খেলাঘর পর্ব-৩৩

0
1680

খেলাঘর পর্ব-৩৩
লেখা- সুলতানা ইতি

এর মাঝে নির্ঝরিণী এসে যায়,বাসায় এসে আয়ানের কাছে সব কথা শুনে নির্ঝরিণী ভয় পেয়ে যায়, আপু তো এমন কখনো করে না আজ তা হলে কি হলো,আমাকে আনতে যাবে বলে তা ও গেলো না, কি হয়েছে আপুর
নির্ঝরিণী অনেক্ষন মিথিলার রুমের দরজায় নক করলো তার পর কোন রেসপন্স না পেয়ে ঘুমাতে চলে গেলো

মিথিলার নির্ঘুম রাতের মাঝে আর ও একটি রাত জমা হলো, ঘুমের যে তার সাথে শক্রুতা হয়েছে অনেক আগেই

সকাল বেলা মিথিলা ভাই বোনদের নাস্তা বেড়ে দিচ্ছিলো
নির্ঝরিণী আপু কাল রাতে তোমায় এতো ডাকলাম তুমি শুনলে না যে

মিথিলা- ওহ ডেকেছিস নাকি খেয়াল করিনি
নির্ঝরিণী অবাক হলো আপু তো এমন না
কি হয়েছে তার আমি কাল রাতে কখন ফিরেছি কার সাথে ফিরেছি সেটা ও জানতে চাইলো না
– আপু তুমি কি অসুস্থ?

মিথিলা- না আমি ঠিক আছি,আচ্ছা তোদের ফরম ফিলাপ কখন হবে

আয়ান- আর বেশি দিন নেই,কেনো

মিথিলা- এমনি জানতে চাইলাম আর কি

নির্ঝরিণী – আপু আজ তুমি স্কুলে যাবে না, মানে রেডি হচ্ছো না যে

মিথিলা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বল্লো
– নারে যাবো না চাকরী টা আর নেই

আয়ান আর নির্ঝরিণী দুজনেই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে মিথিলার দিকে তা হলে কাল রাতে আপুর মন খারাপের কারন এটাই ছিলো

মিথিলা- তোরা কোন চিন্তা করিস না, আরেক টা চাকরী ঠিক পেয়ে যাবো

শুধু টিউশনি দিয়ে সংসার চালাতে পারছে না মিথিলা নানান জায়গায় ইন্টার ভিউ দিয়ে লাভ হয়নি,মোটা টাকা আর মামা আংকেলের অভাবে আজ কাল চাকরী হয় না
চিন্তায় মিথিলার নাওয়া খাওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

তার উপর আয়ান আর নির্ঝরিণী জানালো আগামি পাচ দিনের মধ্যে পরিক্ষার ফি জমা দিতে হবে কই থেকে যে কি করবে
মিথিলা বসে বসে ভাবছে

এর মাঝে নির্ঝরিণী এসে বল্লো
-আপু কি এতো ভাবছিস বল,,টাকা না দিতে পারলে পরীক্ষা দিবো না তবুও তুই এমন মন মরা হয়ে থাকিস না

মিথিলা বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বল্লো
– নারে পাগলি সেই সব চিন্তা করছি না, এমনি একটা জব তো যোগাড় করতে হবে তাই না

নির্ঝরিণী – আপু আমি তো খুব ভালো গান পারি না মানে সবাই বলে,তুমি চাইলে আমি আমার গান দিয়ে একটা চেষ্টা চালাতে পারি

মিথিলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো নির্ঝরিণীর দিকে
মিথিলার তাকানো দেখে নির্ঝরিণী ভয় পেয়ে গেলো
মিথিলা- ঐ ছেলেটার সাথে কি তোর যোগাযোগ আছে নাকি

নির্ঝরিণী ভয়ে মিথ্যা বললো কই না তো, আমি তো গানের কথা তোমায় এমনি বলেছি

মিথিলা- আর কখনো যেন তোর মুখে এই সব না শুনি এখন যা

এই মাসে সব গুলো টিউশনির টাকা এক করে ও
কোন লাভ হয়নি আর ও কিছু টাকা বাকি থেকেই যায়

আয়ান- আপু আসবো?
মিথিলা – হুম আয়

আয়ান কোন ভনিতা না করেই বল্লো
-আপু তোমার দেয়া টিফিনের টাকা থেকে কিছু টাকা আমি জমিয়েছি প্রায় আটশো হবে,

সেগুলা তোমার টিউশনির বেতনের সাথে যোগ করে দেখো কতো হয়,আমাদের দুজনের পরীক্ষার ফি হয় কি না

মিথিলা অবাক হয়ে ভাইকে দেখে আবার গভীর মমতায় কাছে টেনে নিলো

মিথিলা- পাগল ভাই আমার ঐ টাকা টা তোর কাছেই রাখ, আসা যাওয়ার খরচ লাগবে না

আয়ান- তা হলে তুমি কোথা থেকে দিবে

মিথিলা- বিয়েতে আব্বুর দেয়া সোনার চেন টা বিক্রি করে দিয়েছি আজকে বিকেলের মধ্যে টাকা টা হাতে চলে আসবে

আয়ান- কিন্তু আপু চেন টা তো তোমার খুব প্রিয়ো

মিথিলা- আমার ভাই বোনের থেকে প্রিয়ো নিশ্চই নয়

আয়ান কিছু বলতে যাবে…
মিথিলা আয়ান কে থামিয়ে বল্লো আর কোন কথা নয় যাও পড়তে বসো
আয়ান চুপচাপ উঠে গেলো

আয়ান আর নির্ঝরিণীর পিছনে সব টাকা খরচ হয়ে গেছে,এখন সংসারের নিত্য দিনের খরচ চালাতে হিম সিম খাচ্ছে মিথিলা,আজ পাঁচ দিন থেকে ডাল আর কাচা মরিচ দিয়ে ভাত খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে গেছে আয়ান,

নির্ঝরিণী ও বিরক্ত কিন্তু তবু ও কিছু বলছে না, কি বা বলবে বোন কে আর ছাপ দিতে চায় না তাই মুখ বুজে সহ্য করছে কিন্তু আয়ান চুপ থাকেনি
– আপু আমি আর এই সব খেতে পারছি না

মিথিলা- একটু কষ্ট কর, দু একটা জবের ইন্টার্ভিউ দিয়েছি দেখি কি হয় তার পর আর এসব খেতে হবে না

আয়ান- তুই জানিস আমি মরিচ খেতে পারি না

নির্ঝরিণী – ভাই একটু সহ্য করলে কি হয় বল,আপু একা হাতে কয়দিক সামলাবে বল,আমরা দুজন কি পারি আপু কে হেল্প করতে

আয়ান – ধূর ভালো লাগে না,ভাতের প্লেট রেখে উঠে যায়

নির্ঝরিণী – ভাই সামনে খাবার রেখে উঠে যেতে নেই

মিথিলা – থাক বাদ দে নির্ঝর, দেখি রাতের জন্য ভালো কিছু আনতে পারি কি না

মিথিলা ও খাবার অসম্পূর্ণ রেখে উঠে যায় মন টা তার ভিষন খারাপ কি করবে সে, আয়নার সামনে দাড়াতেই নিজের নাক ফুলের দিকে নজর পড়ে মুহুর্তেই চোখ টা আনন্দে চিক চিক করে উঠে মিথিলা
আর দেরি না করে নাক ফুল খুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলো,,নাক ফুল বিক্রি করে সেদিন মাছ ভাতের ব্যাবস্থা করলো
রাতে সবাই তৃপ্তি করে খেলো কিন্তু দুজনের একজন ও জিজ্ঞাস করেনি,মাছ আনতে টাকা কোথায় পেলো কিন্তু এতে মিথিলার কোন আফসোস নেই
ভাই বোনের খুশিই তার খুশি

চলবে
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here