Friday, June 5, 2026







শুধু তুই Part-18

#শুধু তুই #
#Part_18
Writer_Raidah Islam Nova

মেহেদী,জন,এশা,ফারিশ সবাই হতবাক হয়ে ওদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো।আইভী কেন এমন করলো তা কিছুই বুঝলো না।রিনি এখনো এক হাত দিয়ে মেহেদীকে ধরে রেখেছে।হঠাৎ মেহেদী এক হেচকা টানে রিনিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো।

রিনিঃ কি হয়েছে মেহেদী?
মেহেদীঃ তোর সাহস কি করে হয় আমাকে টার্চ করিস? বড়লোক ছেলে পেলেই তার গলায় ঝুলে পরতে মন চায়।তোদের মেয়ে তো আমার জুতা পরিষ্কার করতেও রাখি না।তোর লেভেল দেখ আর আমার লেভেল দেখ।

রিনিঃ কি বলছেন আপনি এসব? আপনি আমাকে ভালবাসেন?
মেহেদীঃ তোর ভালবাসা মাই ফুট।তুই ভাবলি কি করে তোর মতো একটা বস্তির মেয়েকে মেহেদী ভালবাসবে।তোর সাথে এতোদিন অভিনয় করেছি।তুই ভাইয়ার কাছে আমার নামে বিচার দিয়ে মার খাইয়েছিস। সেদিনই আমি মনে মনে তোকে শায়েস্তা করার জন্য এই ফন্দি আঁটেছি।তোর সাথে যে আমি এতোদিন কথা বলছি এটা তোর ভাগ্য।যা ভাগ আমার সামনে থেকে।তোর যেতে হবে না আমি চলে যাচ্ছি।
রিনিঃ আপনি আমার সাথে এমন করছেন কেন? আমি জানি আপনি আমাকে ভালবাসেন। আপনার চোখ বলছে আপনি মিথ্যা কথা বলছেন।
( কাঁদতে কাঁদতে )
মেহেদী রিনির চুলের মুঠি ধরে বললো।

মেহেদীঃ এই তুই কে রে? তোকে আমি কৈফিয়ত কেন দিবো? আমার ওপর অধিকার খাটানো শুরু করেছিস।একদম জানে মেরে ফেলবো।আমি তোর সাথে শুধু নাটক করেছি।( শয়তানি হাসি দিয়ে)
জনঃ তুই এসব কি বলছিস মেহেদী?
মেহেদীঃ ঐ শালা চুপ।একদম ওর হয়ে ওকালতি করতে আসবি না।আমি আজ কতটা খুশি জানিস? আমাকে মার খাইয়েছিলো রিনি।আমি তার প্রতিশোধ নিতে পেরেছি। ওর সাহস কত বড়? আমার সাথে লাগতে এসেছে।তাই আমি ওকে ভালবাসার জালে ফেলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুললাম।ধূর আমার মুডটাই খারাপ হয়ে গেল এই ছোট লোকদের সাথে কথা বলে।

মেহেদী রিনির চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে শয়তানি হাসি দিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে গেলো।রিনি মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙ্গে পরলো।এশা সামনে এসে ওকে জরিয়ে ধরলো।রিনি নিজেকে এশার কাছ থেকে ছারিয়ে দৌড়ে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে গেলো।শুধু এশা ও জন একে অপরের দিকে তাকিয়ে স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে আছে। সবকিছু ওদের মাথার ওপর দিয়ে গেছে।ভেতরে কিছু ঢোকে নি।

সি. সি. টিভি ফুটেজে পুরো ঘটনা দেখলো একজন।মনে তার লাড্ডু ফুটেছে। যেভাবে প্লান করেছে ঠিক সেইভাবে হয়েছে।ফারিশের মন দু টুকরো হয়ে গেছে।
সে এখন সবচেয়ে বেশি খুশি। সবাইকে কষ্ট দিতে পেরেছে।সবাই তার কথামতো চলছে।

???

