহা আমি তোমাকে আবার আমার লাইফে ফিরে চাই
আমি- আমি চাই না
অর্নব- একটা সুযোগ দেও প্লিজ
আমি- না মানে না
.
কই থেকে অভি ভাইয়া আসলো ।
.
অভি- আনহা কোনো প্রব্লেম নাকি ?
আমি- না
অর্নব- আনহা একবার ভাবো
আমি- না না না
অর্নব- কিন্তু
অভি- ওই ব্যাটা জ্বালাস কেনো ওরে
অর্নব- আপনি বলার কে
অভি- ওর ভাই এর বন্ধু
অর্নব- তো
আমি- চুপ কোনো কথা না আমি গেলাম আর আমার উত্তর না ই আর না জ্বালালে হ্যাপি হবো । অভি ভাইয়া আপনিও চলুন
অভি- ওকে
.
কিছু না বলে চলে আসলাম….
.
(কাল্পনিক গল্প)
চলবে….

ঝগড়াটে_ভালোবাসা _৭_এবং_শেষ_পর্ব

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_৭_এবং_শেষ_পর্ব
Written by Avantika Anh
.
পড়ায় মন বসছে না তবুও পড়তেছি…
শুভ এসে আমার পাশে বসলো, ওর দিকে একবার তাকিয়ে আবার পড়ায় মন দিলাম। শুভ আমার আরো কাছে চলে আসছে…
আমি- এই তোর সমস্যা কি হে? পড়তে না বসলে ঘ্যানঘ্যান করিস আবার এখন পড়তে বসার পরেও শান্তি মতো পড়তে দিচ্ছিস না।
শুভ- হিহিহি…
আমি- ওই কুত্তা একদম হাসবি না, তোর জন্য আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেল। কত ইচ্ছা ছিল একটা রোমান্টিক জামাই পামু, আর পাইছি তোর মত একটা খাটাশ জামাই..এ্যাএএএ..(আবেগে কান্না আসতেছে)
শুভ- আমার ও তো একই অবস্থা,কত ইচ্ছা ছিল একটা পরীর মত বউ পামু। কিন্তু আমার কপালে কি জুটলো? তোমার মত একটা পেত্নি ছি ছি ছি.. কি বাজে কপাল আমার।
আমি- হিহিহি, তুই পাবি পরীর মত বউ? আরে তোরে তো এলাকার সবচেয়ে বুড়ি ফকিন্নি টা ও বিয়ে করতে আসবে নাহ..
শুভ- ওই মাইয়া, কথা না বলে পড়তে বসো নয়তো আম্মুর কাছে বিচার দিবো বলে দিলাম।
আমি- যা ভাগ তো এখান থেকে, নয়তো আম্মুর কাছে আমি বিচার দিমু। বলবো তুই আমাকে পড়তে দিচ্ছিস না।
শুভ- এহহহ.. পড় আমি গেলাম।
.
শুভ চলে গেল। আমার ও পড়তে একটু ও ভালো লাগছে না,ঘুম পাচ্ছে খুব। দরজা আটকে দিয়ে শুয়ে পড়লাম ,নয়তো শয়তান টা এসে আবার জালাবে।

উফফফ, রাতে ঘুম টা খুব ভালো হলো কিন্তু চোখ খুলতে মন চাইতেছে না ইচ্ছে করতেছে আরেকটু ঘুমাই। কিন্তু এতো ঠান্ডা লাগতেছে কিনু? হায় হায় আমার বিছানা সহ শরীর ভিজা কিনু? উঠে দেখলাম শুভ ওর মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি- এই তুই আমাকে পানি দিয়ে ভিজালি কেন?
শুভ- এহহহ, আমি ভিজাই নি। হয়তো তুমি বিছানায় হিসু করে দিয়েছো… ছি ছি ছিইইই,, আম্মুউউ তোমার বউমা..(বলে চিৎকার শুরু করে দিল শুভ)
আমি- এই তুই থামবি? বল আমার গায়ে পানি দিলি কেন?
শুভ- কেন আবার? জামাই ঘুম থেকে উঠে গেলে বউদের আর ঘুমাতে নেই তাই পানি দিলাম।
আমি- হুররর,কিসের জামাই আর বউ? এই তুই আমার রুমে কিভাবে আসলি? আমিতো দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়েছি যেন তুই না আসতে পারিস।
শুভ- হেহেহে,রাতেই এসেছিলাম জানালা দিয়ে। আর তোমার সাথে ও একই বিছানায় ছিলাম।
আমি- এ্যাএএএ…
শুভ- এ্যা না হ্যা, যাও গোসল করে নাও।
আমি- আল্লাগো আমার সব শেষ হয়ে গেল গো… আম্মুউউউ
.
মামনি- কি হয়েছে রে আনহা?
আমি- না মামনি কিছুনা।

গোসল করতে চলে আসলাম, শুভ শয়তান টা তো অর্ধেক গোসল খাটেই পানি দিয়ে করিয়ে দিলো। এর প্রতিশোধ আমিও নিমু…
.
নাস্তা করে রুমে এসে বসে আছি, শুভ ও রুমে আসলো…
শুভ- রেডি হয়ে নাও।
আমি- কেন রেডি হমু, আমারে বাড়ি পাঠাই দিবি নাকি?
শুভ- না,এখন ঘুরতে যামু দুজনে।
আমি- উহু, না আমি যামু না।
শুভ- পাচ মিনিট টাইম দিলাম রেডি হতে, নয়তো কিস করমু কিন্তু…
আমি- যা ভাগ তো এখান থেকে।
.
রেডি হয়ে গেলাম অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই, ঘুরতে যেতে যে আমার ও ভালো লাগে..।

সারাদিন অনেক ঘুরলাম,খুব ভালো ও লাগছে কিন্তু এই শুভ শয়তান টা আমার দিকে বারবার তাকিয়ে থাকে। নিজেরে কেমন জানি ভূতনি মনে হইতেছে নয়তো এভাবে কেউ তাকায় থাকে?
আমি- এই তুই ওই দিকে তাকা,আমার দিকে একদম তাকাবি না।
শুভ- তোমার মত পেত্নির দিকে আমি তাকাবো? হাসালি হা হাহা..
আমি- কিইইই.. থাকুম না আর তোদের বাড়িতে,আজই আমাদের বাড়ি চলে যাবো।
শুভ- হুম আজই তোমাকে তোমাদের বাড়ি দিয়ে আসার জন্যই ঘুরতে আসছি,এখন সোজা তোমাদের বাড়ী যাবো বঝলে?
আমি- এ্যাএএ.. না আমি যামু না।
শুভ- সামনে তোমার পরীক্ষা তাই এখন মন দিয়ে পড়তে হবে বুঝলে? তাই এখনি তোমাকে যেতে হবে।
আমি- হুহ, কিন্তু আমার বই?
শুভ- সেগুলো আমিই দিয়ে যাবো।
.
বাড়ি চলে আসলাম, শুভ নিজেই আমাকে নিয়ে এসেছে….
আমি- বাড়ি আসার সময় তো আমার সামনেই আসতি না আর আজ বাসায় দিয়ে যাচ্ছিস?
শুভ- হিহি, বউ বলে কথা।
আমি- হইছে, যা ভাগ তো…

পরেরদিন শুভ আমার বইগুলো ও দিয়ে গেল। আমিও মন দিয়ে পড়ছি কারন এক্সামের আর বেশিদিন নেই। শুভ ও আমাদের বাড়িতে আসে না, আমার পড়ায় সমস্যা হবে তাই হয়তো। না আসুক তাতে আমার কি হুহ… কিন্তু আমি যে ওই ভুত টাকে মিস করতেছি, ধুররর মিস করতাম কেন? শুভ আবার কেডা?

পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কিভাবে যে দিনগুলো কেটে গেল নিজেও বুঝতে পারিনি। কাল থেকে এক্সাম শুরু,সবার থেকে দোয়া চেয়ে নিলাম।
পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হতেই দেখলাম শুভ বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমিও কিছু না বলে দাঁড়িয়ে আছি….
শুভ- কি উঠবে না নাকি?
আমি- হুম।
আজ দুজন এর কেউ ই কথা বলছি না,আমার মাথায় এক্সামের টেনশন কাজ করছে কিন্তু শুভ কথা বলছে না কেন? হুররর কি জানি? বললে বলুক না বললে নাই,আমার কি!
মিমি- কি রে আনহা, ছেলেটা কে রে? খুব হ্যান্ডসাম তো.. তোর বফ নাকি?
আমি- ধুররর, আমার খালাতো ভাই।
মিমি- খুব ভালো লাগছে রে, আমাকে ওর সাথে প্রেম করাই দে না।
আমি- হুসসস, একদম চুপ। আমার জামাই ও, বিয়ে হয়ে গেছে আমাদের।
তারপর আর সায়মা কিছু বলেনি।
.
ঠিক এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমার পরীক্ষার দিনগুলো। শুভ ও আমাকে সবকিছুতেই হেল্প করছে। এভাবে এক এক করে সব পরীক্ষা ই শেষ হয়ে গেল।
পরীক্ষা শেষ এ আবার শুভদের বাসায় চলে আসলাম। রুমে বসে আছি,কিছু ভালো লাগছে না। শুভ আমার রুমে আসলো….
শুভ- আসো কোথাও গিয়ে ঘুরে আসি।
আমি- না আমি তোর সাথে যামু না।
শুভ- পাচ মিনিট টাইম দিলাম,নয়তো…
আমি- হইছে হইছে থাম এবার,রেডি হচ্ছি..(শুভকে থামিয়ে বললাম)
.
অনেক্ষন ধরে আমি পার্কে একা বসে আছি, সাথে শুভ ও এসেছে কিন্তু একটা মেয়ের সাথে কি যেন বলেই যাচ্ছে। খুব রাগ হচ্ছে আমার, মন চাইতেছে শুভ টারে আমি কাচাই চিবাইয়া খাই।
– মেয়েটা কে?(শুভ আসতেই আমি বললাম)
শুভ- আমার বান্ধবী, অনেক দিন পর দেখা।
আমি- ওহহহ..(চুপ করে বসে রইলাম)
শুভ- কি মন খারাপ?
আমি- নাহহহ…
শুভ- আসলে আমি না ওই মেয়েটার সাথে আগে প্রেম করতাম।
আমি- কিইইইই?
শুভ- আরে মিছা কথা,তোমাকে রাগানোর জন্যই বলছি। আসলে এতক্ষন ইচ্ছা করেই আমি কথা বলছিলাম ওর সাথে।
আমি- যা তুই তোর ওই মেয়ের কাছেই যা। এখানে কি হুহ…
শুভ- এখানে ঘুরতে আসছি কেন জানো?
আমি- হুম, ওই মেয়ের সাথে কথা বলার জন্য…
শুভ- না, কাল আমি বিদেশ চলে যাচ্ছি।
.
শুভর কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল, বাইরে চলে যাবে ও। আর কিছু না বলে দুজন বাড়িতে চলে আসলাম।

শুভ ও বিদেশ চলে গেল। এখন আমি শুভদের বাসাতেই থাকি মামনির সাথে। সব কাজে প্রায় হেল্প করি মামনি কে…
.
শুভ বিদেশ গেছে কয়েকমাস হয়ে গেল, মাঝেমধ্যে কথা হয় ওর সাথে। আমার পরীক্ষার রেজাল্ট দিলো, খুব ভালো ই মার্কস পেয়েছি শুভর হেল্প করার জন্য। শুভ আমার রেজাল্ট শুনে খুবই খুশি হয়।

শুভ বিদেশ গেছে প্রায় অনেকদিন ই হয়ে যাচ্ছে। বছর পূর্ণ হতে আর বেশি দেরী নেই।
ছাদে বসে আছি, তখনি শুভর কল….
আমি- কি রে কেমন আছিস?
শুভ- ভালো,তুমি কেমন আছো?
আমি- ভালো, কি করিস? (নিজে থেকেই প্রশ্ন করে যাচ্ছি)
শুভ- আমার যে বিয়ে ঠিক হয়েছিল ওই হবু বউ এর সাথে কথা বলছিলাম এতক্ষন, তুমি কি করো?
আমি- আমি জাহান্নামে নাচতেছি,তুমি ফোন রাখ। থাক তোর ওই মেয়েকে নিয়ে….
বলেই কল কেটে ফোন অফ করে দিলাম। ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলা! কত সাহস ওর….
কয়েকদিন ধরে কথা হচ্ছে না শুভর সাথে। হবে কি করে আমার ফোন তো অফ করে রাখছি, না আর কথা কমু না ওর সাথে। কিন্তু যত ভাবছি ওর সাথে কথা বলবো না কেন জানি ততই মিস করতেছি ওকে। হিহি হয়তো ভালোবেসে ফেলেছি ওই ভূতটাকে।
.
মন খারাপ তাই রুমে বসে আছি তখন মামনি ও রুমে আসলো….
মামনি- আনহা,পরশু শুভ দেশে ফিরবে।
আমি- সত্যিইইই? (খুশিতে লাফিয়ে উঠলাম)
মামনি- খুব খুশি হলে বুঝি?
আমি- নাহ, তোমার ছেলে আসবে তাতে আমার কি হুহ…
মামনি- তাই নাকি
আমি- হুম আমাকে তো ভুলেই গেছে । ওখানে সুন্দর সুন্দর মেয়ে দের দেখে । আমার কথা মনে পড়ে নাকি ওই বান্দরের ?
শুভ- তাই নাকি
আমি- হুম তাই তাই {এ্যা ছেলের ভয়েস মামনির ভয়েস বদলে গেলো কেমনে । বাবাও (শুভর বাবা) তো বাড়িতে নাই । তাইলে কি শুভ }
.
পিছনে ঘুরে দেখি শুভ ই….
.
শুভ- তা মা তোমার বউমা দেখছি আজকাল রাগী হয়ে গেছে ।
মামনি- হুম হবে না কেনো ? বউমা কার ?
শুভ- এতোদিন পর আসলাম কই একটু পানি দিবে তোমার বউমা তো হা করে আছে ।
মামনি- আনহা ওই আনহা
.
(আমি শকড । কারণ এতোদিন পর আসছে আর দিন দিন হ্যান্ডসামও হইছে )
আমি- হুম বলো
মামনি- ওকে খাবার দে
আমি- ওকে
.
রাতে খাবার টেবিলে….
শুভ- বউ একটু খাওয়ায় দেও
আমি- এ্যা
মামনি- হুমম দে খাওয়ায়
শুভ- এইতো আম্মুও বলছে দে
.
কি আর করার খাওয়ায় দিচ্ছিলাম । হঠাৎ কামড় দিলো ।
আমি- আম্মুউউউউউ
মামনি- কি হইছে ?
আমি- কামড় দিছে এই হালা
মামনি- শুভ এটা কি
শুভ- সরি ওর হাতে সব এতো ভালো লাগে ভুলে দিয়ে ফেলছি
আমি- ওই তোমার শরীর ঠিক আছে ? এইরাম করছো কেন ?
শুভ- হেহে সব ঠিক
.
খাওয়া শেষে….
রুমে ফ্রেশ হয়ে রেডি হচ্ছিলাম ঘুমানোর জন্য । শুভ ফ্রেশ হয়ে এসেই জড়িয়ে ধরলো আমাকে পিছন থেকে ।
আমি- আম্মুউউউউউ ( ভয় পেয়ে চিল্লাতে ধরছি )
.
কিন্তু শুভ হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরলো ।
কিছু সময় পর মুখ ছেড়ে দিলো ।
.
আমি- এটা কি করিস ?
.
শুভ আঙ্গুল দিয়ে চুপ হতে বললো । আমি চুপ করে গেলাম । শুভ তাকিয়ে আছে ।
আমি- ওই তোমার কি হইছে এমন করছো কেনো ?
শুভ- আই লাভ ইউ
আমি- এ্যা
শুভ- ওই আর ঢং করবি না ।
আমি- আমি কি করলাম ?
শুভ- আমাকে ভালোবাসিস তো বলিস না কেনো‌?
আমি- কে কইলো তোমর মতো বান্দর কে আমি ভালোবাসবো ?
শুভ- বাসিস তো
আমি- প্রমাণ কই ?
শুভ- মেঘ বালক কে বলছিস তুমি
আমি- তুমি কেমনে জানলা ?
শুভ- ওইটা তো আমি
আমি- চিটার
.
বলেই ওরে কিল ঘুষি মারা শুরু করলাম । শুভ ওই থাম নইলে তোরে আমি কিস করুম উঠেই ।
আমি ছেড়ে দিলাম ।
শুভ- তুই এটাকে এতো ভয় পাস কেনো ?
আমি- জানি না বাট এমনেই
শুভ- দ্বারা তোমার ভয় ই আজ আমি দুর করবো
আমি- কেমনে
.
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই শুভ আমাকে কিস করে বসলো । তারপর
.
আমি- ভ্যা ভ্যা ভ্যা
শুভ- কাঁদিস কেন ?
আমি- তুমি কি করলা এটা কেনো কেনো কেনো ?
শুভ- আমি করুম না তো কে করবে
আমি- তা ঠিক কিন্তু
শুভ- চুপ
আমি- কি হইলো
শুভ- আর লুকালুকি না । শুনো সেই ছোট বেলা থেকে তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু তুমি সিরিয়াস নেও না । এতোটা ভালোবাসি জানো না তুমি । তোমাকেই বউ মেনে গেছি আমি চিরকাল ।
আমি- তো এতো মেয়ের সাথে টাংকি মারো কেনো ?
শুভ- তোমাকে জ্বালাতে
আমি- বিয়ে তো করতে লাফাচ্ছিলা অন্য মেয়ে কে
শুভ- বিয়েটা নাটক ছিলো । আসল বউ তুমি ই ছিলা । আসলে কোনো বউ ই ছিলো না । সব শুধু তোমার সামনে নাটক ছিলো । সবাই জানতো । তোমাকে প্রথমে বললে মানতে না তাই এতোকিছু ।
আমি- এ্যা
শুভ- হুম
আমি- তা বুঝলাম কিন্তু আমার সাথে খারাপ ব্যবহার কেনো‌?
শুভ- একটু রেগে ছিলাম আর একটু নাটক ছিলো ওটা ।
আমি- কিন্তু আমি কি করছি যে রাগ ?
শুভ- তুমি যখন চলে যাও আমার খুব কষ্ট হয় সে বার অনেক কষ্ট হইছিলো তাই রাগ ।
আমি- মেঘ বালিকা কে ?
শুভ- আমার সবকিছুতে শুধু তুমি আই এম সিরিয়াস আই লাভ ইউ
আমি- আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি ।
শুভ- তো বলো না কেন ?
আমি- সাহস ছিলো না
শুভ- বান্দরনি
আমি- তুমিও বান্দর
শুভ- আহা বান্দর ফ্যামিলি
আমি- হুম
শুভ- তা মিনি বান্দর আরো আনা যাক
আমি- ইইই লুইচ্চা
শুভ- হেহে
.
.
.
…………সমাপ্ত…………..
কাল্পনিক গল্প

ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_৬

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_৬
Written by Avantika Anh
কিছু সময় পর মামনি এসে আমাকে হলুদ মাখাতে লাগলো ।
.
আমি- আমাকে দিচ্ছো কেনো ? তোমসর ছেলেকেই দেও
মামনি- আরে তোকে না মাখালে হয় ?
আমি- কেনো আমার মাখলে কি ? বিয়ে কি আমার হচ্ছে নাকি তোমার খাটাস ছেলের হচ্ছে ওকেই মাখাও ।
মামনি- হাহা আগে তোকে তো মাখাই
.‌
.
মামনি আমাকে হলুদ মাখিয়ে দিলো ।
.
আমি- এতো হলুদ কেনো ? আমাকে কি হলদি হলদি বানাবা ?
মামনি- হুম
.
.
মামনি চলে গেলো ।
.
আমি কিছু সময় পর হলুদ ধুয়ে ফেললাম ।
.
তারপর ছাদে গিয়ে বসলাম । চুপচাপ বসে ছিলাম মন খারাপ লাগছিলো তাই ।
.
হঠাৎ কে যেনো আমার চোখ বেঁধে কি জানি নাকের কাছে ধরলো । তারপর আর কিছু মনে নাই । যখন চোখ খুললো প্রায় রাত । আমার হাতে পায়ে আর মুখে হলুদ লাগানো কিন্তু কীভাবে কিছুই বুঝলাম না । কিন্তু আমি এইখানে কেমনে ? আমি শকড্ হয়ে আছি । এ্যা বাড়িতে ভুত আইলো কই থেইকা ?
.
ভয়ে দৌড় দিলাম বাইরে শুভ ভাইয়া ছিলো ।
আমি- ভাই বাড়িতে ভুত আছে
শুভ- জানি তো ভুত আছে ।
আমি- তোরেও কিছু করছে ?
শুভ- তোর থেকে বড় ভুত আর কে ? বান্দরের মতো তো দেখতে আরো হলুদ মাখে পেত্নি সাজছিস ?
আমি- না আমি না
শুভ- চুপ যা এখান থেকে আমি ফোনে কথা বলবো ।
আমি- আচ্ছা
.
.
চলে আসলাম । কিছুদিন ধরে শুভ ভাইয়ার ব্যবহার আমাকে এতো পরিমাণ কষ্ট দিচ্ছে যা আমি কান্না ছাড়া আর কোনোভাবে প্রকাশ করতে পারছি না ।
.
ফেসবুকে……
মেঘ বালক- কি ম্যাডাম কি খবর ?
আমি- ভালো আপনার?
মেঘ বালক- হুম ভালো মন খারাপ নাকি?
আমি- হুম
মেঘ বালক- কেনো৤?
আমি- আছে কোনো কারণ
মেঘ বালক- ম্যাডাম যা দেখা যায় তা সবসময় সত্যি না মনে রাখবেন‌।
আমি- আচ্ছা গুড নাইট
মেঘ বালক- ওকে
কালকের দিন হয়তো আপনার লাইফে ধামাকা আনবে দোয়া করি ।
আমি- ওকে বাই
মেঘ বালক- বাই
.
পরেরদিন সকাল থেকে হইচই বিয়ে বাড়ি বলে কথা ।
.
মামনি- আনহা রেডি হ
আমি- আমি এখনি কেনো?
মামনি- হইতে বলছি হ আর শুন পার্লারে যা
আমি- এ্যা ওখানে আমার কি কাজ ?
মামনি- যা বলছি কর আর শুন সেখান থেকে সোজা এই ঠিকানায় আসবি সবাই ওখানে যাবো সোজা আর এই লেহেঙ্গা টা পড়িস ( নীল রঙ্গের একটা লেহেঙ্গা )
আমি- এতো কাজ কেনো এইটায় ?
মামনি- পড়তে বলছি পড় এতো কথা কেনো ? শুন পার্লারওয়ালি কে বলা আছে বুঝলি ?
আমি- আচ্ছা আচ্ছা বুঝছি ।
.
.
পার্লারে….
সাজানো শেষে….
নিজেকে দেখে বলি এ কেমন সাজ ? আমি তো বউ না এতো কিনু ?
আমি- আপু আপনি একটু বেশিই সাজিয়ে ফেলছেন আমি তো বউ না
পার্লারওয়ালি- আজকাল এটাই ভালো । আমাকে এইভাবেই সাজাতে বলা হয়েছে ।
আমি- আচ্ছা
.
.
রেডি হয়ে ওই জায়গায় গেলাম । গিয়ে দেখি সবাই কেনো যেনো নিরব ।
আমি মামনির কাছে গেলাম ।

.
আমি- মামনি কি হইছে এখানে সব ?
মামনি- বউ পালাইছে
আমি- এ্যা কেনো ? কখন?
মামনি- জানি না এখন যে কি হবে আমাদের সম্মান । কে বিয়া করবে ?
.
খালু- আনহা তোর কাছে একটা জিনিস চাবো ?
আমি- বলো খালু
খালু- তুই শুভ কে বিয়ে করে ফেল ।
আমি- কিইইইই ?
খালু- আজ অব্দি কিছু চাই নাই । এটা কর মা ।
.
না ভেবেই রাজি হয়ে গেলাম । কারণ তারা‌ আমার জন্য অনেক করেছে । শুভ ভাইয়াও কিছু বললো না । বিয়েটা হয়ে গেলো । সবাই খুশি । কিন্তু আমি চুপচাপ ।
.
.
বাসরে….
শুভ এলো….
আমিও নিশ্চুপ শুভও ।
শুভ- তোর এক্সাম কবে রে ?
আমি- ২ মাস পরে ।
শুভ- আজ তো ধকল গেলো কাল থেইকা পড়া শুরু বুঝলি ।
আমি- হুম
শুভ- বউ পা টিপো তো
আমি- কি ?
শুভ- হ পা টিপ
আমি- দুর হ
শুভ- হেহে কই যামু বিয়া তো হইয়া গেলো
আমি- তো কি
শুভ- হুর যা ঘুমা
আমি- হ গুড নাইট
শুভ- হ ভাগ‌
.
সকালে….
শুভ- ওই উঠো
আমি- কে রে ?
শুভ- ওই হারামি উঠে পড় নতুন বউ তুই মনে নাই ।
আমি- কে বউ কার বউ? ( ঘুমেই )
শুভ- আমার বউ
আমি- ও
.
মাথায় ঢুকলো কথাটা আর ঢুকতেই….
আমি- কয়টা বাজে ?
শুভ- বেশি না ভোর ৫ টা
আমি- ও নামায পড়ুম ওয়েট
শুভ- আমিও পড়বো ।
.
.
নামায শেষে….
আমি কাপড় নিয়া বাথরুমে যাচ্ছি ।
শুভ- কি হলো কই যাও ?
আমি- গোসলে
শুভ- ও
আমি- বিয়ে কইরা বাঁশ সকাল সকাল গোসল ।
শুভ- হেহে বুঝো ঠেলা
আমি- হাসবি না হাসলে পিডাম
শুভ- পিডাইলে পাপ হইবো পাপ মুই না তোর বর
আমি- হুরররর
শুভ- যা যা গোসল কর
.
গোসল শেষে গেলাম রান্না করতে…..
.
মামনি এসে….
মামনি- এ আমি কি দেখি ?
আমি- কি ?
মামনি- তুই রান্না করতেছিস ?
আমি- হুম বউ হইছি রান্না লাগবে না বুঝি
মামনি- তুই এমন সংসারি হয়ে যাবি জানলে আগেই বিয়া দিতাম ।
আ‌মি- কি যে কও
.
দুপুরে…
আমি রুমে বসে গেম খেলছিলাম । কে জানি আইসা ফোন কেড়ে নিলো ।
আমি- কে ?
শুভ- সামনে পরীক্ষা আর গেম খেলা ।
আমি- ফোন দে
শুভ- যা পড়তে বসো
আমি- বসবো না কি করবি?
শুভ- মামনি কে বলে দিবো
আমি- আমিও কমু যে তুই আমারে মারছোস
শুভ- মিছাবাদী আচ্ছা আরেকটা উপায় আছে
আমি- কিতা ?
শুভ- এক থেকে দশ গুণবো এর মাঝে যদি পড়তে না যাও আমি তোমাকে কিস করবো ।
আমি- ( কি কইলো এইটা ) যাচ্ছি
.
.
জ্বলদি পড়তে বসলাম ।
শুভ হাসতে লাগলো ।
.
শুভ- ভালো করে পড়ো
আমি- আচ্ছা
.
চলবে…..

ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_৫

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_৫
Written by Avantika Anh
.
রাতের শুভ ভাইয়ার ব্যবহারে খুব খারাপ লাগছিলো, খুব কান্না ও পাচ্ছে। শুভ ভাইয়া কেন আমার সাথে এরকম।করছে তা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি তা নিজেও বুঝতে পারিনি।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাদে গিয়ে দেখি শুভ কার সাথে যেন কথা বলছে….
আমি- কি রে বিয়ের আগে বউ এর সাথে এতো কথা কিসের?হুহ
শুভ-আমি আমার ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলছি,আর আমি আমার বউয়ের সাথে কথা বললে তোর কি হে?
আমি- এ্যা এ্যা.. (কান্না শুরু করলাম)
শুভ- ওই তো পেন-পেনানি বন্ধ কর তো, ভাল্লাগে না এসব।
আমি- ধুররর…
বলেই চলে আসলাম ছাদ থেকে, জানিনা কেন শুভ এরকম করছে আমার সাথে।
.
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে আসলাম। দেখি শুভ ভাইয়া নাস্তার টেবিলে বসে নেই…
মামনি- কি রে আনহা খাচ্ছিস না কেন?
আমি- হুম খাবো, আচ্ছা মামনি শুভ ভাইয়া কোথায়?
মামনি- ও তো নাস্তা করে চলে গেছে।
মামনির এই কথায় আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল, শুভ ভাইয়া তো আমাকে ফেলে কখনো নাস্তা করেনি! তাহলে এখন এমন করছে কেন?কি খাইলাম আর না খাইলাম কিছুই মনে নেই,উঠে চলে আসলাম নাস্তার টেবিল থেকে।

“কি রে ভাইয়া এতো সেজেগুজে কোথায় যাবি? “
শুভ ভাইয়ার রুমে গিয়ে দেখি ও কোথাও যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে তখন বললাম।
শুভ- যেখানেই যাই তোর সমস্যা কি হে?
আমি- বলবি না?
শুভ- না বলবো না, ভাগ তো এখান থেকে।
আমি- মামনিইইই?
শুভ- আমি শপিং করতে যাচ্ছি, কিছু দরকারি জিনিস কিনতে হবে।
আমি- এতক্ষন বলিসনি কেন? আমিও যাবো রে, ফুচকা ও খাবো..হিহিহি।
শুভ- না, আমি নিতে পারবো না। পারলে তুই একা যা, যা তো এখান থেকে।
শুভর এরকম কথা শুনে খুব খারাপ লাগছে, কেন যে এরকম করছে আমার সাথে? আগে তো এরকম করতো না! আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইলাম।
মামনি- কি রে আনহা আমাকে ডাকছিলি কেন?(আমার ডাক
শুনে এসেছে হয়তো)
আমি- মামনি দেখো না, শুভ ভাইয়া শপিং করতে যাচ্ছে কিন্তু আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না।
শুভ- আম্মু আমি ওকে নিয়ে যেতে পারবো না আগে থেকেই বলে দিলাম।
আমি- ভ্যাএএএ…(একটু কান্নার ভান করলাম)
মামনি- আনহা কে তুই তো নিয়েই যাবি, তোর ঘার ও নিয়ে যাবে।
মামনির কথা শুনে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো শুভ। আমি জানি মামনির কথা কখনো অমান্য করে না ও।
.
দুজনই রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলাম..
আমি- কি রে বাইক নিচ্ছিস না কেন?
শুভ- আমার মন চাইছে তাই। তোর কোন সমস্যা?
আমি- হুহ সমস্যা কতদিন ধরে তোর বাইকে চড়ি না, বাইক টা ও নে না প্লিজ..
.
আমি আর শুভ যাচ্ছি বাইকে করে শপিং করার উদ্দেশ্যে। দুজনই চুপ করে আছি,কারোর মুখে কোন কথা নেই। কিছুক্ষন যাওয়ার পর দেখলাম রাস্তার।পাশে একটা ফুচকার দোকান। শুভ থামবে না তাই ওকে কাতুকুতু দিলাম।
শুভ- এই কাতুকুতু দিলে কি বাইক চালানো যায়?
আমি- না চালাতে পারলে একপাশে থামা।
শুভ- না, অনেক কাজ আছে থামানো যাবে না।
শুভ বাইক থামাবে না তাই কাতুকুতু দেয়া আরো বাড়িয়ে।দিলাম।
শুভ- তোর সমস্যা কি হে?(এবার বাইক থামালো)
আমি- দেখছিস না? ফুচকার দোকান।
শুভ- আমি খাবো না,তুই খা যা।
আমি- তোরে খাইতে বলছে কে? আয় তো আমার সাথে।
একপ্রকার জোর করে নিয়ে গেলাম ফুচকার দোকানে।
আমি- মামা দুই প্লেট ফুচকা দেন তো। (দোকানদার কে বললাম)
শুভ- দুই প্লেট কেন? বললাম না আমি খাবো না।
আমি- তুই খাবি সাথে তোর বউ ও খাবে। ( হায় হায় কি বললাম?)
শুভ রাগি লোক নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ততক্ষনে ফুচকা রেডি।
.
আমি ফুচকা খেয়ে প্রায় প্লেট শেষ করে ফেলছি কিন্তু শুভ খাচ্ছে না।
আমি- কি রে খাচ্ছিস না কেন? বউ এর কথা ভাবছিস নাকি?
শুভ- তুই চুপ করবি?
আমি- দে তোরে হেল্প করে দেই।
শুভর প্লেট থেকে আরো অর্ধেক খেয়ে নিলাম হিহি।
.
ফুচকা খাওয়া শেষ করে আবার যাওয়া শুরু করলাম মার্কেটের উদ্দেশ্যে।চলে আসলাম।
আমি- ভাইয়া এই পাঞ্জাবী টা দেখ তো, তোকে অনেক মানাবে। জামাই জামাই লাগবে হিহি…
শুভ- তুই একদম চুপ থাকবি, যা কেনার আমার পছন্দ মতোই কিনবো।
আমি- আচ্ছা (খারাপ লাগলো একটু,চুপ করে রইলাম)

শুভ- এই যে ভাই ওই শাড়ী টা দেন তো। (দোকানদার কে উদ্দেশ্য করে বললো)
দোকানদার- নিন ভাই, এই শাড়ীটা টা ভাবিকে খুব মানাবে কিন্তু।
শুভ- দেখতো শাড়ীটা কেমন হবে আমার বউয়ের জন্য।
আমি- হ্যা ভালোই হবে।

