স্বপ্ন সারথি পর্ব-০৩

0
983

#গল্পপোকা_ধারাবাহিক_গল্প_প্রতিযোগিতা_২০২০

স্বপ্ন সারথি পর্ব-০৩
টি এ অনন্যা

“ভাবি শুনুন, বলছিলাম যে দেখেন ছেলেটা কিন্তু ভালো। এখন সচরাচর উপযুক্ত ছেলে পাওয়া কিন্তু তত সহজ না।”
রেহানা ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে বললেন, “কেন আপা আমার মেয়ে কি ভালো না না-কি?”
“আরে ভাবি সেজন্যই তো আমি এই প্রস্তাবটা দিয়েছিলাম। আমি তো চিনি পূর্ণতাকে। ওর মতো মেয়ে এই যুগে কয়টা পাওয়া যায়! যেমন ঘরে তেমন বাইরে তার কাজের দক্ষতা দেখেই আমি এই সমন্ধটা এনেছি। আমার বোন এমন একটা মেয়েই চায়।”
“হ্যাঁ আমরা ওকে সেভাবেই গড়ে তুলেছি যাতে কখনো মেয়ে বলে অবহেলিত বা কারও মুখাপেক্ষী না হতে হয়। এমনকি সে তার নিজ যোগ্যতায় সকলের মন জয় করে নিতে পারবে। ওকে অপছন্দ হওয়ার মতো কিছু ওর মাঝে নেই।”
” কিন্তু ভাবি মেয়েদের বিয়ের একটা নির্দিষ্ট বয়স থাকে। এরপর কিন্তু যতই যোগ্যতা থাকুক ভালো পাত্র পাওয়া সহজ কথা না। পূর্ণতা কিন্তু সে বয়স পেরিয়ে এসেছে।”
রেহানা আর এসব শুনতে পারছিলেন না। তাই তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “আপা পরে আপনার সাথে কথা বলব। এখন দয়া করে আসুন। রান্না বসিয়েছি। রান্না শেষ করে নামাজ পড়তে হবে। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
“হুম যাচ্ছি। কিন্তু শুনুন ভাবি মেয়েদের এত লাই দিতে নেই। একটু শক্ত হোন। মেয়ের মতামতের আশায় বসে থাকলে হবে না।”
কপট রাগ দেখিয়ে বললেন, “আপনাকে আসতে বলেছি আপা।”
সে চলে যাওয়ার পর রেহানা বেগম মনে ক্ষোভ রেখে ঠোঁটের কোণে মেকি হাসি দিয়ে যতদূর সম্ভব দ্রুতপদে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালেন।

“আমাকে একটু সাহায্য করুন প্লিজ।” কথাটা বলেই প্রিয়নের পাশে দাঁড়ানো মেয়েটি দু’হাতে মাথা চেপে ধরে ধপাস করে মাটিতে পড়ে যায়।
প্রিয়ন কাজ শেষ করে কিছু কেনাকাটা করার জন্য শপিংমলে এসেছিল। এক বন্ধু আসার কথা ছিল তার জন্য প্রিয়ন বাইরে অপেক্ষা করছিল। আর ঠিক সে সময়ে কোত্থেকে যেন মেয়েটি এসে কথাটি বলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রিয়ন প্রথমদিকে ঘাবড়ে যায় যুবতী মেয়ে এভাবে পড়ে গেল কেন সেই ভেবে। কিন্তু মনে মনে ভাবল এসব ভাবতে গেলে মেয়েটার বড় কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে। যেই ভাবা সেই কাজ। আশাপাশের কিছু মানুষ ডেকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে রওনা দেয়।

হাসপাতালে যাওয়ার পথে প্রিয়নের বন্ধু মিরাজ কল দেয়। একহাতে মেয়েটিকে সামলে রেখে অন্য হাতে পকেট হতে ফোন বের করে রিসিভ করলেই ওপাশ থেকে সিয়াম বলল,
“আরে ব্যাটা আমাকে আসতে বলে নিজেই এখন লাপাত্তা। কোথায় তুই? আসতে কতক্ষণ লাগবে?”
প্রিয়ন আরও আধ ঘণ্টা আগে এসে সিয়ামের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আর অপেক্ষা করতে করতেই মেয়েটি এসে আরেক ঝামেলা বাধাল। তাই সিয়ামের কথায় রেগে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “তোর খবর আছে হারামি। এতক্ষণে আসার সময় হয়েছে তোর? আমি সেই কখন এসেছিলাম জানিস?”
সিয়াম এক হাত পকেটে রেখে আর অন্য হাতে কানে ফোন রেখে এদিক সেদিক প্রিয়নকে খোঁজার ভঙ্গিতে বলল, “কোথায় এসেছিস তুই? আমি তো দেখতে পাচ্ছি না।”
“আরে আমি ওখানে নেই। আমি হসপিটাল যাচ্ছি। এখন গাড়িতে আছি।”
সিয়াম হাসপাতালের কথা শুনে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “হাসপাতালে! কেন দোস্ত? কী হয়েছে তোর? তুই ঠিক আছিস তো?”
প্রিয়ন বিরক্তি নিয়ে বলল, “এই একদম মেয়েদের মতো ন্যাকামি করবি না বলে দিলাম। একেবারে এত প্রশ্ন করছিস কেন? আমার কিছু হয়নি।”
“তাহলে তুই আমাকে শপিংমলে আসতে বলে হাসপাতালে যাচ্ছিস কেন?”
“আর বলিস না তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম এমন সময় একটা মেয়ে আমার কাছে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। তাকে নিয়েই হাসপাতালে যাচ্ছি।”
“অজ্ঞান হয়েছে ভালো কথা একটু পানি ছিটিয়ে দিলেই তো ঠিক হয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়া লাগে নাকি?
” সে চেষ্টাও করেছি লাভ হয়নি বলেই তো নিয়ে যাচ্ছি। সব দোষ তোর।”
“আমার কী দোষ! তা অজ্ঞান হয়ে গেছে বলে কি তোর হাসপাতালে নিতে হবে নাকি? আর কেউ ছিল না ওখানে?
” ছিল কিন্তু কে আসে কার জন্য? সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে। ”
” হা হা হা যা বলেছিস। তা তুই-ও তামাশা দেখতে থাকতি। আমি এলে আমাদের কাজ শেষ করে চলে আসতাম।”
“তুই তো একটা ছাগল। নাহয় এই কথা বলতি না। মানুষের দায়িত্ববোধ বলতে কিছু একটা আছে। বাই দা ওয়ে তুই (,,,,,) চলে আয়। রাখলাম এখন।”