চোখ মুছে বাসার ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেলাম বাবা সোফায় বসে আছে। এত রাতে বাবাকে দেখে আমি খুব অবাক হলাম।এই সময় বাবা এখানে কি করে? বাবার তো আজ আসার কথা নয়।বাবা,চাচ্চু,চাচি সবার মুখটা গম্ভীর। কেউ কোন কথা বলছে না।আমি বাবার সামনে এসে খুশি হয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম।

আমিঃ বাবা তুমি এখানে? কখন এলে? বাড়ির সবাই ঠিক আছে? মা,রিজভী সবাই ভালো আছে তো? এমন অবেলায় এলে যে কোনো বিপদ হয়েছে?

বাবা কোন কথা না বলে আমার সামনে এসে সজোরে একটা থাপ্পড় মারলো।
আমিঃ বাবা—-
বাবাঃ চুপ একদম চুপ। আমাকে বাবা বলে ডাকবি না।আমি কোন পাপ করেছিলাম যে তোর মতো মেয়ে আল্লাহ আমাকে দিয়েছে।
আমিঃ বাবা কি বলছো এসব? আমি কি করছি?
বাবাঃ কি করিস নি সেটা বল।ছেলেটা কে?
আমিঃ কোন ছেলে?
বাবাঃ ন্যাকামী করছিস।কোথায় ছিলি এত রাত পর্যন্ত? ছবিতে যেই ছেলের সাথে তোকে দেখেছি সেই ছেলের সাথে।
আমিঃ বাবা আমি কিছু বুঝতে পারছি না।আমায় খুলে বলো। কি হয়েছে?

বাবা ফোনের থেকে আমার ও ফারিশের ছবি দেখে বেশ অবাক হলাম।কে পাঠিয়েছে এসব? গতকাল যে ফারিশ আমাকে জরিয়ে ধরে ছিলো সে ছবি,হোটেলে আমাকে খাইয়ে দিয়েছিলো সেই ছবি।আমরা একসাথে চা খেয়েছে সেই ছবি ও ভিডিও দেখে আমি অবাক।কে করলো এসব? চাচা- চাচী দুজনেই চুপ করে আছে।আমার চাচার থেকে আমার বাবা অনেক পাঁজী । বাবা রাগে বোম হয়ে আছে।

বাবাঃ আমি তোকে এসব করার জন্য এখানে পাঠিয়েছি।তোকে নিয়ে আমার কত স্বপ্ন ছিলো তুই সব শেষ করে দিলি।তোর আর পড়াশোনা করতে হবে না।বাড়ি চল তুই।বাড়ি গিয়েই তোকে বিয়ে দিয়ে দিবো।আমার আর তোকে পড়ালেখা করাতে হবে না।আমার মুখ তো উজ্জ্বল করে দিয়েছিস।সবকিছু গোছা এখনি তুই আমার সাথে গ্রামে ফিরবি।

আমি মাথা নিচু করে বাবার কথা শুনছিলাম।চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পরছে। রুমে গিয়ে
কাপড় গোছাতে লেগে পরলাম। এক হাত দিয়ে চোখ মুছছি আরেক হাত দিয়ে কাপড় ভাজ করছি।

চাচীঃ ভাইজান মেয়েটাকে মাফ করে দিলে হয় না।
চাচাঃ ছোট মেয়ে বোঝেনি।তাই বলে তুই এমনটা করতে পারিস না।
বাবাঃ তাই বলে একটা খ্রিস্টান ছেলের সাথে ও এসব করে বেরাবে আর আমি মেনে নিবো।এই ব্যাপারে আমি কোনো কথা শুনেতে চাই না।আমি একটু পরেই ওকে নিয়ে বের হবো।
চাচীঃ আজকের রাতটুকু থেকে যান।
বাবাঃ না ভাবি, আমি এক মুহূর্তেও থাকবো না।

আমি ল্যাগেজ গুছিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে এলাম। বাবা আমাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।চাচী আমাকে জরিয়ে ধরে অনেক কান্না করলো।চাচা মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।চাচার চোখ দুটো ভিজে ছিলো।বাসে উঠে গ্রামের পথে পাড়ি দিলাম।এশার সাথে দেখা হয়নি।ও এখনো বাসায় ফিরে নি।বাসের জানালায় মাথা হেলান দিয়ে রেখেছি।চোখ দুটো ও বেঈমান হয়ে গেছে। তাই তো এখন আর পানি পরছে না।

???

অন্ধকার রুমে একা একা বসে আছে ফারিশ।ইতিমধ্যে ৩ প্যাকেট সিগারেট শেষ। পাশে দুটো মদের খালি বোতল পরে আছে।২ঘন্টা আগেও সব ঠিক ছিলো।কি থেকে কি হলো?জন পুরো ঝামেলা শেষ করে বাড়িতে ফিরেছে।এশা ও জন মিলে মন খারাপ করেই বাচ্চাদের সাথে খাবার খেয়ে ফিরেছে।ওদের মনের প্রভাব যেনো বাচ্চাদের ওপর না পরে তাই অনেক কষ্ট করে মুখে হাসি রেখে ওদের সাথে সময় কাটিয়েছে।আর যাই হোক বাচ্চাদের তো বুঝতে দেয়া যায় না এখানে কি হয়েছে?

জনঃ ফারিশ তোর কোথাও ভুল হচ্ছে? আইভি তোর সাথে এমনটা করতে পারে না।এর পেছনে কারণ আছে। তোর সেই কারণটা খুঁজে বের করতে হবে।সেটা না করে তুই এখানে মদ গিলছিস।
ফারিশঃ কানের সামনে ঘ্যান ঘ্যান করিস না।আমার ভালো লাগছে না।আমাকে একা থাকতে দে।
জনঃ আমি বলছিলাম……
ফারিশ পাশে থাকা বোতলটা রেগে দেয়ালে ছুড়ে মারলো।চিৎকার করে বললো…
আমি তোকে যেতে বলেছি। তুই কি আমাকে একা ছারবি।তোর ছারতে হবে না আমিই এখান থেকে চলে গেলাম।থাক তুই তোর মতো।

ফারিশ একটা শার্ট হাতে নিয়ে দরজায় লাথি মেরে চলে গেল বাইরে। জন কিছুই বললো না।এক কথায় ফারিশকে ভয় পেয়ে গেছে।ওর চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে ছিলো। ওর লাল চোখ দুটো জন ভীষণ ভয় পায়। রাগ কমলে পরে ঘরে নিয়ে আসবে ফারিশকে।এখন ওর একটু একা থাকা দরকার।

অন্যদিকে…..

এশা বাড়িতে এসে থ মেরে বসে আছে।আইভীর চলে গেছে শুনে ওর মাথায় আকাশ ভেঙে পরেছে।সবকিছু অবিশ্বাস্য লাগছে।জনকে ফোন করে আইভী চলে যাওয়ার খবরটা পৌঁছে দিলো এশা।তখন ওর রুমে ঢুকলো ওর বাবা-মা।

এশার বাবাঃ আমি যত তারাতাড়ি সম্ভব এশা কে বিয়ে দিতে চাই।
এশার মাঃ কি যা তা বলছো? তোমার ও কি ভাইয়ের মতো মাথাটা গেলো?
এশার বাবাঃ তুমি বেশি বুঝো না।মেহরাবের বাবা আমাকে প্রস্তাব দিয়েছে। মেহরাবের বাড়ির সবাই এশাকে পছন্দ করে।দুদিন পরে ওকে ঐ বাড়ি থেকে দেখতে আসবে।তোমার মেয়েকে বলে দিও এখন থেকে ভার্সিটিতে যেতে হবে না।মেহরাব যদি বিয়ের পর ওকে পড়াশোনা করাই তাহলে তো ওর ভাগ্য ভালো। আর যদি না করাই তাহলে ওর পড়াশোনা এখানেই শেষ।

এশার মাঃ তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে কি বলো এসব? মেয়েটা সবে ভার্সিটিতে পা রেখেছে।তোমরা দুই ভাই মিলে কি শুরু করলে আমাদের মেয়েদের সাথে?
এশার বাবাঃ আমাদের মেয়ে আমরা বুঝবো।মান- সম্মান গেলে তো আমাদের যাবে।তোমাদেরতো যাবে না।মেয়ে রাত- বিরেতে অন্য ছেলের সাথে দেখা করে বাড়ি ফিরবে আর আমি সে মেয়েকে মাথায় তুলে নাচবো নাকি।তোমার আশকারায় মেয়েটা আজ এসব করে ঘরে ফিরতে সাহস পায়।