আরো কিছু কেনাকাটা শেষ করে সব শেষ এ আমার পছন্দ করা পাঞ্জাবী টাই নিল শুভ। আমি কিছু বললাম না।
– আরে আনহা, হঠাত শপিং এ যে?
দেখলাম ওইদিনের সজিব নামের ছেলেটি।
আমি- হ্যা, সামনে আমাদের এ্যানেভার্সারি তো তাই শপিং করতে আসছিলাম আরকি! তাইনা গো শুভ।
শুভ আমার কথা শুনে কিছু বললো না,একটু রাগী ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।
সজিব- কংগ্রাচুলেশনস, আজ তাহলে আসি।
আমি- ওকে।
.
দুজন বাইকে করে বাসায় ফিরছি। আমি বা শুভ ভাইয়া কেউ কিছু বলছি না। জানিনা শুভ ভাইয়ার কি হয়েছে! যে শুভ ভাইয়া আমার পিছনে দিনরাত লেগে থাকতো আর এখন অথচ আমি ওর পিছনে লেগে আছি, কোন পাত্তাই দিচ্ছে না আমাকে।
হঠাত বৃষ্টি শুরু হলো, খুব ভালো লাগছে বৃষ্টির মধ্যে বাইকে চড়তে। কিন্তু অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে বাইক টা থামালো একটা দোকানের কাছে।
আমি- কি রে থামলি কেন? বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগছিলো তো।
শুভ- না, বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসবে। আর পরে আম্মু বকা দিবে আমাকে।
আমি শুভর কোন কথা না শুনে দাঁড়িয়ে রইলাম, ভিজলাম কিছুক্ষন। কিন্তু শুভ আমাকে টেনে একটা দোকানের পাশে নিয়ে দাড় করালো।
আমি- আরেকটু ভিজি না রে শুভ ভাইয়া।
শুভ- না বললাম তো।
আমিও চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম দোকানের পাশে, এমনভাবে দাঁড়িয়ে রইছি যেন শুভ কে আমি চিনিই না। খেয়াল করলাম একটা ছেলে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, খুব অস্বস্তি লাগছে এখন আমার। শুভ ও হয়তো কিছুটা বুঝতে পারছে ব্যাপারটা।
শুভ- এই ছেলে তোমার সমস্যা কি?(ছেলেটিকে বললো)
ছেলেটি- কই? আমার কোন সমস্যা নেই তো।
শুভ- তাহলে ওর দিকে তাকিয়ে আছো কেন?(আমাকে দেখিয়ে)
ছেলেটি- ভালো লাগে তাই তাকিয়ে আছি, তোর সমস্যা কি? নায়ক হইতে আইছোস?
শুভ ভাইয়া রাগের মাথায় ছেলেটির নাক বরাবর একটা ঘুষি দিলো, রক্ত বের হচ্ছে ছেলেটির নাক দিয়ে।
শুভ- চল, বাসায় যাই।
আমি- না বৃষ্টি হচ্ছে তো, জ্বর আসবে।
শুভ- আসুক, আয় বলছি।
দুজন আবারো চলছি বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাও বৃষ্টির মধ্যেই। খুব ভালো লাগছে। কি জানি রাতে জ্বর ও আসতে পারে, যেভাবে ভিজা শুরু করেছি বলা তো যায় না।
আমি- আচ্ছা ভাইয়া ওকে মারলা কেন?
শুভ- এমনি, তোর কোন সমস্যা?
আমি- নাহ।
.
বাসায় চলে আসলাম। আসতেই মামনি আমাদের দিকে এগিয়ে আসলো।
মামনি- কি রে তোরা এভাবে বৃষ্টিতে ভিজে আসলি কেন? কোন জায়গায় দাড়ালেই পারতি।
আমি- মামনি আমিও বলেছিলাম দাড়াতে কিন্তু শুভ ভাইয়া দাঁড়ায় নি।
শুভ- না আম্মু দাড়িয়েছিলাম। কিন্তু ও ইচ্ছা করে ভিজেছে।
– হা হা হাচ্চুউউউউ…(আমি)
মামনি- দেখলি ঠান্ডা লেগে গেছে এখনি, যা চেঞ্জ করে নে।
.
চেঞ্জ করে রুমে চলে আসলাম,ঠান্ডা লেগে গেছে একটু বেশিইই..
রাতে অনেক মজা করছে শুভ ও তার বন্ধুরা, না আমি যাবো না। শুভ তো এখন আমাকে সহ্যই করতে পারেনা। আমি রুমে এসে শুয়ে পড়লাম, ঘুমাবো এখন।
.
সকালে সবার হৈ-হুল্লোরের আওয়াজ শুনেই ঘুম ভাঙলো আমার। দেখি সবাই হলুদ মাখিয়ে দিচ্ছে শুভ কে। আমার ও খুব ইচ্ছে হলো শুভ কে হলুদ মাখিয়ে দিতে। কাছে গেলাম,মাখিয়ে ও দিলাম।
শুভ- এই তোরে কে কইছে আমার মুখে হলুদ দিতে? (একপ্রকার রাগ দেখিয়ে রাগ দেখিয়ে খুব জোরে বললো,সবাই তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে)
আমি- কেন কি হয়েছে? একটু হলুদ মাখালাম তাতে কি হলো?
শুভ- না, তুই মাখাবি না। যা রুমে যা।
শুভ ভাইয়ার এরকম আচরন দেখে দৌড়ে রুমে চলে আসলাম।
কেন জানি অনেক কান্না আসছে আমার তবুও তা প্রকাশ করছি না।
আচ্ছা শুভ ভাইয়া আমার সাথে এমন করছে কেন? আমি কি ওর সাথে কোন খারাপ বিহেভ করেছিলাম? না করিনি তো!
বুঝতে পারতেছিনা কেন এমন করছে। শুভ ভাইয়ার এরকম বিহেভ এর কথা ভেবে অনেক খারাপ লাগছে আমার,কান্না ও পাচ্ছে হয়তো।

.
চলবে…..

ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_৪

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_৪
Written by Avantika Anh
রাতে এফ বি তে….
মেঘ বালক অনলাইন দেখলাম । আমার মেসেজের রিপ্লাই ও দিয়েছে ।
মেঘ বালক- মনে হলো আপনাকে হুতুম পেঁচা লাগছে ।
আমি- বললেই হলো
মেঘ বালক- বললে যদি সব কিছু হতো তাহলে তো হতোই ।
আমি- মানে ??? বুঝি নি ।
মেঘ বালক- পিচ্চি মানুষ তো বুঝবেন ই না
আমি- ইইইই কে কইছে আমি পিচ্চি?
মেঘ বালক- তা কি বুড়ি ?
আমি- না আমি পেত্নি ।
মেঘ বালক- আচ্ছা মিস পেত্নি ।
আমি- দুরররর
.
অফলাইন হলাম আমি । রাত হয়েছে তাই ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে দেখি আমার গায়ে পানি ঢালতেছে শুভ ভাইয়া কিন্তু কেমনে সম্ভব আমি তো দরজা লাগাইছিলাম । এমা আমার হাত বাঁধা । পা দিয়া ভাইয়ারে লাথ মারলাম ।
.
শুভ- হেহে কাল কি করছিলি মনে নাই ?
আমি- তাই বলে তুই এমনে ?
শুভ- হ
আমি- কিন্তু ভিতরে ঢুকলি কেমনে ?
শুভ- জানালা দিয়ে
আমি- এরপর থেকে অফ রাখবো ।
শুভ- আমি তবুও ঢুকবো ।
আমি- কেমনে সম্ভব ?
শুভ- সব সম্ভব
আমি- দুররর হাত খুল
শুভ- আরও এক বালতি ঢালুম তারপর ।
আমি- কিইইই দ্বারা মামনি কে ডাকমু ।
মাম….
.
( মুখে হাত দিয়া আটকায় দিলো শুভ ভাইয়া )
শুভ- ডাকিস না রে সরি
আমি- খুল
শুভ- দ্বারা
.
যেই খুললো পাশে থাকা এক বালতি পানি শুভ ভাইয়ার গায়ে আমি ঢালে দিলাম ।
শুভ- হারামি
আমি- ইটস আনহা নট হারামি
শুভ- কুত্তি
আমি- আমি মানুষ
শুভ- তুই তো মানুষ ই না তুই পেত্নি
আমি- কইলেই হইলো
শুভ- হ
.
আমি- হুরর হালা আমার এখন ঠান্ডা লাগবে
শুভ- মাঝে মাঝে ঠান্ডা লাগা ভালো ।
আমি- দুর হ
শুভ- ১০ টায় যাবি বিদায় অনুষ্ঠানে
আমি- হু
.
তারপর রেডি হয়ে শুভ ভাইয়ার সাথে গেলাম ।
.
এক কাউকে চিনি না দুই‌ সব কেমনে জানি তাকায় আছে ।
.
আমি- ওই আমাকে কি ভুতনি লাগছে ?
শুভ- হ
আমি- সিরিয়াস
শুভ- হ সত্যি ভুতনি লাগছে
আমি- এই জন্য আমি শাড়ি পড়ি না ।
শুভ- হেহে ভালোই লাগছে
আমি- মিছা কথা বলতেছিস
শুভ- সত্য বললেও‌ দোষ । হ তুই পেত্নি
আমি- ও তাইলে সিওর যে ভালাই লাগতাছে থেংকু
শুভ- কেউ আমারে মাইরালা
আমি- দ্বারা চাকু আনি
শুভ- চাকু দিয়া কি করবি ?
আমি- কেনো তোরে মাইরালাম ।
শুভ- কুত্তি
আমি- হিহি
শুভ- আয় সেল্ফি তুলি
আমি- না
শুভ- আমি তো তুলুম ই ।
আমি- হুরররর
.
.
কিছু সময় পর শুভ ভাইয়া তার বন্ধুদের সাথে কথা বলতে গেলো আমি একা বসে ছিলাম । কিছু সময় পর একটা ছেলে কই থেকে এসে পাশে বসলো ।
ছেলেটি- হাই আমি সজিব তুমি?
আমি- নাম জেনে কি করবেন ?
সজিব- Cool attitude . I like this .
আমি- ও
সজিব- তুমি খুব কিউট
আমি- থেংকু
সজিব- কিসে জানি পড় ?
আমি- টেবিলে
সজিব- তুমি অনেক ফানি
আমি- ওওওও
সজিব- এই তোমার নাম্বার টা দেও না‌
আমি- আমার ফোন নাই
সজিব- এড্রেস?
আমি- এই মাটিই আমার ঠিকানা
সজিব- এই বলো না
আমি- নাম আনহা এইচএসসি দিবো সামনে আর কিছু?
সজিব- ওয়াও নাম্বার টাও দেও না ।
.
.
(রাগ উঠে গেলো । যেই জবাব দিতে যাবো শুভ ভাইয়া এলো )
.
শুভ- কে এই ছেলে ?
সজিব- আমি সজিব তুমি কে ?
আমি- আমার বর সে ।
শুভ- এ্যা
আমি- জানু কই গেছিলা তুমি ?
সজিব- নাইস কাপল (সজিব কেটে পড়লো)
.
.
শুভ- কি রে কি কইলি এইটা?
আমি- আরে‌‌ ওই পোলা চিপকু ছিলো । বাঁচার জন্য মিথ্যে বললাম ।
শুভ- হাহা ব্রিলিয়ান্ট বউ আমার ?
আমি- কে তোর বউ ?
শুভ- কেনো তুই ।
আমি- আমার ঘাট হয়েছে । কেন যে তোরেই কইলাম । এখন মজা নিচ্ছিস
শুভ- কেনো বউ?
আমি- ওই আমি কিন্তু চলে যাবো ।
শুভ- হুর মজাও নেওয়া যায় না ।
আমি- হিহি
.
.
.
বিদায় শেষে বাড়ি ফিরলাম…
তার ২ দিন পর আমি বাড়ি চলে এলাম । ছুটি শেষ তাই । যাওয়ার আগে সবার মন খারাপ ছিলো কিন্তু শুভ ভাইয়া কেনো জানি সামনে আসে নি সেদিন । প্রতিবা‌রই এমন হয় । আমি ফিরার সময় শুভ ভাইয়া আর সামনে আসে না ।
.
.
আমি আবার সেই আগের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। ১ মাস পরে খবর পেলাম শুভ ভাইয়ার বিয়ে । হঠাৎ বিয়ের কারণ কি জিজ্ঞেস করতে মামনি বললো ভাইয়ার বিদেশ যাওয়ার আগেই নাকি বিয়ে দেওয়া দরকার ।
.
গিয়েই…
আমি- কি রে বিয়ে করতেছিস যে ?
শুভ- তোর কোনো সমস্যা ?
আমি- না সরি
শুভ- যা এখান থেকে
আমি- আচ্ছা
.
হঠাৎ শুভ ভাইয়ার এমন ব্যবহারের কারণ কি বুঝলাম না । সেদিন রাতে আবার কথা বলতে গেলাম ।
আমি- তুই দিনদিন ভুত হচ্ছিস ।
শুভ- হইলে হবো তোর লাগে নাকি ?
আমি- না মানে
শুভ- কি মানে মানে কিছু বলার থাকলে বল নইলে যা । জ্বালাবি না একদম ।
আমি- আচ্ছা সরি ।
.
এই কথা গুলো শুনে চলে এলাম । শুভ ভাইয়া কোনোদিন আমার সাথে এমন ব্যবহার করে নি । কেনো যে হঠাৎ এমন হলো ।কেঁদে ফেললাম কিন্তু নিশ্চুপ ভাবে ।
.
চলবে….

ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_৩

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_৩
Written by Avantika Anh
আমি- হারামি কি করলি এগুলো ?
শুভ- ভালোই তো লাগতেছে ।
আমি- হ হুতুম পেঁচার মতো ।
শুভ- ওমা তুই হুতুম পেঁচা বাহ ভালো নাম তো ।
আমি- হুর হালা ।
শুভ- হলুদ মাখছিস বিয়াটাও কইরালা ।
আমি- হুররর
শুভ- আমি ঘুমামু দুরর হ তুই পেত্নি ।
আমি- তুই রাক্ষস আর তোর বউ পেত্নি
শুভ- হেহে তুই ই বউ
আমি- তোর বউ হইতে আমার বয়েই গেছে ।
শুভ- হেহে আমিও তোর মতো খরগোশ কে বিয়া করুম না ।
আমি- শয়তানননননন
শুভ- যা তো ঘুম পাইছে ।
আমি- কাল দেইখা নিম ।
শুভ- হ দেখিস । এতো কষ্ট কইরা চেহারার যত্ন নেই । একটু দেখিস ।
আমি- তুই দিন দিন বান্দর হয়ে যাচ্ছিস মামনি কে বলা লাগবে ।
শুভ- তুইও দিন দিন বান্দর হয়ে যাচ্ছিস ।
আমি- তোর সাথে কথা বলাই ভুল । গুড নাইট
শুভ- হ যা ।
.
.
রাতে একটু এফবি এ ঢুকে স্ট্যাটাস দিলাম ।
.
“বিয়ে বাড়িতে হলুদে হলুদ হয়ে গেছি”
.
রাতে ঘুমিয়ে গেলাম । সকালে তাড়াতাড়ি নিজে থেকেই উঠলাম আজ শুভ ভাইয়ার উপর শোধ তুলবো । যেই ভাবা সেই কাজ । এক বালতি পানি নিলাম । শুভ ভাইয়া আরাম কইরা ঘুমাচ্ছিলো আর আমি দিছি ঢালে ।
শুভ- আনহা তোরে আমি খাইছি আজ
আমি- হিহি
.
বইলা দৌড় । শুভ ভাইয়া পিছু পিছু আইতেছিলো । পানিতে ভিজা ছিলো তাই পড়ে গেছে । আমি ভালো ভেবে উঠাতে হাত বাড়ালাম । কিন্তু ভাইয়া আমাকে টান দিয়া ফেলায় দিলো । ( কি ভাবছেন রোমান্টিক সিন । আরে না অন্য সাইডে পড়ছি । এতো রোমান্টিক কিনু আপনেরা )
.
আমি- আল্লাহ গো । ফেললি কেন ?
শুভ- তুই আমাকে ভিজাইছোস কেন ?
আমি- এতোদিন আমাকে কতো জ্বালাইছোস ?
শুভ- তোরে আমি কাল সকালে দেইখা নিমু আনহা ।
আমি- হেহে ওকে দেখিস । আমিও দিন দিন সুন্দর হচ্ছি দেখ ভালো কইরা দেখ ।
শুভ- আমার ডায়লগ আমারে
আমি- হ
.
এমন সময় মামনি এসে পড়লো ।
মামনি- কি রে তোরা মাটিতে পড়ে আছিস কেনো ?
আমি- শুভ ভাইয়া আমাকে ফেলায় দিছে
শুভ- না মা এই আনহা টাই তো… ( কথা পূর্ণ করতে দিলো না মা )
মামনি- তুই ই কিছু করছিস মনে হয় । আমার আনহা মা কতো ভালো ।
শুভ- যাক বাবা মা একটা সত্যি কথা বলো আমি ই তোমাদের ছেলে তো ?
মামনি- না তুই তো মানুষের ছেলে । আনহা আমার মেয়ে ।
শুভ- হায় রে এই বয়সে এটা শুনতে হইলো ।
আমি- হিহি ওই রাস্তার ছেলে কাজ কাম নাই আমার কাপড় একটু ধুয়ে দে
শুভ- আনহার বাচ্চি দ্বারা রে
.
এটা শুনার সাথে সাথে আমি দৌড় । পিছনে শুভ ভাইয়াও দৌড় ।
মামনি এদিকে হাসছে আর ভাবছে “এরা দুইটা যে কবে ভালো হবে আর কবে আমি আপুর ইচ্ছে টা পূরণ করবো কে জানে ?”
.
.
ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে……
.
শুভ- ওই হালি খাচ্ছিস নাকি না ।‌ এতো কম কে খায় ।
আমি- কেনো আমি খাই ।
শুভ- এই জন্যই তো এতো পড়ে যাস
আমি- কইলেই হইলো ।
খালু- তোরা দুইটা কবে ঠিক হবি ?
আমি- খালু দেখো সব দোষ ওর ।
খালু- হুম রে মা । শুভ আনহা কে কিছু বলবি না । ও যা করছে করুক ।
আমি- থেংকু খালু আই লাভ ইউ ।
খালু- আই লাভ ইউ টু মা । তোর পড়ার খবর কি ?
আমি- এই তো সামনে এইচ এস সি পরীক্ষা । ( মা এর মৃত্যুতে আমি একটু পড়ায় পিছিয়ে পড়ি)
খালু- শুভ তোর পড়া কেমন ?
শুভ- এইতো এটাই লাস্ট ইয়ার তারপর ভাবছি বিদেশ যাবো ।
খালু- এখন তো ভাবছি তোর বিয়ে দিয়ে দিবো ।
শুভ- যাও তো কি বলি এসব ।
আমি- হুম খালু দিয়ে দাও । দিন দিন বুড়া হয়ে যাচ্ছে শুভ ভাইয়া ।
শুভ- ওই চুপ কর নইলে তোরেই বিয়া করুম
আমি- এহ আইছে ।
মামনি- কথা টা কিন্তু খারাপ না ।
আমি- ইইইইইই আমি বিয়া করুম না ।
.
বলে চলে আসলাম । খাওয়া শেষ তাই । আজ কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হবে না কারণ আজ মোহর আর শুভ ভাইয়ার কোনো কাজ নাই ।
.
রুমে এসে ফেসবুকে ঢুকলাম ।
.
কমেন্টে দেখলাম মেঘ বালক আইডির ছেলেটা কমেন্টে আমাকে হুতুম পেঁচা বলছে । তার ইন বক্সে গিয়ে বললাম “আপনি হুতুম পেঁচা দুররর হন”
.
.
কিছু সময় পর একটা গল্প দিয়ে চলে আসলাম । গোসল শেষে আয়নায় তাকাতেই দেখলাম আমার মুখ আর হাত হলুদ হয়ে আছে । ওতোটা খারাপ লাগছে না কিন্তু আমার নিজেকে নিজের কাছে কেমন ভুতনি ভুতনি লাগছে । এমন সময় শুভ ভাইয়া আসলো ।
শুভ- পেত্নি তুই যতোই নিজেকে দেখ খরগোশ ই থাকবি ।
আমি- তুই নিজে যে বান্দর
শুভ- তুই বান্দরনি
আমি- তুই গরু
শুভ- তুই গাভী
আমি- তুই চিকা
শুভ- তুই চিকি
আমি- চিকি কি ?
শুভ- আমি কি জানি ? ওটার লেডিস ভার্শন কি আমি জানি না তাই চিকি বললাম ।
আমি- হায় রে
শুভ- হেহে
আমি- ওই শুন না
শুভ- বল কি চাস ?
আমি- তুই কেমনে বুঝলি আমি কিছু চাই
শুভ- তোকে আমি চিনি
আমি- ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছে খাওয়া না‌
শুভ- যা রেডি হ । তুই ও কি মনে রাখবি কোন মহাপুরুষ আমি ।
আমি- হ তুই তো লুঙ্গি পুরুষ‌
শুভ- ওই আমি লুঙ্গি পড়ি না
আমি- হিহি মিথ্যুক খালু তোকে পড়াইছিলো জোড় করায় রাতে ।
শুভ- তুই কেমনে জানলি ?
আমি- আমিই পাঠাইছিলাম খালু রে আর তোর একটা পিক ও তুলছি ওমনে ।
শুভ- হারামি
আমি- হেহে
শুভ- ফুচকা কে খাওয়ায় দেখ ।
আমি- নিজেই আনতে পারুম ।
শুভ- যা যা
.
আমি রাস্তায় বের হয়ে কিছু দুর হাটতেই শুভ ভাইয়া চলে আসলো ।
আমি- আসবি না বলে ?
শুভ- ভাবলাম আমার হবু বউ হারায় গেলে কারে বিয়া করুম ?
আমি- ওই কে তোর বউ?
শুভ- কে আর তুই ।
আমি- ওই আমি তোর বউ না
শুভ- হেহে তুই ই আমার বউ ।
আমি- যা ভাগ দুর হ ।
শুভ- না গো জানু ।
আমি- ওই তুই ঠিক আছিস নাকি পাগল হইলি
শুভ- ঠিক ই আছি
.
ওই‌ আগা জ্বলদি বাড়ি ফিরবো তোরে খাওয়ায় আমি বাইরে যামু একটু পর ।
.
দোকানে….
খাওয়া শেষে শুভ ভাইয়ার প্লেটের দুইটা ফুচকা তুইলা নিছি ।
শুভ- হারামি আমার ফুচকা দে
আমি- দিমু না এই দেখ খাইয়া নিলাম ।
শুভ- হুরর শয়তান
আমি- হিহি
.
বাড়ি ফিরে এলাম ।
.
চলবে…….
.

ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_২

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_২
Written by Avantika Anh
বাড়িতে এলাম….
শুভ- আনহা
আমি- হুম বল
শুভ- কোথাও না বলে যাস না ।
আমি- হিহি কেনো ?
শুভ- বাচ্চামি বিহেভ বন্ধ কর
আমি- তুই আমাকে এভাবে বলতে পারলি
শুভ- হুম পারলাম
আমি- আই হেট ইউ
শুভ- হাহা
.
চলে এলাম…..
বিকেল বেলা ছাদে বসে ছিলাম । কে যেন আইলো তাকায় দেখি শুভ ভাইয়া কিছু বললাম না ।
শুভ- কি রে মোটি ছাদে কি করিস ?
আমি- আমি মোটি কেমনে আমি অনলি ৪৫ কেজি মোটু তো তুই ৬০ কেজির আটার বস্তা ।
শুভ- মার খাবি
আমি- হিহি আমিও মারতে পারি
শুভ- কাতুকুতু দিমু
আমি- খামচায় দিম
.
.
শুভ ভাইয়া যেই কাতুকুতু দিতে আসবে আমি খামচায় দিলাম ।
শুভ- পেত্নিইইইই
.
আমি পালায় আসলাম ।
শুভ ভাইয়া পিছু পিছু আসলো।
শুভ- হারামি
আমি- হিহি
শুভ- তুই বাড়ি গেলেই বাঁড়ি গেলেই বাঁড়ি গেলেই বাঁচি
আমি- খুব জ্বালাই কি তোমাদের ? (কথা টা শুনে মন খারাপ হলো)
শুভ- হায় আল্লাহ এই টা কার পাল্লায় পড়লাম । সরি মাইন্ড করিস কেনো ? আমি ওভাবে বলছি
আমি- হিহি বাদ দে । গফ এর লগে কবে দেখা করাবি ?
শুভ- আমার আর গফ
আমি- মিছাবাদী সেদিন ডায়রি এ মেঘ পরির কথা পড়লাম । কে এইটা রে?
শুভ- হারামি চোর আমার ডায়রি পড়িস
আমি- হিহি
শুভ- তোকে তো আমি খাইছি আজ
আমি- ওই মামনি কে বলে দিবো
শুভ- এই একটা পাইছিস হারামি দেখে নিবো আমিও ।
আমি- হিহি পারবি না
.
শুভ ভাইয়া চলে গেলো ।‌
বিকেলে বোর লাগছিলো তাই ফেসবুকে ঢুকলাম । কমেন্ট চেক করছিলাম । একটা আইডি আজব কমেন্ট করছে ।
(কেমন আছো গো ভুলে গেলা কীভাবে আমাকে ?)আমি রিপ্লাই দিলাম
-“কে আপনি?”
-“চিনলে না”
-“মানে?”
-“ইনবক্সে দেখো বলছি”
-“আমি ইনবক্সে বেশি যাই না”
-“আসো ইম্পরটেন্ট কথা”
.
কি ভেবে ইনবক্সে গেলাম ।
-বলুন কি বলবেন ?(আমি)
-হেহে(মেঘ বালক)
-আজব হাসির কি?(আমি)
-আল্লাহ রে এতো খাটাস কিনু লেখিকা ম্যাম(মেঘ বালক)
-না কি বলবেন বলেন(আমি)
-কিছু না আপনি সেই কিউট(মেঘ বালক)
-কই দেখলেন?(আমি)
-মনের চোখে(মেঘ বালক)
-হাহা ওকে বাই(আমি)
.
অফলাইন চলে আসলাম । রাত হয়েছিলো কিন্তু আমার খেতে ইচ্ছে করছিলো না । তাই যাই নাই ।
কিছু সময় পর শুভ ভাইয়া এলো ।
শুভ- কি রে মটু খাইতে আসলি না যে?
আমি- খেতে ইচ্ছে করছে না
শুভ- হুর খা তো
আমি- না ভাল্লাগছে না
শুভ- তুই খাবি তো ঘাড় খাবে
.
শুভ ভাইয়া আমাকে থুসায় থুসায় খাওয়ায় দিলো ।
শুভ- শুন কাল আমরা ফ্রেন্ডরা পিকনিকে যাবো তুই গেলে যাইস ।
আমি- আচ্ছা
.
.
পরের দিন আমার জ্বর আসলো । জ্বরের কারণে সকাল সকাল উঠতেও পারলাম না ।
.
কিছু সময় পর শুভ ভাইয়া এলো । কয়েকবার ডাক দিলো কিন্তু আমি না উঠায় হাত ধরে টানতে লাগলো । হাত টা গরম লাগলো । চেক করে দেখলো গায়ে জ্বর ।
শুভ- ওই আনহা জ্বর কবে হলো?
আমি- কই জ্বর ?
শুভ- হারামি কই জ্বর দ্বারা আম্মু কে বলি ।
.
সেদিন আর শুভ ভাইয়াও কোথাও গেলো না আমি গেলাম না বলে । ২ দিন পর জ্বর ভালো হলো । এ দু দিন শুভ ভাইয়া আমার খেয়াল রাখলো ভালোই ।
.
.
জ্বর ভালো হওয়ার পর….
শুভ- ওই আমার পা টিপ ।
আমি- কেনো ?
শুভ- তোর এতো সেবা করলাম তাই ।
আমি- আমি বলছিলাম ?
শুভ- যা ভাগ আর কখনো তোর যত্ন নিবো না এই শেষ ।
আমি- হিহি শুন না ভাবির লগে পরিচয় করাবি কবে ?
শুভ- সময় হোক । আমার ফ্রেন্ডের বোনের বিয়ে লাগছে কাল থেকে সব অনুষ্ঠান শুরু তোকেও যাইতে বলছে রেডি থাকবি ।
আমি- আমি গিয়ে কি করবো ?
শুভ- বসে থাকিস তবুও যাবি
আমি- কি পইড়া যামু ?
শুভ- শাড়ি
আমি- কিইইইইইই
শুভ- হ
আমি- আ‌মি শাড়ি পড়ি নাকি?
শুভ- পড়িস না তো কি পড়লে কি হবে?
আমি- না
শুভ- তুই পড়বি প্লিজজজজজজজ রে
আমি- ওকে
.
পরের দিন…..
হলুদের অনুষ্ঠান ছিলো । এক আমি শাড়ি পড়ি নাই বেশি । ২ মাথায় কাগজের ফুলের কি জানি মামনি পড়িয়ে দিছে ওটা পড়ে আমার আজব লাগছিলো ।
.
বের হলাম রেডি হয়ে….
শুভ- আনহু
আমি- কি ?
শুভ- তুই এতো সুন্দর হইলি কবে থেইকা?
আমি- জন্ম থেইকা হিহি
শুভ- আইসে পেত্নি
আমি- আমাকে আজব লাগছে তাই না ?
শুভ- ভালোই লাগছে খালি একটাই সমস্যা
আমি- কি ?
.
.
শুভ ভাইয়া আমার চুল গুলো খুলে দিলো ।
আমি- কি রে চুল খুললি কেন ?
শুভ- এমনে ভালো লাগছে
আমি- হুর চল জ্বলদি তাইলে জ্বলদি ফিরবো
শুভ- যাইতে না যাইতেই ফিরার কথা । হায় আল্লাহ
আমি- শুন যাচ্ছি ঠিক আসার সময় কিটক্যাট দিবি কিন্তু
শুভ- হারামি ব্লাকমেইল
আমি- হ
.
বাইকে করেই যাচ্ছিলাম । অনুষ্ঠানে ঢুকতেই কিছু মানুষ বললো “দেখ কাপল টাকে মানাইছে তাই না”
আমি- ভাইয়া
শুভ- বল
আমি- দেখ আমাদের কাপল ভাবছে
শুভ- হাহা আমরা তো কাপলই
আমি- মজা ছাড়
শুভ- বাদ দে মানুষ কে ভাবতে দে
আমি- আচ্ছা ।
.
.
অনুষ্ঠান শুরু হলো হলুদ মাখামাখি হচ্ছিলো । শুভ ভাইয়া আর তার বন্ধুরা সবাই হলুদ মেখে ভুত হয়ে গেলো । শুভ ভাইয়া আমার কাছে আসতেই…..
আমি- হ শুভ ভাইয়া তুমি তো ভুত হয়ে গেছো । বিয়েটা করে ফেলো তুমিও
শুভ- খুব হাসি পাচ্ছে তাই না দ্বারা রে শয়তান ।
.
.
শুভ ভাইয়া হলুদ হাতে আমার দিকে আগাতে লাগলো ।
আমি- ওই বেশি হবে দিস না এসব
শুভ- আমি তো দিবোই
আমি- ওই না
.
আমি‌ এক পা করে পিছুতে লাগলাম আর শুভ ভাইয়া আমার দিকে এক পা করে এগুতে লাগলো । শেষ পর্যন্ত আমার মুখে হলুদ মাখিয়েই দিলো ।
আমি- কি করলি এইটা ?
শুভ- এখন তুই ও ভুত
আমি- শয়তান
.
বলেই আমি শুভ ভাইয়াকে আরো হলুদ মাখিয়ে দিলাম ।
.
শুভ- তবে রে
.
এভাবে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ হলো আর আমরা বাড়ি ফিরলাম ।
.
.
চলবে……..

ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_১

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_১
Written by Avantika Anh
শুভ : শুন আমি তোকে বিয়ে করবো ।
আমি : আমি তোকে বিয়েই করবো না ।
শুভ : আমি তোকেই আমার বউ বানায় আমার পা টিপাবো তোকে দিয়ে ।
আমি : আমি বিয়ে করবো না
শুভ : করবি না ?
আমি : না
.
শুভ আমার হাতে কামড় বসিয়ে দিলো আর আমি কাঁদতে কাঁদতে চলে আসলাম বাইরের ঘরে ।
.
আমি : খালামনিইইইই
খালা : কি ?
আমি : শুভ ভাইয়া আমাকে কামড়াইছে ।
খালা : কেনো রে শুভ? (শুভ এর কান ধরে)
আমি : আমি বলছি আমি ওকে বিয়ে করবো না তাই ।
.
আমার কথা শুনে সবাই হো হো করে হাসা শুরু করে দিলো ।
খালা : কি রে এতো টুকু বয়সে বিয়ের প্লান । আগে বড় হ
শুভ : কিন্তু আমি আনহা কেই বিয়ে করবো
আমি : আমি করবো না
.
বলে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলাম । এই কথা টি হয়েছিলো ১৫ বছর আগে । আমার বয়স ছিলো ৫ বছর আর শুভ ভাইয়ার ৮ বছর ।
.
সেই সময় টা হয়তো মজা ভেবেই সবাই উড়িয়ে দিয়েছিলো নাকি সত্যি জানা ছিলো না । সেই বছর রোড এক্সিডেন্টে আমার মা মারা যায় । বছর দুই এক পর যা হবার সৎ মা আসে । খারাপ ব্যবহার করে নি কিন্তু ওতো ভালো ব্যবহারও তার কাছে পাই নি । আম্মুরা দুই বোন ছিলো । তারপর খালু হয়ে যায় আব্বুর মতো আর খালামনি আম্মু । তাদের ভালোবাসায় কমতি পেতাম না । কিন্তু আব্বুর প্রতি এক ঘৃণা জন্ম নিলো । খুব বেশি একটা কথা হতো না ।
.
আমি আজ মামনির (খালা) বাড়ি গেলাম ।
.
আমি : আমি এসে গেছি ।
মামনি : বস বস
আমি : খালু কই?
মামনি : তোর জন্য দই আনতে গেছে ।
আমি : কি দরকার ?
মামনি : চুপ থাক তো । পড়া কেমন হচ্ছে ?
আমি : ভালোই বাট একটু প্রব্লেম হচ্ছে প্রাইভেট পড়বো মে বি ।
মামনি : শুভ আছে না ও ই পড়াবে ।
আমি : কিন্তু‌
মামনি : কোনো কিন্তু না রাতে আমি ওকে বলে দিবো ।
পরের দিন….
ঘুমাচ্ছিলাম । আমার উপর পানি ফেললো ।
চোখ খুলে দেখি শুভ ভাইয়া ।
আমি : শয়তান , ইঁদুর , বিলাই এটা কি করলি?
শুভ : আর কতো ঘুমাবি মটু হচ্ছিস তো ।
আমি : বললেই হলো
শুভ : হ এতো মোটা হইলে তো তোর বর তোরে তুলতেই পারবে না
আমি : তুই নিজের বউ এর কথা ভাব ভাগ এখান থেকে ।
শুভ : উঠে পড় আজ থেকে আমার কাছে পড়বি । পড়া না পারলে পিডানি খাবি ।
আমি : পিটা খালি তোরে আমি ছাড়ুম না
শুভ : ওলে ওলে যা রেডি হ
আমি : রেডি হয়ে কই যাবো ?
শুভ : বিয়ে করতে
আমি : কি
শুভ : সকাল সকাল মানুষ কই যায় ? কলেজ , স্কুল , ভার্সিটি বা অফিস ।
আমি : আমার কলেজ তো অফ আছে ।
শুভ : আমার ভার্সিটি তো খোলা । চল ঘুরতে যাবি ।
আমি : তোর সাথে যাবোই না রাক্ষস
শুভ : যাবি তুই তোর ঘাড় যাবে । এখনি রেডি হ নইলে কাতুকুতু
আমি : না
শুভ : দাড়া রে ।
আমি : না
.
বইলা দৌড় । শুভ ভাইয়ার ভরসা নাই কখন যে কি কইরা ফেলে ।
.
রেডি হয়ে…
আমি আসতে আসতে নামতেছি । পিছন থেইকা
শুভ : বাছাধন আমার হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাইতে পারবে না ।
.
.
হঠাৎ পিছন থেকে এমন কথা শুইনা আমি পড়ে যেতে ধরলাম । কিন্তু কে জানি হাত টা ধরে ফেললো ।
.
শুভ ভাইয়া হাত ধরেছিলো । টেনে তুললো ।
শুভ : বাহ আজকাল তো পড়তে পড়তে চলিস
আমি : তোর জন্য তো
শুভ : মটু হচ্ছিস যে তাই
আমি : হুহ হই নি
শুভ : হচ্ছিস । খাওয়া কমা ।
আমি : মামনি দেখো তো আমাকে মটু বলছে
মামনি : ওই শুভ মার খাবি
শুভ : না আমি ভার্সিটি যাবো আনহা কে নিয়ে
মামনি : হুম যা ঘুরিয়ে আন ।
শুভ : হুম ।
.
কোনো উপায় নাই যেতেই হবে । খাবার টেবিলে ।
শুভ : বসে আছিস কাজ করিস না কেন ? যা আমার জন্য পানি আন ।
আমি : তোকে আমি দেখে নিবো । ( আস্তে বললাম কেউ শুনলো না )
.

