স্যার যখন স্বামী পার্ট_১২

1
4650

স্যার যখন স্বামী
পার্ট_১২
#লিখা জান্নাতুল ফেরদৌস

“ও বুঝছি চকলেটের বিনিময়ে ফ্রেন্ডশিপ,”
“হুম।”(মাথায় আক্কেল আছে)
“আচ্ছা ঠিকাছে।”
“সত্যি কালকে আর প্রতিদিন আমার জন্য চকলেট আনবেন।’
“হুম,”
“খুশিতে উনাকে জড়িয়ে ধরলাম।”
“এমা এতো দেখি পুরা পিচ্চি।এই বলে আমার দুইগাল টিপে দিলেন।”
মেঘ এটা তুই কি করলি?খুশিতে পাগল হয়ে শেষ পর্যন্ত তুই উনাকে জড়িয়ে ধরলি।হায় আল্লাহ এটা আমি কি করলাম।
উনিও দেখি আজকে মুচকি মুচকি হাসছেন।এদিকে আমি লজ্জাই শেষ।আমি যে এরকম কান্ড করে ফেলব ভাবতে পারিনি।আজকের পর থেকে নিজের খুশিকে কন্ট্রোল করতে হবে।নাহলে….??
.
.
সকালে উনি ভার্সিটি চলে গেলেন। ঘর গুছাতে গিয়ে টেবিলে রাখা একটি বক্সের উপর চোখ পড়ল।।বক্সের পেকেট খুলতে গিয়ে দেখি অনেকগুলো চকলেট।বুঝেছি উনি চকলেট এনে রাখছেন।খুব খুশি লাগছে।তারমানে উনি সিরিয়াসলি আমার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করতে চাচ্ছেন।হিহিহি,,,স্যার হয়ে ছাত্রীর সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চাচ্ছেন।Not bad.
আমার শাশুড়িমা রান্নাঘরে কাজ করছে।আর আমি বসে বসে টিভি দেখছি আর চকলেট খাচ্ছি ।কলিং বেলের আওয়াজ পেলাম হঠাৎ।দরজা খুলে দেখি পিচ্চি সানজা মণি।
“ওমা সানজা মণি তুমি “(খুশি হয়ে)
“টুমার বাষায়… এছ..ছি”
“খুব ভালো করেছো। এই বলে ওকে কোলে তুলে নিলাম।”
“বল কি খাবে সানজা মণি,”
“মেঘ আমি..আমি..ক্ষীল খাব।”
“ওমা তাই! ক্ষীর খুব পছন্দ কর তুমি।”
“হুম অনেক পছন্ড কলি।”
“আচ্ছা আমি তোমার জন্য আজকে নিজের হাতে ক্ষীর রেঁধে খাওয়াবো কেমন।রাতে তোমাকে আমি ডেকে নিয়ে আসবো।”
“টুমি খুব ভাল্লো। ”
“তুমিও খুব ভালো সানজা মণি।”
.
.
“মেঘ কে এসেছে রে মা।”
“আম্মু আমাদের ঘরে ছোট্ট মেহমান সানজা মণি এসেছে।”
“ও আচ্ছা। সানজা মণি। তাহলে ওকে নিয়ে খেল, কথা বল।এদিকে আমি রান্নার কাজটা শেষ করে নেই।”
“আচ্ছা আম্মু।এই যে, সানজা মণি তুমি একটু বস আমি এখনি আসছি ।”
“এই নাও কিটকাট চকলেট।”
“আম্মার জনন্য,”
“হুম,”
খুশি হয়ে চকলেট নিয়ে খাওয়া শুরু করল।
“আলছা মেঘ টুমি লান্না কল না।”
“না সানজা মণি আমার রান্না করতে ভালো লাগে না।”
“কেন্ন?”
“দেখ আমার আম্মু আর তোমার আংকেল খুব ভালো রান্না করে।এখন আমি যদি রান্না করি তাহলে ওদের হাতের রান্না করা মজার মজার খাবার মিস করব। আমি ওদের হাতের রান্না প্রতিদিন খেতে চাই।আর ওদের হাতের রান্না করা খাবার খেতে ভালবাসি তাই ইচ্ছে করে রান্না করি না।”
“ও… টাই।”
“হুম,তাই।”
.
