Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ওঁ আসবেইও আসবেই ৪র্থ এবং শেষ পর্ব

ও আসবেই ৪র্থ এবং শেষ পর্ব

ও আসবেই ৪র্থ এবং শেষ পর্ব
.
মাইশিকে ঘরে রেখে বাড়ির বড় গেটে তালা দিলেন তিনি। যাতে কোনো নারী বা অন্য কেউ তার বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে। এরপর সোজা চলে গেলেন ডাক্তার নাসিমার চেম্বারে। সেখানে পৌছে আরেকবার স্তম্ভিত হলেন আরিফ সাহেব। জানতে পারলেন গতরাতে নাকি ডাক্তার নাসিমা আক্তার তার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন।
.
আরিফ সাহেব কথাটা শুনে বেশ ভেঙে পড়লেন। ভাবছিলেন গতকাল এই মহিলাটিকে ঐভাবে অবহেলা করা উচিত হয়নি তার। মহিলাটি তাদের সাহায্য করতে চেয়ে ছিলেন। তাইতো তার এই অবস্থা হলো। তাহলে এখন এই সমস্যা থেকে তাদের কে বাঁচাবে। শয়তানকে এই পৃথিবীতে না আনার কোনো পথই কী খোলা নেই! তিনি আর ডাক্তার নাসিমার বাড়িতে গেলেন না। নিজ বাড়িতে এসে মাইশির দিকে মনোনিবেশ করলেন। আর কোনো উপায় না পেয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন শম্মীর কথাই মেনে চলবেন। শয়তানী ভয়ংকর শক্তির সাথে তিনি একা পেরে উঠবেন না। তাকে এই পৃথিবীতে আসতে দেওয়াই ভালো। আরতো মাত্র কয়েকটা বছর। মাইশি বড় হবে আর অবসান ঘটবে এই অভিশপ্ত জীবনের। হয়তো তখন পৃথিবী পড়ে যাবে বিপদের মুখে। কিন্তু তারাতো মুক্তি পাবে। শুধু এইটা খেয়াল রাখতে হবে যে এর আগে কোনো নারী শরীর যাতে এই বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে। হঠাৎ তার মনে পড়ল বাড়ির বড় গেইটটা তো খোলা রয়েছে। এখন যদি কেউ বাড়িতে প্রবেশ করে তাহলেতো মাইশি আবার সেই ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে যাবে। আরিফ সাহেব দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন। হঠাৎই বাড়ির কলিং বেলটা বেজে উঠল।আবার কে এলো!আরিফ সাহেব চমকে মাইশির দিকে তাঁকালেন। না, মাইশি সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছে। একটা পুতুল নিয়ে খেলছে। তাহলে হয়তো কোনো পুরুষ মানুষ এসেছে। কিন্তু কে?
.
আরিফ সাহেব দরজা খুলে দেখলেন একজন চার্চের ফাদার দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আরিফ সাহেব কিছুটা অবাক হয়ে লোকটাকে বললেন:
-আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
.
লোকটা মিষ্টি করে হেসে বলল:
-আপনার নাম কী আরিফ হোসাইন?
-জ্বি। কিন্তু আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।
-আমার নাম পিটার। আমি এই শহরের বাহিরের একটা চার্চের ফাদার। আমি কী ভেতরে এসে বসতে পারি?
.
আরিফ সাহেব দরজা ছেড়ে দাঁড়ালেন। লোকটা বাড়িতে প্রবেশ করলেন। লোকটা ঠিক কী উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন এটা আরিফ সাহেবের বোধগোম্য হচ্ছে না। লোকটা ড্রয়িং রুমের একটা চেয়ারে বসে শান্ত কন্ঠে আরিফ সাহেবকে প্রশ্ন করলেন:
-ডাক্তার নাসিমা আক্তার আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছেন। আপনি জানেন বোধ হয়?
.
আরিফ সাহেবের বুকে একটা ধ্বক করে শব্দ হলো। ভয়ে তার চোখ-মুখ ছোট হয়ে এল। এই লোকটা ডাক্তার নাসিমার কথা বলছেন কেন! তাহলে লোকটা কী সব জেনে গেল! মাইশির কারণেই যে এই ৩ ডাক্তার আত্মহত্যা করেছে এটাও হয়তো তিনি বুঝে যাবেন বা গেছেন। শহরের সবার মধ্যে এখন এটা জানাজানি হয়ে যাবে।
তারা পড়বেন বিপদে।
.