পানি আনলাম কিন্তু লবণ দিয়ে ।
.
শুভ পানি খেয়ে কাশি দিতে লাগলো
মামনি : কি হইলো
শুভ : না কিছু না ( একটু লুক দিয়া আমার দিকে তাকাইলো । কারণ সে জানে এটা আমার ছাড়া আর কারো কাজ না )
মামনি : খা
.
খাওয়া শেষে আমি আর শুভ ভাইয়া বের হলাম ।
শুভ : চল বাইকে যাই ।
আমি : না অটো নে
শুভ : আরে ন্যাকামি করিস কেন ? তোর বফ দেখবে না ।
আমি : বফ নাই আমার
শুভ : জানি তো (আস্তে )
আমি : কি
শুভ : চুপচাপ চল
আমি : হুহ
.
চুপচাপ বসলাম । একটু হলেও ওরে আমি ভয় পাই তাই বসলাম ।
.
ভার্সিটি তে….
সবাই এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো আমি এলিয়েন । কিছু মানুষ তো আমাদের কাপল ভাবতেছে ।
.
কিছু মানুষ আসলো ।
একজন : কি রে ভাবি নাকি ?
শুভ : আরে না খালাতো বোন
একজন : তো ভাবি হতে কতক্ষণ ?
.
আমি রেগে শুভ ভাইয়ার দিকে তাকালাম । সে বুঝতে পেরে ।
শুভ : ওই মজা করিস না ডাইনি টা রেগে যাবে ।
এক আপু : আরে রাগবে কেনো ? আপি তুমি মাইন্ড করো না এরা এমনি ফাজিল ।
আমি : না ব্যাপার না ।
শুভ : দোস্ত চল আজ নদীর পাড়ে যাই ।
একজন : কিন্তু ক্লাস ?
শুভ : আরে ছাড় তো একদিন না করলে কিছুই হবে না ।‌ আনহাকে নিয়ে আজ প্রথম ভার্সিটি আসলাম । ও তো আসতেই চায় না । না ঘুরিয়ে আমি ছাড়বো না ।
সবাই : আচ্ছা চল ।
.
সেখানে সবাই গল্পে ব্যস্ত ছিলো । আমার একটু একা একা মনে হলো । পাশে একটু দূরে একটি ফুল গাছ দেখতে পেলাম । ভাবলাম নিয়ে আসি এরা গল্প করুক । যেই ভাবা সেই কাজ ।
.
আমি যেয়ে ফুল পাড়ানোর চেষ্টা করলাম । কিন্তু আমার হাতের নাগালের একটু দূরে হওয়ায় পারছিলাম না । হঠাৎ পড়ে যেতে ধরলাম কিন্তু কে জানি ধরে ফেললো ।
.
শুভ : না বলে এলি কেনো ? এখনি পড়লে কি হতো তোর । এতো কেয়ারলেস কেনো তুই ।
আমি : সরি
শুভ : কি সরি ফুল ছিঁড়তেও তো পারিস না পিচ্চি মেয়ে ।
.
শুভ ভাইয়া ফুল টা ছিড়ে দিলো আমাকে ।
আমি ফুল পেয়ে হাসি দিয়ে….
আমি : থেংকু রে
শুভ : পিচ্চি মেয়ে
আমি : না আমি পিচ্চি না
শুভ : তা কি বুড়ি ?
আমি : না আমি বুড়িও না
শুভ : আগে সিওর হ তুই কি ?
আমি : হুহ
.
.
হঠাৎ পিছন থেকে শুভ ভাইয়ার এক ফ্রেন্ড এলো ।
সে : কি রে আমাদের ছেড়ে এখানে কি করো তোমরা ?
শুভ : ফুল ছিঁড়ি
সে : তাই নাকি
শুভ : হুম চল তো
সে : কথা ঘুরানো হচ্ছে
শুভ : মার খাবি ?
সে : না
.
আমরা সেদিন ঘুরে বাড়ি ফিরছিলাম ।
আমি : বাইক থামা
.
বাইক থামিয়ে…..
.
শুভ : কি হলো ?
আমি : আইসক্রিম কিনে দে না
শুভ :‌ কুত্তি আইসক্রিমের জন্য বাইক থামাইলি
আমি : হুম দে না
শুভ : যা ভাগ দিবো না
আমি : দে না
শুভ : না
আমি : আচ্ছা
.
মন খারাপ করে চুপ হয়ে গেলাম । কিন্তু শুভ ভাইয়া গিয়ে আইসক্রিম আনলো ।
শুভ : যা নে তুই ও কি মনে রাখবি কোন দয়ালু আমি
আমি : থেংকু হিহি
শুভ : ওই দুইটায় কেন মুখ দিলি
আমি : ও দুইটা আমার না ?
শুভ : হালি আমি খাবো না ?
আমি : ও নে এটা খা
শুভ : মুখ লাগায় কইতাছিস এটা খা
আমি : হিহি তাইলে আমিই খাইলাম দুইটাই ।
শুভ : না দে আমি খাবো
আমি : এমা তুই আমার এটো খাইলি ।
শুভ : ব্যাপার না
.
চলবে……..

টেম্পরারি_বিয়ে _৯_এবং_শেষ_পর্ব

টেম্পরারি_বিয়ে
_৯_এবং_শেষ_পর্ব
Written by Avantika Anh
পরেরদিন আবির উঠে দেখে আহান পাশে নেই । আনহা কেও দেখছে না ।
আবির : আনহা ( ডাক দিলাম )
আমি : বলুন
আবির : ও তুমি আছো ।
আমি : কি দরকার ?
আবির : ভিডিও কল
আমি : মানে ?
আবির : আরে মা কে দেখাবো তার নাতি কে ।
আমি : ভালো ।
.
.
আবির ভিডিও কল দিলো আরোহি কে
.
আরোহি : হুম ভাইয়া বল
আবির : তোর ভাগিনা হইছে রে
আরোহি : সত্যি ?
আবির : হুম
আরোহি : কই ও ? নাম কি ?
আবির : আহান । এই দেখ ( আহান কে দেখিয়ে )
আরোহি : ভাইয়া কতো কিউট । একদম ভাবির মতো । ভাবি কই ?
আবির : আছে কিন্তু এখনো রাজি হয় নি ।
.
ওই ভাবির মতো মানে ? আমার মতো হয় নি ?
আরোহি : না ফুল ভাবির মতো । ভাবি কে ফোন দে ।
আবির : নে
.
.
.
আমি : হুম আরোহি বলো ।
আরোহি : ভাবি ভাইয়া অনুতপ্ত । ওকে ক্ষমা করে দাও ।
আমি : কিছু জিনিসের ক্ষমা হয় না আরোহি ।
আরোহি : হুম কিন্তু
আমি : কোনো কিন্তু না ।
.
ফোন টা আবির কে দিয়ে দিলাম ।
.
আবির : এখন কি করবো বল ?
আরোহি : আইডিয়া আছে ।
আবির : কি
আরোহি : ……………. ( আইডিয়া বললো )
.
পরেরদিন আমি অফিসে গেলাম । আবির ফোন করলো ।
.
আমি : হুম বলুন ।
আবির : আনহা আম্মু অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ছে । ( মিথ্যা কথা । আরোহির প্লান )
আমি : কিইইই ? কিভাবে ? কই সে ? এখন কেমন আছে ?
আবির : ওতো ভালো না । আমি বাংলাদেশে ফিরছি । সে ইচ্ছা প্রকাশ করছে তোমাকে আর আহান কে দেখার । তুমি আসলে ভালো হয় ।
আমি : ওকে আমি এখনি ব্যবস্থা করছি ইমার্জেন্সি ভিসা আর টিকিট এর ।
আবির : হুম ।
.
.
কিছুদিন পর….
প্লেনে…….
আবির : বাহ এখন আর ভয় পাও না দেখছি ।
আমি : আগে অনেক কিছুই ভয় পাই না
আবির : বেশ ভালো জানু ।
আমি : কে জানু ?
আবির : তুমি
আমি : কেনো নিহা আছে না ?
আবির : সরি তো
আমি : নো মাফ
আবির : হুররর
আমি : হুহ
.
.
বাড়িতে…………..
আবিরের আম্মু নাটক করছিলো অসুস্থতার । সেই সথে আমার পরিবারও এসেছিলো । সবাই আমাকে দেখে খুব খুশি । আহান কেও কোলে নিচ্ছে সবাই ।
.
মা : আনহা মা (আবিরের মা)
আমি : জ্বী মা বলুন
মা : আমি তো মরেই যাবো ।
আমি : এভাবে বলবেন না
মা : আমার শেষ ইচ্ছা টা রাখ তোরা একসাথে থাক । আহানেরও তো পিতার প্রয়োজন ।
আমি : কিন্তু
মা : আমার শেষ ইচ্ছা এটা
আমি : আচ্ছা যা আপনার ইচ্ছা তাই হবে ।
মা : থেংকস মা
আমি : থেংক ইউ এর কিছু নেই ।
.
সেদিন সবাই খুশি হলো । রাতে রুমে ।
.
আবির এসে জড়িয়ে ধরলো । আমি ছাড়িয়ে নিলাম ।
.
আবির : আমি জানি তো এতো সহজে মানার মেয়ে তুমি নও । শুধু মায়ের জন্য রাজি হইছো ।
আমি : যখন জানেন ই তো জড়িয়ে ধরলেন কেনো ?
আবির : আমার বউ আমার ইচ্ছা
আমি : বড় আইছে নিহার কাছে যান ।
আবির : বউ থাকতে অন্যের কাছে যাবো কেন ?
আমি : আগেও গেছেন ।
আবির : সরি
আমি : হুহ । আমি ঘুমাবো বাই ।
.
.
.
রাতে ঘুম ভাঙ্গে গেলো । দেখলাম আবির পমাকে জড়িয়ে ধরে আছে । আমি ছাড়িয়ে নিলাম ।
(ভাবছি আহান কে দোলনায় রাখলো কে ? নিশ্চয়ই আবির )
.
সকালে….
আবির : বউ নাস্তা কি ?
আমি : আলুর পরোটা ( মা ছিলো তাই জবাব দিলাম )
আবির : বাহ ভালোই ।
.
নাস্তার টেবিলে সবাই খাচ্ছে আবির খাচ্ছে না ।
মা : কি রে খাচ্ছিস না কেনো ?
আবির : হাতে ব্যাথা পাইছি ।
আমি : (ভাবছি কখন পাইলো ব্যাথা কে জানি ?)
মা : ও‌ এই ব্যাপার । বৌমা খাওয়ায় দিবে তোকে বউমা ।
আমি : আ..আমি
মা : হুম
.
কি আর করার খাইয়েই দিলাম ।
.
রুমে….
আবির : তোমার হাতে খাইতে সেই মজা ।
আমি : হুহ ভাগেন
আবির : না বউ আমি ভাগবো না ।
আমি : হাত কেমনে কাটছে ?
আবির : কখন কাটছে ?
আমি : মানে ?
আবির : কাটে নি তো
আমি : তাহলে ব্যান্ডেজ কেনো ?
আবির : তোমার হাতে খাওয়ার জন্য
আমি : আপনি খচ্চর হয়ে গেছেন
আবির : তোমার কাছেই শিখছি
আমি : দুররররর ।
.
রাতে আবির অনেক গুলো কিটক্যাট আনে আমাকে দিলো ।
আমি : কিটক্যাট থেংকু ।
আবির : ওয়েলকাম ।
আমি : না না না নিবো না আপনার কোনো জিনিস নিবো না
আবির : সত্যি
আমি : জ্বী ।
আবির : ওকে আমি ই খাই ।
.
ইয়াম কি মজা ।
.
আমি কেড়ে নিলাম সব ।
আবির : কি হলো সব কেড়ে নিলে কেনো ?
আমি : এগুলো আমার আমি দিবো না কাউকে ।
আবির : তুমি বলে নিবা না ।
আমি : না আমি নিবো ।
আবির : হাহা নাও
আমি : হুম ।
.
.
দেখতে দেখতে আহান এর জন্মদিন আসলো । প্রথম জন্মদিন বলে সবাই ধুমধাম করেই আয়োজন করলো ।
.
আহান এখন গুটি গুটি পায়ে হাটতে পারে । একটু আধতু ডাকতেও পারে মা বলে , বাবা বলে ।
.
জন্মদিনের জন্য আমি রেডি হচ্ছি । আবির আসলো ।
আবির : বাহ বউ তোমাকে তো খুব কিউট লাগছে ইচ্ছে করছে এখনি বিয়ে করি ।
আমি : হুহ
আবির : বউ নিহা আসছে
আমি : কেনো ওই শাকচুন্নি কেনো ? (মুখ ফসকে বের হয়ে গেছে)
আবির : এ্যা শাকচুন্নি হাহা
আমি : সরি ভুলে বলছি
আবির : জানি তো ওকে শাকচুন্নিই ভাবো ।
.
সেদিন কার্ড দিচ্ছিলাম । ও দেখে ফেলছিলো । সামনে ছিলো তাই দাওয়াত টা দিছি ।
.
ফাংশনে…….
.
.
আমি আর আবির দাঁড়িয়ে ছিলাম । আহান আমার কোলে ছিলো । এমন সময় নিহা আসলো ।
নিহা : বাহ কিউট হইছে তো তোমাদের বেবি টা ।
আমি : থেংক ইউ ।
নিহা : আজ আমার আর আবিরের বিয়ে হলে আমাদেরও এমন একটা বেবি হতো হাহা ।
আমি : হুম
.
.
আমি আহান কে নিয়ে অন্য দিকে গেলাম । নিহার কথা টা ভালো লাগে নি ।
.
আবির বুঝলো আমার খারাপ লাগছে । আমি যাওয়ার পর ।
.
আবির : একেই বলে লাইফ তাই না নিহা ।
নিহা : কেনো ?
আবির : হাহা আমি অনেক লাকি আনহা কে পেয়ে ।
নিহা : হুম
আবির : তুমি তো পেয়েও ছেড়ে দিছিলা । ওই মেয়েটা পাশে ছিলো । আবার তোমার জন্যই আমি ওকে হারাতে বসেছিলাম । অবশ্য এতে পমারো দোষ ছিলো । বাদ দেও ।
নিহা : কি বুঝাতে চাও ?
আবির : কিছু মানুষ আজকাল নিজে না পেলে যে পায় তাকে খোঁচা মারে তাই না ।
নিহা : আবির তুমি আমাকে এভাবে বলছো কেনো ?
আবির : তুমি আনহা কে কেনো ওভাবে বললা ?
নিহা : না মানে
আবির : বাদ দাও আমার ছেলের জন্মদিনে আসছো খাও । ওকে দোয়া দাওআর চলে যাও । আশা করি আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে না ।
.
নিহা আর কিছু বললো না । আবির জানে তার আর কিছু বলার নাই । আবিরও চলে আসলো ।
.
.
আমি দেখলাম আবির নিহার সাথে হেসে কথা বলছিলো । তাই রেগে গেছি ।
.
অনুষ্ঠানের মাঝে আনহার হাত ধরে টেনে নিলাম এক রুমে ।
.
আমি : আমাকে টানলেন কেনো ?
আবির : বাহ্ রে বউ এর সাথে একটু রোমান্স করবো না ।
আমি : নিহা আছে না আপনার যান হেসে হেসে কথা বলুন ।
আবির : বাহ কিছু জ্বলতেছে নাকি ?
আমি : না কিছু জ্বলে না আমি যাবো ছাড়ুন আমাকে
আবির : ও তাহলে আমি নিহার কাছে যাই ।
আমি : পা ভাঙ্গে দিবো
আবির : বাবা রে গুন্ডি নাকি ।
আমি : আপনি পমার বর অন্য মেয়ের কাছে গেলে পা ভাঙ্গে দিবো ।
আবির : এই কথা টা সেদিন বলো নি কেনো ?
আমি : কবে ?
আবির : লন্ডনে
আমি : আপনিই তো নিহা কে হ্যা বলছিলেন ।
আবির : সরি তো
.
.
আবির হাটু গেড়ে বসলো….
আবির : আনহা জানি আমি অনেক কষ্ট দিছি । মাফ করবা কি না জানি না । কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি । বাসবো । তুমি না বাসলেও আমাকে ভালোবাসার অধিকার দিও ।
আমি : উঠুন
আবির : কেনো
আমি : মাফ করবো আপনাকে কিন্তু
আবির : কি ?
আমি : বিয়ে করতে হবে ।
আবির : এমা আবার আরেকটা বিয়ে করবো দুই বউ কেমনে সামলাবো ।
আমি : থাক লাগবে না নো মাফ বাই ।
আবির : আরে আরে রাগো কেনো ?
আমি : বিয়ে করুন এবং আজকে এখানে সবার সামনে ।
আবির : ওয়েট এবং ওয়াচ
আমি : হিহি
.
.
সেদিন বিয়ে করছি সেই অনুষ্ঠানে পরিচিত কাজি কে ডেকে ।
.
সবাই খুশিই ছিলো ।
.
রাতে….
আবির এলো….
আবির : বউ
আমি : হুমমম বলো বর
আবির : হাহা রাগ ভাংগায় ছাড়ছি
আমি : হুম
আবির : আহান কই ?
আমি : আরোহির কাছে
আবির : বাহ তাইলে ভালোই হলো
আমি : না আমি ওকে মিস করতেছি
আবির : হেহে
আমি : কি
আবির : এই নাও
আমি : ওয়াও কিটক্যাট
আবির : তুমি না এখনো বাচ্চাই আছো ।
আমি : আমি বড় হলাম কবে?
আবির : হাহা আই লাভ ইউ
আমি : আই লাভ ইউ টু আহিয়ার আব্বু
আবির : এমা আহিয়া কে ?
আমি : জুনিয়ার আহান
আবির : হা হা কবে আসবে ?
আমি : ৫ বছর পর
আবির : ভাবতেছি ১১ টা বাচ্চা নিবো
আমি : হুররর মাথা নষ্ট
আবির : তাই নাকি ।
.
তা আজ রাত জাগবা না ।
আমি : কেনো ?
আবির : এর আগের বার কি করছিলা ?
আমি : হেহে আমি ঘুমাবো
আবির : ওমা তাই নাকি আগে একটু জড়িয়ে ধরি তোমাকে
আমি : বুড়া মানুষের ধং জাগছে
আবির : ওই আমি বুড়া
আমি : হুম বুড়া তো
আবির : তাই নাকি তাহলে বুড়ার বুড়ি তুমি
আমি : এ্যা আমি পিচ্চি
আবির : হাহা
আমি : হুম
.
.
.
এরপর শুরু হয় এক নতুন ভালোবাসার গল্প
#কাল্পনিক_গল্প
.
…….সমাপ্ত…….
.
(পাশে থাকুন নতুন গল্পের জন্য)

