হৃদস্পর্শ সিজন ২ ( পর্ব ৪)

0
1050

হৃদস্পর্শ সিজন ২ ( পর্ব ৪)
জামিয়া পারভীন তানি

• “ আমি আমার হাজবেন্ড কে ঘৃণা করি, কিন্তু তার জন্য একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করতে বলবেন না প্লিজ। ” শিম্মি আলিফের উদ্দেশ্যে বলে।
• “ আরে আমি মজা করছিলাম। আপনার কি অবস্থা জানার জন্যই ডক্টর দেখাতে চাচ্ছিলাম। ”
• “ আপনি তো আমায় ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ”

আলিফ মুচকি হাসে শিম্মির দিকে তাকিয়ে। এরপর রেডি হতে বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। শিম্মি ও খুশি মনে একটা শাড়ি চুজ করে। বেগুনি রঙের সাথে কলাপাতা রঙের মিশ্রণে শাড়ি টা খুব সুন্দর। শাড়ি টা পড়ে চুলগুলো বেণি করে নেয় শিম্মি। মুখে কিছু দেয়নি তবুও রূপের শেষ নেই তার। আলিফ শিম্মির দিকে এক পলক তাকিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। অন্যের বউয়ের দিকে নজর দেয়া মোটেও ঠিক নয়।শিম্মি কে একটা হুইলচেয়ার দেয়, শিম্মি অবাক হয়ে তাকায়। লোকটা কতো খেয়াল রাখছে তার! অথচ তার ভালোবাসার মানুষ তার সাথে প্রতারণা করেছে।

°°°

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/


সাইমার রুমে সকাল সকাল সজীব এসে ডাকাডাকি শুরু করে। সাইমার ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করছিলো না। কিন্তু সজীবের অত্যাচার এ উঠে পড়ে। দরজা খুলতেই সজীব হাসিমুখে বলে,
• “ তুমিনা অফিসে যাবে? তো এতো বেলা পর্যন্ত পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছো কেনো?”
• “ আমার অফিস, চিন্তা আমার। তাইনা!”
• “ আমার পিচ্চি পরি স্নেহা কে রেডি করিয়ে দাও। ওরে নিয়ে ঘুরতে যাবো। তুমিও চলো, যাওয়ার পথে তোমাকে অফিসে নামিয়ে দিবো। ”
• “ আমি আজ অফিসে যাবো না। আমি ওকে রেডি করিয়ে দিচ্ছি। তুমি নিয়ে যাও ওকে। ”
• “ ছুটি তোমার! আগে বলবেনা! যাই হোক, দুজনেই রেডি হয়ে নাও। ব্রেকফাস্ট করে ঘুরবো আজ সারাদিন। তোমার ইচ্ছে না করলেও মেয়ের জন্য না করো না প্লিজ।”
• “ আমাকে বাইরে নিয়ে যাবার বাহানা তাইনা! সবিই বুঝি। ”
• “ সাইমা প্লিজ , সব কিছুর নেগেটিভ মিনিং করো না।”
• “ ওকে, ফ্রেশ হয়ে আসছি ।মেয়ের খেয়াল রাখো, যেনো পড়ে না যায়। ”

সজীব তো খুব খুশি, ওর কথা শুনছে সাইমা। অনেক ভালোবাসে ওকে, কিন্তু প্রকাশ করে না মেয়েটা। সাইমা নিজে আমার কাছে আসবে, ভালোবেসে আসবে। সজীব নিজের মনকে শান্তনা দেয় এটা বলে।

সজীব ওকে অনেক ভালোবাসে, তা সাইমা জানে। কিন্তু অপমানের কথা মনে পড়লে পরক্ষণেই রাগ চলে আসে সাইমার। শাওয়ার নিতে নিতে একদফা কান্না করে সাইমা। কেনো সেদিন ওভাবে পর করে দিয়েছিলে! যদি ওভাবে ছেড়ে না আসতে তাহলে আমার জীবন থেকে এই বছর গুলো ঝরে যেতো না! তোমার ভালোবাসার পূর্নতা নিয়েই সুখে থাকতাম। ক্ষমা করে দিয়ে সুখে থাকতে বড় ইচ্ছে করে, কিন্তু ইগোর জন্য কাছে যেতেও পারে না সে!