এশার বাবা রাগে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। এশার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে।
এশার মাঃ আমি পরেছি ফাটা বাঁশের চিপায়।তাদের বাপ-বেটির ভেজালে আমাকে মাঝে ফেলে।

এশা ওর মা- কে জরিয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।এশার মা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো।

এশার মাঃ চিন্তা করিস না।কিছু হবে না।আল্লাহর ওপর ভরসা রাখ।তুই কি জনকে ভালবাসিস?

এশাঃ হুম। জন আমার জন্য মুসলিম হয়ে যাবে বলছে।
এশার মাঃ ও যদি তোকে সত্যি ভালোবাসে এবং মুসলিম হয়ে যায় তাহলে আমি সবার সাথে যুদ্ধ করে হলেও তোকে জনের হাতে তুলে দিবো।নয়তো আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তোদের বিয়ে দিবো।আমার মেয়ে যাতে খুশি আমিও তাতেই খুশি।
এশাঃ আই লাভ ইউ মা।ইউ আর মাই বেস্ট মাদার।
এশার মাঃ হয়েছে আর কাঁদতে হবে না।ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাবার দিচ্ছি।
এশাঃ মা, আইয়ুর ব্যাপারটা?
এশার মাঃ আমি থাকতে তোদের চিন্তা আছে।সেটাও ম্যানেজ করে নিবো।যদিও আইয়ুর ব্যাপারটা সহজ নয়।ভাই যা রেগে আছে।তাও চেষ্টা করতে ক্ষতি কি?আমি কি জানতাম নাকি সে আজ ভাইজান না বলে চলে আসবে।জানলে তো তোদের জানিয়ে দিতাম।

আইভী ও এশা দুজনেই এশার মায়ের সাথে খুব ফ্রী। ভার্সিটির সব ঘটনা ওরা ওর মাকে বলেছে।১ম ১ম জন, ফারিশকে মেনে না নিলেও ওদের কথা ভেবে মেনে নিয়েছে। তার মতে ছেলে যদি ভালো হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই। ওদের কথা শুনে জন ও ফারিশকে ভালোই মনে হয়েছে।তাই তিনি অমত করেননি।তবে যেখানে শাসন করার সেখানে শাসন করেছে।এশা আগের থেকে ওর মা- কে আজকের পার্টির কথা জানিয়ে রেখেছিলো।তাই তো রাতে বাসা থেকে বের
হতে কোন সমস্যা হয় নি।

???

পরের দিন বিকেলবেলায় চেয়ারের উল্টো দিকে বসে অট্টহাসিতে ফেটে পরছে একজন। তার পেছনে শয়তানি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে আরোশ।মুখের অনেক জায়গায় কালো হয়ে আছে।এক চোখ ফোলা,গাল দুটো ও ফোলা ফোলা দেখাচ্ছে।মনে হচ্ছে কেউ ওকে ইচ্ছে মতো কেলিয়েছে।ঠোঁটের কোনা কেটে লাল হয়ে আছে।