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৮

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৮
Written by Avantika Anh
মিটিং শেষে….
আমি চলে আসতেছিলাম ।‌ কিন্তু আবির পথ আটকালো ।
আবির : আনহা
আমি : জ্বী স্যার বলুন
আবির : আনহা আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ
আমি : আপনাকে কি আমি চিনি ? আর আমি কেনো ক্ষমা করবো ?
আবির : আমাকে প্লিজ ক্ষমা করো । আমার সন্তান কই ?
আমি : কোন সন্তান ওই যে যাকে আপনি নাপাক বলছিলেন ।
আবির : প্লিজ ইয়ার সরি আর কোনোদিন হবে না ।
আমি : আপনার নিহা কই ? ওকে বলুন
আবির : নিহা কেউ না । আমি ওকে রিজেক্ট মারছি । বিয়ে করি নি প্লিজ ।
আমি : listen we are divorced now . I don’t wanna talk to you .
Abir : please damn listen to me
Ami : I don’t bye .
.
আমি চলে আসলাম ।
.
আবির কিছু সময় নিশ্চুপ বসে থাকলো । তারপর নিজেকেই বললো ।
আবির : না দোষ আমি করেছি । আমি ওকে ফিরিয়ে আনবোই । দেখি এখন ওর খোঁজ নিবো ।
.
এই কম্পানিতে খোঁজ নেই ।
.
Abir : hey there . I need a little help
someone : yahh sir tell me
Abir : can you give me the address of Anha ?
Someone : yahh but why did you need it .
Abir : I need to discuss with her about this project .
Someone : okay sir her address is N/W road 102 mumusi road 4 the building 10th floor .
Abir : thanks for your help .
Someone : Welcome sir .
.
আবির সেই বিল্ডিং এ গেলো । সেখানে বাসা ভাড়া নিলো সেও ।
.
আমি বসে ছিলাম আহান এর সাথে । আহান আমার আর আবিরের ছেলে ।
হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ ।
.
আমি দরজা খুলতেই…..
আমি : আপনি
আবির : হুম জানু ।
আমি : মানে
আবির : আমার সন্তান কই ?
আমি : নাই এখানে কেউ ।
.
আবির শুনলো না জোড় করে আসলো । গিয়েই আহান কে কোলে নিলো ।
আবির : (দেখলো সেই বাচ্চাটাই । যাকে অনেক কিউট লেগেছিলো । ভাবলো তার মানে এটাই আমার ছেলে )
আমার সন্তান ।
আমি : ( কেড়ে নিলাম ) সেই অধিকার আপনার নেই ।
আবির : প্লিজ ওকে দেও ।
আমি : না
আবির : একটু প্লিজ
আমি : ( আবিরের মুখ দেখে না করতে পারলাম না ) যাস্ট কিছু সময়ের জন্য
আবির : ওকে ।
.
আহান আবিরের কোলে গিয়ে হাসা শুরু করলো । হয়তো বাবার কোল বলে ।
.
আবির : নাম কি রেখেছো ?
আমি : আহান
আবির : ফিরে চলো আনহা ।
আমি : কোনোদিন না দেন ওকে । আপনি যান প্লিজ ।
.
আবির : আমি তো যাবো না ।
আমি : মানে ?
আবির : আমার বউ , আমার বাচ্চা তাদের ছাড়া কেনো যাবো ?
আমি : না না না কেউ নাই আপনার যান ।
আবির : ডিনার রেডি তাই না খেয়েই নিই । আমার খুব ক্ষুধা লাগছে ।
.
আবির নিজেই গিয়ে খাবার নিয়ে খাওয়া শুরু করলো ।
.
.
এদিক আমি ভাবছি ( এ্যা মি. আবির কি পাগল হয়ে গেছে ? হোক গা আমার কি ? )
.
আবির : বাহ আনহা তোমার রান্না তো এখনো আগের মতোই ।
আমি : ভালো খেয়ে বিদায় হন ।
আবির : বিদায় হবো না গো
আমি : হুররর
আবির : আনহা কিটক্যাট
আমি : কই কই ?
আবির : এমা তুমি এখনো কিটক্যাট খাও ।
আমি : আপনার কি ? আমি খাবো আমার ব্যাপার
আবির : হাহা
আমি : পাগল হইলেন ? হাসছেন কেনো ?
আবির : হুম বাবু তোমার জন্য
আমি : কিইইইই ?
আবির : আচ্ছা আমি‌ ফ্রেশ হয়ে নেই । বেডরুম কোনদিক এদিক ।
আমি : বলবো না
আবির : ওকে আমি খুঁজে নিবো ।
.
.
আমি আহান কে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে সব গুছিয়ে রাখতে কিচেনে গেলাম । এসে দেখি আবির আহানের পাশে শুয়ে পড়ছে ।
.
আমি : হইছে বাপ ব্যাটা একসাথে । হুররররর । আমি যাবোই না এই রাক্ষসের সাথে ।
.
আবির : যেতেই হবে
আমি : আপনি জেগে আছেন ।
আবির : না ঘুমাচ্ছি ।
আমি : তা কথা কে বলে ?
আবির : ভুত
আমি : হুহ ।
.
.
আমি গিয়ে অন্য রুমে ঘুমালাম । রাতে আহানের কান্নায় ঘুম ভাঙ্গে গেলো । জ্বলদি গিয়ে দেখি আবির থামানোর চেষ্টা করতেছে ।
.
আমি : দেন আইছে । এতোদিন খোঁজ নাই । আমার পোলা এইডা ।
আবির : আমারো পোলা । আই মিন ছেলে
আমি : হিহি পারে না আর কইতে আসে ।
আবির : চুপ করাও ।
আমি : আপনি আমার খোঁজ পাইলেন কেমনে ?
আবির : জানো না
“আগার কিছি চিজ কো দিল সে চাহো তো পুরি কায়নাত উছে তুমছে মিলানেকি সাজিস কারেগি”
আমি : আইছে
আবির : লিগালি আমি এখনো তোমার হাজবেন্ড ।
আমি : মানে আমি যে ডিভর্স লেটার পাঠাইছিলাম ।
আবির : ওগুলো কোর্টে জমাই দেই নি
আমি : আমিই থাকবো না
আবির : আমিও পিছে পিছে যাবো ।
আমি : দুর হন
আবির : তুমিও চলো ।
আমি : যাবোই না
আবির : হুহ যাবা তো তুমি ।
.
.
পরেরদিন…….
.
আমি অফিসের জন্য রেডি হচ্ছি ।
.
আবির : ( ভাবছে এই রে কাপড় তো আমার ফ্লাটে । আমি বের হলেই তো আর ঢুকতে দিবে না । হুর কেনো দিবে না দিতেই হবে )
.
আমি আহান কে কোলে নিয়ে বাইরে বের হচ্ছি ।
আবির : কই যাও ওকে নিয়া?
আমি : ও লাইনা এর কাছে থাকে কিছু সময় ।
আবির : ওই বউ যেও না
আমি : হুহ আমি গেলাম ।
আবির : তোমার তো আজ যাওয়া হবে না
আমি : আমি তো যাবো ।
আবির : তোমাকে আজ ফিরতেই হবে জ্বলদি ।
আমি : না ।
.
চলে আসলাম আর কথা না বাড়িয়ে…..
.
.
অফিসে থাকাকালীন
.
লাইনা ফোন দিলো ।
Laina : Anha . come here soon
Ami : What happened ?
Laina : A man came to me some time before . he snatched him . please come
Ami : I am coming

.
.
আমি জ্বলদি আসতেছি ।
.
.
আমি আর লাইনা সেম বিল্ডিং এ থাকি । আমি যেতেই আবিরের কোলে আহান কে দেখলাম । বুঝতে বাকী রইলো না এটা আবিরের কাজ ।
.
Laina : that man .
he stolen ahan
Ami : What the heck abir .
আপনি এরকম করলেন কেন ?
আবির : আমি বলছিলাম আজ তোমাকে ফিরতেই হবে ।
আমি : আপনি একটা
আবির : রাক্ষস জানি তো ।
.
দেখো আহানের জন্য কতো কি কিনছি ?
আমি : আহানের এসবের প্রয়োজন নেই ।
Laima : do you know him ?
Ami : actually…
Abir : I am her husband .
Laina : but anha has divorced her husband
Abir : divorce has not happened yet
Ami : stop it Abir . Just give me back my child
Abir : He is my child also .
Ami : No he is just mine . Off your drama .

.
আমি আহান কে নিয়ে চলে আসলাম ।
.
.
.
কিছু সময় পর কলিংবেল বাজলো । আমি জানি এটা আবির তাই আর দরজা খুললাম না ।
.
অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলো ।
.
আমি : Hello
আবির : আনহা দরজা খুলো
আমি : না
আবির : যদি না খুলো আমি হাত কাটবো ।
আমি : কাটেন
.
.
কিছু সময় পর একটা এমএমএস আসলো । আবির সত্যি হাত কেটেছে ।
.
আমি জ্বলদি গিয়ে দরজা খুললাম ।
.
আমি : এটা কেনো করলেন
আবির : বলেছিলাম দরজা খুলতে ।
.
.
আমি তাড়াতাড়ি ওষুধ এনে লাগিয়ে দিচ্ছিলাম ।
.
.
আবির : ভালো তো বাসো আমাকে তাহলে ফিরে আসছো না কেনো ?
আমি : না আমি কাউকে ভালোবাসি না
আবির : মিথ্যে বলে কি লাভ ?
আমি : কিছু মিথ্যে বলছি না ।
.
আমার কাজ আছে আপনি থাকলে থাকুন নইলে নাই । আমি আহান কে ঘুম পাড়িয়ে দিবো এখন ।
.
আবির : আমি পাড়াবো ।
আমি : না
আবির : আবার হাত কাটবো ।
আমি : হুররর আচ্ছা নেন ।

.
.
দেখলাম আবির সত্যি পারলো । হাজার হোক বাবা তো । কিন্তু না আমি মানবো না যে করেই হোক আমাকে অন্য কোথাও শিফট হতে হবে‌।
.
.
চলবে……..

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৭

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৭
Written by Avantika Anh
.
বাসায়…….
আরোহি : ভাবি কি কি শপিং করলা ?
আমি : অনেক কিছু এখানে আছে ।
আরোহি : ওয়াও
আমি : হুম আমি ফ্রেশ হবো আচ্ছা
আরোহি : ভাবি
আমি : হুম বলো
আরোহি : কিছু হয়েছে নাকি ?
আমি : আরে না কিছু না ।
.
.
বলে চলে আসলাম……
.
আবির : আনহা
আমি : হুম
আবির : নিহা কে কি সবাই মানবে ?
আমি : আমি আছি এতো চিন্তা কই ?
আবির : থেংকু
আমি : জ্বী
.
ওইদিনের পর থেকে আমি মি. আবিরের সাথে যথেষ্ঠ দূরত্ব রাখা শুরু করি ।
.
.
১ মাস পর…
আবির : আনহা
আমি : জ্বী
আবির : তুমি কি হাসপাতাল গেছিলা ?
আমি : না তো ( কিছু টা ভয়ে )
আবির : ওহ
আমি : হুম
আবির : মনে হলো তোমাকে দেখেছিলাম ।
আমি : হাহা আজ কি সূর্য পশ্চিমে উঠছে নাকি ?
আবির : কেনো‌?
আমি : আমনাে দেখেন যে
আবির : আবার মজা
আমি : হেহে কই মজা ?
আবির : তুমি ভালো হবা না
আমি : খারাপ ছিলাম কবে ?
.
মি. আবির টিকটিকি
আবির : কি কই ?
.
(ঘুরে দেখে সত্যি । আমাকে জড়িয়ে ধরে ফেলে )
আমি : চলে গেছে
আবির ছেড়ে দিলো । সরি
আমি : হুম
.
আজকাল চুপচাপ ই থাকি ।
.
ছাদে বসে ছিলাম ।
.
আরোহি আসলো ছাদে….
আরোহি : ভাবি
আমি : হুম
আরোহি : তুমি প্রেগনেন্ট তাই না ।
আমি : ম.. মানে কি বলো এসব ।
আরোহি : মিথ্যে বলে লাভ নাই । তুমি যার কাছে চেক আপ করো । সে আমার বিএফ
আমি : হুম
আরোহি : এতো বড় গুড নিউজ লুকাচ্ছো কেনো ?
আমি : কিছু জিনিস না জানাই ভালো ।
আরোহি : অনেকদিন ধরে দেখছি বলো কি হয়েছে ?
আমি : কিছু না
আরোহি : এটাও মিথ্যা
আমি : কই‌ কিছু হলো ?
আরোহি : ভাইয়া কে কিছুদিন আগে নিহার সাথে দেখলাম ।
আমি : কোন নিহা?
আরোহি : জেনেও না জানার ভান করছো ।
আমি : না তো
আরোহি : নিহা কি ভাইয়ার লাইফে ফিরে আসতেছে ?
আমি : আমি পরে কথা বলছি
আরোহি : ভাবি তোমাকে আমার কসম বলতেই হবে আজ তোমাকে
আমি : এটা কি করলা ?
আরোহি : কসম দিলাম ।
আমি : নিহা আর আবির একে অপরকে ভালোবাসে । এটা টেম্পরারি বিয়ে……..