দীর্ঘ ৩০ মিনিট পরে সাইমা ওয়াশরুম থেকে বের হয়। লাল রঙের সালোয়ার কামিজ পরে। চুলগুলো টাওয়েল দিয়ে প্যাচানো, চোখ গুলো অসম্ভব রকমের লাল হয়ে আছে। হুট করেই সজীব সাইমা কে জড়িয়ে ধরে। বেশ কিছুক্ষণ একভাবে ধরে রাখার পর বলে,
• “তুমি যত শাস্তি দেওয়ার দাও আমায়! কিন্তু তোমার লাল চোখ আমায় দেখতে বলোনা। আমি সহ্য করতে পারিনা তোমার কান্না। ”
• “ তোমার তো খুশি হবার কথা মি.”
কথাটা বলে সজীবের বন্ধন থেকে মুক্ত করে নেয় নিজেকে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল গুলো আঁচড়ায় সাইমা । চুলের পানি সজীবের মুখে এসে লাগে। সজীব চোখ বন্ধ করে নেয়। ইচ্ছে করছে সাইমার পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রাখতে। কিন্তু সে অধিকার সে হারিয়ে ফেলেছে, জানেও না কখনো ফিরে পাবে কিনা!

সাইমা চুল গুলো ঠিক করে সজীবের দিকে তাকালো। চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সাইমা বলে,
• “ রেডি হতে যাও, স্নেহা কে রেডি করিয়ে নিচ্ছি আমি। ”
• “ হুমম। ” বলে সজীব বেরিয়ে আসে।

°°°

• “ মাহিরা আর সজল কোথায়? কাল থেকে ওদের দেখলাম না যে!”

গাড়িতে বসে সাইমার এমন প্রশ্নে সজীব অবাক হয়ে তাকায়। সেটা দেখে সাইমা আবার বলে,
• “ এমন অবাস্তব কিছু জিজ্ঞেস করিনি যে এভাবে তাকিয়ে থাকতে হবে তোমাকে। ”
• “ না মানে, সজল ঘর জামাই থাকে। ”
• “ তোমাদের বাড়িতে কি জায়গার অভাব! যে তোমার ভাইকে তার শ্বশুর বাড়ি তে থাকতে হবে! ”
• “ তুমি যে সজলের বউ কে চিনতে! এ মেয়ে সে ই নিষ্পাপ মেয়ে আর নেই! সারাক্ষণ অশান্তির আগুন লাগিয়ে রাখতো। অবশেষে নিজেই চলে গেছে , সাথে ভাই টা কেও পর করে দিয়েছে। ”
• “ ওহহ আচ্ছা। ” বলে সাইমা বাইরের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। মানুষের কতো রূপ, না দেখলে বোঝাই যায়না!

হটাৎ সাইমা খেয়াল করলো একটা গাড়িতে আলিফ একটা মেয়ের পাশে বসে যাচ্ছে। সাইমা একটু অবাক হয়ে যায়, ভেবে নেয় আলিফ বিয়ে করেছে। অস্ফুট স্বরে সাইমা বলে উঠে,
• “ আলিফ! ”

সজীব কিছু না বুঝেই স্নেহা কে কোল থেকে নামিয়ে সাইমা গালে থাপ্পড় দিয়ে বসে। সাইমা সজীবের এমন ব্যবহারে সাইমা অবাক হয়ে তাকায়। দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সজীব রাগী গলায় বললো,

• “ এতোই যখন আলিফ আলিফ করিস, তো যখন দিয়ে এসেছিলাম তখন একসাথে থাকতে পারিস নি কেনো? আমাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছিস আর মুখে পরপুরুষ এর নাম নিচ্ছিস! ”

সাইমা কিছু বলার আগেই সজীব আবার বলে,
• “ তুই জীবনে ও শান্তি পাবি না! মরতে পারিস না তুই! তাহলে আমি ভাববো ভালোবাসার মানুষ টা মরে গেছে অন্তত। ”

চলবে…..

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে