হৃদস্পর্শ সিজন ২ পর্ব ৭

0
674

হৃদস্পর্শ সিজন ২ পর্ব ৭
জামিয়া পারভীন তানি

সকালে ঘুম থেকে উঠে সাইমা কে নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়ানো অবস্থায় পেলো সজীব। রাতে সজীব কে ইচ্ছেমতো মারার পর সজীবের বুকে অনেক কাঁদে, কাঁদতে কাঁদতে সাইমা সজীবের বুকেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো। এটা ভাবতেই সজীব মুচকি হাসি দেয়। সাইমার কপালে চুমু দিয়ে বেড থেকে উঠে পড়ে। আজ একসাথে ঘুমিয়েছে, পরে ভালো ও বাসবে। এটা ভেবেই সজীবের খুশির শেষ নেই।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/



সজীব শুধু একটা মেয়ের নাম নেয়াতে সাইমার রাগ দেখেই বুঝে যায়, সজীব কে সাইমা কতো ভালোবাসে। সজীব ফ্রেশ হয়ে নেয়, এরপর সাইমার পাশে গিয়ে আবার শুয়ে পড়ে। মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি আসে, সাইমার চুল এর কিছু অংশ ধরে সাইমার কানে চুল দিয়ে সুড়সুড়ি দেয়। প্রথম বার সাইমা আস্তে করে সরিয়ে দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে ঘুমের ঘোরে জোরে করে সরাতে যায়। এতে সাইমার নিজের চুলেই টান লাগে। একটা চিৎকার করে বিছানায় উঠে বসে সাইমা।

সজীবের মুখে হাসি দেখে বুঝতে বাকি থাকে না কাজ টা কার। ঝড়ের বেগে গিয়ে সজীবের গালে কামড় দিয়ে বসে সাইমা। সজীব নিজেও বুঝতে পারেনি সাইমা এমন কাজ করে বসবে! সজীব নিজেও একটা চিৎকার দেয়। সাইমা এবার বলে,

• “ দেখ কেমন লাগে!”
• “ মজা লাগে তো, আরেকটা কিস দাও না।”
• “ দূরে গিয়ে মর!”
• “ সেম এজ হাসবেন্ড ওয়াইফের ঝগড়া হলেই তুই তোকারি করে, এটা কি ঠিক সাইমা। আমি না তোমার গুরুজন। ”
• “ বয়েই গেছে গুরুজন মানতে। আর সেম এজ কে বলেছে? আমার থেকে দুই বছরের বুইড়া তুমি।”
• “ আমি বুইড়া হইলে তুমি কি, তোমার তো কুড়ি পার হয়ে গেছে। মেয়েরা তো কুড়িতেই বুড়ি হয়। আমি এখনও ইয়ং। তাই তো এবার কিশোরী বউ আনবো।”

সাইমা সজীবের কান দুটো দুই হাত দিয়ে মুচড়ে ধরে বললো,
• “ যা আন না! কেমন করে পারিস দেখে নিবো। ”
সজীব সাইমার অত্যাচার এ হাসবে না কাঁদবে বুঝে পাচ্ছে না। সাইমার হাত দুটো কৌশলে ধরে সাইমা কে বেডের সাথে চেপে ধরে। সাইমার চোখের পানি ঠোঁট দিয়ে শুষে নেয়। সাইমা কেঁপে ওঠে সজীবের এমন আচরণে। সাইমার ভিতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তবুও সজীবের থেকে দূরে সরার জন্য উঠতে গেলো। তখন সজীব সাইমার চোখের পাতাতে কয়েকটি চুমু দেয়। এরপর হাসতে হাসতে বলে,
• “ আমার সুন্দরী বউ এর চোখ দুটো কে আমিই কাঁদাবো, আমিই কষ্ট মুছে দিবো। এই অধিকার শুধুই আমার। ”
সাইমা কিছু বলার আগেই সজীব সাইমার মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। সজীব সাইমার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে রাখে কিছুক্ষণ। তারপর সাইমার নাকের সাথে নিজের নাক ঘষে বললো,

• “ ভয় নেই, তোমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছুই করবোনা। ”

সাইমার ঠোঁটে আলতো করে চুমু দেয় সজীব। সাইমা কেঁপে সজীব এর পিঠ চেপে ধরে।

এমন সময় স্নেহার গলার আওয়াজ পেলো, সুপ্তি এসে দরজায় নক দিয়ে বললো,
• “ ভাবী ওঠো, স্নেহাকে কিছুতেই থামাতে পারছিনা। ”
সাইমা উঠতে গেলে সজীব সাইমা কে বললো,
• “ তুমি ঘুমাও, ওকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে আসি। ”
সাইমা কিছু বলতে গিয়েও বললো না। সজীব উঠে চলে আসে। মেয়েকে কোলে নিয়ে বললো,
• “ কি আম্মু কাঁদছো কেনো? পঁচা ফুপি বকেছে নাকি? ”
স্নেহা কি বুঝলো কে জানে, বাবার সাথে সাড়া দেয়, হু বলে। সুপ্তি এবার ঢং করে বলে ,