.
(সব বললাম)
আরোহি : না এটা আর মানা যাবে না । ভাইয়া এটা করতে পারে না ।
আমি : আরোহি তোমাকেও আমার কসম কাউকে বলবা না
আরোহি : কিন্তু
আমি : আমি আর ১ মাস পর চলে যাবো ।
আরোহি : কিন্তু কোথায় ?
আমি : সেটা জেনে কি করবে ?
আরোহি : প্লিজ আমাকে তো কসম দিয়েছো । এতোটুকু জানাও খালি ।
আমি : সিলেট ।
আরোহি : কেনো ?
আমি : আমার পার্ট টাইম জব হয়েছে । কোনো মতে চলে যাবে । আমি আমার স্টাডি কমপ্লিট করবো পাশাপাশি আমার এক বন্ধু হেল্প করছে ।
আরোহি : ভাবি যেও না প্লিজ
আমি : আমাকে যে যেতেই হবে ।
.
কিছু বললাম না আর ।
.
ওইদিনের পর থেকে আরোহি নিজেও আবিরের সাথে খুব একটা কথা বলতো না ।
.
আবির একদিন আরোহিকে জিজ্ঞেস করলো ।
আবির : কি রে তোর কি হইছে ?
আরোহি : তোর জেনে কি ?
আবির : সত্যি বল কি হইছে ?
আরোহি : না কিছু না
আবির : আচ্ছা
.
.
আমার যাওয়ার দিন চলে এলো ।
সেদিন সকালে…..
আবির : আনহা কই ?
.
আনহা…..
.
পাশে একটা চিঠি পেলো ।
.
“মি. আবির কেমন আছেন মি. রাক্ষস ?
হাহা । আমি চলে যাচ্ছি আজ নিশ্চয়ই হ্যাপি আপনি । আপদ বিদায় হলো । খোঁজ পাবেন না । নিহা কে নিয়ে খুশি হইয়েন । আপনার কাছ থেকে একটা জিনিস লুকালাম । কিন্তু কি তা কখনো জানাবো না । ওটা আপনার স্মৃতি । আপনার কাছে কিছু চাওয়া নেই আমার পরিবারের খেয়াল রাখিয়েন । ডিভর্স পেপারে সাইন করা আছে । আরও কোনো ফর্মালিটি থাকলে আরোহি কে বলিয়েন। আমি পূরণ করে দিবো
.
ইতি
কেউ না”
.
আবির এর চোখ দিয়ে কেনো জানি পানি বইতে লাগলো ।
.
আবির নিহা কে ফোন করে সব জানালো ।
নিহা : ভালোই হইছে এখন জ্বলদি আমাদের বিয়ে হবে ।
আবির : ও একা নিহা বুঝার চেষ্টা করো । ওর কেউ নাই ।
নিহা : তোমার জেনে কি হবে ?
বাবু আমরা আমাদের উপর এখন গুরুত্ব দেই প্লিজ ।
.
আবির : পরে কথা বলছি ।
নিহা : কিন্তু
.
আবির ফোনটা কেটে দিলো ।
.
আবির : আরোহি
আরোহি : কি হইছে টা কি ?
আবির : আনহা কই গেছে ?
আরোহি : জানি না
আবির : বল প্লিজ
আরোহি : তোর মতো পাষাণ কে কোনোদিন খোঁজ দিবো না আমি ।
আবির : আরোহি ( থাপ্পর দিলাম আরোহি কে )
আরোহি : মেরে লাভ নাই । তুই তো জানিস ই না তুই দুইজন কে হারালি ।
আবির : মানে ?
আরোহি : কিছু না ।
.
তারও ২ মাস পরে….
আবির আজকাল আনহা কে খুব মিস করে ।
.
নিজেই ওই ঘড়ি টা বাজায় । আর আনহার জন্য চকলেট কিনে রেখে দেয় ।
.
কোনো এক কাজে আবির কে সিলেট যেতে হয় । কিন্তু রোডে এক ব্যাক্তি এক্সিডেন্ট করে । তাকে আবির সাহায্য করতে হসপিতালে নিয়ে যায় । সেখানে আবির আনহার দেখা পায় । কিন্তু আবির আনহা কে একটা ছেলের সাথে দেখে যে আনহার হাত ধরে ছিলো আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিলো আনহা প্রেগনেন্ট । আবিরের সাথে নিহা ছিলো ।
.
নিহা : দেখছো ও বিয়েও করে ফেলছে । তাও আবার বাচ্চাও আছে । হাহা তুমি এই চরিত্রহীনা কে ভালো বলতা ।
আবির রেগে যায়….
আবির : ছি ছি ছি পরপুরুষের সাথে এতো কিছু
আমি : (কিছু বললাম না)
ছেলেটি : কি বলছেন এসব ?
আবির : গায়ে লাগে ?
হাহা শালি কতো বড় নির্লজ্জ । ডিভর্সের আগেই এতো কিছু কতোগুলো ছেলের সাথে শুঁয়েছিস ।
আমি : ( কিছু না বলে চলে আসলাম )
.
.
সেদিনের পর আমি বেশি বাইরে যেতাম না বেশি ।
.
আবির বাড়ি ফিরে….
আবির : আরোহি
আরোহি : কি
আবির : তোর ভাবি তো বাজে মেয়ে
আরোহি : কি বলতেছিস এসব ?
আবির : আজ সিলেটে দেখলাম । প্রেগনেন্ট তাও আবার একটা ছেলের সাথে ছি । কথা শুনায় দিছি । নির্লজ্জ টাকে ।
আরোহি : অফ ইট ভাইয়া । তুই কি করলি এটা ।
ভাবি একটুও বাজে না ।
আবির : এ্যা বললেই হলো ।
আরোহি : ভাবির পেটে তোর সন্তান ।
আবির : মানে
আরোহি : মানে ভাবি প্রেগনেন্ট ছিলো যাওয়ার আগেই ।
আবির : কিন্তু কীভাবে ? ( আবিরের মনে পড়লো সেদিনের ঘটনা )
আমি কি করে ফেললাম ?
আরোহি : ছি ভাইয়া ছি । মেয়েটা শুধু ওই বাচ্চা টার জন্য বেঁচে ছিলো । তুই এসব করে বাঁচার ইচ্ছাও মেরে ফেলছিস ।
আবির : (কিছু না বলে রুমে চলে গেলো)
.
আবির নিজেও আনহা কে ভালোবেসে ফেলছে । সে নিজেও বুঝছে । নিহার কথায় তার রাগ উঠে যায় আর সে কন্ট্রোল করতে না পেরে এতো কিছু বলে ফেলে ।
.
.
আবির কিছু সময় পর আবার আরোহির কাছে যায়….
.
.
আবির : আরোহি আমাকে ক্ষমা কর বোন । আমিও আনহা কে ভালোবেসে ফেলছি তাই এতোসব । আমার সন্তান আর আমার স্ত্রী কে আমি ফেরত চাই ।
আরোহি : হাহা কোনোদিন ফিরবে না ভাবি ।
আবির : মানে
আরোহি : জানি না ভাবি সিলেট ছেড়ে দিছে ফোনও লাগছে না । কই গেছে জানি না । তুই বেশি দেরি করে ফেললি ।
কাজ
আবির তবুও খুঁজতে গেলো সিলেট কিন্তু পেলো না ।
.
নিহা অনেকবার আবির কে ফোন করে কিন্তু আবির নিহার সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ।
.
১বছর পর…..
এই এক বছরে আবির নিজেকে অনেক ব্যস্ত করে ফেলেছে । কাজ , কাজ আর কাজ ।
.
এখনও খুঁজে যাচ্ছে সে আনহা কে । তার মনে হয় সে একদিন না একদিন তাকে পাবেই । সাথে তার সন্তান কেও ।
.
সে আনহার দেওয়া ঘড়ি টা এখনো যত্নে রেখে দিয়েছে ।
.
কাজের জন্য একটা কম্পানির সাথে ডিল ফাইনাল করতে আবির থাইল্যান্ড যায়।
.
.
একটা বেবি কে দেখে আবিরের কেনো জানি কোলে নিতে ইচ্ছে করে । বাচ্চাটার বয়স সম্ভবত ৭ মাস ।
.
কোলে নিয়ে তার মনে হয় তার বেবিটাও হয়তো এরকমই হবে ।
.
মেয়েটাকে বলে
Abir : Your baby is so cute .
Unknown girl : No it’s not my baby . it’s my friend’s baby .
Abir : no worry . Is this a boy ?
Unknown girl : Yahh
Abir : Really a cute one .
Unknown girl : Thank’s
.
আবির চলে আসলো ।
.
মিটিং এ…..
.
.
Anha : Hello gentlemen and ladies . I am from CWO company . Nice to meet you all.
আবির থ হয়ে যায় কারণ এ আর কেউ না আনহা । এদিকে আমিও একটু হকচকিয়ে যাই ।
.
চলবে…..
.
( আর একটুই বাকী গল্পের । এর পরের পার্টগুলোয় জানবেন আবির কীভাবে আনহার রাগ ভাঙ্গায় । সাথেই থাকুন )

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৬

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৬
Written by Avantika Anh
আবির গোসল শেষে এসে দেখে আনহা নাই ।
আবির : আনহা কই ?
আমি : মি. আবির আমি এখানে ।
আবির : কই ?
আমি : বেলকনি তে জ্বলদি আসেন আমার ভয় লাগছে ।
আবির : এ্যা পড়ে টড়ে যাচ্ছে নাকি ।
.
.‌
আবির গিয়ে দেখে আমি বেলকনিতে দাড়ায় আছি শকড্ হয়ে
আবির : ভয়ের কি ?
আমি : আমার উচু জায়গায় কোণায় যেতে ভয় লাগে । আম্মু আমি এতো উপরে ।
আবির : হাহা এতে ভয়ের কি
আমি : পড়ে গেলে কি হবে ।
আবির : জনসংখ্যা কমবে ।
আমি : এ্যা
আবির : হাহা চলে আসুন এদিক ।
আমি : হাত টা দেন
আবির : হাত দিয়া কি হবে
আমি : এখান থেকে ঝাপ দিবো আপনাকে নিয়া ।
আবির : কি???
আমি : আমার ভয় লাগতেছে হাত দেন
.
আবির আমার হাত ধরে কিনার থেকে আনলো ।
আবির : এমনি তো ডেয়ারিং হন আপনি । বাট উচ্চতা এতো ভয় পান ।
আমি : আপনি নিজেও তো টিকটিকি ভয় পান ।
আবির : ম..মা..মানে কে বললো আপনাকে ?
আমি : আরোহি
আবির : এবার বাড়ি গিয়ে ওর বিয়েটা দিয়েই দিবো ।
আমি : না না না ওকে কিছু করুন খালি আপনাকে আমি ঝাটা দিয়া পিডামু ।
আবির : মানে
আমি : আপনি যা বুঝলেন ।
আবির : এই মেয়ে আমাকে পিটাবা এইটুকু একটা মেয়ে ।
আমি : এইটুকু না ৫” ৫ আছি
আবির : যাস্ট হাইটে এমনি তো ৫ বছরের বাচ্চা।
আমি : এ্যা বললেই হলো ।
আবির : যাও ফ্রেশ হও
আমি : উকে
আবির : হুম
.
আমি গোসল টা সেরে ফেললাম ।
আমি : মি. আবির
আবির : কি
আমি : চলেন চকলেট কিনতে যাই
আবির : আজ আর না কাল যাবো নে
আমি : না না না আমি আজ ই যাবো
আবির : আমার ব্যাগের পকেটে দেখো কিটক্যাট আছে
.
আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি আছে ।
আমি : আপনি কই পাইলেন ?
আবির : ওই যে তোমার গুলো যে লুকিয়েছিলাম তখন ।
আমি : শয়তান । আমার জিনিস চুরি করা আপনাকে আমি ছাড়ুম না
আবির : টাকা গুলো তো শেষ করছোই ।
আমি : হিহি আরও করবো ।
মি. আবির আমার ক্ষুধা লাগছে ডিনার কোথায় হবে ?
আবির : নিচে রেস্টুরেন্টে
আমি : ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করবো ।
আবির : এ্যা ক্যান্ডেল লাইট কেনো ?
আমি : আমার অনেক দিনের ইচ্ছা । ফ্রেন্ড হিসেবে ভাবুন ।
আবির : ওকে
.
.
ডিনারে…..
আবির : Excuse me .
Waiter : yes sir
Abir : can you bring two bowl of chicken soup ?
waiter : okay sir . anything more ?
Abir : Anha do you want anything more ?
Ami : I want a chocolate ice
Abir : okay bring it please .
Waiter : Sure sir
আবির : নেন আপনার ইচ্ছা পূর্ণ ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের ।
আমি : মি. আবির চলেন সেল্ফি তুলি ।
আবির : সেল্ফি দিয়ে কি হবে ?
আমি : সেল্ফি আমি আরোহি আর প্রেয়সি কে দেখাবো ।
আবির : হুর আজাইরা ।
আমি : আরোহিকে ভিডিও কল দেই । ও দেখুক ।
.
আবির : ওকে ।
.
ভিডিও কলে….
আমি : হাই আরোহি
আরোহি : হাই ভাবি । wow you are looking pretty in London .
আমি : কি যে বলো । আমরা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতেছি । I am missing you
আরোহি : আমিও তোমাকে মিস করছি ভাবি ।
আমার মেন্টাল ভাই টা কই ?
আমি : আরে কি বলো । পাশেই
আরোহি : হিহি । ওকে দেখাও
আমি : এই নাও
আবির : এবার বাড়ি যেতে দে খালি ।
আরোহি : ভাইয়া হানিমুন কেমন হচ্ছে । জুনিয়র কাউকে নিয়ে তারপর আসিছ ।
আবির : তোর মাথায় এগুলো কই থেকে আসে ?
আরোহি : আসে যায় ।
যা তুই হানিমুন ইনজয় কর আমি রাখলাম বাই ।
.
.
আমি : ওই মি. আবির
আবির : কি
আমি : কাল শপিং এ যাবো তো
আবির : হুম
.
খাবার শেষে….
আমি : আইসক্রিম খাবেন
আবির : না
আমি : তা কেনো খাবেন । আপনি তো খেতেই পারেন না ।
আবির : আমি পারি
আমি : খেয়ে দেখান
আবির : (খেয়ে দেখালো‌) প্রুফ পেলেন
আমি : হ
আবির : খাওয়া ডান
আমি : হুম চলেন ঘুমাই কাল জ্বলদি উঠে শপিং এ যামু কিন্তু ।
.
রাতে ঘুমানোর আগে….
আমি : মি. আবির আমরা কি এক বিছানায় ঘুমাবো ।
আবির : ব্যাপার না মাঝে বালিশ থাকবে
আমি : ওকে
.
শুয়ে পড়ার কিছু সময় পর । আমি মি. আবির কে গুতা দিলাম ।
আবির : কি হলো ?
আমি : গান শুনান না একটা ।
আবির : ওই মেয়ে এখন গান কই থেকে আসলো ।
আমি : শুনান প্লিজ
আবির : আমি ঘুমাবো
আমি : শুনান নইলে মামনি কে ফোন দিমু‌ । দিয়া কমু আপনি আমাকে মারছেন ।
আবির : হুহ দুই লাইন বলবো যাস্ট ।
আমি : ওকে
আবির : “পৃথিবীর যতো সুখ যতো ভালোবাসা;
সবই যে তোমায় দিবো একটাই আশা”
আমি : ওকে শুনুন না
আবির : ঘুমান
আমি : চলেন বেলকনি তে যাই ।
আবির : এই মেয়ে ঘুমা বলছি
আমি : ( ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিছি )
আমি ঘুমাচ্ছি
আবির 🙁 মুচকি হাসছে । ভাবছে.. মেয়েটা পারেও বটে)
.
সকালে….
আমি : মি. আবির ও মি. আবির
আবির : ওহো কে রে‌?
আমি : আমি আনহা
আবির : এতো জ্বলদি উঠছেন যে ?
আমি : আজ যে ঘুরতে যাবো আমরা মনে নাই ?
আবির : হায় রে এই মেয়েটা ?
আমি : চলেন ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে জ্বলদি যাই ।
আবির : আচ্ছা ওকে ।
.
.
কিছু সময় পর…..
আমি আর আবির রাস্তায় হাটছি ।
আমি : মি. আবির
আবির : বলেন কি চাই ম্যাডাম ?
আমি : চলেন আইস্ক্রিম খাবো ।
আবির : এখন না পরে ।
আমি : হুহ তাহলে ওই টেডি বিয়ার টা কিনে দেন ।
আবির : তুমি বাচ্চা ?
আমি : হুম দেন না ।
আবির : চলো ।
.
অনেক কিছু শপিং করলাম ।
.
শপিং শেষে…..
আবির : আনহা
আমি : হুম বলেন
আবির : এই নাও
আমি : এইটা কি ?
আবির : খুলে দেখো
আমি : ( একটা গাউন ছিলো সাদা রং এর ) আমি উরিম্মা কি কিউট কধর জন্য ?
আবির : আপনার ।
আমি : আল্লাহ গো আজ সূর্য কোনদিক উঠছে ?
আবির : আপনাকে কিছু দেওয়াই ভুল লাগবে না ফেরত দেন ।
আমি : মজা করলাম ।
আপনার জন্য কিছু একটা আমার কাছেও আছে ।
আবির : কি ?
আমি : এই ঘড়ি টা । এটায় না একটা মেসেজ সেট করা যায় । আমি সেট করছি । শুনেন তো
.
আবির অন করলো “মি. আবির থুক্কু এংরি রাক্ষস আমারে একটা কিটক্যাট দেন”
.
আবির : এটা কেমন মেসেজ ?
আমি : যখন মনে পড়বে আমার কথা অন করবেন আর আমার জন্য কিটক্যাট কিনবেন ।
আবির : হাহা মনে পড়বে না
আমি : উকে ।
.
এভাবে ৫ দিন চলে গেলো । ঘুরতে হাসি খুশিতে । আজকাল আবির আর আনহা কিছুটা ক্লোজ হয়ে এসেছে । কিন্তু খুশি যে মাঝে মাঝে সাময়িক হয় ।
.
৫ম দিন একই হোটেলে আবির একজন কে দেখে থমকে যায় । সে আর কেউ নয় নিহা ছিলো ।
.
আবিরকে দেখে নিহা এলো….
নিহা : কেমন আছো ?
আবির : ভালো তুমি?
নিহা : ভালো নেই
আবির : তা তোমার বর কই?
নিহা : We have got devorced
আবির : কেনো ?
নিহা : ও চিটার ছিলো । আমি শুধু টাকার পিছনে‌ দৌড়েছিলাম তাই হয়তো ।
আবির : ওওওও
নিহা : জানো তোমাকে হারানোর পরে বুঝেছি ভালোবাসা কি?
আবির : ভালোবাসা মানে তো আমার কাছে তোমাকে নিয়ে গড়া স্বপ্ন ।
.
আমি চলে আসলাম ।
আমি : মি. আবির
নিহা : ইনি কে ?
আবির : ওয়াইফ
নিহা : বিয়ে করে ফেললা ।
আবির : আম্মুর ইচ্ছে
আমি : পরে আসবো আমি । যাই আচ্ছা
নিহা : না আমার কাজ আছে বাই আপনারা থাকুন ।
.
নিহা চলে যায় । আবিরের চোখ দিয়ে পানি বইতে থাকে।
আবির : আটকাতে পারলাম না
.
এ কথা শুনে আমি ডাকলাম…
আমি : নিহা দাড়াও
নিহা : কি ?
আমি : মি. আবির যে তোমাকেই ভালোবাসে ।
নিহা : তাহলে বিয়ে ।
আমি : এটা টেম্পরারি বিয়ে
নিহা : এটা কি সত্যি ?
আবির : হুম ভালোবাসি তোমাকে
নিহা : আমিও তোমাকে ভালোবাসি ।
আমি : আমি আসি আপনারা সময় কাটান ।
নিহা : ধন্যবাদ আপনাকে
আমি : জ্বী ।
.
.
.
আমি রুমে চলে আসলাম । এতোদিনে মি. আবির কে ভালোবেসে ফেলছিলাম । কিন্তু এটা যে টেম্পরারি বিয়ে ।
.
.
রুমে অনেক সময় কাঁদলাম ।
মি. আবির এলো । আজ তাকে অনেক খুশি মনে হলো । আমি ঘুমানোর ভান করে শুয়ে থাকলাম ।
.
আবিরও শুয়ে পড়লো ।
.
পরেরদিন শেষ দিন লন্ডনে অবস্থানের । সেদিন রাতে ।
আবির এসে দেখলো আমি টলটেছি ।
আবির : আনহা কি হয়েছে ?
আমি : কি যে কে জানি ?
আবির : মানে ?
আমি : এই জুস টা সেই টেস্টি খান আপনিও
আবির দেখলো ওটা এলকহল ছিলো ।
আবির : তোমাকে এটা কে দিছে?
আমি : ওয়েটার দিয়ে গেছে ডিনার ।
.
আবির ফোন করে জানলো ভুলে এসেছে…
.
আবির ভাবছে এখন আনহাকে সামলাতে হবে ।
আবির : আনহা চলো শুয়ে পড়ো
আমি : না আমি যাবো না ।
আবির : চলো
আমি : মি. আবির আপনি না সেই কিউউউউট
আবির : হুম ভালো ।
আমি : না ভালো না খুব পঁচা । আমাকে একটুও ভালোবাসেন না আপনি ।
আবির : না ভালোবাসি‌ ( এমনি বললো )
আমি : তাইলে ওই নিহার কাছে যাচ্ছেন কেনো ? আমি কতো ভালোবাসি আপনাকে । আপনি আমার কষ্ট বুঝেনই না । আমি যে কতো কাঁদি ( বলতে বলতে কেঁদে ফেললাম )
আবির : ( ভাবছে আনহা এসব কি বলছে? )
আনহা শুয়ে পড়ো।
আমি : না না এই মি. আবির আমি একটা জিনিস চাই ।
আবির : আচ্ছা দিবো ।
আমি : সত্যি
আবির : হুম
আমি : জুনিয়র আবির দেন আমাকে । কিন্তু ও আপনার মতো পঁচা হবে না ।
আবির : হুম আমি পঁচা এবার ঘুমান ।
আমি : না আমি এখন গোসল করবো ।
আবির : না এখন না ঘুমান আগে ।
আমি : না গোসল ।
.
বলে বাথরুমে চলে গেলাম ।
.
শাওয়ার অন করে ফেললাম ।
আবির : আনহা চলুন ।
.
( কিন্তু আবিরও ভিজে গেলো )
.
আবির : আনহা কে কোলে করে রুমে নিয়ে গেলো ।
আমি : আমাকে ছাড়ুন আপনি ভালো না । আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন পঁচা ।
আবির : ( কিছু বললো না )
আমি : বলেন নইলে কামড় দিবো ।
আবির : হুম
.
আমি পুরো ভিজে ছিলাম । আবির আমার কাপড় পাল্টে দিলো । কিন্তু এর মাঝে একটা ভুল জিনিস হয়ে যায় ।
.
সকালে…
আমি নিজেকে অমন অবস্থায় দেখে থ । কিছু সময় মনে করার চেষ্টা করলাম কাল কি হয়েছে ।
.
কিছু কিছু যা মনে পড়লো তা ভেবে আমি অনুতপ্ত হয়ে পড়ি ।
.
জ্বলদি ফ্রেশ হয়ে নিয়ে ।
আবিরের ঘুম ভাঙ্গে । সে সব কিছু মনে করে নিজেও অনুতপ্ত হয়ে পড়ে ।
.
আবির : সরি
আমি : আমি সরি । কিছু মনে করিয়েন না । এটা বাদ দেন । মনে রাখার প্রয়োজন নেই । আচ্ছা আমাদের ডিভোর্স কবে ? আপনার আর নিহার বিয়ে কবে ?
আবির : দেশে ফিরি আগে ।
আমি : জ্বী চলুন তৈরি হই আজই তো মনে হয় ফ্লাইট
আবির : হুম ।
.
এরপর ফ্লাইটেও বেশি একটা কথা হলো না আমার । আসলে আমি নিজেই বলি নি কারণ আমি ছিলাম অনুতপ্ত ।
.
চলবে……

