Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"রঙিন খামে বিষাদের চিঠিরঙিন খামে বিষাদের চিঠি পর্ব-৩৩+৩৪

রঙিন খামে বিষাদের চিঠি পর্ব-৩৩+৩৪

#রঙিন_খামে_বিষাদের_চিঠি
#পর্বঃ৩৩
#আর্শিয়া_ইসলাম_উর্মি

৮৫,
লিভিং রুমে চিন্তিত ভঙ্গিতে হাঁটুতে ভর দিয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে আয়াত। ভোর ৫টার ট্রেনে চড়ে বোনের বাসায় এসে হাজির সে। কিন্তু এসে বোন বা রায়াদ কাউকে পেলো না। উল্টে ভ্লাদ আর মাদালিনাকে দেখলো সে। দুজনকে একটুও পছন্দ নয় আয়াতের। এদের সঙ্গদোষে রিয়ানা আজ উচ্ছন্নে। অবশ্য ওদের সঙ্গ রিয়ানা তাদের দোষেই নিয়েছে। এটা তার আর বাবার ব্যর্থতা। এদের আর কি দোষ দেওয়া যায়? মাদালিনা আর ভ্লাদ দুই পাশের দুই সিঙ্গেল সোফায় বসে আছে। জুনায়েরও আয়াতের সাথে এসেছে৷ কিন্তু রায়াদ আর রিয়ানাকে না পেয়ে সে বেরিয়ে পরেছে খুঁজতে। আয়াত মানা করেও তাকে থামাতে পারেনি। সে নিজে যেতে চাইলেও যেতে দেয়নি জুবায়ের। কয়েকদিনের জার্নিতে আয়াত একদম নেতিয়ে পরেছে। আগের মতো জার্নি করা হয়না তার। হুট করে ২-৩দিনে এত ছুটোছুটি করে তার অবস্থা খারাপ। অথচ বাসায় বসেও যে চিন্তায় মাথা ফেঁটে যাবার যোগার হয়েছে! তার বেলায়? আয়াত আর স্থির থাকতে পারলো না। বেলা গড়িয়ে বিকেলের পথে। অথচ কারোর হদিস নেই। ভ্লাদ আর মাদালিনা দুই পাশের দুই সিঙ্গেল সোফায় বসে আছে। আয়াত একবার মুখ উঁচিয়ে তাকালো মাদালিনার দিকে। রিনরিনে স্বরে ওদের ভাষায় বললো,

“তোমার কোনো আইডিয়া আছে! কোথায় যেতে পারে?”

“ওর আইডিয়া কি করে থাকবে সিস? সেই লোক-টা বেরিয়ে যাওয়ার পরপর-ই তো রিয়া গেলো। লিনা আমার পরে এসেছে এখানে।”

বললো ভ্লাদ। আয়াত একটু বিস্মিত হলো। সে আসার পর মাদালিনা আর ভ্লাদকে একসাথে দেখেছে। তাহলে মাদালিনা পরে আসছে মানে? সে ভ্লাদকে জিগাসা করলো,

“পুরো বিষয়-টা আমায় একটু এক্সপ্লেইন করবে?”

ভ্লাদ সে আসার পর যা যা ঘটেছে সবই বললো। এরপর বললো রিয়ানা বেরিয়ে যাওয়ার ১০-১৫মিনিট পর মাদালিনা এসেছে। আয়াতের নিস্তেজ ভঙ্গিতে সোফায় গা এলিয়ে দেয়। বুঝে যায় সে, নিশ্চিত রায়াদকে সময় না দিয়ে রিয়ানা ভ্লাদের সাথে আড্ডা দিতে বসেছিলো। যার ফলাফল রায়াদ রেগে কোথাও গেছে। আর রিয়ানা তার পিছুপিছু। অবশ্য সব-টা তার আন্দাজ। বাকি-টা রায়াদের সাথে কথা বললেই বোঝা যাবে। আয়াতের এই অপেক্ষার মাঝে-ই জুবায়ের বাসায় ফিরলো। কাঁধের উপর তার ব্লেজার ঝুলছে। একহাতে তা ধরে ধীর পায়ে হেঁটে আসছে জুবায়ের। তাকে দেখে আয়াত উঠে দাড়িয়ে এগিয়ে গেলো। ব্যস্ত ভঙ্গিতে শুধালো,

“খোঁজ পেলেন?”