ফাদার পিটার আবার বললেন:
-ভয় পাবেন না ডাক্তার আরিফ। আমি আপনার কোনো ক্ষতি করতে আসিনি। এই কেসের ইনভেসটিকেশন করতেও আসিনি। আমাকে বন্ধু ভাবতে পারেন।
আমাকে এখানে ডাক্তার নাসিমা আক্তারই এখানে আসতে বলেছিলেন।
-ডাক্তার নাসিমা!
-জ্বি। তাকে আমি অনেক বছর আগে থেকেই চিনি। তার বাড়িতে তার স্বামী প্রেতচর্চা করতেন। তখন আমি তাকে সাবধাণ করেছিলাম। নাসিমা আক্তার বিষয়টাকে স্বাভাবিক ভাবে নিলেন এবং স্বামীকে হারালেন। তারপর তার সাথে আমার বেশ ভালো পরিচিতি হয়। তিনিই আমাকে ফোনে আপনার মেয়ের অদ্ভুত রোগ সম্পর্কে জানান। গতকাল আপনার সাথে তার কী কী কথা হয় তাও রাতে আমায় জানান। আমিও অনুমান করি আপনাদের বাড়িতে শয়তানের অস্তিত্ব আছে। আজ সকালে যখন নাসিমার সাথে দেখা করতে আসলাম এই বিষয়ে কথা বলতে তখন জানলাম সে আত্মহত্যা করেছে! এটা যে কোনো সাধারণ মৃত্যু না শয়তানের প্ররোচনা এটা আমি বুঝতে পারছি। তিনি আমাকে ফোনেই আপনার ঠিকানা দিয়েছিলেন। তাই সেখান থেকে সরাসরি আপনার কাছে চলে এসেছি। আপনি চাইলে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি এ বিষয়ে।
.
আরিফ সাহেব যেন কিছুটা সাহস ফিরে পেলেন। তবুও বিচলীত কন্ঠে ফাদারকে বললেন, কিন্তু ওঁকে নিয়ে যেই ঘাটাতে গিয়েছে সেই মৃত্যুর পরিণতি স্বীকার করেছে। আমার ধারণা ওঁ আপনারও কোনো ক্ষতি করতে পারে।
.
যেদিন থেকে ফাদার হয়েছি এই নিজেকে নিয়ে ভাবা ছেড়ে দিয়েছি। এখন আপনার মেয়েকে নিয়ে ভাবছি। বললেন, ফাদার পিটার। আরিফ সাহেব তাকে মাইশির কাছে নিয়ে গেলেন। মাইশি বসে বসে পুতুল দিয়ে খেলছিল। ফাদার পিটারকে দেখে একবার শুধু বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে তাকালো। আবার খেলায় মনোযোগ দিলো। আরিফ সাহেব এবং ফাদার পিটার আবার ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসলেন। ফাদার, আরিফ সাহেবের কাছে এই রহস্যের ক থেকে চন্দ্রবিন্দু পুরোটা জানতে চাইলেন। আরিফ সাহেব আর কিছু লুকালেন না। ডাক্তারদের আত্মহত্যা সহ পুরো ঘটনা তাকে খুলে বললেন। ফাদার একটানা পুরো ঘটনা শুনলেন। এরপর আরিফ সাহেবকে প্রশ্ন করলেন:
-আপনি কী নিশ্চিত যে গতরাতে যেই কালো ছায়াটা আপনার সাথে কথা বলেছেন সেটা আপনার স্ত্রীই?
-হ্যাঁ। আমি শম্মীর কন্ঠ চিনি। আর সে যেই কথাগুলো বলেছে তা শম্মী ছাড়া আর কারর জানার কথা না।
-গতরাতে আপনার সাথে যে কথা বলেছে সে আপনার স্ত্রী নয়। আপনি ইতো বললেন গর্ভাবস্থায়
তিনি আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছেন। আর যেহেতু তিনি শয়তানের উপাসনা করেছেন তাই তার মৃত্যুর পর তার আত্মা ইচ্ছাকৃতভাবে এই বাড়িতে থাকতে পারে না। তার মৃত্যুর পর তার আত্মাটা শয়তানের দখলে চলে যায়। শয়তান যা চায় তাই তাকে দিয়ে করাতে পারে। শয়তানই তাকে ছায়া মানব বানিয়ে রেখেছে। শয়তানের ইচ্ছাতেই সে আপনার ঘরে এসেছিল গতকাল। মৃত্যুর পর এই বাড়িতে এতবছর ছায়া হয়েছিল শয়তানের ইচ্ছাতেই। সে এখন আর আপনার স্ত্রী বা মাইশির মায়ের রুপে নেই। সে এখন শয়তানের ছায়া মাত্র।
-তার মানে বলতে চাচ্ছেন শম্মীর কন্ঠে ছায়াটা গতরাতে যা যা বলেছে তার সবই বানোয়াট? আমার কিন্তু কথাগুলো বেশ যৌক্তিকই মনে হচ্ছিল।
-তার বলা কথাগুলো বাস্তব নাকি বানোয়াট এটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। কিন্তু সে যে শয়তানের ছায়া ছাড়া আর কিছুই না এটা নিশ্চিত। সে যা বলছে শয়তানের লাভের জন্যই বলছে।
-এইসব কথা বাদ দিয়ে বলুন এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় কী আপনার জানা আছে? এই বাড়িতে কোনো নারী প্রবেশ করলেই মাইশি কেন অসুস্থ হয়ে পড়ে? নারীর এই বাড়িতে প্রবেশের সাথে মাইশির অস্বাভাবিকতার সম্পর্কটা কী?