টেম্পরারি_বিয়ে _পর্ব_৫

টেম্পরারি_বিয়ে
_পর্ব_৫
Written by Avantika Anha
আমি রুমে গেলাম ।
.
আইস্ক্রিম খাওয়ার কুফলও আছে কিছু । জ্বর চলে আসলো পরেরদিন ।
সকালে……
আবির উঠে ফ্রেশ হলো । দেখলো আমি এখনো ঘুমাচ্ছি এটা দেখে আবিরের মনে প্রশ্ন জাগলো ও এখনো ঘুমায় কেনো ?
.
আবির এসে আমাকে ডাকলো : মিস আনহা উঠেন নি যে আজ ।
আমি : উহ
আবির : কি ?
আমি : উঠতেছি । কয়টা বাজে আল্লাহ এতো লেট । আমি তো নামায ও পড়ি নি ।
.
আমি উঠে যাচ্ছিলাম বাথরুমের ওদিক । কিন্তু পড়ে যেতে ধরলাম । আবির ধরলো ।
আবির : এই আপনার তো জ্বর এসেছে ।
আমি : হুম একটু মনে হয় ।
আবির : একটু জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে
আমি : মিথ্যুক গা পুড়লে তো আগুন লাগতো এখানে আগুন কই ?
আবির : এখনো আপনার মজা মনে হচ্ছে জ্বরকে
আমি : হিহি না তো
আবির : তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হন । আমি ঔষধ নিয়ে আসতেছি আপনার আম্মুর কাছ থেকে ।
আমি : হুম
.
আবির ঔষুধ নিয়ে আসলো….
আমাকে দিতে ধরলো..

আমি : ইইইই ছি আমি খাবো না এটা ।
আবির : খেতে হবে জ্বর এসেছে ।
আমি : না না না খাবো না
আবির : খেতেই হবে
আমি : ইইই আপনি খান আমি তো ভাগলাম ।
.
পালাতে গেলাম কিন্তু শক্তি কম হওয়ায় আবার মাথা ঘুরে গেলো ।
আবির এবার জোড় করে খাওয়ায় দিলো ।
আমি : সুস্থ হই খালি আপনার উপর শোধ তুলবোই ।
.
পরেরদিন সুস্থ হয়ে গেলাম ।
.
রাতে আবির ঘরে এলো । আমার দিকে তাকিয়ে দেখলো আমি ঘুমানোর ভান করে শুয়ে ছিলাম ।
আবির কিছু না বলে টেবিলের উপর থেকে পানি নিয়ে যেই মুখে দিলো ।
আবির : এটা কেমন পানি এতো লবণ কেনো ?
আমি : ( হেসে ফেললাম )
আমার হাসি দেখে আবির বুঝে গেলো এই কাজ ওয়ান এন অনলি আমার ।
আবির : এটা কি করছেন ?
আমি : কাল আমাকে ওই তিতা ওষুধ খাওয়াইছিলেন যেমন তার ফল ।
আবির : হুহ
.
আবির কিছু না বলে ঘুমায় গেলো ।
.
আমি পরের দিন নাস্তার পরে আমার কিটক্যাট খুঁজছিলাম ।
আমি : কই গেলো ?
আবির : কি খুঁজছেন ? কিটক্যাট বুঝি ?
আমি : আপনি আমার কিটক্যাট লুকাইছেন তাই না
আবির : হুম কাল কি করছিলেন আমার সাথে
.
আমি : আমার কিটক্যাট দিন
আবির : না
আমি : দেন নইলে খামচি দিবো
আবির : হাহা পারবেন না
.
আমি আগায় গেলাম খামচি দিতে ।
.
আমি খামচি দিতে যাবো । এমন সময় আবির আমার হাত দুটো ধরে ফেললো ।
আবির : এবার কেমনে খামচি দিবেন ?
আমি কামড় মেরে দিলাম আবিরের গলার কাছে ।
আবির : কামড়ালেন কেনো ?
আমি : হিহি কিটক্যাট না দেন আমি আবার কিনে নিবো । তাও আপনার টাকায় । কিন্তু শাস্তি তো আপনি পেয়েছেন ।
.
সেদিন কিটক্যাট কিনে খেয়ে নিয়ে আবিরের মানিব্যাগ তাকে ফেরত দিলাম ।
আবির : আমিও দেখে নিবো ।
আমি : ওমা দেখুন দেখুন ভালো করে দেখুন ।
.
সেদিন বাড়ি ফেরার দিন ছিলো । তাই রওয়ানা হলাম । হাজার হোক নিজের বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছিলাম কষ্ট তো হবেই ।
.
গাড়িতে আমি কাঁদছিলাম ।
আবিরের দেখে খারাপ লাগলো ।
আবির : আপনি কাঁদছেন বাহ বাহ এটাও তো দারুণ মিস ডেইলি সোপ
আমি : আমি মোটেও কাঁদছি না
আবির : এই যে চোখে পানি ।
.
আমি : ইইইই নাই তো ( মুছে ফেললাম )
আবির : হাহা‌
.
সেদিন বাড়ি পৌছালাম ।
মা আমাদের দেখে খুশি হলেন ।
মা : তোদের অনেক মিছ করেছি ।
.
আরোহি : ( আবিরের গলায় দাগ লক্ষ্য করলো ) বাহ ভাইয়া ভাবির লাভ বাইট নিয়ে ঘুরতেছিস ।
.
এই কথা শুনে আবির আর আমি দুজনেই লজ্জা পেলাম ।
.
আমি : আমি কাপড় পাল্টে ফ্রেশ হয়ে আসছি । ( বলে কেটে পড়লাম )
আবির : আমারো ঘরে কাজ আছে । গেলাম ।৤
.
রুমে এসে আবির আমার হাত ধরে টেনে আমাকে দেয়ালের সাথে আটকে ধরলো ।
আবির : আমার সাথে মজা নেওয়া । আজ আপনার জন্য আমাকে এমন লজ্জা পেতে হলো ।
আমি : আপনার দোষ
আবির : আমিও আপনাকে কামড় দিবো এখন ।
আমি : না না না
আবির : আপনাকে শাস্তি পেতেই হবে
.
আবির কামড় দেওয়ার আগেই…
.
আমি : ( কেঁদে ফেললাম ) ভ্যা ভ্যা ভ্যা
আবির : হুহ আমি তো কিছুই করলাম না । তাতেই কাঁদছেন ।
আমি : আপনি আমাকে কামড় দেন খালি আমি আপনার আম্মু কে বলে দিবো ।
আবির : এ্যা
আমি : হ্যা আপনাকেই লজ্জা পেতে হবে ।
আবির : ( মেয়েটা চালাক আছে ।)
.
আবির আমাকে ছেড়ে দিলো…..
রাতে খাবার টেবিলে….
মা : বাবা আবির তোরা হানিমুনে কবে যাচ্ছিস ?
.
এই কথা শুনে আবির আর আমার দুজনেরই গলায় খাবার আটকে গেলো ।
.
মা : কি রে বল ?
আবির : হ্যা যাবো যাবো জ্বলদি ই যাবো ।
আরোহি : কবে যাবি সেটা বল ?
আবির : দেখি
মা : শুন আমি বলছিলাম বিদেশ যাবি নাকি দেশেই কোথাও ?
আবির : বাইরে যেয়ে কি করবো দেশেই যাই
মা : না বাইরে যা আমি টিকিট কেটে রাখছি লন্ডন যা ।
আবির : কেটেই তো রাখছো তাহলে জিজ্ঞেস করার কি আছে ?
মা : আন্দাজি জিজ্ঞেস করলাম ।
আবির : মা তুমিও না
মা : পরশু ফ্লাইট ।
আমি : এ্যা আমার পাসপোর্ট যে বাড়িতে ।
মা : আমি আগেই আনাইছি । তোমার ব্যাগে আছে দেখে নিও ।
আমি : ওকে ( একবার ইন্ডিয়া গেছিলাম । তখন পাসপোর্ট বানানো ছিলো )
.
.
যাওয়ার দিন..
আমি : মি. আবির কি মজা হবে তাই না ?
আবির : এতো এক্সাইটেড হওয়ার কিছু নাই । ভুলে যাইয়েন না এটা টেম্পরারি বিয়ে ।
আমি : আরে জানি তো মনে আছে । এটা আমার কাছে এমনিও হানিমুন না ঘুরতে যাওয়া ।
.
প্লেনে….
আমি : মি. আবির আমার ভয় লাগছে বাড়ি চলুন ।
আবির : কি মাথা কি নষ্ট
আমি : আম্মুর কাছে যাবো ।
আবির : আনহা বিহেভ ইয়োরসেল্ফ
আমি : আপনার হাত টা দেন
আবির : কেনো ?
আমি : আরে দেন তো ( বলেই টেনে নিলাম )
.
প্লেন উপরে উঠার টাইমে মি. আবির কে এমন খামচে ফেলছিলাম । যে উনি চিল্লায় উঠছিলেন । যদিও পরে এর জন্য আমাকে বকেছেন । কিন্তু পমার সেই ভয় লাগছিলো ।
.
ওখানে পৌঁছে এক হোটেলে উঠলাম আমরা ।
আমি : মি. আবির শুনেন তো
আবির : কি
আমি : আমরা এখানে কয়দিন আছি ?
আবির : ৭ দিন
আমি : ওয়াও কতো মজা হবে । আমি অনেক ঘুরবো আর শপিং ও করবো
আবির : করিয়েন
আমি : চলেন না চকলেট কিনতে যাই ।
আবির : মাথা খারাপ এতো লং ওয়ে পার করে আসলাম একটু রেস্ট নিবো ।
আমি : ওকে তাহলে রাতে
আবির : কালকে
আমি : উহু
আবির : নইলে যাবো না
আমি : ওকে মি. রুড
আবির : কিছু বললেন
আমি : না আমি কখন বললাম । আপনি বেশি শুনা শুরু করছেন ।
আবির : হুহ । আমি গোসল করবো ।
আমি : টাটা ।
আবির : ও শুনুন একা আবার বাইরে যাইয়েন না ।
আমি : আমি বাচ্চা নাকি ?
আবির : বাচ্চার মতোই
আমি : হুহ যান তো আপনি
আবির : হুম
.
চলবে…….