—- তোমার মুখ- চোখের এই অবস্থা কে করেছে?
আরোশঃ না না কেউ করে নি।গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে তো তাই চোখ – মুখে আঘাত পেয়েছি।
( আমতা আমতা করে)
—- এক্সিডেন্ট করলে কারো এই অবস্থা হয় জানতাম না তো।কেউ মেরেছে নাকি?( ভ্রু কুঁচকে)
আরোশঃ না কে মারবে? কারো এতো বড় সাহস আছে নাকি?
—– ওহ্ রিয়েলি।
আরোশঃ এসব কথা থাক এখন।আমার বোধ হয় আইভীদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া দরকার।ওর বাবাতো ওর ওপর রেগে আছে। আর বলেছে বিয়ে দিয়ে দিবে।আমার তো সুযোগ টা কাজে লাগাতে হয়।
— এতো তাড়া কিসের তোমার? আইভী কি পালিয়ে যাচ্ছে নাকি? আমার এখনো কাজ বাকি আছে?সবেমাত্র প্যাঁচ শুরু করেছি।খেলাতো আরো বাকি আছে? চারজনের কানে বিষ ঢেলেছি। খেলতো সবে শুরু।
আরোশঃ কার কার কানে বিষ দিলে তুমি?
— আইভীর বাবার কাছে ছবি ও ভিডিও আমি পাঠিয়েছি।মেহেদীকে ভয় দেখিয়েছি।যদি আমার কথা না মানে তাহলে রিনির পুরো পরিবার গুম করে দিবো।যার কারণে মেহেদী রিনির সাথে এমন করেছে।বেচারা মেহেদী অনেক ভালোবেসেছিলো রিনিকে।এশার বাবার কাছেও তার মেয়ের কতগুলো ছবি পাঠিয়েছে। আর বাকি রইলো আইভী। তোমার প্রশ্ন থাকতে পারে আইভী এমন করলো কেন?সেটাও বলছি।আমি একটু ফাদার জুনিয়েটের কানে ও বিষ ঢেলেছিলাম।আমি আগে থাকতেই জানতাম ফারিশ মুসলিম হতে চায়।সেটাই বলেছি ফাদারের কাছে।এর পেছনে যে আইভী আছে সেটা ও বললাম।ব্যাস, ফাদার ফোন করে আইভীকে সেদিন ইমিডিয়েটলি ডাকলো।আইভী কালকে তারাহুরো করে সেখানেই গিয়েছিলো।ফাদার ওর কাছে ফারিশকে ভিক্ষা চেয়েছে। অনেক অনুনয়-বিনয় করে ওর মন গলিয়েছে।আর আইভীকে প্রমিস করিয়েছে ফারিশের জীবন থেকে চলে যাওয়ার জন্য। যত কিছু হোক ফাদার তো ফারিশকে মুসলিম হতে দিতে পারে না।তাহলে তার মান- সম্মান ধুলায় মিশে যাবে।সবাই বলবে ফাদার জুনিয়েটের পালক পুত্র মুসলমান হয়ে গেছে।রীতিমতো খবরের হেড লাইন হয়ে যাবে। তার কত বড় অপমান হবে সেটাতো সে জানে।

আরোশঃ এতো বুদ্ধি কোথায় রাখো?
—- সেটা তোমার না জানলেও চলবে।
আরোশঃ আমি কি কাল আইভীদের গ্রামে যাবো?
—- এখন নয়।কাল নাহান চৌধুরীর এনগেজমেন্টের পার্টি আছে।সেখানে কোন ঝামেলা করা যাবে না।
আরোশঃ বুঝতে পেরেছি।

ওদের সব কথা চেয়ারে থাকা ব্যাক্তির অজান্তেই জানলো ফারিশ।এতক্ষণ আরোশের সাথে ফোনে কানেক্ট ছিলো ও।ফারিশের মুখে বিশ্ব জয় করা হাসি।সব উত্তর পেয়ে গেছে সে।তার আর কিছু জানার নেই। গতকাল রাতে ফারিশ বের হয়ে আরোশকে তুলে এনেছিলো।ইচ্ছে মতো কেলিয়ে ওর মুখ – চোখের রং পাল্টে ফেলেছে।কেলানির চোটে ফারিশের কাছে সবকিছু খুলে বলেছে।আইভীকে কিডন্যাপ থেকে শুরু করে সবকিছু স্বীকার করে নিয়েছে।আরোশ এতো মার খেয়েছে যে ও ভয়ে ফারিশের সব কাজ করবে বলে রাজী হয়ে গেছে । আগামীকাল আরোশের জন্য অনেক বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।যেটা জনের দায়িত্বে আছে।ফারিশ ফোনটা কেটে দিলো।অনেক কাজ বাকি আছে তার। সবার ভুল ভাংগাতে হবে।পুরো ঘটনার পেছনে কে আছে সেটা ফারিশ বুঝে গেছে।

( চলবে)

#

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