• “ তোমরা সারাক্ষণ ঝগড়া ঝাটি করবা, আর বাচ্চা সামলাবো আমি। তাও ফুপি পঁচা তাই না! আর নিবোই না তোমার মেয়েকে যাও। ”
• “ বললেই হলো! তুই না নিবি তোর বর নিবে। যা তো এখন, আমরা বাপ বেটি তে এখন ঘুরতে যাবো। ”

সুপ্তি মুখ বেঁকিয়ে চলে যায়। সজীব স্নেহাকে কোলে নিয়ে বাগানে হাটতে যায়।

°°°

দরজা তে বারবার নক হচ্ছে দেখে শিম্মি হুইলচেয়ার নিয়ে এগিয়ে যায়। আলিফ বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। বাধ্য হয়ে শিম্মি আলিফ কে ডাকে। আলিফ ঢুলুঢুলু ভাবে উঠে জিজ্ঞেস করে,
• “ কি হয়েছে? এতো সকাল সকাল ডাকছো কেনো? ”
শিম্মি কিছু বলার আগেই দরজা তে নক হচ্ছে শুনে উঠে পড়ে। খালি গায়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলে বোন কে দেখে চমকে উঠে।

আফিয়া বলে উঠে,
• “ কিরে, আমাকে দেখে বোধ হয় খুশি হস নি? ”
• “ তা কেনো হবে? খুশি তো অবশ্যই হয়েছি আপু। ঘুমিয়ে ছিলাম তাই স্বপ্নের মতো লাগছিলো সব কিছু। এসো ভিতরে এসো। ”

আফিয়া ভিতরে এসেই শিম্মি কে দেখে চমকে উঠে।
• “ এই মেয়ে আবার কে?”

আলিফ সাথে সাথে ই বললো,
• “ ও শিম্মি, অসহায় একটা মেয়েকে রাস্তায় ছেড়ে দিলে শেয়াল কুকুরে ছিড়ে খেতো! তাই নিয়ে এসেছি এখানে। ”
কথা টা শুনে শিম্মির খুব কষ্ট হয়। এক টা সময় তার কি না ছিলো! আর আজ সে অসহায়, একজনের আশ্রিতা। আলিফ বুঝতে পারে, মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। আলিফ সাথে সাথে ই বললো,
• “ আপনাকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছুই বলিনি। Please don’t mind.”
• “ নাহহ কিছুই ভাবিনি আমি। সত্যই তো বলেছেন আপনি। ”

আফিয়া তখন বলে,
• “ ওহহহ তাহলে ও আমার বাসায় থাকুক। তোর এখানে থাকলে তো লোকে তোকেই খারাপ বলবে!”
• “ বললে বলুক, তাতে আমার কি? লোকে কি আমাকে খেতে দেয় নাকি সাইমা কে ফিরিয়ে দিবে ?”
• “ আবার সাইমা! যখন এনে দিয়েছিলাম তখন তো তুই নিজেই ধরে রাখিস নি! ”
• “ হ্যাঁ ফিরিয়ে দিতাম, আমি নিজেও। কারণ ও আমাকে ভালোবাসে না! নিজেই বলেছে সেটা। কিন্তু ওর একটা খোঁজ পেলে শান্তি পেতাম! ভালো আছে কি কেমন আছে জানলেই শান্তি আমার জন্য। ”
• “ আচ্ছা ভালো কথা! ওকে এখানে রাখিস না। ওর চরিত্রে দাগ পড়বে যে!”
• ওকে কি আমার বিছানায় নিয়েছি যে ওর চরিত্র খারাপ হবে?”

শিম্মি বুঝতে পারেনি আলিফ এমন কথা বলে বসবে, লজ্জায় মুখ নীচু করে নেয়।
• “তাহলে ওকে বিয়ে করে নে। তাও তো একটা পরিচয় দিতে পারবি নিজের স্ত্রী হিসেবে। ”
• “ আপু ওওও, যা সম্ভব না, তা নিয়ে কথা বলো না। ”
• “ কেনো? ও পঙ্গু তাই! তুই ও তো দীর্ঘদিন আইসিইউ তে ছিলিস।”
• “ ও অপছন্দ করার মেয়ে না! কিন্তু ও ম্যারিড। শুধু ম্যারিড হলেও কথা ছিলো, ডিভোর্স করিয়ে নিতাম। কিন্তু ওর পেটের বাচ্চা। তাকে তো আর মেরে ফেলা যায় না!”

শিম্মি অবাক হয়ে যাচ্ছে, আলিফ কি বলে এগুলো।

°°°

সজীব স্নেহার হাতে কয়েকটি গোলাপ ধরিয়ে দিয়েছে। বাসায় ফিরে এসে স্নেহা ওর আম্মুকে ভাঙা গলায় বলে,
• “ আম – মু এ-গু-লো তোমাল। ”
সাইমা মেয়েকে বুকে নিয়ে বললো,
• “ ওলে আমার মেয়েটা, লাভ ইউ আম্মু।” বলে স্নেহার গালে চুমু দিতে যাবে । তখন স্নেহা আর সাইমার মাঝে সজীব ওর গাল ঢুকিয়ে দেয়৷ চুমু টা সজীবের গালে পড়ে।

চলবে

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here