My_Mafia_Boss পর্ব-৪৯

0
717

My_Mafia_Boss পর্ব-৪৯
Writer: Tabassum Riana

রুহী থেমে গেলো।চোখ বড় বড় করে রুহান আসলামের লাশের দিকে চেয়ে আছে।চোখ জোড়া ভিজে একাকার হয়ে গেছে। রোয়েনের দুহাতের বাঁধনে এখনো বেঁধে আছে ও।রোয়েন আবার ও বলে উঠলো He is dead Ruhi.রুহীর হাত থেকে ছুড়িটা পড়ে গেলো রোয়েনের কথা শুনে।রোয়েন এবার ওর লোকদের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো সব প্রমান মিটিয়ে দিতে।আর সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করতে যেন কোন প্রমান না থাকে।রুহীকে জড়িয়ে বেরিয়ে আসে রোয়েন।
গোপনীয়তার সাথে রুহীকে গাড়িতে ঢুকিয়ে দিলো রোয়েন। রোয়েন এখনো নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছেনা ওর মায়াবতী এমন একটা কাজ করেছে।যে তার সাথে কথা বলতে পারেনা ঠিক মতো আর সে আজ খুন করে বসলো নিজের বাবাকে।

ভাবতেই অবাক হচ্ছে রোয়েন।আড় চোখে পাশে বসে থাকা রুহীকে দেখছে রোয়েন।রুহী মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে।চোখের কোনা গড়িয়ে পানি পড়ছে।রোয়েন হাত বাড়িয়ে বড় একটি নিশ্বাস নিয়ে রুহীর মাথায় রাখলো।বাসার সামনে গাড়ি থামিয়ে রুহী কে নিয়ে বেরিয়ে আসে রোয়েন।খুব ধীর পায়ে হাঁটছে রুহী।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিচে।ঘরে ভিতরে প্রবেশ করে রুহীকে কোলে তুলে নেয় রোয়েন।রুহী রোয়েনের গলা জড়িয়ে ধরেনি।কেমন অদ্ভুত এক ঘোরে আছে রুহী।কিছুতেই মস্তিষ্ক কাজ করছে না ওর।রোয়েন সিড়ি বেয়ে উপরে চলে এলো রুহীকে নিয়ে।রুমে এনে খাটে বসিয়ে দিলো রুহীকে।রোয়েন রুহীর জামা কাপড় এনে রুহীর কাছে এগিয়ে এলো।রুহী ঠিক সেভাবেই বসে আছে। রোয়েন রুহীর সামনে ফ্লোরে বসে পড়লো।কি হলো? মারলে কেন ওনাকে?ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো রোয়েন।
রুহী বসে আছে।চোখের পাতা নড়ছেনা ওর,যেন এক জিন্দালাশ হয়ে গেছে ও।রুহীর হাতের ওপর হাত রাখলো রোয়েন।হাতের আঙ্গুল গুলো নিজের আঙ্গুলের ভাজে ঢুকিয়ে নিলো রোয়েন।রুহী ফ্রেশ হতে চলো।রুহী!!!!!চলো ফ্রেশ হবা।বেশ জোরেই বলল রোয়েন। রুহী কিছুটা কেঁপে উঠে রোয়েনের দিকে ফিরে।রোয়েন চুপচাপ উঠে দাঁড়ায়।রুহী মাথা উঁচিয়ে রোয়েনের দিকে তাকাতেই কোলে তুলে নিলো রোয়েন।রুহীকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো রোয়েন।

আ আ আপনি কি ক কি করছেন? আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো রুহী।রুহীকে কোল থেকে নামিয়ে দাঁড় করালো রোয়েন।চুপ থাকো।রোয়েন রুহীর মাথার ওপর ঝড়না ছেড়ে দিলো।হঠাৎ ঠান্ডা পানি সহ্য না হওয়ায় রুহী রোয়েন কে জড়িয়ে ধরলো।পুরো ভিজে গেছে রোয়েন।শীতে কাঁপা কাঁপি করছে রুহী।রোয়েন মায়াবতীকে দেখছে।রুহীর খোলা চুল গালের সাথে লেপ্টে আছে।ভিজা চুলে কাউকে এতোটা সুন্দর লাগতে পারে ভাবনাতীত ছিলো রোয়েনের।রুহীকে গোসল করিয়ে সাদা কালো জামদানি শাড়ী দিলো রোয়েন।রুহীকে ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসিয়ে চুল মুছে দিতে লাগলো রোয়েন।রুহী মাথা নিচু করে বসে আছে।রোয়েন রুহীর দিকে তাকিয়ে বড় একটা নিশ্বাস ছাড়লো।ভিতরে কেমন লাগছে সেটা হয়ত রুহী বুঝতে পারছে।চুল মুছে রুহী কে খাটে বসিয়ে দিলো রোয়েন।কাজের লোকদের কল দিয়ে খাবার পাঠাতে বলল রোয়েন।কাজের লোক টা কিছুক্ষন পর খাবার নিয়ে রুমে এলো।রোয়েন প্লেট নিয়ে রুহীর সামনে বসলো।একলোকমা ভাত রুহীর মুখের সামনে ধরলো রোয়েন।রুহী হা করো।গম্ভীর কন্ঠে বলল রোয়েন।

চুপচাপ বসে আছে রুহী।মাথায় খুনের দৃশ্যটা ঘুরছে।পুরো শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠেছে রুহীর।রুহী!!!!!হা করো। ধমক দিয়ে বলে উঠলো রোয়েন।রুহী খাবার টুকু খেয়ে নিলো।রুহীকে খাইয়ে দিয়ে রোয়েন ও খেয়ে নিলো একটু করে।রুহীকে বুকে নিয়ে শুয়ে পড়লো রোয়েন।রুহীকে জড়িয়ে ধরার পর রোয়েন বুঝতে পারছে রুহী কাঁপছে।রুহীকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে নিলো নিজের বুকের মাঝে।বিকেলে আফজাল সাহেব আর আনিলা বেগম এলেন রুহীর খবর শুনে।আফজাল সাহেব রুহীর কাছে এসে বসলেন।মা কি হয়েছে তোর?রুহীর মাথা ধরে জিজ্ঞেস করলেন আফজাল সাহেব।রুহী চুপচাপ বসে আছে।আনিলা বেগম অপর পাশে বসে চুল হাতাচ্ছেন রুহীর।রোয়েন আফজাল সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো আপনারা থাকেন আমার ক্যাফে তে যেতে হবে।সব প্রমান মিটানো হয়েছে নাকি দেখতে হবে।ঠিক আছে বাবা তুমি যাও আনিলা বেগম বলে উঠলেন।আনিলা বেগম থেকে চোখ সরিয়ে রুহীকে এক নজর দেখে বেরিয়ে গেল রোয়েন।

ক্যাফেতে চলে এলো রোয়েন।সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে নিলো।ঐসময় কার একেএকটা ভিডিও ডিলিট করা হয়ে গেছে।রোয়েন ওর লোকদের সাথে কিছুক্ষন কথা বলে বেরিয়ে আসতেই লম্বা চুল কালো জ্যাকেট পরিহিত এক লোকের সাথে ধাক্কা খেলো।লোকটার চোখ দুটো খয়েরী বর্নের রুহীর চোখের মতো।লোকটি রোয়েনের দিকে হিংস্র চোখে তাকিয়ে ক্যাফের ভিতরে ঢুকে পড়লো।রোয়েন গাড়িতে এসে বসলো।ছেলেটা রোয়েনকে ধাক্কা দিয়েছে তাহলে এভাবে তাকালো কেন?ভাবনায় পড়ে গেল রোয়েন।কারোর সাহস হয়নি রোয়েনের দিকে চোখ তুলে তাকানোর।ভাবছিলো রোয়েন।বাসায় ফিরে এসে রুমে চলে এলো ও।আফজাল সাহেব আর আনিলা বেগম বসে আছেন।রোয়েন ভিতরে ঢুকতেই ওনারা উঠে দাঁড়ালেন।বাবা তাহলে আমরা যাই। রোয়েনের দিকে তাকিয়ে বলল আফজাল সাহেব।খেয়ে যাবেন রোয়েন বলে উঠলো।না বাবা আজ না আরেকদিন।তোমার মামী থাকবে রুহীর কাছে।একনাগাড়ে কথা গুলো বললেন আফজাল সাহেব।

রোয়েন মাথা নেড়ে রুহীর দিকে তাকালো এক নজর।আফজাল সাহেব চলে গেলেন।মামী পাশের রুমে গেলেন।রোয়েন ফ্রেশ হতে চলে যায়।চোখের সামনে হঠাৎ সেই ছেলেটার চেহারা ভেসে উঠে।ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে রোয়েন।রুহীর পাশে বসে ওর হাতের ওপর হাত রাখে।রুহী কেন মেরেছো ওনাকে?ওনি তো তোমার বাবা ছিলেন।রাগী গলায় বলে উঠলো রোয়েন।বাবা না সে মানুষ ছিলোনা বলে উঠে রুহী।চোখের পলক ফেললোনা। কি বলছো এসব? বাবাকে নিয়ে এসব বলতে হয়না।শান্ত গলায় বলল রোয়েন।রোয়েনের দিকে ছলছল চোখে তাকালো রুহী।সে বাবা না।মাকে মেরেছেন, মার আদর থেকে বঞ্চিত করেছেন আমায়।বলেই রোয়েনের বুকে পড়ে কাঁদতে লাগলো রুহী।তুমি জানলে কেমন করে?অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে রোয়েন।ঐদিন আপনি কথা বলছিলেন ওনার সাথে তখন শুনেছিলাম।রুহী কাঁদতে থাকে রোয়েনকে ধরে।রোয়েন আরো জোরে মায়াবতী কে জড়িয়ে নেয় রোয়েন নিজের সাথে।অনেক রাত পর্যন্ত কেঁদে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে রোয়েনের বুকে।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here