জুবায়ের মাথা কাত করে বোঝালো না। আয়াত ফোঁস করে দম ফেললো। সোফার সামনে টি-টেবিল থেকে ফোন-টা তুলে কল লাগালো বাবার কাছে। হানিফ হোসাইন কল রিসিভ করতেই সব খুলে বললো আয়াত। সব শুনে হানিফ হোসাইন বললেন,

“কি করবো আমি? লোকজন পাঠাবো? খোঁজ করতে বলবো?”

“তো কি করবে? দুজন-ই নিরুদ্দেশ বাবা। তোমার যতটুকু সোর্স! যতটুকু পাওয়ার। কাজে লাগাও। আমার চিন্তা হচ্ছে খুব।”

“তোর বাবার দৌড় এই ভিনদেশে শুধু বড় মানুষদের সাহায্য নেওয়া। দেখছি আমি বিষয়-টা। তুই শান্ত থাক আম্মু।”

“শান্ত-ই আছি। আগামীকাল সকাল অব্দি অপেক্ষা করবো। এরপর পুলিশের কাছে যাবল। তুমি আগেই কিছু করো না।”

“তবে আমি আমার মতো খোঁজার চেষ্টা করি।”

“যেটা ভালো মনে হয়।”

হানিফ হোসাইন কল কাটলেন আয়াতের জবাবে। আয়াত সোফায় বসে মাদালিনার দিকে তাকিয়ে বললো,

“তোমরা বাসায় যাবে?”

“না সিস। রিয়ার জন্য চিন্তা হচ্ছে।”

মাদালিনা উত্তর দিলো। আয়াত জবাব দিলো না। জুবায়ের দরজার পাশে কাঁচের জানালার সামনে দাড়িয়ে দৃষ্টি ফেলে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। আয়াত উঠে তার পাশে এসে দাড়ালো। কাঁধে হাত রেখে বললো,

“চিন্তা হচ্ছে খুব?”

“রায়াদের জন্য। রিয়ানা সব চিনে, বুঝে। তাই ওর ভয় পাচ্ছি না আমি।”

“আমিও।”

৮৬,
আয়াত নিষ্প্রভ মলিন ভাবে হাসার চেষ্টা করে বললো। জুবায়ের তার পানে একবার তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ঘড়ির কাটার সময় সন্ধ্যা ৬টার ঘরে ছুঁই ছুঁই। অথচ তারা এসেছে সকাল ৯টায়। এখনও দুজনের একজনেরও দেখা পেলো না। আয়াত চিন্তিত হয়ে উপর তলায় চলে আসে। ঘর টা পরিপাটি। অথচ তার বোন অগোছালো এক মেয়ে। সময় কি মানুষকে পরিবর্তন করে এভাবেই? নাকি অভ্যাসগুলোকে পরিবর্তন করে? আসলে ঠিক কোন-টা হয়! বুঝতে পারলো না আয়াত। মানুষ-টা তো একই থাকে। বদলায় শুধু অভ্যাস। এইজন্য হয়তো তার অগোছালো বোন-টা গোছালো হলো। বিছানার এক কোণায় রিয়ানার ফোন পরে আছে। সাথে রায়াদের ফোনও। একজনও ফোন নেয়নি। নিলে হয়তো এমন হতো না। কল করে অন্তত খোঁজ নেওয়া যেত। আয়াত চোখ বন্ধ করে নিলো। তার ভালো লাগছেনা কিছু। এরমাঝেই জুবায়ের রুমে আসলো। ব্লেজার সোফায় ছুড়ে শার্টের উপরের বোতাম দু’টো খুলে হাতা গোটাতে গোটাতে আয়াতের পাশে বসলো। ঘাড় খিঁচে আসায় নিজ এক হাতে চেপে ধরে বললো,

“সারাদিন মনে হয় না কিছু খেয়েছো৷ বাইরে চলো। কিছু খেয়ে আসা যাক। নিচে ছেলে মেয়ে দু’টো ঠায় বসে আছে রিয়ানার অপেক্ষায়। ওদেরও তো খিদে পেয়েছে। ওরা তো বাচ্চা নয়৷ এত টেনশন করছো কেন?”

“টেনশন করছিনা। আমি ভাবছি।”

আয়াত চোখ বন্ধ করেই জবাব দিলো। জুবায়ের আয়াতের পাশে ধপ করে শুয়ে পরলো। আয়াতকে হেঁচকা টানে বুকে টেনে চুলে বিলি কেটে দিতে শুরু করলো। কপালে আলতো ম্যাসাজ করে দিতে দিতে বললো,

“কি ভাবছো? যে ওরা একে অপরের সাথে ঝগড়া করছে?”

“ভরসা নেই। কেউ কাউকে সহ্য করতেই তো পারে না। কি বলবো আর?”

আয়াত আবেশে চোখ আরও একটু জুবায়েরে বুকে সিধিয়ে গেলো। জুবায়ের বুঝলো কি করে তার মাথা ব্যথা করছে! কি সুন্দর বুকে আগলে নিলো। টেনশনের সময় ভালোবাসার মানুষের ছোট্ট এই কেয়ারগুলো এত শান্তি দেয়! ইশশশ। আয়াত স্মিত হাসলো। দুহাতে জুবায়েরকে জড়িয়ে ধরে লেপ্টে রইলো তার বুকের মাঝে। জুবায়ের আলতো হাসলো। রায়াদ যদি রিয়ানার সাথে থাকে! তবে তার চিন্তা নেই। কিন্তু বাসায় আসছে না কেন? এটাই চিন্তা। কিন্তু বাসায় আরও দুজন মানুষ আছে। তাদের বসিয়ে রেখে দুজনে এভাবে রুমে শুয়ে আছে। বিষয়টা শোভনীয় নয়। জুবায়ের আয়াতের কপালে চুমু দিয়ে আদুরে স্বরে ডাকলো,

“আয়াত এই আয়াত!”

“হু বলুন।”

আয়াত আবেশ জড়ানো কণ্ঠে জবাব দেয়। জুবায়ের আয়াতকে শান্তি পেতে দেখে আর উঠাতে চাইলো। কপালে, চোখের পাতায় গালে সবশেষে ঠোঁটে দীর্ঘ সময় নিয়ে চুমু দিয়ে বললো,

“একটু রেস্ট করো। আমি খাবারের ব্যবস্থা করি৷ নিচে আরও দুজন আছে। এভাবে ওদের রেখে দুজন শুয়ে আছি। আরও দুজন মিসিং। খবর নেই। এই সময়ে এমন বউ নিয়ে শুয়ে থাকা মানাচ্ছে না।”

জুবায়ের একটু হেসেই বললো শেষের কথা। আয়াত জুবায়েরের বুকে কিল দিয়ে বললো,

“বাবাকে জানিয়েছি না? ওদের খোঁজ বা দেখা যাবে ওরা-ই আসবে। প্রথমে চিন্তায়৷ নিজেকে পাগল পাগল লাগলেও এখন চিন্তা কমে এসেছে। দুইটা-ই ঘাড়ত্যাড়া। নিশ্চিত কোনো সমস্যায় আঁটকে ঝগড়া করতে শুরু করেছে। একজন বাসায় আসবেনা। আরেক জন হয়তো দেখো নিয়ে আসার জন্য জিদ ধরে বসে আছে। ওরা ফিরলে দেখবে এটাই শুনতে পারবো।”

জুবায়ের হাসলো আয়াতের কথায়। আলগোছে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে নিচে আসলো। ভ্লাদকে সোফাতেই ঘুমাতে দেখে মাদালিনার দিকে তাকালো সে। মাদালিনা গালে হাত দিয়ে অন্য হাতে ফোন দেখছে। সে তার উদ্দেশ্যে ধীর গলায় ইংলিশে বললো,

“তোমরা খাবেনা কি? রাত হয়ে আসলো। মনে তো হয়না আসার পর থেকে কিছু খেয়েছো!”

মাদালিনা মাথা তুললো। রিয়ানার কাছে ওদের ব্যাপারে শুনেছে। ছবিও দেখেছে। আবার আসার পর আয়াতের সাথে দেখা হলে জুবায়েরের সাথে পরিচয় করিয়েও দিয়েছে আয়াত। এজন্য সেও জুবায়ের যেন বুঝতে পারে! সেভাবেই ইংলিশে বললো,

“আমরা কিছু খাবো না ভাইয়া। রিয়া আসুক। আমরা বাসায় যাবো। বাসায় প্যারেন্টস টেনশন করছে।”

“কিন্তু আমার সাথে একটু আশেপাশে কোনো রেস্টুরেন্ট থাকলে চলো তো। আমাদের খিদে পেয়েছে। আমাদের খেতে হবে।”

মাদালিনা উঠে দাড়ালো জুবায়েরের কথা কানে যেতেই। এরপর ভ্লাদের দিকে একবার তাকিয়ে জুবায়েরকে বললো,