-এটা আমি নিশ্চিত ভাবে জানি না। তবে আমার অনুমান শয়তানটার ভ্রুণ মাইশির গর্ভে আর থাকতে চায় না। তাই এমনটা হয়।
-মানে, ঠিক বুঝলাম না।
– দেখুন মাইশি এখন সন্তান জন্মদানের জন্য পরিপক্ব নয়। শয়তানকে আরও অনেক বছর মাইশির গর্ভে থাকতে হবে। তাই হয়তো সে চাচ্ছে অন্য কোনো নারীর গর্ভে প্রবেশ করতে। তাই কোনো নারী এই বাড়িতে প্রবেশ করলেই ভ্রুণটা মাইশির গর্ভ থেকে বের হতে চায়। আর তাই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
– ভ্রুণটা মাইশির শরীর থেকে অন্য শরীরে চলে গেলেতো শয়তানেরই ভালো। সে দ্রুত পৃথিবীতে আসতে পারবে। তাহলে অন্য কোনো নারী যখন আসে এই বাড়িতে তার গর্ভে চলে যায় না কেন?
বাড়ে বাড়ে মাইশিকে অসুস্থ হতে হচ্ছে কেন?
-আপনার স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভ্রুণটা সাথে সাথে কিন্তু মাইশির গর্ভে চলে আসেনি। অনেকটা সময় নিয়ে তার পর এসেছে। ভ্রূণটা চাইলে দ্রুত অন্য গর্ভে চলে যেতে পারে না। তবে চেষ্টা করে।
-শম্মী মারা যাওয়ার পর তো এই বাড়িতে কয়কজন মহিলা কাজের লোক ছিল। ভ্রুণটা তাদের গর্ভে না গিয়ে মাইশির গর্ভে কেন এল? অন্য কারও গর্ভে গেলেতো এতদিনে সে পৃথিবীতে চলে আসতো। আর আপনার কথামতে যদি ঐ ছায়াগুলো শয়তানের হয় তবে তারা নারীদের এই বাড়িতে প্রবেশ করতে নিষেধ করবে কেন বা ভয় দেখাবে কেন? এতেতো শয়তানকে সাহায্য করার বদলে তারা উল্টো বিপদে ফেলছে।
তারাতো সেই নারীকে এই বাড়িতে আটকে রাখতে পারে। যাতে ভ্রূণটা সময় নিয়ে তার গর্ভে যেতে পারে।
-হুম। এই জিনিসটা আমিও বুঝতে পারছি না। কিন্তু একটা বিষয় ভেবে দেখুন ছায়াগুলো যদি ভালোও হয় তাহলেও কিন্তু তারা নারীদের ভয় দেখাতো না। ঐ ছায়াটা যদি আপনার স্ত্রীর হতো অন্য কোনো নারী প্রবেশ করলে সে খুশিই হতো। কারণ এতেতো আপনার মেয়েই শয়তানের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেত। ভ্রুণটা চলে যেত অন্য নারীর গর্ভে।
-আপনিইতো আমাকে দ্বন্দ্বে ফেলে দিচ্ছেন। আসল কথা হচ্ছে কোনো নারী এই বাড়িতে প্রবেশ করলে ভ্রুণটা মাইশির পেট থেকে তার গর্ভে যেতে চায় আপনার এই অনুমানটাই ভূল।
-হতেও পারে।
-আর ডাক্তার ইমরান এবং ইলিয়াসের ছায়া যে শম্মীর ছায়ার সাথে দেখলাম। ওরাতো শয়তান পূজা করতো না। তাহলে ওরা শয়তানের ছায়া হলো কী করে?
-শয়তান যাদের হত্যা করবে তারা সবাই তার দাস হবে।
-বুঝলাম। এতকথা বললেন কিন্তু মাইশিকে কী করে রক্ষা করব এটাই তো বললেন না।
.
ফাদার পিটার উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন, দেখুন আরিফ সাহেব। আমার বিশ্বাস আমার ধারণা ভূল নয়। আপনার মেয়ের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়া নিয়ে আমি যে যুক্তি দাঁড় করিয়েছি এটাই সঠিক। হ্যাঁ, এর মধ্যে
কিছু প্রশ্ন আছে। এর উত্তরগুলোও খুঁজে পাওয়া যাবে। আমি আজ চললাম। কাল বা পরশু আবার আসব।
তখন হয়তো এই বিষয়ে আমি পরিষ্কার করে বলতে পারবো।
.
এই বলেই ফাদার পিটার, আরিফ সাহেবের বাড়ি ত্যাগ করলেন। আরিফ সাহেব বিষন্নমুখ করে তার চলে যাওয়া দেখলেন। তিনি যেন জানেন ফাদার আর কখনও এই বাড়িতে আসবেন না। আসলে ও কোনো ছায়ার চেয়ে বেশি মূল্য তার থাকবে না। ৩ জন ডাক্তারের মতো তিনিও হয়তো শয়তানের প্ররোচনায় আত্মহত্যা করবেন। যে শয়তানের বিরুদ্ধে লাগবে তারই হবে দুর্গতি। আর কতগুলো প্রাণ যাবে এটাও কল্পনা করতে পারেন না আরিফ সাহেব।
.
আরিফ সাহেব যদিও বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন ফাদার পিটার আর এই বাড়িতে ফিরে আসবেন না, তবুও একটা ক্ষীণ আশা তার মনে ছিল। কিন্তু ২দিন কেঁটে যাওয়ার পরও যখন ফাদার এলেন না তখন আশার বাতিটা যেন নিভে গেল। ৩য় দিন একটা পিয়ন আসে এই বাড়িতে একটা চিঠি নিয়ে। চিঠির উপরে ফাদার পিটারের নাম দেখে আরিফ সাহেব বেশ অবাক হলেন। চিঠিটা নিয়ে তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। ড্রয়িং রুমে বসে চিঠিটা পড়া শুরু করলেন:
.
আরিফ সাহেব,
হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার কারণেই আমি স্বশরীরে আপনার ওখানে আসতে পারিনি। এর জন্য আমি লজ্জিত। আমি আরও কয়েক জন ফাদারের সাথে আপনার মেয়ের বিষয়ে কথা বলেছি। তারা এই বিষয়ে অনেক কিছুই খোলাসা করে বলেছেন। আমার অনুমাণটাই সঠিক। কোনো নারী আপনাদের বাড়িতে প্রবেশের পর মাইশির গর্ভের ভ্রুণটা তার গর্ভে চলে যেতে চায়। ভ্রুণটাকে দেখতে ৬মাস বয়সের হলেও এই কয়েক বছর মাইশির পেটে থেকে এর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটেছে। তাই সে দ্রুত পৃথিবীতে আসতে এই পথে এগোতে চায়। স্বয়ং শয়তানও চায় বাচ্চাটা দ্রুত পৃথিবীতে আসুক। যাতে সে দ্রুত শরীরটার ভেতর ঢুকে যেতে পারে। বস্তুত মাইশির গর্ভের শয়তান এবং বাহিরের শয়তান দুটি আলাদা সত্তা। ভেতরের শয়তানটা শুধু বাহিরে আসতে চায়। সে ছোট, তাই উপায়টা জানে না। বাহিরের শয়তানটাই একে নিরাপত্তা দিচ্ছে। ৩ জন ডাক্তারকে ওই হত্যা করেছে। সেও চায় ভ্রুণটা অন্য নারীর গর্ভে যাক। কিন্তু যেহেতু ভ্রুণটা একবার তার গর্ভ পরিবর্তন করিয়েছে তাই তাকে জন্ম নিতে হবে একজন কুমারী মেয়ের গর্ভে। অন্য কোনো কুমারীত্ব হারানো নারীর গর্ভে যদি ভ্রুণটা একবার প্রবেশ করে তাহলেই হবে সব শেষ। মহিলাটি হঠাৎই ৬ মাসের গর্ভভতী হয়ে যাবে এবং তার কয়েক মাস পরেই বাচ্চাটির জন্ম হবে। কিন্তু সেই দেহে আর শয়তান প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ তার আধ-ঘন্টা পর বাচ্চাটি মারা যাবে। শয়তানের আর কোনো উপায় থাকবে না। তাকে ফিরে যেতে হবে তার পৃথিবীতে। আপনাদের বাড়িতে যে সকল নারীরা প্রবেশ করেছে তারা সকলেই হয়তো কুমারীত্ব হারা। তাই প্রবেশের মুখে শয়তানী ছায়া তাদের বাধা দিত। কিন্তু মাইশির পেটের ভ্রুণটি না বুঝে যেকোনো একটা শরীর পেলেই প্রবেশ করতে চাইতো। কিন্তু একদিন এই বাড়িতে কোনো নারী থাকলে তার গর্ভে ভ্রুণটা প্রবেশ করতে পারবে না। নারীটাকে কমপক্ষে ৭ রাত এই বাড়িতে কাঁটাতে হবে। যে কোনো নারী একবার এই বাড়িতে প্রবেশ করলে এবং সেই ভ্রুণটা তার গর্ভে যেতে চাইলে অন্য কোনো শয়তানী শক্তি সেই নারীকে এই বাড়ি থেকে সড়াতে পারবে না। স্বয়ং শয়তানও না। এছাড়া শয়তানের পক্ষে জোর করেও কোনো নারীকে এই বাড়িতে ঢুকানো অসম্ভব। এগুলোই তাদের সীমাবদ্ধতা। তাই শয়তান ভাবে এই বাড়িতে সব নারীর প্রবেশ নিষেধ করে দিবে। সময় লাগুক। মাইশির গর্ভেই জন্ম নিবে সে। কিন্তু আপনাকে ভয় দেখানো যাবে না। তাহলে আপনি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন। এই বাড়ি ছেড়ে দুরে থাকলে মাইশির গর্ভের ভ্রুণটা তার ক্ষমতা হারাতে থাকবে। তাই আপনার স্ত্রীর বেশে আপনাকে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে বোকা বানালো সে রাতে। একটা কথা। আপনি ভ্রুণটাকে নষ্ট করতে এই বাড়ি ছেড়ে দুরে যাবেন না। তাহলে ভ্রুণটা নষ্ট হবে ঠিকই। সাথে সাথে শয়তান আপনাকে ও মাইশিকেও শেষ করে দিবে। ভ্রুণটাকে নষ্ট করতে হবে অন্য উপায়ে। এতক্ষণ যা কিছু লিখলাম তা সবই আমার অনুমান। শয়তানের সাথে কথা বলার ক্ষমতা যদি আমার থাকতো তাহলেই কেবল আমি নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারতাম। তবে এটা অসম্ভব। তবে এই মুহুর্তে কোনো কুমারীত্ব হারানো মহিলাকে ৭রাতের জন্য এই বাড়িতে আটকে রাখতে পারলে মুক্তি পাবে মাইশি । তারপর বাচ্চাটা মহিলার গর্ভে জন্মালে ধ্বংস হয়ে যাবে শয়তানও। ভূল করেও কোনো কুমারী মেয়েকে এই বাড়িতে আনতে যাবেন না। তখন মাইশি ঠিক হবে ঠিকই, কিন্তু শয়তান রাজত্ব করবে পৃথিবী। আমি আরেকটা অনুমান আপনাকে বলি। যা করতে হবে দ্রুত করতে হবে। কোনো মহিলাকে ৭ দিনের জন্য আপনার বাড়িতে আটকে রাখা হয়তো আপনার পক্ষে সম্ভব না । তাই আপনাকে একটা অন্য উপায় বের করতে হবে। একটা নারীর লাশ জোগাড় করতে হবে। লাশটা বরফের মাধ্যমে বা পচনরোধক কেমিকেলের মাধ্যমে ৭ রাত আপনাদের বাড়িতে রাখবেন। ভ্রুণটা নতুন দেহ ভেবে সেই শরীরটার ভেতরে প্রবেশ করবে। তারপর সেই দেহটা মাটিতে পুতে দিলেই শয়তান শেষ। আমি প্রচন্ড অসুস্থতার কারণে আপনার কাছে আসতে পারছি না বলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
.
ইতি
পিটার
.
.
এইসব যুক্তিগুলো যেন আরিফ সাহেবের মাথায় গেঁথে গেল। তার এখন মনে হচ্ছে শম্মীর অবয়বটা আসলেই শয়তান ছিল। শয়তানকে পৃথিবীতে না আসতে দিয়ে মাইশিকে বাঁচানোর উপায় যেন তিনি পেয়ে গেলেন। কিন্তু লাশ জোগাড় করবেন কী করে! তার বন্ধু ইমরান বেঁচে থাকলে হয়তো একটা লাশের জোগাড় করতে পারতো সে। কিন্তু লিগাল ভাবে এখন লাশ নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। এখন কী তাহলে কবরস্থান থেকে লাশ চুরি করতে হবে তাকে? তার মেয়ের সুস্থতা এবং শয়তানকে ধ্বংস করার জন্য তিনি যেন সব কাজ করতে পারেন। এখন শুধু রাতের অপেক্ষা।
.
মাইশিকে ঘুম পাড়িয়ে রাত ২টা পর্যন্ত নিজ বাড়িতে অপেক্ষা করলেন আরিফ সাহেব। দুইটা বাজতেই গামছা দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে, লুঙ্গি, সাদা গেঞ্জি পরে কোদাল হাতে মাটি কাটার লোকদের বেশে আরিফ সাহেব বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন। বাড়ির দুটো
গেটই খোলা রাখলেন। লাশটা নিয়ে ঢুকার সময় যেন সময় নষ্ট না হয়। গোরস্থানটা পাশের এলাকাতে। একটা লাশ চৌকিদারদের চোখ পেরিয়ে আনা কঠিন কিন্তু অসম্ভব না। আরিফ সাহেব গোরস্থান পর্যন্ত কোনো বাঁধা ছাড়াই পৌছালেন। গোরস্থানের গেইটটা খোলা। গোরস্থানটা বড় হওয়ায় রোজই এখানে লাশ দাফন করানো হয়। পুর্ণিমার আলোতে ৩টা নতুন কবর দেখা যাচ্ছে। কোনোটাতে মহিলা আছে নাকি বোঝার কোনো উপায় নেই। এখন পর্যন্ত যেহেতু আশেপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তাহলে এরমধ্যে আর কারো আসার সম্ভাবনাও নেই। একটা করে কবর খুঁড়ে দেখতে হবে। আরিফ সাহেব মাঝখানের কবরটা দিয়েই খুড়া শুরু করলেন। যতটা সহজে খুড়তে পারবেন ভেবেছিলেন ততটা সহজে খুড়া গেল না। বেগ পেতে হলো বেশ। উপরের মাটি সড়িয়ে বাঁশ এবং পাটি দেখতে পেলেন। সেগুলো সড়াতেই কাফনে মোড়া লাশ। আরিফ সাহেবের ভাগ্য ভালো লাশটা একটা মহিলার। লাশটা যেই ছুতে যাবেন হঠাৎ বেশ কয়েকটা টর্চের আলো তার চোখ ধাধিয়ে দিল। উপর থেকে একটা কন্ঠ শোনা গেল, ঠিক টের পাইছিলাম স্যার। সাথে সাথেই আফনেরে কল দিছি। হালায় লাশ চুর।এর আগের ২টা লাশও এই হালায়ই চুরি করছে মনে হয়।
.
আরিফ সাহেবের বিস্ময় কাটার আগেই পুলিশ তাকে হাত কড়া পরিয়ে থাপ্রাতে থাপ্রাতে পুলিশ ভ্যানে তুললেন। তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দিলেন না। গাড়ি সোজা চললেন পুলিশ ষ্টেশন।
.
.
.
মহিলাটির নাম আয়েশা। মাঝরাতে একা একা নির্জন রাস্তাটি ধরে হাঁটছেন। তার বাড়ি অজ-পাড়াগায়ে। স্বামীর সাথে রাগ করে ৬ মাস আগে বাড়ি ছেড়ে শহরে এসেছিলেন। বিয়ের ১৩ বছর পরেও কোনো সন্তানের মুখ দেখাতে পারেনি সে স্বামীকে। সে যে বন্ধা এটা পুরো গায়ে রটে গেল। স্বামী এতবছর পর করল ২য় বিয়ে। সতীনের সংসারে মন টিকল না। পৃথিবীতে তার আর কেউ নেই। রাগ করে চলে এলেন শহরে। কপাল ভালো থাকায় একটা বাড়িতে কাজ পেলেন। আজ ৬মাস পর মাঝরাতে চুরির অপরাধে সেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলো তাকে। একটা বাসে উঠে শহরের এই প্রান্তে এলেন। কিন্তু এতরাতে এখন কোথায় যাবেন ঠিক বুঝতে পারছেন না। তার সাথে একটা পুটলা এবং জমানো ৩ হাজার টাকা ছাড়া আর কিছুই নেই!
.
রাস্তার আশেপাশের সব বাড়িরই আলো বন্ধ। একটা বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। অবাক করার বিষয় বাড়ির বড় গেট খোলা। আয়েশার ভয় লাগলেও ধীরে ধীরে গেটের ভিতর প্রবেশ করলেন। উঠানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ কাঁঠাল গাছের দিকে তাঁকালেন! সেখান থেকে ৩টা কালো ছায়া তার দিকে তেড়ে আসছে। আয়েশা ভয়ে দৌড়ে গেটের বাহিরে না বেরিয়ে উল্টো বাড়ির ভেতর চলে যায়। বাড়ির গেটটা খোলা দেখে সে আরও বেশি অবাক হয়। বাড়িতে ঢুকে ভাবে এখনি কেউ চোর চোর বলে চিৎকার করবে। কিন্তু বাড়িতে কেউ নেই। একটা ঘর থেকে শুধু বাচ্চা একটা কন্ঠের গোঙানোর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। আয়েশা সেই ঘরে গিয়ে দেখে একটা ৮-৯ বছরের বাচ্চা মেয়ে মেঝেতে পড়ে রয়েছে। মেয়েটার শরীরে হাত দিতেই বুঝতে পারল প্রচন্ড জ্বর। পুরো বাড়িতে আর কাউকে খুঁজে পেল না সে! এই অসুস্থ মেয়েকে ঘরে ফেলে রেখে তার বাবা-মা কোথায় গেল এটাই ভেবে পাচ্ছে না আয়েশা। সে আর কিছু না ভেবে মেয়েটাকে বিছানায় উঠালো। বালতি এনে মেয়েটার মাথা ধুঁইয়ে দিলো, কিছুমাত্র জ্বর কমল না। আয়েশা চিন্তিত মুখে সারারাত মেয়েটার মাথার পাশে বসে রইল। সকাল হতেও কেউ বাড়িতে এলো না। মেয়েটার জ্বরও কমছে না। আয়েশা বাড়ি থেকে বের হয়ে ফার্মেসী থেকে জ্বরের ঔষধ আনলো, নাস্তা কিনে আনলো। নিজের বাড়ির মতোই চলাফেরা আরম্ভ করল যেন। আশেপাশের প্রতিবেশীদের দেখে কিছুটা ভয় পেলেও তারা তার কাছে কিছুই জানতে চায় না। মেয়েটার জ্বর কেন কমছে না। তার বাবা-মা ইবা কোথায়। আয়েশা নিজেই দুপুরে রান্না করেন। একবার সংকিত হন এটা ভেবে মেয়েটার বাবা-মাকে কেউ খুন করে মেয়েটাকে এখানে একা ফেলে যায়নিতো। তাকে পুলিশ এসে খুনের অপরাধে ধরে নিয়ে যাবে নাতো! পরে ভাবলেন,ধরলে ধরবে। মিথ্যা খুনের কথা স্বীকার করে বাকিটা জীবন না হয় জেলেই কাটিয়ে দিবেন। এখন আর তার হারানো বা পাওয়ার কিছু নেই। জীবন যেদিকে নিয়ে যাবেন সেইদিকেই ছুঁটবেন। আপাতত থাকার মতো তো একটা জায়গা পাওয়া গেল। আগে মেয়েটাকে সুস্থ করতে হবে।
.
মেয়েটার নাম আয়েশা জানে না। তার খোঁজও কেউ নিতে আসে না এই বাসায়। আলমারিটা তালা দেওয়া না। এখানে বেশ কিছু টাকা রয়েছে। আয়েশা স্বাভাবিক ভাবেই মেয়েটার (মাইশির) সাথে থাকে। প্রথমে ৩ দিন মেয়েটার জ্বর এক রকম থাকে। এরপর দিন থেকে কমতে থাকে। কিন্তু আয়েশা যেন কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এখন দিনে দিনে। তার পেট যেন একটু একটু করে ফুলছে। সে পেটের ভেতর যেন অন্য একটা প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পায়। ৭দিন পর মাইশি পুরোপুরি সুস্থ আর স্বাভাবিক হয়ে যায়। আয়েশা যেন তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার পেট ফুলে পুয়াতী মেয়েদের মতো হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারে তার পেটে একটা বাচ্চা রয়েছে। মাইশিকে সুস্থ দেখে আয়েশা অনেক আনন্দ পায়। সে ভাবে একটা অচেনা বাচ্চা মেয়েকে এইভাবে বিনা স্বার্থে সেবা করারা জন্য বিধাতা তার প্রতি তুষ্ট হয়ে তাকে একটা গায়েবী সন্তান দান করেছেন। নাহলে এক সপ্তায় এমনটা হবে কী করে! তার এত জীবনের ইচ্ছা, স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি।
.
মাইশির প্রতি তার হঠাৎ করে টান কী করে যেন কমে গেল। একসকালে মাইশি ঘুমাচ্ছিল। আয়েশা আলমারী থেকে টাকা এবং গয়না নিয়ে আবার
তার স্বামীর বাড়িতে চলে গেলো। সেই বাড়িতে যাওয়ার পর সবাই আয়েশার এই অবস্থা দেখে বিস্মিত হলো। অনেকে আয়েশার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলল। আয়েশা এসব গায়ে মাখলো না। সে যেন বাচ্চার নেশায় একটা ঘোরে চলে গেছে। তার সন্তান হবে! আর এটাতা তার স্বামীরই বাসা। সে রয়েছে এখানে। তার স্বামী বা সতীন এটা নিয়ে তাকে আর ঘাঁটালো না! কয়েক মাস পর তার প্রসব বেদনা শুরু হলো। দাই ডাকা হলো। তার সন্তান দেখে দাই হতভম্ব হয়ে গেল। হাত এবং পায়ে ৪টি করে আঙুল। চোখে কোনো মণি নেই। কী ভয়ংকর ভাবে চিৎকার করে কাঁদছে সে! জন্মের আধ-ঘন্টা পরেই মারা গেলো শিশুটি। তাকে কবর দেয়া হলো। আয়েশা ভেঙে পড়লেন।
.
ফাদার পিটার কোনো এক অজানা কারণে ভয়ংকর অসুখে ভুগতে ভুগতে মারা গেলেন।
.
আরিফ সাহেব ১৫দিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন এক পরিচিত পুলিশ কলেজ বন্ধুর সাথে দেখা হওয়ার পর। এর আগে লজ্জায় তিনি তার পরিচয় পুলিশদের দেয়নি। মাথা পেতে শাস্ত্রী গ্রহণ করেছিলেন। লাশ চুরি করতে যাওয়ার শাস্তি।
.
ভ্রূণটা মাইশির গর্ভ থেকে আয়েশার গর্ভে যাওয়ার পর মাইশি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। তার বাবা কোথায় আছে এটা সে জানতো না। আয়েশাকে বাবা প্রসঙ্গে কিছু বলেওনি সে। আয়েশার সাথে মাইশির ভালোই দিন কাটছিল। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে সে দেখে আয়েশা বাড়িতে নেই। তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। মাইশি একা বাড়িতে ভয় পেতে শুরু করে। তার বাবার কথা মনে পড়ে। কিন্তু ভয়ে একা বাড়ির বাহিরেও যেতে পারে না। এছাড়া বাড়িতে কোনো খাবার নেই আর সে রান্নাও করতে পারে না। তাই সে দুর্বল আর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই সময়েই আরিফ সাহেব বাড়িতে ফিরেন। মেয়েকে অসুস্থ দেখে তিনি ভাবেন আবার কোনো নারী হয়তো এই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন মাইশি একেবারে সুস্থ হয়ে গেছে। নারীদের এই বাড়িতে প্রবেশের পর মাইশি আর অসুস্থ হচ্ছে না। কিন্তু এইটা কী করে ঘটল আরিফ সাহেব আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলেন না। এটা তার কাছে একটা রহস্য হিসেবে থেকে গেল।
.
ও চলে গেছে। ওকে আর দেখা যাবে না। কিন্তু যখনি ওকে কেউ ডাকবে, ও আসবেই।
.
.
* * * * * সমাপ্ত * * * * *
.
.
লেখা: #Masud_Rana
.
.
[ ‘ও’ বর্ণটি দ্বারা গল্পে শয়তানকে বোঝানো হয়েছে। ‘ও’ এর উপর চন্দ্রবিন্দু দিয়েছি মূলত ‘ও’ বর্ণটাকে রহস্যময় করতে। এছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না আমার। ওঁ কে ওমের সাথে তুলনা করা বা চন্দ্রবিন্দু দ্বারা শয়তানকে সম্মানীত ব্যক্তি বোঝানোর কোনো প্রচেষ্টা আমি করিনি। এই চন্দ্রবিন্দুট স্রেফ একটা রহস্যের জন্য লিখেছিলাম। যাই হোক এর দ্বারা কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আমি লজ্জিত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এই পর্বে চন্দ্রবিন্দু তাই কেটে পোস্ট করেছি। যাই হোক গল্পটা শেষ। তাড়াহুড়া করে সমাপ্তি টেনে দিয়ে দিয়েছি। রহস্যটা শেষ করার চেষ্টা করেছি। জানিনা কেমন হয়েছে। গল্পের প্রথম পর্ব থেকে এই পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। আমার জন্য দোয়া করবেন। ]

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