বিকেলে স্কুল থেকে এসে প্রীতুলা বেলকনিতে পায়চারি করছিল। সেই সময়ে রেহানা উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “প্রীতুলা, তোর কাছে রিয়ানার বাসার নাম্বার আছে?”
“না তো মা।কেন কী হয়েছে? আপু কী ফিরেনি এখনো?
রেহানা ঝাঁঝালো কণ্ঠে উত্তর দিলেন, ” ফিরলে তো দেখতেই পেত, তাই না? একটু খুঁজে দেখ কোথাও পাস কিনা রিয়ানার বাসার নাম্বার। পূর্ণতা তো মোবাইল নিয়ে যায়নি আজ। সকালে রিয়ানা কল করেছিল ওর মোবাইলে । তখন দেখলাম মোবাইল ফেলেই চলে গেছে। রিয়ানাকে কল করছি কতক্ষণ ধরে। কল হচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছে না।”
প্রীতুলা বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “বলছ কী মা! তুমি আমায় আগে বলবে তো! আমি তো ভেবেছি আপু হয়তো তোমায় কল করে জানিয়েছে কোথায় আছে। আজ তো আপুর কোনো মিটিং নেই কলেজে তাই না?”
“না। মিটিং থাকলে তো ও আমায় জানায় আগেরদিন। আজ সকালে না বললেও কাল তো বলত।”
প্রীতুলা ডান হাতের অনামিকা আঙুলের নখ কামড়াতে কামড়াতে রুমের ভিতরে প্রবেশ করে। তার আগে রেহানাকে বলল, “আচ্ছা মা তুমি চিন্তা করো না। আমি দেখছি রিয়ানা আপুর অন্য কোনো নাম্বার পাই কিনা আপুর ডায়েরিতে।”
রেহানা পূর্ণতা এবং প্রীতুলার ঘরের খাটের উপর বসে কাঁদতে কাঁদতে বললতে শুরু করলেন, “হ্যাঁ দেখ তাড়াতাড়ি। ওর সাথে যোগাযোগ করতে পারলে তো অন্তত জানা যাবে ও কোথায় আছে আর পূর্ণতা-ইবা কখন বেরিছে বা অন্য কোথাও গিয়েছে কিনা। আমার তো ভয়ে হা পা হিম হয়ে আসছে। কত শখ করে মেয়েটার জন্য ওর পছন্দের সব খাবার রান্না করলাম।”
প্রীতুলা ডায়েরিতে নাম্বার খুঁজতে খুঁজতে বলল, “উফ মা তুমি কাঁদছো কেন? আপু তো বড় মানুষ। এই শহরে হারিয়ে যাবে না। হয়তো কোথাও গিয়েছে রিয়ানা আপুর সাথে কিংবা কোনো কাজে আটকে আছে। চিন্তা করো না তো। ”
প্রীতুলা ডায়েরিতে রিয়ানার অন্য একটা নাম্বার পেল কিন্তু সেটা সুইচড অফ বলছে।

কাজ সেরে বিকেলে বাসায় চলে আসার কথা প্রিয়নের। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে আসছে তাও খবর নেই। এদিকে অনিক হায়দার ও শাহনাজ অপেক্ষায় আছেন ওর জন্য। তবে অপেক্ষা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে। দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ প্রিয়ন কোথাও বের হলে নিজে থেকে কল না দিলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কারণে তার আসতে দেরি হলে জানিয়ে দেয়। কিন্তু আজ তো কিছুই বলেনি। বিকেলের পর থেকে আসবে আসবে ভেবে অপেক্ষা করেই যাচ্ছেন তারা। এরপর কল করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফোন সুইচড অফ।
“দেখেছ তোমার ছেলের আক্কেলটা? ফোনটা পর্যন্ত অফ করে রাখছে।”
শাহানাজ কাঁদো কাঁদো স্বরে বললেন, “তুমি ফোন অফটাই দেখলে! আর আমি এদিকে চিন্তা করছি আমার ছেলেটার কী হলো? ও তো কখনো ইচ্ছে করে ফোন অফ রাখে না।”
” দাঁড়াও দেখছি আমি ট্রাই করে। অত ভেবো না ও ঠিক এসে পড়বে। হয়তো ফোনের চার্জ ফুরিয়েছে।”
এরপর কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর মাগরিবের আজানের সময় প্রিয়নের ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়।
“হ্যালো প্রিয়ন, বাবা তুই কোথায় আছিস? বাসায় আসবি কখন? ”
“আমি হাসপাতালে আছি একটা জরুরি দরকারে।” ফোনের ওপাশ থেকে এই সংক্ষিপ্ত উত্তরের পরপরই আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চলবে…….
ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন
আপনার গঠনমূলক মন্তব্য লেখার অনুপ্রেরণা।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share