My_Mafia_Boss পর্ব-৪৩

0
2900

My_Mafia_Boss পর্ব-৪৩
Writer: Tabassum Riana
ফোন খুব জোরে ফ্লোরে আছাড় মারে রোয়েন।ফোনের কাঁচ ফেঁটে পুরো ফ্লোরে ছিটিয়ে গেছে।বুক ধক করে উঠে রুহীর।চোখ খুলে পাশে তাকাতেই রোয়েনকে দেখতে পায়।ফোঁস ফোঁস আওয়াজ বের হচ্ছে রোয়েনের ভিতর থেকে।রুহী উঠে বসে কি করবে বুঝতে পারছেনা।রোয়েন পা দিয়ে মোবাইল টাকে চেঁপে ধরে পুরো ভেঙ্গে ফেলে।অপর ফোনটি বের করে কল দেয় যেন কাকে।কানে ফোন দিয়ে রোয়েন বারান্দায় চলে আসে।হ্যালো।ডার্ক গ্রুপ লিডার রুহান আসলাম ইদানীং কি করছে সেটার পুরো ইনফরমেশন চাই।As soon as possible চিৎকার করে বলে উঠে রোয়েন।রুহী খাট ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।ফোনের ভাঙ্গা অংশ গুলোর দিকে চোখ পড়ে ওর।নিচে বসে বড় অংশ গুলো উঠিয়ে নিচে চলে আসে রুহী।পাকঘর থেকে ঝাড়ু এনে ছোট অংশ গুলো ঝুড়িতে উঠিয়ে নিলো।

রোয়েন কালো কোট পরে বেরিয়ে যায় কিছু না বলে।রুহী রোয়েনের চেহারা দেখে ভালো বোধ করছিলোনা।কিন্তু সে কথা ও বলছেনা রুহীর সাথে স্বাভাবিক ভাবে।রুহী চটজলদি ড্রাইভারকে কল করে।হ্যালো ওনি কি আপনার সাথে আছে?
না ম্যাম স্যার তো ওনার গাড়ি নিয়া চলে গেছে।আর এ গাড়িটা?কিছুটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে রুহী?স্যার তো আপনারে আনার পরদিনই এ গাড়ি কিনছে আপনার জন্য।

আ আমার জন্য??রুহী আহত কন্ঠে বলে উঠে।জি ম্যাডাম।ওনি যে গাড়িতে গেছে একটু পিছু নিবেন?খুব রাগের মাথায় বেরিয়ে গেছে।একটু যান ওনার পিছনে।জি ম্যাডাম ড্রাইভার বলে উঠলো।রুহী ফোন রেখে দিলো খাটের ওপর।কি করে ওনি কে জানে?রোয়েন লং ড্রাইভ নিয়ে বাসার দিকে রওনা দেয়।রুহীর ফোনে ড্রাইভারের নম্বর থেকে কল আসে।রুহী ফোন রিসিভ করতেই কেউ ধমক দিয়ে বলে উঠে এসব ননসেন্স কাজ কে শিখিয়েছে তোমায়? আ আমি আসলে……..থামিয়ে দিলো রোয়েন।জাস্ট সাটআপ।খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।আজ রাত ফিরছিনা।টুটটুট ফোন কেঁটে গেল।রুহী কান থেকে ফোন সরিয়ে অনেক্ষন ফোনের ওয়াল পেপারে দেয়া রোয়েনের ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকলো।

রাতে না খেয়ে রোয়েনের বালিশ বুকে জড়িয়ে শুয়ে পড়ে রুহী।কিছুতেই ঘুম হচ্ছেনা ওর।লোকটকে খুব বেশিই মিস করছে।কোথায় আছে কি করছে খেয়েছে কিনা?ভালো আছে নাকি সে?ভাবতে ভাবতে চোখে ঘুম নেমে আসে রুহীর।সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে স্কুলের জন্য রেডি হয়ে নিচে নামতেই চোখে মুখে হাসির বন্যা বয়ে যায় রুহীর।রোয়েন ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসে নিউজপেপারে চোখ বুলাচ্ছে রোয়েন।চোখ দুটো লাল রক্তবর্ন হয়ে আছে তার,তবে সেখানে রাগ নেই।রুহীর দিকে একনজর তাকিয়ে নিউজপেপারে মনযোগ দিলো রোয়েন।রুহী রোয়েনের পাশে বসে নাস্তা করতে শুরু করে।খাওয়ার মাঝে রোয়েনের দিকে তাকায় রুহী।আস্তে করে বলে উঠে খাবেন না?.

আমার টা তোমায় ভাবতে হবেনা।খেয়ে স্কুলে চলে যাও।গম্ভীর গলায় বলতে থাকে রোয়েন।আ আপনি যাবেন না?মাথা নিচু করে জিজ্ঞেস করে রুহী।
নিতে আসবো বলে থেমে যায় রোয়েন।রুহীর মুখে হাসি ফুঁটে উঠে।রুহী নাস্তা সেড়ে স্কুলের জন্য বেরিয়ে পড়ে।রোয়েন রুহীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বড় একটা নিশ্বাস নেয়।মায়াবতী কে খুব ককষ্ট দিয়ে ফেলছে ও।তবে আজ অনেকদিন পর মায়াবতীর মুখে হাসি ফুটে উঠেছে যখন রোয়েন বলছিলো নিতে যাবে।

রুহী স্কুলে চলে আসে।ক্লাশ ছুটির পর বেরিয়ে আসে স্নিগ্ধার সাথে।রুহী গেট থেকে বেরিয়ে রোয়েনের আসার অপেক্ষা করছে।ঐদিনের লোকটা রুহীর কাছে এগিয়ে আসে।রুহী কথা শুনো আমার বলতে লাগলো লোকটা।আশ্চর্য আপনার সাথে কোন কথা নেই আমার রুহী একটু সরে গিয়ে বলে উঠলো।

ঐ রোয়েন তোকে এভাবে কথা বলা শিখিয়েছে তাইনা?কিছুটা অভিমান করে জিজ্ঞেস করে বলল লোকটি।

শুনেন যা ইচ্ছা ভাবতে পারেন।যা বলার আমাকে বলুন ওনাকে কিছু বলবেন না।

হুম দেখতেই পাচ্ছি তোমাকে তো রোয়েন নিজের বশে রেখেছে।

রুহী মাথা ঘুরিয়ে লোকটার কথা গুলোয় পাত্তা না দেয়ার চেষ্টা করছিলো।

দেখো তুমি আমার একটা মাত্র মেয়ে।এখন তুমি যদি আমার সাথে কথা না বলো সত্যি মৃত্যু ছাড়া আর কোন রাস্তা থাকবেনা আমার কাছে।বলে চোখ মুছলো রুহান আসলাম।

কি বলবেন বলুন? লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল রুহী।

আমার সাথে চলে আয় মা। রুহান আসলাম কিছুটা বিনয়ের স্বরেই বললেন।

দেখুন এটা অসম্ভব। আমি কিছুতেই এমন টা পারবোনা।সংসার আছে আমার।

আচ্ছা তবে আমার সাথে মাঝে মাঝে এসে দেখা করতে হবে। পারবা?.

দেখি।কথা দিতে পারবোনা। বলে পিছনে ফিরে মাথা নিচু করে হাঁটতে থাকে রুহী।ঠিক তখনই কারোর বুকের সাথে ধাক্কা খায় রুহী।মাথাটা উঁচু করতেই রোয়েনকে দেখতে পায় রুহী।রাস্তা দিয়ে এভাবে হাঁটছো কেন ধমক দিয়ে উঠে রোয়েন।আ আ আসলে……রোয়েন থামিয়ে দিলো।চুপচাপ বাসায় চলো।

মাথা নিচু করে রোয়েনের সাথে গাড়িতে এসে বসে রুহী।

রোয়েন গাড়ি স্টার্ট দেয়।চলতে শুরু করলো গাড়ি।রুহী আড় চোখে রোয়েনকে দেখছে।যে যাই বলুক মানুষটাতো ওর।ওর লাল মরিচ বর।বড্ড বেশি ভালবেসে ফেলেছে মানুষটাকে।ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠে রুহীর।বাসার সামনে এসে গাড়ি থামায় রোয়েন।গাড়ি থেকে বেরিয়ে রুহীর পাশের দরজা টা খুলে দিতেই রুহী বেরিয়ে পড়ে গাড়ি থেকে।রোয়েন বাসার দিকে এগোতে নিলেই রুহী হাত ঊরেধরে ফেলল রোয়েনের। শুনুন বলে উঠে রুহী।রাগী চোখে পিছনে তাকায় রোয়েন।কি?রাগী গলায় জিজ্ঞেস করে রোয়েন।

মাথা নিচু করে রুহী। আ’ম সরি প্লিজ আর রাগ করে থাকবেননা।

রুহীর হাত থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলো রোয়েন।এসব আমাকে বলতে আসবেনা।রাগী গলায় বলল রোয়েন।তারপর হনহনিয়ে বাসার ভিতর ঢুকে পড়লো।

এভাবে বেশ কিছুদিন চলে যায়।রুহান আসলাম রুহীর সাথে ছুটির পরপরই দেখা করতে আসেন।রুহীকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে রাজি করানোর চেষ্টা করতে থাকেন।তবে মেয়েটা বড্ড বেশি ত্যাড়া স্বভাবের কিছুতেই মানতে চাইছেনা।

রোয়েন নিজের কাজের কেবিনে বসে আছে।ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে কি যেন ভাবছে।ঐদিন রুহান আসলামের প্রায় সকল লোককেই মেরে দিয়েছে ও।বাকি আছেন শুধু রুহান আসলাম।ভাবতে থাকে রোয়েন।রুহান আসলামকে কিভাবে মারবে ভাবছে রোয়েন।ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠে রোয়েনের।রুহীর গাড়ির ড্রাইভার কল করছে।রোয়েন কল রিসিভ করে কানে রাখলো ফোন।
হ্যালো স্যার।
হুম।
ম্যাম ক্যাফেতে বইসা কার জন্য অপেক্ষা করতেছে জানি?
রোয়েন উঠে দাঁড়ায় হোয়াট?চিৎকার করে বলে উঠে রোয়েন।
জি স্যার কিছুদিন ধইরা ম্যাম দেরি কইরা বাসায় আসে।
আগে বলিস নি ক্যান? রাগী গলায় প্রশ্ন করলো রোয়েন।
স্যার মাফ করেন।
ফোন কেঁটে দলের একজন লোককে ডেকে পাঠালো রোয়েন।
জি স্যার।
আমার বড় চুল টা বের করে দাও।(মাঝে মাঝে দরকারের সময় নকল চুল ব্যবহার করে রোয়েন।)
জি স্যার।
রেয়েন চুল পড়ে বেরিয়ে গেল।এখন আর রোয়েনকে চিনার উপায় নেই।গাড়িতে চেপে বসে রোয়েন।ক্যাফের দিকে যেতে লাগলো রোয়েন।

রুহীর সামনে রোয়েন আসলাম এসে বসলেন।কেমন আছো রুহী?
জি ভালো।মনে আছে তো আজকের দেখাই আপনার সাথে আমার শেষ দেখা।
তুমি যার কারনে আমাকে পর করছো সে কতো বড় খারাপ লোক তা তুমি জানোনা।
এসব বলার জন্য ডেকেছেন আমায়?কিছুটা রেগে প্রশ্ন করলো রুহী।
ও খুনি রুহী।ওর কাছে থেকোনা।তোমাকে ও মেরে ফেলবে।
শুনুন এসব কথা শুনার জন্য আসিনি।কি বলতে চান বলুন।আর রোয়েন আমার বর।সে কেমন আমি জানি।কিন্তু সে নিরপরাধ মানুষ কে মারেননা কখনো।সে যেমনই আমার দুনিয়া ওনি।
রুহীর সামনের বেঞ্চটায় রোয়েন বসেছিলো।চোখ ভরে এসেছে ওর।কেউ তাকে এভাবে ভালবাসতে পারবে,ওর বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতে পারবেনা।ভাবতেই অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করছে রোয়েনের ওর মায়াবতীর প্রতি।
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here