.
আজকে নিজের হাতে ক্ষীর রান্না করেছি।পাশে শাশুড়িমা ছিলেন।উনার সাহায্যে আমি ক্ষীর বানালাম।শাশুড়িমার কাছ থেকে শুনলাম স্যারও নাকি ক্ষীর অনেক পছন্দ করে।রাতে সানজামণিকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসলাম।ওকে আমি খাইয়ে দিচ্ছি।এর কিছুক্ষণ পর স্যার টেবিলে আসলেন।ক্ষীর দেখে অনেক খুশি হলেন।ক্ষীর খাচ্ছেন আর প্রশংসা করছেন।
“মা খুব ভালো হয়েছে ক্ষীরটা।”
“আমি আজকে রাধিনি।বউমা রেঁধেছে।”
এরপর আর কিছু বললেন না।চুপচাপ খাচ্ছেন আর মা আর সানজামণির সাথে কথা বলছেন।বড় আজব লোকটা। আমি রান্না করেছি শুনে আর প্রশংসা করলেন না।একটুখানি প্রশংসা করলে কি এমন হত।থাক ওনার প্রশংসা লাগবে না যার জন্য রেঁধেছি সে অনেক প্রশংসা করেছে সেটাই অনেক।
.
.
“মেঘ,”
“জ্বী,”
“আমার বউটা আমার পছন্দের খাবার রান্না করেছে তাতে আমি অনেক খুশি হয়েছি।ভালো হয়েছে ক্ষীরটা।মাঝেমাঝে এরকমভাবে আমার পছন্দের কিছু খাবার নিজ হাতে রান্না করলে আরও বেশি খুশি হব।”
“আচ্ছা। (যাক সবার সামনে প্রশংসা না করলে কি হয়েছে গোপনে আমার সামনে তো আমার রান্নার প্রশংসা করলেন।)”
এরপর আমাকে নিয়ে ম্যাথ করতে বসলেন।ম্যাথ করানোর সময় হঠাৎ একটা আজব প্রশ্ন করে ফেললেন।
“আচ্ছা মেঘ আমাকে তোমার কেমন লাগে?”
আমি হা হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে আছি।কালকে ফ্রেন্ডশিপের কথা আর আজকে উনাকে আমার কেমন লাগে!
“কি ব্যাপার বললে না যে,”
(উনাকে আমার শয়তান আর রাক্ষসের মতন লাগে।সত্য বলা যাবে না পরে দিয়ে ক্ষেপে যাবে তাই মিথ্যা বললাম)”… ভালোই।”
“শুধু ভালোই।”
(এমা উনার আজকে কি হল!ছাত্রী হয়ে যা বলার দরকার তাইতো বললাম।আচ্ছা ব্যাটা মনে হয় চাচ্ছে আমি উনার আরও প্রশংসা করি। তাহলে আর কি আরও একটু বেশি করে মিথ্যা প্রশংসা করি।) কিছু বলতে গেলে উনি আবার বলা শুরু করলেন,
“তোমাদের ডিপার্টমেন্টের প্রিয়া ম্যাডাম কেতো চিনো।”
“হ্যা,চিনি।”
“আজকে তোমাদের প্রিয়া ম্যাডাম আমার খুব প্রশংসা করল।তাই আর কি তোমাকে জিজ্ঞাস করলাম আমাকে তোমার কেমন লাগে?’
“কিহ!আজকে এত প্রশংসার করার মানেটা কি?”
“না,মানে তেমন কিছু না।আজকে না সবসময়ই আমার প্রশংসা করে।তবে আজকের প্রশংসাটা আমার মন কাড়ার মন ছিল।”
“আচ্ছা তো কি কি প্রশংসা করল?”