“লেট’স গো।”

৮৭,
একটা এপার্টমেন্টের ৭নম্বর ফ্লোরে এক বান্ধবীর বাসার ড্রইং রুমে বসে আছে রিয়ানা। সামনে তার বাঙালি বান্ধবী তাহিয়া ব্যস্ত ভঙ্গিতে একবার এ মাথা তো একবার ও মাথা পায়চারি করছে। রিয়ানা বেশ ক’বার তাহিয়াকে খেয়াল করে এবার বিরক্ত হয়ে বললো,

“থামবি তুই? কি শুরু করছিস?”

তাহিয়া থামলো। কোমড়ে হাত দিয়ে দাড়িয়ে বললো,

“ছেলে-টার এখনও ঘুম ভাঙেনি। বিষয়-টা সিরিয়াস। আমার চিন্তা হচ্ছে।”

“রাস্তায় দেখেশুনে গাড়ি ড্রাইভ করতে পারিসনি?”

“বইন এটা তো বিডি না যে জ্যাম থাকবে! আমি ভয় করবো। সিগনাল মেনেই ড্রাইভ করেছি। মাঝখানে এই লোক এসে জীবন দিতে আগ্রহ প্রকাশ করবে? এটা আমি জানতাম নাকি?”

তাহিয়ার কথায় বিরক্তির রেশ কয়েক দফা বাড়লো রিয়ানার। মেজাজের খেই হারিয়ে বললো,

“ঘুম ভাঙলে নিয়ে বিদায় হবো। এত পায়চারি করার কি হয়েছে?”

“আমার বেডরুমে আমার বেডে একটা ছেলে শুয়ে আছে। বিষয়-টা আমায় ভাবাচ্ছে।”

“চুপ, একদম চুপ। আর একটা কথাও বলবিনা। তোকে পাকনামি করে বাসায় এনে খাবারের পর ঘুমের ইনজেকশন দিতে কে বলেছিলো?”

“ছেলে-টা কষ্টে কাতরাচ্ছিল। এজন্য ভাবলাম ইনজেক্ট করি! একটু ঘুমিয়ে নিক। কিন্তু সময়ের রেশ ছাড়িয়ে মাত্রারিক্ত ঘুমাবে! এটা কে জানতো? ”

“বোকামির একটা লিমিট থাকে। সব ছাড়ায় গেছিস। সর চোখের সামনে থেকে। বললাম আমার বাসায় দিয়ে আয়! না, তার গাড়ির সামনে পরেছলো বলে! সুস্থ না হওয়া অব্দি এখানে রাখবে। যত্তসব৷”

“আরে এখানে পুলিশি ঝামেলাও আছে। ভুলে কেন যাস?”

“চুপ। কফি বানিয়ে আন যা। আমার মাথা ধরে যাচ্ছে।”

তাহিয়া মুখ ফুলিয়ে ফেলে রিয়ানার ধমকে। রিয়ানার কথামতো চলে যায় কফি বানাতে। রিয়ানা সোফায় গা এলিয়ে বসে। তাহিয়া মেয়ে-টা এ বছরের উইন্টার সীজনে তার সাথে ভার্সিটিতে এডমিট হয়েছে। একই বিভাগ হয়ে একপ্রকার সে নিজেই আগ বাড়িয়ে রিয়ানার সাথে একটা বন্ডিং তৈরি করে। রিয়ানা প্রথম দিকে পাত্তা না দিলেও তাহিয়ার পাগলামি দেখে মেনে নেয় ফ্রেন্ডশিপ করার কথা। তাহিয়া এসেছিলো সে বাঙালি বুঝে ফ্রেন্ডশিপ করতে। তাদের ডিপার্টমেন্টে বাঙালি স্টুডেন্ট তেমন নেই বললেই চলে। এজন্য একটু কমফোর্ট জোন রাখতে রিয়ানা নিজ স্বার্থেই ফ্রেন্ডশিপ স্বীকার করে। সকালে রায়াদের খোঁজে বের হওয়ার পর হন্তদন্ত হয়ে সেন্টারের কাছাকাছি আসতেই দেখে রাস্তায় রায়াদ পরে আছে। আর তাহিয়া এই ঘটনায় কান্না করে দিয়েছে প্রায়। পরে তাহিয়ার থেকে জানতে পারে ড্রাইভ করতে করতে সিগনাল রেখে মেইন রোডে রায়াদ রোড ক্রস করতে ধরেছিলো। সিগনাল না থাকায় তাহিয়া নিশ্চিন্তে ড্রাইভ করছিলো। রায়াদকে খেয়াল করে ব্রেক করতে করতেও ধাক্কা লেগে যায়। তাতে বড়সড় আঘাত না পেলেও কপাল ফেটেছে। কোমড় সহ হাতেও বেশ কিছু জায়গায় ব্যথা পেয়েছে। জার্মানিতে এই ছোট্ট ঘটনা বড় ইস্যু। তাহিয়াকে পুলিশের কাছে বড় জরিমানা গুণতে হয়েছে। দোষ না করেও দোষ তার হলো। এরপর রায়াদকে হাসপাতালে নিয়ে ট্রিটমেন্ট যা করার করে নিয়ে বাসায় ফিরতে চেয়েছিলো রিয়ানা। কিন্তু তাহিয়া জিদ ধরে তার বাসায় আনে। বলে রিয়ানা একা সামলাতে পারবেনা। কারণ তখনও রায়াদের অবস্থা বেঁহাল। রিয়ানা ওর পাগলামির সামনে টিকতে না পেরে এখানে এসেছে। আয়াত এখানে এসে কোন নাম্বার নিয়েছে! তার জানা নেই। ফোন-টাও বাসায়। নয়তো ফোন দিতো। অথবা নাম্বার জানা থাকলে ফোন দিতে পারতো তাহিয়ার ফোন দিয়ে। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে তাহিয়া বাসায় এনে মেডিসিনের মাঝে ঘুমের ইনজেকশন দেখে পাকনামি করে রায়াদকে পুশ করে দিয়েছে। রায়াদ এমনি শরীরের ব্যথায় নড়তে পারছিলো না। তারমাঝে ঘুমের ওষুধ। বেঘোরে পরে পরে ঘুমাচ্ছে সে। বাসায় যেতে হবে। সকালে ভ্লাদকে রেখেই বেরিয়ে এসেছিলো। কি যে একটা বাজে সিচুয়েশনে আঁটকে গেলো সে! কারোর নাম্বার মুখস্ত রাখেনা রিয়ানা। নয়তো কল করা যেত। ধ্যাত! ভালো লাগছেনা কিছু। রিয়ানা নিজের উপর বিরক্ত হয়ে উঠে দাড়ালো। তার থেকে বেশি বিরক্ত লাগছে রায়াদকে। অসভ্য ছেলে একটা! এভাবে বেরিয়ে আসতে কে বলেছিলো। কোনো নিয়মকানুন জানেনা। আর বাঁধিয়ে বসলো এক বিপত্তি। কে বলেছিলো রোড পার হওয়া তাকে দেখে। তাড়াহুড়ো দেখানো না তাকে! ঠিক হোক একটু। মজা দেখাবে সে। এরমাঝেই তাহিয়া কফি বানিয়ে নিয়ে আসে। রিয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,

“এখনও বললি না ছেলে-টা কে? তোর সাথে কিসের সম্পর্ক? ওর এমন বাজে সিচুয়েশন দেখে এত চিন্তিত কেন তুই? কোনো ছেলের জন্য তো এই একবছরে দেখলাম না এত চিন্তিত! অস্থির চিত্তে পার করতে! ভালো টালো বাসিস নাকি? বাই দ্যা ওয়ে ছেলে-টা কিউট কিন্তু!”

তাহিয়া প্রশ্নগুলো খাঁমোখা মনে হলো রিয়ানার কাছে। জবাব দিলো বনা। কফির মগ হাতে নিয়ে পা বাড়ালো সেই রুমের দিকে! যেখানে রায়াদ আছে। ঘুম না ভাঙলে জোড় করে ভাঙাবে। এরপর বাসায় যেয়ে তবে দম। বে’আক্কেল ছেলে একটা। সারাটা দিন দৌড়ের উপর রাখলো তাকে।

চলবে?

#রঙিন_খামে_বিষাদের_চিঠি
#পর্বঃ৩৪
#আর্শিয়া_ইসলাম_উর্মি

৮৮,
রায়াদের নিস্তেজ মুখপানে দৃষ্টি আবদ্ধ রিয়ানার। নিজের রুমের সিঙ্গেল সোফায় বসে হেলান দিয়ে বসে সোফার সামনে ছোট্ট টি-টেবিলে পা তুলে দিয়ে বসে আছে। হাতে সিগারেট জ্বলছে। সিগারেটে ধোয়ায় খানিক পরপর মুখের উপর ধোয়ার কুন্ডলী পাকছে। চিন্তায় মাথা ফেটে যাবার যোগার তার। দু’টো দিন হলো রায়াদ এমন তার বিছানায় পরে আছে। ঘাড়ত্যাড়া ছেলে-টাকে বাসা থেকে বিদায় করতে পারলো না। হাতে-পায়ে এমন চোট পেয়েছে! দাড়ালে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে। তখন কারো একজনের সাহায্য নিতে হয়। হাসপাতালে রাখা লাগতো। অসভ্য ছেলে-টা জিদ করে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করাতে বাধ্য করেছে। তাহিয়ার বাসাতে সেন্স ফেরার সাথে সাথে আরেক জিদ তার বাসায় আসবে। রাতের বেলাতেই তাহিয়ার সাহায্য নিয়ে বাসায় এনেছে। আনার পর এই যে বাসায় তার রুমে শুয়েছে! আর উঠছেনা দরকার ছাড়া। রাতের চোটে মাথার রগ দপদপ করছে রিয়ানার। রায়াদের জিদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে আয়াত এবং জুবায়ের৷ দুজনই রায়াদের মুখের দিকে তাকিয়ে মেনে নিতে জোড় করেছে তাকে। রায়াদের শারীরিক অবস্থা দেখে রিয়ানা দমে গেছে। সবকিছু মুখ বুঁজে মেনে নিয়েছে। এখন বসে অপেক্ষা করছে কখন ঘুম-টা ভাঙবে! আর তার রুম থেকে বের করবে। আয়াত আর রিয়ানা একরুমে, রিয়ানার রুমে জুবায়ের আর রায়াদ থাকে। অসুস্থতার ফায়দা নিচ্ছে রায়াদ। এটা রিয়ানা ভালো মতোই জানে। তাকে জব্দ করতে চাচ্ছে! জব্দ করা আজ বের করবে। রিয়ানা হাতের সিগারেট পুরিয়ে আরও একটা সিগারেট ধরালো। বাংলাদেশ থেকে ফেরার পর এই এতদিন পর সিগারেট ধরিয়েছে সে। রায়াদ চাচ্ছে-টা কি? এই চিন্তা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। আয়াত নিচে রান্না করছে। জুবায়ের রায়াদের ভার্সিটিতে সব ব্যবস্থা করতে হবে বলে রায়াদর সবকিছু উর্জবার্গ থেকে আনার জন্য চলে গেছে ভোর পাঁচ টার ট্রেইনে। রিয়ানার ঘুম ভাঙতেই নিজের কাপড় নিতে রুমে এসে রায়াদকে তার বিছানায় আরাম করে ঘুমাতে দেখে তার মেজাজ চটে যায়। নিজের বিছানা অন্য বিছানায় আচমকা ঘুমালে তার ঘুম হয়না। ৩-৪দিন সময় লেগে যায় মানিয়ে নিতে। তার ঘুম নষ্ট করে এখানে অন্যজন আরামে ঘুমাচ্ছে? রাগের চোটে সে সিগারেট ধরিয়েছে। খাক বা না খাক! বাসায় সবই এনে রেখে দেয় রিয়ানা। মন খারাপ থাকলে বিয়ার হোক বা ওয়াইন অথবা হোক সিগারেট! সে কিছু একটা মুখে তুলে। নতুবা তার শান্তি হয়না। বড় হলো তো এসব করেই। এতদিনের অভ্যাস কি আর বদলায়? রিয়ানার ভাবনা চিন্তার মাঝেই রায়াদ চোখ পিটপিট করে তাকালো। তা দেখে রিয়ানা গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো,

“বেলা বাজে ন’টা। ঘুম ভাঙলো তবে?”

রায়াদ রিয়ানার গলার স্বর শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। তাকাতেই চমকালো সে। রিয়ানার হাতে সিগারেট দেখে ব্যথা ভুলে হন্তদন্ত হয়ে তার সামনে আসার চেষ্টা করতেই পায়ের রগে টান পরলো তার। ব্যথায় ককিঁয়ে উঠতেই রিয়ানা সিগারেট ফেলে রায়াদের দু বাহু আকড়ে ধরলো। ধরে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে খিটখিটে মেজাজে বললো,

“ঘুম ভাঙতে না ভাঙতেই বাঁদরামি? চিড়িয়াখানা পেয়েছেন এটা?”

রায়াদ মৃদু হাসলো রিয়ানার কথায়। তার জন্য রিয়ানার ব্যস্ততা দেখে মজার ছলে বললো,

“আমি না হয় মরে যাই! বাঁদরামি করি। তোমার তাতে কি?”

৮৯,
রায়াদের মুখে প্রথমবার তুমি সম্মোধন শুনে রিয়ানা চকিতে রায়াদের দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলালো। থমথমে গলায় বললো,

“আপনি ছেড়ে হঠাৎ তুমি?”

“৬-৭বছরের ছোট আমার থেকে। আপনি করে অনেক বললাম। আর সম্ভব না।”

“বেশ উন্নতি। এবার নিজের অসুস্থতা ছুটিয়ে বাসা থেকে বিদেয় হোন। সব শান্তি উধাও করে দিয়েছেন।”

রায়াদ স্মিত হেসে নিজের একহাত কোনোমতে উঠিয়ে রিয়ানার গাল টিপে দিয়ে মজা করে বললো,

“ইশ রে বাচ্চা মেয়ে-টা। রাগলে এত সুন্দর লাগে। হাসলে না জানি কত সুন্দর লাগবে! ও মেয়ে একটু হাসো প্লিজ! অনেক তো রাগ দেখলাম। এবার একটু হাসো প্লিজ!”

রায়াদ কথাগুলো বলার পর রিয়ানা হতভম্ব। ২২বছর চলছে তার। সে বাচ্চা? লাইক সিরিয়াসলি? সে কড়া গলায় বললো,

“আর একবার আমায় বাচ্চা বলবেন? সোজা কোলে চড়ে বসে থাকবো। তখন বাচ্চাদের মতো সামলিয়েন।”

“এটা তো সোনায় সোহাগা মেয়ে। চাইতেও তোমায় কাছে পাই না। তখন তোমার ইচ্ছায় পেয়ে যাবো। কত্ত মজা না? বাচ্চা মেয়ে একটা। গাল ফুলালে কি কিউট লাগে। ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলি।”

“আহারে এত খাওয়ার শখ? তো চলেন, শুরু করেন খাওয়া। দেখি আমায় খাওয়ার মতো দম আপনার কতটুকু?”

রায়াদ ফাঁকা ঢোক গিললো এবার। এ মেয়ে-কে একটু লজ্জায় ফেলতে চায়। কিন্তু মেয়ে-টা ঘুরে উল্টে তাকেই লজ্জায় ফেলে দেয়। কি বজ্জাতের বজ্জাত। রায়াদ রিয়ানার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বিছানায় বসলো। থমথমে গম্ভীর মুখে ফ্লোরের দিকে দৃষ্টি মেলে বললো,

“সিগারেট কেন খাচ্ছিলে?”

“জবাব দিতে বাধ্য নই। আর প্লিজ আমায় তুমি বলবেন না। আমার শুনতে উইয়ার্ড লাগছে।!

” লাগুক, তাতে আমার কি? আমার কথার জবাব দাও।”

“বললাম না বাধ্য নই।”

“তুমি ১০০% বাধ্য রিয়ানা। ভালোবাসি তোমায়। আর একটা বাজে বকলে ঠাটিয়ে চড় বসাবো। অনেক হয়েছে তোমার ঘাড়ত্যাড়ামি। সহ্য ক্ষমতা পেরিয়ে যাচ্ছে আমার।”

“কথায় কথায় থাপ্পড় মারতে চান কেন? আমার উপর কিসের এত অধিকার আপনার?”

“ভালোবাসার অধিকার। ভালোবাসি তোমায়। তুমি এটা ভুলে গেলেও আমি ভুলিনা। আর তুমি মেয়ে-টা এমন-ই। সোজা কথার মানুষ না। তোমায় ঠাটিয়ে চড় মেরে আমার ভালোবাসা বুঝাবো। সাইকো প্রেমিক হবো। আর তুমি হবে আমার সাইকোলজিস্ট। বিষয়-টা সুন্দর তাইনা?”

“আমি আপনাকে ভালোবাসি না।”

“সে তো তুমি মনে ভালোবাসা লুকিয়ে এর আগেও একজনকে বলেছো ভালোবাসো না। নিজের মনকে প্রশ্ন করো তো? আমায় ভালোবাসো না এটা সত্যি তো? এই একবছরে আমায় একটুও মনে পরেনি তোমার? মিস করোনি আমায়? মনে হয়নি রায়াদ শাহনেওয়াজ একটা সুযোগ ডিজার্ভ করে?”

রিয়ানার কর্ণকুহরে কথাগুলো প্রবেশ করতেই তার মনে প্রশ্ন গুলো জেগে গেলো। মনের মাঝ-টায় ধরফর করতে লাগলো। তার সত্যি টা বুঝি ধরা পরবে এবার? রায়াদকে যে মিস করেছে! এটা তার চোখমুখে প্রকাশ পাচ্ছে নাকি! নিজের অনুভূতি লুকাতে রিয়ানা ব্যস্ত পায়ে রুম ছাড়লো। রায়াদ তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। আনমনে বিরবির করলো,

“মিস রিয়ানা হোসাইন। তুমি আমার ভালোবাসায় ফেসেছো বহু আগে-ই। তুমি অস্বীকার করলেই আমি তো সই দিবো না। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ। অনেক হলো তোমার মন মতলবি। আর নয়। এবার যা করার আমি-ই করবো।”

বিকেলবেলায়।
আয়াত-জুবায়ের সুপার-শপে গেছে একটু দরকারি জিনিসপত্র কিনতে। রিয়ানা ভার্সিটি থেকে ফিরতেই আয়াত তাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছে রায়দের দিকে খেয়াল রাখার। মুখ ফুটে কিছু বলার আগেই আয়াত তার গালে হাত বুলিয়ে একটু সহ্য করার জন্য অনুরোধ করেছে। রিয়ানা বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে আবারও তার কথা মেনেছে। রায়াদ দুপুরের খাবার পর রেস্ট করছে তার রুমে। রিয়ানা অন্য রুমের ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আছে। আকাশে মেঘ জমেছে আবারও। কিন্তু এই মেঘে বৃষ্টি নামবেনা। কি সুন্দর আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। কখনও ঘন কালো মেঘ তো কখনও নীল আকাশ। ওয়েদার-টা কফির মগ হাতে উপভোগ করছে রিয়ানা। খানিক পরে নিজের পাশে রায়াদের অস্তিত্ব টের পেলো। সেই কড়া পারফিউম। যার ঘ্রাণে রিয়ানার বুঝতে অসুবিধা হয়না এটা কে? রায়াদের দিকে তাকালো রিয়ানা। প্রশ্ন করেই বসলো,

“সেই একই পারফিউম। এখানে পেলেন কোথায় যে ইউজ করেছেন?”

“জুবায়েরকে আনতে বলেছিলাম। এনেছে।”

রিয়ানা কিছু বললো না। সামনে দৃষ্টি ঘুরালো। জুবায়ের রায়াদের জন্য অল্প বিস্তর শপিং করেছিলো রায়াদকে নিয়ে ফেরার পর। দুদিন ওসব পরেই ছিলো। আজ সেই পুরোনো গেট-আপ এ দেখে রিয়ানার স্মৃতিতে সেই এক বছর আগের রায়াদকে চোখে ভাসছে। রায়াদ বুকে হাত বেঁধে সামনে দৃষ্টি ফেলে শুধালো,

“আমি কি সত্যি একটা সুযোগ ডিজার্ভ করিনা রিয়ানা? তোমার ভালোবাসতে হবেনা। আমার ভালোবাসা এনাফ আমাদের সম্পর্কের জন্য।”

“আমার ভালো লাগছেনা এই টপিকে কথা বলতে।”

“মন খারাপ তোমার? কি কারণে শেয়ার করো শুনি!”

“আমার মন খারাপ হয়, কান্না পায়। বিষাদ জমে। সব উড়িয়ে দেই চিঠি লিখে রঙিন খামে। আমার মন খারাপের কোনো কারণ লাগেনা যে আপনাকে বলবো।”

“তোমার রঙিন খাম-টা না হয় আমি-ই হলাম! আমার মাঝে-ই না হয় জমবে তোমার বিষাদের চিঠি। সেখানে তুমি বিষাদ জমাবে । তাকে জড়িয়ে চাপা রেখে হাসিখুশিতে তোমায় একটু ভালোবেসে মাতিয়ে রাখলাম আমি! আমরা দুজন মিলে হইনা একটু তোমার আমার রঙিন_খামে_বিষাদের_চিঠি।”

চলবে?

ভুলত্রুটি মার্জনীয়।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