“এই যে আমি নাকি হ্যান্ডসাম ছেলে।আজকে যে নীল শার্টটা পড়ে গেলাম সে শার্টটা নাকি প্রিয়ার অনেক পছন্দের। সেটাতে নাকি আজকে আমাকে অনেক ভালো লাগছিল।আমার মতন ছেলেকে ও বিয়ে করতে এক পায়ে রাজি।আমাকে নাকি তোমার ম্যাডামের অনেক অনেক ভালো লাগে। এতই ভালো লাগে যে…. থাক বাকিটা তোমার না জানলেও চলবে।”
(কিহ!এত্ত বড় সাহস ম্যাডামের!আমার স্বামীকে এইসব কথা বলে।আমার স্বামীর দিকে উনার খারাপ নজর।আর আমার স্বামীও তো কম না। ম্যাডাম একটু প্রশংসা করল আর ওমনিতেই উনাকে নিয়ে ভাবা শুরু করল আর এখন বাসায় এসে আমাকে এই প্রশ্ন করে আমাকে উনার কেমন লাগে।আমার স্বামীর মুখ দেখে বুঝতে পারছি উনি এখন প্রিয়া ম্যাডামের সেই কথাতেই বিভোর হয়ে আছে।ছিঃ ছিঃ ছিঃ পাশে নিজের স্ত্রীকে রেখে আমার স্বামী অন্য আরেকটা মেয়েকে নিয়ে ভাবছে।) “এই যে,এই যে, ভালোই তো এত ডাকছি উনার কোন খেয়াল নেই।হাতে জোরে চিমটি দিয়ে,”
“আরে,মেঘ(চিৎকার দিয়ে)এত জোরে কেউ চিমটি মারে।দেখছোনা আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে ভাবছি।”
“হ্যা কি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ভাবছেন তাতো আমি নিজ চোখে দেখতে পারছি।”
“এইতো গুড গার্ল বুঝতে পেরেছ এই বলে আমার দুই হাত ধরে বললেন যতটা বোকা তোমাকে ভাবি ততটা বোকা তুমি নও।অনেক কিছুই বুঝে দেখি আমার বউটা।একটা কথা মনে রাখবে নিজের প্রিয় জিনিসের দিকে সবসময় কড়া নজর রাখবে যাতে অন্য কেউ তোমার প্রিয় জিনিস কেড়ে নিতে না পারে।আর আরেকটা কথা প্রিয় জিনিসের উপর অধিকার খাটানোটা শিখ। যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করতে না পারো তাহলে সারাজীবন পস্তাতে হবে।বুঝতে পারছ আমি তোমাকে কি বলতে চাচ্ছি।আমার কথাটা ভালোভাবে বুঝার চেষ্টা করবে দেখিও এই কথা বুঝতে আবার বেশি দেরি করিও না নাহলে সত্যিই অনেক দেরি হয়ে যাবে।আর হ্যা ঘুমাতে যাও এখন আমার আবার একজনকে কল দিতে হবে।”
.
.
অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি উনার জন্য।এতক্ষণ ধরে কার সাথে মোবাইলে কথা বলছেন উনি।প্রায় ৩০ মিনিট হয়ে যাচ্ছে। তারপরও কথা শেষ হচ্ছে না।আজব।
“হ্যালো প্রিয়া আজকে রাখি। কালকে ভার্সিটিতে আসছি।সেখানে নাহয় কথা হবে।বায়।
আরে মেঘ এখনো ঘুমাওনি তুমি।”
“না ঘুম আসছিলো না।”
“বুঝছি আমার বউয়ের তো আবার আমাকে ছাড়া ঘুম আসবে না।সরি বউ আসলে কি হয়ছে প্রিয়ার সাথে কথা বলছিলাম তাই একটু দেরি হয়ে গেছে।বেশিক্ষণ তো আর কথা বলেনি।”
“আচ্ছা ৩০মিনিট ধরে কথা বললেন তারপরও বলছেন বেশি কথা বলেননি।”
“ও দেখছ তুমি, ওর সাথে কথা বললে আমার কোনদিকে আর খেয়াল থাকেনা।৩০মিনিট হয়ে গেছে আর আমার কাছে মনে হল মাত্র ৫মিনিট কথা বলছি।”
(এতদূর….)
“থাক তুমি ছোট মানুষ তোমার এত কথা না জানলেও চলবে।এত রাত জেগে লাভ নেই বাবা, কালকে আবার ভার্সিটিতে যেতে হবে।দেরি হয়ে গেলে আবার প্রিয়া রাগ করবে।”
“প্রিয়া রাগ করবে।আপনি কি প্রিয়া ম্যাডামের কথা বলছেন।”
“হ্যা, ”
(ওমা উনি দেখি আবার লজ্জাও পাচ্ছেন।শয়তান, বান্দর একটা।আবার ম্যাডামের নাম ধরে ডাকে।)”হ্যা হ্যা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যান। দেরি হয়ে গেলে আপনার প্রিয়া আবার রাগ করবে।”
“হ্যা ঠিক বলছ।”
.
.
জানিনা কেন জানি খুব কষ্ট হচ্ছে।উনার প্রিয়া…বাব্বাহ ভালোই তো।ঘরে বউ আর বাইরে প্রিয়া।রাগ করে উল্টোদিকে ফিরে শুয়ে রইলাম।
আর বান্দর শয়তানটা পিছন থেকে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
“কি ব্যাপার… আপনার না কালকে ভার্সিটি আছে।ঘুমান না। আর আমাকে ছাড়েন।”
“কোলবালিশ ছাড়া ঘুম আসে না।”
“আমাকে আপনার কোলবালিশ মনে হয়।”
“তো কি,এখন থেকেই তো তুমি আমার কোলবালিশ,”
এত কিছুর পরও এইসব বলেন।আর রাগ কন্ট্রোল হচ্ছে না।ইচ্ছামতন কয়েকটা কিল,ঘুষি দিয়ে দিলাম।
“আরে আরে,তোমার জামাইকে মেরে ফেলবা নাকি এই বলে আমাকে তার বুকে টেনে নিলেন।”
“হ্যা মেরেই ফেলব একেবারে।আমার কাছে কেন আসছেন কেন যান না আপনার প্রিয়ার কাছে যান না।”
“যাব তো প্রিয়ার কাছে কালকে যাব। ”
“আবারও প্রিয়া।আরো কয়েকটা কিল,ঘুষি লাগিয়ে দিলাম ।”
“এই মেয়েতো দেখি আজকে আমাকে সত্যিই মেরে ফেলবে। মেঘ তুমি না আমার লক্ষ্মী বউ। জামাইকে কেউ এইভাবে মারে।আচ্ছা আচ্ছা আর প্রিয়া প্রিয়া করব না।এবার তো থাম বউ।”
“হুম আর যেন আপনার মুখে প্রিয়ার নাম না শুনি।”
“কেন, গায়ে লাগছে।তাহলে আমি কি ভাবব, তুমি আমাকে………….,”
“কি ভাববেন হ্যা,কোন কিছু ভাবাভাবি নাই।ঘুমাবো এখন।”
“আচ্ছা আচ্ছা আর ভাববো না। আরও শক্ত করে উনার বুকে আমাকে জড়িয়ে রাখলেন।মেঘ বলছিলাম যে, তুমিতো সারাদিন বাসায় থাক।পরশুতো শুক্রবার। চল পরশুদিন বাইরে থেকে ঘুরে আসি।তাহলে তোমার ভালো লাগবে।”
“আচ্ছা।(আমার ভালো লাগা নিয়েও দেখি ভাবছে। কবে থেকে আমার ভালো লাগা নিয়ে ভাবতে শুরু করল। যাই হোক আমার ভালো লাগা নিয়ে উনি ভাবছেন।তাই এখন খুব খুশি লাগছে।)আচ্ছা, আপনি আমার ভালো লাগার জন্য আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবেন।”
“হুম।আসলে আজকাল মুডটা খুব ভালো যাচ্ছে তাই।তাহলে এই কথা ফাইনাল রইল তোমাকে নিয়ে পরশু ঘুরতে যাচ্ছি।”
“আচ্ছা।”
“আচ্ছা বললে হবে না প্রমিস কর আমার সাথে কালকে ঘুরতে যাবে।”
“এতে প্রমিসের কি হল।আচ্ছা প্রমিস।”
“প্রমিস করছ আমাকে।দেখিও পরে দিয়ে আবার বলিও না যে আমি যাব না।”
“এই মেঘ প্রমিস করলে সে প্রমিসের মর্যাদা রাখে।”
“ওকে দেখা যাবে কালকে।”

(কয়েকদিন কাজের কারণে ব্যস্ত থাকব তাই নেক্সট পার্ট কবে দিবো বলতে পারিনা।)

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে